কোন্ অ্যান্টিভাইরাস ভালো আর কোনটা খারাপ- এই ধরনের মতামত আর পরামর্শ দেওয়ার ওয়েবসাইট কিংবা সংস্থা হাজারটা আছে ইন্টারনেটে। বলাবাহূল্য, বেশিরভাগই বাণিজ্যিক। খোদ পিসি ওয়ার্ল্ডের একটি রিভিউ দেখে গতকালই কষে মাইনাস দিয়ে এসেছি- এমনই বাণিজ্যিক সেই রিভিউ। অস্ট্রিয়ান স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এভি কম্পারেটিভস এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। স্বাধীন এই সংস্থাটির নিরীক্ষা আর মতামতকে গুরুত্বসহকারে নেওয়া হয় প্রযুক্তি অঙ্গনে। প্রতিষ্ঠিত কম্পানিগুলোর অ্যান্টিভাইরাস নিয়ে তারা প্রায় নিয়মিতভাবে পরীক্ষার আয়োজন করে থাকে। গত ফেব্রুয়ারিতেও ১২ লাখ ২৪ হাজার ৭৩২টি ভাইরাস নিয়ে একটি পরীক্ষা হয়ে গেল।এখন পর্যন্ত সেটাই সর্বশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা।১২ লাখ ১৯ হাজার ৩৭১ ভাইরাস শনাক্ত করে শীর্ষে আছে জি ডেটা অ্যান্টিভাইরাস। আর ১০ লাখের কিছু বেশি ভাইরাস শনাক্ত করে তালিকার নিচে স্থান পেয়েছে কিংসফট অ্যান্টিভাইরাস। এভিজি, সফোস, মাইক্রোসফট এসেনসিয়ালস তো আছেই, এমনকি ক্যাসপারস্কাইয়ের অবস্থানও সুবিধাজনক মনে হল না। তবে বাংলাদেশে অধুনা জনপ্রিয় অ্যাভিরা ক্রমশ উন্নতি করছে। নিচে ফলাফল দেখুন-
■ সবচেয়ে ভালো অ্যান্টিভাইরাস
► জি ডেটা
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৯.৬% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১০.৬ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
► অ্যাভিরা
সর্বশেষ অ্যান্টিভাইরাস (ফ্রি ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৯.৩% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১৭.৭ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
► ট্রাস্টপোর্ট
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৯.১% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ৫.৬ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
► পিসি টুলস
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ফ্রি ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৮.৭% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ৯.৭ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
► সিম্যানটেক
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৮.৬% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১৮.৬ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
► এফ-সিকিউর
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৭.৮% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ৫.৯ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : সবচেয়ে কম।
► ইসেট
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৭.৭% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ৮.৭ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : সবচেয়ে কম।
► বিটডিফেন্ডার
সর্বশেষ অ্যান্টিভাইরাস (ফ্রি ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৭.৫% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ৫.৪ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : সবচেয়ে কম।
► ইস্ক্যান
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৭.৫% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ৩.৭ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : সবচেয়ে কম।
► অ্যাভাস্ট
সর্বশেষ অ্যান্টিভাইরাস (ফ্রি ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৭.৩% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১৫.৫ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
► ক্যাসপারস্কাই
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৭.১% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১০.৭ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
■ ভালো অ্যান্টিভাইরাস
► ম্যাকাফি
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৮.৯% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ৬.৬ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : তুলনামূলক বেশি।
► প্যান্ডা
সর্বশেষ অ্যান্টিভাইরাস (ফ্রি ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৯.২% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১৭.১ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : তুলনামূলক বেশি।
► মাইক্রোসফট সিকিউরিটি এসেনসিয়ালস
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ফ্রি ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৬.৩% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ৫.৮ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : সবচেয়ে কম।
► সফোস
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৩.৭% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১৫.২ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
► এভিজি
সর্বশেষ অ্যান্টিভাইরাস (ফ্রি ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৪.২% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১৩.১ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
■ চলনসই অ্যান্টিভাইরাস
► কে-সেভেন
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৬.৪% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১২.৫ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : সবচেয়ে বেশি।
নোট
প্রতি সেকেন্ডে কতো মেগাবাইট ফাইল স্ক্যান করতে সক্ষম, সেটা হিসেব করে ফাইল স্ক্যানের গতির পরীক্ষাটি করা হয়েছে। কম্পিউটারের ক্ষমতার ওপরও স্ক্যানের গতি নির্ভর করে। এভি কম্পারেটিভস তাদের পরীক্ষাটি চালিয়েছিল যে কম্পিউটারে, তার স্পেসিফিকেশন এইরকম- উইন্ডোজ এক্সপি সার্ভিস প্যাক ৩, ইন্টেল কোর টু ডুয়ো ই৮৩০০/২.৮৩ গিগাহার্টজ, ২ গিগাবাইট রেম, সাটা টু হার্ডডিস্ক।
■ সবচেয়ে ভালো অ্যান্টিভাইরাস
► জি ডেটা
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৯.৬% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১০.৬ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
► অ্যাভিরা
সর্বশেষ অ্যান্টিভাইরাস (ফ্রি ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৯.৩% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১৭.৭ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
► ট্রাস্টপোর্ট
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৯.১% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ৫.৬ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
► পিসি টুলস
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ফ্রি ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৮.৭% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ৯.৭ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
► সিম্যানটেক
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৮.৬% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১৮.৬ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
► এফ-সিকিউর
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৭.৮% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ৫.৯ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : সবচেয়ে কম।
► ইসেট
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৭.৭% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ৮.৭ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : সবচেয়ে কম।
► বিটডিফেন্ডার
সর্বশেষ অ্যান্টিভাইরাস (ফ্রি ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৭.৫% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ৫.৪ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : সবচেয়ে কম।
► ইস্ক্যান
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৭.৫% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ৩.৭ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : সবচেয়ে কম।
► অ্যাভাস্ট
সর্বশেষ অ্যান্টিভাইরাস (ফ্রি ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৭.৩% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১৫.৫ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
► ক্যাসপারস্কাই
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৭.১% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১০.৭ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
■ ভালো অ্যান্টিভাইরাস
► ম্যাকাফি
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৮.৯% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ৬.৬ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : তুলনামূলক বেশি।
► প্যান্ডা
সর্বশেষ অ্যান্টিভাইরাস (ফ্রি ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৯.২% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১৭.১ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : তুলনামূলক বেশি।
► মাইক্রোসফট সিকিউরিটি এসেনসিয়ালস
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ফ্রি ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৬.৩% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ৫.৮ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : সবচেয়ে কম।
► সফোস
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৩.৭% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১৫.২ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
► এভিজি
সর্বশেষ অ্যান্টিভাইরাস (ফ্রি ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৪.২% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১৩.১ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : মোটামুটি কম।
■ চলনসই অ্যান্টিভাইরাস
► কে-সেভেন
সর্বশেষ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট (ট্রায়াল ভার্সন) | ভাইরাস শনাক্তকরণের হার : ৯৬.৪% | ফাইল স্ক্যানের গতি (প্রতি সেকেন্ডে) : ১২.৫ মেগাবাইট | ভুয়া ভাইরাস সতর্কীকরণের হার : সবচেয়ে বেশি।
নোট
প্রতি সেকেন্ডে কতো মেগাবাইট ফাইল স্ক্যান করতে সক্ষম, সেটা হিসেব করে ফাইল স্ক্যানের গতির পরীক্ষাটি করা হয়েছে। কম্পিউটারের ক্ষমতার ওপরও স্ক্যানের গতি নির্ভর করে। এভি কম্পারেটিভস তাদের পরীক্ষাটি চালিয়েছিল যে কম্পিউটারে, তার স্পেসিফিকেশন এইরকম- উইন্ডোজ এক্সপি সার্ভিস প্যাক ৩, ইন্টেল কোর টু ডুয়ো ই৮৩০০/২.৮৩ গিগাহার্টজ, ২ গিগাবাইট রেম, সাটা টু হার্ডডিস্ক।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): AV Comparatives, anti virus software, product reviews, anti-malware, internet security suite, detection rates, performance ;
প্রথম প্রকাশ
উইন্ডোজ ৯৮ ছিল, ২০০০ ছিল, মাঝখানে ক্ষণিকের জন্য উঁকি দিয়েছিল উইন্ডোজ মিলেনিয়াম, তারও পরে মহাসমারোহে আসে উইন্ডোজ ভিস্তা, আর সর্বশেষ উইন্ডোজ সেভেন। কিন্তু একটি অপারেটিং সিস্টেম, উইন্ডোজ এক্সপির মহিমাকে কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। বলা হয়ে থাকে, এমন স্ট্যাবল, এমন ব্যবহারবান্ধব অপারেটিং সিস্টেম সম্ভবত আর আসেনি।গলা টিপে মারার আয়োজন
ভিসতা আসার পর এক্সপিকে গলা টিপে মারার সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। তবে বিধির বিচার, ভিসতা নিজেই মাইক্রোসফটের সর্বকালের সবচেয়ে ফ্লপ ওএসের উদাহরণ হয়ে আছে। ভিসতার ফ্লপ হওয়া এবং লিনাক্সভিত্তিক নেটবুকের উত্থানের কারণে মাইক্রোসফট 'এক্সপি নিধন অভিযান' সাময়িক স্থগিত রাখে। সেটা অল্প সময়ের জন্যই, উইন্ডোজ সেভেন রিলিজ হওয়ার পর পুরনো নেশা আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এক্সপি যতোদিন না মরবে, উইন্ডোজ সেভেনের বিক্রি ততোদিন বাড়বে না- এ হল সরল সমীকরণ। ভিসতা ফ্লপ হওয়ার পর উইন্ডোজ সেভেনের বেলায় যেন সেই দুর্দশা নেমে না আসে, সেজন্য মাইক্রোসফট এখন অনেক সতর্ক। সতর্ক হওয়া মানেই এক্সপির ওপর খড়গ আরো কঠোর হওয়া। মাইক্রোসফট গত বছরই পই পই করে বলে দিয়েছিল, ২০০৯ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে এক্সপির জন্য কোনো সাপোর্ট দেওয়া হবে না। উইন্ডোজ এক্সপির জন্য সিকিউরিটি প্যাচ তৈরি করা হবে আরো চার বছর, ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত।
এক্সপি বন্দনা
উইন্ডোজ ভিস্তা রিলিজ হওয়ার আগ পর্যন্ত সারা বিশ্বের কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে এক্সপি ব্যবহার করছিলেন। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি ব্যবহারকারী এক্সপি ব্যবহার করছেন। যদি ভুল না হয়ে থাকে, ইন্টারনেটে আমাদের বাংলা লেখাও শুরু হয়েছিল ২০০১ সালে রিলিজ হওয়া এক্সপিকে সঙ্গী করেই। উইন্ডোজে প্রথম বাংলা সাপোর্টও বোধহয় এক্সপিতেই পাওয়া গিয়েছিল প্রথম। উইন্ডোজ ৯৮ এ যখন-তখন সেটআপ দেওয়া নিয়ে নিত্যই যেখানে উদ্বিগ্ন থাকতে হতো, এক্সপি এসে সেই উদ্বেগ কমিয়ে দিয়েছিল অনেকখানিই। সবমিলিয়ে বলাটাই বাহুল্য, এক্সপির সঙ্গে অনেক স্মৃতি, অনেক আবেগ জড়িয়ে আছে। তবে প্রযুক্তিজগতে পুরনোর মূল্য নেই, মানুষ মনে রাখে না। সুতরাং বেশিদিন নয়, চৌকোনো মনিটরে সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশ লুটোপুটি খাবে না আর।
এক্সপির বিদায়ঘন্টা শুনতে কি পাচ্ছেন?
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): windows xp, windows vista, windows xp update, windows xp sp2, windows xp sp3, bliss, windows7 ;
প্রথম প্রকাশ
'দাদা আমি এখনো যে ইশকুলে পড়ি, কব্জির জোরে তাই পারবো না...' - এভাবে, নিরীহ এক গোবেচারা ভাবমূর্তি নিয়ে, রাজ্যের সমস্ত দ্বিধা সঙ্গী করে ল্যাপটপের পদার্পণ ঘটেছিল একদা, নির্দিষ্ট করে বললে ১৯৮৩ সালে। এরপর বহুকাল ধরে ডেস্কটপ আর ল্যাপটপের লড়াইটা ছিল একেবারেই অসম, শ্রেফ কুকুর-বেড়ালের লড়াই। ডেস্কটপের কব্জির জোরে কোলের ওপর শুয়ে থাকা রূপসী ল্যাপটপ পেরে উঠছিল না কিছুতেই। আমাদের কম্পিউটার বিশেষজ্ঞদের কাছে মতামত জানতে চাইলে শুনতে হতো সেই একই রেকর্ড- "কিনতারেন। টুকটাক কাজ করবেন-টরবেন এই আর কী!" ল্যাপটপ কিনতে চেয়ে 'বড় কাজ করার জন্য ডেস্কটপ লাগবেই' গোছের শ্লেষ শুনেছি আমি নিজেই। ম্যানচেস্টার মার্ক থেকে টাচস্মার্ট
আশির দশক থেকে আসলে বিকল্প খোঁজার সুযোগই রাখছিল না চৌকোনো বাক্সের কারিগররা। ঊনপঞ্চাশের ম্যানচেস্টার মার্ক থেকে আইবিএমের মার্ক এইট অ্যালটেয়ার, তিরাশির অ্যাপল লিজা থেকে ম্যাকিন্টোস কিংবা ইদানিংকার এইচপি টাচস্মার্ট। এভাবে ডেস্কটপ নানান সাজে, নানান রূপে, নানান ঢঙে হাজির হয়েছে আমাদের সামনে, বছরের পর বছর। মনে থাকার কথা, এই ডেস্কটপকে কেন্দ্র করে পঁচাশিতে শুরু হয়েছিল অ্যাপল-মাইক্রোসফটের সেই বিখ্যাত দ্বৈরথ। ইন্টারনেট তখনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেনি, মূলত ওই ডেস্কটপকে ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে মাইক্রোসফট হয়ে উঠেছিল প্রযুক্তিজগতের রাজাধিরাজ। সেই ডেস্কটপ, আহা সেই ডেস্কটপ! এই লেখা যখন লিখছি, নিঃসাড় পড়ে থাকা ডেস্কটপ পিসিটার দিকে তাকিয়ে স্মরণ করার চেষ্টা করছি, ঠিক কবে নাগাদ ওটা শেষ ব্যবহার করেছিলাম? বছরদুয়েক হবে নিশ্চয়ই কিংবা তারও বেশি।
ল্যাপটপের লাবণ্য
বিক্রির সংখ্যা বিবেচনায় নিলে বছরকয়েক আগেই ডেস্কটপ হেরে গেছে ল্যাপটপের কাছে, সুস্পষ্ট ব্যবধানে। বহনযোগ্যতা, বেশি স্টোরেজ, উন্নত গ্রাফিক্সের সুবিধা ছাড়াও দিনে দিনে নেমে আসা মূল্যতালিকাই মূলত ল্যাপটপকে জনপ্রিয় করেছে- এ বলাই বাহূল্য। ডেস্কটপের সব সক্ষমতা ল্যাপটপ এখন নিজেই ধারণ করছে। ল্যাপির কথা বাদ দেই, মামুলি ওই আইফোনেই তো এখন বসে গেছে পুরো ডেস্কটপ কি-বোর্ড। আমি নিজে অনেক ভারী ভারী অ্যাপ্লিকেশন ল্যাপটপেই স্বচ্ছন্দে চালিয়ে যাচ্ছি। প্রসেসর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও দেখছি, পোর্টেবল কম্পিউটারভিত্তিক প্রসেসর তৈরিতে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি মনোযোগী এখন। দিন দিন বাড়ছে ডিসপ্লের পরিধিও। কদিন আগে তোশিবা দেখলাম, ১৮.৪ ইঞ্চি ডিসপ্লের পিসি এনেছে এই ঢাকার বাজারে।
হেই মিয়া, ডেস্কটপের প্রয়োজন কি ফুরোল তাহলে?
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): laptop, desktop, hp-touchsmart, mark8, worlds first laptop, apple, microsoft, toshiba, apple lisa, macintosh, desktop vs. laptop ;
প্রথম প্রকাশ

