
দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে একুশে বইমেলায় আসছে সামহোয়্যারইন... ব্লগ সংকলন : অপরবাস্তব ৫। আগামীকাল ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১১ শুক্রবার বিকেল ঠিক চারটায় বইমেলায় নজরুল মঞ্চে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হবে। এ উপলক্ষে সম্ভবত এবারই প্রথম ব্লগের সবচেয়ে জমজমাট আড্ডাটি আয়োজিত হতে যাচ্ছে। এবারই প্রথম অপরবাস্তব প্রকাশিত হতে যাচ্ছে পেশাদার প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বর থেকে। অপরবাস্তব যেহেতু পুরোটাই ব্লগের বই, ব্লগারদের বই - তাই ব্লগারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আয়োজনটিকে প্রাণবন্ত করে তুলবে।
বইমেলায় প্রাপ্তিস্থান
শুদ্ধস্বর ■ স্টল # ২৫৩ ও ২৫৪
প্রথম প্রকাশ
একুশে বইমেলা সামনে রেখে অপরবাস্তব নিয়ে আবার শুরু হয়েছে তোড়জোড়। কাজ শেষ করতে হবে ১০ নভেম্বরের মধ্যে। হাতে সময় খুব বেশি নেই। এই পোস্ট শুধু গল্পের জন্য। গত একবছরের মধ্যে আপনার ভালোলাগা গল্পের লিংকটি এই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে দিলে আনন্দিত হবো। পুরো ব্যাপারটা প্রশ্নোত্তরে (FAQ) জানানোর একটি চেষ্টা করলাম-
প্রশ্ন : শুনেছি, ব্লগারদের লেখা নিয়ে প্রতি বছর কী একটা বই নাকি বেরোয়?
উত্তর : ঠিকই শুনেছেন, নাম তার- অপরবাস্তব। ২০০৭ সাল থেকে এই পর্যন্ত এর চারটি সংকলন বেরিয়েছে। বলাবাহূল্য, অপরবাস্তব পুরোপুরি ব্লগারদের বই- সবদিক থেকেই। এর লেখকরা ব্লগার, পাঠকরাও তেমনই, পুরো এক বছরের লেখা থেকে যারা মনোনয়ন দেন, এমনকি যিনি প্রকাশক- সবার পরিচয় একটিই- ব্লগার। ব্লগাররাই লেখা নির্বাচন করেন, তারাই সম্পাদনা করেন, প্রুফ দেখেন, পেইজ মেকআপ করেন। প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট যতো কাজ, তাও ব্লগাররাই করেন। নিজ গরজে ব্লগাররাই সেই বই কাঁধে নিয়ে বইমেলার স্টলে দিয়ে আসেন। এই বইয়ের ক্রেতা যারা, তাদের বৃহৎ অংশও ব্লগার। বাংলাব্লগে এরকম উদাহরণ এখন পর্যন্ত এক ও অনন্য। অপরবাস্তবের কিছু যদি কৃতিত্ব থাকে, সেটা হল একেবারেই নবীন, কিন্তু প্রতিশ্রুতিশীল কিছু লেখককে মূলধারায় উপস্থাপন করার দায়িত্ব পালন।
প্রশ্ন : আপনাকে নিয়ে দেখছি মহা মুশকিল। অল্প কথায় উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন। আচ্ছা, আগের বইগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু কি জানাতে পারেন?
উত্তর : কেন নয়? এই দেখুন একনজরে অপরবাস্তব-
অপরবাস্তব-১
প্রথম প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৭, একুশে বইমেলা
বইয়ের ধরন : মিশ্র
সম্পাদকমণ্ডলী : বাকীবিল্লাহ, কৌশিক আহমেদ, অন্যমনস্ক শরৎ, রাসেল পারভেজ, আরিফ জেবতিক, অমি রহমান পিয়াল, সাদিক মোহাম্মদ আলম, সৈয়দ সাখাওয়াৎ।
অপরবাস্তব-২
প্রথম প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮, একুশে বইমেলা
বইয়ের ধরন : মিশ্র (গল্প ও কবিতা)
প্রধান সংকলক : অন্যমনস্ক শরৎ
সহযোগী সংকলক : অমি রহমান পিয়াল, অন্ধকার, আতিকুল ইসলাম আনন, উদাসী স্বপ্ন, কৌশিক আহমেদ, নওরীন সুলতানা, নাজিম উদদীন, মনের কথা, মুজিব মেহদী, যীশু, রাসেল পারভেজ, সাদিক মোহাম্মদ আলম, সৈয়দ এহসানুল হাবিব, শওকত হোসেন মাসুম, হোসেইন, বাকীবিল্লাহ।
অপরবাস্তব-৩
প্রথম প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, একুশে বইমেলা
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ৯৬, মূল্য : ১০০ টাকা
বইয়ের ধরন : গল্পগ্রন্থ
সম্পাদক : লোকালটক
অপরবাস্তব-৪
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০১০, একুশে বইমেলা
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১২৮, মূল্য : ১৩০ টাকা
সম্পাদক : লোকালটক, আবদুর রাজ্জাক শিপন ও কৌশিক আহমেদ
সহযোগী সম্পাদক : একরামুল হক শামীম ও নীরা আহমেদ অপ্সরা
সবগুলো অপরবাস্তবেরই প্রকাশক ছিলেন রাশেদ হাফিজ রাহা।
প্রশ্ন : এনিওয়ে, বই যে করেন, বাইরে কোনো আলোচনা-টালোচনা আছে? নাকি নিজেরা-নিজেরা...
উত্তর : গত দু বছর এনটিভি-দেশটিভিতে অপরবাস্তব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এনটিভিতে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজগুলো দেখতে পাবেন এখানে আর এই জায়গায়। গতবারের অপরবাস্তব-৪ নিয়ে আহমাদ মোস্তফা কামাল 'অপরবাস্তব: সাহিত্যচর্চার নতুন ধরন' শিরোনামে একটি অসামান্য আলোচনা লিখেছিলেন, সেটা পড়ুন এইখানে। এছাড়া গ্লোবাল ভয়েসেস অনলাইনেও একটি আলোচনা পাবেন।
প্রশ্ন : বই বের করা তো শুনেছি অনেক টাকার মামলা। অপরবাস্তবের পয়সাকড়ি যোগান দেয় কে?
উত্তর : কয়েকজন ব্লগার নিজেদের টাকা খরচ করে এই পর্যন্ত অপরবাস্তবের সংকলনগুলো বের করে এসেছেন। ব্যাপারটা পুরোপুরিই অলাভজনক। তবে এবারই প্রথম অপরবাস্তবের প্রকাশনার ভার নিয়েছে ঢাকার একটি নামি প্রকাশনা সংস্থা 'শুদ্ধস্বর'। অপরবাস্তবের উদ্যোক্তারা ইতিমধ্যে এই ব্যাপারে শুদ্ধস্বরের কর্ণধার আহমেদুর রশীদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনও করেছেন। এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
প্রশ্ন : একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে বকবক করতেই থাকেন। যা হোক, এইবারের কী পরিকল্পনা একটু শুনি?
উত্তর : এবারের সংকলনের নাম হবে অপরবাস্তব-৫। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে একুশে বইমেলায় এটা প্রকাশিত হবে। গতবারের মতোই এবারও অপরবাস্তব হবে পাঁচমিশালী লেখা নিয়ে। থাকবে গল্প, বিতর্ক, প্রবন্ধ-নিবন্ধ। অন্যমনস্ক শরৎ, সাদিক মোহাম্মদ আলম ও রাহা কাজ করবেন বিতর্ক, প্রবন্ধ ও নিবন্ধ নিয়ে। অন্যদিকে কৌশিক আহমেদ, বাকীবিল্লাহ ও লোকালটক কাজ করবেন গল্প কিংবা গল্পধর্মী ব্লগ নিয়ে। বলে রাখা ভালো, প্রতিবছর ব্লগারদের মধ্য থেকে এক-একাধিক সম্পাদক নির্বাচন করা হতো, কিন্তু এই বছর অপরবাস্তব সম্পাদনা করবেন ওপরে উল্লেখিত উদ্যোক্তরাই।
প্রশ্ন : উফফফ... এখন কী করতে হবে আমাদের? টাকা-পয়সা চাইবেন? তাহলে ভাই প্লিজ পরে আসুন!
উত্তর : না, না! মাফ করবেন, টাকাপয়সা চাইছি না। আপনি যদি প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও বিতর্কমূলক লেখা মনোনয়ন দিতে চান, তাহলে লিংকটি রেখে আসুন শরতের এই পোস্টে। আর অত্র পোস্টের মন্তব্যের ঘরে শুধু আপনার মনোনীত/ভালো লাগা গল্পের লিংকটি দিন। নিজেই নিজের গল্প মনোনয়ন দিতে পারেন, সবচেয়ে ভালো হয়, অন্য ব্লগারের লেখা ভালো গল্পগুলো মনোনয়ন দিলে। তবে মনে রাখবেন, সামহোয়্যারইন ব্লগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত হওয়া গল্পগুলোর মধ্য থেকেই শুধু মনোনয়ন দিতে পারবেন। কাজটা আজ থেকেই শুরু করলে ভালো হয়। কারণ আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে সবকিছু শেষ করতে হবে আমাদের।
গল্পতালিকা : ব্লগারদের মনোনয়ন
আমার খেয়ালী প্রেমিকা - হাসান মাহবুব
বিষন্ন উদ্যান এক স্বর্গীয় ফুল - নীল কষ্ট
সেদিন ছিল আমাদের, আমাদের ক'জনার - নীল কষ্ট
মাইলস্টোন - এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল
দ্যা গ্যানিয়্যু - কবি ও কবিতা
১০০ তম গল্প এবং অদৃশ্য মানব - স্বদেশ হাসনাইন
গাধার বাচ্চা - মুক্ত মানব
একটি অনন্ত সম্পর্কের সম্ভাবনা - আবদুল ওয়াহিদ
ঘুম - মুহাম্মদ মেহেদী হাসান
চড়ুই - ইশতিয়াক অাহমেদ
জীবন ও জলুস্তির চক্র - ম্যাভেরিক
আবির আর অনু গল্প - এন এইচ আর
সুখী - বইপাগল
আশ্রয় - ইমন জুবায়ের
বৃক্ষের কাছে প্রার্থনা - আহমদ ময়েজ
স্পর্শ - ফয়সল নোই
জাগ - ইমন জুবায়ের
প্রতিশোধ - ধীবর
কতিপয় জীবনের সাধ এবং চর আর খেচরের কবন্ধ-উপাখ্যান - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
অপেক্ষা - শূণ্য উপত্যকা
নীরা আর অদিতির গল্প, তাদেরকে ভালোবাসা - ড়ৎশড়
ক্রমশঃ সুন্দর হয়ে ওঠা একটি মানুষ - হাসান মাহবুব
ও আমার ছোট্ট পাখি চন্দনা - শায়মা
ভালোবাসা,ঈর্ষা এবং আয়নার গল্প - রাজসোহান
এই গল্পটার নাম দেয়া যায় যারা বৃষ্টিতে ভিজে নাই অথবা জ্যোৎস্নার দেয়াল ভেঙে যাওয়ার গল্প - অমিত চক্রবর্তী
উর্বশীর দহনকাল - নৈশচারী
নৈঃশব্দ্যের ভাঁজে ভাঁজে - ভাঙ্গন
নিরুদ্দিষ্ট হওয়ার কিছু দিন পর - স্বদেশ হাসনাইন
শহুরে অন্ধকারের বিপরীতে - আমি উঠে এসেছি সৎকারবিহীন
কখনো রাত অনিন্দিতার চোখের ভেতর - পাপতাড়ুয়া
কতক আত্মজক্লেদ আর কনফেশান - অন্ধ আগন্তুক
পদ্মার অথবা এক বেশ্যার গল্প - জীবনানন্দদাশের ছায়া
জন্মসূত্রে জাহান্নামী - যাদুকর...
পথ বেঁধে দিলো বন্ধনহীন গ্রন্থি... - মেঘ বলেছে যাবো যাবো
দোস্ত আমি তো শ্যাষ - আলোকিত পৃথিবী
দ্যা কয়েন - আলোকিত পৃথিবী
জলরঙ স্বপ্ন ও একটি ফড়িং - বোহেমিয়ান কথকতা
একটি বিচার কার্য এবং একজন *ফেইসবুক - বোহেমিয়ান কথকতা
প্রথম পর্ব : তুমি বিয়ে করছো না কেন? - যীশূ
দ্বিতীয় পর্ব : না হয় ধরো বিয়েটা করেই ফেললাম - যীশূ
মৃতবাড়ি এবং আইসক্রিম ফ্যাক্টরি - হাসান মাহবুব
কেটে আনি জল - ভাঙ্গন
জল - মেঘ বলেছে যাবো যাবো
মানিপ্লান্ট ডগায় দীর্ঘশ্বাসেরা - পাপতাড়ুয়া
কথপোকথন - নিস্সঙ্গ যোদ্ধা
রূপার কাঁকন - শেখ আমিনুল ইসলাম
ঈশ্বরের হনন ও কতিপয় অন্ধ ও বধির গুটিপোকা - নৈশচারী
যে নগরে কুড়ি থেকে কুড়ি হাজারে সম্ভ্রম কেনা যায় - সকাল রয়
অপদেবতা - পাপতাড়ুয়া
তুমি আসবে বলে আমার এ অপেক্ষা - সমুদ্র কন্যা
পাথর-নারী, পাথর-পুরুষ - ইমন জুবায়ের
অন্ধকারের সুখ - স্বপ্নকথক
মুছে গ্যাছে সব দেনা পাওনার স্মৃতি... - স্বপ্নকথক
একটি ভৌতিক রাতের কাবজাব শিৎকার-চিৎকার - ইউনুস খান
আলৌলিক যতসব ভৌতিকতা - ইউনুস খান
অন্যান্য : ব্লগারদের মনোনয়ন
ব্লগীয় বাঁদরামিনামা 7.1 - নৈশচারী
ব্লগিং ২০৪০ : বাংলা ব্লগে যা যা ঘটতে পারে ৩০ বছর পর - ফিউশন ফাইভ
(মন্তব্য থেকে ক্রমান্বয়ে আপডেট করা হবে)
প্রথম প্রকাশ
প্রশ্ন : শুনেছি, ব্লগারদের লেখা নিয়ে প্রতি বছর কী একটা বই নাকি বেরোয়?
উত্তর : ঠিকই শুনেছেন, নাম তার- অপরবাস্তব। ২০০৭ সাল থেকে এই পর্যন্ত এর চারটি সংকলন বেরিয়েছে। বলাবাহূল্য, অপরবাস্তব পুরোপুরি ব্লগারদের বই- সবদিক থেকেই। এর লেখকরা ব্লগার, পাঠকরাও তেমনই, পুরো এক বছরের লেখা থেকে যারা মনোনয়ন দেন, এমনকি যিনি প্রকাশক- সবার পরিচয় একটিই- ব্লগার। ব্লগাররাই লেখা নির্বাচন করেন, তারাই সম্পাদনা করেন, প্রুফ দেখেন, পেইজ মেকআপ করেন। প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট যতো কাজ, তাও ব্লগাররাই করেন। নিজ গরজে ব্লগাররাই সেই বই কাঁধে নিয়ে বইমেলার স্টলে দিয়ে আসেন। এই বইয়ের ক্রেতা যারা, তাদের বৃহৎ অংশও ব্লগার। বাংলাব্লগে এরকম উদাহরণ এখন পর্যন্ত এক ও অনন্য। অপরবাস্তবের কিছু যদি কৃতিত্ব থাকে, সেটা হল একেবারেই নবীন, কিন্তু প্রতিশ্রুতিশীল কিছু লেখককে মূলধারায় উপস্থাপন করার দায়িত্ব পালন।
প্রশ্ন : আপনাকে নিয়ে দেখছি মহা মুশকিল। অল্প কথায় উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন। আচ্ছা, আগের বইগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু কি জানাতে পারেন?
উত্তর : কেন নয়? এই দেখুন একনজরে অপরবাস্তব-
অপরবাস্তব-১
প্রথম প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৭, একুশে বইমেলা
বইয়ের ধরন : মিশ্র
সম্পাদকমণ্ডলী : বাকীবিল্লাহ, কৌশিক আহমেদ, অন্যমনস্ক শরৎ, রাসেল পারভেজ, আরিফ জেবতিক, অমি রহমান পিয়াল, সাদিক মোহাম্মদ আলম, সৈয়দ সাখাওয়াৎ।
অপরবাস্তব-২
প্রথম প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮, একুশে বইমেলা
বইয়ের ধরন : মিশ্র (গল্প ও কবিতা)
প্রধান সংকলক : অন্যমনস্ক শরৎ
সহযোগী সংকলক : অমি রহমান পিয়াল, অন্ধকার, আতিকুল ইসলাম আনন, উদাসী স্বপ্ন, কৌশিক আহমেদ, নওরীন সুলতানা, নাজিম উদদীন, মনের কথা, মুজিব মেহদী, যীশু, রাসেল পারভেজ, সাদিক মোহাম্মদ আলম, সৈয়দ এহসানুল হাবিব, শওকত হোসেন মাসুম, হোসেইন, বাকীবিল্লাহ।
অপরবাস্তব-৩
প্রথম প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, একুশে বইমেলা
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ৯৬, মূল্য : ১০০ টাকা
বইয়ের ধরন : গল্পগ্রন্থ
সম্পাদক : লোকালটক
অপরবাস্তব-৪
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০১০, একুশে বইমেলা
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১২৮, মূল্য : ১৩০ টাকা
সম্পাদক : লোকালটক, আবদুর রাজ্জাক শিপন ও কৌশিক আহমেদ
সহযোগী সম্পাদক : একরামুল হক শামীম ও নীরা আহমেদ অপ্সরা
সবগুলো অপরবাস্তবেরই প্রকাশক ছিলেন রাশেদ হাফিজ রাহা।
প্রশ্ন : এনিওয়ে, বই যে করেন, বাইরে কোনো আলোচনা-টালোচনা আছে? নাকি নিজেরা-নিজেরা...
উত্তর : গত দু বছর এনটিভি-দেশটিভিতে অপরবাস্তব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এনটিভিতে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজগুলো দেখতে পাবেন এখানে আর এই জায়গায়। গতবারের অপরবাস্তব-৪ নিয়ে আহমাদ মোস্তফা কামাল 'অপরবাস্তব: সাহিত্যচর্চার নতুন ধরন' শিরোনামে একটি অসামান্য আলোচনা লিখেছিলেন, সেটা পড়ুন এইখানে। এছাড়া গ্লোবাল ভয়েসেস অনলাইনেও একটি আলোচনা পাবেন।
প্রশ্ন : বই বের করা তো শুনেছি অনেক টাকার মামলা। অপরবাস্তবের পয়সাকড়ি যোগান দেয় কে?
উত্তর : কয়েকজন ব্লগার নিজেদের টাকা খরচ করে এই পর্যন্ত অপরবাস্তবের সংকলনগুলো বের করে এসেছেন। ব্যাপারটা পুরোপুরিই অলাভজনক। তবে এবারই প্রথম অপরবাস্তবের প্রকাশনার ভার নিয়েছে ঢাকার একটি নামি প্রকাশনা সংস্থা 'শুদ্ধস্বর'। অপরবাস্তবের উদ্যোক্তারা ইতিমধ্যে এই ব্যাপারে শুদ্ধস্বরের কর্ণধার আহমেদুর রশীদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনও করেছেন। এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
প্রশ্ন : একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে বকবক করতেই থাকেন। যা হোক, এইবারের কী পরিকল্পনা একটু শুনি?
উত্তর : এবারের সংকলনের নাম হবে অপরবাস্তব-৫। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে একুশে বইমেলায় এটা প্রকাশিত হবে। গতবারের মতোই এবারও অপরবাস্তব হবে পাঁচমিশালী লেখা নিয়ে। থাকবে গল্প, বিতর্ক, প্রবন্ধ-নিবন্ধ। অন্যমনস্ক শরৎ, সাদিক মোহাম্মদ আলম ও রাহা কাজ করবেন বিতর্ক, প্রবন্ধ ও নিবন্ধ নিয়ে। অন্যদিকে কৌশিক আহমেদ, বাকীবিল্লাহ ও লোকালটক কাজ করবেন গল্প কিংবা গল্পধর্মী ব্লগ নিয়ে। বলে রাখা ভালো, প্রতিবছর ব্লগারদের মধ্য থেকে এক-একাধিক সম্পাদক নির্বাচন করা হতো, কিন্তু এই বছর অপরবাস্তব সম্পাদনা করবেন ওপরে উল্লেখিত উদ্যোক্তরাই।
প্রশ্ন : উফফফ... এখন কী করতে হবে আমাদের? টাকা-পয়সা চাইবেন? তাহলে ভাই প্লিজ পরে আসুন!
উত্তর : না, না! মাফ করবেন, টাকাপয়সা চাইছি না। আপনি যদি প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও বিতর্কমূলক লেখা মনোনয়ন দিতে চান, তাহলে লিংকটি রেখে আসুন শরতের এই পোস্টে। আর অত্র পোস্টের মন্তব্যের ঘরে শুধু আপনার মনোনীত/ভালো লাগা গল্পের লিংকটি দিন। নিজেই নিজের গল্প মনোনয়ন দিতে পারেন, সবচেয়ে ভালো হয়, অন্য ব্লগারের লেখা ভালো গল্পগুলো মনোনয়ন দিলে। তবে মনে রাখবেন, সামহোয়্যারইন ব্লগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত হওয়া গল্পগুলোর মধ্য থেকেই শুধু মনোনয়ন দিতে পারবেন। কাজটা আজ থেকেই শুরু করলে ভালো হয়। কারণ আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে সবকিছু শেষ করতে হবে আমাদের।
গল্পতালিকা : ব্লগারদের মনোনয়ন
আমার খেয়ালী প্রেমিকা - হাসান মাহবুব
বিষন্ন উদ্যান এক স্বর্গীয় ফুল - নীল কষ্ট
সেদিন ছিল আমাদের, আমাদের ক'জনার - নীল কষ্ট
মাইলস্টোন - এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল
দ্যা গ্যানিয়্যু - কবি ও কবিতা
১০০ তম গল্প এবং অদৃশ্য মানব - স্বদেশ হাসনাইন
গাধার বাচ্চা - মুক্ত মানব
একটি অনন্ত সম্পর্কের সম্ভাবনা - আবদুল ওয়াহিদ
ঘুম - মুহাম্মদ মেহেদী হাসান
চড়ুই - ইশতিয়াক অাহমেদ
জীবন ও জলুস্তির চক্র - ম্যাভেরিক
আবির আর অনু গল্প - এন এইচ আর
সুখী - বইপাগল
আশ্রয় - ইমন জুবায়ের
বৃক্ষের কাছে প্রার্থনা - আহমদ ময়েজ
স্পর্শ - ফয়সল নোই
জাগ - ইমন জুবায়ের
প্রতিশোধ - ধীবর
কতিপয় জীবনের সাধ এবং চর আর খেচরের কবন্ধ-উপাখ্যান - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
অপেক্ষা - শূণ্য উপত্যকা
নীরা আর অদিতির গল্প, তাদেরকে ভালোবাসা - ড়ৎশড়
ক্রমশঃ সুন্দর হয়ে ওঠা একটি মানুষ - হাসান মাহবুব
ও আমার ছোট্ট পাখি চন্দনা - শায়মা
ভালোবাসা,ঈর্ষা এবং আয়নার গল্প - রাজসোহান
এই গল্পটার নাম দেয়া যায় যারা বৃষ্টিতে ভিজে নাই অথবা জ্যোৎস্নার দেয়াল ভেঙে যাওয়ার গল্প - অমিত চক্রবর্তী
উর্বশীর দহনকাল - নৈশচারী
নৈঃশব্দ্যের ভাঁজে ভাঁজে - ভাঙ্গন
নিরুদ্দিষ্ট হওয়ার কিছু দিন পর - স্বদেশ হাসনাইন
শহুরে অন্ধকারের বিপরীতে - আমি উঠে এসেছি সৎকারবিহীন
কখনো রাত অনিন্দিতার চোখের ভেতর - পাপতাড়ুয়া
কতক আত্মজক্লেদ আর কনফেশান - অন্ধ আগন্তুক
পদ্মার অথবা এক বেশ্যার গল্প - জীবনানন্দদাশের ছায়া
জন্মসূত্রে জাহান্নামী - যাদুকর...
পথ বেঁধে দিলো বন্ধনহীন গ্রন্থি... - মেঘ বলেছে যাবো যাবো
দোস্ত আমি তো শ্যাষ - আলোকিত পৃথিবী
দ্যা কয়েন - আলোকিত পৃথিবী
জলরঙ স্বপ্ন ও একটি ফড়িং - বোহেমিয়ান কথকতা
একটি বিচার কার্য এবং একজন *ফেইসবুক - বোহেমিয়ান কথকতা
প্রথম পর্ব : তুমি বিয়ে করছো না কেন? - যীশূ
দ্বিতীয় পর্ব : না হয় ধরো বিয়েটা করেই ফেললাম - যীশূ
মৃতবাড়ি এবং আইসক্রিম ফ্যাক্টরি - হাসান মাহবুব
কেটে আনি জল - ভাঙ্গন
জল - মেঘ বলেছে যাবো যাবো
মানিপ্লান্ট ডগায় দীর্ঘশ্বাসেরা - পাপতাড়ুয়া
কথপোকথন - নিস্সঙ্গ যোদ্ধা
রূপার কাঁকন - শেখ আমিনুল ইসলাম
ঈশ্বরের হনন ও কতিপয় অন্ধ ও বধির গুটিপোকা - নৈশচারী
যে নগরে কুড়ি থেকে কুড়ি হাজারে সম্ভ্রম কেনা যায় - সকাল রয়
অপদেবতা - পাপতাড়ুয়া
তুমি আসবে বলে আমার এ অপেক্ষা - সমুদ্র কন্যা
পাথর-নারী, পাথর-পুরুষ - ইমন জুবায়ের
অন্ধকারের সুখ - স্বপ্নকথক
মুছে গ্যাছে সব দেনা পাওনার স্মৃতি... - স্বপ্নকথক
একটি ভৌতিক রাতের কাবজাব শিৎকার-চিৎকার - ইউনুস খান
আলৌলিক যতসব ভৌতিকতা - ইউনুস খান
অন্যান্য : ব্লগারদের মনোনয়ন
ব্লগীয় বাঁদরামিনামা 7.1 - নৈশচারী
ব্লগিং ২০৪০ : বাংলা ব্লগে যা যা ঘটতে পারে ৩০ বছর পর - ফিউশন ফাইভ
(মন্তব্য থেকে ক্রমান্বয়ে আপডেট করা হবে)
প্রথম প্রকাশ
গল্পকার-প্রাবন্ধিক এবং ব্লগার আহমাদ মোস্তফা কামাল ব্লগারদের বই নিয়ে সম্প্রতি একটি রিভিউ লিখেছেন বইয়ের জগতে। আমার সম্পর্কে নির্মম অপপ্রচার সেই রিভিউর একমাত্র নেতিবাচক দিক! এর বাইরে বাকি সবই চমৎকার। বলে রাখা ভালো, রিভিউটি তিনি করেছেন সেইসব পাঠকের কথা মাথায় রেখে, যারা 'ব্লগ' ব্যাপারটার সঙ্গেই পরিচিত নন, অনলাইনে লেখালেখির ব্যাপারটা যাদের বোধগম্যতার ভেতরে নেই। ফলে এই রিভিউতে অনেক প্রসঙ্গ নিয়ে তাকে কথা বলতে হয়েছে যেগুলো ব্লগারদের কাছে আদৌ 'নতুন' কিছু মনে হবে না। অপরবাস্তব শুধু নয়, এই রিভিউ একইসঙ্গে মূলধারায় 'ব্লগ'কে উপস্থাপনের কাজটিও করেছে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত 'বইয়ের জগৎ' সাময়িকীর দাম ৮০ টাকা। মূল্যে শুধু নয়, আয়তন আর মানেও প্রায় আড়াইশো পৃষ্ঠার সাময়িকীটি ওজনদার। বই সমালোচনা নিয়ে সম্ভবত এই মানের কোনো সাময়িকী আগে দেখিনি।---
অপরবাস্তব : সাহিত্যচর্চার নতুন ধরন
আহমাদ মোস্তফা কামাল
একটি অভিনব গ্রন্থের সঙ্গে আপনাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য লিখতে বসেছি, প্রিয় পাঠক। অভিনব এই অর্থে যে, এই গ্রন্থের সম্পাদক এবং অধিকাংশ লেখকদের সঙ্গে মূলধারার পাঠকরা তো পরিচিত ননই, এমনকি এটি যে প্রক্রিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে তার সঙ্গেও পরিচিত নন। বইটির নাম- ‘অপরবাস্তব’, সম্পাদক- লোকালটক, এবং এটি অনলাইনে বাংলাভাষায় লেখালেখির সঙ্গে জড়িত লেখকদের গল্প সংকলন। তবে বিস্তারিত পরিচয়ের আগে অনলাইনে লেখালেখি সম্বন্ধে কিছু কথা বলে নেয়া দরকার।
গত এক দশকে সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার একটি হলো- ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে লেখালেখির চর্চার উদ্ভব হওয়া। অন্যান্য ভাষায় ব্যাপারটি অনেক আগেই শুরু হলেও বাংলা ভাষায় এবং বাংলাদেশে এর উদ্বোধন হয় ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৫ সালে সামহোয়ারইন ব্লগ-এর মাধ্যমে। সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে ঘটনাটি বাংলাদেশে একেবারেই নতুন বলে মূলধারার সাহিত্যজগতে এটি এখনো তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব তৈরি করতে পারেনি বটে, বা মূলধারার সাহিত্য-আলোচনায় অনলাইন লেখকদের কথা উল্লেখিত হয় না বটে, তবে আগামী দশকের শেষে গিয়ে হয়তো দেখা যাবে- এটি বিকল্প গণমাধ্যমের এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে, এবং হয়তো সেদিন সাহিত্য-আলোচনায় এই লেখালেখিকে আর অস্বীকার করার উপায় থাকবে না। প্রিন্ট মিডিয়ায় লেখালেখির সঙ্গে অনলাইন মাধ্যমে লেখালেখির মূল পার্থক্যগুলো চিহ্নিত করা যায় এভাবে- ১. এখানে কোনো সম্পাদকীয় শাসন-অনুশাসন নেই, ফলে যে-কেউ যে-কোনো ধরনের লেখা প্রকাশ করার অধিকার রাখেন। সেই অর্থে এটি অনেক মুক্ত ও স্বাধীন মাধ্যম। ২. এই মাধ্যমে লেখক-পাঠকদের মধ্যে পাস্পরিক মিথস্ক্রিয়া অত্যন্ত চমৎকার। লেখা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে পাঠকরা তাদের মতামত জানাতে থাকেন, কোনো প্রশ্ন থাকলে প্রশ্ন করেন, কোনো পরামর্শ থাকলে সেটিও লেখককে জানিয়ে দেন। লেখকও এইসব প্রশ্নের উত্তর দেন, মতামতের ব্যাপারে তার নিজস্ব অবস্থানটি পরিষ্কার করেন। একটি লেখা এইসব বিবিধ মতামত নিয়েই পূর্ণাঙ্গ হয়ে ওঠে এবং অধিকতর আকর্ষণীয় রূপে পাঠকদের কাছে হাজির হয়। ৩. এখানে লেখক-পাঠকদের সম্পর্ক এক তরফা নয়! একজন লেখক একইসঙ্গে পাঠকও, বা একজন পাঠক একসঙ্গে একজন লেখকও। ফলে পরস্পরের সঙ্গে মতবিনিময় করার একটি চমৎকার মাধ্যম হয়ে উঠেছে এটি। ৪.লেখাগুলো সাধারণত উন্মুক্ত থাকে এবং পৃথিবীর যে-কোনো স্থান থেকে যে-কেউ যে-কোনো সময় সেগুলো পড়বার স্বাধীনতা ভোগ করে থাকেন। অর্থাৎ ছাপা-বইয়ের যেমন দুষ্প্রাপ্যতার একটা ব্যাপার আছে, চাইলেই যে-কোনো সময় যে-কোনো পাঠক সেটি পড়তে পারেন না, অনলাইনে সেই দুষ্প্রাপ্যতা নেই।
যেমনটি আগে বলেছি- বাংলাদেশে অনলাইনে লেখালেখির সূত্রপাত ঘটে সামহোয়ারইন ব্লগ-এর মাধ্যমে ২০০৫ সালের শেষের দিকে। এর মধ্যেই বাংলাদেশে আরো কয়েকটি ব্লগ চালু হয়ে গেছে। যেমন সচলায়তন, আমার ব্লগ, প্রথম আলো ব্লগ, মুক্তাঙ্গন ব্লগ ইত্যাদি। এ ছাড়া ব্লগস্পটেও ব্যক্তিগত ব্লগ বানিয়ে বাংলায় লিখছেন অনেকেই। শুনে অবাক হবেন প্রিয় পাঠক, এই সব ব্লগ মিলিয়ে এখন লেখকের সংখ্যা প্রায় অর্ধলাধিক! পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে ব্লগ হয়ে উঠছে পরম আদরনীয় এক মুক্ত যোগাযোগ মাধ্যম। মাত্র চার বছরেই বাংলা ব্লগগুলোর এই অভাবিত জনপ্রিয়তাই প্রমাণ করে দেয়- আগামী দিনে এই মাধ্যমটিকে হেলাফেলা করার কোনো সুযোগই আর থাকবে না। ব্লগ সম্পর্কে অপরবাস্তব-এর সম্পাদকীয় থেকে কিছু অংশ তুলে দিয়ে বইয়ের আলোচনায় প্রবেশ করবো- ‘ওয়েবব্লগের সংক্ষেপিত রূপ- ব্লগ। অনলাইন জার্নাল বা ডায়েরি। দিনে দিনে ব্লগ হয়ে উঠছে একমাত্র ইন্টারঅ্যাকটিভ মিডিয়া, বিকল্প গণমাধ্যম- যা বিশ্বের নানা প্রান্তের মতামত-প্রতিক্রিয়াগুলোকে ধারণ করছে। ব্লগ যেভাবে উঠে আসছে, তাতে এটি ছাড়িয়ে যেতে পারে সংবাদপত্র, এমনকি টেলিভিশনকেও। যদিও টেলিভিশনের মতো ব্যাপক প্রভাব এখনো ব্লগের হয়ে ওঠেনি, তবুও টেলিভিশন ও সংবাদপত্র যা পারে না- ব্লগ তা পারছে। পাঠক ও লেখকদের কিংবা দর্শক ও নির্মাতাদের মধ্যে সত্যিকারের বিনিময় ব্লগেই সম্ভব হচ্ছে।’
এবার ‘অপরবাস্তব’ প্রসঙ্গ। এটি মূলত সামহোয়ার ইন ব্লগ-এ যারা লেখালেখি করেন, তাদের গল্প নিয়ে একটি সংকলন। উল্লেখ করা দরকার যে, এই ব্লগটিই বাংলা ভাষায় প্রথম কমিউনিটি ব্লগিং-এর সূচনা করে। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার বাংলাভাষী ব্লগার (এখানে লেখক-পাঠকের একটিই নাম- ব্লগার) এখানে নানা বিষয়ে প্রতিদিনই প্রচুর লেখা লিখে চলেছেন। শুধু গল্প-কবিতাই নয়, নানা বিষয়ে প্রবন্ধ, রাজনীতি-অর্থনীতি-বিজ্ঞান-ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংগীত-ধর্ম-দর্শন-চলচ্চিত্র-বিনোদন প্রভৃতি বিষয়ে নানা ধরনের বিশ্লেষণ নিয়ে প্রতিদিনই নানা ধরনের লেখা পাওয়া যাচ্ছে। ‘অপরবাস্তব’-এর সম্পাদক এসব লেখা থেকে ব্লগারদের কাছ থেকে বছরের উল্লেখযোগ্য লেখাগুলো নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করেন ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে। প্রায় একমাস ধরে ব্লগাররা মনোনয়ন দিতে থাকেন। তর্ক-বিতর্কও হয় প্রচুর। শুরুতে কেবলমাত্র সেরা লেখাগুলো বাছাইয়ের জন্য এই মনোনয়ন আহ্বান করা হলেও শেষ পর্যন্ত এসব লেখা থেকে বাছাই করে একটি বিষয়ভিত্তিক গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেন সম্পাদক। নির্বাচিত লেখাগুলো থেকে গল্পগুলোকে আলাদা করে সেখান থেকে নির্বাচনের নতুন প্রক্রিয়া শুরু হয় খানিকটা গোপনীয়ভাবে। কয়েকজন ব্লগারের সমন্বয়ে একটি গ্র“প খোলা হয় যেখানে শুধু মাত্র ওই কয়েকজনই প্রবেশ করতে পারবেন, অন্যরা নন। অর্থাৎ হাজার হাজার ব্লগারের প্রাথমিক মনোয়নয়ন শেষে চূড়ান্ত নির্বাচনের জন্য বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয় কয়েকজন ব্লগারের মধ্যে। তারা যথাসময় তাদের মতামত ও নির্বাচন জানিয়ে দেন। মজার ব্যাপার হলো- পুরো ব্যাপারটিই ঘটে অনলাইনে। এই সম্পাদক ও নির্বাচকরা পরস্পরের সঙ্গে একবারও মুখোমুখি বসেননি, পরস্পরকে তারা চেনেনও না, এমনকি বইটি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পরও এর সম্পাদককে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে দেখা যায়নি! যাহোক, নির্বাচন শেষে সম্পাদক নিজেই বইটির চূড়ান্ত রূপ দেন- অর্থাৎ প্রুফ দেখা, মেকাপ দেয়া ইত্যাদি শেষে তিনি পাণ্ডুলিপির সফটকপিটি পাঠিয়ে দেন প্রকাশকের কাছে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, প্রকাশকও নাকি এই সম্পাদককে আজতক দেখেননি! এরকম অভূতপূর্ব উপায়ে যে একটি বই প্রকাশিত হতে পারে, সেটি বিশ্বাস করাই কঠিন। ঘটনাক্রমে গল্প-নির্বাচকদের মধ্যে আমি নিজেও একজন ছিলাম বলে এর পূর্বাপর দেখার সুযোগ হয়েছে। এই পুরো বিষয়টি নিয়ে সংক্ষেপে সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে- ‘মুক্ত গণমাধ্যমের মুক্ত মতামত কেমন হতে পারে, সে ধারণা আমাদের অনেকেরই আছে। কিন্তু মুক্ত গণমাধ্যমের সাহিত্য- গল্প, কবিতা, উপন্যাস- তাও কি সম্ভব? সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ব্লগের নির্বাচিত লেখা নিয়ে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল ‘অপরবাস্তব’।... এবার বিষয় হিসেবে নির্বাচন করা হয়- গল্প। এজন্য ব্লগারদের কাছ থেকে মনোনয়ন আহ্বান করা হয়েছিল গত বছরের নভেম্বরে। একমাসেরও বেশি সময় ধরে মনোনয়ন গ্রহণের পর নির্বাচিত গল্পগুলো ব্লগারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি নির্বাচক প্যানেলের কাছে পাঠানো হয়। একমাস ধরে যাচাই-বাছাই শেষে ২৫টি গল্প চূড়ান্ত হয়, যা স্থান পেয়েছে এই সংকলনে। এর বাইরেও বেশ কিছু ভালো গল্প থেকে গেছে, দুর্মূল্যের বাজারে কলেবর বৃদ্ধির শঙ্কায় যা আমরা বইয়ে স্থান দিতে পারিনি। বলাবাহুল্য, এই সংকলনের গল্পকাররা ব্লগার, পাঠকরাও তেমনি, এমনকি পুরো এক বছরের গল্প থেকে যারা মনোনয়ন দিয়েছেন, সম্পাদনা যারা করেছেন, এমনকি যিনি প্রকাশক- সবার পরিচয় একটিই- ব্লগার।’
এবার গল্প প্রসঙ্গ। এই বইটিতে যাদের গল্প গ্রন্থিত হয়েছে তারা প্রধানত তরুণ গল্পকার এবং এদের অধিকাংশই গল্প লেখা শুরু করেছেন মাত্র দু-তিনবছর আগে। ব্লগই তাদের প্রথম গল্প-প্রকাশ মাধ্যম। পত্রপত্রিকায় অনেকেরই আজ পর্যন্ত কোনো লেখাই ছাপা হয়নি। লেখকদের তালিকাটিতে একবার চোখ বুলিয়ে দেখলে ব্যাপারটা আরো ভালোভাবে বোঝা যাবে- অনীক আন্দালিব, আবদুর রাজ্জাক শিপন, আবু কায়েস কুন্তল, একরামুল হক শামীম, কৌশিক আহমেদ, তানজিলা আফরিন, তারিক স্বপন, তানভীরুল ইসলাম, নুশেরা তাজরীন, নিবিড় ইসলাম, ফাহমিদুল হক, মনজুরুল হক, মাজুল হাসান, মাহবুব লীলেন, মাহবুব শাহরিয়ার, মাহমুদ আরিফ, মোস্তাফিজ রিপন, রন্টি চৌধুরী, লাবণ্য প্রভা, শফিউল আলম ইমন, সাইফুল ইসলাম ও সুমন রহমান। এদের মধ্যে ফাহমিদুল হক, মনজুরুল হক, মাজুল হাসান, মাহবুব লীলেন, লাবণ্য প্রভা ও সুমন রহমান ছাড়া অন্য সবাই মূলধারার পাঠকদের কাছে অপরিচিত নাম, যদিও ব্লগে তারা যথেষ্ঠই খ্যাতিমান। যাহোক, এই তরুণতর লেখকদের লেখাগুলোকে আমরা কীভাবে বিচার করবো? আমি নিজে সবসময়ই তরুণদের লেখাকে একটু ঔদার্যের সঙ্গে গ্রহণ করতে চাই। এমনিতেই তাদের অনেক বিপদ- প্রথমত একটা লেখাকে অন্তত লেখার মর্যাদায় নিয়ে যাওয়াই এক বড় বিপদ, তারপর লেখা প্রকাশ করা, প্রকাশিত হওয়ার পর সেটা পাঠকের কাছে পৌঁছানো, পৌঁছলো তো সেটা সম্বন্ধে দু-চারজন দরদী পাঠকের প্রতিক্রিয়া পাওয়া- সবই একজন তরুণ লেখকের জন্য কঠিন কাজ। তারচেয়ে বিপদজনক ব্যাপার হলো- একজন তরুণ লেখকের কাছ থেকে পাঠকরা সবসময় নতুন কিছু চায়। প্রশ্ন হচ্ছে এই পাঠকরা একজন তরুণের কাছে নতুন কিছু চায় কেন? এই প্রত্যাশার কারণ কি? কারণটা সম্ভবত এই যে, পাঠকরা বুড়ো লেখকদের লেখা পড়তে পড়তে ক্লান্ত-বিরক্ত (বিধ্বস্তও বলা যেতে পারে) হয়ে পড়েন। পুনরাবৃত্তির ভারে আক্রান্ত প্রবীণ লেখকদের লেখা নতুনত্বের সন্ধানী পাঠককে তো বটেই এমনকি স্বয়ং ওই লেখকদেরকেও ত্যক্তবিরক্ত করে তোলে। তরুণরা নতুন চিন্তা করবে, নতুন কথা বলবে কিংবা পুরনো কথাই এমনভাবে বলবে যেন নতুনের মতো শোনায়- এ-তো স্বাভাবিক প্রত্যাশ্যা। বিষয়গুলো বুঝেও এদের লেখায় আমি নতুন কিছু খুঁজে পেতে চেয়েছি। পাওয়া কি গেলো? হ্যাঁ, গেলো। প্রমাণ হিসেবে আপনি মাত্র তিন/চারটে গল্প পড়ে দেখতে পারেন। অনীক আন্দালিব, তারিক স্বপন, তানভীরুল ইসলাম, বা মোস্তাফিজ রিপন- এই যে অপরিচিত নামগুলো, তাদের গল্পগুলো পড়লে আপনি নিশ্চিতভাবেই বিস্মিত হবেন। গল্পের বিষয়, নির্মাণকৌশল, ভাষাভঙ্গি, শব্দের ব্যবহার, বাক্যগঠনের ধরণ ইত্যাদি দেখে আপনি বুঝতেই পারবেন না, এগুলো গুলো তরুণ গল্পকারের প্রথমদিকের গল্প- এমনি মনকাড়া সেগুলো। শুধু এদের কথাই বলি কেন! বয়সে এদের চেয়ে একটু বড়ো কৌশিক আহমেদ এবং নুশেরা তাজরীনের গল্প দুটোও কি মন কেড়ে নেবে না পাঠকের! নুশেরার নিখুঁত ভাষাজ্ঞান, নির্ভুল শব্দচয়ন ইত্যাদি আমাকেও অনেক সময় ধাঁধায় ফেলে দিয়েছে। মনে হয়েছে, বাংলাভাষাটি এত ভালোভাবে আমিও শিখিনি। সাইফুল ইসলাম, তানজিলা আফরিন, একরামুল হক শামীমের মতো অতি তরুণ লেখকেরাও আপনার দৃষ্টি কাড়বে, আমি নিশ্চিত। ব্লগে লেখার সুবাদে এই লেখকদের সবার সঙ্গেই আমি কমবেশি পরিচিত। শুধু গল্পই নয়, তাদের অন্য যে-কোনো ধরনের লেখাই যথেষ্ঠ চিন্তার খোরাক জোগায়। এই লেখকেরা পত্রপত্রিকায় লেখেন না বলে, বা লিটল ম্যাগাজিনের গোষ্ঠীবদ্ধতা তাদের নেই বলে বৃহত্তর পাঠক সমাজের কাছে তাদের নাম পৌঁছায়নি বটে, তবে ভবিষ্যতেও পৌঁছবে না সেটা বলা যায় না। বাংলাদেশের খুব কম সংখ্যক মানুষ এই মুহূর্তে ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করতে পারে। আবার যাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে তারা ‘ব্লগ’ ব্যাপারটার সঙ্গে একবারেই পরিচিত নন। তবে ব্লগের ক্রমবর্ধমান বিকাশ দেখে মনে হচ্ছে, ক্রমশই এই বিষয়টি তরুণ সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। যারা কোনোদিন লেখার কথা ভাবেনওনি, তারাও হয়তো লিখতে শুরু করেছেন। লিখতে লিখতেই শিখে গেছেন, আলোচনা সমালোচনা উপদেশ পরামর্শ তাদেরকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলছে। আর এখানেই ব্লগ অন্যান্য যে কোনো মাধ্যমের থেকে আলাদা ও অধিকতর আকর্ষণীয়। সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এখানে একজন লেখকের গড়ে ওঠার প্রাথমিক কাজটি সম্পন্ন হয়।
আরেকটি প্রসঙ্গ বলে এই রচনার ইতি টানবো। ব্লগে এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ লেখক ছদ্মনামে লেখালেখি করেন। বাংলা-ব্লগের প্রাথমিক বিকাশের সময় এটিকেই সবচেয়ে দূর্বল ও তিকর দিক বলে মনে হয় আমার। ছদ্মনামে লেখেন বলে অনেকেই (সবাই নন) এই মাধ্যমটির অপব্যবহারও করেন। আর সেজন্যই ব্লগ বিষয়টি যতোখানি আকর্ষণীয় হবার কথা ছিলো ততোখানি হয়নি। অপরবাস্তব প্রকাশের সময় গল্প-লেখকরা তাদের ছদ্মনামের বদলে প্রকৃত নাম ব্যবহার করে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন, এবং এটি নির্বাচক-পর্ষদেরই সিদ্ধান্ত ছিলো। তাদেরকে সাধুবাদ। তবে বইটির সম্পাদক এখন পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেলেন। তিনি কোনোভাবেই নিজের পরিচয় প্রকাশে আগ্রহী নন!
অপরবাস্তব যারা পড়তে চান তারা আজিজ মার্কেটের দোতলায় ‘কিংবদন্তি’তে খোঁজ নিতে পারেন।
-
অপরবাস্তব
সম্পাদক : লোকালটক
প্রকাশক : রাশেদ হাফিজ, ছাপাকল।
মূল্য : ১০০ টাকা।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bangla, blog, বাংলা ব্লগ, bangladesh, dhaka, bangla blog, somewherein...blog, somewhereinblog, Fusion5, fusion five, ahmad mostafa kamal, book review, boier jagat, oporbastob, oporbastab, localtalk ;
প্রথম প্রকাশ
দেশে এখন জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বই লেখকের সংখ্যা। বাংলা ব্লগ চালু হওয়ার পর অনেকে আবার শুধু ব্লগার থাকতে চাইছেন না, তারাও লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে মরিয়া হয়ে উঠছেন। আর ওদিকে বাংলা একাডেমির বইমেলার দিকে তাকালে দেখি, লেখকের ছড়াছড়ি রীতিমতো! মুড়ি-মুড়কির মতো জন্ম নিচ্ছে লেখক। অনেকেই আবার বিরল প্রতিভার অধিকারী - ডান হাতে লিখছেন প্রেমের উপন্যাস, বাম হাতে জীবনঘনিষ্ঠ গল্প, ডান পায়ে রম্যরচনা, বাম পায়ে কবিতা, এমনকি কনুই দিয়ে লিখছেন সায়েন্স ফিকশনও। এই পর্যন্ত হলে ব্যাপারটা খারাপ কিছু নয়। কিন্তু নিজেদের বই বিক্রির জন্য ছোট-বড়ো-মাঝারি-জনপ্রিয় সব লেখকই পুরো ফেব্রুয়ারিজুড়ে এমন সব কাণ্ডকারখানা করেন, কাছ থেকে দেখে-টেখে শ্রেফ ঘেন্না লাগে! বড়োদের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ এবং তার প্রকাশক অন্যপ্রকাশের মাযহারুল ইসলাম এক্ষেত্রে বেশ কয়েক বছর ধরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গতবার আমরা দেখেছি, বইমেলা আর নুহাশ পল্লীতে হিমুরূপী ভাড়াটে তরুণদের কাণ্ডকারখানা। বাংলালিংক আবার টাকা দিয়ে সেটা স্পন্সর করেছে। প্রচারণার এমনই মরিয়া ধরন, সুযোগ ও সাধ্য থাকলে এরা সম্ভবত আধা নগ্ন মডেল ভাড়া করে বইয়ের প্রচারণা চালাতেন। অন্যদিকে মাঝারিগোছের লেখকরাও বইমেলায় নিজেদের বই বিক্রির জন্য যা কাণ্ডকারখানা করেন, সত্যিই লজ্জাজনক। নিজেদের বইয়ের প্রচারণা বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য তাদের কায়দা-কৌশলের শেষ নেই যেন। বিজ্ঞাপন শুধু প্রকাশকরাই দিচ্ছেন তা নয়, জনপ্রিয় লেখকরা নিজেদের গরজেও বিভিন্ন প্রকাশনীর বই একত্র করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপছেন। সেসব বিজ্ঞাপনে প্রায়ই ভোজবাজির মতো "তিন দিনে তৃতীয় মুদ্রণ" প্রসবিত হচ্ছে। এবং অবধারিতভাবে তাদের প্রতিটি উপন্যাস আর গল্পই "আলোড়ন সৃষ্টিকারী!"
ছোট লেখকদের অবস্থা রীতিমতো ভয়াবহ। অনেককে দেখছি, দিনরাত স্টলের সামনে পড়ে থাকছেন খদ্দের ধরার আশায়। বই পড়িয়েই ছাড়বেন- এমন এক প্রতিজ্ঞা নিয়ে তারা মেলাঙ্গনে মাটি কামড়ে পড়ে থাকছেন। নিজেদের বই বিক্রির জন্য এদের অনেকে পায়ে ধরাটাই শুধু বাকি রাখেন। এদের প্রচার কৌশল আবার ভিন্ন। বইমেলা এলেই তাদের অনেকে হামলে পড়েন ফেসবুক, ব্লগ আর বিভিন্ন ফোরামে। ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ওয়াল, ম্যাসেজ থেকে স্ট্যাটাস - সবখানেই নিজেদের বইয়ের বিজ্ঞাপন, ইনিয়ে-বিনিয়ে, আকারে-ইঙ্গিতে, কখনোবা খোলাখুলিই। রীতিমতো ক্ষ্যাপা কুকুরের অবস্থা। গত বছর থেকে ব্লগে আরেকটি ট্রেণ্ড তৈরি হয়েছে - লোক ভাড়া করে 'আলোচনা' লেখানো। আলোচনা তো নয় ঠিক, ভালোচনা বলাই ভালো। আমাদের সুহৃদ রাসেল (........) এ ধারার পথিকৃৎ। আবার আলোচনার ধার না ধেরে তমুকের বই কিনলাম শীর্ষক মিনি পোস্টও দেখা যাচ্ছে এবার।
বলাবাহূল্য, বইমেলায় প্রকাশিত দুই-তৃতীয়াংশ বই-ই শ্রেফ সময়ের নিদারুণ অপচয়। কাগজের দামের দিকে মানবিক দৃষ্টি রেখে এগুলোকে 'ফর্মা' হয়ে ওঠে, কিন্তু 'বই' কিছুতেই নয়। এমনিতে বই নিয়ে যতো মহতী কথাবার্তা, স্মরণীয় বাণী আছে, সবই কিন্তু বইলেখকদের লেখা। ফলে মাঝে মাঝে সেগুলো পুনর্বিবেচনা করে দেখা ভালো!
সংযুক্তি
বই বিক্রি হচ্ছে নতুন ফর্মূলায়
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ekushey book fair, ekushey boi mela, boi mela, book fair, humayun ahmed ;
প্রথম প্রকাশ
বই প্রকাশ করা কিংবা বিপণন করা আদতে একটা ব্লগের কাজ হতে পারে কিনা- তার পক্ষে-বিপক্ষে ইতিমধ্যে নানা যুক্তি এসেছে। আমার অভিমত হচ্ছে, প্রকাশনার মতো ব্লগবহির্ভূত কাজে কর্তৃপক্ষের যুক্ত হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা প্রকৃতপক্ষে নেই। স্বাধীন ব্লগার হিসেবে আমি নিজেও চাই না যে, ব্লগারদের বইয়ের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকুক। ব্লগের বইয়ের খাতিরে কর্তৃপক্ষ শুধু প্রচারণার ব্যাপারে সহায়তা করতে পারে, যেটা আমরা দেখেছি, গত কয়েক বছর ধরে পোস্ট স্টিকি, বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ সেই কাজটি ভালোভাবেই করছে। কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।কেউ কেউ হয়তো অন্য ব্লগের উদাহরণ টানতে পারেন। সেক্ষেত্রে আমি বলবো, যেমন সচলায়তন, সেটা প্রকৃতপক্ষে ছোট একটি লেখক কমিউনিটি। ব্লগ যে নয়, এমনকি সেটা তারা নিজেরাও স্বীকার করে। ফলে বছর ধরে বইয়ের জোগাড়যন্ত্র করা, প্রকাশ কিংবা বিপণন করা- এগুলো তাদের জন্য স্বাভাবিক, এমনকি সেটা তাদের মূল লক্ষ্যেরও অন্তর্গত। অন্যদিকে বলাবাহূল্য, আমারব্লগের প্রকাশনা-উদ্যোগটি পুরোপুরি ব্যবসায়িক। ফলে একযোগে ১০-১৫টি বই প্রকাশ, বাংলাবাজারে অফিস খোলা, স্টল খোলা, তার জন্য আবার স্টাফ রাখা, দৈনিকভিত্তিতে স্টল খরচ চালানো- এগুলো তাদের জন্য, একটি প্রকাশনা সংস্থার জন্য খুবই স্বাভাবিক। আর সে কারণেই লক্ষ্য করবেন, ব্লগারদের কোনো যোগ সেখানে নেই, থাকার কথাও নয়।
সম্পাদকমণ্ডলীর স্বাধীনতা বনাম ব্লগারদের অধিকার
গত দুবার অপরবাস্তব সম্পাদনা করতে গিয়ে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে, ব্লগের লেখা সরাসরি বইয়ে প্রকাশযোগ্য নয়। সম্পাদকের দায়িত্ব হচ্ছে, ব্লগের লেখাকে বইয়ে প্রকাশের উপযোগী করে তোলা। ব্লগারদের যেমন লেখার স্বাধীনতা আছে, তেমনি সম্পাদকেরও স্বাধীনতা আছে সেই লেখাকে প্রয়োজনমতো পরিমার্জন-সংযোজন-বিয়োজনের। এই স্বাধীনতা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। পত্র-পত্রিকায়ও লক্ষ্য করবেন, এই চর্চা আছে।
দুই মলাটের ভেতরে নানা মেরুর, নানা প্রান্তের, নানা মেজাজের লেখক ও লেখাকে একসূত্রে আনার কাজটি করতে হয়, ফলে সেটা সবসময়ই দুরূহ একটি কাজ। যতো সমস্যাই থাক না কেন, সম্পাদককে সেই কাজটিই করতে হয়। আমি মনে করি সম্পাদক যে বা যারাই হোক না কেন, একজন সম্পাদকের পূর্ণ অধিকার থাকা উচিত, বইয়ের স্বার্থে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার। সারাক্ষণ ব্লগারদের কাছে দায়বদ্ধ থেকে, কে কী ভাবলেন- না ভাবলেন সেসব মাথায় নিয়ে ব্লগিং হয়তো করা যায়, কিন্তু ভালো বই আদতে প্রকাশ করা যায় না, যাবেও না। আমি মনে করি, লেখা চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পরবর্তী যাবতীয় বিষয় একান্তই সম্পাদকের নিজস্ব বিবেচনার বিষয়। খুব বেশি হলে তিনি বা তারা এক বা একাধিক ব্লগারের পরামর্শ নিতে পারেন। লেখার স্বার্থে, বইয়ের স্বার্থে একজন সম্পাদক যদি মনে করেন, কোনো গল্প বা কবিতার শিরোনাম পরিবর্তন করা দরকার কিংবা কোনো অংশ বাদ দেওয়া দরকার কিংবা কোনো লেখা পুরোপুরি বাতিলই করে দেওয়ার, আমি মনে করি সেটা করার পূর্ণ অধিকার একজন সম্পাদকের থাকা উচিত। লেখকদেরও সম্পাদক বা সম্পাদকমণ্ডলীর ওপর আস্থা রাখা উচিত। কারণ বিষয়টা ব্লগ নয়, দেয়ালিকা নয়, ছোটকাগজ নয়- বিষয়টা বইয়ের, মুদ্রিত হরফে যা থেকে যাবে যুগের পর যুগ।
একনজরে অপরবাস্তব
অপরবাস্তব-১
প্রথম প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৭, একুশে বইমেলা
বইয়ের ধরন : মিশ্র
সম্পাদকমণ্ডলী : বাকীবিল্লাহ, কৌশিক আহমেদ, অন্যমনস্ক শরৎ, রাসেল পারভেজ, আরিফ জেবতিক, অমি রহমান পিয়াল, সাদিক মোহাম্মদ আলম, সৈয়দ সাখাওয়াৎ।
প্রচ্ছদ : রাহা
অপরবাস্তব-২
প্রথম প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮, একুশে বইমেলা
বইয়ের ধরন : মিশ্র (গল্প ও কবিতা)
প্রধান সংকলক : অন্যমনস্ক শরৎ
সহযোগী সংকলক : অমি রহমান পিয়াল, অন্ধকার, আতিকুল ইসলাম আনন, উদাসী স্বপ্ন, কৌশিক আহমেদ, নওরীন সুলতানা, নাজিম উদদীন, মনের কথা, মুজিব মেহদী, যীশু, রাসেল পারভেজ, সাদিক মোহাম্মদ আলম, সৈয়দ এহসানুল হাবিব, শওকত হোসেন মাসুম, হোসেইন, বাকীবিল্লাহ।
প্রচ্ছদ : শাহরিয়ার হাসান সুলভ
অপরবাস্তব-৩
প্রথম প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, একুশে বইমেলা
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ৯৬, মূল্য : ১০০ টাকা
বইয়ের ধরন : গল্পগ্রন্থ
সম্পাদক : লোকালটক
প্রচ্ছদ : বিশ্বজিৎ
অপরবাস্তব-৪
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০১০, একুশে বইমেলা
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১২৮, মূল্য : ১৩০ টাকা
সম্পাদক : লোকালটক, আবদুর রাজ্জাক শিপন ও কৌশিক আহমেদ
সহযোগী সম্পাদক : একরামুল হক শামীম ও নীরা আহমেদ অপ্সরা
প্রচ্ছদ : মাহবুবুর রহমান
সবগুলো অপরবাস্তবেরই প্রকাশক ছিলেন রাশেদ হাফিজ (রাহা)।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bangla, blog, বাংলা ব্লগ, bangladesh, dhaka, bangla blog, somewherein...blog, somewhereinblog, Fusion5, fusion five, book, oporbastob, oporbastab, localtalk ;
প্রথম প্রকাশ
অপরবাস্তব পুরোপুরি ব্লগারদের বই- সবদিক থেকেই। এর লেখকরা ব্লগার, পাঠকরাও তেমনই, পুরো এক বছরের লেখা থেকে যারা মনোনয়ন দেন, এমনকি যিনি প্রকাশক- সবার পরিচয় একটিই- ব্লগার। ব্লগাররাই লেখা নির্বাচন করেন, তারাই সম্পাদনা করেন, প্রুফ দেখেন, পেইজ মেকআপ করেন। প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট যতো কাজ, তাও ব্লগাররাই করেন। নিজ গরজে ব্লগাররাই সেই বই কাঁধে নিয়ে বইমেলার স্টলে দিয়ে আসেন। এই বইয়ের ক্রেতা যারা, তাদের বৃহৎ অংশও ব্লগার। বাংলাব্লগে এরকম উদাহরণ এখন পর্যন্ত এক ও অনন্য। অপরবাস্তবের কিছু যদি কৃতিত্ব থাকে, সেটা হল একেবারেই নবীন, কিন্তু প্রতিশ্রুতিশীল কিছু লেখককে মূলধারায় উপস্থাপন করার দায়িত্ব পালন।অপরবাস্তবের মূল তিনটি সমস্যা
১. প্রকাশক জোগাড় করতে না পারা অপরবাস্তবের সবচেয়ে বড়ো ব্যর্থতা। প্রথম আলো ব্লগের পুরোপুরি হাস্যকর একটি প্রকাশনার জন্য পাঠসূত্রের মতো প্রকাশক এগিয়ে আসে, সচলায়তনের একেবারে গড়পড়তা মানের বইয়ের জন্য যদি পেশাদার প্রকাশক পাওয়া যায়, অপরবাস্তব কেন তিন তিনটি বছর পার করেও পেশাদার প্রকাশক পেল না? প্রকাশক বলতে আমি বোঝাতে চাইছি এমন একটি পেশাদার প্রকাশনা সংস্থা, যারা নিজেদের খরচে অপরবাস্তব প্রকাশ করবেন, বিপণন করবেন এবং নিজেদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সেই বই সারা দেশে ছড়িয়ে দেবেন। এই কাজগুলো ব্লগারদের আওতার বাইরে।
২. ভালো লেখা নির্বাচন- দ্বিতীয় প্রধান সমস্যা। প্রতি বছরই অপরবাস্তবের লেখা নির্বাচন করা হয়ে থাকে ডিসেম্বর-জানুয়ারির দিকে। প্রকৃতপক্ষে, যতো মনোযোগী ব্লগারই হন না কেন, বছরের শেষ দিকে এসে সারা বছরের ভালো লেখা মনোনয়ন আসলে অসম্ভব একটি ব্যাপার। এক্ষেত্রে আমার প্রস্তাব হচ্ছে, মে-জুনে সম্পাদকমণ্ডলী নির্বাচন হয়ে গেলে তারা লেখা নির্বাচন শুরু করে দিতে পারেন। বছরের শেষদিকে এসে ব্লগারদের কাছ থেকেও মনোনয়ন আহবান করা যেতে পারে। সম্পাদকমণ্ডলীর মনোনয়ন ৫০ : ব্লগারদের মনোনয়ন ৫০ - এই ভিত্তিতে বইয়ের জন্য লেখা চূড়ান্ত করা যেতে পারে।
৩. আরেকটি সমস্যা হল বইয়ের ধরন বা প্রকৃতি নির্বাচন। অপরবাস্তব-৩ ছাড়া এ পর্যন্ত বেরুনো সবকটি পর্বই মূলত মিশ্র সংকলন। গল্প-কবিতা-প্রবন্ধ সবকিছুই একসঙ্গে একই মলাটের ভেতর প্রকাশ পেলে সেটা ভালো 'সংকলন' হয় বটে, কিন্তু সেটাকে 'বই' ভাবতে অস্বস্তি বোধ করি। এ নিয়ে ব্লগে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক বিতর্ক আছে। এ বিষয়ে দ্রুতই একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি।
ভবিষ্যতের অপরবাস্তব নিয়ে কিছু প্রস্তাব
অপরবাস্তবের মতো প্রকাশনায় কেন বারবার একই লোক, একই লেখক- সেটা নিয়ে সঙ্গতকারণেই প্রশ্ন উঠতে পারে। আবার বছরের পর বছর এই লোকগুলোই কেন অপরবাস্তবের বোঝা বয়ে বেড়াবে, ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবে- সেটাও একটা জরুরি প্রশ্ন। অপরবাস্তবের শুরু তো হয়েছিল এই ধারণা নিয়েই যে, প্রতি বছর নতুন নতুন ব্লগার এসে অপরবাস্তবের ভার বয়ে নিয়ে যাবেন, সোৎসাহে। সেটা হচ্ছে না, এ বলাই বাহুল্য। এই পরিস্থিতিতে আমার প্রস্তাবটি এরকম-
আগ্রহী যেসব ব্লগার অপরবাস্তবের সঙ্গে জড়িত হতে চান, তারা জানাবেন। আগের সম্পাদকমণ্ডলী সেখান থেকে যোগ্য লোক নির্বাচন করে তাদের হাতে পরবর্তী অপরবাস্তবের দায়িত্ব তুলে দেবেন। মান নিয়ন্ত্রণের জন্য অতীতে অপরবাস্তবের সঙ্গে যুক্ত সম্পাদকদের উপদেষ্টা হিসেবে রাখা যেতে পারে। তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শই শুধু সরবরাহ করবেন। তবে যারা যুক্ত হবেন, তাদের শুরুতেই মনে রাখতে হবে, অপরবাস্তবের কাজটি পুরোপুরি স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ। থ্যাঙ্কলেস জব। বইয়ের জন্য টানা নির্ঘুম রাত কাটিয়ে সামান্য একটি দীর্ঘ ই-কারের জন্য গালাগাল শোনার আগাম প্রস্তুতি থাকতে হবে আপনার। অপরবাস্তবের পেছনে নিজের কষ্টার্জিত টাকা জলাঞ্জলি দিলেও চাহিবামাত্র যে কাউকে পূঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিতে আপনি বাধ্য। কেউ যদি দু ফর্মার তেল ছিটছিটে লিগলম্যাগের চেয়েও ব্লগারদের ভালোবাসামাখা বইকে তুচ্ছ মনে করেন, সেটাও আপনাকে মানতে হবে হাসিমুখে। মোট কথা, এইসব নির্মমতা আর বাস্তবতা সহাস্যে মেনে নেওয়ার ধৈর্য্য যদি থাকে আপনার, পরবর্তী অপরবাস্তবের জন্য আপনিই যোগ্য লোক। এ বিষয়ে ব্লগারদের সুচিন্তিত মতামত জানতে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করবো।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bangla, blog, বাংলা ব্লগ, bangladesh, dhaka, bangla blog, somewherein...blog, somewhereinblog, Fusion5, fusion five, book, oporbastob, oporbastab, localtalk ;
প্রথম প্রকাশ
আমার মতো প্রায় নাখান্দা ব্লগারের মনে আতঙ্ক জাগিয়ে কাজটি শুরু করেছিলেন ফারহান দাউদ । ব্লগে এসেও বানান-টানান নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে! আতঙ্কের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে পরে মনে হল, কাজটি তার ঠিকই আছে। মাতৃভাষা যথাসম্ভব শুদ্ধ করেই লেখা উচিত। তবে কী লিখবো, কিভাবে লিখবো- এ নিয়ে নানা মুনির নানা মত। যতো মত ততো পথ। ওদিকে বাজারে বানানবিষয়ক যেসব বই পাওয়া যায়, লেখকরা তার বেশিরভাগই এমন জটিল করে লিখেন, এমন কঠিন করে শেখান - বুঝে ওঠা সহজ নয়।
বি.দ্র. : ওপরের এই কয়েকটি লাইনে কয়টি ভুল আছে, খোদা জানেন!
লেখ্যরীতি এবং বানানের শৃঙ্খলা ও সমতা বিধানের জন্য প্রথম আলো একটি স্টাইল শিট প্রণয়ন করে প্রতিষ্ঠার শুরুতে, পরে 'বানান ও লেখ্যরীতি' নামে সেটি প্রকাশিত হয় বই আকারে। তখন যে কোনো কিছু স্ক্যান করে রাখায় বেশ উৎসাহ আমার। প্রপার্টিজে গিয়ে দেখলাম, স্ক্যান করেছি ২০০৩ সালের ১৬ আগস্ট। আগ্রহী পাঠকদের জন্য স্টাইল শিটটি ব্লগে তুলে দিলাম। অনেকেই আশা করি উপকৃত হবেন। পরে অবশ্য 'প্রথম আলো ভাষারীতি'র বর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ বের হয়। সেটি স্ক্যান করে ডিজিটাল রূপ দেওয়ার ধৈর্য আপাতত নেই।
বইয়ের সূচি :
পর্ব-১ : বর্ণ ব্যবহার
পর্ব-২ : যতিচিহ্নের সাধারণ ভুল
পর্ব-৩ : ক্রিয়াপদে 'ও'- কার
পর্ব-৪ : শব্দের ভিন্ন প্রয়োগ
পর্ব-৫ : ভুল শব্দ ও ভুল প্রয়োগ
পর্ব-৬ : সমাসবদ্ধ/জোড়-বিজোড় শব্দ
পর্ব-৭ : বানান অভিধান : 'লিখব-লিখব না'
মিডিয়াফায়ারে জিপ আকারে ফাইলগুলো পাওয়া যাবে।
বইয়ের সূচি :
পর্ব-১ : বর্ণ ব্যবহার
পর্ব-২ : যতিচিহ্নের সাধারণ ভুল
পর্ব-৩ : ক্রিয়াপদে 'ও'- কার
পর্ব-৪ : শব্দের ভিন্ন প্রয়োগ
পর্ব-৫ : ভুল শব্দ ও ভুল প্রয়োগ
পর্ব-৬ : সমাসবদ্ধ/জোড়-বিজোড় শব্দ
পর্ব-৭ : বানান অভিধান : 'লিখব-লিখব না'
মিডিয়াফায়ারে জিপ আকারে ফাইলগুলো পাওয়া যাবে।
বি.দ্র. : ওপরের এই কয়েকটি লাইনে কয়টি ভুল আছে, খোদা জানেন!
মুজিব মেহদী গল্প কি কবিতা, গদ্য কি পদ্য লিখেন- এসব নিয়ে তেমন করে ভাবা হয়নি কখনোই। লেখক হিসেবে যতোটা না, ব্লগার হিসেবে তাকে বেশি চিনি- তার সঙ্গে একধরনের নৈকট্য অনুভব করি।কদিন আগে গভীর বিস্ময় নিয়ে আমরা জানলাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে রোকেয়া কবীর ও মুজিব মেহদীর পাণ্ডুলিপি "মুক্তিযুদ্ধে নারী" চুরি হয়েছে। চুরির কাজটি করেছেন দৈনিক ইনকিলাবের 'সাংবাদিক' মেহেদী হাসান পলাশ। আর এ কাজে তাকে সহায়তা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য জসীম উদ্দিন আহমদ।
'মুক্তিযুদ্ধে নারী'র অন্যতম সম্পাদক রোকেয়া কবীর ব্লগার হয়তো নন, কিন্তু এই ঘটনায় তার যে বেদনা, তা আমাদেরও স্পর্শ করছে। শুক্রবার বাংলা একাডেমী তথ্যকেন্দ্রের সামনে ব্যানারের পিছনে মুজিব মেহদীর বিমর্ষ মুখ দেখে আমিও বেদনা অনুভব করেছি। দুই সম্পাদকের হাড়ভাঙ্গা খাটুনি, বছরব্যাপী পরিশ্রম এক বইচোরের কূটচালে শেষ হয়ে যাবে- এটা তো মেনে নেওয়া যায় না।
কিছু পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাব
১. ইনকিলাবের ওই সাংবাদিক যে দুটি পাতার বিভাগীয় সম্পাদক, তাতে এই দুই অধ্যাপকই কলাম লিখেন নিয়মিত। সে সূত্রে তাদের প্রভাবিত করা সম্ভব হয়েছে ইনকিলাব সংবাদিক পলাশের পক্ষে। এখানে খুঁটির জোর একটি বড়ো ব্যাপার। আর ব্যাপার বলেই ইনকিলাব কর্তৃপক্ষকে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা দরকার। এতে পলাশের চাকরি গেলে ভালো। তার খুঁটির জোর আর থাকবে না। আবার চাকরি না গেলেও খুঁটিটি দুর্বল হয়ে যাবে। খুঁটি থেকে শক্তি না এলে ইনকিলাব সাংবাদিক রণে ভঙ্গ দিতে বাধ্য।
২. মুজিব মেহদীর মন্তব্য থেকে জানা যাচ্ছে, চৌর্যবৃত্তির ব্যাপারে ইতিমধ্যে অন্যতম "সম্পাদক" জসীম উদ্দিন আহমদকে অবহিত করা হয়েছে। এ সূত্রে ধরে নেওয়া যায় যে, অপর "সম্পাদক" অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদও ঘটনা সম্পর্কে জেনেছেন। তারা এখন পর্যন্ত নিরব। তবে আশা করা যাচ্ছে, ১১ ফেব্রুয়ারির সংবাদ সম্মেলনের পর দুজনকেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযোগের জবাব দিতে হবে।
৩. রোকেয়া কবীর ও মুজিব মেহদী মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা তার আপন গতিতে চলুক। কিন্তু তার জন্য প্রতিবাদ থামিয়ে রাখা ঠিক হবে না। সাধারণ মানুষের প্রতিবাদও মামলার চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। আমাদের একজন সহ-ব্লগারের জন্য অবশ্যই আমরা লড়বো।
সামহোয়্যারইনের ব্লগারদের জোর
সচলায়তনের কয়েকজন ব্লগার তাদের ক্ষুদ্র গণ্ডি থেকে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন বইমেলায়। তাদেরকে ধন্যবাদ। তবে শক্ত ধাক্কা দেওয়ার জোর আছে কেবল সামহোয়্যারইনের ব্লগারদেরই। তাদের মিলিত শক্তিই পারে অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করতে। রোকেয়া কবীর ও মুজিব মেহদীর দুঃসময়ে আসুন তাদের পাশে দাঁড়াই।
এই পোস্টকে বিজ্ঞাপন হিসেবেও ধরে নেওয়া যেতে পারে। এবারের একুশে বইমেলায় সামহোয়্যারইন ব্লগের অনেক ব্লগারেরই গল্পের বই বেরিয়েছে। সে তুলনায় উপন্যাস অবশ্য কম। নিচে কিছু বইয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হল। কোনো কোনো বইয়ের পরিচিতি অসম্পূর্ণ। আশা করি, গ্রন্থকাররা প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবেন
উপন্যাস
অন্ধ যাদুকর : আহমাদ মোস্তফা কামাল
প্রকাশক : পাঠসূত্র
পাওয়া যাবে : বইমেলার পাঠসূত্র স্টলে
মহা পৃথিবী : মাহবুবুর শাহরিয়ার
প্রকাশক : বিদ্যাপ্রকাশ
পাওয়া যাবে : বইমেলার স্টল নং ২০-এ
প্রেম ও অনুভব : মাহবুবুর শাহরিয়ার
প্রকাশক : বিদ্যাপ্রকাশ
পাওয়া যাবে : বইমেলার স্টল নং ২০-এ
দানব : প্রিন্স আশরাফ
প্রকাশক : জাগৃতি প্রকাশনী, মূল্য : ?
যুযুধা (থ্রিলার) : প্রিন্স আশরাফ
প্রকাশক : বাতিঘর প্রকাশনী, মূল্য : ?
গল্পের বই
---
সটোরি লাভের গল্প : মুজিব মেহদী
প্রকাশক : পাঠসূত্র, মূল্য : ৬০ টাকা।
পাওয়া যাবে : বইমেলার স্টল নং ৩৫৪-৩৫৫-এ
ডোরাকাটাদের দেশে : রবিউল করিম
প্রকাশক : ঐতিহ্য, মূল্য : ৯০ টাকা।
তৃণতুচ্ছ উনকল্প : মাহবুব লীলেন
প্রকাশক : শুদ্ধস্বর, মূল্য : ৮০ টাকা।
তথাপি : মামুন ম. আজিজ
প্রকাশক : জাগৃতি প্রকাশনী, মূল্য : ?
জায়গীরনামা : শেখ জলিল
প্রকাশক : শুদ্ধস্বর, মূল্য : ৮০ টাকা।
হোটেল বনলতা আবাসিক : ইশতিয়াক আহমেদ
প্রকাশক : বাংলা প্রকাশ, মূল্য : ?
১০ তরুণের প্রেমের গল্প
প্রকাশক : পালকি প্রকাশন, মূল্য : ?
স্বর্ণদেবতার অভিশাপ : তাহমিনা সানি
প্রকাশক : জাগৃতি প্রকাশনী, মূল্য : ?
হেকিম মুনশী ও তারা তিনজন : প্রিন্স আশরাফ
প্রকাশক : জাগৃতি প্রকাশনী, মূল্য : ?
‘ফাগুন কিংবা মেঘসন্ধ্যা : জামাল উদ্দীন
প্রকাশক : ?, মূল্য : ?
পাওয়া যাবে : মেলা প্রকাশনীর স্টলে।
অন্ধ যাদুকর : আহমাদ মোস্তফা কামালপ্রকাশক : পাঠসূত্র
পাওয়া যাবে : বইমেলার পাঠসূত্র স্টলে
মহা পৃথিবী : মাহবুবুর শাহরিয়ার
প্রকাশক : বিদ্যাপ্রকাশ
পাওয়া যাবে : বইমেলার স্টল নং ২০-এ
প্রেম ও অনুভব : মাহবুবুর শাহরিয়ারপ্রকাশক : বিদ্যাপ্রকাশ
পাওয়া যাবে : বইমেলার স্টল নং ২০-এ
দানব : প্রিন্স আশরাফ
প্রকাশক : জাগৃতি প্রকাশনী, মূল্য : ?
যুযুধা (থ্রিলার) : প্রিন্স আশরাফ
প্রকাশক : বাতিঘর প্রকাশনী, মূল্য : ?
গল্পের বই
---
সটোরি লাভের গল্প : মুজিব মেহদী
প্রকাশক : পাঠসূত্র, মূল্য : ৬০ টাকা।
পাওয়া যাবে : বইমেলার স্টল নং ৩৫৪-৩৫৫-এ
ডোরাকাটাদের দেশে : রবিউল করিমপ্রকাশক : ঐতিহ্য, মূল্য : ৯০ টাকা।
তৃণতুচ্ছ উনকল্প : মাহবুব লীলেন
প্রকাশক : শুদ্ধস্বর, মূল্য : ৮০ টাকা।
তথাপি : মামুন ম. আজিজ
প্রকাশক : জাগৃতি প্রকাশনী, মূল্য : ?
জায়গীরনামা : শেখ জলিলপ্রকাশক : শুদ্ধস্বর, মূল্য : ৮০ টাকা।
হোটেল বনলতা আবাসিক : ইশতিয়াক আহমেদ
প্রকাশক : বাংলা প্রকাশ, মূল্য : ?
১০ তরুণের প্রেমের গল্প
প্রকাশক : পালকি প্রকাশন, মূল্য : ?
স্বর্ণদেবতার অভিশাপ : তাহমিনা সানি
প্রকাশক : জাগৃতি প্রকাশনী, মূল্য : ?
হেকিম মুনশী ও তারা তিনজন : প্রিন্স আশরাফপ্রকাশক : জাগৃতি প্রকাশনী, মূল্য : ?
‘ফাগুন কিংবা মেঘসন্ধ্যা : জামাল উদ্দীন
প্রকাশক : ?, মূল্য : ?
পাওয়া যাবে : মেলা প্রকাশনীর স্টলে।
এই পোস্টকে বিজ্ঞাপন হিসেবেও ধরে নেওয়া যেতে পারে। এবারের একুশে বইমেলায় সামহোয়্যারইন ব্লগের অনেক ব্লগারেরই কবিতার বই বেরিয়েছে। বিক্রিবাট্টাও নিশ্চয়ই ভালোই হচ্ছে। নিচে সদ্যপ্রকাশিত ১০টি কবিতার বই এবং কবিতাবিষয়ক গদ্যের একটি বইয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হল। কোনো কোনো বইয়ের পরিচিতি অসম্পূর্ণ। আশা করি, গ্রন্থকাররা প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সরবরাহ করবেন।
চিরপুষ্প একাকী ফুটেছে : মুজিব মেহদী
প্রকাশক : অ্যাডর্ন (স্টল # ১৬১-১৬৩)। মূল্য : ৬০ টাকা
মগ্ন নৈরাজ্যের পদাবলী : আজহার ফরহাদ
প্রকাশক : ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ। মূল্য : ৮০ টাকা
হুইসেল বাজছে চোর পালাচ্ছে : মুয়ীয মাহফুজ
প্রকাশক : সুমন প্রবাহন স্মরণ প্রয়াস। মূল্য : ৭৫ টাকা।
পাওয়া যাবে : বইমেলার লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে, 'কালনেত্র' স্টলে।
পুষ্পপটে ব্রাত্য মিনতি : মুক্তি মণ্ডল
প্রকাশক : জোনাকরোড। মূল্য : ৪০ টাকা।
পাওয়া যাবে : লিটলম্যাগ চত্বর, নন্দন, মেঘ, ব্যাস, লোক এবং শব্দগুচ্ছের স্টলে।
এক জোছনায় তুমি ও আমি : সুলতানা শিরীন সাজি
প্রকাশক : জাগৃতি প্রকাশনী। মূল্য : ?
সূর্যের একচ্ছত্র অধিকার অস্তের পূর্বে : প্রণব আচার্য্য
প্রকাশক : ভাষাচিত্র । মূল্য : ৬০ টাকা।
অ-পরবের দিন : আফসানা কিশোয়ার
প্রকাশক : উৎস প্রকাশন। মূল্য : ?
অনুবাদ কবিতা : মূর্তালা রামাত
প্রকাশক : বাতিঘর। মূল্য : ?
জালছেঁড়া নদী : শহীদুল ইসলাম মুকুল
প্রকাশক: ভাষাচিত্র। মূল্য : ৮০ টাকা।
আত্মরতির খুন : সাঈদ জুবেরী
প্রকাশক : মাঞ্জাসুতা। মূল্য : ৮০ টাকা।
বিষাদের প্রখর বেলুনগুলো : নাজনীন খলিল
প্রকাশক : শুদ্ধস্বর
পাওয়া যাবে : বইমেলার ১৯৪ নম্বর স্টলে।
-
কবিতাবিষয়ক গদ্য
কবিতার বিভাসূত্র : ফকির ইলিয়াস
প্রকাশক : ভাষাচিত্র। মূল্য : ৮০ টাকা।
তথ্যঋণ : ব্লগার মেঘবাজির পোস্ট
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ekushey book fair, ekushey boi mela, boi mela, book fair, bangla, blog, বাংলা ব্লগ, bangladesh, dhaka, bangla blog, somewherein...blog, somewhereinblog, Fusion5, fusion five, ahmad mostafa kamal, book review, boier jagat, oporbastob, oporbastab, localtalk ;
প্রথম প্রকাশ
চিরপুষ্প একাকী ফুটেছে : মুজিব মেহদী
প্রকাশক : অ্যাডর্ন (স্টল # ১৬১-১৬৩)। মূল্য : ৬০ টাকা
মগ্ন নৈরাজ্যের পদাবলী : আজহার ফরহাদ
প্রকাশক : ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ। মূল্য : ৮০ টাকা
হুইসেল বাজছে চোর পালাচ্ছে : মুয়ীয মাহফুজপ্রকাশক : সুমন প্রবাহন স্মরণ প্রয়াস। মূল্য : ৭৫ টাকা।
পাওয়া যাবে : বইমেলার লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে, 'কালনেত্র' স্টলে।
পুষ্পপটে ব্রাত্য মিনতি : মুক্তি মণ্ডল
প্রকাশক : জোনাকরোড। মূল্য : ৪০ টাকা।
পাওয়া যাবে : লিটলম্যাগ চত্বর, নন্দন, মেঘ, ব্যাস, লোক এবং শব্দগুচ্ছের স্টলে।
এক জোছনায় তুমি ও আমি : সুলতানা শিরীন সাজি
প্রকাশক : জাগৃতি প্রকাশনী। মূল্য : ?
সূর্যের একচ্ছত্র অধিকার অস্তের পূর্বে : প্রণব আচার্য্য
প্রকাশক : ভাষাচিত্র । মূল্য : ৬০ টাকা।
অ-পরবের দিন : আফসানা কিশোয়ার
প্রকাশক : উৎস প্রকাশন। মূল্য : ?
অনুবাদ কবিতা : মূর্তালা রামাতপ্রকাশক : বাতিঘর। মূল্য : ?
জালছেঁড়া নদী : শহীদুল ইসলাম মুকুল
প্রকাশক: ভাষাচিত্র। মূল্য : ৮০ টাকা।
আত্মরতির খুন : সাঈদ জুবেরী
প্রকাশক : মাঞ্জাসুতা। মূল্য : ৮০ টাকা।
বিষাদের প্রখর বেলুনগুলো : নাজনীন খলিল
প্রকাশক : শুদ্ধস্বর
পাওয়া যাবে : বইমেলার ১৯৪ নম্বর স্টলে।
-কবিতাবিষয়ক গদ্য
কবিতার বিভাসূত্র : ফকির ইলিয়াস
প্রকাশক : ভাষাচিত্র। মূল্য : ৮০ টাকা।
তথ্যঋণ : ব্লগার মেঘবাজির পোস্ট
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ekushey book fair, ekushey boi mela, boi mela, book fair, bangla, blog, বাংলা ব্লগ, bangladesh, dhaka, bangla blog, somewherein...blog, somewhereinblog, Fusion5, fusion five, ahmad mostafa kamal, book review, boier jagat, oporbastob, oporbastab, localtalk ;
প্রথম প্রকাশ
গত রোববার সন্ধ্যায় একুশে বইমেলার নজরুল মঞ্চে 'অপরবাস্তব-৩ : সামহোয়্যারইন...ব্লগ গল্প সংকলন'-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়- এ খবর পুরনো। অনেকেই জানেন, অপরবাস্তব নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিতে একটি পর্ব প্রচারিত হয়েছে ওই দিনই। তবে হঠাৎ করে অনুষ্ঠানটি অন এয়ারে যাওয়ার অনেক ব্লগারই সেটি দেখার সুযোগ পাননি। আমাদের জানামতে, অনুষ্ঠানটি রেকর্ড করাও সম্ভব হয়নি কারো পক্ষে। এ অবস্থায় ব্লগার মুনশিয়ানা নিজের উদ্যোগে টিভি ফুটেজগুলো সংগ্রহ করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ইউটিউবে তিনি ভিডিওটি আপলোডও করে দিয়েছেন সানন্দে। তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।
অনুষ্ঠানে অপরবাস্তবের অফিসিয়াল মুখপাত্র হিসেবে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ব্লগার কৌশিক।
টিভি ফুটেজ দেখুন এখানে-
অনুষ্ঠানে অপরবাস্তবের অফিসিয়াল মুখপাত্র হিসেবে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ব্লগার কৌশিক।
টিভি ফুটেজ দেখুন এখানে-
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bangla, blog, বাংলা ব্লগ, bangladesh, dhaka, bangla blog, somewherein...blog, somewhereinblog, Fusion5, fusion five, book, oporbastob, oporbastab, localtalk ;
প্রথম প্রকাশ
মাহবুব মোর্শেদ আজকে আমাকে নিয়ে একটি গল্প লিখেছেন। তার গল্পটা আমার পছন্দ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কয়েকদিন আগে ঘটা একটা সত্য ঘটনার কথা বলি।
গত পরশু সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই আমাকে ফোন করলেন এক সুহৃদ। হাতেগোনা কয়েকজনের মধ্যে তিনি একজন, যিনি মোটামুটি অবগত ছিলেন আমি অপরবাস্তব-৩ সম্পাদনা করেছি। ফোন ধরতেই তিনি বললেন, "তুমি শেষমেশ আমাকে বোকা বানালে?" শুনে আমি অবাক। কী এমন ঘটল আবার! আমি বললাম, হঠাৎ এই কথা? সুহৃদ বললেন, অপরবাস্তব তুমি সম্পাদনা করো নাই। এটা করেছে তো আরেকজন, যার লোকালটক নিক ব্যান হয়েছিল। সে এখন (....) নিকে ব্লগায়, চিটাগাং কি কুমিল্লার ছেলে। কোন্ একটা পত্রিকার সাংবাদিক।
সুহৃদ যে নিকের কথা বলল, আমি ওই নিকটাকে প্রায়ই সামহোয়্যারে দেখি। কিন্তু ব্লগে কখনো তেমন করে কথাবার্তা হয়নি। তিনি ফেসবুকের কিছু কথোপকথনের টেক্সট আমার মেইলে ফরোয়ার্ড করলেন। তাতে অবাক হয়ে দেখলাম, "সম্পাদক" দাবি করে অপরবাস্তব বিষয়ে যিনি কথা বলছেন, ফেসবুক-সামহোয়্যারেও একই নিক তার, কিন্তু ওই লোক আমি নই। এটা দেখে আমার বেশ মন খারাপ হল। আমি চাইলে নিক ও মেইলের কথোপকথনগুলো প্রকাশ করতে পারি। কিন্তু অন্য দিক থেকে আমার মনে হল, অপরবাস্তব যেহেতু ব্লগারদের বই। প্রতিটি ব্লগারেরই এই বইয়ের ওপর অধিকার আছে। এবং ব্লগারমাত্রই নিজেকে অপরবাস্তবের সম্পাদক বা অপরবাস্তবের লোক দাবি করতেই পারেন। এই যুক্তিটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হল এবং আমার মনটা ভালো হয়ে গেল।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bangla, blog, বাংলা ব্লগ, bangladesh, dhaka, bangla blog, somewherein...blog, somewhereinblog, Fusion5, fusion five, book, oporbastob, oporbastab, localtalk ;
প্রথম প্রকাশ
গত পরশু সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই আমাকে ফোন করলেন এক সুহৃদ। হাতেগোনা কয়েকজনের মধ্যে তিনি একজন, যিনি মোটামুটি অবগত ছিলেন আমি অপরবাস্তব-৩ সম্পাদনা করেছি। ফোন ধরতেই তিনি বললেন, "তুমি শেষমেশ আমাকে বোকা বানালে?" শুনে আমি অবাক। কী এমন ঘটল আবার! আমি বললাম, হঠাৎ এই কথা? সুহৃদ বললেন, অপরবাস্তব তুমি সম্পাদনা করো নাই। এটা করেছে তো আরেকজন, যার লোকালটক নিক ব্যান হয়েছিল। সে এখন (....) নিকে ব্লগায়, চিটাগাং কি কুমিল্লার ছেলে। কোন্ একটা পত্রিকার সাংবাদিক।
সুহৃদ যে নিকের কথা বলল, আমি ওই নিকটাকে প্রায়ই সামহোয়্যারে দেখি। কিন্তু ব্লগে কখনো তেমন করে কথাবার্তা হয়নি। তিনি ফেসবুকের কিছু কথোপকথনের টেক্সট আমার মেইলে ফরোয়ার্ড করলেন। তাতে অবাক হয়ে দেখলাম, "সম্পাদক" দাবি করে অপরবাস্তব বিষয়ে যিনি কথা বলছেন, ফেসবুক-সামহোয়্যারেও একই নিক তার, কিন্তু ওই লোক আমি নই। এটা দেখে আমার বেশ মন খারাপ হল। আমি চাইলে নিক ও মেইলের কথোপকথনগুলো প্রকাশ করতে পারি। কিন্তু অন্য দিক থেকে আমার মনে হল, অপরবাস্তব যেহেতু ব্লগারদের বই। প্রতিটি ব্লগারেরই এই বইয়ের ওপর অধিকার আছে। এবং ব্লগারমাত্রই নিজেকে অপরবাস্তবের সম্পাদক বা অপরবাস্তবের লোক দাবি করতেই পারেন। এই যুক্তিটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হল এবং আমার মনটা ভালো হয়ে গেল।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bangla, blog, বাংলা ব্লগ, bangladesh, dhaka, bangla blog, somewherein...blog, somewhereinblog, Fusion5, fusion five, book, oporbastob, oporbastab, localtalk ;
প্রথম প্রকাশ
মুক্ত গণমাধ্যমের মুক্ত মতামত কেমন হতে পারে, সে ধারণা আমাদের অনেকেরই আছে। কিন্তু মুক্ত গণমাধ্যমের সাহিত্য - গল্প, কবিতা, উপন্যাস - তাও কি সম্ভব? সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ব্লগের নির্বাচিত লেখা নিয়ে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সংকলন ‘অপরবাস্তব’।
এবার সেরা লেখার মনোনয়ন দেখে আমাদের মনে হয়েছে, এক মলাটে সব ধরনের লেখা (ভ্রমণ, রম্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, স্মৃতিকথাসহ আরো নানা বিষয়) রাখতে গেলে প্রকাশনাটাকে 'বই' ভাবতে অস্বস্তি বোধ হয়। বইমেলার কথা মাথায় রাখলে বই-ই হতে হয়। সেক্ষেত্রে বইয়ের পুরোটাই করতে হয় সাহিত্যনির্ভর - হয় গল্প, নয়তো কবিতা। অতীত অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, এই দুটোর মিশেলও আবার পাঠকপ্রিয় হয় না। অনেকটা লিটলম্যাগের মতো হয়ে যায়। সবদিক ভেবে প্রতিবছরই ব্লগের নির্বাচিত লেখা নিয়ে বিষয়ভিত্তিক বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবার বিষয় হিসেবে নির্বাচন করা হয় - গল্প। এজন্য ব্লগারদের কাছ থেকে মনোনয়ন আহ্বান করা হয়েছিল গত বছরের নভেম্বরে। একমাসেরও বেশি সময় ধরে মনোনয়ন গ্রহণের পর নির্বাচিত গল্পগুলো ব্লগারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি নির্বাচক প্যানেলের কাছে পাঠানো হয়। তাঁরা একমাস ধরে যাচাই-বাছাই শেষে মোট ২২টি গল্প চূড়ান্ত করেন, যা স্থান পেয়েছে সংকলনে। এর বাইরেও বেশ কিছু ভালো গল্প থেকে গেছে, দুর্মূল্যের বাজারে কলেবর বৃদ্ধির শঙ্কায় যা আমরা বইয়ে স্থান দিতে পারিনি।
বলাবাহূল্য, এই সংকলনের গল্পকাররা ব্লগার, পাঠকরাও তেমনই, এমনকি পুরো এক বছরের গল্প থেকে যারা মনোনয়ন দিয়েছেন, সম্পাদনা যারা করেছেন, এমনকি যিনি প্রকাশক - সবার পরিচয় একটিই - ব্লগার।
সংকলনে নতুন-পুরনোর সমাবেশ ঘটেছে। প্রতিষ্ঠিত গল্পকারদের পাশাপাশি নবীন গল্পকারদেরও একইসঙ্গে আমরা উপস্থিত করেছি। এই গল্পকাররা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন সারা বিশ্বে। ব্লগে ছদ্মনাম ব্যবহারের রেওয়াজ থাকলেও বইয়ে গল্পকারদের প্রকৃত নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
গল্প সংকলনের পাশাপাশি কবিতা ও বিষয়ভিত্তিক আরো দুটি সংকলন প্রকাশের প্রবল আগ্রহ থাকলেও প্রকাশক না পাওয়ায় এবার তা সম্ভব হল না।
বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। বিক্রিলব্ধ সমুদয় অর্থ ব্লগের নানা উদ্যোগ, ক্যাম্পেইন, মানবিক কর্মকান্ড ইত্যাদিতে ব্যয় করা হবে। একুশে বইমেলার 'সংহতি' স্টলে (স্টল নম্বর ১৯২) বইটি পাওয়া যাবে আগামী দু একদিনের মধ্যে। প্রবাসী ব্লগাররা সংগ্রহ করতে পারবেন বইমেলা ডট কম থেকে। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে সদ্যপ্রয়াত ব্লগার মুহম্মদ জুবায়েরকে।
এবার সেরা লেখার মনোনয়ন দেখে আমাদের মনে হয়েছে, এক মলাটে সব ধরনের লেখা (ভ্রমণ, রম্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, স্মৃতিকথাসহ আরো নানা বিষয়) রাখতে গেলে প্রকাশনাটাকে 'বই' ভাবতে অস্বস্তি বোধ হয়। বইমেলার কথা মাথায় রাখলে বই-ই হতে হয়। সেক্ষেত্রে বইয়ের পুরোটাই করতে হয় সাহিত্যনির্ভর - হয় গল্প, নয়তো কবিতা। অতীত অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, এই দুটোর মিশেলও আবার পাঠকপ্রিয় হয় না। অনেকটা লিটলম্যাগের মতো হয়ে যায়। সবদিক ভেবে প্রতিবছরই ব্লগের নির্বাচিত লেখা নিয়ে বিষয়ভিত্তিক বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবার বিষয় হিসেবে নির্বাচন করা হয় - গল্প। এজন্য ব্লগারদের কাছ থেকে মনোনয়ন আহ্বান করা হয়েছিল গত বছরের নভেম্বরে। একমাসেরও বেশি সময় ধরে মনোনয়ন গ্রহণের পর নির্বাচিত গল্পগুলো ব্লগারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি নির্বাচক প্যানেলের কাছে পাঠানো হয়। তাঁরা একমাস ধরে যাচাই-বাছাই শেষে মোট ২২টি গল্প চূড়ান্ত করেন, যা স্থান পেয়েছে সংকলনে। এর বাইরেও বেশ কিছু ভালো গল্প থেকে গেছে, দুর্মূল্যের বাজারে কলেবর বৃদ্ধির শঙ্কায় যা আমরা বইয়ে স্থান দিতে পারিনি।
বলাবাহূল্য, এই সংকলনের গল্পকাররা ব্লগার, পাঠকরাও তেমনই, এমনকি পুরো এক বছরের গল্প থেকে যারা মনোনয়ন দিয়েছেন, সম্পাদনা যারা করেছেন, এমনকি যিনি প্রকাশক - সবার পরিচয় একটিই - ব্লগার।
সংকলনে নতুন-পুরনোর সমাবেশ ঘটেছে। প্রতিষ্ঠিত গল্পকারদের পাশাপাশি নবীন গল্পকারদেরও একইসঙ্গে আমরা উপস্থিত করেছি। এই গল্পকাররা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন সারা বিশ্বে। ব্লগে ছদ্মনাম ব্যবহারের রেওয়াজ থাকলেও বইয়ে গল্পকারদের প্রকৃত নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
গল্প সংকলনের পাশাপাশি কবিতা ও বিষয়ভিত্তিক আরো দুটি সংকলন প্রকাশের প্রবল আগ্রহ থাকলেও প্রকাশক না পাওয়ায় এবার তা সম্ভব হল না।
বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। বিক্রিলব্ধ সমুদয় অর্থ ব্লগের নানা উদ্যোগ, ক্যাম্পেইন, মানবিক কর্মকান্ড ইত্যাদিতে ব্যয় করা হবে। একুশে বইমেলার 'সংহতি' স্টলে (স্টল নম্বর ১৯২) বইটি পাওয়া যাবে আগামী দু একদিনের মধ্যে। প্রবাসী ব্লগাররা সংগ্রহ করতে পারবেন বইমেলা ডট কম থেকে। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে সদ্যপ্রয়াত ব্লগার মুহম্মদ জুবায়েরকে।






