• Home
  • Contact
  • About
  • RSS
  • My Somewherein blog
  • Facebook
  • Twitter
  • Problem with Bengali Font?

  • মূলপাতা
  • স্বদেশ
    • সবিশেষ
    • মুক্তিযুদ্ধ
    • রাজনীতি
    • সমসাময়িক
    • প্রতিরক্ষা
    • ধর্ম
    • পার্বত্য চট্টগ্রাম
    • মানবাধিকার
  • মিডিয়া
    • গণমাধ্যম
    • ই-সংকলন
    • বইপত্র
    • ▬▬
    • বাংলা দৈনিক
      • আরো »
        • আমার দেশ
        • আমাদের সময়
        • বাংলাদেশ প্রতিদিন
        • সংবাদ
        • যায়যায়দিন
        • মানবজমিন
        • ভোরের কাগজ
        • আমাদের অর্থনীতি
        • ডেস্টিনি
      • প্রথম আলো
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • কালের কন্ঠ
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • যুগান্তর
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • সমকাল
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • ইত্তেফাক
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • জনকণ্ঠ
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • নয়া দিগন্ত
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • সকালের খবর
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
    • ইংরেজি দৈনিক
      • ডেইলি স্টার
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
        • সাপ্লিমেন্টস
      • সান
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • ইন্ডিপেন্ডেন্ট
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • নিউ এইজ
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • বাংলাদেশ টুডে
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • আওয়ার টাইম
    • সংবাদ সংস্থা
      • আরো »
        • ফোকাস বাংলা
        • বিডি স্পোর্টস নিউজ
        • ঢাকা নিউজ
        • আরটিএনএন
        • রেডটাইমস
        • বিএনএন
        • বাংলাদেশ নিউজ
      • বিডিনিউজ
      • বাংলা নিউজ
      • বাসস
      • ইউএনবি
      • শীর্ষনিউজ
      • দি এডিটর
    • রেডিও-টেলিভিশন
      • রেডিও »
        • রেডিও ফূর্তি
        • রেডিও টুডে
        • এবিসি রেডিও
        • রেডিও লিংক
      • আরো »
        • বৈশাখী
        • দিগন্ত টিভি
        • বাংলা ভিশন
        • ইসলামিক টিভি
        • আরটিভি
        • মোহনা
        • মাই টিভি
      • চ্যানেল আই
      • এটিএন বাংলা
      • এনটিভি
      • দেশ টিভি
      • একুশে টিভি
    • সাময়িকী
      • আরো »
        • আরো »
          • আরো »
            • খবর
            • ডয়চে ভেলে
            • রেডিও ইরান
            • রেডিও চায়না
            • ই-বাংলাদেশ
            • খেলার খবর
            • সাময়িকী
          • মনোজগত
          • প্রবাসে প্রতিদিন
          • নতুন দেশ
          • ইউকে বেঙ্গলি
          • লন্ডন বাংলা
          • এনওয়াই বাংলা
          • ইউরো বাংলা
          • দশদিক
        • প্রোব ম্যাগাজিন
        • চিন্তা
        • একপক্ষ
        • নতুনধারা
        • বাংলামাটি
        • কম্পিউটার জগৎ
        • কম্পিউটার বার্তা
        • কালিকলম
      • সাপ্তাহিক
      • সাপ্তাহিক ২০০০
      • বুধবার
      • বিচিন্তা
      • কাগজ
      • সচিত্র সময়
      • ডিজিটাল সময়
      • মিডিয়া ওয়াচ
    • অনলাইন
      • এক
      • দুই
      • তিন
    • অন্যান্য
  • ব্লগ
    • ব্লগ পর্যালোচনা
    • ব্লগ বিতর্ক
    • ব্লগ স্যাটায়ার
    • ব্লগপিডিয়া
    • ব্লগতালিকা
      • আরো »
        • নাগরিক ব্লগ
        • একুশে ব্লগ
        • সোনার বাংলা ব্লগ
        • মুক্ত ব্লগ
        • চতুর্মাত্রিক ব্লগ
        • আমার বর্ণমালা ব্লগ
        • ওপেস্ট ব্লগ
      • সামহোয়্যারইন ব্লগ
      • প্রথম আলো ব্লগ
      • সচলায়তন
      • আমার ব্লগ
      • বিডিনিউজ ব্লগ
      • টেকটিউনস
      • গ্লোবাল ভয়েসেস বাংলা
  • গদ্যকার্টুন
    • গদ্যকার্টুন
    • ক্যারিকেচার
    • ব্লগ স্যাটায়ার
    • টেক-হিউমার
    • রস+আলো সংগ্রহ
  • প্রযুক্তি
    • প্রযুক্তি
    • কম্পিউটার
    • ইন্টারনেট
    • মোবাইল
    • সফটওয়্যার
    • হ্যাকিং
  • বিনোদন
    • বিনোদন
    • বেড়ানো
    • খেলা
    • সিনেমা
    • ডকুমেন্টারি
  • বিবিধ
    • ওয়ার্কশপ
      • আশাজাগানিয়া
      • ছিন্ন চিন্তাবলী
      • মুজতবা হোসেন মুরশেদ
    • দূরের জানালা
    • স্মৃতিকথা
    • গার্হস্থ্য
    • দিনলিপি
  • হেল্পলাইন
    • কনভার্টার
      • ইউনিকোড লেখনী ও পরিবর্তক
      • বাংলা কম্পিউটিং কনভার্টার
    • অভিধান
      • ইংরেজি থেকে বাংলা
      • বাংলা থেকে ইংরেজি
    • অনুবাদ
      • ইংরেজি থেকে বাংলা
      • বাংলা থেকে ইংরেজি
    • অভ্র কি-বোর্ড
    • টুইটার স্ট্যাটাস বাংলায়
  • ডাউনলোড
    • ই-সংকলন
      • ফিরে দেখা একাত্তর
      • প্রিয় কবিতা
    • সফটওয়্যার
      • ট্রু-ক্রিপ্ট
      • সেভেন জিপ
    • গুগল কোড
  • ভিডিও
    • রাজনৈতিক
    • অন্যান্য
BANGLADESH
blog-debate লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
তদন্তের নামে ইউল্যাব কর্তৃপক্ষ সময়ক্ষেপণ করে মূল অপরাধীদের আড়াল করতে চাইছে - ব্লগারদের এই সন্দেহ সেই শুরু থেকেই। ব্লগে ইউল্যাবের পক্ষ নিয়েও অনেকে চেয়েছে জল ঘোলা করতে। কিন্তু ব্লগারদের তোপের মুখে উড়ে গেছে তারা। এখন ভাসমান কেউ নয়, নাটের গুরুরাই ব্লগারদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে অভিনব অপকৌশল নিয়ে মাঠে নেমে গেছে। অন্য একটি বাংলা ব্লগে আশ্রয় নিয়ে এই অপকর্ম মাত্রই শুরু হয়েছে।
গতকাল হঠাৎই দেখা গেল, আমারব্লগ নামের একটি ব্লগে আসিফ আকবর নামের এক ব্লগার একটি লেখা পয়দা করেছেন। সেখানে তিনি ইউল্যাবের পক্ষে নির্লজ্জ সাফাই গাইতে গাইতে এটা বোঝানোর প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন যে, ইভটিজিং নিয়ে ব্লগারদের আন্দোলন পুরোটাই ভন্ডামিপূর্ণ এবং সেটি ইউল্যাবের মতো সুমহান প্রতিষ্ঠানকে হেয় করারই একটি অপচেষ্টা! ব্লগারদের আন্দোলনকে তিনি স্পষ্টভাবে বিদ্রুপ করেছেন এবং যৌন নিপীড়নের এই সোচ্চার আন্দোলনকে 'পাবলিসিটি' কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নানা রকম ট্যাগিং দিয়ে ব্লগারদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার ব্যর্থ চেষ্টাও করেছেন তিনি। এমনকি যে ব্লগার একটি নারীর সম্ভ্রম রক্ষা করেছেন, তাকে নিয়েও উপহাস করতে ছাড়েননি এই 'ব্লগার'।

আসিফ আকবর যেভাবে দীপাবলি
ব্লগারের নাম আসিফ আকবর হলেও ব্লগের ইউআরএলে তার আইডি দেখাচ্ছে 'aguuuun'। আমরা অনুসন্ধানে নামতে পারি, কে সেই আসিফ আকবর/আগুন? কী তার পরিচয়? দেখা যাচ্ছে, আমারব্লগ নামের সেই ব্লগে এই লোক নাম লিখিয়েছেন মাত্র ২ দিন ৩ ঘন্টা আগে। সর্বসাকুল্যে তার মোট পোস্ট একটি। বোঝা যায়, ওই একটি পোস্ট দেওয়ার জন্যই আসিফ আকবর কিংবা 'aguuuun' নিকটির জন্ম। সাফাই গাওয়া পোস্টটি পাঠকের নজরে তেমন পড়েনি ভেবে আসিফ আকবর ওরফে আগুন সাহেব পরদিন তার 'দীপাবলি' নিক থেকে সেই একই পোস্ট আবার প্রসব করলেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই নিকের পোস্টও সাকুল্যে একটি আর বয়সও ১ দিন ৮ ঘন্টা মাত্র! যদিও আজ রাতের কোনো এক সময়ে পোস্টটি তিনি মুছে দিয়েছেন। কিন্তু রয়ে গেছে রেকর্ড! কাজেই আমরা আবার অনুসন্ধানে নামতে পারি, কে এই দীপাবলি? কী তার পরিচয়?

অনুসন্ধান অতঃপর : দীপাবলি যেভাবে নাসিমা খন্দকার
প্রথমেই খোঁজা যাক সামহোয়্যার..ইন ব্লগে। দেখা যাচ্ছে, জনাবের এখানেও একটি নিক আছে। আর সেটি খোলা হয়েছে দু সপ্তাহ ৪ দিন আগে। ইউল্যাবের ঘটনার পর পর। তার দুটি পোস্টের সর্বশেষটির শিরোনাম হচ্ছে - 'প্রফেসর ইমরান রহমান ইউনিভারসিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ এর উপাচার্য নি্যুক্ত'। এহেম এহেম! আসিফ আকবর ওরফে আগুন ভাই ওরফে নাসিমা খন্দকার 'আপুনি' সামহোয়্যারে আরো একখানি নিক খুলেছেন, সেটার বয়সও ২ সপ্তাহ ২ দিন! ইউল্যাবের সেই অপকর্মের পর পর নিকটি খোলা হয়েছে। তিনি সেখানে "আমি একজন মিডিয়াকর্মী" পরিচয় দিয়ে মিডিয়াকর্মীর ভেক ধরতে চেয়েছিলেন। আহারে!
এতোক্ষণ সকল কাজের কাজী গুগলকে উপেক্ষা করা ঠিক হচ্ছিল না। সুতরাং 'dipaboly' লিখে দিলাম গুগলে সার্চ, অচিরেই বেরিয়ে এলো একটি ফেসবুক একাউন্টের লিংক। সেখানে তার বৃত্তান্ত খুঁজে জানা গেল, তিনি গুণধর সেই ইউল্যাবের একজন কর্মকর্তা, তাও প্রশাসনিক শাখার। আরো ভালোভাবে খুঁজে দেখতে পাই, আমারব্লগের সেই কুৎসামূলক পোস্টটি তার ওয়ালে চমৎকার ভঙ্গিতে শোভা পাচ্ছে। এমনকি নিজ পরিচয়ে তিনি সেখানে একটি মন্তব্যও করেছেন। বুদ্ধি খাটিয়ে অবশ্য আসিফ আকবর কিংবা দীপাবলি নিক থেকে দেননি। প্রতিভাবান এই ভদ্রমহিলার নাম নাসিমা খন্দকার (নিপা), সাকিন - ইউল্যাব!

রেবের উন্মুক্ত ডেটাবেজেও সেই নাসিমা খন্দকার
মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমরা যদি nasima khandoker dipaboly লিখে গুগলে সার্চ দেই, তাহলে পেস্টবিনের একটি লিংক পাওয়া যায়, যেখানে আছে রেপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (রেব) ওয়েবসাইটে রেজিস্টার্ড মেম্বারদের লগইন নেইম-পাসওয়ার্ডের একটি তালিকা। সেই তালিকায় এই নাসিমা খন্দকারের মেইল-লগইন নেইম-পাসওয়ার্ড সবই উন্মুক্ত। প্রসঙ্গত রেব ওয়েবসাইট এর আগেও হ্যাক হয়েছিল। পরেও কয়েক দফা হ্যাকের শিকার হয়েছে অনেকটা নিরবেই। সাইটের ত্রুটিই তার মূল কারণ। হ্যাকাররা সাইটে ঢুকে পুরো ডেটাবেজ প্রকাশ্যে তুলে দিয়েছে, রেব হয়তো সেটি জানেই না।
সংযুক্তি : রেবের সেই ডেটাবেজ

কী দাঁড়ালো শেষমেশ?
সবমিলিয়ে তাহলে কী দাঁড়ালো? আসিফ আকবর/আগুন = দীপাবলি = নাসিমা খন্দকার = ইউল্যাবের প্রশাসনিক কর্মকর্তা! যে ইউল্যাব কর্তৃপক্ষ ভালোমানুষ সেজে সামহোয়্যারে অফিসিয়াল বিবৃতি পাঠাতো, তারাই কি এখন নাসিমা খন্দকারদের দিয়ে নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে যৌন হয়রানিকারী অপরাধীদের আড়াল করতে? যৌন নিপীড়নের ঘটনা ধামাচাপা দিতে?

হায়রে পাপিষ্ঠ ইন্টারনেট! লজ্জাবনত ইউল্যাবের লেজটুকুও লুকোতে দিবি না তুই? হায়!


ফলোআপ ১ : দিনভর চললো তথ্য গোপনের চেষ্টা
গত রাতে এই লেখা দেওয়ার পর ঘটে গেছে অনেক কিছুই। ইউল্যাব কর্মকর্তা নাসিমা খন্দকার আজ শুক্রবার দিনভর অনলাইন থেকে তথ্য গোপন করার চেষ্টা চালিয়েছেন। প্রথমে তিনি ফেসবুক থেকে তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করেছেন, শেষমেশ তার ফেসবুক একাউন্টই ডিঅ্যাকটিভেট বা হাইড করে ফেলেছেন। ব্লগেও তার বিভিন্ন নিক থেকে ইউল্যাব সাফাই গাওয়া পোস্টগুলো মুছে ফেলেছেন দ্রুততম সময়ে। অন্তত একটি ব্লগ একাউন্টকে রেখেছেন পুরোপুরি সংরক্ষিত। ভবিষ্যতের স্বার্থে এই কর্মকর্তার সন্দেহজনক অনলাইন অ্যাকটিভিটির একটি রেকর্ড এখানে রাখা হল একেক করে -
■ ফেসবুক একাউন্টে লুকোচুরি
এই লেখা আসার আগে : স্ক্রিনশট
এই লেখা আসার পরে : স্ক্রিনশট | লিংক
■ তথ্য গোপনের চেষ্টা
এই লেখা আসার আগে : স্ক্রিনশট
এই লেখা আসার পরে : স্ক্রিনশট | লিংক
■ দীপাবলি নিকের হালহকিকত
এই লেখা আসার আগে : স্ক্রিনশট
এই লেখা আসার পরে : স্ক্রিনশট | লিংক
■ সেই পোস্ট উধাও
এই লেখা আসার আগে : স্ক্রিনশট
এই লেখা আসার পরে : স্ক্রিনশট | লিংক
■ হঠাৎ গায়েব সেই মন্তব্য
এই লেখা আসার আগে : স্ক্রিনশট
এই লেখা আসার পরে : স্ক্রিনশট | লিংক
■ সামহোয়্যারের সেই নিক
এই লেখা আসার আগে : স্ক্রিনশট | গুগল সার্চে
এই লেখা আসার পরে : স্ক্রিনশট | লিংক


সংযুক্তি
প্রথম প্রকাশ

১০ মে রাজধানীর ইউল্যাবের সামনে ইউল্যাবের শিক্ষার্থী পরিচয়ে যৌন হয়রানির যে ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে ব্লগারদের আন্দোলন অভূতপূর্ব নিঃসন্দেহে। তবে সার্বিকভাবে ব্লগাররা যেহেতু অসংগঠিত, সেজন্য তারা খুব সম্ভবত ভুল পথে হাঁটছে, যে কারণে এই আন্দোলন তার কাঙ্ক্ষিত সুফল নাও পেতে পারে শেষপর্যন্ত। আর অন্যদিকে ইউল্যাব কর্তৃপক্ষ সুকৌশলে এক ঢিলে দুই পাখি মারার দিকে এগোচ্ছে পরিকল্পিতভাবেই। কিভাবে? সেটাই বলছি একেক করে-

অপরাধী শনাক্ত হয়ে গেছে, তবে...
ইউল্যাবের প্রশাসনিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, সেদিনের নারী ও ব্লগার লাঞ্ছনার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের ইতিমধ্যে শনাক্ত করেছে ইউল্যাব কর্তৃপক্ষ। ইউল্যাব কর্তৃপক্ষ গত সোমবারও প্রথম আলোকে যা বলেছে, ‌‌"ওই রাতে একজন নারী ইভ টিজিংয়ের শিকার হয়েছেন। কিন্তু অভিযুক্ত ছেলেরা ইউল্যাবের ছাত্র কি না, সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।" এটা পুরোপুরি মিথ্যাচার। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথাকথিত সুনাম রক্ষার্থে এই লুকোচুরিতে নেমেছে তারা এবং সচেতনভাবেই অপরাধীদের আড়াল করা হচ্ছে। ইউল্যাব কর্তৃপক্ষের বোঝার সুবিধার্থে আমি শনাক্ত হওয়া এক অপরাধীর নামের আদ্যাক্ষরও জানিয়ে দিচ্ছি। ২০১১ ব্যাচের সেই শিক্ষার্থীর নামের প্রথম দুটি অক্ষর ‌'আদ', যে কিনা ওই এলাকায় ইভটিজিং, মাস্তানি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িত দীর্ঘদিন ধরেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ইউল্যাব কর্তৃপক্ষের কাছে এই সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। সামহোয়্যারইনের কাছে পাঠানো বিবৃতিতে সেটা তারা নিজেরাও স্বীকার করেছে। ওই বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে - "ইউল্যাব তার সিসিটিভি’র উক্ত সময়ের ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখেছে।" খতিয়ে তারা কী দেখেছে, সেটা সচেতনভাবে চেপে যাওয়া হয়েছে, ব্লগারদেরও কেউ গুরুত্বপূর্ণ সেই প্রশ্নটি তোলেনি এ পর্যন্ত।

সেই সিসিটিভি ফুটেজ কোথায়?
ইউল্যাব কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটিতে ঢালতলোয়ারবিহীন ব্লগার প্রতিনিধিদের সত্যিকার অর্থে করার তেমন কিছু নেই। ইভটিজিং নিয়ে বড়জোর জ্ঞানগর্ভ ভাষণ অথবা টেবিলের কোনো একটি কোনা ধরে গোঁ ধরে বসে থাকা ছাড়া করার কিছু আসলেই নেই। ঠিক এই সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতার সুযোগটিই নিতে চাইছে ইউল্যাব কর্তৃপক্ষ। লক্ষ্য করুন, তদন্তকাজে যখনই ব্লগারদের প্রতিনিধি সম্পৃক্ত হবেন, তখনই তদন্তের দায়ভার কেবল ইউল্যাবের ওপরেই নয়, ব্লগারদেরও বহন করতে হবে - ভালো মন্দ যা-ই হোক। আরো সহজভাবে বললে, ইউল্যাবের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে তৈরি, কেবল সেটি হালাল করার জন্যই ব্লগারদের প্রতিনিধি নেওয়ার জন্য তারা বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে। যেন কথিত ‌'সর্বসম্মত তদন্তের' পরে ব্লগারদের আর কিছু বলার মুখ না থাকে। সবচেয়ে বড়ো কথা, যেখানে সিসিটিভি ফুটেজ ইউল্যাব কর্তৃপক্ষের কাছে এখনো সংরক্ষিত আছে, সেখানে তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করার কোনো অর্থ কী?

এই মুহূর্তে যা করা জরুরি
ইউল্যাব কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। ব্লগারদের এক বা দুজন প্রতিনিধি কিংবা সামহোয়্যার কর্তৃপক্ষের হাতে ওই সময়ের ফুটেজ সরবরাহ করা হোক। ব্লগারদের মধ্যেই অভিজ্ঞ অনেকেই আছেন (এমনকি আমি নিজেও), তারা সেই ভিডিও থেকে স্থিরচিত্র তৈরি করবেন। সামহোয়্যার কর্তৃপক্ষ একটি স্টিকি পোস্টের মাধ্যমে সেই ছবিগুলো প্রকাশ করবে। এতে পুরো দিনও লাগবে না আশা করি, কয়েক ঘন্টার মধ্যে অপরাধীরা শনাক্ত হবে। যেহেতু ইতিমধ্যে ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া গেছে, কাজেই ঘটনার সত্যতা নির্ণয় এবং অপরাধী শনাক্তকরণ মোটেই কঠিন কোনো কাজ হবে না। ইতিমধ্যে একজন শিক্ষকও একই স্থানে প্রায় অনুরূপ একটি ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে আমরা জেনেছি। তিনি যোগাযোগের জন্য তার মোবাইল নম্বরও একজন ব্লগারকে দিয়েছেন। তিনি এও বলেছেন, প্রয়োজনে তিনি সাক্ষ্য দেবেন। ফলে ওই শিক্ষকও তদন্তকাজে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারেন।

সুতরাং, প্রিয় ব্লগার, কালক্ষেপণ করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার আগেই সোচ্চার হোন প্লিজ। 

সংযুক্তি
প্রথম প্রকাশ
ব্লগ প্রতিযোগিতার নামে জার্মান রেডিও ডয়চে ভেলে আবার সেই সাজানো খেলায় নেমেছে। সামহোয়্যারের স্টিকি পোস্টে ব্লগারদের ক্ষীণ উপস্থিতিই জানান দিচ্ছে, ডয়চে ভেলের ওই সাজানো প্রতিযোগিতা নিয়ে কতোটা অনাগ্রহ তাদের। তবে নতুন খবর হল, এবার আরো এক ডিগ্রি ওপরে উঠে খেলাটি হতে যাচ্ছে পুরোপুরি পাতানো। বাংলা ভাষার সেরা ব্লগার নাম দিয়ে যাকে নির্বাচন করা হবে, তার নাম আগেই চূড়ান্ত হয়ে আছে। ডয়চে ভেলে এখন মনোনয়ন চাইছে। বলা হচ্ছে ভোটাভুটিও হবে। আসলে মনোনয়ন কিংবা ভোটাভুটিটা নাম মাত্র, ডয়চে ভেলের হিট প্রজেক্ট বলাই ভালো। ডয়চে ভেলের ভেতরকার সূত্র বলছে, এমনকি ভোটাভুটির পাতানো খেলায় কেউ যদি জিতেও যায়, তাহলে বিচারকদের কোটায় আগে থেকেই নির্বাচিত প্রার্থীকে তুলে আনা হবে। তাকে দিয়ে ইস্যুভিত্তিক ফরমায়েশি কিছু লেখাও ইতিমধ্যে লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে ব্লগে। ব্যাপারটা যে টাকার খেলা কিংবা স্বজনপ্রীতি তাও নয়, তারা মূলত একটি 'সেনসেশন' তৈরি করতে চাইছে। সম্ভাব্য কিছু জটিলতা এড়াতে নামটি গোপন রাখছি আপাতত, তবে সচেতন ব্লগারদের পক্ষে সেটা অনুমান করা খুব কঠিন হবে না বলে বিশ্বাস আমার।

ঠুঁটো জগন্নাথ
বিচারক এবার ড. শহীদুল ইসলাম। আলোকচিত্রী হিসেবে তার আছে আন্তর্জাতিক খ্যাতি। ইংরেজি ভাষায় তার একটি ব্লগ আছে বটে, কিন্তু তিনি নিজে কখনো বাংলায় ব্লগ লেখা তো দূরের, এমনকি বাংলা ব্লগ সম্পর্কে তার ধারণা নেই বললেও চলে। সেটা আবার তিনি নিজে স্বীকারও করেছেন একাধিক সাক্ষাৎকারে। এখন ডয়চে ভেলে তার ঘাড়েই তুলে দিয়েছে বাংলা ব্লগ বিচারের ভার। সুতরাং কী হবে সেটা অনুমান করা কঠিন কিছু নয়। তবে সাদামাটা ভাষায় বললে, এ হল শহীদুল ইসলামকে ঠুঁটো জগন্নাথ সাজিয়ে এ হল দেবারতি গুহ আর আরাফাতুল ওরফে হাবিব মহাজনের একটি সাজানো প্রজেক্ট। বলাবাহূল্য, ব্লগ বিচারের পদ্ধতিটা তার চেয়েও সাজানো। বাংলা ব্লগ নিয়ে স্বল্পজ্ঞানসম্পন্ন বাংলা ভাষার বিচারক অন্য ভাষার বিচারকদের বাংলাভাষী ব্লগারদের সম্পর্কে ধারণা দেবেন। আর সেই ধারণা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সবাই মিলে সেরা ব্লগার নির্বাচন করা হবে। ব্যাপারটা এমনই। প্রথম শ্রেণীর গর্দভ ছাড়া এইরকম হাস্যকর বিচার একমাত্র ডয়চে ভেলের পক্ষেই সম্ভব। প্রতারক ডয়চে ভেলেকে 'আ বিগ নো' বলা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বাক্য ব্যয় করাও অর্থহীন, সময়ের অপচয়।

গত বছরের কাণ্ড-অকাণ্ড
■ ব্লগ প্রতিযোগিতায় অবশেষে সেই ফলাফল, ভোটের অংক আর চোরের দশদিন
■ ব্লগ প্রতিযোগিতায় ভোট কেলেঙ্কারি : প্রতিবাদে সোচ্চার বিদেশী ব্লগাররাও
■ ডয়চে ভেলে ব্লগ প্রতিযোগিতায় ভোট কেলেঙ্কারি : ব্লগারদের নির্বাচিত ৫০ মন্তব্য
■ ব্লগ প্রতিযোগিতা : ভোট নিয়ে অবিশ্বাস্য জালিয়াতি, বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত চাই

সংযুক্তি
প্রথম প্রকাশ
 
ঢাকায় আজ শনিবার সকালের প্রতিবাদ ছিল পুরোপুরি ব্যতিক্রমধর্মী, প্রতীকী। সন্দেহাতীত প্রমাণ ছাড়াই সৌদি আরবে ৮ বাংলাদেশীকে শিরচ্ছেদ করা হয়েছে কয়েকদিন আগে। আরো পাঁচ বাংলাদেশীর মৃত্যুদন্ডও খুব শীঘ্রই একই পদ্ধতিতে কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে। এই ঘৃণ্য অমানবিক বর্বরতার বিরুদ্ধে এটা ছিল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি। না, এটা কোনো মিছিল ছিল না, মানুষ ভাড়া করে মানববন্ধনও নয়, আটজন তুচ্ছ মানুষ নিজেদের শরীরে দড়ি বেঁধে মাথা নিচু করে রাজপথে দাঁড়িয়ে ছিলেন কিছুক্ষণ। সৌদি আরবে আট বাংলাদেশিকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে নির্মমভাবে হত্যার পূর্ব মুহূর্তে অসহায় মানুষগুলো ঠিক যেভাবে হাঁটুতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, অবিকল সেভাবে।

ফুটেজ : যেভাবে হত্যা করা হয় আট বাংলাদেশিকে


অথচ দোষ ছিল না সেই আট বাংলাদেশির!
আগেই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে, সৌদি আরবে অভিযুক্ত আট বাংলাদেশি আত্মপক্ষ সমর্থনের সামান্যতম সুযোগও পাননি। এমনকি নিজেদের পক্ষে কোনো আইনি সহায়তাও তারা পাননি। বিচার হয়েছে শুধুমাত্র মৌখিক স্বীকারোক্তি আদায়ের মাধ্যমে। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই স্বীকারোক্তি কিভাবে আদায় করা হয়েছিল? যেখানে পুলিশ থেকে তথাকথিত আদালত - সবখানেই ভাষা কেবল আরবি, সেখানে আরবি না জানা কিংবা স্বল্প জানা আট বাংলাদেশি শ্রমিক স্বীকারোক্তিই বা কিভাবে দিলেন? তথাকথিত আদালতে শুনানিই বা কিভাবে হয়েছিল, যেখানে এমনকি অভিযুক্ত আট বাংলাদেশির পক্ষে কোনো আইনজীবিও ছিল না?

বিশ্বখ্যাত মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক তার চুরি করছিল অন্য একটি অজ্ঞাত গ্রুপ। সেখানে চাকরিরত আট বাংলাদেশি শ্রমিক চুরি নয়, বরং চোরদের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। এই দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির সময় মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মী মারা যান।

আট বাংলাদেশি কি তার চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন? না, সেরকম কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং এটাই অস্বাভাবিক যে, যে প্রতিষ্ঠানে আট বাংলাদেশি দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন, তারা কেন হঠাৎ চুরি করতে নামবেন?
আট বাংলাদেশি কি মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মী খুনের সঙ্গে জড়িত? সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, আট বাংলাদেশি নয়, চুরির কাজটা করতে গিয়েছিল অন্য একটি গ্রুপ। বাধা দিতে গিয়ে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় চোরদের। এই সময় মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মীটি নিহত হন।
প্রতিবাদের স্বর পৌঁছে গেছে সৌদি আরবেও
ঢাকায় আজকের প্রতীকী প্রতিবাদের পরপরই খবরটি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে সৌদি নিউজ টুডে। যার শিরোনাম ছিল - Members of 'Magic Movement' protest against beheading of eight Bangladeshis in Saudi Arabia. সৌদি জনগণ জানলো, বাংলাদেশিরা শুধুই তরবারির নিচে মাথা পেতে দিতে জানে না, প্রতিবাদও করতে জানে।

ডেমোটিক্স
নিউ ইয়র্ক টাইমস, হাফিংটন পোস্টের মতো সংবাদমাধ্যম যার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, সেই ডেমোটিক্সও প্রতিবাদ সমাবেশটিকে দিয়েছে আলাদা গুরুত্ব।

ইয়াহু নিউজ
Mock execution scene...

সালেম রেডিও নিউজ নেটওয়ার্ক
বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে মার্কিনভিত্তিক এই নিউজ নেটওয়ার্ক।

চীনা সংবাদ সংস্থা DAUM
BANGLADESH SAUDI ARABIA PROTEST

প্রথম আলো
অভিনব কর্মসূচিতে বর্বতার প্রতিবাদ

ই-প্রথম আলো
অভিনব কর্মসূচিতে বর্বরতার প্রতিবাদ

সকালের খবর
ম্যাজিক মুভমেন্টের অবস্থান কর্মসূচি

এবিসি রেডিও
৮ বাংলাদেশীর শিরোশ্ছেদের ঘটনার প্রতিবাদ ম্যাজিক মুভমেন্টের

ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস
Protesting against beheading of eight Bangladeshis

ডেইলি সান
NHRC to protest beheading in int'l forums

নিউ এইজ
Mock execution to protest at Saudi beheading of 8 Bangladeshis

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
'শিরোচ্ছেদের সময় এমনই অসহায় ছিলেন তারা'

বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর
শাহবাগে ৮ তরুণের শিরোশ্ছেদ!

বার্তা টোয়েন্টিফোর ডট নেট
৮ বাংলাদেশীর শিরশ্ছেদের নিন্দায় ব্লগারদের প্রতিবাদ

আমরা আছি এই ঠিকানায়
ম্যাজিক মুভমেন্ট
ফেসবুক গ্রুপ : কিক আউট সৌদি ডাইনেস্টি ফ্রম দ্য ল্যান্ড অফ ইসলাম

প্রথম প্রকাশ
পারসোনায় হিডেন ক্যাম পাওয়া নিয়ে ব্লগ ও ফেসবুকে সবাই সরব। সবকিছু মিলিয়ে পুরো ঘটনার একটি সারাংশ তৈরি করেছি আমি, একদমই নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে।

অভিযোগ কী?
পারসোনার বনানী শাখায় একটি সিসিটিভি ক্যামেরা পাওয়া গেছে, যার মুখ একটি বিশেষ কক্ষের দিকে ফেরানো ছিল।

কী করা যায় এখন?
১. পারসোনা বন্ধ করে দেওয়া।
২. কানিজ আলমাসকে বিচারের মুখোমুখি করা।
৩. পারসোনার বিপক্ষে জনসচেতনতা তৈরি করা।

কেন করা যায় না?
১. চাপ দিয়ে পারসোনা বন্ধ করা যাবে না, যেহেতু সেটা একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সরকারি বিধিবিধান মেনে প্রতিষ্ঠানটি চলে।
২. বিচারের মুখোমুখি করার জন্য একটি মামলা লাগে। কিন্তু আমরা দেখছি যে চিকিৎসক ভদ্রমহিলা অভিযোগটি করেছিলেন, তিনি মামলা করতে আগ্রহী নন। এমনকি আজকে কানিজ আলমাস এবং ওই মহিলার স্বামীর একটি যৌথ বিবৃতি সংবাদপত্র অফিসগুলোতে গেছে। যাতে দুজনেই বলেছেন, "সেদিনের ঘটনা নিছকই ভুল বোঝাবুঝির ফল। বিষয়টি ঘটনাস্থলেই মীমাংসা হয়ে যায়। এমনকি আমরা উভয়পক্ষই পুরো বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকায় কেউ কারো বিরুদ্ধে কোথাও কোন অভিযোগও করিনি।" পুলিশও বলছে, তাদের জব্দ করা হার্ডডিস্কে আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায়নি।
৩. অনলাইনে পারসোনার বিপক্ষে বিস্তর প্রচার-প্রচারণা চললেও এমনকি সেই অভিযুক্ত বনানী শাখায় ঠিক আজকেই রূপচর্চাপ্রেমী বিপুল মহিলার ভিড় দেখা গেছে। ফলে জনসচেতনতা আদৌ তৈরি হচ্ছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে আমার।

তাহলে কী হবে এখন?
সবমিলিয়ে আমার মনে হচ্ছে, পারসোনা এবং কানিজ আলমাস খান এই যাত্রায় পার পেতেই চলেছেন। এর মূল কারণ, ঘটনার ব্যাপারে আমাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য নেই। হাতে প্রমাণ নেই। ফলে প্রধান প্রধান সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন চ্যানেলে ঘটনাটিকে গুরুত্ব দেয়নি। আবার এমনও মনে করার কারণ নেই যে, সব সংবাদপত্রই পারসোনার কাছে বিক্রি হয়েছে। সেটা অসম্ভবই বলতে গেলে। আর এমনিতে একটি প্রতিষ্ঠান তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ব্যবহার করতেই পারে। কিন্তু যেহেতু ভুল হোক, সঠিক হোক পারসোনার বিরুদ্ধে অনৈতিকতার একটি অভিযোগ এসেছে, সুতরাং কানিজ আলমাস খানের উচিত পারসোনার সবগুলো শাখা থেকে পুরুষ কর্মীদের সরিয়ে সেখানে নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া। পুরুষ কর্মী যদি থাকেও, তারা অবশ্যই পার্লারের বাইরে থাকবে এবং সিসিটিভি অপারেশনের মতো কাজে তাদের কোনোভাবেই নিয়োগ দেওয়া চলবে না। এই ইস্যুতে আমরা কানিজ আলমাস খানের ওপর চাপ রাখতে পারি সবাই মিলে। 

সংযুক্তি
প্রথম প্রকাশ


The voting system for international blog awards – The BOBs – by Deutsche Welle has given scope to cast fraud votes in Bangla blogsphere. A group of bloggers well known for obscenities and derogatory comments at specific individuals in respect of gender, race, religion, nationality, sending hate e-mail, cyber bullying, cyber stalking have manipulated the result. Bangla blogsphere has its own dynamics and distinctive differences with other nations. The voting manipulation must not reflect the actual strength and beauty of bloggers in Bangladesh.

Vote tempering
One can vote in every 24 hours – earlier I considered it as a bug. Later I noticed, DW itself officially pounding the drum to encourage such a vote tempering. I am hearing a number of chitchat that  a bundle of Facebook-Twitter account has been opened. Those are in use to vote twice per day. The most ridiculous part is, a blog, officially supporting their own nominees, managing votes in group. As the way we understand national election hoax by its symptoms, online voting is also been understandable by its nature. Take note, almost reader less Amar Blog is leading with its blogger in different category. It is truly an wonder! Lets consider the case of Arif Jebtik, who is not an active blogger for the last two years. He writes a little now a days in a blogger less blog. So, how does he managed such a huge % of vote? It is almost everyday, hidden votes are increasing! I noticed very sharply, from the very beginning Arif Jebtik, Omi Rahman Pial and Sabrina’s blog following a special voting pattern - not too many, not too less, an average rate of votes. To hide such voting fabrication, abnormal votes are coming up for Abu Sufian, Indigenous blog and few other blogs. I feel really bad for Sabrina, a physically disable blogger. She is surrounded by some dishonest people.


Smart Scripting
Let us compare the voting pattern (in %) of those leading blogs in different category - machine’s fine work with NOT enough ups and down discrimination!

Indigenous Blog – 42% vote
Arif Jebtik’s Blog - 41% vote
Abu Sufian’s Blog – 41% vote
Sabrina’s Blog – 39% vote
Omi Rahman Pial’s Blog – 38% vote

Nominees from a specific platform, which is very novice and unfamiliar in bangle blogospeare, having same voting nature is undoubtedly an unusual example.  On the other hand, as Avro creator Mehdi Hasan Khan’s blog link belongs to Sachalayatan; poor of him! it is very disappointing to see that Amar Blog’s voting machine is not helping him much. So far his collection is only 34%. Whereas Mehdi has got a very familiar appreciation among all. He supposes to get more votes!

Omi Rahman Pial is one of the originator of a porn site, which even once engaged with child pornography. Because of the massive protest of bloggers against his JJ site, he has become soundless in blogging.  Arif Jebtik, the contestant under Best Blog Bengali category, was directly involved with a radical islamist political student committee group. These two are very intimate with the Bangla division juri Rezwanul Islam and thus they get the nomination pass into DW blog contest.



All roads are open to cheat
I observed, one Facebook or Twitter account can add 84 votes in total as per DW rules. By opening 100 accounts in Twitter-Facebook (nothing is more easier than this in the world!), 8000 votes can be casted by any automated software or without any script. A smart candidate can create 100 Facebook-Twitter account so easily and give vote to own-self twice in a day. So, are you thinking that opening Facebook-Twitter id is really such an easy task? Yes, easy! By running script 1000s of votes is also not a tough task. Not only Facebook, but also 100s of Gmail account opening is not a big deal. Blogger Tarpan’s outstanding observation has revealed an unbelievable fact about vote tempering  in the current contest.

Lets have some comparison
Omi Rahman Pial, under Best Social Activitism Campaign category, is leading with 38% vote. An Spanish blog with 27% vote is holding 2nd position and a Rush blog is at 3rd. If only 0.1%  from the huge Spanish internet users come to vote, then Bangla blog would go downwards. If a tiny portion of 42% internet users country Russia cast their vote,  Bangladeshis around the world with full force would not be able to beat them.  Just see the case of 7 natural wonders selection. Whole Bangladesh tried together but failed to include Cox’s Bazar to the main list. Sunderban is still surviving at the bottom of the list. So, where is the malfunction?  Do not bloggers of other countries have any interest  in this contest? Or number of internet user’s in Bangladesh raised by miracle?

See again, in Human Rights category, Indigenous Bengali blog leading with 42%. A portuguese blog is at 2nd position with 19%. Just check out the internet usage statistics in Portugal. On the other side, Sabrina is at top with 39% vote, an Arabic blog following her with 22%. You must see the Internet usage statistics of Arabs. Compare it with Bangladesh. After that you may not need to know the Bengali Bloggers statistics.  So, here the same question has to be repeated, from where all those abnormal votes are coming? Is it from up above the sky- the heaven?

We demand Investigation
It is very disappointing that even though DW was notified of this vote fraud, no reaction came out from them. Top of that being an organizer of such event, DW Bangla section itself voting for some selective nominees. The twitter notification showing us the fact.

No one has any doubt that there is huge vote swindling in DW’s current contest. Some blogger requesting to boycott  such a laughable contest.  We expect, DW will take a step to investigate this vote fraud. Blogs with abnormal % have to be separated to identify their voting map and other proves to declare an official action against those. The sooner DW perform this action, the more their reputation will be boosted up.

Contest like this demand transparency. That is why we raised our voice  against this vote fraud. Join our Facebook group : http://www.facebook.com/home.php?sk=group_122496711160296&ap=1


গতকালই বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়েছিল আমাদের হতভাগা বোন ফেলানীকে নিয়ে ব্লগারদের ব্যবহার করে জামায়াত-শিবিরের ঘৃণ্য তৎপরতার কথা। এর প্রতিক্রিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিসহ সাধারণ ব্লগাররা ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত আজকের তথাকথিত মানববন্ধন (আসলে ছিল ঘরবন্দি জামায়াতের শোডাউনের চেষ্টা) প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমরা টুপিখোলা অভিনন্দন জানাই সেই সব ব্লগারদের, যারা জামায়াতিদের পাতা ফাঁদে পা দেননি। এই প্রত্যাখান অভূতপূর্ব।

জামায়াতি এই বন্ধনের ফলাফল কী হল?
আজকের এই মানববন্ধনের ফলাফল কী? একটা বড়োসড়ো শূন্য। বরং এই মানববন্ধন যেহেতু জামায়াতিরা করেছে বলে চারদিকে চাউর হয়েছে, সরকার একে দু পয়সার মূল্যও দেবে না। এইখানে উল্টো একটা ক্ষতি হয়ে গেল। তবে তার চেয়ে ক্ষতি হয়েছে জামায়াত-শিবিরের নেপথ্য আয়োজকদের। দলীয় কর্মসূচিতে ব্লগারদের ব্যবহার করার যে আশা তারা করেছিল, সেটা পুরো মাঠে মারা গেছে। মানববন্ধনের প্রকৃত রহস্য প্রকাশ পাওয়ার পর স্টিকি পোস্ট থেকে জামায়াতের আয়োজকদের নাম মুছে, পুরো পরিকল্পনায় রাতারাতি যোজন-বিয়োজন-পরিবর্তন ঘটিয়ে নিজেদের আড়াল করার জন্য যথেষ্ট কসরত করতে হয়েছে তাদের।

কারা ছিল আজকের ছাগবন্ধনে?
মানববন্ধনে যাওয়া হাতেগোনা যে কজন ব্লগার হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন পোস্টে পোস্টে, দু একজন ছাড়া তাদের সবাই জামায়াত সমর্থক কিংবা শিবির কর্মী হিসেবে ব্লগে অনেকদিন ধরে চিহ্নিত। আর মাত্র তিনজনের ব্যাপারে বলতে পারি, তারা শ্রেফ বিভ্রান্ত হয়ে কিংবা আয়োজকদের সম্পর্কে না জেনে সেখানে হাজির হয়েছিলেন। ব্লগার কৌশিকের নাম আমরা দেখেছি। তিনি মূলত গিয়েছিলেন মোশরেফা মিশুকে আয়োজিত এক মানববন্ধনে অংশ নিতে, যা আয়োজিত হয়েছিল আজকের জামায়াতি মানববন্ধনের পাশেই। নিতান্ত কৌতূহলবশত তিনি ঢুঁ মেরেছিলেন ছাগবন্ধনে। ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কয়েকজন মেয়েকে সামনে রেখে আরেক কৌতুককর কাণ্ড করার চেষ্টাও করেছিল দেখছি।

স্টিকি পোস্টে দলীয় প্রচারণা
স্টিকি পোস্ট এডিট করে দলীয় প্রচারণা চালানো যায় কিনা - সেটা একটা বড়ো প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্লগাররা জানেন, স্টিকি পোস্টের লেখক তায়েফ আহমেদ কর্তৃপক্ষের সরলতার সুযোগ নিয়ে পোস্ট এডিট করে দুজন জামায়াত-শিবির নেতার নাম ও ফোন নম্বর যুক্ত করেছিলেন। ব্লগার সামী মিয়াদাদ এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের অবতারণা করেছেন এই পোস্টে। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০০৮ সালে প্রায় এই ধরনের কাজ করার অভিযোগে ব্লগার এস্কিমো ও রাশেদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা সবাই
ভারতের দাদাগিরি আর সীমান্তে বিএসএফের অব্যাহত সন্ত্রাসের প্রতিবাদ নিয়ে কারোরই কোনো দ্বিমত নেই। তবে এর প্রতিবাদে জামায়াতিরা খোলা রাস্তায় মলত্যাগ করে আসলে, আমরা মনে করি না তার জবাব হিসেবে পাল্টা মলত্যাগ করে আসতে হবে। মূল প্রশ্নটা হচ্ছে, স্বাধীনতাবিরোধী ঘৃণ্য জামায়াতিদের সঙ্গে আমরা এককাতারে শামিল হতে পারি কিনা। একজন জিজ্ঞেস করেছিলেন, একজন পতিতা যদি ভারতবিরোধী আন্দোলনে নামে, তার সঙ্গে যাবো কিনা। বলেছি, পতিতার সঙ্গেও প্রতিবাদে শামিল হতে রাজি, কিন্তু ঘৃণ্য জামায়াতিদের সঙ্গে কিছুতেই না, কখনোই না - যে বেশেই তারা আসুক না কেন।

তবে ঘৃণ্য স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে কিছুতেই না
এই ঘৃণ্য জামায়াতিরা একাত্তরে আমার দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে গিয়ে গণহত্যাসহ এমন কোনো উপায় নেই যা অবলম্বন করেনি। আজ তারা সাধারণ মানুষের ভারতবিরোধী মনোভাবকে পুঁজি করে দেশপ্রেমের প্রদর্শনী করতে চাইছে - এর থেকে হাস্যকর, এর চাইতে ভণ্ডামি আর কী হতে পারে? দেরিতে হলেও সাধারণ ব্লগাররা জামাতিদের ভণ্ডামির স্বরূপ বুঝতে পেরেছেন।
যে যেভাবে পারি, যার যার অবস্থান থেকে সীমান্তে বিএসএফের অব্যাহত সন্ত্রাসের প্রতিবাদ করে যাবো। ভারতকে এজন্য শুধু দুঃখ প্রকাশ করলেই হবে না, আনুষ্ঠানিকভাবে চাইতে হবে ক্ষমা। আর এই যাবত বিএসএফের হাতে আমার দেশের যতো মানুষ খুন হয়েছে, প্রতিটি হত্যার বিচার করতে হবে। তবে শুধু মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতাবিরোধী ধর্মব্যবসায়ী ঘৃণ্য জামায়াতিদের সঙ্গে কিছুতেই নয়, কখনোই নয়।

প্রতিক্রিয়া পোস্ট : পক্ষে-বিপক্ষে
জামায়াতের প্রতি সমবেদনা
জাশিদের জন্য দুঃখ হলো। একটা মানব বন্ধন সেটাও নিজেদের ব্যানারে করতে পারলো না
শত শত ছাগলের প্রতিবাদী ল্যাদাতে সফল হলো আজকের ছাগ বন্ধন
সাইবার ক্যাম্পেইন থেকে রাজপথে মাইকিং.. বাংলার তারুন্যের ঐক্যের মানববন্ধন
ছবিব্লগ : প্রেসক্লাবে আজকের মানববন্ধন অবশেষে সফল হল...
ল্যাঞ্জা দেখান, গেলমান হোন। জাতীয় প্রেসক্লাব হোক আজ মগবাজারীদের ল্যাদানিস্থান
সুশীল যে কারণে দেখতে পারি না
ফেলানি মানববন্ধন : কিছু রহস্য যার উত্তর খুঁজে ফিরি
ফিউশন ফাইভ বোমা
সফল মানববন্ধন : ছবিব্লগ
আজকের মানববন্ধনে আপুদের (বোরখা ছাড়া) উপস্থিতি কি প্রমান করলো এটা ছাগুদরের মানববন্ধন?? (উৎসর্গ ফিফা দাদাকে)
চলমান যুদ্ধাপরাধী বিচার প্রক্রিয়া রূদ্ধ করার হাস্যকর প্রচেষ্টা এই 'ভারত পাকিস্তান সমান অপরাধী' প্রপাগান্ডা!
ব্লগার মুন্সিয়ানা, শ মশীর, কৌশিক, স্পেলবাইন্ডার, খোমেনী এহসান, শিপুভাই...
স্টিকি-পরবর্তী সময়ে পোষ্টে গুরুত্বপূর্ন তথ্য সংযোগ কতটুকু নৈতিক?
কেন আমি আইজকার মানব{ছাগ}বন্ধনে যাই নাই
ফিকশন পাইপ ভাইকে বলছি, আমাদের ভালবাসলে সামনে আসুন ,একসাথে কাডল পাতার ভাগ দিমু


প্রথম প্রকাশ

ব্লগারদের যতো উদ্যোগ, সেখানে নেতা-টেতা গোছের কাউকে দেখা যায় না। সবাই যার যার মতো অংশ নিয়ে থাকেন। ব্লগাররাই সেখানকার প্রাণ। সিদ্ধান্ত যা নেওয়ার, সেসবও ব্লগাররাই নেন। ব্লগের উদ্যোগে ব্লগাররাই সম্পৃক্ত হবেন - সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা দেখলাম, সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে হঠাৎ উদিত হল এক মানববন্ধন কর্মসূচি। হুটহাট তার একটি কমিটি গঠিত হয়ে গেল। সেই কমিটিতে কারা কারা আছেন, সেটা জানার উপায় নেই। তাহলে এই মানববন্ধনের উদ্যোক্তা কারা? উদ্যোক্তা হিসেবে যোগাযোগের জন্য দুজনের নাম আর মোবাইল নম্বর কিছুক্ষণ আগেও স্টিকি পোস্টে আমরা দেখেছি। এদের একজন সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট মঈনুল করিম জাতীয়ভাবে পরিচিত কেউ নন। তবে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তিনি জামায়াত সমর্থক একজন আইনজীবী। কিছুক্ষণ আগে দেখলাম, এই লোকের নাম স্টিকি পোস্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মানব বন্ধন আয়োজক কমিটির সহ-আহবায়ক হিসেবে বাকি যে লোকের নাম এখনো স্টিকি পোস্টে ঝুলছে - হেলাল এম রহমান, এই লোকও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত। এই লিংকে ক্লিক করে নিচের দিকে শেষ তিনটি মন্তব্য দেখুন।


এদের সঙ্গে, এই মানববন্ধনের সঙ্গে ব্লগ আর ব্লগারদের সম্পর্ক কী? স্টিকি পোস্টে উল্লেখিত এই অনুষ্ঠানসূচিইবা প্রণয়ন করলো কারা? একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়, সাধারণ মানুষের ভারত বিরোধী আবেগকে পুঁজি করে সামহোয়্যারের মতো একটি জায়গায় মূলত মৌলবাদীরাই মহড়াই দিচ্ছে। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ থেকে এটা স্পষ্ট যে, এই আয়োজন, প্রেসক্লাবের সামনে আহূত এই মানববন্ধনের নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছে জামায়াত ও ছাত্রশিবির।

সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের জঘন্য মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড কোনো বিবেকবান মানুষের পক্ষেই সমর্থন করা সম্ভব নয়। ফেলানী হত্যার ঘটনায় ভারত ইতিমধ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছে, সেটা যথেষ্ট নয়, তাদের ক্ষমা চাইতে হবে আনুষ্ঠানিকভাবে। এবং সেই সঙ্গে ফেলানীসহ সীমান্তে বিএসএফের হাতে খুন হওয়া প্রতিটি বাংলাদেশী হত্যার বিচার করতে হবে। এই দাবি বাংলাদেশের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের। কিন্তু যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে, এই দাবি জানাতে গিয়ে আমরা, সাধারণ ব্লগাররা যেন মৌলবাদীদের স্বার্থে ব্যবহৃত না হই। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, জামায়াত-শিবিরের মতো মৌলবাদী চক্র যেন সাধারণের ব্লগের মতো প্রগতিশীল ক্ষেত্রকে তাদের হীনস্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে। লক্ষ্য করবেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তকাজ শুরু হওয়ার পর জামায়াত-শিবিরসহ মৌলবাদী যে চক্রটি স্পষ্টতই বিপাকে পড়েছে, তারা এখন সুকৌশলে বিভিন্নভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্পর্শকাতর ইস্যুতে সাধারণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে, বাস্তবে যেমন, এমনকি ভার্চুয়াল ভুবনেও। আগামীকালের মানববন্ধন কর্মসূচি তারই একটি অংশ। দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, সামহোয়্যারের মতো একটি প্রগতিশীল প্রতিষ্ঠান নিজেদের অজান্তেই মৌলবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। যার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ বর্তমান স্টিকি পোস্টটি।

ভারতীয় বিএসএফের জঘন্য হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ প্রয়োজনে রাস্তায় একা দাঁড়িয়ে করুন, পাশে থাকবো, কিন্তু যে মানববন্ধন আয়োজনের নেপথ্যে জামায়াত-শিবির সক্রিয় সেখানে কিছুতেই নয় - হোক সেটা প্রেসক্লাবে, হোক সেটা রমনা উদ্যানে। প্রিয় ব্লগার, দেশের জন্য আপনার আবেগ মূল্যহীন নয়, মৌলবাদীদের হাতে এর অপব্যবহার হতে দেবেন না।

প্রতিক্রিয়া পোস্ট : পক্ষে-বিপক্ষে
■ ২১ শে জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে- আসবেন তো সবাই?
■ জামাত শিবিরের স্টিকি পোস্ট সরানো হোক
■ ২১ জানুয়ারির মানববন্ধন নিয়া বিভ্রান্তি, অপপ্রচার ও চক্রান্ত
■ সাধারন মানুষের সেন্টিমেন্টের কান্ধে বন্ধুক ফালাইয়া গুলি করতাছে ছুপা ছাগুরা ..ভালু ভালু
■ ফিউশন ফাইভ ভাইকে বলছি, দেশকে ভালবাসলে সামনে আসুন
■ দলমত নির্বিশেষে কাল মানববন্ধনে আসুন (ছাগুরা পিঠে ছালা বাইন্ধা আসতে ভুইলো না)
■ স্টিকি পোস্টে যে কথাগুলো বলা যায় না
■ প্রসংগঃ মানববন্ধন ও এর বিরোধিতা...
■ স্টিকি পোস্ট বিতর্কের সর্বশেষ আপডেট
■ যারা আসার তাঁরা আসবেন......সময় এবং আন্দোলন কারো জন্য যেমন বসে থাকেনা, তেমন কারো নেতৃত্বের জন্যও অপেক্ষা করেনা
■ জামাত শিবিরের পোস্ট স্টিকি রাখতে কর্তৃপক্ষের প্রতিজ্ঞা!
■ আসুন তায়েফ কে বীরশ্রেষ্ঠ আর ফিউশন ফাইভকে রাজাকার এর ব্যাজ পরিয়ে দিই
■ আগামিকাল দুটি মানববন্ধন এর আয়োজন করা হোক
■ বিএসএফ এর দালাল প্রথম আলোর সাংবাদিকের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশী আশা করিনি
■ আসুন পাগলদের একটা লিষ্ট তৈরি করি,অতপর বয়কট করি..
■ স্টিকি পোস্টের বিষয়ে যেমন ব্যক্তি জানাকে বা প্রতিষ্ঠান সামুকে দোষারোপ করা যায়না তেমনি পোস্ট সরাতেও তাদের কার্পন্য করা উচিত নয়
■ শিবির চেনার নতুন তরিকা.. বেশি কষ্ট করতে হবে না.. শুধু 'ভাদা' শব্দটা খুঁজে দেখুন এদের কমেন্টে
■ শিবির চেনার নতুন তরিকা.. বেশি কষ্ট করতে হবে না.. শুধু 'ভাদা' শব্দটা খুঁজে দেখুন এদের কমেন্টে
■ নব বন্ধন হোক, তবে সেটা হোক রাজনীতিমুক্ত অহিংস মানবতাবাদী আন্দোলন
■ বিদায় সামু...


প্রথম প্রকাশ
দীর্ঘ চার মাস ধরে আমি এ ব্যাপারে পর্বতারোহীদের সাক্ষাৎকার নেয়ার চেষ্টা করেছি, ছবি সংগ্রহ করেছি, ত্রিমাত্রিক মডেলে মুসার ছবি বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করে প্রমাণ খোঁজার চেষ্টা করেছি। আমি সন্তুষ্ট যে অবশেষে যুক্তি এবং বিশ্লেষণের আলোকেই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তে আসতে পেরেছি, কোনো মিডিয়াগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেয়া কথার ভিত্তিতে নয়। ছবিগুলো যদি আরো আগে জনগণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হতো, তাহলে আরো আগেই এই বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো। (পোস্টদাতা : হিমু | পোস্টের লিংক | পোস্টের স্ক্রিনশট)

অবশেষে অরিন্দম কহিলো বিষাদে
অবশেষে হিমু স্বীকার করে নিলেন, মুসার এভারেস্ট বিজয় সম্পর্কে তার আর সন্দেহ নেই। তিনি সন্তুষ্ট। যে চিলের পেছনে হিমু সবাইকে ছুটিয়েছেন, সেই চিলের খোঁজও শেষপর্যন্ত তিনি দিয়েছেন। তাকে ধন্যবাদ, তাকে অভিনন্দন! শুধু হিমুর কাছে জানতে চাই, আপনি মানুষের কাছে স্পষ্ট উত্তর জানতে চান। কিন্তু আপনি নিজে কেন ইনিয়ে-বিনিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করলেন আজ? আপনি তো গর্জন করেও বলতে পারতেন, এতোগুলো দিন মুসার বিরুদ্ধে কুৎসা রচনা করেছেন এবং এখনো করছেন ফ্রে পিক-অন্নপূর্ণা নিয়ে, এভারেস্ট নিয়ে যা এতোদিন করে এসেছেন। অথচ এই এখনো আপনার হাতে কোনো প্রমাণ নেই, নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্যও নেই। প্রমাণিত সত্য ছাড়া আর কোনো পর্বতারোহীর চরিত্রহনন করবেন না- এই প্রত্যাশা রাখছি। আবারও বলতে চাই, আপনার এই প্রচেষ্টা অভিনন্দনযোগ্যই হতো, যদি আপনি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে অনুসন্ধান শুরু করতেন এবং শুরু থেকেই নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে আপনার কর্মকাণ্ড না চলতো। আমাদের দুর্ভাগ্য, আপনি অনুসন্ধান শুরুই করেছিলেন কুৎসা রটনা আর নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে। আমরা আশা করবো, আপনি যখন ভবিষ্যতেও এমন কোনো অনুসন্ধানে যাবেন, ইতিবাচক মনোভাব থেকে সেটা শুরু করবেন, সেখান থেকে নেতিবাচক কিছু পেলে সেভাবে এগোবেন।

একদিকে অভিনন্দন, অন্যদিকে চলছিল ইমেইল চালাচালি
এভারেস্ট আরোহণে যাওয়া মুসাদের পর্বতারোহী দলটি ছিল নানা দিক থেকেই একটি 'বিশেষ দল'। সেই দলে সবাই ছিল প্রথম, বিভিন্ন কারণে। যেমন মুসা ছিলেন এভারেস্ট চূড়োয় প্রথম বাংলাদেশী। মন্টেনিগ্রোর যে তিন পর্বতারোহী ছিলেন মুসার সঙ্গী, তারাও ছিলেন মন্টেনিগ্রো থেকে প্রথম এভারেস্ট আরোহী। সার্বিয়ার যে ডাক্তার ভদ্রলোক ছিলেন ওই দলে, তিনিও এভারেস্ট চূড়োয় প্রথম সার্বিয়ান ডাক্তার আর নেপালের লাল বাহাদুর জিরেল ছিলেন 'জিরেল' সম্প্রদায় থেকে প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী। আট জনের দলে দুজন তাইওয়ানিজ ও কোরিয়ান ছিল, তাদেরও কী যেন বিশেষত্ব ছিল।
তিন মন্টেনেগ্রান যখন এভারেস্ট চূড়ো থেকে বেস ক্যাম্পে ফিরলেন, ফোন বেজে উঠল। ফোনের ওপ্রান্তে মন্টেনিগ্রোর প্রেসিডেন্ট স্বয়ং! অভিনন্দন আর ভালোবাসায় সিক্ত করলেন মন্টেনিগ্রোর প্রথম তিন এভারেস্ট বিজয়ীকে। সেই একই ক্যাম্পে ছিলেন ওই একই গৌরবের অংশীদার এক বাংলাদেশীও- মুসা ইব্রাহীম! অন্যরা যখন অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছিলেন, তখন দেশ থেকে উড়ে যাওয়া ফোনকলে মুসার কাছে প্রশ্ন এসেছে- '‌'মুসা, আপনি আসলেই এভারেস্টে উঠছেন তো, নাকি?' সজল খালেদরা তখন মুসার বিরুদ্ধে লম্বা লম্বা ইমেইল চালাচালি করছেন। আর হিমুরা লিখছিলেন নেভারেস্ট সিরিজ!

তিনি এই বাংলাদেশেরই সন্তান
মুসা ইব্রাহীমের অর্জন বাংলাদেশেরই অর্জন। তাকে নিয়ে যে অনাবশ্যক বিতর্কটি শুরু হয়েছিল, তা আমাদের সবার জন্যই লজ্জা ও দুঃখজনক। আসলে মুসার প্রতি বিস্তর অবিচার আমরা সবাই মিলে ইতিমধ্যে করে ফেলেছি। কী পরিমাণ মানসিক যন্ত্রণা তার ওপর দিয়ে গেছে, তার একটি ছোট্ট নমুনা এখানে দিতে পারি। গভীর রাতে মুসার কাছে এসএমএস আসে, তুই একটা শয়তান। স্টেডিয়ামে তোর ফাঁসি দেখতে চাই। এতো কষ্ট, এতো যন্ত্রণা- মুসার বোধহয় প্রাপ্য ছিল না।

মুসা ইব্রাহীম, এভারেস্টজয়ী প্রথম বাংলাদেশী, আমাদের দীনতাকে ক্ষমা করবেন। আপনাকে পুনর্বার অভিনন্দন!

একনজরে মুসা ইব্রাহীম
উইকিপিডিয়ায় মুসা ইব্রাহীম : ইংরেজি | বাংলা
মুসা ইব্রাহীম এর বাংলা ব্লগ

মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট বিজয় : বিদেশী সংবাদমাধ্যমে
এএফপি | বিবিসি | ডয়চে ভেলে ১ | ডয়চে ভেলে ২ | ডয়চে ভেলে ৩ | ডয়চে ভেলে ৪ | দি হিন্দু | দি ডন | ইয়াহু নিউজ | এমএসএন | জি নিউজ | জিমবায়ো নিউজ | নিউজ টোয়েন্টিফোর | মিড ডে ডটকম | SMUCT

মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট বিজয় : বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে
প্রথম আলো ১ | প্রথম আলো ২ | প্রথম আলো ৩ | প্রথম আলো ৪ | প্রথম আলো ৫
প্রথম আলো ৬ | প্রথম আলো ৭ | ডেইলি স্টার ১ | ডেইলি স্টার ২
ইত্তেফাক | আমাদের সময় | ডেইলি নিউএজ | ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস | বিডিনিউজ ১ | বিডিনিউজ ২ | বিডিনিউজ ৩ | ভোরের কাগজ | বাংলা ওয়ার্ল্ড | ট্রুলি বাংলাদেশ
তাজাখবর

মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট বিজয় : দেশী-বিদেশী ফোরামে
এক্সপ্লোরার ওয়েব-১ | এক্সপ্লোরার ওয়েব-২ | ডিফেন্স ফোরাম | কেওকারাডং

মুসা ইব্রাহীমের অডিও সাক্ষাৎকার
পর্ব : ১ | পর্ব : ২ | পর্ব : ৩ | পর্ব : ৪ | পর্ব : ৫

টেলিভিশন সাক্ষাৎকার
দেশ টিভির মুখোমুখি মুসা ইব্রাহীম

মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট বিজয় : বাংলা ব্লগমণ্ডলে
অবশেষে বাংলাদেশের এভারেস্ট জয়!!
মুসা ইব্রাহীম- ‘বাংলা ভুতের’ প্রথম সাক্ষাতকার
মুসা ই কি প্রথম বাংলাদেশি?
মুসা ইব্রাহিমের এভারেস্ট সামিটের ছবি
ফ্লিকারে মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট অভিযানের ছবি
বামনকূলের ২০ প্রপাগাণ্ডা নিয়ে একটি পোড়ামাটি অনুসন্ধান - পর্ব : ১
বামনকূলের ২০ প্রপাগাণ্ডা নিয়ে একটি পোড়ামাটি অনুসন্ধান - পর্ব : ২
নেভারেস্ট এবং একজন ব্রেনডন ও'ম্যাহনি
মুসা ইব্রাহিমের ছবিগুলো
প্রায়নেভারেস্ট পোস্ট: মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্টের ছবি সম্পর্কে বিশ্লেষণ
আবারও অভিনন্দন মুসা ইব্রাহিমকে
যে বুদ্ধের মূর্তি আমরা কখনই দেখবো না
মুসা ইব্রাহীম-এর এভারেস্ট জয়, বিতর্ক, বাস্তবতা ও বিবিধ...
মুসা ইব্রাহীমের 'সাগর মাতা' জয় নিয়ে সৃষ্ট সংশয় ও কিছু বিশ্লেষন
মুসা ইব্রাহীম সংক্রান্ত পোস্ট এবং অনুসিদ্ধান্ত
মুসা ইব্রাহিম ইস্যুতে আমাদের ডাকসাইটে ব্লগারদের বিতর্ক সংস্কৃতির বেহাল দশা
টুকরো-টাকরা ৩
মুসা বিষয়ে মিথ্যাচার করে আমরা কি নিজেরাই নিজেদের ছোট করছি না?
মুসা এভারেস্টে উঠবার আগে ও পরে যা যা করতে পারতো
মুসা ইব্রাহিমের এভারেস্ট জয় এবং একজনের অভিজ্ঞতা
সজল খালেদ বনাম মুসা ইব্রাহিম
অভিনন্দন মুসা, অভিনন্দন ব্রেন্ডন, অভিনন্দন জলদস্যু
হাই ইস্পিড ইন্টারনেট দিয়াও হিমালয় থিকা কাউরে নামানো গেল না!
এক্সট্রা লার্জ ফুটোস্কোপিক সচিত্র অডিওভিস্যুয়াল ডিজিটাল রুপকথা
নেভারেস্ট বাংলা ব্লগের একটি দুষ্টক্ষত
হোয়াই হিমু গং এট রেস্ট ০
প্রসঙ্গ: মুসা ইব্রাহীম ।ব্লগারদের বিভ্রান্তকর। প্রয়োজন হিমুর সুরতহাল


প্রথম প্রকাশ





মুসা ইব্রাহীম সামহোয়্যারইনেরই ব্লগার, আগে কখনো নজর কাড়েননি সেভাবে। আজ এই তুমুল তরুণের ব্লগে গিয়ে দেখলাম, প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে কী অদ্ভূতভাবে ছড়িয়ে ছিল পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া জয়ের সুকঠিন প্রতিজ্ঞা! প্রোফাইলে লিখে রেখেছেন- 'লক্ষ্য ২০১০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এভারেস্ট জয় করা।' এখন সেটা ইতিহাস! প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট বিজয়ের পর সামহোয়্যারইন ব্লগ ছাড়াও কয়েকটি ছোট ব্লগে বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। নেটজগতের বাইরে এইসব চিৎকার-চেঁচামেচি একেবারেই মূল্যহীন। তবুও একজন নেটিজেন হিসেবে আমার মনে হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে একটি পোড়ামাটি অনুসন্ধান জরুরি। অনুসন্ধানের স্বার্থে মুসা ইব্রাহীম ছাড়াও তার সঙ্গে যাওয়া শেরপা, তার কাছের বন্ধুবান্ধব, ঘনিষ্ঠজন এবং ঢাকাভিত্তিক পর্বতারোহীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেগুলো আবার যাচাই-প্রতিযাচাই করেছি যথাসম্ভব। সেদিকে সময়ও লেগে গেছে বেশ খানিকটা। ওয়েবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তথ্য খুঁজেপেতেও সময় লেগেছে, তবে কার্পণ্য করিনি কিছুতেই।

প্রপাগাণ্ডা ১ থেকে ৯ নিয়ে ছিল প্রথম পর্ব। এবার দ্বিতীয় পর্ব।

কক্সবাজারে অবকাশ, কৃতজ্ঞতা অথবা উৎকোচ
প্রপাগাণ্ডা ১০ : এভারেস্ট অভিযানের সঙ্গী তিন শেরপাকে মুসা বাংলাদেশে শুধু আমন্ত্রণই জানাননি, বেড়াতে নিয়ে গেছেন কক্সবাজার সৈকতে। অথচ তার প্রাণ রক্ষা করেছেন যে ব্রেণ্ডান ওম্যামানি আর স্টিফেন গ্রিন, তাঁদের সম্পর্কে তিনি একেবারেই নিরব। একটি বারও তিনি তাদের নাম ধরে এখন পর্যন্ত কোথাও লেখেননি। বাংলাদেশে এই তিন শেরপা গাইডের জন্যে ভ্রমণের আয়োজন কি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, নাকি কোনো ধরনের উৎকোচ?
অনুসন্ধান : এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে, ওই তিন শেরপা না থাকলে মুসার এভারেস্ট সামিট হতো না। পুরোটা সময় তারা তাকে মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছেন। যার যে দায়িত্ব সেটা তারা পালন করেছেন। প্রয়োজনে তাকে বকাবকিও করেছেন। এভারেস্ট টপ থেকে কিছুটা নিচে যখন পাথরে ঘষা খেয়ে মুসার অক্সিজেনের নল ফুটো হয়ে গিয়েছিল তখন সেটা মেরামত করে তার প্রাণ বাঁচিয়েছিল সঙ্গে থাকা দুই শেরপাই। আর নামার সময় মাস্কে বেশি নাড়াচাড়ার ফলে বেশ কিছু জায়গায় বরফ জমে গিয়ে মুসার যখন নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল, প্রচন্ড পানির তৃষ্ণায় যখন তিনি কাতর, তখন তাকে পানি আর পাওয়ার জেল খাইয়ে একটু চাঙ্গা করে তোলে স্টিফেন গ্রিন এবং ব্রেণ্ডান ওমামানি। তখনও মুসার সঙ্গে শেরপা ছিল। কিন্তু শেরপাদের পানিও শেষ হয়ে যাওয়ায় গ্রিন আর ওমামানির সাহায্য তখন খুব কাজে লেগেছিল। এই ছবিতে দেখুন এভারেস্ট চূড়া বিজয় শেষে নেপালে মুসা ইব্রাহীমের সঙ্গে ওই দুজনকে।

অনুসন্ধানে জেনেছি, মুসা তার এভারেস্ট অভিযানের সঙ্গী তিন শেরপাকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে এবং কক্সবাজার বেড়াতে নিয়ে গিয়ে তাদের প্রতি যে ধরনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, একই ধরনের কৃতজ্ঞতা ব্রেন্ডান ওমামানি ও স্টিফেন গ্রিনের কাছেও প্রকাশ করেছেন ওই একই সময়ে বাংলাদেশে ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানিয়ে। কিন্তু তারা সময় বের করতে না পারায় মুসা ইব্রাহীমের অনুরোধ রক্ষা করতে পারেননি। তবে গ্রিন ও ওম্যামানি আর তাদের দলের সঙ্গে নেপালের বিখ্যাত রামডুডল হোটেলে দেখা হলে সেখানে তাদের বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়, কৃতজ্ঞতার নিদর্শন স্বরূপ তাদের মাথায় লাল সবুজের ব্যান্ডানা পরিয়ে দেন মূসা ইব্রাহীম। দীর্ঘক্ষণ ধরে তারা সাংবাদিকদের কাছে সাক্ষাৎকার দেন এবং তখনকার ঘটনা বর্ণনা করে। সেদিন সন্ধ্যাতেই ছিল নেপালস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে মুসা ইব্রাহীমের সংবর্ধনা। সেই সংবর্ধনায় গ্রিন আর ওমামানিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা যথাসময়ে মুসার জন্য উপহার হাতে হোটেল এভারেস্টের সংবর্ধনায় হাজির হন। মুসা ইব্রাহীমের অনুরোধে তারাও মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। পরে মুসা ইব্রাহীম ও উপস্থিত বাঙালিরা তাদের সঙ্গেই বাংলাদেশ ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানায়। কিন্তু সময়ের টানাটানি থাকায় তারা অপারগতা প্রকাশ করলেও ভবিষ্যতে তারা বাংলাদেশে আসবেন এই কথা জানান। বাংলাদেশী পর্বতারোহীদের অনেকেই বলেছেন, শেরপাদের এদেশে ভ্রমণ করাটাকে উৎকোচ ভাবা অত্যন্ত অরুচিকর একটি সন্দেহ, যেখানে বাংলাদেশীরা অতিথিপরায়ণ হিসেবে বিশ্বখ্যাত। এখানে আরেকটি তথ্য, পর্বতারোহীদের অপর একটি সংগঠনের আমন্ত্রণে রেকর্ডধারী শেরপা পেমবা দর্জি একাধিকবার বাংলাদেশে এসেছেন সাম্প্রতিককালে। একে কি আমরা 'উৎকোচ' ভেবে সন্দেহ করতে পারি?

হিমালয়ান গাইডসের ওয়েবসাইটে অস্বাভাবিক নোটিশ
প্রপাগাণ্ডা ১১ : সাধারণত অভিযান আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলো বরাবরই তাদের ওয়েবসাইটে শিখরজয়ীদের নামের তালিকা প্রকাশ করে। কিন্তু হিমালয়ান গাইডস একটি অভূতপূর্ব ব্যতিক্রম ঘটিয়েছে মুসার ক্ষেত্রে। মনোযোগী পাঠক এখানে একটু লক্ষ করলেই দেখবেন, ১৭ মে ও ২৫ মে এভারেস্ট শিখরজয়ীদের প্রত্যেকের নামের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা এসেছে। এ দুয়ের মাঝখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ২৬ জনের H.G. International Everest Expedition ২০১০ দলের ২৫ জনকেই উপোর অন্ধকারে ঠেলে ফেলে দিয়ে এক ও একক মুসা ইব্রাহীমের কীর্তির জয়গান গাওয়া হয়েছে। মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, মুসা কি হিমালয়ান গাইডসের কোনো বিশেষ মক্কেল? এমন একজন ক্লায়েন্ট, যার নামটি অভিযাত্রী দলের একজন হিসেবে না এসে একটি পৃথক ভুক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে যুক্ত হয়? পাঠকের প্রশ্ন, হিমালয়ান গাইডস কেন এ ধরনের অস্বাভাবিক নোটিশ ইস্যু করলো? মুসা ইব্রাহীমই বা কেন বিশেষ একজন মক্কেল হতে যাবেন?
অনুসন্ধান : মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ের খবর বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর এদেশের আরেকজন পর্বতারোহী সজল খালেদ একটা ই-মেইলে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করে এই খবর কেন বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং সন্দেহজনক, তা সবার কাছে ব্যাখ্যা করেছিলেন। সজল খালেদ বলেছিলেন, মুসা ইব্রাহীম চায়না-তিব্বত মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন থেকে সনদ পেলে তবেই তার এভারেস্ট জয়কে বিশ্বাস করা যেতে পারে। এরপর তিনি অবশ্য ক্ষমা চেয়ে সবার কাছে ই-মেইল করেছেন যখন মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ের খবর সন্দেহাতীতভাবে নিশ্চিত হয়ে নেপালে বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বার্তায় তা দেশে পৌঁছে দিয়েছিল। কিন্তু এ সময়ে বিএমটিসি, ইনাম আল হক, সজল খালেদ, মুনতাসির মামুন ইমরান, মীর শামসুল আলম বাবু তখনও বিভিন্ন ব্লগে সরব ছিলেন এই বলে যে কোনো ওয়েবসাইট এখনও (২৫ মে ২০১০) যেহেতু মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ের খবর প্রচার করেনি, সুতরাং তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাদের নেতিবাচক প্রচারণায় অতিষ্ট হয়ে বাংলাদেশ থেকে মুসার বন্ধুরা তখন নেপালে অবস্থানরত নর্থ আলপাইন ক্লাব বাংলাদেশের সভাপতি আনিসুল হককে অনুরোধ করেন, হিমালয়ান গাইডসের ওয়েবসাইটে মুসার খবরটা ‘আপ’ করার ব্যাপারে হিমালয়ান গাইডসকে তাড়া দিতে। আনিসুল হক যখন পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে হিমালয়ান গাইডসের স্বত্ত্বাধিকারী ঈশ্বরী পাউডেলকে অনুরোধ করেন তখন তিনি হেসেই বাঁচেন না। তার কথা, একটা লোক এভারেস্টে উঠেছে কি উঠে নাই এটা ওয়েবসাইটে দেখিয়ে তোমাদের দেশের মানুষকে বিশ্বাস করাতে হবে? আচ্ছা ঠিক আছে আমি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই মুসার খবর ‘আপ’ করার ব্যবস্থা করছি। যাদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই খবর ‘আপ’ করা হলো তারাই এখন এখন বলছে এত গুরুত্ব দেওয়া হলো কেন। অনুসন্ধানকালে এখানে ভিন্ন কোনো রসায়নের খোঁজ পাইনি। তারপরও পাঠকদের মধ্যে কারো যদি সন্দেহ বর্তমান থাকে, তিনি চাইলে বিষয়টা নিয়ে হিমালয়ান গাইডসের প্রধান ঈশ্বরী পাডওয়েলের (উনি কিন্তু জলজ্যান্ত পুরুষ, মহিলা নন) সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন। তার ঠিকানা : Himalayan Guides Nepal: Treks & Expedition Pvt. Ltd. P.O. Box No: 20654, Thamel, Kathmandu, Nepal. Tel. : 4268211, 4260205, Fax : 00977-1-4260205, himguidenp@hons.com.np, basecamp@hons.com.np, http://www.himalayanguides.com
মুসা সম্পর্কে পবর্তারোহণ বিষয়ে বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিখ্যাত সাইট এক্সপ্লোরারওয়েবের দুটি লিংক এখানে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছি - প্রথম লিংক | দ্বিতীয় লিংক।

২৫ বনাম ৪৬ লাখ টাকা
প্রপাগাণ্ডা ১২ : আচ্ছা, একই সময়ে এভারেস্ট অভিযানে থাকা পর্বতারোহী এমএ মুহিত ২৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছেন একই পথ ধরে। মুসার দাবি অনুযায়ী, তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন ৪৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে এক মন্তব্যে সজল খালেদ জানাচ্ছেন, বিশ্ববিখ্যাত গাইডের প্রতিষ্ঠান ছাড়া এই খরচ হতে পারে সর্বোচ্চ ষোল-বিশ লাখ টাকা। সবমিলিয়ে তফাতটা বেশ বড়সড়, এখানে নিশ্চয়ই কোনো গোজামিল আছে!
অনুসন্ধান : খোঁজ নিয়ে দেখেছি, পর্বতারোহী এমএ মুহিতের এভারেস্ট অভিযানে শুধু ট্রান্সকম বেভারেজই ২৫ লাখ টাকা দিয়েছে। বিটিএমসির ইনাম আল হকও প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় নিজেই এ তথ্য জানিয়েছিলেন। মুহিতের অন্যান্য স্পন্সর সিটি ব্যাংক ও আকিজ গ্রুপও তাকে অভিযানের জন্য বড়ো অংকের টাকা দিয়েছিল। তাহলে মুহিত শুধু ২৫ লাখ টাকা নিয়ে গেলেন কিভাবে? অবশ্য সিটি ব্যাংক আর আকিজ গ্রুপের টাকাটা অন্যভাবে পকেটস্থ হয়েছে কিনা- সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে মুসা ইব্রাহীম এভারেস্ট অভিযানের জন্য নিয়ে ৪৬ লাখ টাকাই নিয়ে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে এভারেস্ট অভিযান করতে সরকারিভাবে ফি জমা দিতে হয়েছে দশ হাজার ডলার। প্রতি শেরপার বেতন পাঁচ হাজার ডলার করে (৫X৩=১৫ হাজার ডলার)। আর নর্থ ফেস দিয়ে হিমালয়ান গাইডের এভারেস্ট অভিযানের প্যাকেজের খরচ ৩৮ হাজার ডলার (যার ভেতর যাওয়া-আসা, খাওয়া-দাওয়া, থাকা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত)। এছাড়াও পর্বতারোহণ সরঞ্জাম কেনা ও ইন্স্যুরেন্স করতেও খরচ হয়েছে ২১০০ ডলার। এবার ডলারগুলোকে বাংলাদেশের টাকায় কনভার্ট করলে মুসা ইব্রাহীমের দাবির সত্যতাই প্রমাণ হয়। এমনিতে এভারেস্ট অভিযানে কত খরচ হয় সেটা আরও বিস্তারিত জানতে যে কেউ গুগলে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইটে এভারেস্ট অভিযানের খরচ কতো, তা সেখানেই দিয়ে রেখেছে।

সার্টিফিকেটের ভাষায় অসঙ্গতি
প্রপাগাণ্ডা ১৩ : সব বুঝলাম। কিন্তু মুসার সার্টিফিকেটের ভাষায় তো অসঙ্গতি রয়েছে বলে শুনেছি। এমনকি এক সার্টিফিকেটে যেখানে 'এভারেস্ট' লেখা, ঠিক সেই জায়গায় মুসার সার্টিফিকেটে কেন ‌'চমলাংমা' লেখা?
অনুসন্ধান : সজল খালেদ যখন দেশে বসে মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ের সংশয় ও সন্দেহ নিয়ে তার অপপ্রচারে ব্যস্ত, তখন দেশের সাংবাদিকরা মুসা ইব্রাহীমের কাছ থেকে (মুসা তখন বেস ক্যাম্পে) তার এভারেস্ট জয়ের সনদের ভাষা মোবাইল ফোনে জেনে নিতে ব্যস্ত। উদ্দেশ্যটা ছিল সংশয়বাদীর সংশয় দূর করার সর্বৈব প্রচেষ্টা চালানো। এটা করতে গিয়ে মোবাইল ফোনে সাংবাদিকরা এভারেস্ট জয়ের সনদের ভাষা শুনে নোট নিয়েছেন এবং তা তিন চার হাত বদল হয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ভাষায় কোনো বিচ্যুতি ঘটলে তার দায় কার ঘাড়ে পড়ে? মুসার, নাকি পত্রপত্রিকার? অনুসন্ধানকালে মুসার সার্টিফিকেটের ভাষায় কোনো অসঙ্গতি খুঁজে পাইনি। ওই একই রুট দিয়ে এভারেস্ট জয় করা অন্যান্যদের সার্টিফিকেট আর মুসার সার্টিফিকেটের ভাষা একই। নিচের ছবি দুটো দেখুন-
সার্টিফিকেটের ছবি ১ | সার্টিফিকেটের ছবি ২
আর অনেকেরই নিশ্চয়ই এটা জানা আছে যে, মাউন্ট এভারেস্টকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়ে থাকে। নেপালিরা ডাকে 'সাগরমাতা', তিব্বতে ডাকা হয় 'ঝুমুলাংমা' 'চমলাংমা' ইত্যাদি নামে। এই পার্থক্যের বিষয়ে আরো ভালোভাবে জানা যাবে উইকিপিডিয়ার এই ভুক্তি থেকে।

সার্টিফিকেটের ওজন পরিমাপ
প্রপাগাণ্ডা ১৪ : আচ্ছা, অসঙ্গতি না হয় নাই বা থাকলো, কিন্তু পর্বতারোহীর অনুপস্থিতিতে তার ট্যুর অপারেটরই যেখানে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারেন, সেখানে সার্টিফিকেটের গুরুত্ব কতটুকু?
অনুসন্ধান : পর্বতারোহীর অনুপস্থিতিতে ট্যুর অপারেটর সার্টিফিকেট কখন সংগ্রহ করে? এর উত্তর কি জানা আছে কারো? একটা ট্যুর অপারেটর পর্বতারোহীর অনুপস্থিতিতে তখনই সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে, যখন সেই পর্বতারোহী সম্পর্কে লিয়াজোঁ অফিসার এবং শেরপারা সাক্ষ্য দেয় যে তিনি সেই পর্বতে উঠেছেন। ট্যুর অপারেটরই যদি ‘যেনতেনভাবে’ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারতেন, তাহলে বাংলাদেশেই ‘এভারেস্ট বিজয়ী’র সংখ্যা হাজারদশেকের ঘরে পৌঁছাতো নিশ্চিত!

প্রমাণের অস্পষ্টতা কিংবা সুস্পষ্টতা
প্রপাগাণ্ডা ১৫ : এভারেস্ট জয়ের সুস্পষ্ট প্রমাণ কী? আমার উত্তর, একাধিক স্পষ্ট ছবি, যেখানে এভারেস্টের আশেপাশের ভৌগোলিক ফিচারগুলো বোঝা যায়; একটি ভিডিও লগ; সম্ভব হলে অন্যান্য পর্বতারোহীদের ডিসপ্যাচে উল্লেখ। এই তিনটির একটিও মুসা এখন পর্যন্ত জনসম্মুখে হাজির করেননি, কেবল একটি অস্পষ্ট ছবিকে এভারেস্টের শীর্ষে তোলা বলে প্রথম আলোতে প্রকাশ করা হয়েছে। এভারেস্ট অভিযানের ছবি যদি থেকেই থাকে, তাহলে সেসব প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন?
অনুসন্ধান : এভারেস্ট জয়ের সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসাবে একাধিক স্পষ্ট ছবি মুসা ইব্রাহীম ২০১০ সালের ২ জুন ঢাকার আইডিবি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সকল মিডিয়ার সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করেছেন। এছাড়া সামহোয়্যারইন ব্লগেই এসব ছবি ইতিপূর্বে প্রকাশ করেছেন একাধিক ব্লগার। এসব ছবি নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ থাকলে গুগলে সার্চ দিয়ে অন্যান্য দেশের পর্বতারোহীদের এভারেস্ট জয়ের ছবিগুলো কেমন, সেটা দেখে নেওয়া যায় সহজেই।
জানা গেছে, শীঘ্রই মুসার সকল ছবি ও তথ্য নিয়ে একটি ওয়েবসাইট আসছে শীঘ্রই। আগামী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে হতে যাচ্ছে প্রদর্শনী। তবে বলে রাখা ভালো, সামিটের যেসব ছবি আছে তা ইতিমধ্যে ব্লগ ও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, এর বাইরে সামিটের আর কোন ছবি নাই। মুসার বাকি ছবি যাত্রাপথ এবং ক্যাম্পের ছবি। প্রসঙ্গত, মন্টেনেগ্রোর পর্বতারোহী স্ল্যাগি এবং নেপালি পর্বতারোহী লাল বাহাদুর জিরেল যে মুসা ইব্রাহীমের সঙ্গে একই সময়ে এভারেস্ট চূড়ায় উঠেছেন, এর সত্যতা জানতে চেয়েছিলাম দুজনের কাছে পাঠানো পৃথক দুটি ইমেইলে। তারা দুজনেই সন্দেহাতীতভাবে এর সত্যতা স্বীকার করেছেন এবং একইসঙ্গে বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন এই ধরনের কৌতূহলে। তাদের ইমেইলের কপি দুটি আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে এটা ঠিক যে, মুসা ইব্রাহীম তার কোনো ভিডিও সামিটে করেননি। করতে পারেননি। একই কথা সার্বিয়ান পর্বতারোহী ড্রাগুটিন, মন্টেনেগ্রোর পর্বতারোহী ব্লেকা, স্ল্যাগি ও জোকো এবং নেপালি পর্বতারোহী লাল বাহাদুরর জিরেলের ক্ষেত্রেও। তারাও কোনো ভিডিও করেননি। করতে পারেননি। ভিডিও না করলে যে এভারেস্ট জয় মিথ্যা হয়ে যায়- সৌরজগতে এমন দাবি এই প্রথম বাংলাদেশেই করা হচ্ছে জেনে গর্বিত বোধ করছি!

ঠাণ্ডায় ব্যাটারির কাণ্ড-অকাণ্ড
প্রপাগাণ্ডা ১৬ : অভিযানে মুসা ব্যাটারি ফুল চার্জ দিয়ে নিয়ে গেছিলেন কিন্তু ৭/৮টি ছবি তোলার পর ব্যাটারি শেষ হয়ে যায়। ব্যাপারটা অস্বাভাবিক নয় কি?
অনুসন্ধান : মুসা ইব্রাহীম এভারেস্ট চূড়ায় ১৯টি ছবি তুলেছিলেন- দু’য়েকটা বাদে সবগুলোই ফ্ল্যাশ দিয়ে। এভারেস্ট চূড়ার ভয়াবহ ঠাণ্ডার কথা ওয়াকিবহাল মাত্রেরই জানার কথা। বিশেষ করে ভোরবেলায় এভারেস্ট চূড়ার তাপমাত্রা সম্পর্কে গুগলের কল্যাণে ধারণা নেওয়া অতি সহজ। সেখানে ঠান্ডায় ব্যাটারির স্বাভাবিক অবস্থা থাকে না। কেউ কেউ বলছেন, একাধিক ব্যাটারি নিয়ে গেলে কী সমস্যা হতো? তাতেও বোধহয় কাজের কাজ কিছু হতো না। ঠান্ডার প্রভাব সকল ব্যাটারির উপরই পড়ে। আপনার যদি নৌকাডুবি হয় তাহলে আপনার সঙ্গে থাকা একটা ব্যাটারির যে অবস্থা হবে এক ডজন ব্যাটারিরও সেই একই অবস্থা হবে।

ছবি হিমালয়ের, তবে চূড়ার নয়
প্রপাগাণ্ডা ১৭ : ব্লগে প্রকাশিত এই ছবিগুলো হিমালয়ের যে কোনো জায়গায় হতে পারে। এগুলো তো আর চূড়ার ছবি নয়, নাকি?
অনুসন্ধান : ব্লগে প্রকাশিত ওই ছবিগুলো হিমালয়ের যেকোনো জায়গারই হতে পারে, বেশ তো বলুন তাহলে কোন্ জায়গার? সেই জায়গাটার পরিচয় খুঁজে বের করতে পারলেই বোঝা যাবে ছবিটি আসলে কোন্ জায়গার। গবেষণা করতে চাইলে এই ছবিটিতে দেখুন মুসা ‘ভি’ চিহ্ন দেখাচ্ছেন। সেই ছবিতে পেছনে হিমালয় রেঞ্জের বেশ কিছু চূড়া দেখা যাচ্ছে। ওই চূড়ার পরিচয় বের করলেই অনায়াসে বোঝা যাবে, এই এঙ্গেলে ওই চূড়ার ছবি কেবল এভারেস্ট টপ থেকেই নেওয়া সম্ভব।
এভারেস্টের পিছনে পিরামিড শ্যাডো দেখা যাচ্ছে যে ছবিটায়, সেটা যে মুসা ইব্রাহিমের তোলা, তা বিশেষায়িত যে কোনো সফটওয়্যার দিয়ে পরীক্ষা করলেই বোঝা সম্ভব। তাতে ক্যামেরার সিরিয়াল নম্বর এবং অন্যান্য তথ্য বের করা গেলে সহজেই পরীক্ষা করা সম্ভব সামিটের অন্যান্য ছবিগুলো একই ক্যামেরা দিয়ে একই লোকের হাতে তোলা কিনা।

মুসা ইব্রাহীমের সদ্য নেওয়া অডিও সাক্ষাৎকার
গ্রহণে : মাসকাওয়াথ আহসান
প্রথম পর্ব :


দ্বিতীয় পর্ব :


তৃতীয় পর্ব :


চতুর্থ পর্ব :


পঞ্চম পর্ব :


জিজ্ঞাসার দরজা খোলা
এরপরও যদি এই বিষয়ে ব্লগারদের কোনো জিজ্ঞাসা-প্রশ্ন থাকে, জানাতে দ্বিধা করবেন না। কোনো কোনো বিষয়ে অনুসন্ধানের খাতিরে জবাব দিতে কিঞ্চিৎ দেরি হতে পারে হয়তো, তবে কার্পণ্য থাকবে না। সামহোয়্যারের সদস্য নন যারা, তারা bolekoye[এট]gmail.com -এ মতামত-দ্বিমত জানাতে পারেন। সত্য উদঘাটনই এই অনুসন্ধানের মূল্য লক্ষ্য।

প্রথম প্রকাশ
পুরাতন পোস্টসমূহ হোম

  • সাম্প্রতিক
  • মন্তব্যমালা
  • Problem with Bengali Font?
  • English Version
  • Mobile View
Advertisement সপ্তাহের নির্বাচন : ব্লগারের ২০টি সেরা উইজেট

অফিসিয়াল একাউন্ট

  • সামহোয়্যারইন ব্লগ
  • প্রথম আলো ব্লগ
  • বিডিনিউজ ব্লগ
  • নাগরিক ব্লগ
  • আমারব্লগ
  • গুগল প্লাস
  • ফেসবুক
  • টুইটার
  • টাম্বলার

ব্লগ স্টাইল

  • ম্যাগাজিন
  • টাইমস্লাইড
  • ফ্লিপকার্ড
  • মোজাইক
  • সাইডবার
  • স্ন্যাপশট

  • Home
  • About
  • Contact
  • বাংলা লিখুন ইউনিকোডে
Tweet
.



    1/11 advertisement amader shomoy amarblog audio audio-tape awami league Bangladesh bangladeshi blogger bank bdr-mutiny bijoy bijoy ekattor bijoy ekushe bijoy ekushey Blog blog ban blog-debate blog-review blog-satire blogger bobs boi-mela book-fair books bottle brain caricature children chile cht cinema computer contemporary corruption corruption tape cover cricket cyber-crime defense dhaka university diary documentary e-voting ebook economy entertainment eve-teasing everest exclusive facebook Feature finance football google hacking highlights human-rights india internet julian assange kaler-kantha khaleda-zia liberation-war libya load-shedding love media memoirs misc mlm mobile musa-ibrahim niagara falls oporbastob poetry police politics prothom-alo-blog rab religion rosh-alo sachalayatan satire saudi arab sheikh mujib social-media software somewherein blog sound special sports statue-of-liberty stock market survey sw-ban swine flu tech tech-humor technology television train accident transparency report travel video weather women world-affairs
Fusion Factory by Fusion5 is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.
Designed by SimplexDesign