মধ্যরাত। দরজায় ঠকঠক শব্দ। ওপাশে টের পাওয়া যায় কালো পোশাকের কিছু মানুষের
আনাগোনা । দরজা খুলতেই হড়হড় করে ঢুকে পড়ে একপাল র্যাব। কয়েকজোড়া আতঙ্কিত
চোখের সামনে দ্রুতই ঘরের কোণে আসন গাড়া কম্পিউটার মনিটরটা চালু হয়।
মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের লাইসেন্স আছে কিনা - সেটা নিশ্চিত হতে সশস্ত্র র্যাবের
খুব বেশি সময় লাগে না। অতঃপর কলেজপড়ুয়া ছেলেটার হাত দুটো প্রার্থনার
ভঙ্গিতে এক হয় স্টেইনলেস স্টিল হাতকড়ার বন্ধনে।
এমন দৃশ্য ঠিক এই মুহূর্তে হাস্যকর মনে হতে পারে। কিন্তু নিশ্চিত করে বলতে পারি, এই দৃশ্য খুব শীঘ্রই দেখা যাবে এই বাংলাদেশে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা কিংবা রাজশাহীই শুধু নয়, কিম্ভূত এক চুক্তির জাল থেকে রেহাই পাবে না বাংলাদেশের কোনো কম্পিউটার ব্যবহারকারীই।
টিফা থেকে টিইসিএফ
এর আগে বহু চেষ্টার পরও গণমানুষের বিক্ষোভের মুখে সরকার টিফা চুক্তি করতে পারেনি। ধুরন্ধর সরকার সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে আবার সেই একই চুক্তির পসরা নিয়ে ওয়াশিংটন-ঢাকা আসা-যাওয়া শুরু করেছে। চুক্তির নামটিও প্রস্তাব করেছে সরকার নিজেই। মার্কিন সরকার নামটা টিফাই রাখতে চেয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশের ধূর্ত আমলারা একটু বদলে নাম দিয়েছে 'টিইসিএফ'। একটু নতুন মোড়কে সেই একই মালমসলা। চুক্তির সবকিছুই আসলে শেষপর্যায়ে। সরকার পক্ষে যারা এই চুক্তির সঙ্গে জড়িত, তারা বিষয়টা নিয়ে লুকোচুরি করতে চাইছে, যেন এ নিয়ে কোনো বাদ-প্রতিবাদ না হয়। অর্থ, বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েই এখন সামান্য আটকে আছে চুক্তির সবকিছু চূড়ান্ত হওয়াটা। সেটাও এখন শ্রেফ সময়ের ব্যাপার। কারণ খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে এই চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান সম্ভাব্য চুক্তিটির অগ্রগতি হচ্ছে না কেন, জানতে চেয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খানের কাছে সম্প্রতি একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি বারবার আলোচনা ভেঙে গেলে পারস্পরিক অনাস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই অর্থ উপদেষ্টা যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিযুক্ত ভৃত্য! আর এই যে অর্থমন্ত্রী কিংবা বাণিজ্যমন্ত্রী তাদের কথোপকথনের শেষাংশে 'অবশ্যই দেশের স্বার্থ রক্ষা হবে' বলে যে বাণীটি উচ্চারণ করছেন নিয়ম করে, সেটাও ওই কথার কথাই। রাজনৈতিক বুলি মাত্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারলেই আমাদের বাণিজ্য সচিবের খুশিতে ডগমগ করার কথা। দেশের স্বার্থের কথা চিন্তা করার সময় কোথায় তার? বরং খোঁজ নিলে হয়তো দেখা যাবে, এই চুক্তির বিনিময়ে অবসরে যাওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যপুষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে এসেছেন।
চুক্তিটা যে কারণে স্পর্শকাতর
টিইসিএফ চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান বিষয় হল মেধাস্বত্ব আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাছ থেকে কিছু ছাড় ও সুবিধা পেয়ে আসছিল। এর একটি হল ২০১৩ সালের ১ জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশকে কপিরাইট, ট্রেডমার্ক, পেটেন্টসহ অন্য কোনো মেধাস্বত্ব বিধি প্রয়োগ করতে হবে না। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির যেটুকু প্রসার হয়েছে, তা মূলত এই সুবিধার কারণেই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত টিইসিএফ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়া মাত্রই বাংলাদেশে মেধাস্বত্ত্ব বিধি কার্যকর হয়ে যাবে। তাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার হয়ে উঠবে অকল্পনীয়ভাবে ব্যয়বহুল। কম্পিউটারে ব্যবহৃত প্রতিটি সফটওয়্যারেরই লাইসেন্স নিতে হবে চড়া মূল্যে। শুধু তাই নয়, কৃষিসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব সম্ভাবনাময় খাত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কারণ ট্রেড রিলেটেড আসপেক্টস অব ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটসের (ট্রিপস) নামে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা ক্ষেত্রে নানা স্বত্ব তৈরি করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। আবার তথ্যপ্রযুক্তিই শুধু নয়, দেশের সম্ভাবনাময় ওষুধশিল্পও এই চুক্তির অনলে পুড়বে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ওষুধের ক্ষেত্রে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেটেন্টের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বাংলাদেশের ওপর। টিইসিএফ চুক্তি হলে সেটা অকার্যকর হয়ে পড়বে। তাতে ওষুধ উৎপাদনকারী অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। ওষুধের দামও অনেকগুণ বেড়ে যাবে।
দেশবিরোধী চুক্তিতে সরকারের কেন এতো আগ্রহ
এটা কারও অজানা নয় যে, ইউনূস ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটা শীতল সম্পর্ক যাচ্ছে এই সরকারের। এর জের হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন পার্শ্ববর্তী ভারত সফরে এলে ঘন্টাখানেকের জন্যও তাকে বাংলাদেশের আনতে রাজি করাতে পারছে না সরকার, এমনকি মার্কিন প্রশাসনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েও। ফলে সরকার এখন যে কোনো মূল্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ হতে চাইছে। সরকারের অসহায়ত্ব বুঝে যুক্তরাষ্ট্রও এই ফাঁকে চুক্তিটা করিয়ে নিতে চায়। মার্কিন-ভক্ত প্রমাণের জন্য সরকার এখন বাংলাদেশের মানুষের পশ্চাৎদেশটা মেরে মার্কিনীদের স্বার্থ রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
সামনে তাহলে কী ঘটতে যাচ্ছে?
বিজয় সফটওয়্যারের মেধাস্বত্ত্ব নিয়ে এক মোস্তফা জব্বারের অশ্লীল বিলাপ ছাড়া বাংলাদেশে সেভাবে আর কিছু দেখা যায় না। কিন্তু টিইসিএফ চুক্তির মূল বিষয় যেহেতু মেধাস্বত্ত্বের পূর্ণ বাস্তবায়ন, সে কারণে দরিদ্র দেশ বাংলাদেশ আর তার প্রতিটি কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে এই মেধাস্বত্ত্বের ধকল পোহাতেই হবে। সবদিক থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার হয়ে দাঁড়াবে চরম ব্যয়বহুল। আগামী বছর থেকেই হয়তো একটা কম্পিউটারের সঙ্গে লক্ষাধিক টাকার সফটওয়্যার কিনতে হবে। ওয়ার্ড-এক্সেল মিলিয়ে মাইক্রোসফট অফিসটা কিনতে গেলে আপনাকে গুণতে হবে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। আরেকটু কম সুবিধাসম্পন্ন প্যাকেজ কিনতে হলে কমপক্ষে ২০ হাজার। কেবল এডবি ফটোশপেরই সর্বশেষ সংস্করণের দাম পড়বে মাত্র ৫১ হাজার টাকা। এর চেয়েও ভয়ংকর বিষয় হল, চুক্তি হলে এমন এমন সব জিনিস তখন কপিরাইট আইনের আওতায় চলে আসবে, যা ঠিক এই মুহূর্তে ভাবাটাও খুবই কঠিন। বিধি কার্যকর হলে সেটা বাস্তবায়নের ব্যাপারটাও আসে। কাজেই এটা খুব স্বাভাবিক যে, মার্কিন সরকারের আয়োজনে মাইক্রোসফট-এডবির অর্থায়নে খুব শীঘ্রই RAB-পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটদের পাইরেটেড সফটওয়্যার শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অনুদান দেওয়া হবে থানাগুলোতে। সরকারের চাঁইদের পকেটটা ফুলিয়ে দেওয়া হবে ডলারে ডলারে। প্রাপ্তির তুলনায় এই বিনিয়োগ সামান্যই হবে বলতে গেলে।
দেশি-বিদেশি শকুনদের টার্গেট কারা
বিটিআরসির তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এখন প্রায় এক কোটি। ২০১৪ সালে সেটা আড়াই কোটিতে গিয়ে দাঁড়াবে। পরিসংখ্যান না থাকলেও সবমিলিয়ে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখনই অন্তত দুই কোটি হবে। এদের বেশিরভাগই তরুণ। এই তরুণরাই এখন মার্কিন বাণিজ্য শকুনদের টার্গেট।
পকেটে টাকা নেই, দু বেলা খাওয়ার পয়সা নেই, চাকরির সুযোগ নেই, তবু উপায়হীন তরুণরা কম্পিউটারটা শিখছিল খেয়ে না খেয়েই। ৩০ হাজার টাকা দিয়ে যদি তাদের মাইক্রোসফট অফিসটা কিনতে হতো, তাহলে গরিব এই দেশে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা হতো হাতেগোনা। যে ছেলেটা এই ঢাকায় মাসের শেষে মেস ভাড়াটা ঠিকমতো দিতে পারে না, শীঘ্রই তাকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের লাইসেন্স কিনতে হবে। দিনরাত জেগে অমানুষিক পরিশ্রম দিয়ে বাংলাদেশের তরুণরা আউটসোর্সিংয়ের কাজে নেমেছিল। সেখান থেকে মেসে থাকা তরুণের ইন্টারনেট বিলটা আসছিল, কেউবা আয় করছিলেন দু পয়সা। হঠাৎ করেই সেদিকে নজর পড়ল সরকারের। তড়িঘড়ি ট্যাক্স বসিয়ে দেওয়া হল তার ওপর। এখন শুধু ট্যাক্স নয়, পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া হবে তাদের পেছনে।
সুতরাং!
অপেক্ষায় থাকুন, আগামী মাসেই মার্কিন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসছে, সরকারও প্রস্তুত - মাত্রই শৈশব-উত্তীর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি অঙ্গনকে বলাৎকার করার সব আয়োজন মোটামুটি সম্পন্ন। বাদ-প্রতিবাদ নয়, সম্ভব যদি হতো নিজ হাতে কয়েকটা খুন করে ফেরার হতাম নিশ্চিত!
আমেরিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া - বিমানবন্দরে শরীর স্ক্যান করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ অনেকেই। অনেকের জন্যই এ এক নিদারুণ বিড়ম্বনার নাম। আবার অন্যের নগ্ন ছবি দেখা কিংবা ফাঁকতালে একটু খোলামেলা ছবি উঠিয়ে নেওয়ার মতো উৎসাহী লোকেরও অভাব নেই। এই ধারায় অ্যাপল বিশাল এক 'সুবিধা' নিয়ে এসেছে তাদের আইফোনে। ন্যুড ইট নামের এক সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিশেষ কিছু নিয়ম অনুসরণ করে যে কারো নগ্ন ছবি তোলা যাবে। কিছুদিন আগে তারা আইফোনভিত্তিক এই সফটওয়্যারকে প্রয়োজনীয় অনুমোদনও দিয়েছে। অ্যাপলের আইটিউন স্টোর থেকে সফটওয়্যারটি এখনই ডাউনলোডও করা যাচ্ছে। সফটওয়্যারটির কার্যধারা অনুযায়ী যেখান-সেখান থেকে যখন-তখন ছবি তুললে 'কাঙ্ক্ষিত জিনিস' পাওয়া যাবে না। সফটওয়্যারের প্রণেতারা বলছেন, নগ্ন ছবি পেতে হলে ছবি তুলতে হবে অবশ্যই সাড়ে ছয় ফুট দূরত্ব থেকে এবং যথারীতি আইফোন ব্যবহার করে। ছবি তোলার পর সফটওয়্যারই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্যান করে পোশাক বাদ দিয়ে দেবে। তবে এই পর্যায়ে এখনই আনন্দে আটখানা হওয়া ঠিক হবে না। পাপিষ্ঠ জালেম প্রোগ্রামাররা ছবি থেকে পোশাক বাদ দেওয়ার সহজ সুযোগ রাখলেও আণ্ডারওয়্যার অপসারণের কোনো অপশন রাখেনি।
যুবসমাজের আগ্রহ আর সুযোগ-সুবিধার দিকে কোনো বান্দারই আসলে নজর নেই, ধুত্তুরি!
সফটওয়্যারটির নমুনা দেখুন ইউটিউবে-
সফটওয়্যারটি সম্পর্কে বিশদ জানুন এইখানে
সি-নেটে এই সংক্রান্ত খবর পড়ুন এইখানে
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ :
নগ্নতার সপক্ষে এটা প্রচারণাগোছের কিছু নয়, প্রযুক্তির গতিধারা বিশ্লেষণই মূল উদ্দেশ্য।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): nudeit, apple, apple iphone, iphone, iphone software, iphone application, iphone app, iphone nude it, nude it ;
প্রথম প্রকাশ
গ্রামীণফোন ওরফে হারামীর ফোনের দৈনিক আয়, অর্থাৎ গ্রাহকের পকেট থেকে প্রতিদিন কতো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে- সে সম্পর্কে ধারণা আছে আপনার? থাকুক কিংবা না থাকুক, শুধু জেনে রাখুন সংখ্যাটা কোটির ওপরে। ধরনের দিক থেকে এটা প্রায় চাঁদাবাজির নামান্তর এবং শুধু বাংলাদেশেই প্রায় দেড় কোটি মানুষকে নিত্য অসন্তোষে ফেলে যা চলছে বছরের পর বছর। এই যখন পরিস্থিতি, তখন সুসংবাদ হয়ে এল ছোট্ট এক 'কিলার' ডিভাইস। বলা হচ্ছে, ছোট্ট এই ডিভাইস মোবাইল কম্পানিগুলোকে প্রায় পথে বসিয়ে দিতে পারে! ডিভাইসটি ইতিমধ্যে তোলপাড় তুলেছে প্রযুক্তি অঙ্গনে। পিসি ম্যাগাজিন এই ডিভাইসটিকে ২০০৯ সালের সেরা প্রযুক্তিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস, লস এঞ্জেলেস টাইমস, বোস্টন গ্লোবের মতো নামি পত্রিকা এবং সিবিএস ও সিএনবিসির মতো চ্যানেল পর্যন্ত এই ডিভাইসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।জিনিসটি আসলে কী
আকারে ছোট এই ডিভাইসের নাম ম্যাজিক জ্যাক। এটা দিয়ে মোবাইল ব্যবহার বা ফোন করা যাবে বিনামূল্যেই। মোবাইল ফোন যে ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে, সেই একই ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে ইন্টারনেটের সাহায্যে ফোন করার কাজটি হবে। এই কাজের জন্য যেখানে হারামীর ফোনসহ অন্য মোবাইল কম্পানিগুলো কোটি কোটি টাকা প্রতিদিনই হাতিয়ে নিচ্ছে, ম্যাজিক জ্যাক দিয়ে সেটা করা যাবে একেবারে বিনামূল্যেই। ব্যবহারবিধিও সহজ। প্রথমে ম্যাজিক জ্যাক ডিভাইসটি ইউএসবি পোর্টের মাধ্যমে কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। আর লাগবে একটি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ। কম্পিউটারের মাত্র আট ফুট দূরত্বের মধ্যে কোনো মোবাইল ফোন থাকলে ডিভাইসটি সেটা নিজে নিজেই শনাক্ত করে নিয়ে তার মাধ্যমে কল করার কাজ করবে। তবে এজন্য ওই মোবাইলের (আট ফুট দূরত্বে সেটা যারই হোক না কেন) কোনো টাকা কাটা যাবে না। কল করার পুরো কাজই হবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। জিএসএম ঘরানার যে কোনো মোবাইল ফোন এই ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য।
এখন ডিভাইসটি ল্যান্ডফোনে ব্যবহার হচ্ছে এভাবে-

আসবে চার মাস পর, সুশীলদের উদ্বেগ
গত রোববার শেষ হওয়া প্রযুক্তি অঙ্গনের বৃহত্তম সমাবেশ কনজুমার ইলেকট্রনিকস শোতে ম্যাজিক জ্যাকের নির্মাতা ওয়াইম্যাক্স কর্পোরেশন জানিয়েছে, সামনের মে মাসেই তারা যন্ত্রটি বাজারজাত করবে। প্রাথমিকভাবে এর মূল্য ধরা হয়েছে বাংলাদেশী মূদ্রায় দু হাজার টাকার মতো। ডিভাইসের এই সামান্য মূল্য দিয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় কোনো টাকা ছাড়াই কথা বলা যাবে এক বছর। এর আগে ওয়াইম্যাক্স কর্পোরেশন ল্যান্ডফোনে ব্যবহারের জন্য ম্যাজিক জ্যাক ছেড়েছিল বাজারে। মাত্র দু বছরে ওই ডিভাইসটি বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫০ লাখ! মার্কিন মোবাইল কম্পানিগুলো ব্যাপারটায় রীতিমতো স্তম্ভিত। তা এতোটাই যে, এখন পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াই মেলেনি। তবে বিদেশী সুশীল সমাজকে দিয়ে তারা ইতিমধ্যে এই ডিভাইস ব্যবহার বৈধ কিংবা নৈতিক কিনা- তা নিয়ে সুশীল প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তা হবেই না বা কেন? কারোরই সন্দেহ থাকার কথা নয় যে, ম্যাজিক জ্যাক বাজারে আসলে খুব দ্রুতই জনপ্রিয়তা পাবে এবং অতি অবশ্যই মোবাইল কম্পানিগুলোর জন্য হয়ে উঠবে সত্যিকারের হুমকি! যদিও আসতে দেরি, তবে এই ফাঁকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য চিত্রটি একদফা কল্পনা করা যেতে পারে।
ম্যাজিক জ্যাক এলে বাংলাদেশে কী কী ঘটতে পারে?
১. অথর্ব বিটিআরসি যথারীতি মোবাইল কম্পানিগুলোর ধ্বজা ধরার চেষ্টা করে যাবে।
২. মোবাইল কম্পানিগুলোর চাপে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ম্যাজিক জ্যাকের ব্যবহার নিয়ে সতর্কবাণী শোনাবে বারেবারে।
৩. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ম্যাজিক জ্যাকের পিছনে আঙ্গুল দেওয়ার চেষ্টায় হন্যে হয়ে উঠবে।
৪. মোবাইল কম্পানিগুলোর 'দাসানুদাস' পত্র-পত্রিকাগুলো ম্যাজিক জ্যাকের বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে প্রতিবেদন ছাপবে।
৫. 'ইহার মাধ্যমে জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাচ্ছে'- শীর্ষক ধোঁয়া তুলে অচিরেই ডিভাইসটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হবে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): magicjack, magic jack, mobile, mobile phone, cell phone, cellphone, grameenphone, grameen phone, gp ;
প্রথম প্রকাশ
এখন কী অবস্থা, জানি না। আগে হটমেইল একাউন্ট সহজে খোলা গেলেও এমএসএন ডোমেইনের (@msn.com) ইমেইল একাউন্ট সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল না। খুব সম্ভবত এটি শুধু মার্কিন মুল্লুকের জন্যই উন্মুক্ত ছিল। তবে এর বাইরে থেকেও খোলা যেতো। বিশেষ একটি কৌশল অবলম্বন করে abcdef@msn.com এর মতো ইমেইল একাউন্ট বহু খুলেছি একসময়। শুধু তাই নয়, হটমেইল ও এমএসএনের ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে কিভাবে কিভাবে যেন বিভিন্ন নামকরা প্রতিষ্ঠানের ডোমেইনের নামেও ইমেইল ঠিকানা খোলা যেতো। সে সময়, প্রায় এক যুগ আগের কথা, একটি আন্ডারগ্রাউন্ড ফোরামে দাবি করা হল যে, এটি হটমেইলের একটি বাগ এবং এই বাগের সুযোগ নিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো ইমেইল ঠিকানা নিতে পারেন যে কেউ। কয়েকটি মন্তব্যে দেখলাম, billgates@microsoft.com, steve@apple.com, mike@fbi.gov ইতিমধ্যে কেউ কেউ নিয়েছেন। লোভনীয় ব্যাপার, সন্দেহ নেই! ওই ফোরামেই এ সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ টিউটোরিয়াল পেয়ে কাজে নেমে পড়ি অচিরেই। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান খুঁজতে গিয়ে আমার প্রথমেই মনে এল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম। খালেদা জিয়া তখন বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর লোক। তার কার্যালয় সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি ওয়েবসাইটও তখন চালু হয়েছে- www .pmo. gov .bdভাবলাম, খুলবো যখন, নিজের নামে খোলাই ভালো। দ্রুতই হটমেইলের নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করে নিচের দিকে কাঙ্খিত ইমেইল ঠিকানা দিয়ে দিলাম- myname@pmo.gov.bd. বারকয়েক ওকে-টোকে দিয়ে মাইক্রোসফটের প্রমোশনালে বাধ্যতামূলক সম্মতি জ্ঞাপন করে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করি। উত্তেজনা ছিলই একটা স্বাভাবিকভাবে- প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নামে ইমেইল ঠিকানা পাওয়া সহজ ব্যাপার না! তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বুঝলাম, ব্যাপারটা এতো সহজও না।
শেষ ধাপে যে ম্যাসেজটি পাওয়া গেল, তাতে মনের উত্তেজনা মাথায় উঠে গেল। ম্যাসেজে বলা হল, pmo.gov.bd ডোমেইনের কী এক ইমেইল ঠিকানায় আমার প্রাসঙ্গিক তথ্যসহ তারা একটি মেইল পাঠিয়েছে ভেরিফিকেশনের জন্য। বলা হল, যেন দ্রুত ওই মেইল চেক করে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করি। কী আজব কান্ড! কথা তো এইরকম ছিল না! টিউটোরিয়ালেও ভেরিফিকেশনের কোনো উল্লেখ ছিল না। মেজাজ গেল বিগড়ে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবমাস্টার নিশ্চয়ই এই ইমেইল পাবেন। তাদের ডোমেইন ব্যবহার করে কেউ একজন ইমেইল একাউন্ট খোলার চেষ্টা করেছে- এটাও তাদের না বোঝার কথা নয়। তাছাড়া মেইলের সঙ্গে আমার আইপি যাওয়াও অসম্ভব কিছু নয়। আর আইপি পাওয়া গেলে আমাকে শনাক্ত করাও তাদের জন্য এমন কোনো ব্যাপার না।
ভয়ে ভয়ে কাটলো কয়েকটি দিন। জানতাম, চাইলে তারা আমার গর্দভসম কাজটাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার পর্যায়েও নিয়ে যেতে পারে আইনের মারপ্যাঁচে। তবে সৌভাগ্য আমার, দেশটির নাম ছিল বাংলাদেশ। এবং আল্লাহপাকের অসীম রহমতে সেই দেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ব্যাপারটি বুঝে উঠতে পারেনি!
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): হটমেইল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মেইল, hotmail, msn, prime minister's office, mail ;
প্রথম প্রকাশ
ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের দক্ষিণ এশিয়া সংবাদদাতা ড্যানিয়েল পার্ল পাকিস্তানে ইসলামি জঙ্গিদের হাতে নিহত হয়েছিলেন ২০০২ সালে। তার স্মরণে একটি ফেলোশিপ প্রোগ্রাম আছে। আমি বছর দুয়েক আগে সেই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করেছিলাম। ৮০ ভাগ নিজের অবহেলা এবং ২০ ভাগ ডিএইচএলের দায়িত্বহীনতায় আমার সেই আবেদন মার্কিন মুল্লুকে যখন পৌঁছল, তখন নির্ধারিত সময়সীমা শেষ। তারা দুঃখ প্রকাশ করে একটি মেইল দিয়েছিলেন আমাকে। আমার ইচ্ছে ছিল, ফেলোশিপের অধীনে আমেরিকান নিউজরুম থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা। সেটা হয়নি। তবে নিজের মতো করে যা কিছু মনে আসছে, তা নিয়ে এই লেখা-
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ওয়েবসাইট নিঃসন্দেহে নান্দনিক নয়, তথ্যবহুলও নয়। কেউ যদি বলেন, সরকারি জিনিস এমনই হয়! তাহলে তারা হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইট কিংবা ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগারের ওয়েবসাইটটি একবার দেখুন- যেমন নান্দনিক, তেমনি তথ্যবহুল। তবে যে দেশ একদা তথ্য চুরি হয়ে আশঙ্কায় বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হতে অসম্মতি জানিয়েছিল, সেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ওয়েবসাইটে সবিস্ময়ে দেখা গেল এর লাইব্রেরি সেকশনে রয়েছে ভার্চুয়াল সার্ভিসেস। ইলেকট্রনিক-বই (ই-বুক) পড়ার জন্য সেখানে রয়েছে বেশকিছু লিংক। রয়েছে এনসাইক্লোপিডিয়া-উইকিপিডিয়ার খোঁজখবরও। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ওয়েবসাইট থেকে হিটলারের মাইন ক্যাম্ফ ডাউনলোড করা যাচ্ছে- বিস্ময় নিয়ে আমি লক্ষ্য করি। বিদঘুটে রক্ষণশীলতা তাহলে ভাঙছে বাংলাদেশে!
মাইন ক্যাম্ফই বা কেন, আপনি যদি বই পড়তে চান, তাহলে অনলাইনেই এখন হাজার হাজার বই পড়তে পাওয়া যায়। পিডিএফ ফরম্যাটে কয়েক মিলিয়ন বই ইন্টারনেটে বিনামূল্যে ছেড়েছে ওয়ার্ল্ড ই-বুক ফেয়ার- এটা পুরনো খবর। আপনি যদি গান শুনতে চান, তাহলে সহস্রাধিক ওয়েবসাইট পেয়ে যাবেন নিমেষেই। সাড়াজাগানো ছবি স্মামডগ মিলিওনেয়ার মুক্তি পেল সেদিন, আপনি সেটাও ডাউনলোড করে দেখতে পারবেন পয়সা ছাড়াই। আপনি যদি হন গবেষক কিংবা ছাত্র নয়তো সাংবাদিক- আপনার ভাবনার সবই পাবেন ইন্টারনেটে। অথচ দেখা যায়, প্রযুক্তির কাছাকাছি থেকেও অনেকে পাহাড়সমান অজ্ঞতা আর অমূলক নানা ধারণা নিয়ে শ্রেফ বসে থাকেন।
প্রযুক্তির এখন কতোই না সুবিধা! আর তার অনেকটা আমাদের নাগালেই। ঢাকা শহরের কথাই ধরুন। কোথায় সাইবার ক্যাফে নেই, বলতে পারেন? পুরান ঢাকার যে গলি সিটি কর্পোরেশনের অবহেলার ছাপ বহন করছে, সেখানেও তো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে গেছে সাইবার ক্যাফে। এমনকি দুর্গম পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি , খাগড়াছড়ির কথাই ধরুন। বিটিসিএল ও গ্রামীণ ফোন কিংবা সিটিসেলের ইন্টারনেট সুবিধা কি যায়নি সেখানে?
সংবাদপত্রের কথাই ধরা যাক। পঞ্চগড়ে কোনো ঘটনা ঘটল। আধঘন্টার মধ্যেই ঢাকায় বসে সে বিষয়ের লিখিত রিপোর্ট কি পাচ্ছি না ইমেইলে? প্রধান দৈনিকগুলো এখন তো দেশের সব অঞ্চল থেকে প্রায় সব খবরই ইমেইলে পেয়ে আসছে।
প্রযুক্তিগত সুবিধা আছে বলে কক্সবাজার কিংবা সিলেটের চা বাগানে অবকাশ যাপনে গিয়েও একটি প্রকাশনা- হোক তা পত্রিকার পাতা কিংবা আস্ত বই- অনায়াসে বের করা এখন সম্ভব। আজ প্রস্তুতি নিয়ে এমনকি তা আগামীকালই!
আমার চোখে ভাসছে, আরো একটি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটল গাজীপুরে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিপোর্টাররা ইমেইল খুলে সেখানেই খবর নোট করে নিচ্ছেন ইলেকট্রনিক ডিভাইসে (ঢাকার কয়েক হাজার ব্যবসায়ী কিন্তু পামটপ বা পিডিএর মতো ডিভাইস ব্যবহার করছেন হরদম)। নোটগুলো সাজানো শেষে অল্প পরেই খবরটি অফিসের ইমেইলে চলে গেল। পাে তাকিয়ে দেখি, আলোকচিত্রীরা ল্যাপটপ ও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা ছবি ঘটনাস্থল থেকে মুহূর্তেই অফিসে পাঠিয়ে দিচ্ছেন (সম্ভবত যায়যায়দিন প্রথম এ পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল ঢাকায়)। ইয়াহু কিংবা এমএসএন ম্যাসেঞ্জার ব্যবহার করে ঢাকার সাংবাদিক কলকাতা কি কুষ্টিয়ায় আত্মগোপনে থাকা জাঁদরেল নেতার এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ করছেন কিংবা সোর্সের কাছ থেকে সর্বশেষ খবরাখবর জেনে নিচ্ছেন।
অনেকেরই কাছেই এটা অতিকল্পনা মনে হতে পারে। কিন্তু আমার ধারণা, মাত্র একটি প্রজন্ম পার হলেই এরকম দৃশ্য বাংলাদেশে পরিচিত হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ওয়েবসাইট নিঃসন্দেহে নান্দনিক নয়, তথ্যবহুলও নয়। কেউ যদি বলেন, সরকারি জিনিস এমনই হয়! তাহলে তারা হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইট কিংবা ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগারের ওয়েবসাইটটি একবার দেখুন- যেমন নান্দনিক, তেমনি তথ্যবহুল। তবে যে দেশ একদা তথ্য চুরি হয়ে আশঙ্কায় বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হতে অসম্মতি জানিয়েছিল, সেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ওয়েবসাইটে সবিস্ময়ে দেখা গেল এর লাইব্রেরি সেকশনে রয়েছে ভার্চুয়াল সার্ভিসেস। ইলেকট্রনিক-বই (ই-বুক) পড়ার জন্য সেখানে রয়েছে বেশকিছু লিংক। রয়েছে এনসাইক্লোপিডিয়া-উইকিপিডিয়ার খোঁজখবরও। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ওয়েবসাইট থেকে হিটলারের মাইন ক্যাম্ফ ডাউনলোড করা যাচ্ছে- বিস্ময় নিয়ে আমি লক্ষ্য করি। বিদঘুটে রক্ষণশীলতা তাহলে ভাঙছে বাংলাদেশে!
মাইন ক্যাম্ফই বা কেন, আপনি যদি বই পড়তে চান, তাহলে অনলাইনেই এখন হাজার হাজার বই পড়তে পাওয়া যায়। পিডিএফ ফরম্যাটে কয়েক মিলিয়ন বই ইন্টারনেটে বিনামূল্যে ছেড়েছে ওয়ার্ল্ড ই-বুক ফেয়ার- এটা পুরনো খবর। আপনি যদি গান শুনতে চান, তাহলে সহস্রাধিক ওয়েবসাইট পেয়ে যাবেন নিমেষেই। সাড়াজাগানো ছবি স্মামডগ মিলিওনেয়ার মুক্তি পেল সেদিন, আপনি সেটাও ডাউনলোড করে দেখতে পারবেন পয়সা ছাড়াই। আপনি যদি হন গবেষক কিংবা ছাত্র নয়তো সাংবাদিক- আপনার ভাবনার সবই পাবেন ইন্টারনেটে। অথচ দেখা যায়, প্রযুক্তির কাছাকাছি থেকেও অনেকে পাহাড়সমান অজ্ঞতা আর অমূলক নানা ধারণা নিয়ে শ্রেফ বসে থাকেন।
প্রযুক্তির এখন কতোই না সুবিধা! আর তার অনেকটা আমাদের নাগালেই। ঢাকা শহরের কথাই ধরুন। কোথায় সাইবার ক্যাফে নেই, বলতে পারেন? পুরান ঢাকার যে গলি সিটি কর্পোরেশনের অবহেলার ছাপ বহন করছে, সেখানেও তো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে গেছে সাইবার ক্যাফে। এমনকি দুর্গম পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি , খাগড়াছড়ির কথাই ধরুন। বিটিসিএল ও গ্রামীণ ফোন কিংবা সিটিসেলের ইন্টারনেট সুবিধা কি যায়নি সেখানে?
সংবাদপত্রের কথাই ধরা যাক। পঞ্চগড়ে কোনো ঘটনা ঘটল। আধঘন্টার মধ্যেই ঢাকায় বসে সে বিষয়ের লিখিত রিপোর্ট কি পাচ্ছি না ইমেইলে? প্রধান দৈনিকগুলো এখন তো দেশের সব অঞ্চল থেকে প্রায় সব খবরই ইমেইলে পেয়ে আসছে।
প্রযুক্তিগত সুবিধা আছে বলে কক্সবাজার কিংবা সিলেটের চা বাগানে অবকাশ যাপনে গিয়েও একটি প্রকাশনা- হোক তা পত্রিকার পাতা কিংবা আস্ত বই- অনায়াসে বের করা এখন সম্ভব। আজ প্রস্তুতি নিয়ে এমনকি তা আগামীকালই!
আমার চোখে ভাসছে, আরো একটি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটল গাজীপুরে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিপোর্টাররা ইমেইল খুলে সেখানেই খবর নোট করে নিচ্ছেন ইলেকট্রনিক ডিভাইসে (ঢাকার কয়েক হাজার ব্যবসায়ী কিন্তু পামটপ বা পিডিএর মতো ডিভাইস ব্যবহার করছেন হরদম)। নোটগুলো সাজানো শেষে অল্প পরেই খবরটি অফিসের ইমেইলে চলে গেল। পাে তাকিয়ে দেখি, আলোকচিত্রীরা ল্যাপটপ ও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা ছবি ঘটনাস্থল থেকে মুহূর্তেই অফিসে পাঠিয়ে দিচ্ছেন (সম্ভবত যায়যায়দিন প্রথম এ পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল ঢাকায়)। ইয়াহু কিংবা এমএসএন ম্যাসেঞ্জার ব্যবহার করে ঢাকার সাংবাদিক কলকাতা কি কুষ্টিয়ায় আত্মগোপনে থাকা জাঁদরেল নেতার এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ করছেন কিংবা সোর্সের কাছ থেকে সর্বশেষ খবরাখবর জেনে নিচ্ছেন।
অনেকেরই কাছেই এটা অতিকল্পনা মনে হতে পারে। কিন্তু আমার ধারণা, মাত্র একটি প্রজন্ম পার হলেই এরকম দৃশ্য বাংলাদেশে পরিচিত হয়ে উঠবে।
ভারত, আমাদের গা লাগা প্রতিবেশী, গুগলের কাছে হল 'সেকেন্ড হোম'। এই উপমহাদেশের অপর দুটি দেশ পাকিস্তান এবং শ্রীলংকায় গুগল ইতিমধ্যে কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ নিয়োগ দিয়েছে। গুগল সাইটে এ খবর দেখে আমি তখন খুব করে বাংলাদেশটাকে খুঁজছিলাম। কিন্তু না, ছিল না কোথাও। বাংলাদেশ তাদের হিসেবে ছিল না, এখনো নেই। ১৪-১৫ কোটি মানুষের এই বাজারকে গুগল কিভাবে উপেক্ষা করছে, এই বাজার ঠিক কী কারণে পাকিস্তান-শ্রীলংকার মতো দেশের নিচে পড়ে যাচ্ছে- এই হিসাব আমি কিছুতেই মেলাতে পারি না। আবার এই বাজারের জন্যই আমরা দেখি, গুগল কিভাবে নাকে খত দিয়ে দিয়ে, নিজের সম্ভ্রম জলাঞ্জলি দিয়ে, কড়া সেন্সরশিপ মেনে চীনের বাজারে ঢোকার জন্য উন্মুখ। ভারত ও চীনাদের দেশপ্রেম প্রবাদতূল্য। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চীনা সার্চবাণিজ্যে গুগল নয়, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বাইডুই এক নম্বরে এবং বিস্তর ব্যবধান রেখেই। লক্ষ্য করে দেখেছি, গুগল তাদের যে পণ্যেরই বিজ্ঞাপন তৈরি করুক না কেন, তাতে একজন চীনা মডেল থাকবেই। জনপ্রিয় এন্টিভাইরাস নির্মাতা ইসেট নড-থার্টি টুর ওয়েবসাইট খুলে এই সেদিনও দেখেছি, ফ্লাশ মুভিতে চীনা রমণীর যুদ্ধংদেহী রূপ। এ সবই বাজার ধরার কৌশল। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে বড়ো বড়ো প্রতিষ্ঠানগুলোর কি-পোস্টে চীনাদের অধিপত্যও লক্ষ্য করার মতো।যেখানে বাংলাদেশের উপস্থিতি নগণ্য
বিদেশে মেধানির্ভর চাকরির বাজারে ভারতীয় ও চীনাদের জয়জয়কার বহুদিন ধরেই। চোখের সামনে উদাহরণ না থাকলেও পাকিস্তান ও শ্রীলংকা বোধহয় বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে আছে। কিন্তু সেই ট্র্যাকে বাংলাদেশীদের উপস্থিতি নগণ্য- নেই বললেও চলে। ছয়-সাত মাস আগে এডবি ফটোশপের ক্রেডিটলাইন ঘেঁটে দেখেছিলাম একই অবস্থা- ভারতীয়দের জয়জয়কার। ওরা কি ভাতের সঙ্গে ডাল খায় বেশি? তাই তাদের মেধাও বেশি? যা হোক, প্রতিবেশী দেশের এই উদাহরণ আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারতো। কিন্তু অনুপ্রেরণা কেন হল না- এটা অবোধ্য। মেধাবী লোক কি বাংলাদেশে নেই তাহলে? আছে তো বটেই, কিন্তু "আর কতো দেরি, পাঞ্জেরী?"
আশার আলো জ্বালাচ্ছেন যে কজন
ইউটিউব (সেখানেও তিন উদ্যোক্তার একজন চীনা) নিয়ে বিলিয়ন ডলারের কাজকারবার করে আলোচিত হয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত জাওয়েদ করিম। স্ট্যানফোর্ড পড়ুয়া এই তরুণের কীর্তিতে গর্বে বুক ফোলে, কিন্তু তবু কেন যেন একটা দূরত্ব থেকে যায়, কেন যেন তাকে বাংলাদেশী ভাবাটা কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়।
বুয়েটের ছাত্র থাকাকালেই মুনিরুল আবেদীন পাপ্পানা মাইক্রোসফটে চাকরি পেয়েছিলেন। অনেকেরই অজানা যে, সামহোয়্যারের শুরু থেকে পাপ্পানা দীর্ঘদিন এখানে ব্লগিং করেছেন। এখন অবশ্য স্বেচ্ছানির্বাসনে আছেন তিনি। অবশ্য তার নিকটি কী ছিল, জান গেলেও বলতে রাজি নই! ব্লগারদের মধ্যে বিলাশবিডি মাইক্রোসফটে ইন্টার্নশিপ করেছেন। তিনি কাজ করেছেন উইন্ডোজ নেটওয়ার্কিং গ্রুপে। রাগিব হাসান গুগলে ইন্টার্নশিপ করেছেন।
সিসকোতে কর্মরত জাকারিয়া স্বপনের মুখে শুনেছি, নেটওয়ার্ক গুরু সিসকোতে অনেক বাংলাদেশী কর্মরত আছেন। ইন্টেলে রীতিমতো একটি সমিতিও আছে বাংলাদেশী কর্মীদের। বেশ কিছুদিন আগে এদের একজন ড. শাহ মুসা'নববাংলা' নামে একটি বাংলা কি-বোর্ড তৈরি করেছিলেন। যদিও তা নানা কারণে সমালোচিত হয়েছিল।
আর দুজনের কথা ব্যক্তিগতভাবে আমি জানি, যাদের একজন নাসায় কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরে এবং অপর একজন উড়োজাহাজের ডিজাইন করেন মার্কিন সরকারি সংস্থায়। রাগিবের লেখা থেকে জেনেছিলাম, গুগলে দুই কি তিনজন বাংলাদেশী কাজ করছেন। ইয়াহুতেও সম্ভবত এরকম কয়েকজন আছেন।
একটি কেসস্টাডি : এডবি ইলাস্ট্রেটর টিমে ভারতীয় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারদের তালিকা:
CORE ENGINEERING:
San Jose: Rashmi Mittal
India: Shashwat Agarwal, Ashutosh Ahluwalia, Shikha Arora, Manish Barman, Rajesh Budhiraja, Abhinav Chakravarty, Paresh Goel, Gautam Kachru, Amit Kumar, Pankaj Mathur, Varun S Nair, Hardeep Singh Parmar, Parminder Singh, Ajay Shrivastava, Gopinath Srinivasan, Ashwin Kumar Surabhi
CORE QUALITY ENGINEERING:
Kallol Acharya, Areeb Ahmed, Saif Anwar, Hema Arora, Veenu Bharara, Dinkar Bhatia, Yadvinder Bhatia, Jitu Borah, Ashutosh Chaturvedi, Ajay Kumar Chhokra, Mohanaraj CS, Rimmi Devgan, Poorva Dutt, Mohd. Fahadullah, Mona Girdhar, Rohit Kumar Guglani, Shariq Hashmi, Abhishek Hegde, Nitin Kataria, Manek Kaushal, Sachin Kaushik, Ravi Kiran, Anish Kumar, Jayasheela Kumar, Gagan Malhotra, Devendra Marwaha, Khushboo Mirza, Neeraj Nandkeolyar, Yogesh Sharma
Production Quality Engineering: Kaushik Agarwala, Areeb Ahmad, Anil Ahuja, Rahul Bhattacharyya, Pankaj Joshi, E Ramalingam, Sanjay Singh
ADOBE TEXT ENGINE: Joe Shankar
CORE TECHNOLOGIES:Adobe Graphics Manager: Dalia Ackner, Prasun Choudhury
Adobe Raster Engine: Sohrab Amirghodsi
Adobe Structured File Library: Nitin Kumar Garg, Rahul Gupta
Application Management: Nagendra Bangalore, Anil Bhavnani, Sanjeev Biswas, Amaninder Dhindsa, Pradeep Cyril Ekka, Aditya Falodiya, Mukesh Goswami, Sandeep Handa, Akshat Jain, Saikat Kanjilal, Sunil Khatri, Amit Luthra, Vivek Misra, Chris Paduan, Muru Palaniappan, Rohit Paliwal, Mansukh Patidar, Rajiv Poplai, Ramesh Rathour, Saurabh Rihan, Sharad Prabhat Saxena, Amitoj Singh, Gurrajan Singh, Ravi Prakash, Singh, Shyam Vijay. Color Components: Manish Kulkarni
EPS Parser: Parminder Singh Chuchra, Puneet Kumar Garg
MPS: Parminder Singh Chuchra, Vamsi Narla, Gurpreet Singh
PDF Library: Samreen Dhillon, Pranjal Bhatnagar, Vipul Jain, Mohit Kalra, Akarsha Kumar, Anubhav Mukherjee, Nitin Kumar Garg, Ankit Gupta, Rahul Gupta, Shivani Gupta, Kapil Jain, Surendra Sachdeva, Sidhartha Saurav, Sachin Soni
Save for Web: Parminder Singh Chuchra, Shiladitya Bose UI Technologies: Rahul Gupta, Kapil Jain, Nitin Kumar Garg.
CoreTech Quality Engineering: Vivek Adlakha, Ankur Agarwal, Bhara Agarwal, Rekha Agarwal, Urvashi Agarwal, Vivek Agrawal, Mohd Amish, Neetu Bansal, Tim Beauchamp, Vivek Bhide, Reena Chawla, Arup Roy Chowdhury, Ankit Gupta, Munish Gupta, Amit Kumar Jain, Nalin Kumar Jain, Nitin Jain, Kashyap Jogi, Vikas Kamate, Vishal Lamba, Rani Mahapatra, Jay Kumar Murari, Namrata Parmar, Srinvas Peri, Suraj Ranjan, Kumar Shailove, Harpreet Singh, Manirup Sinha, Bibha Tripathi
CoreTech Infrastructure: Vida Amani, Sanjay Jain, Mukul, Rachel Prithviraj, Kumaran Sasikanthan,
DEVELOPER SUPPORT: Anima Bais,
PRERELEASE PROGRAM MANAGEMENT: Saurabh Kumar,
ADOBE HELP VIEWER: Roopa Sastry, Puny Sen,
ADOBE STOCK PHOTOS: Saurabh Aggarwala, Shiraz Anwar, Sonika Balyan, Komal Desai, Sumit Garg, Naveen Goel, Mayur Hemani, Akshat Jain, Simmerjot Khehra, Aman Kumar, Manish Malik, Vishal Malik, Sumeet Misri, Sudhakar Pandey, Gunjeet Parmar, Kamal Rawat, Gaurav Sehgal, Sharad Saxena, Anindya Sharma, Priyanka Sharma, Paul Shustak, Mandeepak Singh, Harpreet Vohra
ADOBE UTILITIES STI: Anil Bhavnani, Vivek Bhide, Rajashankara Narayana.
SSET SERVICES STI: Tarun Aggarwal, Anirudh Bhatnagar, Girish Gupta, Neeraj Kumar, Anupam Tayal,
ADOBE UPDATE MANAGER STI: Vivek Adlakha, Urvashi Agarwal, Neetu Bansal, Muru Palaniappan
CMAPs STI: Anil Bhavnani, Vivek Bhide, Rajashankara Narayana, Sairus Patel
COLOR STIs: Anil Bhavnani, Vivek Bhide, Manish Kulkarni, Rajashankara Narayana
DEFAULT LANGUAGE STI: Anil Bhavnani, Vivek Bhide, Rajashankara Narayana.
LINGUISTICS STI: Namrata Parmar
LINGUISTICS WINSOFT PLUGIN STI: Bibha Tripathi
PDFL STI: Anil Bhavnani, Vivek Bhide, Rajashankara Narayana
PDF SETTINGS STI: Parviz Banki
TYPE SUPPORT STI: Anil Bhavnani, Vivek Bhide, Rajashankara Narayana, Sairus Patel
VERSION CUE CLIENT STI: Tarun Aggarwal, Anirudh Bhatnagar
SUITE QUALITY WORKFLOW AND INTEGRATION: Ajay Sharma
SUITE APPLICATION MANAGEMENT: Muneesh Bahl, Pritom Baruah, Anil Berry, Anirudh Bhatnagar, Navneet Bisht, Rajesh Chadha, Manpreet Singh Chawla, N. Danigaivelan, Gaurav Gadhia, Ankit Gupta, Mukul Gupta, Pankaj Mahalwar, Ashish Maheshwari, Reema Nagpal, Laehee Park, Harinder Sandhu, Pranav Mohan Sharma, Ramandeep Singh, Vishal Sethi, Mohammad Tahseen
ছবিতে গুগল হায়দ্রাবাদ অফিসের কর্মীরা
অনাবশ্যক ভনিতা না করে সরলভাবে বলে ফেলি। ওয়েবে আমরা স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে কিছু অনুবাদের কাজ করতে চাই। আমার ধারণা, এ বিষয়ে অনেকেরই অভিজ্ঞতা রয়েছে- কারওবা বিস্তৃত, কারো টুকটাক। বলাবাহূল্য, অনুবাদ হবে আধুনিক, সহজবোধ্য। এজন্যই আমরা সবার অংশগ্রহণ চাই।
আপনারা জানেন, ভারতীয় বাংলার অনুবাদ চরম হাস্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে আগেই। এমনকি বাংলাদশেও একক উদ্যোগে কেউ কেউ অনুবাদের কাজটি করেছেন, তবে তাও মানসম্পন্ন নয়।
কী কী অনুবাদ করার কাজে হাত দেওয়া যেতে পারে, এ বিষয়ে সবার কাছ থেকে প্রস্তাব চাইছি। তারপর আমরা মূল কাজে হাত দেবো।
এ ধরনের কাজ একাও করা যায়, যদিও তা সময় ও শ্রমসাপেক্ষ। তবে একসঙ্গে দশ জন যদি হাত লাগান, সেই কাজ সহজেই হয়ে যায়। ব্লগীয় উদ্যোগে এরকম কিছু কিছু কাজে, চলুন আমরা হাত লাগাই। আসুন, দাগ রেখে যাই ওয়েবের ভুবনে।
এর একটা স্বস্তিকর দিক হল, এ প্রকল্পের জন্য কারো কাছে হাত পাততে হচ্ছে না। এখানে কোনো টাকা-পয়সার ব্যাপারই নেই। অবসরে নিজেদের মেধাটুকুই শুধু শেয়ার করবো আমরা। তাও সবসময় নয়, যার যখন সময় হয় তখন তিনি কাজ করবেন।
এবং এটা আমরা পারবো।
ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর ভিত্তি করে নিচের তালিকায় যোজন-বিয়োজন হতে পারে। তবে অংশগ্রহণ চাই সবারই। আশা করি, তালিকায় নাম নেই, এমন যে কেউ চাইলে এখানে নাম অন্তর্ভূক্ত করতে পারবেন। আমরা আপনাকে স্বাগত জানাই।
সম্পাদকমন্ডলী
জামাল ভাস্কর
মাহবুব মোর্শেদ
হাসিব মাহমুদ
চোর
অনুবাদ ও কারিগরি টিম
শমশের আলম
অলৌকিক হাসান
কেমিকেল আলী
টিনের সেপাই
মাহবুব সুমন
আরিফুর রহমান
মানচুমাহারা
বিপ্র
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব
নেমেসিস
রাশেদ
বিষাক্ত মানুষ
মানুষ
ব্লুজ
সমন্বয়কারী
লোকালটক
সুশান্ত
প্রথম প্রকাশ | দ্বিতীয় প্রকাশ
আপনারা জানেন, ভারতীয় বাংলার অনুবাদ চরম হাস্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে আগেই। এমনকি বাংলাদশেও একক উদ্যোগে কেউ কেউ অনুবাদের কাজটি করেছেন, তবে তাও মানসম্পন্ন নয়।
কী কী অনুবাদ করার কাজে হাত দেওয়া যেতে পারে, এ বিষয়ে সবার কাছ থেকে প্রস্তাব চাইছি। তারপর আমরা মূল কাজে হাত দেবো।
এ ধরনের কাজ একাও করা যায়, যদিও তা সময় ও শ্রমসাপেক্ষ। তবে একসঙ্গে দশ জন যদি হাত লাগান, সেই কাজ সহজেই হয়ে যায়। ব্লগীয় উদ্যোগে এরকম কিছু কিছু কাজে, চলুন আমরা হাত লাগাই। আসুন, দাগ রেখে যাই ওয়েবের ভুবনে।
এর একটা স্বস্তিকর দিক হল, এ প্রকল্পের জন্য কারো কাছে হাত পাততে হচ্ছে না। এখানে কোনো টাকা-পয়সার ব্যাপারই নেই। অবসরে নিজেদের মেধাটুকুই শুধু শেয়ার করবো আমরা। তাও সবসময় নয়, যার যখন সময় হয় তখন তিনি কাজ করবেন।
এবং এটা আমরা পারবো।
ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর ভিত্তি করে নিচের তালিকায় যোজন-বিয়োজন হতে পারে। তবে অংশগ্রহণ চাই সবারই। আশা করি, তালিকায় নাম নেই, এমন যে কেউ চাইলে এখানে নাম অন্তর্ভূক্ত করতে পারবেন। আমরা আপনাকে স্বাগত জানাই।
সম্পাদকমন্ডলী
জামাল ভাস্কর
মাহবুব মোর্শেদ
হাসিব মাহমুদ
চোর
অনুবাদ ও কারিগরি টিম
শমশের আলম
অলৌকিক হাসান
কেমিকেল আলী
টিনের সেপাই
মাহবুব সুমন
আরিফুর রহমান
মানচুমাহারা
বিপ্র
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব
নেমেসিস
রাশেদ
বিষাক্ত মানুষ
মানুষ
ব্লুজ
সমন্বয়কারী
লোকালটক
সুশান্ত
প্রথম প্রকাশ | দ্বিতীয় প্রকাশ
গ্রামীণফোন আসলে কার? নরওয়েজিয়ান কম্পানি টেলিনরের। বাংলালিংক ইজিপশিয়ান কম্পানি ওরাসকমের। একটেল? প্রায় পুরোটাই মালয়েশিয়ান বিনিয়োগ। দুবাই রাজপুত্রের ওয়ারিদের তো জানা কথা। অমিত সম্ভাবনাময় মোবাইল ফোন সেক্টরে বাংলাদেশী কোনো উদ্যোগ নেই। ওয়েবে কি এমন একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের কথা আপনি আমাকে বলতে পারবেন, যা পুরোটাই 'বাংলাদেশী-উদ্যোগ'? ব্লগ-প্ল্যাটফর্মের কথাই ধরুন। আছে কি? আমি অন্তত এমন উদাহরণ পাইনি। অথচ দেখুন, ঘুরেফিরে এই আমরাই বারবার ব্যবহৃত হচ্ছি কর্পোরেটের প্রয়োজনে। তাদের প্রলোভনে মাথা নেড়ে নেড়ে যাচ্ছি কোনো প্রশ্ন ছাড়াই। কর্পোরেটের প্রয়োজনে আমাদের মেধাবী প্রোগ্রামাররা সস্তা শ্রমমূল্যে নিজের শ্রেষ্ঠ সময়টা বিকিয়ে দিচ্ছে। ইউজার কিন্তু সব বাংলাদেশীই, এই আমরাই। ঢাকা থেকে আমি, চট্টগ্রাম থেকে তুমি, নিউইয়র্ক থেকে আমারই বন্ধু, লন্ডন থেকে তোমার ছোট ভাই- সবমিলিয়ে আমরা আমরাই তো! অথচ তারপরও আমাদের নিজস্ব বলতে কিছু নেই। আমাদের একটা সার্চ ইঞ্জিন নেই, ভালো একটা পোর্টাল নেই, এমনকি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগটিও বাংলাদেশীদের নয়। এরপরও বিচ্ছিন্নভাবে কী না হচ্ছে! ভালো ভালো ব্লগার তো আছেই অনেক। ওয়েব প্রোগ্রামিং হোক আর ওয়েব ডিজাইন হোক- আমাদের ছেলেদের প্রতিভার ফুলকি কি দেখছি না অহরহ? পৃথিবীর জটিল ভাষাগুলোর একটি বাংলায় যে স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ হচ্ছে, তা তো বাইরে থেকে এসে করে দিয়ে যাচ্ছে না, করছে আমাদের ছেলেরাই। তারপরও আমরা বিচ্ছিন্ন থাকতে পছন্দ করি। আমরা যতো বিচ্ছিন্ন থাকবো, কর্পোরেটের ততোই লাভ। কেউ কর্পোরেটের রক্তচক্ষুর সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করবে, তা হবে না। কর্পোরেট নীতিতে ভিন্নচিন্তা প্রকাশ করাটাই একটি দুঃসাহস। অথচ নরসিংদীর একজনের সঙ্গে সিলেটের আরেকজনের ভাবনায় হয়তো তেমন পার্থক্য নেই। কক্সবাজারের এক তরুণ ভাবছে হয়তো খুলনার আরেকজনের মতোই। ইন্টারনেট, বাংলাদেশে তা যতোই শ্লথগতির হোক না কেন, মিরপুরের মশিউরের সঙ্গে উত্তরার ফখরুলের যোগাযোগ তো হচ্ছেই মিনিটে মিনিটে, ঘরের বাইরে না গিয়েই। ব্যস্ততার মাঝেও আজ দুপুরে মেইল কি পাঠাইনি তোকে, মীম? ঠুনকো অজুহাতের চেয়েও আসল কথা হল, ভাবনাগুলোকে আমরা একত্র করতে পারি না, যূথবদ্ধ হতে পারি না নিজেরা। ঘাটতি যে আমাদের কম নেই, তা নয়। আমাদের তরুণরা যখন একটি পোর্টাল নামায় ওয়েবে, তখন বোঝা যায় সেটা 'পোলাপানের কাজ।' অ্যাজাক্সের মতো ওয়েব-ভাষা এসে যে সাধারণ ওয়েবসাইটগুলোকে আমূল বদলে দিচ্ছে, তারা সেটা জানে, তারা সেটার প্রশংসা করে, কিন্তু শেষপর্যন্ত তারা নিজেরা তৃতীয় শ্রেণীর ওয়েবসাইটই তৈরি করে। "তারা সিংহের প্রশংসা করে, কিন্তু নিজের জন্য পছন্দ করে একটি গাধা!" স্নিগ্ধ রুচির পরিচয় মেলে না। গোছানো ভাবটা থাকে না। ওয়েবে এই জায়গায় এসে সব বাংলাদেশী উদ্যোগই মার খায়। না বললেও বোঝা যায়, এটা পোলাপানের কাজ। কর্পোরেট-উদ্যোগ ঠিক এর উল্টো। ক্ষতিকর জেনেও আমরা তাদের টোপ গিলতে বাধ্য হই। টোপটাও তারা দৃষ্টিনন্দন করেই তৈরি করে। এই যে, কেনা-বেচা নিয়ে সামহোয়্যার ইন যে নতুন সার্ভিস নিয়ে এল, তা দেখে আমি চমৎকৃত। কিন্তু এই কর্পোরেট-উদ্যোগের সঙ্গে আমি একাত্ম বোধ করি না। আমার মন টানে না কিছূতেই। চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনের নাম কিন্তু গুগল নয়, ইয়াহু বা এমএসএনও নয়, তার নাম বাইডু। প্রায় পুরোটাই স্থানীয় উদ্যোগে তৈরি "বাইডু" ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে ওয়েবে চীনাদের নিজস্বতার প্রতীক। লোভী কর্পোরেটকে তারা ঢুকতে দেয়, কিন্তু তা নিজেদের ভাগটা সবার ওপরে রেখে। আহা, কবে দেখবো, আট-দশজন মেধাবী বাংলাদেশী তরুণের হাতে গড়া বাংলাভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগটি? আহা, একটি বাংলা সার্চ ইঞ্জিন দেখে কবে আসবে মুগ্ধ হওয়ার সেই সময়?
প্রথম প্রকাশ | দ্বিতীয় প্রকাশ
বিভিন্নজনের কথা শুনে গুগলের অ্যাডসেন্সের জন্য দরখাস্ত কর্ছিলাম সপ্তাহখানেক আগে। একদিন পর গুগলের পক্ষ থিকা যে রিপ্লাই এল, তার সারমর্ম হচ্ছে যে, তোমার সাইটের কনটেন্ট ভুয়া এবং ওই ভাষা (বাংলা) আমাদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। মনটা এক্টু খারাপ হৈছে তখন। কারণ এই যে লাটভিয়া-স্লোভেনিয়া আর এস্তোনিয়া আর ওই যে পাঁচ পয়সার লিথুয়ানিয়া, সেই দেশগুলার ভাষা গুগলের সার্ভিসগুলা যথেষ্ট সমীহের সঙ্গে সাপোর্ট কর্তেছে। ইন্টারফেস তো বটেই, এই ধরনের ভাষায় রীতিমতো হেল্পফাইল পর্যন্ত ইতিমধ্যে প্রস্তুতকৃত। খিয়াল কৈরা! কিন্তু ১৫ কোটি মানুষের ভাষা বাংলা সাপোর্ট কর্তে গুগলের পিঠ চুলকায়। গুগল সার্ভিসে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ভাষা ঢোকাতে যেন ল্যারি পেইজ আর কি জানি ব্রায়েনকে কুত্তা দিয়া পুন্দাইতে হৈব।
এইরম কারবার আগেও দেখছি এবং নীরবে সহ্য কর্ছি। একাউন্ট কর্তে গিয়া দেশের নাম দিতে গিয়ে দেখা যায়, তারা উন্নত ও আচোদা বিশ্বের একটি আলাদা লিস্ট কর্ছে এবং সেই লিস্টটা থাকে ড্রপডাউন বক্সের ওপরদিকে। নিচের দিকে ভূটান-মুটানের সঙ্গে আমাদের বাংলাদেশের নাম রাখছে ফেলনা ক্যাটাগরিতে। আমাদের পাশের দেশ ভারতকে বলা যায় গুগলের দ্বিতীয় ঘর। তারা এমনকি পাকিস্তান-শ্রীলংকাতেও কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ নিয়োগ দিছে। অথচ বাংলাদেশ নেই। গুগলের মনোভাবটা আমি পর্যবেক্ষণের মধ্যে রেখে বুঝলাম যে, বাংলাদেশকে তারা হিসাবের মধ্যে ধর্তেছেই না। অনেকে উদাহরণ দেখায়া বলতে পারেন যে, গুগল সার্চ তো বাংলায় হৈছে। জ্বি, সেইটা জানি। সেইটাতে দুই-চার লাইন যা বাংলা অক্ষরে আসে, তাতে দেখি যে, কোনো এক বেয়াদব গুগলের পক্ষ থিকা নির্দেশ নাজিল কর্তেছে- "ফলাফলের মধ্যেই আবার অনুসন্ধান চালাও!" তাছাড়া শব্দের পর শব্দে যেইখানে ভুল বানানের ছড়াছড়ি, সেইটা ঠিক বাংলা ভাষার মধ্যেও পড়ে না।
যাগ্গা, কথার মধ্যে কথা এসে যায়। পরে একজনের পরামর্শে ব্লগস্পটে এক্টা ভুয়া একাউন্ট করে গুগল এডসেন্সে দরখাস্ত মারি। ঘন্টাদুয়েকের মধ্যে সেইটা অনুমোদিত হওয়ার পর কোড সংগ্রহ করে আমার বাংলা ব্লগে পেস্ট করি। লক্ষ্য করি, ঘন্টা যায়, দিন যায়, সপ্তাহ পর্যন্ত চৈলা যাওনের সময় হৈছে। অনেক আশা নিয়ে আজকে এডসেন্স একাউন্টে লগইন কৈরা দেখি, ০.০০ ডলার আমার একাউন্টে জমা পড়ছে আল্লাহর অসীম রহমতে! একাউন্টের নিম্নদেশে দেখি, কাঁটাগায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো 'হ্যাভন'ট ইয়েট অপটিমাইজড?' বলে তারা কিছু টিপ দিতে চাইছে আমাকে। পূর্ব-অভিজ্ঞতা থিকা জানি, এইগুলা ফাউল টিপস। তাই আর ঐদিকে টিপ দিই নাই মাউস দিয়া। ভাবতেছি, পুরা এক্টা সপ্তাহে আধাটা সিকি জমা হৈল না আমার একাউন্টে। এর সরল অর্থ হৈতেছে, কোনো বান্দা আমার সাইটের অ্যাডে এক্টা ক্লিক পর্যন্ত করে নাই! শালার ভাইয়ের কী হৈল আমার?
প্রথম প্রকাশ
এইরম কারবার আগেও দেখছি এবং নীরবে সহ্য কর্ছি। একাউন্ট কর্তে গিয়া দেশের নাম দিতে গিয়ে দেখা যায়, তারা উন্নত ও আচোদা বিশ্বের একটি আলাদা লিস্ট কর্ছে এবং সেই লিস্টটা থাকে ড্রপডাউন বক্সের ওপরদিকে। নিচের দিকে ভূটান-মুটানের সঙ্গে আমাদের বাংলাদেশের নাম রাখছে ফেলনা ক্যাটাগরিতে। আমাদের পাশের দেশ ভারতকে বলা যায় গুগলের দ্বিতীয় ঘর। তারা এমনকি পাকিস্তান-শ্রীলংকাতেও কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ নিয়োগ দিছে। অথচ বাংলাদেশ নেই। গুগলের মনোভাবটা আমি পর্যবেক্ষণের মধ্যে রেখে বুঝলাম যে, বাংলাদেশকে তারা হিসাবের মধ্যে ধর্তেছেই না। অনেকে উদাহরণ দেখায়া বলতে পারেন যে, গুগল সার্চ তো বাংলায় হৈছে। জ্বি, সেইটা জানি। সেইটাতে দুই-চার লাইন যা বাংলা অক্ষরে আসে, তাতে দেখি যে, কোনো এক বেয়াদব গুগলের পক্ষ থিকা নির্দেশ নাজিল কর্তেছে- "ফলাফলের মধ্যেই আবার অনুসন্ধান চালাও!" তাছাড়া শব্দের পর শব্দে যেইখানে ভুল বানানের ছড়াছড়ি, সেইটা ঠিক বাংলা ভাষার মধ্যেও পড়ে না।
যাগ্গা, কথার মধ্যে কথা এসে যায়। পরে একজনের পরামর্শে ব্লগস্পটে এক্টা ভুয়া একাউন্ট করে গুগল এডসেন্সে দরখাস্ত মারি। ঘন্টাদুয়েকের মধ্যে সেইটা অনুমোদিত হওয়ার পর কোড সংগ্রহ করে আমার বাংলা ব্লগে পেস্ট করি। লক্ষ্য করি, ঘন্টা যায়, দিন যায়, সপ্তাহ পর্যন্ত চৈলা যাওনের সময় হৈছে। অনেক আশা নিয়ে আজকে এডসেন্স একাউন্টে লগইন কৈরা দেখি, ০.০০ ডলার আমার একাউন্টে জমা পড়ছে আল্লাহর অসীম রহমতে! একাউন্টের নিম্নদেশে দেখি, কাঁটাগায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো 'হ্যাভন'ট ইয়েট অপটিমাইজড?' বলে তারা কিছু টিপ দিতে চাইছে আমাকে। পূর্ব-অভিজ্ঞতা থিকা জানি, এইগুলা ফাউল টিপস। তাই আর ঐদিকে টিপ দিই নাই মাউস দিয়া। ভাবতেছি, পুরা এক্টা সপ্তাহে আধাটা সিকি জমা হৈল না আমার একাউন্টে। এর সরল অর্থ হৈতেছে, কোনো বান্দা আমার সাইটের অ্যাডে এক্টা ক্লিক পর্যন্ত করে নাই! শালার ভাইয়ের কী হৈল আমার?
প্রথম প্রকাশ
তথ্যপ্রযুক্তির লগে আমাগো এক্টা হৃদ্যতা গড়ে উঠছে। কম্পিউটারে কাটে ব্যাপক সময়। তাতেই এইদিকে না হয় ওইদিকে একটা না একটা ভেজাল লেগেই থাকে। বড় বড় কোম্পানিগুলাও এমন সব কান্ডকারখানা করে, মেজাজমর্জি হয়া যায় খারাপ। অন্তর্জালে হৈলেও তাদের পুন মারার ইচ্ছা জাগে তীব্রভাবে।
অ্যাপল উইন্ডোজের লিগা সাফারির নতুন এক্টা ভার্সন রিলিজ কর্ল গতকাল কি পরশু। ভাবলাম সুন্দর বাংলা সাপোর্ট পামু। কে যেন পোস্টও এক্টা দিছিল যে, লেইটেস্ট সাফারিতে ভালো বাংলা সাপোর্ট আছে। ইনস্টল কৈরা দেখি সেইটা যথারীতি অ্যাপলীয় বাংলা। ডাগ্গা ডাগ্গা ফন্ট আর সাইজ। ফন্ট বদলায়াও কোনো ফল পাই নাই। তারপরে পুরা ইন্টারফেইসটা ধূসর গোধুলী। হালার পুতেরা চক্ষুরোগের জন্য কিছু বাকি রাখে নাই। কিছুদিন আগে তাদের ওএসএক্স লেপার্ড উইন্ডোজে ইনস্টল কর্তে গিয়া নিজেই খাইছি পুন মারা। পুরা গায়েব হৈ গেছে একটা ড্রাইভ। ফায়ারফক্স যেখানে ৭ মেগাবাইট, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার সেইখানে ১৪ মেগা আর সাফারি ১৮। এই ১৮ মেগাবাইটে স্টিভ জবস কুত্তার বাচ্চা কী ঢুকাইছে, আল্লাহপাক জানেন।
বাধ্য হয়া যদি কোনোদিন ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ইউজ কর্তে হয়, তিন দিন থাকে হাতের ব্যথা। হালার পেইজগুলা যেন বিল গেটসের বাড়ি থিকা ঘুইরা ঘুইরা আসে। বিশ্বের স্লোয়েস্ট এই ব্রাউজারটা আবার ভাইরাসের আড্ডাখানা। অমি ভুলেও পাসওয়ার্ড সেইভ করি না এক্সপ্লোরারে। মাইক্রোসফটের আরেক মাল উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার ইউজ কর্তেছি না বহুদিন হৈল। লেইটেস্ট ভার্সন ১২ খুইলা দেখি মিডিয়া প্লেয়াররে তারা রীতিমতো ব্রাউজার বানায়া ফেলছে। হালারে চটকানা মার্তেচ্ছা করে। আরে ব্যাটা, ফায়ারফক্স-অপেরা ফালায়া তোর মিডিয়া প্লেয়ার দিয়া ব্রাউজিং কর্ব নাকি! ওয়েব ব্যবসা তোমাগো লিগা আসে নাই। তোমাগো মাথায় খালি ডলার ঘোরে।
উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সেটআপ করার্পর আমার প্রথম কাম হৈল আউটলুকরে তাড়ানো। হটমেইল দেখতেছি এখন সেই আউটলুক স্টাইলে মেইল সেবা দিতেছে। ১৫ দিন কি ২০ দিন ইনেক্টিভ থাকছিলাম বৈলা হটমেইলের গুষ্টি আমার অনেকগুলা মেইল মুছে দিছিল। কুত্তার বাচ্চাদের ওপর আমিও প্রতিশোধ নিছি পরে। অনেক পরিচিতজনরে ইনভাইটেশন পাঠায়া পাঠায়া হটমেইল থিকা জিমেইলে আনছি। জিমেইল আসার পর ইয়াহু! আর হটমেইল বিরাট এক্টা লাথি খাইছে। বুদ্ধি আর গ্রাহকসেবা এক্টা প্রতিষ্ঠানরে কোথায় নিয়া যাইতে পারে, গুগল তার উদাহরণ। ইয়াহু হৈল আরেক গ্রেট চুতিয়া। গ্রাহকরে নিচের দিকের সুবিধাগুলা দিব, কিন্তু ওপরেরগুলা দিবে না। তারা এখন ঘুইরা দাঁড়ানোর চেষ্টা কর্তেছে। কিন্তু কোথায় কী!
ইয়াহুর সিইও জেরি ইয়াংরে আমি কায়মনোবাক্যে পুন মার্তে চাই। ওই জেরি ইয়াং হালা, এক গুগলপেইজের ধাক্কায় তোর জিওসিটিস কোথায় গেছে?
গেরামীণফুনের ইন্টারনেট। খানকীর বাচ্চারা মাসের ঠিক টাইমে ভ্যাট-চ্যাটসহ বিল আদায় কৈরা নিব। সার্ভিস দেওনের বেলায় শুয়োরের বাচ্চাদের কোনো মাথাব্যথা নাই। ১০-১৫ মিনিট পর পর লাইন ডিসকানেক্ট হয়া যায়। ৫ মেগাবাইটের একটা সফটওয়্যার ডাউনলোড কর্তে জান বাইর হওয়ার দশা। অভিযোগ জানাইতে গেলে প্রথমে তারা বলবে ১ চাপুন, তারপর বলবে ৩ চাপুন, এরপর বলবে ৬ চাপুন (এই পর্যায়ে ওই কন্ঠধারীরেই (চা) পুন মারার তীব্র ইচ্ছা জাগে), যাহোক তারপরে ওদের কী এক্টা প্যাকেজ বাজারে আইসা বাল ফেলছে তার বর্ণনা শুনাইবো। ওইদিকে চায়নার ২ নম্বরী কোম্পানি গো লগে তারা বাঁধছে গাঁটছড়া। আমজনতারে তারা ওয়্যারলেস মডেম খাওয়াইতে চায়। সেই মডেম কিনে চোখে আন্ধার দেখি। হেল্পফাইল দূরের কথা, প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নামগন্ধও থাকে না মডেমের গায়ে।
এক্টেল আরেক চুতিয়া। একসময় তাদের কাস্টমার কেয়ারের গরমে অনেক গ্রাহক অন্যদিকে যাইতে বাধ্য হৈছে। এখন তারা গ্রাহকের পিছন পিছন ঘোরে। সামান্য এক গুনগুন না ধুনপুন বাজারজাতকরণের লিগা রীতিমতো গ্রাহকের পায়ে ধর্তেছে। দুইদিন পর পর এক সুকন্ঠী (ভুটকিই হবে!) ফুন কৈরা জানতে চায়, আপনি কি ওয়েলকাম টোন সেট করতে চান স্যার? আমার বিরক্তি লাগে। আমি প্রতিবারই সাফ জানায়া দেই, না দরকার নাই ভাই। তারপরও তারা ফুন করে। কোন্দিন ওদের পুন মেরে দেই ঠিক নাই।
টেলিটকে কল কর্লে রীতিমতো বোমাবাজির মুখে পড়তে হয়। টাং-টুং গুড়ুম-গাড়ুম শব্দ শুনি এখান থিকা ওইখানে ফুন কর্লেও। বিটিটিবির সমস্ত অবকাঠামো আর প্রযুক্তিগত সুবিধা পাইয়াও টেলিটক বালও ছিঁড়তে পার্তেছে না।
ওইদিকে আবার ওপেনসোর্সে ভরসা রাখনের মতো অবস্থা এখনো হয় নাই। ভালো মানের সফটওয়্যার নাই বললেই চলে। এখনো পেশাদারি কাম ওইগুলা দিয়া চলে না। হার্ডকোর ইউজার হওনের পরও ওপেন অফিস ইউজ কর্তে গিয়া রণেভঙ্গ দিছি। ওপেনসোর্স আসলে অ্যামেচারদের টেস্টিংয়ের জায়গা।
এক্টা টিপস দেই। যারা এইচপি ল্যাপটপ ব্যবহার করেন, তারা ওইটাতে একইসঙ্গে ভাতও রান্না কর্তে পার্বেন। ল্যাপটপের কাম শেষ হৈলে ব্যাটারির সাইডের উপ্রে জাস্ট ভাতের ডেকচিটা রাখতে হৈব। এইচপির প্রতিষ্ঠাতা দুইজন মনে হয় মৈরা গেছে। নতুনগুলারে আমি চিনি না। ওইখানে কার পুন মারা যায় এক্টু পরামর্শ দেন তো?
প্রথম প্রকাশ
অ্যাপল উইন্ডোজের লিগা সাফারির নতুন এক্টা ভার্সন রিলিজ কর্ল গতকাল কি পরশু। ভাবলাম সুন্দর বাংলা সাপোর্ট পামু। কে যেন পোস্টও এক্টা দিছিল যে, লেইটেস্ট সাফারিতে ভালো বাংলা সাপোর্ট আছে। ইনস্টল কৈরা দেখি সেইটা যথারীতি অ্যাপলীয় বাংলা। ডাগ্গা ডাগ্গা ফন্ট আর সাইজ। ফন্ট বদলায়াও কোনো ফল পাই নাই। তারপরে পুরা ইন্টারফেইসটা ধূসর গোধুলী। হালার পুতেরা চক্ষুরোগের জন্য কিছু বাকি রাখে নাই। কিছুদিন আগে তাদের ওএসএক্স লেপার্ড উইন্ডোজে ইনস্টল কর্তে গিয়া নিজেই খাইছি পুন মারা। পুরা গায়েব হৈ গেছে একটা ড্রাইভ। ফায়ারফক্স যেখানে ৭ মেগাবাইট, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার সেইখানে ১৪ মেগা আর সাফারি ১৮। এই ১৮ মেগাবাইটে স্টিভ জবস কুত্তার বাচ্চা কী ঢুকাইছে, আল্লাহপাক জানেন।
বাধ্য হয়া যদি কোনোদিন ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ইউজ কর্তে হয়, তিন দিন থাকে হাতের ব্যথা। হালার পেইজগুলা যেন বিল গেটসের বাড়ি থিকা ঘুইরা ঘুইরা আসে। বিশ্বের স্লোয়েস্ট এই ব্রাউজারটা আবার ভাইরাসের আড্ডাখানা। অমি ভুলেও পাসওয়ার্ড সেইভ করি না এক্সপ্লোরারে। মাইক্রোসফটের আরেক মাল উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার ইউজ কর্তেছি না বহুদিন হৈল। লেইটেস্ট ভার্সন ১২ খুইলা দেখি মিডিয়া প্লেয়াররে তারা রীতিমতো ব্রাউজার বানায়া ফেলছে। হালারে চটকানা মার্তেচ্ছা করে। আরে ব্যাটা, ফায়ারফক্স-অপেরা ফালায়া তোর মিডিয়া প্লেয়ার দিয়া ব্রাউজিং কর্ব নাকি! ওয়েব ব্যবসা তোমাগো লিগা আসে নাই। তোমাগো মাথায় খালি ডলার ঘোরে।
উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সেটআপ করার্পর আমার প্রথম কাম হৈল আউটলুকরে তাড়ানো। হটমেইল দেখতেছি এখন সেই আউটলুক স্টাইলে মেইল সেবা দিতেছে। ১৫ দিন কি ২০ দিন ইনেক্টিভ থাকছিলাম বৈলা হটমেইলের গুষ্টি আমার অনেকগুলা মেইল মুছে দিছিল। কুত্তার বাচ্চাদের ওপর আমিও প্রতিশোধ নিছি পরে। অনেক পরিচিতজনরে ইনভাইটেশন পাঠায়া পাঠায়া হটমেইল থিকা জিমেইলে আনছি। জিমেইল আসার পর ইয়াহু! আর হটমেইল বিরাট এক্টা লাথি খাইছে। বুদ্ধি আর গ্রাহকসেবা এক্টা প্রতিষ্ঠানরে কোথায় নিয়া যাইতে পারে, গুগল তার উদাহরণ। ইয়াহু হৈল আরেক গ্রেট চুতিয়া। গ্রাহকরে নিচের দিকের সুবিধাগুলা দিব, কিন্তু ওপরেরগুলা দিবে না। তারা এখন ঘুইরা দাঁড়ানোর চেষ্টা কর্তেছে। কিন্তু কোথায় কী!ইয়াহুর সিইও জেরি ইয়াংরে আমি কায়মনোবাক্যে পুন মার্তে চাই। ওই জেরি ইয়াং হালা, এক গুগলপেইজের ধাক্কায় তোর জিওসিটিস কোথায় গেছে?
গেরামীণফুনের ইন্টারনেট। খানকীর বাচ্চারা মাসের ঠিক টাইমে ভ্যাট-চ্যাটসহ বিল আদায় কৈরা নিব। সার্ভিস দেওনের বেলায় শুয়োরের বাচ্চাদের কোনো মাথাব্যথা নাই। ১০-১৫ মিনিট পর পর লাইন ডিসকানেক্ট হয়া যায়। ৫ মেগাবাইটের একটা সফটওয়্যার ডাউনলোড কর্তে জান বাইর হওয়ার দশা। অভিযোগ জানাইতে গেলে প্রথমে তারা বলবে ১ চাপুন, তারপর বলবে ৩ চাপুন, এরপর বলবে ৬ চাপুন (এই পর্যায়ে ওই কন্ঠধারীরেই (চা) পুন মারার তীব্র ইচ্ছা জাগে), যাহোক তারপরে ওদের কী এক্টা প্যাকেজ বাজারে আইসা বাল ফেলছে তার বর্ণনা শুনাইবো। ওইদিকে চায়নার ২ নম্বরী কোম্পানি গো লগে তারা বাঁধছে গাঁটছড়া। আমজনতারে তারা ওয়্যারলেস মডেম খাওয়াইতে চায়। সেই মডেম কিনে চোখে আন্ধার দেখি। হেল্পফাইল দূরের কথা, প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নামগন্ধও থাকে না মডেমের গায়ে।ওইদিকে আবার ওপেনসোর্সে ভরসা রাখনের মতো অবস্থা এখনো হয় নাই। ভালো মানের সফটওয়্যার নাই বললেই চলে। এখনো পেশাদারি কাম ওইগুলা দিয়া চলে না। হার্ডকোর ইউজার হওনের পরও ওপেন অফিস ইউজ কর্তে গিয়া রণেভঙ্গ দিছি। ওপেনসোর্স আসলে অ্যামেচারদের টেস্টিংয়ের জায়গা।
এক্টা টিপস দেই। যারা এইচপি ল্যাপটপ ব্যবহার করেন, তারা ওইটাতে একইসঙ্গে ভাতও রান্না কর্তে পার্বেন। ল্যাপটপের কাম শেষ হৈলে ব্যাটারির সাইডের উপ্রে জাস্ট ভাতের ডেকচিটা রাখতে হৈব। এইচপির প্রতিষ্ঠাতা দুইজন মনে হয় মৈরা গেছে। নতুনগুলারে আমি চিনি না। ওইখানে কার পুন মারা যায় এক্টু পরামর্শ দেন তো?প্রথম প্রকাশ




