ঢাকায় আজ শনিবার সকালের প্রতিবাদ ছিল পুরোপুরি ব্যতিক্রমধর্মী,
প্রতীকী। সন্দেহাতীত প্রমাণ ছাড়াই সৌদি আরবে ৮ বাংলাদেশীকে শিরচ্ছেদ করা
হয়েছে কয়েকদিন আগে। আরো পাঁচ বাংলাদেশীর মৃত্যুদন্ডও খুব শীঘ্রই একই
পদ্ধতিতে কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে। এই ঘৃণ্য অমানবিক বর্বরতার
বিরুদ্ধে এটা ছিল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি। না, এটা কোনো মিছিল ছিল
না, মানুষ ভাড়া করে মানববন্ধনও নয়, আটজন তুচ্ছ মানুষ নিজেদের শরীরে দড়ি
বেঁধে মাথা নিচু করে রাজপথে দাঁড়িয়ে ছিলেন কিছুক্ষণ। সৌদি আরবে আট
বাংলাদেশিকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে নির্মমভাবে হত্যার পূর্ব মুহূর্তে অসহায়
মানুষগুলো ঠিক যেভাবে হাঁটুতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, অবিকল সেভাবে।
ফুটেজ : যেভাবে হত্যা করা হয় আট বাংলাদেশিকে
ফুটেজ : যেভাবে হত্যা করা হয় আট বাংলাদেশিকে
অথচ দোষ ছিল না সেই আট বাংলাদেশির!
আগেই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে, সৌদি আরবে অভিযুক্ত আট বাংলাদেশি আত্মপক্ষ সমর্থনের সামান্যতম সুযোগও পাননি। এমনকি নিজেদের পক্ষে কোনো আইনি সহায়তাও তারা পাননি। বিচার হয়েছে শুধুমাত্র মৌখিক স্বীকারোক্তি আদায়ের মাধ্যমে। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই স্বীকারোক্তি কিভাবে আদায় করা হয়েছিল? যেখানে পুলিশ থেকে তথাকথিত আদালত - সবখানেই ভাষা কেবল আরবি, সেখানে আরবি না জানা কিংবা স্বল্প জানা আট বাংলাদেশি শ্রমিক স্বীকারোক্তিই বা কিভাবে দিলেন? তথাকথিত আদালতে শুনানিই বা কিভাবে হয়েছিল, যেখানে এমনকি অভিযুক্ত আট বাংলাদেশির পক্ষে কোনো আইনজীবিও ছিল না?
বিশ্বখ্যাত মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক তার চুরি করছিল অন্য একটি অজ্ঞাত গ্রুপ। সেখানে চাকরিরত আট বাংলাদেশি শ্রমিক চুরি নয়, বরং চোরদের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। এই দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির সময় মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মী মারা যান।
আট বাংলাদেশি কি তার চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন? না, সেরকম কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং এটাই অস্বাভাবিক যে, যে প্রতিষ্ঠানে আট বাংলাদেশি দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন, তারা কেন হঠাৎ চুরি করতে নামবেন?
আট বাংলাদেশি কি মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মী খুনের সঙ্গে জড়িত? সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, আট বাংলাদেশি নয়, চুরির কাজটা করতে গিয়েছিল অন্য একটি গ্রুপ। বাধা দিতে গিয়ে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় চোরদের। এই সময় মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মীটি নিহত হন।
প্রতিবাদের স্বর পৌঁছে গেছে সৌদি আরবেও
ঢাকায় আজকের প্রতীকী প্রতিবাদের পরপরই খবরটি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে সৌদি নিউজ টুডে। যার শিরোনাম ছিল - Members of 'Magic Movement' protest against beheading of eight Bangladeshis in Saudi Arabia. সৌদি জনগণ জানলো, বাংলাদেশিরা শুধুই তরবারির নিচে মাথা পেতে দিতে জানে না, প্রতিবাদও করতে জানে।ডেমোটিক্স
নিউ ইয়র্ক টাইমস, হাফিংটন পোস্টের মতো সংবাদমাধ্যম যার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, সেই ডেমোটিক্সও প্রতিবাদ সমাবেশটিকে দিয়েছে আলাদা গুরুত্ব।
ইয়াহু নিউজ
Mock execution scene...
সালেম রেডিও নিউজ নেটওয়ার্ক
বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে মার্কিনভিত্তিক এই নিউজ নেটওয়ার্ক।
চীনা সংবাদ সংস্থা DAUM
BANGLADESH SAUDI ARABIA PROTEST
প্রথম আলো
অভিনব কর্মসূচিতে বর্বতার প্রতিবাদ
ই-প্রথম আলো
অভিনব কর্মসূচিতে বর্বরতার প্রতিবাদ
সকালের খবর
ম্যাজিক মুভমেন্টের অবস্থান কর্মসূচি
এবিসি রেডিও
৮ বাংলাদেশীর শিরোশ্ছেদের ঘটনার প্রতিবাদ ম্যাজিক মুভমেন্টের
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস
Protesting against beheading of eight Bangladeshis
ডেইলি সান
NHRC to protest beheading in int'l forums
নিউ এইজ
Mock execution to protest at Saudi beheading of 8 Bangladeshis
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
'শিরোচ্ছেদের সময় এমনই অসহায় ছিলেন তারা'
বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর
শাহবাগে ৮ তরুণের শিরোশ্ছেদ!
বার্তা টোয়েন্টিফোর ডট নেট
৮ বাংলাদেশীর শিরশ্ছেদের নিন্দায় ব্লগারদের প্রতিবাদ
আমরা আছি এই ঠিকানায়
ম্যাজিক মুভমেন্ট
ফেসবুক গ্রুপ : কিক আউট সৌদি ডাইনেস্টি ফ্রম দ্য ল্যান্ড অফ ইসলাম

গত কিছুদিন ধরেই দেখছিলাম, একের পর অশ্লীল ভাষায় পোস্ট দিয়ে যাচ্ছে এক লোক। সাময়িক ব্যান-জেনারেল হলে অনেকেই রাগ-ক্ষোভ নিয়ে পোস্ট দেন, কিন্তু এই লোকের পোস্ট ছিল মাত্রাছাড়ানো, চরম অশ্লীল, ভব্যতার সীমা ছাড়ানো। আমি তখন দেখেছি, অনেক ব্লগারই তার পোস্টগুলোর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার বলছিলেন মন্তব্যে। পরে আর বিষয়টা খেয়াল করিনি। আজ হঠাৎ করে আরেকটা পোস্ট দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলাম বিস্ময়ে। ব্লগারদের অনেকেই বিব্রত হবেন, তবু অসভ্যতার মাত্রা বোঝানোর জন্য দুটো লাইন তুলে দিচ্ছি-
সেফ যখন করলি, এখন তোদের চিফ জানার সাথে একটু লিলা খেলা করতে চাই। যেন তার লিলা খেলার তৃপ্তিতে ভবিষ্যতে কেউ আর আমারে জেনারেল কারার সাহস না পায়।
সামহোয়্যারের মডারেশন নিয়ে আমার নিজের মধ্যেও নানা অস্বস্তি আছে। কোনোটা বলি, কোনোটা হয়তো বলি না। অনেকেই এ নিয়ে পোস্ট দেন প্রায়ই। রাগ-ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই। সেটা স্বাভাবিকই। ভালোবাসা যেখানে আছে, রাগ-অভিমানও সেখানে থাকবেই। কিন্তু এ কেমন ভাষা? বস্তিতে অনাদরে বড়ো হওয়া কিশোরদের মুখেও তো এইরকম কুৎসিত ভাষা দেখা যায় না। আর ব্লগ তো পতিতালয় নয় যে, মাতাল ট্রাক ড্রাইভার অশ্রাব্য গালি দিয়ে আসন গেড়ে বসবেন!
বিকৃত এই লোকটি কে?
পেশায় দেখা যাচ্ছে লোকটি 'এডভোকেট'। পুরো ব্লগ জুড়ে নিজেই নিজের সুনাম গাওয়া আর স্বমেহন ছাড়া কিছু নেই। তবু পুরনো পোস্ট ঘেঁটে দেখলাম -নাম তার শাহনুর ইসলাম সৈকত। এই সূত্রে আরেক জায়গায় পেলাম আরো পরিচয় - নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ হিউম্যান রাইটস। ওদিকে বাংলাদেশ সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেভেলপমেন্ট নামের একটি সংগঠনের একইসঙ্গে সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাহী পরিচালকও। শুধু তাই নয়, এই লোক আবার নিজেকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং ঢাকা বার এসোসিয়েশনের সদস্য বলেও দাবি করছেন। ওয়েবসাইটেই পাওয়া গেল ইমেইল : saikotbihr@gmail.com আর ওয়েবসাইট : http://www.bihr-bihr.blogspot.com। সেখানেই ফোন নম্বরও পেলাম একটা- 01720308080। এই বিশিষ্ট জাস্টিসমেকারের প্রোফাইল পাওয়া যাবে এখানেও। আসলে বেশি খোঁজ নেওয়ার দরকারও পড়ে না। যে লোকের ভাষা এইরকম কুৎসিত, সেই লোক যে সংগঠনের পরিচালক হোক আর পিয়ন হোক, তার মান কেমন হবে সেটা সহজেই অনুমেয়। এক পোস্টে এই লোকটিকেই দেখা যাচ্ছে ইভটিজিং নিয়ে বেশ ভাবিত, ব্লগারদের সাহায্য চাইছে, সেই লোকই আবার আরেক পোস্টে যৌন উন্মাদ ইভটিজারের ভূমিকায়। বাস্তব জীবনে এই লোকই হয়তো বউ পেটায় নিয়ম করে, হয়তো তার বাসার কাজের মেয়েটাই তার অবাধ যৌনাচারের শিকার হচ্ছে প্রতিদিন, এই লোকই হয়তো অফিসে নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানি করে, আবার সেমিনার ডেকে এই লোকই মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়। সমকামীদের নিয়েও তার আবার বিশেষ আগ্রহ।
মতলববাজির কাহিনী
সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বাকি সবগুলোরই মূল কাজ হল থানায় থানায় দালালি করা, মানুষকে সাতপাঁচ দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা, সংখ্যালঘু নির্যাতন-পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কাহিনী-টাহিনী সাজিয়ে বিদেশ ভ্রমণ। বেশ কিছু মানবাধিকার সংগঠন সরকারি ভূমি দখলের সঙ্গেও জড়িত। এই লোক তাদেরই প্রতিনিধি। তার মতলববাজির কাহিনীও দেখলাম তার নিজের ওয়েবসাইটেই। মজার ব্যাপার, মানবাধিকার সংগঠনের এই গুণধর নির্বাহী পরিচালক নিজের ওয়েবসাইটে নিজেই রোগী সেজে বসে আছেন! বাংলা-টাংলায় নয়, একেবারে দেওয়ানী ইংরেজিতে লিখে রাখা হয়েছে কুৎসিত এই লোকের কথিত নির্যাতনের কাহিনী। পড়লেই বোঝা যায় যে পুরো বানোয়াট। তাও নিজের সম্পর্কে নিজেরই 'ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট'। কেন ওটা ইংরেজিতে লেখা? বাংলাদেশে কি ইংরেজিভাষী লোকের প্রাচূর্য ঘটেছে? না, এটা হল বিদেশী মানবাধিকার মদনদের দৃষ্টি আকর্ষণের গ্রাম্য চেষ্টা। প্রবাসী ব্লগার যারা, তারা জানবেন হয়তো এইরকম কাহিনী সাজিয়ে লাভ হয় দুটি - প্রথমত মুফতে বিদেশ ভ্রমণের আমন্ত্রণ পাওয়া যায় সেমিনার-টেমিনারের অজুহাতে, দ্বিতীয়ত বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়।
কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ এই কুৎসিত লোকটির কুরুচিপূর্ণ পোস্টগুলো মুছবেন না, কোনো পোস্ট মোছা হয়ে থাকলে সেগুলোও ফিরিয়ে আনুন, অমানুষের উদাহরণ হিসেবে বরং লোকটা ব্লগে থাকুক!
সামহোয়্যারের মডারেশন নিয়ে আমার নিজের মধ্যেও নানা অস্বস্তি আছে। কোনোটা বলি, কোনোটা হয়তো বলি না। অনেকেই এ নিয়ে পোস্ট দেন প্রায়ই। রাগ-ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই। সেটা স্বাভাবিকই। ভালোবাসা যেখানে আছে, রাগ-অভিমানও সেখানে থাকবেই। কিন্তু এ কেমন ভাষা? বস্তিতে অনাদরে বড়ো হওয়া কিশোরদের মুখেও তো এইরকম কুৎসিত ভাষা দেখা যায় না। আর ব্লগ তো পতিতালয় নয় যে, মাতাল ট্রাক ড্রাইভার অশ্রাব্য গালি দিয়ে আসন গেড়ে বসবেন!
বিকৃত এই লোকটি কে?
পেশায় দেখা যাচ্ছে লোকটি 'এডভোকেট'। পুরো ব্লগ জুড়ে নিজেই নিজের সুনাম গাওয়া আর স্বমেহন ছাড়া কিছু নেই। তবু পুরনো পোস্ট ঘেঁটে দেখলাম -নাম তার শাহনুর ইসলাম সৈকত। এই সূত্রে আরেক জায়গায় পেলাম আরো পরিচয় - নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ হিউম্যান রাইটস। ওদিকে বাংলাদেশ সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেভেলপমেন্ট নামের একটি সংগঠনের একইসঙ্গে সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাহী পরিচালকও। শুধু তাই নয়, এই লোক আবার নিজেকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং ঢাকা বার এসোসিয়েশনের সদস্য বলেও দাবি করছেন। ওয়েবসাইটেই পাওয়া গেল ইমেইল : saikotbihr@gmail.com আর ওয়েবসাইট : http://www.bihr-bihr.blogspot.com। সেখানেই ফোন নম্বরও পেলাম একটা- 01720308080। এই বিশিষ্ট জাস্টিসমেকারের প্রোফাইল পাওয়া যাবে এখানেও। আসলে বেশি খোঁজ নেওয়ার দরকারও পড়ে না। যে লোকের ভাষা এইরকম কুৎসিত, সেই লোক যে সংগঠনের পরিচালক হোক আর পিয়ন হোক, তার মান কেমন হবে সেটা সহজেই অনুমেয়। এক পোস্টে এই লোকটিকেই দেখা যাচ্ছে ইভটিজিং নিয়ে বেশ ভাবিত, ব্লগারদের সাহায্য চাইছে, সেই লোকই আবার আরেক পোস্টে যৌন উন্মাদ ইভটিজারের ভূমিকায়। বাস্তব জীবনে এই লোকই হয়তো বউ পেটায় নিয়ম করে, হয়তো তার বাসার কাজের মেয়েটাই তার অবাধ যৌনাচারের শিকার হচ্ছে প্রতিদিন, এই লোকই হয়তো অফিসে নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানি করে, আবার সেমিনার ডেকে এই লোকই মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়। সমকামীদের নিয়েও তার আবার বিশেষ আগ্রহ।
মতলববাজির কাহিনী
সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বাকি সবগুলোরই মূল কাজ হল থানায় থানায় দালালি করা, মানুষকে সাতপাঁচ দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা, সংখ্যালঘু নির্যাতন-পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কাহিনী-টাহিনী সাজিয়ে বিদেশ ভ্রমণ। বেশ কিছু মানবাধিকার সংগঠন সরকারি ভূমি দখলের সঙ্গেও জড়িত। এই লোক তাদেরই প্রতিনিধি। তার মতলববাজির কাহিনীও দেখলাম তার নিজের ওয়েবসাইটেই। মজার ব্যাপার, মানবাধিকার সংগঠনের এই গুণধর নির্বাহী পরিচালক নিজের ওয়েবসাইটে নিজেই রোগী সেজে বসে আছেন! বাংলা-টাংলায় নয়, একেবারে দেওয়ানী ইংরেজিতে লিখে রাখা হয়েছে কুৎসিত এই লোকের কথিত নির্যাতনের কাহিনী। পড়লেই বোঝা যায় যে পুরো বানোয়াট। তাও নিজের সম্পর্কে নিজেরই 'ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট'। কেন ওটা ইংরেজিতে লেখা? বাংলাদেশে কি ইংরেজিভাষী লোকের প্রাচূর্য ঘটেছে? না, এটা হল বিদেশী মানবাধিকার মদনদের দৃষ্টি আকর্ষণের গ্রাম্য চেষ্টা। প্রবাসী ব্লগার যারা, তারা জানবেন হয়তো এইরকম কাহিনী সাজিয়ে লাভ হয় দুটি - প্রথমত মুফতে বিদেশ ভ্রমণের আমন্ত্রণ পাওয়া যায় সেমিনার-টেমিনারের অজুহাতে, দ্বিতীয়ত বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়।
কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ এই কুৎসিত লোকটির কুরুচিপূর্ণ পোস্টগুলো মুছবেন না, কোনো পোস্ট মোছা হয়ে থাকলে সেগুলোও ফিরিয়ে আনুন, অমানুষের উদাহরণ হিসেবে বরং লোকটা ব্লগে থাকুক!
প্রথম প্রকাশ
মোহাম্মদ সোয়েব, খেটে খাওয়া তরুণ, তার গ্ল্যামার নেই। দেশে আবার কাজও নেই, তাই তিনি বেরিয়ে পড়েছিলেন ভাগ্যের খোঁজে। মাসখানেক আগে দালালের প্রলোভনে ভুলে একদিন বঙ্গোপসাগরে অপেক্ষমাণ একটি নৌকায় উঠে বসেছিলেন মালয়েশিয়া যাওয়ার আশায়। ছিলেন না তিনি, সঙ্গে ছিল আরো চার শতাধিক মানুষ, আরো কটি নৌকায়। উত্তাল উপসাগরে নিয়ন্ত্রণহীন নৌকা ভেসে চলে লক্ষ্যহীন। একসময় ভাসতে ভাসতে থাইল্যান্ডের সমুদ্রসীমানায় ঢুকে পড়ে নৌকাগুলো। থাইল্যান্ড নৌবাহিনীর একটি জাহাজ নৌকাগুলো আটক করে মানুষগুলোকে নিয়ে যায় এক নির্জন দ্বীপের ক্যাম্পে। সেখানে ১৫ দিন ধরে নৌ ও সেনাসদস্যদের নির্যাতন চলে দিকভ্রান্ত মানুষগুলোর ওপর।
এরপর ছয়টি নৌকা রেখে দিয়ে ২৫ মিটার লম্বা একটি নৌকার মধ্যে সবাইকে গাদাগাদি করে উঠানো হয়, সঙ্গে দেওয়া হয় ৪০০ মানুষের জন্য একটি প্লাস্টিকের চাদর আর কিছু খাবার। তবে ইঞ্জিনটি খুলে নেওয়া হয় নৌকা থেকে। একটি থাই নৌজাহাজ প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে টেনে নিয়ে মাঝসমুদ্রে নৌকাটি ছেড়ে দেয়। সেই থেকে প্রায় দুই সপ্তাহ উদ্দেশ্যহীনভাবে সাগরে ভেসে বেড়ান চার শতাধিক বাংলাদেশী, রোহিঙ্গা শরণার্থীও ছিল কিছু। স্রোতের টানে এক সময় তারা ভাসতে ভাসতে চলে আসেন ভারতের সমুদ্রসীমানায়। আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি বাতিঘর দেখতে পেয়ে তারা ভেবেছিলেন উপকুলের কাছাকাছি এসে গেছেন। তাই প্রাণ বাঁচানোর জন্য তারা একে একে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। উপকুল রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে দ্রুত একটি হেলিকপ্টার ও চারটি জাহাজ নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নেমেছিল ভারতের নৌবাহিনী। ততোক্ষণে তিন শতাধিক ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষ চিরতরে বঙ্গোপসাগরের জলে হারিয়ে গেছেন।
গাজার মতো এও ছিল গণহত্যা। ঠান্ডা মাথার খুন! তবে এমন মর্মন্তুদ ঘটনায় বাংলাদেশে একটিও প্রতিবাদী মিছিল হয়নি, বিধবা সংবাদ পাঠিকাদের মুখে খবরটি গুরুত্ব পায়নি, ঘরকুনো প্রতিবেদকরাও এই ঘটনায় গ্ল্যামারের অভাব বোধ করেছেন। তবে মানুষ আছে! আলজাজিরা-বিবিসি সবিস্তারে ঘটনার বিবরণ প্রকাশ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় থাই প্রধানমন্ত্রী তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছেন। সিএনএনের প্রতিবেদক ঘটনাস্থল ঘুরে যে ক্লিপগুলো প্রকাশ করেছেন, দেখে চোখের জল পড়ে। ইন্দোনেশীয় টিভি চ্যানেল, অস্ট্রেলিয়ান চ্যানেলে একাধিক প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে এর মধ্যে। ভীতু বাঙালির বাইরেও দাঁড়ানোর মানুষ আছে!
ওপরের চারটি ভিডিও ক্লিপই সংগ্রহ করেছেন ব্লগার মাহবুব সুমন। 'আহা' 'উঁহু'র দরকার নেই (এইগুলার ুন মারি), অনুরোধ থাকবে, সম্ভব হলে সংবাদের ক্লিপগুলো দেখবেন। ইউটিউবের ভিডিও ডাউনলোড করা যাবে এখান থেকে।
কদিন আগেও তিনি ছিলেন দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক। একজন জামাত নেতার দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখে এবং গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তার হাতে নিগৃহীত হয়ে তিনি চাকরিটিও হারিয়েছেন। অবস্থা এমন যে, পরিবার-পরিজন নিয়ে তাকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে প্রতিরাতেই। মানসিক যন্ত্রণায় তিনি পা বাড়াতে চাইছেন আত্মহননের পথে । সেলিম জাহিদ নামে এই সাংবাদিকের জবানবন্দিটি পড়ুন-
"সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আত্মাহুতি দেব। পরে ভাবলাম সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি দেশবাসীকে জানানো উচিত। একটি দিনক্ষণও ঠিক করেছিলাম। পছন্দ করে এমন দু'জনকে সিদ্ধান্তের কথাটি জানালে একজন হাসলেন, অপরজন মুখ ফ্যাকাশে করলেন। প্রথমজন বললেন, সাংবাদিকরা আত্মাহুতির খবর লিখে, আর তুমি খবর হবে! দ্বিতীয়জন মন্তব্য করলেন, চরম অন্যায়ের শিকার হয়ে কোন মজলুমের মনে এমন নির্মম চিন্তা আসাটা অস্বাভাবিক নয়। তিনি হতাশ না হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে সংক মোকাবেলার পরামর্শ দিলেন।
প্রচন্ড মানসিক যন্ত্রণার ভেতরেও যখন অবসন্ন শরীরে বাসায় ফিরি, আমার একমাত্র সন্তানটি তখন এক গাল হৃদয়স্পর্শী হাসি দিয়ে এক অসাধারণ মমতায় আব্বু' শবইদট উচ্চারণ করে। এরপর বুকে জড়িয়ে নাকে মুখে ভালবাসার লালা ছড়ায়। ২০০৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের প্রথমার্ধে তার জন্ম। মানসিক যাতনায় দুঃসহ জীন নিয়ে আত্মাহুতির কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেও বিজয়ে জন্মা সন্তানের কাছে আমি শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হই। দ্বিগুণ মমতায় গড়ে তোলা মা-বাবা, আর ভাই-বোনদের কথা না হয় বাদই দিলাম।
প্রায় এক দশক ধরে প্রশ্নাতীত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দৈনিক আজকের কাগ (অধূনালপ্ত), ইনকিলাব, সমকাল ও যুগান্তর পত্রিকায় কাজ করেছি। সাংবাদিকতায় বিশেষ কৃতিত্বের জন্য ২০০৩ সালে মানিক মিয়া (ডিআরইউ) ও ২০০৫ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছি। শত্রুও আমার চারিত্রিক সততা নিয়ে কখনও প্রশ্ন তুলতে পারেনি। বর্তমান তত্ত্বাবধায় কৎসরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যুগপৎভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ করছে। সামান্য সংবাদকর্মী হিসেবে আমিও এর অংশীদার। কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে এখন আমার কর্ম ও জীবন দু'টোই বিপন্ন। কিন্তু কেন. সেটিই আজ আমার লেখার বিষয়।
দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমি সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে র্মরত ছিলাম। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কুমিল্লা-১০ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে আমার ব্যাংক জালিয়াতি ও তার কিছু আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ আসে। অভিযোগগুলো দীর্ঘ যাচাই বাচাইয়ের পর সাংবাদিকতার নিয়ম অনুসারে ০গ ৬ এপ্রিল ২০০৮ রেজাউল করিমের বক্তব্য জানার চেষ্টা করি। কিন্তু তিনি মোবাইল ফোনে বক্তব্য দিতে রাজি না হয়ে পরদিন আমাকে মতিঝিলে প্যাসেফিক হোটেলে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানান। কথা মতো আমি সেখানে যাই এবং রেজাউল করিম তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তাকে বিস্তারিত অবহিত করি। অভিযোগ শুনে প্রথমে তিনি অস্বীকার করেন। এক পর্যায়ে জালিয়াতি ও প্রতারণার তথ্য উপাত্ত তুলে ধরলে রেজাউল করিম অত্যন্ত কাতরকণ্ঠে বিষয়টি আপস মীমাংসার প্রস্তাব দেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর পল্টন থানা আমীর সিরাজুল হকও উপস্থিত ছিলেন।
আমি বিনয়ের সঙ্গে সমঝোতার ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করে রেজাউল করিমকে জানাই, এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওয়াকিবহাল। এ ব্যাপারে তার বাড়তি কিছু বলার থাকলে তিনি যেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমি ওইদিনই যথারীতি রিপোর্টটি রেজাউল করিম ও জামায়াতের ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বক্তব্যসহ জমা দেই এবং ৯ এপ্রিল তা যুগান্তরে প্রকাশিত হয়। রিপোর্টটি প্রকাশের আগে রেজাউল করিম কয়েকজন নেতৃস্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালান। সব চেষ্টা ব্যর্থ হবার পর গত ৭ ও ৮ এপ্রিল রাতে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার দু'জন পদস্থ কর্মকর্তা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করে ০১৯১৪১২৩৬১৮ ও ০১৫৫০১৫৩৬৪৯ নম্বর থেকে আমাকে রিপোর্ট প্রকাশের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন।
এদের একজন নিজেকে রেজাউল করিমের সমন্ধি বলে পরিচয় দেন। অপরজন আমার বিরুদ্ধে রেজাউলের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ তোলেন। আমি বিষয়টি তৎক্ষণাৎ যুগান্তরের উপ-সম্পাদক সাইফুল আলম ও চিপ রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম রতনকে জানাই। সব কিছু জেনে বুঝে যুগান্তর কর্তৃপক্ষ ৯ এপ্রিল রিপোর্টটি প্রকাশ করে। রিপোর্ট প্রকাশের পর উল্ল্যখিত ব্যক্তিরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে আমার স্বাভাবিক জীবন বিপন্ন করার নানামুখী চেষ্টা চালান।
৯ এপ্রিল রাতে (রিপোর্ট প্রকাশের দিন) অফিসে গিয়ে শুনতে পাই, রেজাউল করিমের পক্ষ নিয়ে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা যুগান্তরের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের কাছে আমার বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ করে আমাকে চাকরিচু্ত করতে বলেন। অভিযোগ শুনে চেয়ারম্যান পত্রিকার উপ-সম্পাদক ও চিফ রিপোর্টারকে তার সেনাকল্যাণ ভবনের অফিসে ডেকে পাঠান। তারা চেয়ারম্যানকে জানান, প্রকাশিত রিপোর্টটি আমি অনেক আগেই জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু রেজাউল করিমের বক্তব্য না থাকায় বার্তা সম্পাদক রিপোর্টটি রেখে দেন। সুতরাং রিপোর্ট আটকিয়ে চাঁদা চাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এমনকি বক্তব্য না জানতে গেলে রিপোর্টটি সম্পর্কে রেজাউল করিমের জানারই কথা না।
এ পর্যায়ে বিষয়টি বুঝতে পেরে চেয়ারম্যান রিপোর্টের প্রতিবাদ আসলে তা গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশের নির্দেশ দেন। সে রাতেই রেজাউল করিমের একটি প্রতিবাদ আসে। কোন রকম বিরোধ এড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষ আমার বক্তব্য ছাড়াই প্রতিবাদটি রিপোর্ট প্রকাশের ওই স্থানটিতেই ছাপেন। যদিও প্রতিবাদের সঙ্গে আমি আমার বক্তব্য দিয়েছিলাম। আমার বক্তব্য ছাড়াই প্রতিবাদিলপি প্রকাশ হবার পর সংশ্লিষ্টরা এটাকে দুর্বলতা মনে করে আমার জীবন বিপন্ন করার নানামুখী তৎপরতা চালাতে থাকেন। বাধ্য হয়ে আমি ১০ এপ্রিল-২০০৮ মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-৬৬৮) করি।
ওই রাতে (১০এপ্রিল) পত্রিকার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে জানান, সাধারণ ডায়েরির পর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আমার ওপর প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা আমার বিরুদ্ধে যুগান্তর কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার অপেক্ষায় আছেন। আমাকে জানানো হয়, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যুগান্তরকে এক ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নেন আমাকে বাধ্যতামূলক ছুটি দেবেন। অন্যদিকে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের অব্যাহতিদানের বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। উপ-সম্পাদক ও চিফ রিপোর্টার আমাকে সতর্কভাবে চলাফেলা এবং বাসায় না থাকার পরামর্শ দিয়ে তৎক্ষণাৎ অফিস তাগের নির্দেশ দেন। ওই রাতেই আমি নিরাপত্তাহীন অবস্থায় যুগান্তর ত্যাগ করি এবং পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যাই। সে থেকে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যদিয়ে আমার প্রতিটি দিন কাটে, রাত পোহায়। দশ বছরের চাকরি জীবনে প্রথমবারের মতো জীবন ও পেশাগত অনিশ্চয়তায় পড়ি। এই মানসিক যন্ত্রণার ভেতরেই যুগান্তর কর্তৃপক্ষ আমার ঢাকা ও গ্রামের ঠিকানায় দু'টি চিঠি পাঠান। ঢাকার ঠিকানায় পাওয়া চিঠির খাম খুলেই দেখতে পাই - বিষয় অব্যাহতি'। তিন লাইনের ওই অব্যাহতিপত্রে আমাকে লেখা হয়- আপনাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো। এই নির্দেশ ১৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। আপনার পাওনার ব্যাপারে হিসাব বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।' অব্যাহতিপত্র হাতে পেয়ে অমানিশার ঘোর অন্ধকার নেমে আসে আমার অন্তরাত্মায়। দু'চোখ ঘোলা হয়ে আসে। মনের অজান্তেই ঝরে পড়ে নোনা পানি।
দু'দিন পর গ্রাম থেকে আমার বাবা মোবাইল ফোনে জানান, ডাকযোগে যুগান্তর থেকে রেজিস্ট্রিকৃত একটি চিঠি এসেছে- তা তিনি গ্রহণ করবেন কিনা। লজ্জায় শঙ্কায় কিংকর্তব্যবিমুঢ হয়ে বাবাকে জানাই, ওই চিঠির একটি কপি আমিও পেয়েছি। এটি তার গ্রহণ করার দরকার নেই। আমার ওপর বয়ে যাওয়া ঝড়ের ঘটনাটি বড় ভাই ছাড়া বাবা-মাকে জানাইনি। কারণ এ ঘটনায় নিশ্চয়ই আরও ব্যথিত হতেন বাবা মা। দুশ্চিন্তায় ভারাক্রান্ত হয়ে রোগের উৎপীড়ন আরও বেড়ে যেত। আমার মা একজন ডায়াবেটিস রোগী। তার ডায়াবেটিসের মাত্রা ১৭ থেকে ২০এ ওঠানামা করছে। দিনে দুই বেলা লেনটাস ইন্সু্লিন নিতে হয় তাকে। ছেলের দুশ্চিন্তায় মা'র িবপন্নতা রোধেই এই গোপনীয়তার চেষ্টা।
আমি জানি না, আমার অপরাধটি কি। আমার চাকরিচু্তির আজ প্রায় দু' মাস। আমি নিশ্চিত, কোন গোয়েন্দা সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক চাপে আমার চাকরিচুতি হয়নি। আমি কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অদৃশ্য আক্রোশের শিকার। বিষয়টি আমি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ, সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদসহ বিভিন্ন সংস্থা এবং দেশের গণমাধ্যমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের অবহিত করেছি। অবহিত করেছি দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট সম্পাদককে। যারা এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে সাহস যুগিয়েছেন। আমি লিখিতভাবে ঘটানাটি জানিয়েছি পেশাজীবী সংবাদকর্মীদের নিখাঁদ সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, জাতীয় প্রেসক্লাব, দুইভাগে বিভক্ত বিএফইউজে ও ডিইউজে'র সভাপতি মহাসচিবকে।
আমার এই ঘটনায় সংবাদপত্রশিল্পের অভিভাবকদের অনেককে আহত করেছে। কিন্তু এখনও অবসান হয়নি আমার জীবনের বিপন্নতার, কর্মের অনিশ্চয়তার"
প্রথম প্রকাশ
"সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আত্মাহুতি দেব। পরে ভাবলাম সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি দেশবাসীকে জানানো উচিত। একটি দিনক্ষণও ঠিক করেছিলাম। পছন্দ করে এমন দু'জনকে সিদ্ধান্তের কথাটি জানালে একজন হাসলেন, অপরজন মুখ ফ্যাকাশে করলেন। প্রথমজন বললেন, সাংবাদিকরা আত্মাহুতির খবর লিখে, আর তুমি খবর হবে! দ্বিতীয়জন মন্তব্য করলেন, চরম অন্যায়ের শিকার হয়ে কোন মজলুমের মনে এমন নির্মম চিন্তা আসাটা অস্বাভাবিক নয়। তিনি হতাশ না হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে সংক মোকাবেলার পরামর্শ দিলেন।
প্রচন্ড মানসিক যন্ত্রণার ভেতরেও যখন অবসন্ন শরীরে বাসায় ফিরি, আমার একমাত্র সন্তানটি তখন এক গাল হৃদয়স্পর্শী হাসি দিয়ে এক অসাধারণ মমতায় আব্বু' শবইদট উচ্চারণ করে। এরপর বুকে জড়িয়ে নাকে মুখে ভালবাসার লালা ছড়ায়। ২০০৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের প্রথমার্ধে তার জন্ম। মানসিক যাতনায় দুঃসহ জীন নিয়ে আত্মাহুতির কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেও বিজয়ে জন্মা সন্তানের কাছে আমি শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হই। দ্বিগুণ মমতায় গড়ে তোলা মা-বাবা, আর ভাই-বোনদের কথা না হয় বাদই দিলাম।
প্রায় এক দশক ধরে প্রশ্নাতীত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দৈনিক আজকের কাগ (অধূনালপ্ত), ইনকিলাব, সমকাল ও যুগান্তর পত্রিকায় কাজ করেছি। সাংবাদিকতায় বিশেষ কৃতিত্বের জন্য ২০০৩ সালে মানিক মিয়া (ডিআরইউ) ও ২০০৫ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছি। শত্রুও আমার চারিত্রিক সততা নিয়ে কখনও প্রশ্ন তুলতে পারেনি। বর্তমান তত্ত্বাবধায় কৎসরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যুগপৎভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ করছে। সামান্য সংবাদকর্মী হিসেবে আমিও এর অংশীদার। কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে এখন আমার কর্ম ও জীবন দু'টোই বিপন্ন। কিন্তু কেন. সেটিই আজ আমার লেখার বিষয়।
দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমি সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে র্মরত ছিলাম। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কুমিল্লা-১০ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে আমার ব্যাংক জালিয়াতি ও তার কিছু আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ আসে। অভিযোগগুলো দীর্ঘ যাচাই বাচাইয়ের পর সাংবাদিকতার নিয়ম অনুসারে ০গ ৬ এপ্রিল ২০০৮ রেজাউল করিমের বক্তব্য জানার চেষ্টা করি। কিন্তু তিনি মোবাইল ফোনে বক্তব্য দিতে রাজি না হয়ে পরদিন আমাকে মতিঝিলে প্যাসেফিক হোটেলে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানান। কথা মতো আমি সেখানে যাই এবং রেজাউল করিম তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তাকে বিস্তারিত অবহিত করি। অভিযোগ শুনে প্রথমে তিনি অস্বীকার করেন। এক পর্যায়ে জালিয়াতি ও প্রতারণার তথ্য উপাত্ত তুলে ধরলে রেজাউল করিম অত্যন্ত কাতরকণ্ঠে বিষয়টি আপস মীমাংসার প্রস্তাব দেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর পল্টন থানা আমীর সিরাজুল হকও উপস্থিত ছিলেন।
আমি বিনয়ের সঙ্গে সমঝোতার ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করে রেজাউল করিমকে জানাই, এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওয়াকিবহাল। এ ব্যাপারে তার বাড়তি কিছু বলার থাকলে তিনি যেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমি ওইদিনই যথারীতি রিপোর্টটি রেজাউল করিম ও জামায়াতের ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বক্তব্যসহ জমা দেই এবং ৯ এপ্রিল তা যুগান্তরে প্রকাশিত হয়। রিপোর্টটি প্রকাশের আগে রেজাউল করিম কয়েকজন নেতৃস্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালান। সব চেষ্টা ব্যর্থ হবার পর গত ৭ ও ৮ এপ্রিল রাতে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার দু'জন পদস্থ কর্মকর্তা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করে ০১৯১৪১২৩৬১৮ ও ০১৫৫০১৫৩৬৪৯ নম্বর থেকে আমাকে রিপোর্ট প্রকাশের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন।
এদের একজন নিজেকে রেজাউল করিমের সমন্ধি বলে পরিচয় দেন। অপরজন আমার বিরুদ্ধে রেজাউলের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ তোলেন। আমি বিষয়টি তৎক্ষণাৎ যুগান্তরের উপ-সম্পাদক সাইফুল আলম ও চিপ রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম রতনকে জানাই। সব কিছু জেনে বুঝে যুগান্তর কর্তৃপক্ষ ৯ এপ্রিল রিপোর্টটি প্রকাশ করে। রিপোর্ট প্রকাশের পর উল্ল্যখিত ব্যক্তিরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে আমার স্বাভাবিক জীবন বিপন্ন করার নানামুখী চেষ্টা চালান।
৯ এপ্রিল রাতে (রিপোর্ট প্রকাশের দিন) অফিসে গিয়ে শুনতে পাই, রেজাউল করিমের পক্ষ নিয়ে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা যুগান্তরের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের কাছে আমার বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ করে আমাকে চাকরিচু্ত করতে বলেন। অভিযোগ শুনে চেয়ারম্যান পত্রিকার উপ-সম্পাদক ও চিফ রিপোর্টারকে তার সেনাকল্যাণ ভবনের অফিসে ডেকে পাঠান। তারা চেয়ারম্যানকে জানান, প্রকাশিত রিপোর্টটি আমি অনেক আগেই জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু রেজাউল করিমের বক্তব্য না থাকায় বার্তা সম্পাদক রিপোর্টটি রেখে দেন। সুতরাং রিপোর্ট আটকিয়ে চাঁদা চাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এমনকি বক্তব্য না জানতে গেলে রিপোর্টটি সম্পর্কে রেজাউল করিমের জানারই কথা না।
এ পর্যায়ে বিষয়টি বুঝতে পেরে চেয়ারম্যান রিপোর্টের প্রতিবাদ আসলে তা গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশের নির্দেশ দেন। সে রাতেই রেজাউল করিমের একটি প্রতিবাদ আসে। কোন রকম বিরোধ এড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষ আমার বক্তব্য ছাড়াই প্রতিবাদটি রিপোর্ট প্রকাশের ওই স্থানটিতেই ছাপেন। যদিও প্রতিবাদের সঙ্গে আমি আমার বক্তব্য দিয়েছিলাম। আমার বক্তব্য ছাড়াই প্রতিবাদিলপি প্রকাশ হবার পর সংশ্লিষ্টরা এটাকে দুর্বলতা মনে করে আমার জীবন বিপন্ন করার নানামুখী তৎপরতা চালাতে থাকেন। বাধ্য হয়ে আমি ১০ এপ্রিল-২০০৮ মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-৬৬৮) করি।
ওই রাতে (১০এপ্রিল) পত্রিকার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে জানান, সাধারণ ডায়েরির পর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আমার ওপর প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা আমার বিরুদ্ধে যুগান্তর কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার অপেক্ষায় আছেন। আমাকে জানানো হয়, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যুগান্তরকে এক ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নেন আমাকে বাধ্যতামূলক ছুটি দেবেন। অন্যদিকে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের অব্যাহতিদানের বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। উপ-সম্পাদক ও চিফ রিপোর্টার আমাকে সতর্কভাবে চলাফেলা এবং বাসায় না থাকার পরামর্শ দিয়ে তৎক্ষণাৎ অফিস তাগের নির্দেশ দেন। ওই রাতেই আমি নিরাপত্তাহীন অবস্থায় যুগান্তর ত্যাগ করি এবং পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যাই। সে থেকে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যদিয়ে আমার প্রতিটি দিন কাটে, রাত পোহায়। দশ বছরের চাকরি জীবনে প্রথমবারের মতো জীবন ও পেশাগত অনিশ্চয়তায় পড়ি। এই মানসিক যন্ত্রণার ভেতরেই যুগান্তর কর্তৃপক্ষ আমার ঢাকা ও গ্রামের ঠিকানায় দু'টি চিঠি পাঠান। ঢাকার ঠিকানায় পাওয়া চিঠির খাম খুলেই দেখতে পাই - বিষয় অব্যাহতি'। তিন লাইনের ওই অব্যাহতিপত্রে আমাকে লেখা হয়- আপনাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো। এই নির্দেশ ১৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। আপনার পাওনার ব্যাপারে হিসাব বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।' অব্যাহতিপত্র হাতে পেয়ে অমানিশার ঘোর অন্ধকার নেমে আসে আমার অন্তরাত্মায়। দু'চোখ ঘোলা হয়ে আসে। মনের অজান্তেই ঝরে পড়ে নোনা পানি।
দু'দিন পর গ্রাম থেকে আমার বাবা মোবাইল ফোনে জানান, ডাকযোগে যুগান্তর থেকে রেজিস্ট্রিকৃত একটি চিঠি এসেছে- তা তিনি গ্রহণ করবেন কিনা। লজ্জায় শঙ্কায় কিংকর্তব্যবিমুঢ হয়ে বাবাকে জানাই, ওই চিঠির একটি কপি আমিও পেয়েছি। এটি তার গ্রহণ করার দরকার নেই। আমার ওপর বয়ে যাওয়া ঝড়ের ঘটনাটি বড় ভাই ছাড়া বাবা-মাকে জানাইনি। কারণ এ ঘটনায় নিশ্চয়ই আরও ব্যথিত হতেন বাবা মা। দুশ্চিন্তায় ভারাক্রান্ত হয়ে রোগের উৎপীড়ন আরও বেড়ে যেত। আমার মা একজন ডায়াবেটিস রোগী। তার ডায়াবেটিসের মাত্রা ১৭ থেকে ২০এ ওঠানামা করছে। দিনে দুই বেলা লেনটাস ইন্সু্লিন নিতে হয় তাকে। ছেলের দুশ্চিন্তায় মা'র িবপন্নতা রোধেই এই গোপনীয়তার চেষ্টা।
আমি জানি না, আমার অপরাধটি কি। আমার চাকরিচু্তির আজ প্রায় দু' মাস। আমি নিশ্চিত, কোন গোয়েন্দা সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক চাপে আমার চাকরিচুতি হয়নি। আমি কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অদৃশ্য আক্রোশের শিকার। বিষয়টি আমি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ, সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদসহ বিভিন্ন সংস্থা এবং দেশের গণমাধ্যমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের অবহিত করেছি। অবহিত করেছি দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট সম্পাদককে। যারা এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে সাহস যুগিয়েছেন। আমি লিখিতভাবে ঘটানাটি জানিয়েছি পেশাজীবী সংবাদকর্মীদের নিখাঁদ সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, জাতীয় প্রেসক্লাব, দুইভাগে বিভক্ত বিএফইউজে ও ডিইউজে'র সভাপতি মহাসচিবকে।
আমার এই ঘটনায় সংবাদপত্রশিল্পের অভিভাবকদের অনেককে আহত করেছে। কিন্তু এখনও অবসান হয়নি আমার জীবনের বিপন্নতার, কর্মের অনিশ্চয়তার"
প্রথম প্রকাশ


