• Home
  • Contact
  • About
  • RSS
  • My Somewherein blog
  • Facebook
  • Twitter
  • Problem with Bengali Font?

  • মূলপাতা
  • স্বদেশ
    • সবিশেষ
    • মুক্তিযুদ্ধ
    • রাজনীতি
    • সমসাময়িক
    • প্রতিরক্ষা
    • ধর্ম
    • পার্বত্য চট্টগ্রাম
    • মানবাধিকার
  • মিডিয়া
    • গণমাধ্যম
    • ই-সংকলন
    • বইপত্র
    • ▬▬
    • বাংলা দৈনিক
      • আরো »
        • আমার দেশ
        • আমাদের সময়
        • বাংলাদেশ প্রতিদিন
        • সংবাদ
        • যায়যায়দিন
        • মানবজমিন
        • ভোরের কাগজ
        • আমাদের অর্থনীতি
        • ডেস্টিনি
      • প্রথম আলো
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • কালের কন্ঠ
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • যুগান্তর
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • সমকাল
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • ইত্তেফাক
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • জনকণ্ঠ
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • নয়া দিগন্ত
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • সকালের খবর
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
    • ইংরেজি দৈনিক
      • ডেইলি স্টার
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
        • সাপ্লিমেন্টস
      • সান
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • ইন্ডিপেন্ডেন্ট
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • নিউ এইজ
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • বাংলাদেশ টুডে
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • আওয়ার টাইম
    • সংবাদ সংস্থা
      • আরো »
        • ফোকাস বাংলা
        • বিডি স্পোর্টস নিউজ
        • ঢাকা নিউজ
        • আরটিএনএন
        • রেডটাইমস
        • বিএনএন
        • বাংলাদেশ নিউজ
      • বিডিনিউজ
      • বাংলা নিউজ
      • বাসস
      • ইউএনবি
      • শীর্ষনিউজ
      • দি এডিটর
    • রেডিও-টেলিভিশন
      • রেডিও »
        • রেডিও ফূর্তি
        • রেডিও টুডে
        • এবিসি রেডিও
        • রেডিও লিংক
      • আরো »
        • বৈশাখী
        • দিগন্ত টিভি
        • বাংলা ভিশন
        • ইসলামিক টিভি
        • আরটিভি
        • মোহনা
        • মাই টিভি
      • চ্যানেল আই
      • এটিএন বাংলা
      • এনটিভি
      • দেশ টিভি
      • একুশে টিভি
    • সাময়িকী
      • আরো »
        • আরো »
          • আরো »
            • খবর
            • ডয়চে ভেলে
            • রেডিও ইরান
            • রেডিও চায়না
            • ই-বাংলাদেশ
            • খেলার খবর
            • সাময়িকী
          • মনোজগত
          • প্রবাসে প্রতিদিন
          • নতুন দেশ
          • ইউকে বেঙ্গলি
          • লন্ডন বাংলা
          • এনওয়াই বাংলা
          • ইউরো বাংলা
          • দশদিক
        • প্রোব ম্যাগাজিন
        • চিন্তা
        • একপক্ষ
        • নতুনধারা
        • বাংলামাটি
        • কম্পিউটার জগৎ
        • কম্পিউটার বার্তা
        • কালিকলম
      • সাপ্তাহিক
      • সাপ্তাহিক ২০০০
      • বুধবার
      • বিচিন্তা
      • কাগজ
      • সচিত্র সময়
      • ডিজিটাল সময়
      • মিডিয়া ওয়াচ
    • অনলাইন
      • এক
      • দুই
      • তিন
    • অন্যান্য
  • ব্লগ
    • ব্লগ পর্যালোচনা
    • ব্লগ বিতর্ক
    • ব্লগ স্যাটায়ার
    • ব্লগপিডিয়া
    • ব্লগতালিকা
      • আরো »
        • নাগরিক ব্লগ
        • একুশে ব্লগ
        • সোনার বাংলা ব্লগ
        • মুক্ত ব্লগ
        • চতুর্মাত্রিক ব্লগ
        • আমার বর্ণমালা ব্লগ
        • ওপেস্ট ব্লগ
      • সামহোয়্যারইন ব্লগ
      • প্রথম আলো ব্লগ
      • সচলায়তন
      • আমার ব্লগ
      • বিডিনিউজ ব্লগ
      • টেকটিউনস
      • গ্লোবাল ভয়েসেস বাংলা
  • গদ্যকার্টুন
    • গদ্যকার্টুন
    • ক্যারিকেচার
    • ব্লগ স্যাটায়ার
    • টেক-হিউমার
    • রস+আলো সংগ্রহ
  • প্রযুক্তি
    • প্রযুক্তি
    • কম্পিউটার
    • ইন্টারনেট
    • মোবাইল
    • সফটওয়্যার
    • হ্যাকিং
  • বিনোদন
    • বিনোদন
    • বেড়ানো
    • খেলা
    • সিনেমা
    • ডকুমেন্টারি
  • বিবিধ
    • ওয়ার্কশপ
      • আশাজাগানিয়া
      • ছিন্ন চিন্তাবলী
      • মুজতবা হোসেন মুরশেদ
    • দূরের জানালা
    • স্মৃতিকথা
    • গার্হস্থ্য
    • দিনলিপি
  • হেল্পলাইন
    • কনভার্টার
      • ইউনিকোড লেখনী ও পরিবর্তক
      • বাংলা কম্পিউটিং কনভার্টার
    • অভিধান
      • ইংরেজি থেকে বাংলা
      • বাংলা থেকে ইংরেজি
    • অনুবাদ
      • ইংরেজি থেকে বাংলা
      • বাংলা থেকে ইংরেজি
    • অভ্র কি-বোর্ড
    • টুইটার স্ট্যাটাস বাংলায়
  • ডাউনলোড
    • ই-সংকলন
      • ফিরে দেখা একাত্তর
      • প্রিয় কবিতা
    • সফটওয়্যার
      • ট্রু-ক্রিপ্ট
      • সেভেন জিপ
    • গুগল কোড
  • ভিডিও
    • রাজনৈতিক
    • অন্যান্য
BANGLADESH
liberation-war লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাঙামাটি মহকুমা সদরের এসডিও ছিলেন যে আবদুল আলী, তিনি বেঁচে নেই। এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়েছিল মর্মান্তিকভাবে। দৈবাৎ যদি বেঁচে থাকতেন, তার মুখ থেকে নিখুঁতভাবে জানা যেতো, পাকিস্তান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার পরও একাত্তরের এপ্রিলে কী করে তিনি দুটি স্পিডবোটযোগে মহালছড়ি থেকে রাঙামাটিতে নিয়ে এসেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দলকে। জানতাম, তার সেই এক মূহূর্তের ভুলের কথা, যার ফল তিনি পেয়েছিলেন নিজের জীবন দিয়ে। ঘূণাক্ষরেও তিনি টের পাননি, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আসার আগেই চট্টগ্রামের নতুনপাড়ায় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারে আগেই চাকমা রাজা গোপনে বৈঠক করে এসেছেন পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে। বৈঠকের পরপরই সঙ্গোপনে চাকমা রাজার সঙ্গে রাঙামাটি আসে পাকিস্তানি কয়েকজন জুনিয়র অফিসার। প্রায় একই সঙ্গে কাপ্তাই থেকে পাকিস্তানি হানাদারদের একটি দল কয়েকটি লঞ্চ ও স্ডিপবোট নিয়ে রাঙামাটি এসে চুপিসারে অবস্থান নেয়। যা হওয়ার তাই হল। ভারত প্রত্যাগত মুক্তিযোদ্ধাদের দল রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের বাংলোর কাছাকাছি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে মুক্তিযোদ্ধারা ধরা পড়লেন। একপর্যায়ে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই রাঙামাটি দখল করে নেয় পাক হানাদাররা। সেই এসডিও আবদুল আলীর পরিণতি হয়েছিল মর্মান্তিক। শরবিন্দু শেখর চাকমার 'মুক্তিযুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রাম' বইয়ে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে এভাবে- রাঙামাটি পুলিশ লাইনের এক ব্যারাকে আটক করে রেখে আবদুল আলীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্লেড দিয়ে আঁচড় দিয়ে সেসব জায়গায় লবণ দেওয়া হয়েছিল। এরপর তাকে একটি জিপের পিছনে বেঁধে টেনে রাঙামাটির বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয়।

নেপথ্যে সেই একজন
এই সবকিছুর মূলে, সমস্ত ঘটনার নেপথ্যে কলকাঠি নেড়ে গেছেন একজন দালাল, একজন বিশ্বাসঘাতক, একজন যুদ্ধাপরাধী - চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়। নিজের আত্মজীবনী 'ডিপার্টেড মেলোডি'তে সেই ত্রিদিব রায়ের নিজের স্বীকারোক্তি এসেছে এভাবে- ‌১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল সকালে তিনি (রাজা ত্রিদিব রায়) তার ভগ্নিপতি কর্নেল হিউম, ম্যাজিস্ট্রেট মোনায়েম চৌধুরী, হজরত আলী এবং আরো কয়েকজন বাঙালি মুসলিম লীগ নেতাসহ চট্টগ্রামের নতুন পাড়ায় অবস্থিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেন্টারের পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। পাকিস্তানি হানাদারদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় যে ম্যাজিস্ট্রেট মোনায়েম চৌধুরী এবং রাজা ত্রিদিব রায়ের সঙ্গে আসা আরো কয়েকজন বাঙালি ঢাকা থেকে আসা জুনিয়র অফিসারকে সঙ্গে করে কাপ্তাইয়ে যাবেন। ঠিক সেদিনই বিকেলে কাপ্তাই থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল কয়েকটি লঞ্চ এবং স্পিডবোট নিয়ে রাঙামাটি আসে এবং বিনা প্রতিরোধে দখল করে নেয়।



যুদ্ধাপরাধী এক সাচ্চা পাকিস্তানির প্রতিকৃতি
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বেঁচে থাকলে বিস্মিত হতেন আজ। কারণ ত্রিদিব রায় তার চেয়েও সাচ্চা পাকিস্তানি হয়ে উঠেছিলেন। পাকিস্তানি হওয়া অপরাধ নয়, কিন্তু এই লোকের গায়ে যুদ্ধাপরাধের ঘনঘোর কালিমা লেগে ছিল আমৃত্যু। একাত্তরে এই লোক স্বজাতির সঙ্গে বেঈমানি করে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যায় প্রত্যক্ষ মদদ দিয়ে গেছেন। একাত্তরে রাঙামাটিতে যতো গণহত্যা চলেছে, সবগুলোর পেছনেই তার প্রত্যক্ষ মদদ ছিল। পরাজয় আঁচ করতে পেরে মুক্তিযুদ্ধের শেষ সময়ে তিনি পাকিস্তানে চলে যান। ওই সময়ে তাকে পাকিস্তান সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে শ্রীলংকা, বার্মা, থাইল্যান্ডসহ বৌদ্ধপ্রধান দেশগুলোতে পাঠানো হয় পাকিস্তানের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তার অভিযোগে দালাল আইনে অভিযুক্তদের একটি তালিকা প্রকাশ করা ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি, দৈনিক বাংলায়। ওই তালিকার ৮ নম্বরে রাজা ত্রিদিব রায়, আর ১২ নম্বরে গোলাম আযম! ১২ নম্বর দালাল তবু ষড়যন্ত্রের নতুন মিশন নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছিল, কিন্তু আট নম্বর দালাল ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের পদসেবাতেই নিজেকে নিয়োগ করেছিলেন। খোদ পাকিস্তানের মানুষই তাকে বিদ্রুপ করে বলতো- উজির-ই-খামাখা। আজন্ম এই বিদ্রুপ মাথায় নিয়েও তিনি পেয়ারা পাকিস্তানের সেবা করে গেছেন। ১৯৭২ সালে ত্রিদিব রায়কে ফিরিয়ে আনার জন্য তার স্ত্রী বিনীত রায়কে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তিনি ঘৃণাভরে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। পাকিস্তানের প্রতি এই আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবে ওই সময়ের পাকি প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভূট্টো তার সম্মানে বিশেষ ভোজসভার আয়োজন করেছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিত্ব ছাড়াও ত্রিদিব রায় বিভিন্ন দেশে হয়েছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত।

যুদ্ধাপরাধীকে বরণে সরকারের বিস্ময়কর আগ্রহ
এই গুণধর যুদ্ধাপরাধী ত্রিদিব রায়, যিনি বর্তমান চাকমা সার্কেলপ্রধান ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের বাবা, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ৭৯ বছর বয়সে মারা গেছেন তার স্বপ্নভূমি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। সেই পাকিস্তানি দালালের লাশ এখন ৩০ লাখ শহীদের রক্তস্নাত এই বাংলাদেশের মাটিতে নিয়ে আসার জোর চেষ্টা চলছে। বঙ্গভবনে কদিন আগে অনুষ্ঠিত পাবর্ত্য অঞ্চলের হেডম্যানদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছেন বলে খবর বেরিয়েছে। অথচ এই লোক তার সারাজীবনই বাংলাদেশকে ঘৃণা করে এসেছেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ তার কাছে ছিল শ্রেফ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, পাকিস্তানে থেকেও নানাভাবে নানা কৌশলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত রাখতে ভূমিকা পালন করেছেন, মৃত্যুর পরও সেই লোকের স্থান কিভাবে হয় এই বাংলাদেশে? তবু সেটিই ঘটতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রযন্ত্র ত্রিদিব রায়কে বরণের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছে ইতিমধ্যে। চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়ের পরিবার ঠিক এই মুহূর্তে ঢাকায়। বিশেষ মর্যাদায় এক দালালের লাশ নেওয়ার অপেক্ষায় তারা ক্ষণ গুণছে।

পাকিস্তানের এই দাসানুদাসকে বাংলাদেশের মাটিতে সমাহিত করার ইচ্ছাসংবলিত একটি আবেদন গত আট বছর ধরেই ঝুলছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তাও সেটি ত্রিদিব রায়ের নিজের করা আবেদন ছিল না। বাংলাদেশের প্রতি এমনই ঘৃণা ছিল তার। পাকিস্তান সরকারকে লেখা তার একটি চিঠির অংশবিশেষ উল্লেখ করে পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে ২০০৪ সালে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বার্তায় ওই আবেদন করা হয়েছিল। পাকিস্তান সরকারও একাধিকবার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানায় বাংলাদেশকে। মাঝখানে বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোর্শেদ খান মানবিক বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশ দিলেও পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা স্পর্শকাতর ভেবে বিষয়টি নিয়ে আর এগোতে চাননি। সেই থেকে ঝুলছিল পাকিস্তান হাইকমিশনের আবেদন। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল যে আওয়ামী লীগ সরকার, তারাই বিনা বাক্যব্যয়ে, অনেকটা নিজেদের উদ্যোগে যুদ্ধাপরাধী ত্রিদিব রায়ের লাশ পাকিস্তান থেকে বরণ করে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত এখন। এই সরকারের লীলা বোঝা বড়ো কঠিন! ভোটের রাজনীতি বোঝা তার চেয়েও কঠিন। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে পাহাড়ি চাকমাদের মন জয় করাই কি সরকারের মূল উদ্দেশ্য, নাকি অন্য কিছু? অথচ বঙ্গভবনের সামনে যে মাঠ, তার নিচে যে মাটি, সেখানে কান পাতলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুনতে পেতেন - যুদ্ধাপরাধী ত্রিদিব রায়কে গ্রহণ করার জন্য শহীদের রক্তে ভেজা এই মাটি প্রস্তুত নয়। পাকিস্তানের পরিত্যক্ত ওই জঞ্জাল এই মাটি চায় না।

হায় দুঃখিনী বাংলাদেশ!
রাঙামাটির বুড়িঘাটেই শুয়ে আছেন আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফ, সহযোদ্ধাদের জন্য নিরাপদ পথ তৈরি করে দিতে গিয়ে একাই লড়ে নিজে ঝাজরা হয়ে গিয়েছিলেন শত্রুর গুলিতে। সেই মাটিতেই বিশেষ মর্যাদায় সমাহিত হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী ৮ নম্বর দালাল! শুনেছি, রাঙামাটিতে রীতিমতো নাগরিক সংবর্ধনা কমিটি হয়েছে, গোপনে চলছে বিপুল আয়োজনের প্রস্তুতি। একাত্তরে যে লোকের ইশারায় পাকিস্তানি হানাদাররা শত শত মায়ের বুক খালি করেছে, দেশের পর দেশ ঘুরে যে লোক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে গেছেন, সেই কুলাঙ্গারের লাশ যখন শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়েতে নামবে, বোবা কান্নায় একটু কি কেঁপে উঠবে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই দুঃখিনী বাংলাদেশ?

সংযুক্তি
● পাকিস্তানি পত্রিকায় ৮ নম্বর দালালের মৃত্যুসংবাদ
এসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান | ডেইলি ডন | পাকিস্তান অবজারভার
● পাকিস্তানে এক চাকমা রাজা : মূল প্রতিবেদন | অনুবাদ
● আদিবাসী রাজাকারদের কেন বিচার হবে না
● বাংলাদেশে সমাধি চান পাকিস্তানের 'উজির-এ-খামাখা'
● রাঙামাটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা
● যেভাবে যুদ্ধাপরাধী হয়ে উঠলো রাজা ত্রিদিব রায়

প্রথম প্রকাশ : সামহোয়্যারইন ব্লগ
১৯৭১ সালে ইসলামী ছাত্রসংঘ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি আবু তাহের ছিলো ফ্যাসিস্ট আলবদর বাহিনীর কুখ্যাত সংগঠক। তার নেতৃত্বে চট্টগ্রামের নন্দনকাননস্থ 'ডালিম ভবন' এ স্থাপিত হয় চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম মূল নির্যাতন ও হত্যাকেন্দ্র। রাজনৈতিক নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষসহ স্বাধীনতা প্রত্যাশী মানুষকে ২০-২২টি কক্ষে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো। প্রতিটি পাড়ার ইসলামী ছাত্র সংঘের গোয়েন্দারা রিপোর্ট পাঠাতো আর রাতে বাড়ি ঘেরাও করে আলবদর বাহিনী ডালিম হোটেলে নিয়ে আসতো সাধারণ মানুষকে। লিস্ট অনুযায়ী তৈরি হতো তাদের জন্য আলাদা আলাদা ফাইল। ফাইল অনুযায়ী নির্যাতন চলতো।

ওই যুদ্ধাপরাধী ৩০ সেপ্টেম্বর '৭১ এ ইসলামী ছাত্রসংঘের (বর্তমানে ইসলামী ছাত্রশিবির) বার্ষিক সম্মেলনে যোগদানের নামে পাকিস্তানে গিয়ে গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের সহি তালিম নিয়ে আসে। পাকিস্তানী হানাদারদের পদলেহী এ শয়তান '৭১ এর ১১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জামাত আহূত 'হিন্দুস্তান খতম কর' দিবসের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দৈনিক আজাদীতে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতের দালাল আখ্যায়িত করে তাদের খতম করার মাধ্যমে পাকিস্তান রক্ষার আহবান জানায়।

কুখ্যাত এই যুদ্ধাপরাধী দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম মহানগর জামাতের আমীর ছিল। বর্তমানে জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের অন্যতম উদ্যোক্তা। উল্লেখ্য, তার এক কন্যা ব্লগে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধাপরাধীদের সপক্ষে সুকৌশলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাকে তার পিতার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার আহবান জানাই।

কৃতজ্ঞতা
নাম না জানা সেই ব্লগারের প্রতি কৃতজ্ঞতা রইল, যিনি বই ও দৈনিক সংগ্রামের পেপার কাটিং এবং অন্যান্য তথ্য সরবরাহ করেছেন আমাকে।


প্রথম প্রকাশ
জনপ্রতিনিধি হয়েও আওয়ামী লীগের ২৫ নেতা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। তাদের কেউ ছিলেন এমএনএ (জাতীয় পরিষদ সদস্য) আবার কেউ ছিলেন এমপিএ (প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য)। মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গেও তাদের কয়েকজন যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকারি ও দলীয় সিদ্ধান্তে ’৭১ ও ’৭২ সালেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ বিষয়ে আজ দৈনিক আমাদের সময়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

শাহেদা খানমের লেখা ওই প্রতিবেদনে এরকম ২৫ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন, একেএম মাহবুবুল ইসলাম (পাবনা), একে ফায়জুল হক (বরিশাল), অধ্যাপক শামসুল হক (চট্টগ্রাম), অংশু প্রু চৌধুরী (পার্বত্য চট্টগ্রাম), ডা. আজাহার উদ্দিন (ভোলা), একেএম মাহবুবুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জ) ও আহমদ সাগির হোসেন। এছাড়া তৎকালীন আওয়ামী লীগ থেকে আরো যেসব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেন তারা হচ্ছেন- আবু সোলায়মান মণ্ডল (পীরগঞ্জ, রংপুর), আজিজুর রহমান (গাইবান্ধা), নুরুল হক (রংপুর), এনসান আলী মুক্তার (টাঙ্গাইল) একেএম মোশাররফ হোসেন (ময়মনসিংহ), আফজাল হোসেন (নারায়ণগঞ্জ), ওবায়দুল্লা মজুমদার (নোয়াখালী), সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম), মো. মঈনুদ্দীন মিয়াজী (যশোর), হাবিবুর রহমান খান (খুলনা), মো. হাবিবুর রহমান (বগুড়া), জহির উদ্দিন (মোহাম্মদপুর, ঢাকা), সৈয়দ হোসেইন মনসুর (পাবনা), মো. আবদুল গাফফার (সাতক্ষীরা), মো. সাঈদ (খুলনা), মোশাররফ হোসেন শাহজাহান (ভোলা), , সৈয়দ বদরুজ্জান ওরফে এসবি জামান (ময়মনসিংহ)।

সংযোজনী
মোশাররফ হোসেন শাহজাহান পরে বিএনপিতে যোগ দেন। এবং অনুমান করছি, ফরিদপুরের এবিএম নুরুল ইসলাম সম্ভবত বর্তমান শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাবা। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, মুক্তিযু্দ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল আওয়ামী লীগই। তবে ভালো হোক কিংবা মন্দ হোক- ইতিহাস এড়িয়ে যাওয়া কিছুতেই নয়, ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।


প্রথম প্রকাশ
ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহবায়ক ডা. এম এ হাসান অসামান্য এক মানুষ। দিনের পর দিন অসীম ধৈর্য্য নিয়ে তিনি সংগ্রহ করেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে নানা তথ্য, উপাত্ত, প্রামাণ্য দলিল। কদিন আগে এই সবকিছু তিনি হস্তান্তর করেছেন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্তে গঠিত ট্রাইব্যুনালের কাছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাজাকার, আলবদর ও শান্তি কমিটির সদস্যদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকাটি গুরুত্বপূর্ণ নিঃসন্দেহে। এই তালিকার ওপর নির্ভরও করা যায়। তবে একটা কিন্তু আছে!

গোটা ফরিদপুর অঞ্চল খুঁজেও শেখ হাসিনার বেয়াই বর্তমান শ্রম ও জনশক্তিমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পিতা নুরু মিয়া, যিনি একাত্তরে শান্তি কমিটির স্থানীয় চেয়ারম্যান ছিলেন, তার নাম ওই তালিকায় খুঁজে পেলাম না! ফরিদপুর জেলায় শান্তি কমিটির সদস্যদের তালিকায় দেখছি চারটি মাত্র নাম- ডা: কাজী ইমদাদুল হক, আজিরুদ্দীন খান, আনিস কাজী ও আদিল উদ্দীন হাওলাদার। তাহলে কি নুরু মিয়া ইতিমধ্যে মৃত বলে তার নাম যুক্ত করা হয়নি? সেটাই বা কিভাবে হয়! ঢাকার রায়েরবাজারের এক ঘৃণ্য রাজাকার হেদায়েত উল্লাহ, মৃত হলেও তার নাম তালিকায় এসেছে। অবশ্য এমন না যে, নুরু মিয়ার নাম না থাকায় তালিকাটি গুরুত্ব হারিয়েছে। সেটা হতেই পারে না। নুরু মিয়া না থাকলেও সেটা যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ওই তালিকায় নুরু মিয়ার থাকাটা জরুরি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই বর্তমান শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রীর পিতা হলেও তার একাত্তরের অপরাধ ম্লান হয়ে যায় না- এটা জানান দেওয়ার জন্যই জরুরি। হ্যাঁ, নিজামী-মুজাহিদ-কামারুজ্জামান কিংবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে নুরু মিয়াকে মেলানো যায় না। ওই নরপশুদের যে অপরাধ, নুরু মিয়া সেই মাপের অপরাধীও হয়তো নয়। কিন্তু শান্তি কমিটির শীর্ষ সারির নেতা মানেই সে অপরাধী, দ্বিধাহীনভাবেই। মরণোত্তর বিচার হয়তো না হতে পারে তার, কিন্তু শান্তি কমিটির ঘৃণ্য সদস্যদের তালিকায় নুরু মিয়ার নাম গোটা গোটা অক্ষরে লেখা থাকতেই হবে। এর প্রতীকী গুরুত্ব আছে। শেখ হাসিনার বেয়াইয়ের পিতা হওয়ার সুবাদে শান্তি কমিটির এক ঘৃণ্য সদস্যের নাম কাটা গেছে বা যাবে- এমন ছোটলোকী, এমন অন্যায়, এমন জোচ্চুরি জীবনেও মেনে নেবো না। এই অপবাদ শেষ বিচারে আওয়ামী লীগের জন্যও ভালো হবে না।


ঘৃণ্য রাজাকার মুসা বিন শমশের তাহলে 'মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক'?
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায়, তখন দৈনিক জনকন্ঠে 'তুই রাজাকার' শীর্ষক এক ধারাবাহিক সিরিজে ফরিদপুরের কুখ্যাত রাজাকার মুসা বিন শমশেরের একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে লোমহর্ষক কাহিনী ছাপা হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। জনকন্ঠের সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের ওপর নারকীয় হামলা চালায় মুসা বিন শমশেরের ভাড়াটে গুন্ডারা। পরে গুরুতর আহত ওই সাংবাদিকের পা কেটে ফেলতে হয়েছিল। শুরু হয় তার পঙ্গুজীবন। আরো পরে শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলের সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিয়ে আলোচনায় আসে মুসা বিন শমশের। ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির তালিকায় ফরিদপুর জেলার প্রধান ১৩ জন রাজাকারের মধ্যে তার নাম আছে শুরুর দিকেই। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর, আজ থেকে মাত্র দুদিন আগে মুসা বিন শমশের ওরফে নুলা মুসা নিজেকে রীতিমতো 'মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক' হিসেবে দাবি করে বসে আছে!

আমাদের সময়ের সংবাদটি দেখুন- 'ডেটকোর চেয়ারম্যান ড. মুসা বিন শমশের নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক দাবি করে বলেছেন, গতকাল দৈনিক আমাদের সময়-এ প্রকাশিত ‘আওয়ামী লীগে যুদ্ধাপরাধী খুঁজছে বিএনপি’ শীর্ষক সংবাদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। গতকাল পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে আমার বলিষ্ঠ ভূমিকা ও নেতৃত্ব ছিল। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের একপর্যায়ে ২২ এপ্রিল পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হই। পাক-হানাদার বাহিনী আমাক দীর্ঘ ৮ মাস আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। ৯ ডিসেম্বর কয়েদখানা থেকে মুক্তি লাভ করে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হই। বর্তমান সরকারের যুদ্ধাপরাধী বিচারের কার্যক্রমকে নস্যাৎ করার জন্য কিছু স্বার্থান্বেষীমহল এ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে তিনি প্রতিবাদলিপিতে দাবি করেন।'

হায়!
---
ছবিতে বসা অবস্থায় (বাঁ থেকে) কানিজ ফাতেমা, ববি হাজ্জাই, শেখ জহরত মাহ্না, ব্যারিস্টার রাশমা ইমাম, মুসা বিন শমশের। দাঁড়ানো আছেন ব্যারিস্টার রেশাদ ইমাম, শেখ ফজলে ফাহিম, ন্যান্সি জাহরা, ব্যারিস্টার জুবি ইজ্জত, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম।


প্রথম প্রকাশ
আল মাহমুদের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আরিফ জেবতিক। তিনি আল মাহমুদের আত্মজীবনী থেকে হাস্যকরভাবে কিছু উদ্ধৃতি তুলে ধরে ব্যাখ্যা দেওয়ার ভান করেছেন। ওই ভান বা ব্যাখ্যা আরো হাস্যকর। তিনি, যিনি মূলত একজন ব্যবসায়ী, সেই আরিফ জেবতিক আল মাহমুদ প্রসঙ্গে উপসংহার টানছেন এভাবে-
"কবির আত্মজীবনী পড়ার পরে আর অন্যান্য বইয়ের রেফারেন্স টানার দরকার মনে করছি না । ৭১ সালে কবি কী করেছেন , কী করেন নি , সেটা উনার ব্যক্তিগত ব্যাপার । কিন্তু সার্বিক বিচার করে মনে হচ্ছে কবি আল মাহমুদ আসলে প্রভাবশালী ভগ্নীপতির ছত্রছায়ায় কলকাতার জীবনে খুবই আরামে ছিলেন । ভগ্নিপতি তাকে একটি আইডি কার্ড ধরিয়ে দিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সাথে এটাই কবির প্রত্যক্ষ যোগাযোগের বড় পরিচয় ।দেখা যাচ্ছে , আত্মীয় স্বজন মামা চাচার জোরের বিষয়টা বাংলাদেশ সরকার গঠিত হওয়ার সাথে একই সময়েই জন্ম নিয়েছিল। কবি আল মাহমুদকে যদি মুক্তিযোদ্ধা কবি বলা হয়, ইতিহাস বিকৃতির তালিকাকে দীর্ঘ করা ছাড়া সেটা আর কোন কাজে আসে না।"

ভালোমতো খোঁজ নিলে দেখা যাবে, কলকাতায় গিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগের দুই-তৃতীয়াংশ নেতাই বিলাসী জীবনে মত্ত ছিলেন। আল মাহমুদকে যদি মুক্তিযোদ্ধা থেকে খারিজ করে দেওয়া যায়, তাহলে তো কলকাতায় মৌজফূর্তি করে কাটানো তৎকালীন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকে রাজাকারিতার দায়ে অভিযুক্ত করা যায়।
যুদ্ধের পুরো নয় মাস ঢাকা আর নিজের গ্রামে বসে কাটিয়ে দিলেন যে শামসুর রাহমান, তাকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, বরং তাকে প্রায় সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধার অভিধা দিতে চান অনেকেই। আর যে আল মাহমুদ পরিবার-পরিজনকে দেশে রেখেই যুদ্ধের সময় কলকাতায় গিয়ে সেখানকার বুদ্ধিজীবী মহলকে উদ্ধুদ্ধ করার কাজ করেছেন, তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এই প্রশ্ন উত্থাপনকারী কি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন? না। তিনি কি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন? না। তার জন্ম কি একাত্তরের আগে? না। তিনি কি অপ্রাপ্তবয়স্ক কেউ? হ্যাঁ, অনেকটাই তাই। কথা সোজা, আল মাহমুদ গতকাল মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জামায়াত থেকে সংবর্ধনা নিলেন, এর নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। আশির দশক থেকে তাকে আমরা দেখে আসছি মৌলবাদীদের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে। কিন্তু একাত্তরে এই লোক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার ওই ভূমিকা নিয়ে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক প্রশ্ন তুলতে পারে না। প্রশ্ন তোলার আগে বালেগ হয়ে আসতে হবে!

নেটজগতে এখন গলার জোর যার, মুল্লুকও তার। সত্য জেনেও অনেকে প্রতিবাদ করার সাহস পান না। নেট কানেকশন নিয়ে চরম দুর্বিপাকে থাকার পরও তবু আমার তরফ থেকে প্রতিবাদটুকু জানিয়ে গেলাম।

প্রথম প্রকাশ
ব্রিটিশ টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ডেভিড ফ্রস্ট সাক্ষাৎকার নিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের। এর কিছুদিন পরেই তাকে পাঠানো হল পাকিস্তানি জেলে। এই ভিডিওতেই মুজিব জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানি নরপশুরা ৩০ লাখ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছিল মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে।


মেজর (পরে লে.কর্নেল) ডালিম নামের লোকটাকে তেমন করে কখনোই ভালো লাগেনি। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারবর্গের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তিনি অভিযুক্ত- ভালো না লাগার মূল কারণ এটাই। নানা মহলে তিনি চরম ঘৃণ্য। ঘৃণার পক্ষে যুক্তি আছে বটে, তবে তার অন্য একটি পরিচয়ও আছে। সেটা গৌরবের। আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের মূল সৈনিকদের তিনি ছিলেন একজন। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে যে দলটি সর্বপ্রথম মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়, মেজর ডালিম ছিলেন সেই দলের সদস্য। তার বয়স তখন ২৫। অসাধারণ বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বীর উত্তম খেতাব।
বলে রাখা ভালো, এই লেখার উদ্দেশ্য মেজর ডালিমের প্রতি সহানুভূতি তৈরি নয়। বরং ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে মেজর ডালিমের উপযুক্ত শাস্তি চাই। কোনো হত্যাকাণ্ডই, তা যতোই মহৎ উদ্দেশ্যে সংঘটিত হোক না কেন, কিছুতেই সমর্থনযোগ্য নয়।
একাত্তর নিয়ে মেজর ডালিমের একটি স্মৃতিকথা পড়ে আপ্লুত হলাম। নামটি যেহেতু মেজর ডালিম, উড়িয়ে দিতে পারেন তার স্মৃতিকথা। আপত্তি নেই। তবে হাজার যদু মধু অপ্রাপ্তবয়স্ক মুক্তিযুদ্ধ বিশেষজ্ঞের চর্বিতচর্বণের চাইতে সামান্য এক মুক্তিযোদ্ধার মিথ্যাভাষণও ঢের ভালো।
-----

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথমার্ধে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে আমি মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করি। আমার ছোট ভাই কামরুল হক (স্বপন) বীর বিক্রম ছাত্রাবস্থায় যোগ দেয় স্বাধীনতা সংগ্রামে। আমাদের দুই ভাইয়ের দেশদ্রোহিতার খেসারত দিতে হয়েছিল আব্বাকে। নানাভাবে তাকে হেস্তনেস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সমস্ত কিছুই মুখবুঝে সহ্য করেছিলেন আব্বা। ক্যান্টনমেন্টের সামরিক কর্মকর্তাদের মোকাবেলা করেছিলেন অতি সাহসিকতার সাথে। আমাদের মালিবাগের বাসা তখন ঢাকা শহরে মুক্তিফৌজদের একটি বিশেষ ঘাঁটি ও অস্ত্রাগার। কিন্তু দৃঢ় চরিত্রের আব্বার কাছ থেকে এ সমস্ত ব্যাপারে খানসেনারা কোন তথ্যই সংগ্রহ করতে পারেনি। তার প্রতিজ্ঞায় তিনি অটল। চাপের মুখে মচ্‌কাবেন না কখনও, এতে মৃত্যু হয় হউক। আমার কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি জবাব দিতেন, “আমার ছেলে পশ্চিম পাকিস্তানে চাকুরী করছে সেটাই আমি জানি। তোমাদেরই বলা উচিত সে কোথায় এবং কি অবস্থায় আছে? ওর সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করছো কোন যৌক্তিকতায়?” স্বপন সম্পর্কে আব্বা বলতেন, “স্বপন সাবালক। তার গতিবিধির উপর আমার কোন নিয়ন্ত্রন নেই।” তবুও শেষ রক্ষা হল না। আমাদের পরিবারের উপর বিপর্যয় নেমে এল।

২৯শে আগষ্ট ১৯৭১। কিছুদিন যাবত বেশ বৃষ্টি হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় স্বপনদের গেরিলা তৎপরতা বেশ জোরদার হয়ে উঠেছে। একের পর এক গুলবাগ পাওয়ার ষ্টেশন, ফার্মগেট অপারেশন, যাত্রাবাড়ি অপারেশন, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বিষ্ফোরন, সিদ্ধিরগঞ্জ অপারেশন ও গ্রীণরোডের সাড়া জাগানো অপারেশনের ফলে স্বপনরা খানসেনাদের মনে ত্রাসের সঞ্চার করেছে।

এই অবস্থায় আরো বড় আকারের অপারেশন পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ওরা। এর জন্য সাচো মানে বিচিত্রার শাহদাত চৌধুরী ও আলমকে পাঠানো হয়েছে মেলাঘরে মেজর খালেদ ও ক্যাপ্টেন হায়দারকে বুঝিয়ে রাজি করে কিছু ভারী হাতিয়ার ও বেশি পরিমাণে এক্সপ্লোসিভ আনার জন্য। ওরা ফিরে না আসা পর্যন্ত স্বপনরা সবাই যাত্রাবাড়ি বেই্‌সক্যাম্প-এ অবস্থান করবে এটাই ঠিক করা হয়। বেই্‌সক্যাম্প-এ যাবার আগের রাত মানে ২৯শে আগষ্ট ওরা সবাই যার যার পরিবারের সাথে রাত্রি কাটাবার সিদ্ধান্ত নেয়।

কাজি, সামাদ, জুয়েল, আজাদ, রুমি ওরা সবাই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সে রাতে যার যার বাসায় অবস্থান করছে। স্বপনও এসেছে মালিবাগে রাত কাটাতে। স্বপনের আসার খবর পেয়ে আমার দুই ফুফাতো বোন বুলু ও মুন্নিও এসেছে আমাদের বাসায় মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনার নেশায়।

সেদিন দুপুরেই জনাব জিল্লুর রহমানের (বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) শ্যালক ফরিদের বিশ্বাসঘাতকতায় বদি ফরিদদের বাসা থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে গ্রেফতার হয়ে যায়। ধরা পরে সামাদও। এ খবর বাকি কেউই জানতে পারেনি। ওদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে খানসেনারা জানতে পারে সে রাতে দলের সবাই যার যার বাড়িতে রাত কাটাবার সিদ্ধান্ত।

স্বাধীন বাংলাদেশের নব্য মীরজাফদের জ্বলন্ত উদাহরণ- ফরিদ। তার ন্যক্কারজনক বিশ্বাসঘাতকতায় আল্লাহর আরশও কেপে উঠেছিল। স্বাধীনতার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই অত্যধিক মদ্যপান এবং উঃশৃঙ্খলতার জন্য অতি করুণভাবে মৃত্যু ঘটেছিল ফরিদের।

মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। বিকেল থেকেই বৃষ্টি ঝড়ছে একনাগাড়ে। বাসার লনে পানি জমে গেছে। সবার সাথে গল্প করতে করতে অনেক রাত হয়ে গেছে। আব্বা বললেন, “রাত অনেক হয়েছে। স্বপনকে বিশ্রাম করতে দাও।” সবাই আব্বার আদেশে শুতে চলে গেল। স্বপন তার নিজের ঘরে না গিয়ে ড্রইং রুমে কি কারণে কার্পেটেই শুয়ে পড়ল। রাত প্রায় ১টা কি ২টা হবে হঠাৎ ভারী জুতোর আওয়াজে আব্বার ঘুম ভেঙ্গে গেল। আন্টিও জেগে উঠলেন। বাড়ির চারদিকে কারা যেন হেটে বেড়াচ্ছে। জানালার পর্দা ফাঁক করে আব্বা দেখলেন পুরো বাড়ি আর্মিতে ভরা। মুহুর্তে তিনি বুঝতে পারলেন, বাড়ি রেইড করা হয়েছে স্বপনকে ধরার জন্য। তিনি আন্টিকে বললেন, “জলদি স্বপনকে জাগিয়ে তাকে বের করার বন্দোবস্ত কর। আমি যতক্ষণ পারি ওদের বাসার ভেতর প্রবেশ পথে বাধাঁর সৃষ্টি করছি।” তড়িৎ গতিতে আন্টি ড্রইং রুমে ছুটে গেলেন। ইতিমধ্যে দরজায় মুহুমুহু আঘাত পড়তে শুরু করেছে, কেউ একজন চিৎকার করে বলছে - “দরওয়াজা খোলো”। হৈচৈ শুনে স্বপনও জেগে উঠেছে। অবস্থার আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমুঢ় স্বপন বিছানায় বসে ভাবছে কি করা উচিত? আন্টি এসে জানালো আর্মি রেইড করেছে। সারা বাড়ি ছেয়ে গেছে খানসেনায়। তিনি স্বপনের হাত ধরে তার বেডরুমের এটাচড বাথরুম এর পেছনের দরজা খুলে দিয়ে বললেন, “পালিয়ে যাও।”

স্বপনের পরনে লুঙ্গি আর গায়ে লাল কুর্তা। এক মুহুর্তের ইতঃস্ততা। স্বপন ভাবলো সে পালিয়ে গেলে বাড়ির অন্য সবার কি হবে? আন্টি তার মনের কথা বুঝি বুঝতে পারলেন! বললেন, “পালিয়ে যাও। আমরা ম্যানেজ করব।” তার কথায় স্বপন এক দৌড়ে পাচিঁল টপকে অন্ধকারে মিশে গেল। তাকে পালাতে দেখে আর্মি এলোপাথারী ফায়ারিং শুরু করল। কিন্তু স্বপন গুলি ও খানসেনাদের বেষ্টনী ভেদ করে অন্ধকারে বাসার পেছনের বস্তিতে পালিয়ে যেতে পেরেছে ততক্ষণে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্বপনের চলে যাবার পর আব্বা দরজা খুলে দিলেন। ঢুকল একজন ক্যাপ্টেন ও কয়েকজন বন্দুকধারী খানসেনা। ভেতরে ঢুকেই ক্ষুধার্ত হায়নার মত প্রতিটি ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজে পাবার চেষ্টা করল স্বপনকে। কিন্তু কোথাও নেই স্বপন! এটা কি করে সম্ভব!
-স্বপন কিধার হ্যায়? রাগে ফেটে পড়ল একজন। আব্বা বললেন,
-স্বপন এখানে নেই।
-ও লাল কুর্তাওয়ালা কোউন থা? প্রশ্ন আবার।
-কোউন লাল কুর্তাওয়ালা? পাল্টা প্রশ্ন করলেন আব্বা।
-ওহি যো ভাগগিয়া। চুপ করে রইলেন আব্বা।
-ওহি স্বপন থা। বলল একজন। কে একজন হঠাৎ আন্টিকে দেখিয়ে বলে উঠল,
-ইয়ে অওরাত উস্‌ লাল কুর্তাওয়ালাকো ভাগা দিয়া।
-কিউ ভাগা দিয়া তুমনে উস্‌কো? ও কোন থা? তার হুংকারে সবাই ভয় পেয়ে গেল। কিন্তু আন্টি ঘাবড়ালেন না এতটুকু।
-ও মেরা ল্যারকা থা। আগার উস্‌কো ভাগা দিয়া তো মা হোকে ম্যায়নে ঠিকই কিয়া। আন্টির এই জবাব শুনে থমকে গেল সবাই। সাহস কত মেয়ে লোকটার! বলছে কিনা ভাগিয়ে দিয়ে ঠিকই করেছে। হঠাৎ ক্যাপ্টেন ড্রইংরুমে ষ্ট্যান্ড এ রাখা আমার ইউনিফর্ম পরিহিত একটি ছবি তুলে নিয়ে আব্বাকে বলল,
-এটা কার ছবি? আব্বা বললেন,
-আমার বড় ছেলের। মুহুর্তে সমস্ত অবস্থাই গেল পাল্টে। ক্যাপ্টেন ঘর থেকে সমস্ত খানসেনাদের বাইরে যাবার হুকুম দিল। সবাই চলে গেলে ও আব্বাকে বলল,
-চাচাজান, শরিফ অর ম্যায় কোর্সমেট হু। PMA মে একই কোম্পানী মে থে হাম দোনো। মুঝে পাতা নেহি থা স্বপন উস্‌কা ভাই হ্যায়। যো হোগিয়া ওতো হোগিয়া। লেকিন আব আপ বেফিকির রাহিয়ে। আপ লোকগো কুচ নেহি হোগা। লেকিন চাচাজান আপ অর বাকি male members of the house কো মেরা সাথ ক্যান্টনমেন্ট যানা পারেগা।
একথা শুনে আমার বোনেরা সবাই ডুকরে কেঁদে উঠল। ক্যান্টনমেন্ট যাওয়া মানে নির্ঘাত মৃত্যু। তাদের শান্তনা দিয়ে ক্যাপ্টেন কাইউম কেয়া, মহুয়াদের বলল,
-বেহেনা রোনা নেহি, রোও মাত। চাচাজানকো কুচ নেহি হোগা; ম্যায় ওয়াদা কারতাহু। লেকিন উন্‌কো লেযানা বহুত জরুরী হ্যায়। সবাই বুঝলো এ ব্যাপারে আর কিছুই করার নেই। কাইউম আব্বা ও অন্যান্য পুরুষদের সবাইকে নিয়ে চলে গেল।

ক্যান্টনমেন্টে গোয়েন্দা বিভাগের কর্নেল তাজ ও কর্নেল হেজাজী অধীর অপেক্ষায় ছিলেন। কাইউম পৌছাতেই প্রশ্ন করলেন,
-স্বপন কিধার হ্যায়? ক্যাপ্টেন কাইউম জবাব দিল,
-স্বপন মিলা নেহি।
- what? গর্জে উঠলেন কর্নেল তাজ।
-স্বপন ঘরপর নেহি থা। কাইউম মিথ্যে জবাব দিল। বন্দি সবার দিকে চোখ ঘুরিয়ে কর্নেল হেজাজী ক্যাপ্টেন কাইউমকে বলল,
-Where are the daughters? Why did you not bring them?

-Well, that was not my order Sir. জবাব দিল কাইউম।
- Go and get them all. হুকুম দিলেন কর্নেল তাজ। আব্বা নিশ্চুপ দাড়িয়ে সবকিছুই দেখছিলেন ও শুনছিলেন। প্রমাদ গুনলেন তিনি। এখন কি হবে? কি করে মেয়েদের বাচাঁনো যায়। তার কিছুই করার ক্ষমতা নেই। অসহায় আব্বার দু’চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল। মনে মনে আল্লাহর স্মরনাপন্ন হলেন তিনি। হঠাৎ বিনা মেঘে বজ্রপাত ঘটল। ক্যাপ্টেন কাইউম কর্নেল তাজকে লক্ষ্য করে দৃঢ়তার সাথে বলে উঠল,
-Sir I can’t do this job. Please send somebody else.

-You are disobeying order. গর্জে উঠে রাগে ফেটে পড়লেন কর্নেল তাজ।
-Well, in whatever way you may take it, I can’t go to get the daughters. I am sorry sir. বলল কাইউম। কথা কাটাকাটি চরমে পৌছার আগেই কর্নেল হেজাজী বলে উঠলেন,
-Nevermind, Taj we shall find someone else to do the job, that’s no problem. তাজের কথার জবাব দিয়ে বিদায় নিয়ে ক্যাপ্টেন কাইউম ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল। বেরিয়ে গিয়েই ফোন করে বাসায় জানিয়ে দিল খানসেনারা আসছে মেয়েদের ধরে নিয়ে যেতে। অতএব কালবিলম্ব না করে সবাই যেন বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। কাইউমের কাছ থেকে টেলিফোন পেয়ে সেই মুহুর্তেই বাড়ির সবাই পালিয়ে গেল।

ঘন্টাখানেকের মধ্যেই আর্মির দুই ট্রাক ভর্তি সৈন্য এল মালিবাগের বাসায়। কিন্তু বাসায় তখন কেউই নেই। কাউকে না পেয়ে তারা সমস্ত বাড়ি লুট করে ফিরে গেল। গাড়ি থেকে শুরু করে জানালার পর্দা পর্যন্ত কিছুই বাদ পরলো না। ঝাড়বাতিগুলো পর্যন্ত খুলে নিয়ে গিয়েছিল তারা। যা কিছু নেয়া সম্ভব হয়নি সেগুলো ভেঙ্গেচুড়ে আক্রোশ মিটিয়ে নিয়েছিল হিংস্র হায়নার দল।

কিন্তু পাকিস্তান আর্মির সবাই একরকম ছিল না। ক্যাপ্টেন কাইউমের বিবেকের তাড়না ও মানবিক চেতনা বাচিঁয়ে দিয়েছিল আমার মা-বোনদের ইজ্জত। তার বন্ধুত্বের এ ঋণ শোধ দেবার সুযোগ হয়ত কখনোই পাব না আমি। তবে আল্লাহ্‌পাকের কাছে আমরা সবাই সর্বদাই দোয়া করি, “আল্লাহ যেন তাকে এবং তার পরিবারকে হেফাজতে রেখে তাদের মঙ্গল করেন।” ক্যাপ্টেন কাইউম যেখানে যে অবস্থাতে থাকুক না কেন তার প্রতি আমার ও আমার পরিবারের প্রতিটি সদস্যের দোয়া থাকবে আজীবন।

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মেজর ডালিম, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৭১, major dalim, liberation war 1971, muktijuddho, 1971, zillur rahman, bangladesh, pakistanshariful haq dalim, 1971, muktijuddho, independence war ;

প্রথম প্রকাশ
সেক্টর কমান্ডার নাজমুল হককে নিয়ে ব্লগে পিয়ালের একটি লেখা দেখে আপ্লুত হয়ে পড়লাম। তার কারণ বছরকয়েক আগে নাজমুল হকের পরিবারের সঙ্গে একবার আমার যোগাযোগ ঘটেছিল। বহুদিন পর আজ বিস্মৃত এই মুক্তিযোদ্ধার কথা মনে পড়ল। তাঁর একটি দুষ্প্রাপ্য সাক্ষাৎকার আমি সংগ্রহ করে রেখেছিলাম। দুষ্প্রাপ্য এই অর্থে, একাত্তরে প্রকাশিত নিউজউইকের সেই সংখ্যাটি পত্রিকাটির নিজস্ব অনলাইন আর্কাইভে তো নয়ই, এমনকি গুগলেও তার কোনো হদিস পেলাম না। পোস্টের নিচে নাজমুল হকের সংক্ষিপ্ত জীবনীও থাকল। সঙ্গে একটি ছবি।

১৯৭১ সালের ১০ মে আন্তর্জাতিক সংবাদ সাময়িকী 'নিউজ উইক' এর আন্তজার্তিক বিভাগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ৭নং সেক্টরের মুক্তাঞ্চল থেকে দেওয়া সমর নায়ক মেজর নাজমুল হকের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। ‌‌'পাকিস্তান : হকের বিদ্রোহ' শিরোনামে নিউজউইকের সাংবাদিক মিলান জে. কিউবিক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেক্টর কমান্ডার মেজর হকের এ সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন এপ্রিলের শেষভাগে অর্থাৎ মুজিব নগরে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার আত্মপ্রকাশের ক’দিন পরেই।

পাকিস্তান : হকের বিদ্রোহ
প্রকাশকাল : ১০ মে ১৯৭১
সাময়িকী : নিউজউইক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
-------------------------------------------------
শুরুতে পূর্ব পাকিস্তানের সশস্ত্র বাঙালি বিদ্রোহীরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে একের পর এক পরাজয় বরণ করছিল। বিচ্ছিন্নতাবাদী বাঙালি বিদ্রোহীরা এতে মনোবল হারালো না। তাদের ধারণা বা হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে এসব তুচ্ছ ঘটনা মাত্র। কেননা সুদূরপ্রসারী দীর্ঘস্থায়ী কঠিন যুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও চূড়ান্ত বিজয়ের ল্য সবার সামনে। সবার চোখে স্বাধীনতার স্বপ্ন আর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। বিদ্রোহীদের পরিকল্পনা ও হিসেব পরখ করতে ‘নিউজ উইক’ প্রতিনিধি মিঃ মিলান জে. কিউবিক গত সপ্তাহে ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন পূর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ‌'বাঙালি লিবারেশন আর্মির' নেতা মেজর নাজমুল হকের মুখোমুখি হন। কিউবিক পরিবেশিত খবরের সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রণাঙ্গন থেকে সংবাদদাতা মিঃ মিলান জে কিউবিক বলছেন, "পূর্ব পাকিস্তানের ২ মাইল অভ্যন্তরে একজন কৃষকের খামার বাড়ির পেছনের আঙ্গিনায় সাধারণ বাঙালি পোশাক লুঙ্গি পাঞ্জাবি পরিহিত মেজর নাজমুল হকের সাক্ষাৎ পাই। এটা ছিল তার সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎকার। বুদ্ধিদীপ্ত এ সাহসী সেনানায়ককে মনে হয়েছে অনেক আশাবাদী ও প্রত্যয়দৃঢ়। তার রণকৌশল বর্ণনায় ও সহজ সরল আলাপচারিতায় বারবার উঠে এসেছে অনাগত স্বপ্নের বাংলাদেশ আর চূড়ান্ত বিজয়ের ছক। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল সম্পূর্ণ শংকামুক্ত। তিনি দখলদার বাহিনীর সৃষ্ট সশস্ত্র ত্রাস সৃষ্টির মুখেও ভীত নন। এক সপ্তাহের চেয়ে কম সময়ের মধ্যে পাক বাহিনী এলাকার জনগণের মধ্যে ধবংসযঞ্জ চালিয়েছে। এতে সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা ও জনগণের মনোবল অতটুকু কমেনি। কারণ আমাদের মূল লক্ষ্য 'বাংলাদেশ'। এমন একটা সময় আসছে, যখন পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে যাবার পথ খুঁজবে এবং সেই সঙ্গে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে। আমাদের সীমানায় পাক বাহিনী আসুক না। যুদ্ধের প্রথম পর্ব তখনই শেষ হবে এবং এ মুক্তাঞ্চলের অনেক এলাকা আমি পরিভ্রমণ করেছি। মেজর হকের উন্নত নিখুঁত 'উইলিস জিপের' দীপ্ত পদচারণায় মনে হয়েছে এটা যেন একটা বিজয়ী মুক্ত ভূখণ্ড। এখানকার বেশিরভাগ নারী ও অবোধ শিশুরা পালিয়ে ভারতে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে এবং মাসের পর মাস স্বদেশ ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এদেশে তখন তেল, গ্যাস, উৎপাদিত জিনিসপত্রের গুদামজাতকরণ চলছে। 'টাইফয়েড ও সংক্রামক জ্বরের ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু দিন আগে একজন ওষুধের দোকানি বলেছিলেন যে, কদিন পর এসপিরিনও পাওয়া যাবে না। এসব প্রতিকূল সমস্যার মুখেও গ্রামবাসীরা স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত ইস্যুতে সমর্থন জোগাচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে শাহাপার এলাকার কথাই ধরা যাক। মেজর হকের ধ্যান ধারণা ও রণকৌশলে উৎপাদনে উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া দিয়ে হাজার হাজার কৃষক ক্ষেতখামারে ফসল উৎপাদনে মনোনিবেশ করেছে এবং পরবর্তী মাসসমূহে ধানের আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে হকের যুক্তি ছিল "আপনারা সবাই যদি জান বাঁচাতে ভারতে পালিয়ে যান, তবে সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতের স্বার্থে ফসল উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে হবে এবং সেই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।" মেজর হকের এ উদাত্ত আহবানে সাড়া দিয়ে কৃষক জনতা তাদের ঘরে তৈরি করা বাংলাদেশের রক্তলাল সবুজ পতাকা উচিয়ে গগন বিদায়ী স্লোগানে মেতে উঠলো জয় বাংলা! জয় বাংলা!! ধ্বনিতে। অর্থাৎ বাংলার জয়, বাংলাদেশের জয় বা বিজয়।
এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় আমার নজর কাড়লো। আর তা হচ্ছে মেজর হক এবং তাঁর প্রধান রিক্রুটার ২৪ বছর বয়েসী শাহ আবদুল মালেককে মনে হল দ্বিধাহীন ও সংকটমুক্ত দৃঢ়চেতা। গেরিলা প্রশিক্ষণের জন্য সারিবদ্ধ বাঙালি স্বেচ্ছাসেবকদের দলে দলে বাছাই করা হচ্ছিল একটি নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীকে পরাভূত করার লক্ষ্যে। গাইবান্ধার এক প্রত্যন্ত গ্রামের হাইস্কুলের এক ছাত্র এই বলে তার মনের অভিব্যক্তি জানালো যে, "আমি শরণার্থী হয়ে বাঁচতে চাই না। আমার দেশ সংকটের মুখে। আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে দেশের জন্য যুদ্ধ করা, পালিয়ে যাওয়া নয়।"
মাদিল গ্রামে মাথাল মাথায় এক কৃষকের সাক্ষাৎ পেলাম, যিনি সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছেন। তার মতে, আমার সন্তানেরা যুদ্ধে যাচ্ছে। এজন্য আমি গর্বিত। গরু-ছাগল ভেড়ার মতো কাপুরুষের মৃত্যুর চেয়ে রাইফেল হাতে বীরের মতো মৃত্যু অনেক শ্রেয়। এ সব কিছুর প্রেরণার মূল উৎস তাদের আপনজন ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু মেজর নাজমুল হক। সমর নায়ক নাজমুল হক যেন জনগণের মহান শিক্ষক।
আমি প্রত্যক্ষ করলাম, মেজর নাজমুল হকের সীমাহীন বিশ্বাস, উচ্ছ্বাসমুখর গণজোয়ারের পরও অন্তহীন দুর্গতিতে আচ্ছন্ন বাঙালি জনজীবন। বাঙালি যোদ্ধারা মাত্র ৩ হাজার সেকেলে রাইফেল এবং শ'খানেক ছোট মর্টার নিয়ে তাদের অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তুলেছে। বাঙালিরা নেতৃত্বের তীব্র সংকটে ভুগছে। এ সব সত্ত্বেও মাত্র কদিন আগে ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি এখান থেকে কয়েক মাইল দূরে প্রকাশ্যে ৬ সদস্যের বাংলাদেশ সরকার আত্মপ্রকাশ করেছে। এখন প্রয়োজন একটি সক্ষম সামরিক নেতৃত্ব, যারা সফল গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে এ সরকারকে অর্থবহ করে তুলতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। মেজর হক নিজেই আমাকে একথা বললেন, "আমার সহসা ভারতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যেতে পারছি না। আমার নিকটবর্তী বাঙালি সামরিক কর্মকর্তার অবস্থান এখান থেকে ২০ মাইল দূরে। এখানকার জনগণ বর্তমান লালিত ধ্যানধারণা ও বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বে এবং আমাকে অনুসরণ করে আমার মতো ভারতে যেতে শুরু করবে।" এত সব কিছুর পরও নয়াদিল্লির সরকার বাঙালিদের জন্য কিছুটা সুযোগ সুবিধা প্রদান করছে। সাম্প্রতিককালে নয়াদিল্লি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গেরিলা প্রশিক্ষণ, রসদপত্র, সামরিক সরঞ্জাম, ট্রাক প্রভৃতি সরবরাহ শুরু করেছে। এটা স্বর্গীয় ব্যবস্থা বলা চলে। অনেক কূটনৈতিক এবং ভারতীয়রাও অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশী সশস্ত্র বিদ্রোহীদের প্রকাশ্যে অস্ত্র দেয়ার পক্ষে। ৭০ হাজার সৈন্যের একটি নিয়মিত বাহিনীর দখলদারিত্ব সাড়ে ৭ কোটি মানুষকে প্রহরাধীন বা পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা রাখে না। "আপনি যখন এখন থেকে ৪ মাস পর এখানে আসবেন, তখন ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করবেন। আমরা আপনাকে তখন সফল যুদ্ধের চিত্র দেখাবো।" সাক্ষাৎকার শেষে বিদায় নেওয়ার আগে মেজর নাজমুল হক আমাকে একথা বললেন অত্যন্ত দৃঢ়তা ও আবেগের সঙ্গে। আমার বিশ্বাস হলো- হক যা বললেন, একদিন অবশ্যই তিনি তা পারবেন। #

মেজর নাজমুল হকের সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত
শহীদ মেজর মোহাম্মদ নাজমুল হক ১৯৩৮ সালের ১১ আগস্ট চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার আমিরাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা এডভোকেট হাফেজ আহমেদ তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। মেজর নাজমুল কুমিলা ঈশ্বর পাঠশালা থেকে মেট্রিকুলেশন এবং ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (বর্তমান বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৬২ সালের ১৪ অক্টোবর পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি, কাকুল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে আর্টিলারি কোরে কমিশন লাভ করেন। ১৯৭১ এর মার্চ মাসে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর কিছুকাল আগে তিনি নওগাঁয় ৭ ইপিআর তৎকালীন উইংয়ের অধিনায়ক হিসাবে যোগ দেন।

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): সেক্টর কমান্ডার নাজমুল হক, নিউজউইক, ১৯৭১, মুক্তিযুদ্ধ, liberation war, 1971, newsweek, sector commandar, najmul haque, najmul hoque ;

প্রথম প্রকাশ
ভার্চুয়াল দুনিয়ায় মুখে মুখে অনেক কিছুই করা যায়। কিন্তু মাঠে নামার আগে সবদিক ভাবা উচিত, যেন ছোট ছোট উদ্যোগগুলো মাঠে মারা না পড়ে। প্রথমেই দুটি প্রশ্ন। উত্তরও নিজেই দিলাম।

প্রশ্ন : জামাল ভাস্কর নতুন কী করছেন? এর ফলাফল কী?
উত্তর : পোস্ট পড়ে জানা যাচ্ছে, তাদের মূল লক্ষ্য স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান। বাংলাদেশের বাস্তবতা মনে রাখলে এই ধরনের অতি ভদ্রোচিত কাজে খুব একটা উৎসাহ খুঁজে পাই না। তারপরও কথা হল, এই উদ্যোগে জনমত তৈরির জন্য নতুন কী করা হচ্ছে? এই কাজ তো আগেও হয়েছে- আরো ব্যাপকাকারে, আরো বড়ো পরিসরে। ভাস্করের পোস্ট পড়ে আমি ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির একজনকে ফোন করেছিলাম কিছুক্ষণ আগে, কিছু তথ্য জানতে। তিনি জানালেন, ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির উদ্যোগে গত জুন মাস নাগাদ সারা বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। অংকটা সঠিক। কারণ সে সময় আমি নিজেও সেই স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানে যুক্ত ছিলাম। ওই নেতা জানান, পরে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের মাধ্যমে সবগুলো স্বাক্ষর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। একটি করে কপি জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছিল।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজটি আগে আরো ব্যাপকাকারে হয়েছিল এবং প্রভাবশালী একটি সংগঠনের মাধ্যমে ওই স্বাক্ষরপত্র জাতিসংঘেও গিয়েছিল। কিন্তু এর কোনো ফল, কোনো প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি।
এছাড়া শেখ হাসিনার ভাষণ এবং ১৯৭৩ সালের সংশ্লিষ্ট ভাষণ নিয়ে বুকলেট তৈরি করা হলে তা জনমনে আদৌ প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে কিনা, তা ভাবতে হবে। আপনারা অনেকেই জানেন, ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির বেশ অনেকগুলো মানসম্মত প্রকাশনা আছে।

প্রশ্ন : ব্লগারদের ক্ষুদ্র কমিউনিটির পক্ষে সর্বোচ্চ কয়টি স্বাক্ষর সংগ্রহ করা সম্ভব?
উত্তর : ধরা যাক ২০০ জন ব্লগার এবং তাদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে আরো ১০০ জন স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানে সার্বক্ষণিক যুক্ত হলেন। এই ৩০০ জনের প্রত্যেকেই ৫০০ করে স্বাক্ষর সংগ্রহ করলেন। তাহলে মোট স্বাক্ষর দাঁড়াল ১ লাখ ৫০ হাজার। কিন্তু এই স্বাক্ষরগুলো ফাইলে ভরে আমরা করবোটা কী? আমার অভিজ্ঞতায় এই ধরনের স্বাক্ষরপত্র সংসদ ভবনের কোনো একটি কক্ষের ফাইলের স্তূপে চাপা পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। এভাবে আসলে সরকারকে প্রভাবিত করা যায় না। স্বাক্ষর সংগ্রহ করে সরকারকে প্রভাবিত করার কাজটি বিদেশে হয়, কিন্তু বাংলাদেশে সেরকম উদাহরণ এ পর্যন্ত দেখিনি। দৈবক্রমে এই কাগজ যদি শেখ হাসিনার সামনে যায়ও, স্বাক্ষর-টাক্ষরে প্রভাবিত হওয়ার মানুষ তো তিনি নন। আবার মাত্র একটি স্বাক্ষরেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত হতে পারে, যদি শেখ হাসিনা তার কলমটি হাতে তুলে নেন।

এখন সেই কাজটিকেই বেগবান করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরুর জন্য আওয়ামী লীগকেই ক্রমাগত চাপে রাখতে হবে। তার জন্য স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান কিংবা বুকলেট তৈরি কার্যকর কিছু নয়। স্বাক্ষরে যদি কাজ হতো, তাহলে নির্মুল কমিটির উদ্যোগের পর বাংলাদেশের ওপর সিডর বয়ে যেতো। তা যেহেতু হয়নি, ভাবতে হবে অন্য কিছু। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ঢাকার অলিগলি পোস্টারে ছেয়ে ফেলার হট্টগোলীয় প্রস্তাবটি বরং অধিক কার্যকর মনে হয়েছে। 

প্রথম প্রকাশ
আজকের প্রথম আলোর প্রজন্ম ডট কমের প্রধান প্রতিবেদন ছিল 'ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা।' সুমন পাটওয়ারীর লেখা এই প্রতিবেদনে অনিবার্যভাবেই এসেছে ব্লগের কথা, ব্লগীয় কার্যক্রমের কথা। ওই প্রতিবেদনের শুরুই হয়েছে সামহোয়্যারইন...ব্লগ থেকে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ই-সংকলন 'ফিরে দেখা ৭১' নিয়ে। আজকের প্রজন্ম ডট কমের প্রচ্ছদও তৈরি হয়েছে ফিরে দেখা ৭১ এর প্রচ্ছদ ও ভেতরের পৃষ্ঠাগুলোর সমন্বয়ে। প্রতিবেদনে সামহোয়্যারইন...ব্লগের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিয়েছেন জানা।

নিচে প্রতিবেদনের একটি অংশ তুলে দেওয়া হল। পুরো প্রতিবেদন পাবেন এইখানে এবং মূল ফরম্যাটে ই-প্রথম আলোতে। ফিরে দেখা ৭১ নিয়ে প্রথম আলোতে শওকত হোসেন মাসুমের লেখা অপর একটি রিভিউ পাবেন এখানে । এ সবকিছু দ্বিধাহীনভাবেই সামহোয়্যারের ব্লগারদের অর্জন।
-----

ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা
সুমন পাটওয়ারী
‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিষয়টি এখন আলোচিত। ২০২১ সাল নাগাদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কথা বর্তমান সরকার ব্যক্ত করেছে। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য দরকার সব তথ্যের ডিজিটাল আর্কাইভ, যাতে যে কেউ চাওয়ামাত্র প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যায়। আর বর্তমান প্রজন্েনর জানা-বোঝার জন্য দরকার মুক্তিযুদ্ধের একটা বড় ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলা। যদিও বেসরকারি উদ্যোগে ইন্টারনেট, অনলাইন এবং কম্পিউটারভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধের ছোট ছোট ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব ডিজিটালআর্কাইভ আমাদের গৌরবগাথাকে চিরস্থায়ী করবে এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেবে তা নিশ্চিত।

বাংলায় গান গাই...
অনলাইনে আর্কাইভ গড়ে তোলার একটা বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল ভাষা। কিন্তু অনলাইনে ইউনিকোডভিত্তিক বাংলায় প্রকাশিত ব্লগ সাইটগুলোর কারণে প্রতিবন্ধকতা অনেকটাই দুর হয়েছে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় অনলাইনে মুক্তিযুদ্ধের নানা তথ্য সংরক্ষণের বেশ কিছু উদ্যোগ চোখে পড়ার মতো। এ ব্যাপারে প্রশংসনীয় উদ্যোগ রেখেছে সাম হোয়্যার ইন ব্লগসাইট (http://www.somewhereinblog.net)। এই ব্লগ সাইটের লেখকদের লেখা নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ওপর ই-বুক ফিরে দেখা ৭১। প্রচুর তথ্য ও গবেষণাধর্মী লেখা, নাটক, গান, পত্রিকার তথ্য, ভিডিও ফুটেজ আছে এই ইলেকট্রনিক বইয়ে। চাইলে এখনো অনেকে সাইট থেকে ই-বকুটি বিনা পয়সায় নিজের কম্পিউটারে নামিয়ে নিতে পারেন। এ ছাড়া পুরো ব্লগ সাইটে ছড়ানো রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ওপর অসংখ্য লেখা ও তথ্য। সামহোয়্যার ইন ব্লগের হেড অব অ্যালায়েন্স সৈয়দা গুলশান ফেরদৌস বলেন, ‘ই-বুকের পুরো উদ্যোগই ছিল ব্লগারদের। তাঁরা নিজ উদ্যোগে কাজটি করেছে। আমরা পরবর্তী সময়ে তাদের বেশ কিছু কারিগরি সহযোগিতা করেছি। এবার একইভাবে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা করছে। ব্লগারদের এ উদ্যোগে সহযোগিতা করে যাচ্ছি আমরা।’
বয়সে নতুন হলেও এরই মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের একটা ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে উঠছে প্রথম আলো ব্লগে (http://www.prothom-aloblog.com)। এ সাইটের সব সময় মুক্তিযুদ্ধের একটা বিভাগ থাকে। এখানে মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রচুর লেখা ও তথ্য রয়েছে। প্রথম আলো ব্লগের বিভাগীয় সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, ‘আমরা এবার ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে একটা ই-বুক বের করার চেষ্টা করছি। আশপাশের পরিচিত মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে আমাদের সাইটে দিতে ব্লগারদের অনুরোধ করেছি। তারই ওপর ভিত্তি করে এই ই-বুকটি প্রকাশ করা হবে। যদিও আমরা এখনো তেমন উল্লেখযোগ্য লেখা পাইনি। তার পরও আমরা আশাবাদী।’

ফিরে দেখা '৭১ পড়া ও ডাউনলোড করা যাবে যেখান থেকে-
স্ক্রাইবস ডট কম (ইন্টারেকটিভ বইয়ের মতো পড়ার জন্য)
অলৌকিক হাসানের ব্লগ
মাহবুব সুমনের আন্তর্জালিক খেরোখাতা
ডাউনলোডের জন্য
Bangladesh Genocide Archive : Books, Journals & Articles Section
বইমেলা ডট কম
মূর্চ্ছনা ডট কম : ই-বুক সেকশন
প্রিয় অস্ট্রেলিয়া
ইউকেবিডি নিউজ : ইউকেভিত্তিক অনলাইন সংবাদপত্র
বাংলাদেশ ১৯৭১
নগরবালক ডট কম
গুগল গ্রুপস
বিপ্র'র ব্লগ

প্রথম প্রকাশ 
ব্লগার জ্বিনের বাদশার মন্তব্য পড়ছিলাম এইমাত্র- তিনজন প্রবাসী ননব্লগার তাকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ই-সংকলনটির কথা জিজ্ঞেস করেছেন। এটা দেখতে দেখতেই জিমেইলে একটি মেইল আসার সংকেত পেলাম। খুলে দেখি- একজন প্রকাশকের মেইল। পড়ে অভিভূত আমি!

ঢাকার এই প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ইমেইলে লিখেছেন, তিনি ফিরে দেখা '৭১ বই আকারে প্রকাশ করতে চান।

এমনিতে ই-সংকলনটি বই আকারে প্রকাশের আগ্রহ আমার ছিল না। লেখকদের অনুমতি আদায়ের ঝক্কিতে আর পড়তে চাই না।

তবে এখন মনে হচ্ছে, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ এবং লেখকদের অনুমতি আদায়ের দায়িত্বটি চাইলে কেউ একজন নিতে পারেন। কারণ এতো সহজে (প্রথম আলোর রিভিউই আসলে কাজটি সহজ করে দিয়েছে) প্রকাশক পাওয়া অনেক বড়ো ব্যাপার। মাসখানেকের মধ্যে কাজ শুরু করা হলে একুশে বইমেলায় এটা প্রকাশ সম্ভব হবে বলে আমার ধারণা।

আমার বিশ্বাস, এমনকি একজন ব্লগারও যদি না কেনেন, তাহলেও এই বই চলবে। সম্পাদনা বা অন্য কিছু নয়, মূলত বিষয়ের কারণেই চলবে।

প্রথম প্রকাশ  |  দ্বিতীয় প্রকাশ
মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইন্টারনেটের মহাসমুদ্রে। বাংলাভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগ সামহোয়্যারইনব্লগে মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রচুর লেখা আছে- যার বেশিরভাগই ভালো লেখা। এই লেখাগুলোকে এক মলাটের ভেতরে নিয়ে আসার একটা তাগিদ অনুভব করেছি আমরা। ই-সংকলন প্রকাশের উদ্যোগ মূলত এ কারণেই।

লক্ষ্য ছিল, আগাগোড়া প্রামাণ্য থাকা। তারপরও পারা যায়নি শেষপর্যন্ত। আবেগমথিত দীর্ঘ গল্পকাহিনীর চাইতে নিউইয়র্ক টাইমস বা দৈনিক বাংলার ছোট্ট ক্লিপিংসটাকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই। অর্থহীন আলাপের চাইতে স্বজনের মুখে শোনা মুক্তিযুদ্ধের সত্যি ঘটনাকে বেশি মূল্য দিতে চাই। মূলত একটি বিশেষ সময়কে আমরা ধরতে চেয়েছি লেখায়-রেখায়। ফলে মুক্তিযুদ্ধকে আশ্রয় করে অনেক গল্প-কবিতা ব্লগে প্রকাশিত হলেও তা নেওয়া সম্ভব হয়নি। যদিও ব্লগ থেকে পাওয়া লেখাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মৌলিক কাজ কিংবা গবেষণা খুবই কম। বলতে দ্বিধা নেই, এ খুবই হতাশার!

কিছু লেখার শিরোনাম, হঠাৎ চোখে পড়া দু একটি ভুল শব্দ বদলে দেওয়া আর বর্ণবিন্যাসের প্রয়োজনে সামান্য সম্পাদনা ছাড়া লেখকের মূল লেখাকে অবিকৃত রাখার চেষ্টা করেছি আমরা। অন্যদিক থেকে আবার সম্পাদনার সবচেয়ে বড়ো গলদও এটি। অভিন্ন বানানরীতি অনুসরণ করাও সম্ভব হয়নি। তবে লেখক নয়, আমরা বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিতে চেয়েছি। সেভাবেই সাজানোর চেষ্টা করেছি সংকলনের পৃষ্ঠাগুলো। দেশের পাঠকদের কথা ভেবে ই-সংকলনের আকার নিয়ে একটা উদ্বেগ সবসময়ই ছিল। ইচ্ছে থাকলেও এ দিকটা ভেবে খুব বেশি ছবি রাখা হয়নি এ সংকলনে। ফন্টের আকারও খুব বেশি বড়ো রাখা হয়নি পৃষ্ঠাসংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ভয়ে।

এটা ঠিক যে, যা হয়েছে তার চেয়েও আরো ভালো করা সম্ভব- সম্পাদনা, অঙ্গসজ্জা, বর্ণবিন্যাস আর প্রযুক্তিগত দিক থেকে। তবে যিনি পরিকল্পনা করেছেন, তিনিই আবার ইলাস্ট্রেটরে কাজ করেছেন। তাকেই আবার টুকটাক সম্পাদনা করতে হয়েছে বর্ণবিন্যাসের প্রয়োজনে, কনভার্টারের অলঙ্ঘনীয় বাগগুলোও তাকেই ঠিক করতে হয়েছে একেক করে। ফলে অনিচ্ছাসত্ত্বেও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।

এই ই-সংকলনটি বিনামূল্যে বিতরণ করা যাবে। তবে কোনোক্রমেই এটি বিক্রি করা যাবে না। প্রকাশিত সব লেখার স্বত্ত্ব লেখকরা সংরক্ষণ করেন। আর এই ই-সংকলনের সঙ্গে সামহোয়্যারইন কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই জড়িত নন। ই-বুকে লাইভ লিংক রাখা হয়েছে। এর ফলে ই-বুক থেকেই সরাসরি সংশ্লিষ্ট ওয়েবপেজে যাওয়া যাবে। সূচিপত্র, ব্লগারের নাম ও অনেক লেখার ভেতরে ভেতরে হাইপারলিংক যুক্ত করা হয়েছে। ফলে যেমন সূচিপত্রে ক্লিক করেই সরাসরি নির্দিষ্ট লেখায় যাওয়া যাবে। ই-বুকে একটি ডাইনামিক সূচিপত্রও যোগ করা হয়েছে। পোস্টে সংযুক্ত ছবিতে দেখুন অ্যাক্রোবেট রিডারের বাম পাশটা।

কৃতজ্ঞতা
প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের আড়ালে টুটুল নামের যে তরুণটি নিজে উদ্যোগী হয়ে পোস্ট দিয়ে, প্রস্তাবিত তালিকার প্রায় অর্ধেক লেখকের অনুমতি এনে দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন এ উদ্যোগটিকে, তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। প্রয়োজনের মুহূর্তে পাওয়া গেছে নেমেসিসের সহায়তা। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা। ব্লগারদের মধ্যে আরো যারা নানাভাবে সহায়তা করেছেন, এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

নির্দেশনা
অ্যাক্রোবেট রিডার ৬ বা তার ওপরের ভার্সনে এই ই-বুকটি ভালোভাবে দেখা যাবে। মাইক্রোসফট উইন্ডোজের ৯৮, এক্সপি, ২০০০ ও ভিস্তায় ই-বুকের কিছু নমুনা পরীক্ষা করে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। আর প্রচ্ছদে ব্যবহৃত সচলচিত্র দেখার জন্য অবশ্যই এডবি ফ্লাশ প্লেয়ার ইনস্টল করে নিতে হবে। ডাউনলোড করা যাবে এখান থেকে ।
-----------------------------
ই-বুক ডাউনলোড লিংক ১ : বইমেলা
ই-বুক ডাউনলোড লিংক ২ : মিডিয়াফায়ার
ধরন : পিডিএফ
মোট পৃষ্ঠাসংখ্যা : ২০৫
আকার : ৬.৪৭ মেগাবাইট
----------------------------- 
প্রথম প্রকাশ
চিন্তাটায় একটু ছেলেমানুষি ছিল। আজ দেখতে চাইছিলাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ই-সংকলন ফিরে দেখা একাত্তর পোস্টটি ১৯৭১ বার পঠিত হয় কিনা। তা তো হয়েছেই, এখন ব্লগে ঢুকে দেখলাম, দু হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মন্তব্য প্রায় সাড়ে তিনশো। রেটিং এসে দাঁড়িয়েছে নার্ভাস নাইনটিজে। আর কোনো দাবি নাই এই পোস্টের ওপর। ব্লগার-পাঠকদের সাড়া প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে অনেক আগেই।

মিডিয়াফায়ারে কিছুক্ষণ আগের পরিসংখ্যানে দেখলাম, গত দুই দিনে ই-সংকলন "ফিরে দেখা ৭১" মোট ৬১৮টি কপি ডাউনলোড করা হয়েছে। গতরাত থেকে ডাউনলোডের জন্য আরেকটি মিররও ব্যবহার করা হচ্ছে। নানাজনের কাছ থেকে আমি জেনেছি, ইমেইল থেকে ইমেইলেও বিতরণ হচ্ছে ই-বুকটি। সবমিলিয়ে এ সাফল্য লেখকদেরই। সামহোয়্যারইনব্লগ কর্তৃপক্ষ এবং সকল ব্লগারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ। মন্তব্যের সূত্রে এবং গুগলে সার্চ দিয়ে কিছু লিংকও পেলাম। এর কয়েকটি নিচে উল্লেখ করলাম।

ই-সংকলনের কিছু প্রাপ্তি
বাংলাদেশ গণহত্যা আর্কাইভের বুকস, জার্নাল এন্ড আর্টিকলস বিভাগে ই-সংকলনটি অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।

আমারব্লগের প্রথম পাতার সাইডবারে বিশেষ ডাউনলোড লিঙ্ক লাগানো হয়েছে। এর আগে ই-সংকলন বিষয়ক একটি পোস্ট স্টিকি করা হয়েছিল।

বই বেচাকেনার সাইট বইমেলায় অনলাইন কম্পাইলেশন বিভাগে ই-সংকলনটি অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ৭১ ডট অর্গ সাইটেও ই-সংকলন বিষয়ে একটি পোস্ট স্টিকি করা হয়েছে।

ই-মেলা ওয়েবসাইটে ই-সংকলন বিষয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে ।

সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকে বহু ব্লগারের পেইজে ই-সংকলনটি যুক্ত করা হয়েছে।

ব্লগে আসা কয়েকটি পোস্ট
প্রসঙ্গ:ফিরে দেখা একাত্তর
ফিরে দেখা একাত্তর
ই-সংকলন
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মুহুর্ত - ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ । ই-সংকলনের প্রকাশ উপলক্ষ্যে এই ভিডিওটি ইউটিউবে আপলোড করলাম
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ই-সংকলন উৎসর্গ সম্পর্কে ভেবে দেখুন

প্রথম প্রকাশ
নিজের জন্য নয়, বহুল প্রচারিত একটি দৈনিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ই-সংকলন "ফিরে দেখা একাত্তর"-এর রিভিউ প্রকাশিত হয়েছে- এটিই এক গভীর আনন্দের বিষয়। ভাবতে ভালো লাগছে, বাংলাদেশের কয়েক লাখ পাঠক আজ এই রিভিউটি পড়বেন। তার মধ্যে কয়েক হাজার পাঠকও যদি ই-বুকটি ডাউনলোড করে পড়েন, তা হবে সবচেয়ে বড়ো প্রাপ্তি। এ কারো একার বিষয় নয়, এ আসলে সব ব্লগারেরই প্রাপ্তি।


শওকত হোসেন মাসুমের লেখাটিও হয়েছে অসাধারণ। ব্লগারদের অনেকেই জানেন, সম্প্রতি তিনি রোগাক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন বেশ কিছুদিন। সুস্থ হয়েই লেখাটি লিখতে বসে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি তার গভীর অনুরাগ মুগ্ধ করার মতো। প্রথম আলোর প্রজন্ম ডট কমের প্রধান প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশিত হওয়া লেখাটি পড়ুন এখানে - পিডিএফ

ই-বুক ডাউনলোড লিংক


প্রথম প্রকাশ  |  দ্বিতীয় প্রকাশ
পুরাতন পোস্টসমূহ হোম

  • সাম্প্রতিক
  • মন্তব্যমালা
  • Problem with Bengali Font?
  • English Version
  • Mobile View
Advertisement সপ্তাহের নির্বাচন : ব্লগারের ২০টি সেরা উইজেট

অফিসিয়াল একাউন্ট

  • সামহোয়্যারইন ব্লগ
  • প্রথম আলো ব্লগ
  • বিডিনিউজ ব্লগ
  • নাগরিক ব্লগ
  • আমারব্লগ
  • গুগল প্লাস
  • ফেসবুক
  • টুইটার
  • টাম্বলার

ব্লগ স্টাইল

  • ম্যাগাজিন
  • টাইমস্লাইড
  • ফ্লিপকার্ড
  • মোজাইক
  • সাইডবার
  • স্ন্যাপশট

  • Home
  • About
  • Contact
  • বাংলা লিখুন ইউনিকোডে
Tweet
.



    1/11 advertisement amader shomoy amarblog audio audio-tape awami league Bangladesh bangladeshi blogger bank bdr-mutiny bijoy bijoy ekattor bijoy ekushe bijoy ekushey Blog blog ban blog-debate blog-review blog-satire blogger bobs boi-mela book-fair books bottle brain caricature children chile cht cinema computer contemporary corruption corruption tape cover cricket cyber-crime defense dhaka university diary documentary e-voting ebook economy entertainment eve-teasing everest exclusive facebook Feature finance football google hacking highlights human-rights india internet julian assange kaler-kantha khaleda-zia liberation-war libya load-shedding love media memoirs misc mlm mobile musa-ibrahim niagara falls oporbastob poetry police politics prothom-alo-blog rab religion rosh-alo sachalayatan satire saudi arab sheikh mujib social-media software somewherein blog sound special sports statue-of-liberty stock market survey sw-ban swine flu tech tech-humor technology television train accident transparency report travel video weather women world-affairs
Fusion Factory by Fusion5 is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.
Designed by SimplexDesign