মুয়াম্মার গাদ্দাফি বিদ্রোহীদের হাতে ধরা পড়ার পর আসলে কী ঘটেছিল? সেটা
নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই বিশ্ববাসীর। লিবিয়ায় নিজের জন্মভূমি সির্ত শহরে জীবিত ধরা পড়ার পর কীভাবে তাঁর মৃত্যু
হয়, তা এই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়। এ সময় কেউ কেউ চিত্কার করে বলতে থাকেন,
‘তাঁকে জীবিত রাখো’। আবার কেউ বলতে থাকেন, ‘আল্লাহ সত্যিই মহৎ’।
ঢাকায় আজ শনিবার সকালের প্রতিবাদ ছিল পুরোপুরি ব্যতিক্রমধর্মী,
প্রতীকী। সন্দেহাতীত প্রমাণ ছাড়াই সৌদি আরবে ৮ বাংলাদেশীকে শিরচ্ছেদ করা
হয়েছে কয়েকদিন আগে। আরো পাঁচ বাংলাদেশীর মৃত্যুদন্ডও খুব শীঘ্রই একই
পদ্ধতিতে কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে। এই ঘৃণ্য অমানবিক বর্বরতার
বিরুদ্ধে এটা ছিল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি। না, এটা কোনো মিছিল ছিল
না, মানুষ ভাড়া করে মানববন্ধনও নয়, আটজন তুচ্ছ মানুষ নিজেদের শরীরে দড়ি
বেঁধে মাথা নিচু করে রাজপথে দাঁড়িয়ে ছিলেন কিছুক্ষণ। সৌদি আরবে আট
বাংলাদেশিকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে নির্মমভাবে হত্যার পূর্ব মুহূর্তে অসহায়
মানুষগুলো ঠিক যেভাবে হাঁটুতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, অবিকল সেভাবে।
ফুটেজ : যেভাবে হত্যা করা হয় আট বাংলাদেশিকে
ফুটেজ : যেভাবে হত্যা করা হয় আট বাংলাদেশিকে
অথচ দোষ ছিল না সেই আট বাংলাদেশির!
আগেই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে, সৌদি আরবে অভিযুক্ত আট বাংলাদেশি আত্মপক্ষ সমর্থনের সামান্যতম সুযোগও পাননি। এমনকি নিজেদের পক্ষে কোনো আইনি সহায়তাও তারা পাননি। বিচার হয়েছে শুধুমাত্র মৌখিক স্বীকারোক্তি আদায়ের মাধ্যমে। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই স্বীকারোক্তি কিভাবে আদায় করা হয়েছিল? যেখানে পুলিশ থেকে তথাকথিত আদালত - সবখানেই ভাষা কেবল আরবি, সেখানে আরবি না জানা কিংবা স্বল্প জানা আট বাংলাদেশি শ্রমিক স্বীকারোক্তিই বা কিভাবে দিলেন? তথাকথিত আদালতে শুনানিই বা কিভাবে হয়েছিল, যেখানে এমনকি অভিযুক্ত আট বাংলাদেশির পক্ষে কোনো আইনজীবিও ছিল না?
বিশ্বখ্যাত মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক তার চুরি করছিল অন্য একটি অজ্ঞাত গ্রুপ। সেখানে চাকরিরত আট বাংলাদেশি শ্রমিক চুরি নয়, বরং চোরদের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। এই দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির সময় মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মী মারা যান।
আট বাংলাদেশি কি তার চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন? না, সেরকম কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং এটাই অস্বাভাবিক যে, যে প্রতিষ্ঠানে আট বাংলাদেশি দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন, তারা কেন হঠাৎ চুরি করতে নামবেন?
আট বাংলাদেশি কি মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মী খুনের সঙ্গে জড়িত? সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, আট বাংলাদেশি নয়, চুরির কাজটা করতে গিয়েছিল অন্য একটি গ্রুপ। বাধা দিতে গিয়ে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় চোরদের। এই সময় মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মীটি নিহত হন।
প্রতিবাদের স্বর পৌঁছে গেছে সৌদি আরবেও
ঢাকায় আজকের প্রতীকী প্রতিবাদের পরপরই খবরটি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে সৌদি নিউজ টুডে। যার শিরোনাম ছিল - Members of 'Magic Movement' protest against beheading of eight Bangladeshis in Saudi Arabia. সৌদি জনগণ জানলো, বাংলাদেশিরা শুধুই তরবারির নিচে মাথা পেতে দিতে জানে না, প্রতিবাদও করতে জানে।ডেমোটিক্স
নিউ ইয়র্ক টাইমস, হাফিংটন পোস্টের মতো সংবাদমাধ্যম যার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, সেই ডেমোটিক্সও প্রতিবাদ সমাবেশটিকে দিয়েছে আলাদা গুরুত্ব।
ইয়াহু নিউজ
Mock execution scene...
সালেম রেডিও নিউজ নেটওয়ার্ক
বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে মার্কিনভিত্তিক এই নিউজ নেটওয়ার্ক।
চীনা সংবাদ সংস্থা DAUM
BANGLADESH SAUDI ARABIA PROTEST
প্রথম আলো
অভিনব কর্মসূচিতে বর্বতার প্রতিবাদ
ই-প্রথম আলো
অভিনব কর্মসূচিতে বর্বরতার প্রতিবাদ
সকালের খবর
ম্যাজিক মুভমেন্টের অবস্থান কর্মসূচি
এবিসি রেডিও
৮ বাংলাদেশীর শিরোশ্ছেদের ঘটনার প্রতিবাদ ম্যাজিক মুভমেন্টের
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস
Protesting against beheading of eight Bangladeshis
ডেইলি সান
NHRC to protest beheading in int'l forums
নিউ এইজ
Mock execution to protest at Saudi beheading of 8 Bangladeshis
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
'শিরোচ্ছেদের সময় এমনই অসহায় ছিলেন তারা'
বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর
শাহবাগে ৮ তরুণের শিরোশ্ছেদ!
বার্তা টোয়েন্টিফোর ডট নেট
৮ বাংলাদেশীর শিরশ্ছেদের নিন্দায় ব্লগারদের প্রতিবাদ
আমরা আছি এই ঠিকানায়
ম্যাজিক মুভমেন্ট
ফেসবুক গ্রুপ : কিক আউট সৌদি ডাইনেস্টি ফ্রম দ্য ল্যান্ড অফ ইসলাম
বিবিসি কিছুক্ষণ আগে জানালো, লিবিয়ার ওপর ফ্রান্সের সামরিক বিমান উড়তে শুরু করেছে। হয়তো আজ রাতেই রাজধানী ত্রিপোলির ওপরে মুহূর্মুহূ বোমা হামলা চলবে। হয়তো ভোর নামতেই বেনগাজি দিয়ে জাতিসংঘ বাহিনীর লেবাসে মার্কিন সেনা ঢুকে যাবে লিবিয়ার ভেতরে। ভূমধ্যসাগর থেকে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষাক্ত বোমা ফেলবে নিরীহ লিবিয়ানদের ওপরে। এর মধ্য দিয়ে ইরাক, আফগানিস্তানের পর আরো একটি সার্বভৌম দেশকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার আয়োজন প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে। জাতিসংঘ বরাবরের মতোই পশ্চিমা স্বার্থ ষোল আনা রক্ষা করে পশ্চিমের আসন্ন আগ্রাসনকে আইনগত বৈধতা দিল। অথর্ব আরব লিগ যথারীতি 'জ্বি হুজুরের' ভূমিকায়।লিবিয়ার ওপর লোভাতুর চোখ
গাদ্দাফির নানা ঘটন-অঘটনের পরও পশ্চিমাদের কাছে লিবিয়া যে কারণে সিরিয়া ছিল না, যে কারণে লিবিয়াকে ইরানের মতো সতীনের চোখে দেখা হতো না, তার মূল কারণ দেশটির প্রধান সম্পদ তেল। এই তেলের কারণেই সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার বেশ অনেকবার গোপনে লিবিয়া সফর করেছেন ইতিপূর্বে, নানা ইস্যুতে গাদ্দাফিকে পরামর্শ সরবরাহ করেছেন নিয়মিত। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের আমলেই লিবিয়ার কাছে বিক্রি করা হয়েছে অস্ত্রের বিশাল চালান। লকারবি বিমান হামলায় অভিযুক্ত লিবীয় নাগরিক মেগরাহিকে যে স্কটল্যান্ড মুক্তি দিতে বাধ্য হল কদিন আগে, তাও ওই ব্রিটেনের অদৃশ্য চাপেই। সেই ব্রিটেন এখন গাদ্দাফির পাশে নেই। গাদ্দাফির কদর তাদের কাছে ফুরিয়েছে।
নিকোলো সারকোজি যতোটা না ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, তার চেয়েও বেশি সুপারমডেল কার্লা ব্রুনির স্বামী। মেধার দিক থেকেও দুজনেই সমান বলে আমার ধারণা। উইকিলিকস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যতোটা না ক্ষুব্ধ ছিল, তার চেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখেছি ফ্রান্সের পক্ষ থেকে। ডেকচির চেয়ে ঢাকনা গরম - এই অবস্থা! লিবিয়ার বেলায়ও সেটা দেখলাম। খোদ যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেনের আগেই তারা লিবিয়ান বিদ্রোহীদের স্বীকৃতি দিয়েছে, অন্য দেশগুলোর ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
একই সুতোয় মার্কিন+আরব লিগ
যুক্তরাষ্ট্র বেশ অনেকদিন কেন যেন দ্বিধায় ভুগছিল লিবিয়া নিয়ে। এমনিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই রুষ্ট ছিল গাদ্দাফির ওপর, তবে মাত্রাটা ছিল মৃদু - নয় শীত, নয় উষ্ণ। যেভাবে তাকে চটানো উচিত, সেভাবে কখনো চটায়নি তারা। এখন বেলা শেষে গাদ্দাফির পতন যেহেতু সময়ের ব্যাপার, ঠিক এমন অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গাদ্দাফিকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে দ্বিতীয়বার ভাবেনি। গাদ্দাফি এবং তার সহযোগীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে এক সেকেন্ড দেরি করেনি। ওদিকে আরব্য হিজড়াদের সংগঠন আরব লীগ পশ্চিমা প্রভুদের মনোরঞ্জন করে যাচ্ছে বরাবরের মতোই। এই আরব লীগ বাহরাইনের বিদ্রোহীদের দমনের জন্য একাট্টা, তারাই আবার লিবিয়ার বিদ্রোহীদের সহায়তার জন্য দুপায়ে খাড়া। বাহরাইনে তাদের ভূমিকা দমনকারীর, লিবিয়ার আবার সেই ভূমিকা সাহায্যকারীর।
পশ্চিমের অস্বাভাবিক অতি উৎসাহ
ফ্রান্স-ব্রিটেনের অতি উৎসাহের নেপথ্যে কী? এই উৎসাহ কেন ফিলিস্তিনের বেলায় নেই, কেন আইভরি কোস্টে নয়, কেন নয় মিয়ানমারে? আইভরি কোস্টে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে মাসের পর মাস একটা ঘরে বন্দি করে রেখেছে প্রতিপক্ষ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী সেখানে কার্যত ঠুঁটো জগন্নাথের ভূমিকায়। মাত্র গত পরশুই ৩০ জন বেসামরিক লোককে হত্যা করেছে লরা বাগবোর অনুগত বাহিনী। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সেটা নিয়ে মাথাব্যথা নেই, ফ্রান্স সেখানে বিমান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে না, রণতরী মোতায়েনের চিন্তা মাথাতেই আনে না ব্রিটেন। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা যুগের পর যুগ পশ্চিমা ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আসছে। কেন সেখানে ফরাসি বিমান উড়ে না? জাতিসংঘ সেখানে কেন কঠোর নয় লিবিয়ার মতো? উত্তর - তেল, তেল এবং তেল!
মন্দের ভালো এক স্বৈরশাসক
বেনগাজিতে কিছু লিবিয়ান এখন যে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছে, একদা এইরকম বিপ্লব করেই গাদ্দাফি লিবিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলেন আরেক স্বৈরশাসককে হটিয়ে। ৪৩ বছর ধরে যে লোক একটি দেশের ক্ষমতায় - সেই গাদ্দাফি যে স্বৈরশাসক সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে না। আপাদমস্তক বেদুইন গাদ্দাফির দোষত্রুটি সীমাহীন, অবৈধ সম্পদও তার প্রচুর। তবু তাকে কৃতিত্ব দিতে হয় পশ্চিমের লোভাতুর চোখ এড়িয়ে দেশটাকে অখন্ড রাখার জন্য। লিবিয়ায় অন্তত তিনটি উপজাতি আছে, যারা দেশের ভেতরে যে কোনো পটপরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এই তিন উপজাতিই প্রভাবশালী, আর তা এতোটাই যে লিবিয়ার ভেতরেই যার যার সীমানায় আলাদা আলাদা রাষ্ট্র তৈরি করে বসতে পারেন। কিন্তু সেটা হয়নি মূলত গাদ্দাফির অনমনীয় কৌশলী ভূমিকার কারণে। বাংলাদেশে ফেরত আসা লিবিয়া প্রবাসীদের অনেকেই বলেছেন, গাদ্দাফি দেশটার অবকাঠামোগত প্রচুর উন্নতি ঘটিয়েছেন।
যে তন্ত্র মার্কিন-ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষা করে
গণতন্ত্র সর্বোত্তম, তবে আজকাল গণতন্ত্র আর গণতন্ত্র নেই, সংজ্ঞা বদলেছে অনেক আগেই। এখনকার বিশ্বে মার্কিন-ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষা করে যে তন্ত্র, সেটাই গণতন্ত্র। এই বিশেষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন-ফ্রান্সের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক দস্যুদল হামলে পড়তে চাইছে লিবিয়ার ওপর। বেনগাজিতে গতকালও লিবিয়ার পতাকার পাশাপাশি ফ্রান্সের পতাকা উড়েছে। যেন সার্বভৌম লিবিয়া ফরাসি কলোনি হতে যাচ্ছে। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানে দেখলাম, লিবিয়ার ভূমিতে পশ্চিমা সেনা অভিযানের খবরে খোদ বিদ্রোহীদের মধ্যেই অসন্তোষ ছড়িয়ে গেছে। ছড়ালেও লাভ আর নেই। পশ্চিমাদের জন্য আগ্রাসনের ক্ষেত্র ইতিমধ্যে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
যদি পতন ঘটে গাদ্দাফির
যদি গাদ্দাফির পতন ঘটে, তাহলে লিবিয়া খণ্ড-বিখণ্ড হবে - এ নিয়ে নিঃসন্দেহই থাকা যায়। এবং নিশ্চিতভাবেই বিদ্রোহীদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে, তাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে আগামী দিনে লিবিয়ার চাকা চলবে হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নয়তো ব্রিটেনের ইঙ্গিতে। এই অবস্থায়, বিষয়টা যদিও স্পর্শকাতর, কারো কারো চোখে অস্বস্তিকরও ঠেকবে, তবু একজন ডিক্টেটর কর্ণেল মোয়াম্মার গাদ্দাফির প্রতি সমর্থন থাকলো বাংলাভাষী এক ব্লগারের। কারণ চাই না সাড়ে ১৭ লাখ বর্গকিলোমিটারের দেশটি অন্য কারো হোক...
মাইকেল জ্যাকসনের দুনিয়াকাঁপানো মৃত্যু সংবাদ কোনো টিভি নয়, রেডিও নয়, সংবাদপত্র তো নয়ই- প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল একটি ব্লগে। আইপিএলের গত আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের এক ভূতুড়ে ক্রিকেটারের ব্লগ হইচই ফেলে দিয়েছিল সবখানে। আবার দেখা যায়, অমিতাভ বচ্চনের ব্লগ পড়তে হুমড়ি খেয়ে পড়েন ভারতীয়রা। এভাবে ব্লগ শুধু আলোচনা কিংবা মতামত প্রকাশের ক্ষেত্র হয়েই থাকেনি, সদ্য সংবাদের জন্যও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠছে ক্রমেই। আবার ব্লগ নিজেও এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেখুন একেক করে-পার্সোনাল ব্লগিংয়ের জনক
মার্কিন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক জাস্টিন হল ইন্টারনেট ভিত্তিক ডায়েরি লেখার প্রচলন শুরু করেন ১৯৯৪ সালে। ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে নিউ ইয়র্ক টাইমস তাকে 'পার্সোনাল ব্লগিংয়ের জনক' হিসেবে অভিহিত করে। জাস্টিন হলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন এখানে।
বিশ্বজুড়ে ব্লগের সংখ্যা কতো?
ব্লগ সার্চ ইঞ্জিন 'টেকনোরাতি' দু বছর আগে হিসেব করে দেখিয়েছিল ইন্টারনেটজুড়ে ১১ কোটি ২০ লাখ ব্লগ রয়েছে। শুধু চীনেই আছে সাত কোটি ব্লগার।
দেশ অনুসারে ব্লগারের সংখ্যা
অস্ট্রেলিয়া : প্রায় ৪ লাখ। অস্ট্রিয়া : প্রায় ২০ হাজার। বেলজিয়াম : প্রায় এক লাখ। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা : প্রায় তিন হাজার। ব্রুনেই : প্রায় তিন হাজার। কানাডা : প্রায় ৭ লাখ। ক্রোয়েশিয়া : প্রায় ৪০ হাজার। চেক রিপাবলিক : প্রায় ৫ হাজার। ডেনমার্ক : প্রায় ৫ হাজার। ফিনল্যান্ড : প্রায় ১ লাখ। ফ্রান্স : প্রায় তিন মিলিয়ন। জার্মানি : ২ লাখ ৮০ হাজার। ভারত : প্রায় এক লাখ। আয়ারল্যান্ড : প্রায় ৭৫ হাজার। ইজরায়েল : প্রায় এক লাখ। ইটালি : প্রায় দুই লাখ। জাপান : চার মিলিয়ন। মালয়েশিয়া : প্রায় ১০ হাজার। নেদারল্যান্ডস : ৬০ হাজার। ফিলিপাইন : প্রায় ৭৫ হাজার। পোল্যান্ড : ১.৪ মিলিয়ন। রাশিয়া : প্রায় তিন লাখ। দক্ষিণ কোরিয়া : ১৫ মিলিয়ন। স্পেন : ১.৫ মিলিয়ন। ইউক্রেন : ৫০ হাজার। যুক্তরাজ্য : ২.৫ মিলিয়ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র : ১৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন।
হোস্ট অনুসারে ব্লগারের সংখ্যা
জাঙ্গা : ৪০ মিলিয়ন। এমএসএন স্পেসেস : ১৫ মিলিয়ন
ব্লগার : ১৪ মিলিয়ন +। সাইওয়ার্ল্ড : ১১ মিলিয়ন । সিক্সএপার্ট : ৯.৫ মিলিয়ন
প্লানেট ওয়েবলগ সার্ভিস : ৬ মিলিয়ন। ইয়াহু ব্লগস কোরিয়া : ৩ মিলিয়ন
স্কাইব্লগ : ২.৫ মিলিয়ন। গ্রেটেস্ট জার্নাল : ১ মিলিয়ন
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অন্যান্য লাইভ জার্নাল : ১ মিলিয়ন।
ওপরের সবকটি পরিসংখ্যানই ২০০৫ সালের।
বিশেষায়িত ব্লগ সার্চ ইঞ্জিন
শুধু ব্লগ খোঁজার জন্য বিশেষায়িত সার্চ ইঞ্জিন আছে। এর মধ্যে জনপ্রিয় তিনটি সার্চ ইঞ্জিন হচ্ছে ব্লগলাইনস, ব্লগস্কোপ এবং টেকনোরাতি।
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগ কোনটি?
■ চীনা অভিনেত্রী ও চিত্রপরিচালক জু জিংলেইয়ের ব্লগটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইনকামিং লিংক সম্পন্ন ব্লগ। বলা হয়ে থাকে, এটিই বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগ। জিংলেইয়ের ব্লগের অনূদিত রূপ পাবেন এখানে।
■ যদিও টেকনোরাতির মতে, ২০০০ সালে চালু হওয়া বোইং বোইং হচ্ছে বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত ব্লগ। যাদের একটি টেলিভিশন চ্যানেলও আছে।
ব্লগের বই 'ব্লুক'
ব্লগে বই প্রকাশ করা এখন প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। ব্লগভিত্তিক বইকে বলা হয়ে থাকে ব্লুক (blog+book=blook)। ২০০৫ সালে ব্লগভিত্তিক বইয়ের জন্য লুলু ব্লুকার প্রাইজ নামে একটি পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়।
মার্কিন ব্লগার টাকার ম্যাক্সের লেখা ব্লুক 'আই হোপ দে সার্ভ বিয়ার ইন হেল' নিউ ইয়র্ক টাইমসের সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের তালিকায় ছিল টানা পরবর্তী চার বছর। এই বই নিয়ে গত বছর একটি ছবিও নির্মিত হয়েছে।
রাষ্ট্রের কোপানলে ব্লগার
■ ২০০৬ সালে মিশরীয় প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক এবং ইসলামকে অপমান করে লেখার অভিযোগে সুলায়মান নামের এক ব্লগারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার মুক্তির জন্য জনমত গড়ে তুলতে [link|http://www.freekareem.org/|একটি ওয়েবসাইট খোলা হয়।
■ ২০০৮ সালের মে মাসে মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় ব্লগার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষককে একটি পোস্ট লেখার অপরাধে রাজদ্রোহী অভিযুক্ত করে কারাগারে পাঠানো হয়।
■ ২০০৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাজতন্ত্র নিয়ে সমালোচনা প্রকাশের অভিযোগে মরক্কোর আদালত মোহাম্মদ ইররাজি নামের ২৯ বছর বয়সী এক ব্লগারকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া 'রাজার প্রতি যথাবিহিত সম্মান না দেখানোর কারণে' তাকে ৬২৫ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়
■ গত বছর আজারবাইজান ভিত্তিক দুই ব্লগার আদনান হাজিজাদে ও এমিন মিলিকে দু মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। দেশটির রাষ্ট্রপতি ইলভাম আলিয়েভ নিজে ওই দু ব্লগারকে 'গুণ্ডা' বলে অভিহিত করেন।
কারাগারে নিহত প্রথম ব্লগার
ধর্মীয় নেতাদের কথিত অপমান করার পরে বিচারাধীন অবস্থায় গত বছর ইরানের একটা জেলে মারা যান ব্লগার ও সাংবাদিক ওমিদ রেজা মির সায়াফি। কারাগারের অভ্যন্তরে মৃত্যুবরণ করা প্রথম ব্লগার তিনি। পরে তার স্মরণে মার্চ এইটিন মুভমেন্ট নামের একটি আন্দোলনের জন্ম নেয়।
ব্লগারদের জন্য বিপজ্জনক পাঁচটি স্থান
উত্তর কোরিয়া, কাজাখস্তান এবং কিউবাকে ছাপিয়ে ব্লগারদের জন্য বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয় পাঁচটি স্থানকে-
■ চীন : কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টের হিসেব মতে, শুধু ২০০৯ সালেই ২৪ জন ব্লগারকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে চীন।
■ ইরান : গত এক বছরে ইরানে বহু ব্লগারকে জেলে পাঠানো হয়েছে। বিশ্বে ইরানেই প্রথম কোনো ব্লগার কারাগারের অভ্যন্তরে নিহত হন।
■ মিয়ানমার : ব্লগারদের প্রতি মিয়ানমারের নীতি তার পাশ্ববর্তী চীনের মতোই। ২০০৮ সালে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় নার্গিস আঘাত হানার পর মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে ইন্টারনেটে একটি ভিডিও প্রকাশের সেখানকার ব্লগার মোং থুরাকে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
■ মিশর : রাজনৈতিক ব্লগারদের হয়রানি মিশরে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। অনেক ব্লগারকে কারাভ্যন্তরেই নির্যাতন করা হয়ে থাকে সেখানে।
■ সৌদি আরব : সৌদি ব্লগারদের বিচার ছাড়াই জেলে পাঠানোর ঘটনা একাধিক।
রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্লগ
■ চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের একটি মাইক্রোব্লগিং সাইট আছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি খোলা এই একাউন্টে এখন পর্যন্ত অবশ্য কিছু লেখা হয়নি।
■ জাপানের প্রধানমন্ত্রী উকিও হাতোয়ামা চলতি বছরের শুরুর দিকে টুইটার ব্যবহার শুরু করেছেন। একই সঙ্গে চালু করেন নিজস্ব ব্লগ। জাপানি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনগণ এবং রাজনীতির সঙ্গে দূরত্ব কমাতে তিনি ব্লগ ব্যবহার করছেন। তার ব্লগ ও টুইটার একাউন্ট দুটোই জাপানি ভাষায়।
ব্লগ পুরস্কার
ববস্ বা বেস্ট অব ব্লগস হচ্ছে ওয়েব্লগ, পডকাস্ট এবং ভিডিওব্লগের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক ব্লগ পুরস্কার৷ ১১টি ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় এই পুরস্কার দেওয়া হয়- আরবি, বাংলা, চীনা, জার্মান, ইংরেজি, ফরাসি, ইন্দোনেশীয়, ফার্সি, পর্তুগিজ, রুশ ও স্প্যানিশ । চার বছর আগে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় এবারই প্রথম এবারই প্রথম বাংলা ভাষা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইন্ডিয়ান ওয়েব্লগ অ্যাওয়ার্ড প্রচলন করা হয় ২০০৩ সালে। এই পুরস্কার শুধু ভারতীয় ব্লগের জন্য উন্মুক্ত।
আরো কিছু পুরস্কার-
ওয়েবব্লগ অ্যাওয়ার্ড │ব্লগারস চয়েস অ্যাওয়ার্ড│ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ প্রতিযোগিতা
বিশ্বজুড়ে গত দু বছরের সেরা ব্লগগুলো
সংবাদ ব্লগ : দ্য হাফিংটন পোস্ট
গ্যাজেট ও ইলেকট্রনিক্স ব্লগ : গিজমোডো
বিজনেস ব্লগ : দ্য বিজনেস ইনসাইডার এবং কনজিউমারিস্ট
পরিবেশ ব্লগ : ওয়াট'স আপ উইথ দ্যাট? এবং ট্রিহাগার
বিনোদন ব্লগ : গকার
কোম্পানি ব্লগ : অফিসিয়াল গুগল ব্লগ
টেকনোলজি ব্লগ : টেকক্রাঞ্চ এবং আর্স টেকনিকা
সেলিব্রিটি গসিপ : টিএমজেড এবং পেরেজ হিলটন
রাজনৈতিক ব্লগ : থিঙ্ক প্রগ্রেস এবং ডেইলি কজ
স্পোর্টস ব্লগ : ব্লিচার রিপোর্ট
পার্সোনাল ব্লগ : ডুসি
ওয়েব সম্পর্কিত : ম্যাশাবল
এছাড়া জনপ্রিয় ভারতীয় ব্লগগুলোর তালিকা পাবেন এখানে এবং এখানে।
ব্লগ সম্পর্কিত দুটি সংযুক্তি
ব্লগ দিবস│মিডিয়া ব্লগার্স
ছবিতে ২০০৬ সালে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার মিশরীয় ব্লগার মোহাম্মদ শারকাভি মুক্ত হওয়ার পর। ছবি : জেমস বাক
সংযুক্তি
টেকটিউনস ব্লগে রনি পারভেজের পোস্ট।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): blog, ব্লগ, fakeiplplayer, tmz, bigadda, justin hall, technorati, xanga, sixapart, Cyworld, blogger, bloglines, blogscope, xujinglei, xu jinglei, boingboing, boing boing, tuckermax, tucker max, blook, blookerprize, blooker prize, free kareem, moroccan blogger, march18, march 18, hatoyamayukio, hatoyama yukio, bobs, thebobs, the bobs, blog award, bloggers choice award, bloggies, huffingtonpost, huffington post, techcrunch ;
প্রথম প্রকাশ
অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক বিচিন্তায় একবার কয়েকজন মাদ্রাসা ছাত্রের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল এই, সমসাময়িক বিষয়আশয় সম্পর্কে তাদের জ্ঞান যাচাই।প্রতিবেদক : চাঁদ সম্পর্কে আপনার ধারণা কী?
ছাত্র : চাঁদে গাছপালা আছে, ফুল-ফল আছে। মানুষজনও আছে বলে শুনেছি।
মাদ্রাসা সব ছাত্রই এরকম, সেটা নিশ্চয়ই নয়। পাঠ্যক্রম বহির্ভূত হলেও ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেকে ভালো ধারণাও রাখেন হয়তো। তবে মাদ্রাসা ছাত্রই কেবল নয়, সমসাময়িক ঘটনাবলী কিংবা ইতিহাস সম্পর্কে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানও রিখটার স্কেলে ৮.৮ মাত্রার না হোক, ৫-৬ এর মধ্যেই ঘোরাঘুরি করবে- এমনই ভয়াবহ!
এই যখন জ্ঞান-পরিস্থিতি, তখন সুখবর নিয়ে এলো বিখ্যাত জনসংযোগ সংস্থা লুইস পিআর। চলতি বছরের শুরুতে তারা ব্রিটেনে এক হাজার মানুষের মধ্যে একটি জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে যে ফলাফল আমরা দেখছি, সেটা ভয়াবহ মাত্রার। বিশেষ করে পশ্চিমের একটি উন্নত দেশে সাধারণ জ্ঞান পরিস্থিতির কী হাল হতে পারে দেখুন একনজর-
অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস দিয়ে জরিপের শুরু। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রতি ১০০ ব্রিটিশের ২০ জনই মনে করেন স্টিভ জবস মূলত একজন ফুটবলারের নাম, যিনি সাধারণত মিডফিল্ড পজিশনে খেলে থাকেন। এক হাজার উত্তরদাতার মধ্যে ১০ শতাংশ ব্রিটিশ তাকে একজন শ্রমিক নেতা হিসেবে জানেন। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস সম্পর্কে ৫ শতাংশ ব্রিটিশের ধারণা আরো ভয়াবহ। তারা বদ্ধমূল ধারণা হল, বিল গেটস প্রকৃতপক্ষে একজন বিখ্যাত ট্রেন ডাকাত!
এমন নয় যে, নামের সাদৃশ্যের কারণে ব্যাপারটা এমন বিতিকিচ্ছিরি রূপ নিয়েছে বা অজান্তে ভুলভাল হয়ে যাচ্ছে। লুইস পিআর দলিলপত্র ঘেঁটে বিল গেটসের নামের কাছাকাছি একটি নাম পেয়েছে। সেটা ষাটের দশকের মামলা। সেই সময় রনি বিগস নামের এক কুখ্যাত ট্রেন ডাকাতের নাম পাওয়া যায়। স্টিভ জবস অবশ্য এইদিক থেকে দুর্ভাগা। তার নামের কাছাকাছি কোনো ফুটবলার পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হয়েছে, স্টিভ জবসের নামের শেষ অংশটুকু যেহেতু শ্রম সংশ্লিষ্ট, সেজন্য উত্তরদাতারা ধরে নিয়েছেন যে, তিনি শ্রমিক নেতাই হবেন!
এই জরিপ থেকে আর কিছু না হোক, যে আবিস্কারটি করা সম্ভব হয়েছে, তা হচ্ছে বিশ্বের বৃহৎ একটি অংশের মানুষের মধ্যে ব্যবসায় অঙ্গনের রথী-মহারথীদের নিয়ে কোনোই আগ্রহ নেই।
ইউটিউবে দেখুন জরিপের সচিত্র বিবরণ-
ছাত্র : চাঁদে গাছপালা আছে, ফুল-ফল আছে। মানুষজনও আছে বলে শুনেছি।
মাদ্রাসা সব ছাত্রই এরকম, সেটা নিশ্চয়ই নয়। পাঠ্যক্রম বহির্ভূত হলেও ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেকে ভালো ধারণাও রাখেন হয়তো। তবে মাদ্রাসা ছাত্রই কেবল নয়, সমসাময়িক ঘটনাবলী কিংবা ইতিহাস সম্পর্কে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানও রিখটার স্কেলে ৮.৮ মাত্রার না হোক, ৫-৬ এর মধ্যেই ঘোরাঘুরি করবে- এমনই ভয়াবহ!
এই যখন জ্ঞান-পরিস্থিতি, তখন সুখবর নিয়ে এলো বিখ্যাত জনসংযোগ সংস্থা লুইস পিআর। চলতি বছরের শুরুতে তারা ব্রিটেনে এক হাজার মানুষের মধ্যে একটি জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে যে ফলাফল আমরা দেখছি, সেটা ভয়াবহ মাত্রার। বিশেষ করে পশ্চিমের একটি উন্নত দেশে সাধারণ জ্ঞান পরিস্থিতির কী হাল হতে পারে দেখুন একনজর-
অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস দিয়ে জরিপের শুরু। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রতি ১০০ ব্রিটিশের ২০ জনই মনে করেন স্টিভ জবস মূলত একজন ফুটবলারের নাম, যিনি সাধারণত মিডফিল্ড পজিশনে খেলে থাকেন। এক হাজার উত্তরদাতার মধ্যে ১০ শতাংশ ব্রিটিশ তাকে একজন শ্রমিক নেতা হিসেবে জানেন। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস সম্পর্কে ৫ শতাংশ ব্রিটিশের ধারণা আরো ভয়াবহ। তারা বদ্ধমূল ধারণা হল, বিল গেটস প্রকৃতপক্ষে একজন বিখ্যাত ট্রেন ডাকাত!
এমন নয় যে, নামের সাদৃশ্যের কারণে ব্যাপারটা এমন বিতিকিচ্ছিরি রূপ নিয়েছে বা অজান্তে ভুলভাল হয়ে যাচ্ছে। লুইস পিআর দলিলপত্র ঘেঁটে বিল গেটসের নামের কাছাকাছি একটি নাম পেয়েছে। সেটা ষাটের দশকের মামলা। সেই সময় রনি বিগস নামের এক কুখ্যাত ট্রেন ডাকাতের নাম পাওয়া যায়। স্টিভ জবস অবশ্য এইদিক থেকে দুর্ভাগা। তার নামের কাছাকাছি কোনো ফুটবলার পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হয়েছে, স্টিভ জবসের নামের শেষ অংশটুকু যেহেতু শ্রম সংশ্লিষ্ট, সেজন্য উত্তরদাতারা ধরে নিয়েছেন যে, তিনি শ্রমিক নেতাই হবেন!
এই জরিপ থেকে আর কিছু না হোক, যে আবিস্কারটি করা সম্ভব হয়েছে, তা হচ্ছে বিশ্বের বৃহৎ একটি অংশের মানুষের মধ্যে ব্যবসায় অঙ্গনের রথী-মহারথীদের নিয়ে কোনোই আগ্রহ নেই।
ইউটিউবে দেখুন জরিপের সচিত্র বিবরণ-
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bill gates, steve jobs, bichinta ;
প্রথম প্রকাশ
ওহ্ গড! পরশু থেকে যা ভাবছিলাম, সেটাই হল অবশেষে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন শেষমেশ বললেন, উলফার চেয়ারম্যান গ্রেপ্তারের কোনো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেনি। তিনি আজ বললেন, "গ্রেপ্তারের ঘটনাই তো ঘটেনি, হ্যান্ডওভারের প্রশ্ন আসে কীভাবে?"উলফা চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়া কক্সবাজারেই গ্রেপ্তার হয়েছেন গত সোমবার। এতে কোনো সন্দেহ নেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ছাড়াও বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোও সুনির্দিষ্ট দাবি করছিল, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম (উলফা) এর চেয়ারম্যান অরবিন্দ গত সোমবার বাংলাদেশেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। পরে তাকে ভারতের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল প্রকাশিত রিপোর্টে ভারতের বহুল প্রচারিত দৈনিক হিন্দুস্থান টাইমস সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, 'উলফা চেয়ারম্যানকে বুধবার ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ। পরে তাকে নয়াদিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কোনো বন্দি বিনিময় চুক্তি নেই।' উলফা চেয়ারম্যানকেই শুধু নয়, ভারতের আরেক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এনএলএফটি নেতা বিশ্ব মোহন দেব বর্মাকেও বাংলাদেশ ভারতের কাছে তুলে দিয়েছে বলে হিন্দুস্থান টাইমস জানাচ্ছে।
অনুপ চেটিয়া দিয়ে শুরু
উলফার সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়া ঢাকায় গ্রেপ্তার হন আজ থেকে ১২ বছর আগে। আটক করা উলফা নেতাদের মধ্যে তিনিই একমাত্র ব্যতিক্রম, যাকে গ্রেপ্তার করে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। তবে ১৯৯৭ সালের সেই গ্রেপ্তারের ঘটনার পরও বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ঘটনা অস্বীকার করে গেছে। পরে ঢাকার আদালতে অনুপ চেটিয়ার বিরুদ্ধে বিচার হয়েছিল বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে। সেই মামলায় তাকে দেওয়া সাজার মেয়াদও শেষ হয়েছে ইতিমধ্যে। তিনি এখনো কারাগারে বন্দি আছেন। সাজা শেষ হলেও তাকে নিয়ে সামনে কী করবে সরকার, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
ক্ষমতায় আসার পরপরই বাংলাদেশে অবস্থানরত উলফা নেতাদের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়ে উঠে আওয়ামী লীগ সরকার। মাঝে মাঝেই দেশজুড়ে গোপন অভিযান চললেও শীর্ষ নেতাকে আটকের খবর পাওয়া গত সেপ্টেম্বরে। ওই মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ উলফার ডেপুটি সামরিক কমান্ডার দেরহাগ্রা সেরেন্যা ওরফে আনন্দ ওরফে অমল দাসকে গ্রেফতার করে। তাকে ঢাকাতেই খুব গোপনে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
উত্তরার বাড়িতে মধ্যরাতের অভিযান
ঢাকার উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের একটি সাদামাটা বাড়ি। গত ১ নভেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে সন্তর্পণে সেই বাসায় ঢোকে সাদা পোশাকধারী ৭-৮ জনের একটি দল। আধঘন্টা পর ওই দলটি যখন বের হয়, তাদের সঙ্গে আরো দুটি মুখ দেখা যায়। এরা হলেন উলফার দুই উর্ধ্বতন নেতা পররাষ্ট্র বিষয়ক সচিব শশধর চৌধুরী এবং অর্থ বিষয়ক সচিব চিত্রবন হাজারীকা। এই দুই নেতা উলফার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়-আশয় দেখাশোনা করতেন। এদের একজন পরিবারসহ ওই বাড়িতে বসবাসও করতেন। ১ নভেম্বর রাতের ওই ঘটনার কয়েকদিন পর ভারতীয় পুলিশ তাদের সেখানকার আদালতে হাজির করে। ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করলেও কাগজে-কলমে তাদের সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র সচিব যথারীতি দাবি করেছেন, "বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে উলফা নামের সংগঠনের কোনো নেতার গ্রেফতার হওয়ার কোনো ঘটনাই ঘটেনি।"
ঢাকায় এফবিআইয়ের অভিযান
২০০৬ সালের এমন এক ঘটনার কথা আমরা জানি। ওই বছরের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএসের কাছ থেকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন যুবক এহসানুল ইসলাম সাদেকীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে ওইদিন ঢাকাতেই এফবিআইয়ের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সরকার প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি এই ঘটনার কথা। তবে সাদেকীর বাবা বারিধারার ওই ঘটনার পর একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছিলেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল সাদেকীর বিরুদ্ধে। তা নিয়ে কোনো কথা নেই। কিন্তু একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ভেতর থেকে অন্য দেশের পুলিশী সংস্থা কাউকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে পারে?
উলফা আর আল কায়েদা এক নয়
উলফা ভারতে সশস্ত্র সংগ্রাম করে যাচ্ছে বহুকাল ধরে। তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যাথা নেই। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া উলফার নেতারা এখানে অবস্থানকালে কখনোই কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল না। পুলিশের রেকর্ডেও সেরকম কোনো তথ্য নেই। উলফা আর আল কায়েদার মধ্যেও বিস্তর পার্থক্য আছে। এ দুটো সংগঠন সমমানের নয়। এ দুটোকে একপাল্লায় মাপা যায় না। কিন্তু যেহেতু ভারত সরকারের কাছে এই নেতারা 'সন্ত্রাসবাদী', এর জের ধরে আসামে তাদের জীবন বিপন্ন হওয়াতেই তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। জীবনের নিরাপত্তার জন্য তারা বাংলাদেশে সাময়িকভাবে অবস্থান করছিল।
খুব বাজে কিছু উদাহরণ তৈরি হয়ে যাচ্ছে
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই উলফা নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চলতে থাকে। স্পষ্টত ভারতকে খুশি করাই মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরকে সামনে রেখে এ অভিযান আরো জোরদার করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ কেন এই নেতাদের অপহরণ করে ভারতের কাছে তুলে দেবে গোপনে, যেখানে ভারতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তিই নেই? তাছাড়া অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব কেন নেবে বাংলাদেশ? নাকি ক্ষুধাপীড়িত এই দেশের সরকার সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের হাবিলদার সাজতে চায়?
সরকারও জানে, প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সঙ্গে এই অমানবিক আচরণের সমর্থক খুব বেশি পাওয়া যাবে না। তাই তারা অপহরণ ও হস্তান্তরের ঘটনা গোপন রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। সবকিছু বেমালুম অস্বীকার করে যাচ্ছে। ভাবতেই শিউরে উঠছি, একাত্তরে বাংলাদেশ থেকে আশ্রয় নিতে যাওয়া শরণার্থীদের যদি এভাবে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দিতো ভারত, কী অবস্থাটাই না হতো! খুব বাজে কিছু উদাহরণ তৈরি করে যাচ্ছে এই সরকার। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকেই হয়তো এর মাশুল গুণতে হবে কোনো এক সময়।
অনুপ চেটিয়া দিয়ে শুরু
উলফার সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়া ঢাকায় গ্রেপ্তার হন আজ থেকে ১২ বছর আগে। আটক করা উলফা নেতাদের মধ্যে তিনিই একমাত্র ব্যতিক্রম, যাকে গ্রেপ্তার করে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। তবে ১৯৯৭ সালের সেই গ্রেপ্তারের ঘটনার পরও বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ঘটনা অস্বীকার করে গেছে। পরে ঢাকার আদালতে অনুপ চেটিয়ার বিরুদ্ধে বিচার হয়েছিল বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে। সেই মামলায় তাকে দেওয়া সাজার মেয়াদও শেষ হয়েছে ইতিমধ্যে। তিনি এখনো কারাগারে বন্দি আছেন। সাজা শেষ হলেও তাকে নিয়ে সামনে কী করবে সরকার, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
ক্ষমতায় আসার পরপরই বাংলাদেশে অবস্থানরত উলফা নেতাদের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়ে উঠে আওয়ামী লীগ সরকার। মাঝে মাঝেই দেশজুড়ে গোপন অভিযান চললেও শীর্ষ নেতাকে আটকের খবর পাওয়া গত সেপ্টেম্বরে। ওই মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ উলফার ডেপুটি সামরিক কমান্ডার দেরহাগ্রা সেরেন্যা ওরফে আনন্দ ওরফে অমল দাসকে গ্রেফতার করে। তাকে ঢাকাতেই খুব গোপনে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
উত্তরার বাড়িতে মধ্যরাতের অভিযান
ঢাকার উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের একটি সাদামাটা বাড়ি। গত ১ নভেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে সন্তর্পণে সেই বাসায় ঢোকে সাদা পোশাকধারী ৭-৮ জনের একটি দল। আধঘন্টা পর ওই দলটি যখন বের হয়, তাদের সঙ্গে আরো দুটি মুখ দেখা যায়। এরা হলেন উলফার দুই উর্ধ্বতন নেতা পররাষ্ট্র বিষয়ক সচিব শশধর চৌধুরী এবং অর্থ বিষয়ক সচিব চিত্রবন হাজারীকা। এই দুই নেতা উলফার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়-আশয় দেখাশোনা করতেন। এদের একজন পরিবারসহ ওই বাড়িতে বসবাসও করতেন। ১ নভেম্বর রাতের ওই ঘটনার কয়েকদিন পর ভারতীয় পুলিশ তাদের সেখানকার আদালতে হাজির করে। ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করলেও কাগজে-কলমে তাদের সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র সচিব যথারীতি দাবি করেছেন, "বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে উলফা নামের সংগঠনের কোনো নেতার গ্রেফতার হওয়ার কোনো ঘটনাই ঘটেনি।"
ঢাকায় এফবিআইয়ের অভিযান
২০০৬ সালের এমন এক ঘটনার কথা আমরা জানি। ওই বছরের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএসের কাছ থেকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন যুবক এহসানুল ইসলাম সাদেকীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে ওইদিন ঢাকাতেই এফবিআইয়ের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সরকার প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি এই ঘটনার কথা। তবে সাদেকীর বাবা বারিধারার ওই ঘটনার পর একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছিলেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল সাদেকীর বিরুদ্ধে। তা নিয়ে কোনো কথা নেই। কিন্তু একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ভেতর থেকে অন্য দেশের পুলিশী সংস্থা কাউকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে পারে?
উলফা আর আল কায়েদা এক নয়
উলফা ভারতে সশস্ত্র সংগ্রাম করে যাচ্ছে বহুকাল ধরে। তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যাথা নেই। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া উলফার নেতারা এখানে অবস্থানকালে কখনোই কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল না। পুলিশের রেকর্ডেও সেরকম কোনো তথ্য নেই। উলফা আর আল কায়েদার মধ্যেও বিস্তর পার্থক্য আছে। এ দুটো সংগঠন সমমানের নয়। এ দুটোকে একপাল্লায় মাপা যায় না। কিন্তু যেহেতু ভারত সরকারের কাছে এই নেতারা 'সন্ত্রাসবাদী', এর জের ধরে আসামে তাদের জীবন বিপন্ন হওয়াতেই তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। জীবনের নিরাপত্তার জন্য তারা বাংলাদেশে সাময়িকভাবে অবস্থান করছিল।
খুব বাজে কিছু উদাহরণ তৈরি হয়ে যাচ্ছে
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই উলফা নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চলতে থাকে। স্পষ্টত ভারতকে খুশি করাই মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরকে সামনে রেখে এ অভিযান আরো জোরদার করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ কেন এই নেতাদের অপহরণ করে ভারতের কাছে তুলে দেবে গোপনে, যেখানে ভারতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তিই নেই? তাছাড়া অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব কেন নেবে বাংলাদেশ? নাকি ক্ষুধাপীড়িত এই দেশের সরকার সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের হাবিলদার সাজতে চায়?
সরকারও জানে, প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সঙ্গে এই অমানবিক আচরণের সমর্থক খুব বেশি পাওয়া যাবে না। তাই তারা অপহরণ ও হস্তান্তরের ঘটনা গোপন রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। সবকিছু বেমালুম অস্বীকার করে যাচ্ছে। ভাবতেই শিউরে উঠছি, একাত্তরে বাংলাদেশ থেকে আশ্রয় নিতে যাওয়া শরণার্থীদের যদি এভাবে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দিতো ভারত, কী অবস্থাটাই না হতো! খুব বাজে কিছু উদাহরণ তৈরি করে যাচ্ছে এই সরকার। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকেই হয়তো এর মাশুল গুণতে হবে কোনো এক সময়।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): raw, fbi, ulfa, india, asam, এফবিআই, ভারত, আসাম, উলফা ;
প্রথম প্রকাশ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্টহুড সেনাঘাঁটিতে সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে ১৩ সেনার মৃত্যুর পর মার্কিন গণমাধ্যমের আচরণ, তাদের সংবাদ প্রকাশের ভঙ্গি নিয়ে একটি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন আমেরিকান ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ কমিউনিকেশনের সহকারী অধ্যাপক অ্যাঞ্জি চুয়াং। যদিও প্রায় ক্ষেত্রেই মার্কিন গণমাধ্যমের একচক্ষু আচরণ নতুন কোনো বিষয় নয় আলোচনার, তবু অ্যাঞ্জি চুয়াংয়ের লেখাটিতে ভাবনার রসদ আছে বলে মনে হল।যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রধান দৈনিকের উদাহরণ দেখিয়েছেন তিনি। ফোর্ডহুডের ঘটনার পর ওয়াশিংটন পত্রিকার শিরোনাম- Army Suspect Said 'Allahu Akbar!' Before Shooting এবং ওয়াশিংটন পোস্টের শিরোনাম ছিল- Suspect Devout Muslim from VA, Wanted Army Discharge, Aunt Said.
লক্ষ্য করার বিষয় হল, অভিযুক্ত নিদাল হাসান যে প্রতিদিন সিলভার স্প্রিংয়ের মুসলিমদের সঙ্গে নামাজ আদায় করতেন, তার বর্ণনা দিয়েই শুরু হয়েছে ওয়াশিংটন পোস্টের সংবাদটি। কলেজ পার্কের দ্য মুসলিম লিংকের সম্পাদক মিনহাজ হাসানকে উদ্ধৃত করে লেখাটিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, একজন সাধারণ মুসলিম দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেই পারেন, কিন্তু ফোর্ট হুডের ঘটনার সঙ্গে তার যোগসূত্র কী? কেনই বা সংবাদে ধর্মপালনের বিষয়টি প্রধান হয়ে উঠবে? মিনহাজ হাসান বলেন, যখন কোনো মুসলমান অপরাধ করে, তখনই ধর্মকে অভিযুক্ত করা হয়।
এই সূত্রে অ্যাঞ্জি চুয়াং প্রশ্ন তুলছেন, যদি নিদাল হাসান খ্রিস্টান হতেন কিংবা যদি তার ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে 'গড' বা 'যীশু' শব্দটি জড়িত থাকতো, তাহলে সহযোদ্ধাদের গুলি করার দায়ে তার ধর্ম কিংবা চার্চে যাওয়া কি সংবাদের শিরোনাম হতো?
তিনি বলছেন, আমি স্মরণ করতে পারছি না ওকলাহোমার ভয়াবহ সেই বোমা হামলায় মূল অভিযুক্ত টিমোথি ম্যাকভেইয়ে ধর্ম পরিচয় কী ছিল? কলাম্বিয়ান স্কুল হত্যাকান্ডের এরিক হ্যারিস কিংবা হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে গুলি চালানো জেমস ডব্লিউ ভন ব্রুনের ধর্ম নিয়ে গণমাধ্যমে কি কখনো কোনো কথা উঠেছে?
চুয়াং বলেন, আমি খুবই অবাক হয়ে যাই, যখন সেনাবাহিনীর মনোরোগ চিকিৎসক নিদাল হাসানের মানসিক অস্থিরতার বিষয়টি দ্বিতীয় হয়ে ওঠে, আর ধর্ম হয়ে ওঠে প্রথম। পথচারী থেকে শুরু করে সাংবাদিক- সবাই তাকে আমাদের মতো নয় হিসেবেই শনাক্ত করেছে। মার্কিন সাংবাদিকরা নিদাল হাসানকে সবার আগে 'মুসলিম' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতেই ব্যতিব্যস্ত ছিল।
লক্ষ্য করার বিষয় হল, অভিযুক্ত নিদাল হাসান যে প্রতিদিন সিলভার স্প্রিংয়ের মুসলিমদের সঙ্গে নামাজ আদায় করতেন, তার বর্ণনা দিয়েই শুরু হয়েছে ওয়াশিংটন পোস্টের সংবাদটি। কলেজ পার্কের দ্য মুসলিম লিংকের সম্পাদক মিনহাজ হাসানকে উদ্ধৃত করে লেখাটিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, একজন সাধারণ মুসলিম দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেই পারেন, কিন্তু ফোর্ট হুডের ঘটনার সঙ্গে তার যোগসূত্র কী? কেনই বা সংবাদে ধর্মপালনের বিষয়টি প্রধান হয়ে উঠবে? মিনহাজ হাসান বলেন, যখন কোনো মুসলমান অপরাধ করে, তখনই ধর্মকে অভিযুক্ত করা হয়।
এই সূত্রে অ্যাঞ্জি চুয়াং প্রশ্ন তুলছেন, যদি নিদাল হাসান খ্রিস্টান হতেন কিংবা যদি তার ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে 'গড' বা 'যীশু' শব্দটি জড়িত থাকতো, তাহলে সহযোদ্ধাদের গুলি করার দায়ে তার ধর্ম কিংবা চার্চে যাওয়া কি সংবাদের শিরোনাম হতো?
তিনি বলছেন, আমি স্মরণ করতে পারছি না ওকলাহোমার ভয়াবহ সেই বোমা হামলায় মূল অভিযুক্ত টিমোথি ম্যাকভেইয়ে ধর্ম পরিচয় কী ছিল? কলাম্বিয়ান স্কুল হত্যাকান্ডের এরিক হ্যারিস কিংবা হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে গুলি চালানো জেমস ডব্লিউ ভন ব্রুনের ধর্ম নিয়ে গণমাধ্যমে কি কখনো কোনো কথা উঠেছে?
চুয়াং বলেন, আমি খুবই অবাক হয়ে যাই, যখন সেনাবাহিনীর মনোরোগ চিকিৎসক নিদাল হাসানের মানসিক অস্থিরতার বিষয়টি দ্বিতীয় হয়ে ওঠে, আর ধর্ম হয়ে ওঠে প্রথম। পথচারী থেকে শুরু করে সাংবাদিক- সবাই তাকে আমাদের মতো নয় হিসেবেই শনাক্ত করেছে। মার্কিন সাংবাদিকরা নিদাল হাসানকে সবার আগে 'মুসলিম' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতেই ব্যতিব্যস্ত ছিল।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): washington post, washington, forthood, muslim, nidal hasan, ft hood, forthood shooter, media ;
প্রথম প্রকাশ
মুম্বাইয়ের গুরু নানক কলেজের ছাত্রী উনিশ বছরের ইশরাত জাহান এবং তিন যুবক- ধর্মান্তরিত হওয়া জাভেদ শেখ, পাকিস্তানি নাগরিক আমজাদ আলী রানা এবং জিশান জওহর। সকলেই মুসলমান ধর্মাবলম্বী।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ভারত, হিন্দু, জঙ্গি, India, the hindu ;
প্রথম প্রকাশ
২০০৪ সালের জুনে আহমেদাবাদের উপকণ্ঠে এই চারজনকে খুন করে গুজরাট পুলিশ। অভিযোগ, তারা সন্ত্রাসবাদী। পুলিশের ভাষ্যমতে, গুজরাটের মূখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ওই চার 'সন্ত্রাসী' মহারাষ্ট্র থেকে এসেছিল। সেভাবেই প্রচার চলছিল এতদিন।
সম্প্রতি আহমেদাবাদের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসপি তামাং বছরপাঁচেক আগেকার সেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছেন তার ২৪৩ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে। বস্তুত ভারতের অধিকাংশ লোকই জানতেন, পুলিশের তোলা অভিযোগ পুরোটাই এক গল্প। এসপি তামাংয়ের প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের ধারণাকেই প্রামাণ্য রূপ দিল। প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো সাধারণ এনকাউন্টারের কাহিনী নয়, একে বলা যায় ভারতজুড়ে ছড়িয়ে যাওয়া সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের একটি ভয়াবহ নমুনা।
এসপি তামাং তার প্রতিবেদনে বলেছেন, ওই হত্যাকাণ্ডে গুজরাটের বিখ্যাত এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট ডিজে ভানজারা সরাসরি জড়িত ছিলেন। এই সেই ভানজারা, আরেক মুসলিম ধর্মাবলম্বী সোহরাব উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে ফেইক এনকাউন্টারে হত্যার দায়ে যিনি এর আগে অভিযুক্ত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ জুন ইশরাত জাহানসহ তিন মুসলমান যুবককে মুম্বাই থেকে অপহরণ করে পুলিশ। সেখান থেকে তাদের নিয়ে আসা হয় আহমেদাবাদে। দুদিন ধরে চলে অত্যাচার। পুলিশ যদিও প্রচার করছে, ওরা ১৫ জুন মারা গেছে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট তামাং তার প্রতিবেদনে নিশ্চিত করে বলেছেন, পুলিশ হেফাজতেই তাদের হত্যা করা হয় ১৪ জুন সন্ধ্যা থেকে রাতের কোনো এক সময়ে। হত্যার পর শহরের উপকণ্ঠে মৃতদেহগুলো রেখে আসা হয় ভোরের আলো ফোটার আগে। একে-৫৬সহ কিছু অস্ত্র সাজিয়ে রাখা হয় মৃতদেহগুলোর আশেপাশে, যাতে সবাইকে বিশ্বাস করানো যায় যে, এরা আসলেই সন্ত্রাসী ছিল। গুজরাট পুলিশ যথারীতি সেভাবেই ঘটনাটির প্রচার চালায়। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সেই সুরে গলা মিলিয়ে জানায় যে, এই চার 'সন্ত্রাসী'র সঙ্গে লস্কর-ই-তৈয়বার যোগাযোগ ছিল।
ম্যাজিস্ট্রেট তামাং নিশ্চিত করেছেন, ব্যক্তিগত কারণ ছাড়াও পদোন্নতি এবং নরেন্দ্র মোদীর অনুগ্রহ পাওয়ার উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। তামাং তাঁর রিপোর্টের দু পৃষ্ঠা জুড়ে উল্লেখ করেছেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের নামও। বিস্ময়কর হল এই যে, সন্ত্রাসবাদী মুসলমান মারার কৃতিত্বস্বরূপ নরেন্দ্র মোদীর গুজরাট সরকার এদের প্রত্যেককেই পদোন্নতি দিয়েছে ঘটনার পরপরই!
বাংলাদেশে বরং অনেক ভালো আছি হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান মিলে।
সংযুক্তি
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন
সম্প্রতি আহমেদাবাদের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসপি তামাং বছরপাঁচেক আগেকার সেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছেন তার ২৪৩ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে। বস্তুত ভারতের অধিকাংশ লোকই জানতেন, পুলিশের তোলা অভিযোগ পুরোটাই এক গল্প। এসপি তামাংয়ের প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের ধারণাকেই প্রামাণ্য রূপ দিল। প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো সাধারণ এনকাউন্টারের কাহিনী নয়, একে বলা যায় ভারতজুড়ে ছড়িয়ে যাওয়া সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের একটি ভয়াবহ নমুনা।
এসপি তামাং তার প্রতিবেদনে বলেছেন, ওই হত্যাকাণ্ডে গুজরাটের বিখ্যাত এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট ডিজে ভানজারা সরাসরি জড়িত ছিলেন। এই সেই ভানজারা, আরেক মুসলিম ধর্মাবলম্বী সোহরাব উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে ফেইক এনকাউন্টারে হত্যার দায়ে যিনি এর আগে অভিযুক্ত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ জুন ইশরাত জাহানসহ তিন মুসলমান যুবককে মুম্বাই থেকে অপহরণ করে পুলিশ। সেখান থেকে তাদের নিয়ে আসা হয় আহমেদাবাদে। দুদিন ধরে চলে অত্যাচার। পুলিশ যদিও প্রচার করছে, ওরা ১৫ জুন মারা গেছে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট তামাং তার প্রতিবেদনে নিশ্চিত করে বলেছেন, পুলিশ হেফাজতেই তাদের হত্যা করা হয় ১৪ জুন সন্ধ্যা থেকে রাতের কোনো এক সময়ে। হত্যার পর শহরের উপকণ্ঠে মৃতদেহগুলো রেখে আসা হয় ভোরের আলো ফোটার আগে। একে-৫৬সহ কিছু অস্ত্র সাজিয়ে রাখা হয় মৃতদেহগুলোর আশেপাশে, যাতে সবাইকে বিশ্বাস করানো যায় যে, এরা আসলেই সন্ত্রাসী ছিল। গুজরাট পুলিশ যথারীতি সেভাবেই ঘটনাটির প্রচার চালায়। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সেই সুরে গলা মিলিয়ে জানায় যে, এই চার 'সন্ত্রাসী'র সঙ্গে লস্কর-ই-তৈয়বার যোগাযোগ ছিল।
ম্যাজিস্ট্রেট তামাং নিশ্চিত করেছেন, ব্যক্তিগত কারণ ছাড়াও পদোন্নতি এবং নরেন্দ্র মোদীর অনুগ্রহ পাওয়ার উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। তামাং তাঁর রিপোর্টের দু পৃষ্ঠা জুড়ে উল্লেখ করেছেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের নামও। বিস্ময়কর হল এই যে, সন্ত্রাসবাদী মুসলমান মারার কৃতিত্বস্বরূপ নরেন্দ্র মোদীর গুজরাট সরকার এদের প্রত্যেককেই পদোন্নতি দিয়েছে ঘটনার পরপরই!
বাংলাদেশে বরং অনেক ভালো আছি হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান মিলে।
সংযুক্তি
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ভারত, হিন্দু, জঙ্গি, India, the hindu ;
প্রথম প্রকাশ
মোহাম্মদ সোয়েব, খেটে খাওয়া তরুণ, তার গ্ল্যামার নেই। দেশে আবার কাজও নেই, তাই তিনি বেরিয়ে পড়েছিলেন ভাগ্যের খোঁজে। মাসখানেক আগে দালালের প্রলোভনে ভুলে একদিন বঙ্গোপসাগরে অপেক্ষমাণ একটি নৌকায় উঠে বসেছিলেন মালয়েশিয়া যাওয়ার আশায়। ছিলেন না তিনি, সঙ্গে ছিল আরো চার শতাধিক মানুষ, আরো কটি নৌকায়। উত্তাল উপসাগরে নিয়ন্ত্রণহীন নৌকা ভেসে চলে লক্ষ্যহীন। একসময় ভাসতে ভাসতে থাইল্যান্ডের সমুদ্রসীমানায় ঢুকে পড়ে নৌকাগুলো। থাইল্যান্ড নৌবাহিনীর একটি জাহাজ নৌকাগুলো আটক করে মানুষগুলোকে নিয়ে যায় এক নির্জন দ্বীপের ক্যাম্পে। সেখানে ১৫ দিন ধরে নৌ ও সেনাসদস্যদের নির্যাতন চলে দিকভ্রান্ত মানুষগুলোর ওপর।
এরপর ছয়টি নৌকা রেখে দিয়ে ২৫ মিটার লম্বা একটি নৌকার মধ্যে সবাইকে গাদাগাদি করে উঠানো হয়, সঙ্গে দেওয়া হয় ৪০০ মানুষের জন্য একটি প্লাস্টিকের চাদর আর কিছু খাবার। তবে ইঞ্জিনটি খুলে নেওয়া হয় নৌকা থেকে। একটি থাই নৌজাহাজ প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে টেনে নিয়ে মাঝসমুদ্রে নৌকাটি ছেড়ে দেয়। সেই থেকে প্রায় দুই সপ্তাহ উদ্দেশ্যহীনভাবে সাগরে ভেসে বেড়ান চার শতাধিক বাংলাদেশী, রোহিঙ্গা শরণার্থীও ছিল কিছু। স্রোতের টানে এক সময় তারা ভাসতে ভাসতে চলে আসেন ভারতের সমুদ্রসীমানায়। আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি বাতিঘর দেখতে পেয়ে তারা ভেবেছিলেন উপকুলের কাছাকাছি এসে গেছেন। তাই প্রাণ বাঁচানোর জন্য তারা একে একে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। উপকুল রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে দ্রুত একটি হেলিকপ্টার ও চারটি জাহাজ নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নেমেছিল ভারতের নৌবাহিনী। ততোক্ষণে তিন শতাধিক ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষ চিরতরে বঙ্গোপসাগরের জলে হারিয়ে গেছেন।
গাজার মতো এও ছিল গণহত্যা। ঠান্ডা মাথার খুন! তবে এমন মর্মন্তুদ ঘটনায় বাংলাদেশে একটিও প্রতিবাদী মিছিল হয়নি, বিধবা সংবাদ পাঠিকাদের মুখে খবরটি গুরুত্ব পায়নি, ঘরকুনো প্রতিবেদকরাও এই ঘটনায় গ্ল্যামারের অভাব বোধ করেছেন। তবে মানুষ আছে! আলজাজিরা-বিবিসি সবিস্তারে ঘটনার বিবরণ প্রকাশ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় থাই প্রধানমন্ত্রী তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছেন। সিএনএনের প্রতিবেদক ঘটনাস্থল ঘুরে যে ক্লিপগুলো প্রকাশ করেছেন, দেখে চোখের জল পড়ে। ইন্দোনেশীয় টিভি চ্যানেল, অস্ট্রেলিয়ান চ্যানেলে একাধিক প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে এর মধ্যে। ভীতু বাঙালির বাইরেও দাঁড়ানোর মানুষ আছে!
ওপরের চারটি ভিডিও ক্লিপই সংগ্রহ করেছেন ব্লগার মাহবুব সুমন। 'আহা' 'উঁহু'র দরকার নেই (এইগুলার ুন মারি), অনুরোধ থাকবে, সম্ভব হলে সংবাদের ক্লিপগুলো দেখবেন। ইউটিউবের ভিডিও ডাউনলোড করা যাবে এখান থেকে।
পূর্বকথা পড়ুন এখানে
আপডেট
বাংলাদেশি-বার্মিজদের প্রতি নিষ্ঠুরতা তদন্ত করবে থাই সরকার
আমাদের সময়, রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০০৯
-------------------
সৈয়দ মাহমুদ জামান: অবৈধ প্রবেশকারী বাংলাদেশি ও বার্মিজ অভিবাসীদের হাত বেঁধে পানি ও খাদ্য ছাড়া নৌকায় তুলে দেয়া হয়েছে- বিবিসির এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থাই সেনাবাহিনী তা অস্বীকার করেছে। তবে থাইল্যান্ড সরকার জানিয়েছে তারা বিষয়টি তদন্ত করবে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ ব্যাপারে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে বলেও জানিয়েছে। এপি, টিওআই।
শুক্রবার দেশটির দ্য নেশন দৈনিকে থাই নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল খামর্থন ফুমহিরানের বরাত দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ বা মিয়ানমার থেকে আসা কারো প্রতিই কোনো ধরনের বৈরি মনোভাব দেখানো হয়নি। এমনকি তাদের কোনো সহযোগিতা ছাড়া নৌকায় তুলে দেয়া হচ্ছে এমন খবরও সত্য নয়। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী, তাদের জলসীমায় যেকোন ডুবন্ত নৌযান থেকে ‘শত্রু“’দের উদ্ধার করে ফেরত পাঠাতে বাধ্য থাকবে সেনারা। তবে তাদের ভূমিতে কোনো অভিবাসীর প্রতি বৈরি আচরণের প্রশ্নই আসে না। তবে তিনি কন সাই দায়েং প্রদেশে প্রায় শতাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী আটক থাকার কথা স্বীকার করেন এবং জানান সেখানে কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০ জন নৌ সেনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের দৈনিক ন্যাশনের প্রতিবেদন
Navy denies ill-treatment of Rohingya migrants from Burma and Bangladesh
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০০৯
-------------------
Navy chief Admiral Kamthorn Phumhiran on Friday dismissed a BBC report claiming Thai military had ill-treated the Rohingyas from Burma and Bangladesh who sought work or asylum by pushing them out to sea and setting them adrift.
"The Royal Thai Navy did not badly treated the Rohingyas. There was no setting them adrift as alleged," he said.
Under the military convention, the navy is obligated to rescue enemies from a sunken ship, he said, arguing there is no reason to mistreat the migrants landing on the Thai shore.
In the incident in question, the navy was notified by marine park rangers about the Rohingyas at Kon Sai Daeng, Ranong, he said.
A group of 20 navymen were dispatched to investigate and they found more than 100 Rohingyas, prompting the order for the migrants to lie down for safety reason, he said.
The Nation
প্রথম প্রকাশ
আপডেট
বাংলাদেশি-বার্মিজদের প্রতি নিষ্ঠুরতা তদন্ত করবে থাই সরকার
আমাদের সময়, রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০০৯
-------------------
সৈয়দ মাহমুদ জামান: অবৈধ প্রবেশকারী বাংলাদেশি ও বার্মিজ অভিবাসীদের হাত বেঁধে পানি ও খাদ্য ছাড়া নৌকায় তুলে দেয়া হয়েছে- বিবিসির এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থাই সেনাবাহিনী তা অস্বীকার করেছে। তবে থাইল্যান্ড সরকার জানিয়েছে তারা বিষয়টি তদন্ত করবে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ ব্যাপারে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে বলেও জানিয়েছে। এপি, টিওআই।
শুক্রবার দেশটির দ্য নেশন দৈনিকে থাই নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল খামর্থন ফুমহিরানের বরাত দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ বা মিয়ানমার থেকে আসা কারো প্রতিই কোনো ধরনের বৈরি মনোভাব দেখানো হয়নি। এমনকি তাদের কোনো সহযোগিতা ছাড়া নৌকায় তুলে দেয়া হচ্ছে এমন খবরও সত্য নয়। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী, তাদের জলসীমায় যেকোন ডুবন্ত নৌযান থেকে ‘শত্রু“’দের উদ্ধার করে ফেরত পাঠাতে বাধ্য থাকবে সেনারা। তবে তাদের ভূমিতে কোনো অভিবাসীর প্রতি বৈরি আচরণের প্রশ্নই আসে না। তবে তিনি কন সাই দায়েং প্রদেশে প্রায় শতাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী আটক থাকার কথা স্বীকার করেন এবং জানান সেখানে কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০ জন নৌ সেনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের দৈনিক ন্যাশনের প্রতিবেদন
Navy denies ill-treatment of Rohingya migrants from Burma and Bangladesh
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০০৯
-------------------
Navy chief Admiral Kamthorn Phumhiran on Friday dismissed a BBC report claiming Thai military had ill-treated the Rohingyas from Burma and Bangladesh who sought work or asylum by pushing them out to sea and setting them adrift.
"The Royal Thai Navy did not badly treated the Rohingyas. There was no setting them adrift as alleged," he said.
Under the military convention, the navy is obligated to rescue enemies from a sunken ship, he said, arguing there is no reason to mistreat the migrants landing on the Thai shore.
In the incident in question, the navy was notified by marine park rangers about the Rohingyas at Kon Sai Daeng, Ranong, he said.
A group of 20 navymen were dispatched to investigate and they found more than 100 Rohingyas, prompting the order for the migrants to lie down for safety reason, he said.
The Nation
প্রথম প্রকাশ

নরওয়েভিত্তিক ওয়েবসাইট "বয়কট ইজরায়েল ডট নর"- সাম্প্রতিককালে আমার দেখা একটি ভালোমানের সাইট, যাতে আবেগের চেয়ে যুক্তি কিছুটা হলেও প্রাধান্য পেয়েছে। এই প্রথম আমি একটি ইসলামি ওয়েবসাইট দেখলাম, যেখানে তারা সরাসরি এন্টি-সেমিটিজমের যে কোনো ধরন-রূপের বিরুদ্ধে নিজেদের কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে। ওয়েবসাইটে তারা বলছে, আমরা ইহুদিদের (এবং অন্য কোনো ধর্মেরই) বিপক্ষে নই। আমাদের অবস্থান ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইজরায়েলি দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে।
ফিলিস্তিনের গাজায় সংঘাতের পর বাংলাদেশেও প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখেছি, পত্রপত্রিকায় প্রচুর লেখাও পড়েছি- কিন্তু কোথাও এ ধরনের ভাষা কিংবা অবস্থান দেখিনি। বরং লক্ষ্য করেছি, ইজরায়েল-হামাস নিয়ে এ যাবতকালের প্রায় সব লেখাতেই এবং সব ধরনের প্রতিবাদেই ইহুদিবিদ্বেষটাই মূল বিষয়, প্রতিবাদ সেখানে মূখ্য ছিল না।
ইজরায়েলি প্রপাগাণ্ডা সাইটগুলো দেখছিলাম ওয়েব ঘুরে ঘুরে। মাত্র একটি সাইটে বাংলাদেশের নাম পেয়েছি, যাতে এক লাইনে শুধু লেখা আছে- ''বাংলাদেশের ঢাকায় একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।" এবং একে উল্লেখ করা হয়েছে এন্টি-সেমিটিক মুভমেন্ট হিসেবে।
বিস্ময় নিয়ে দেখলাম, ইরান-লেবানন-কেনিয়ায় হিটলারের স্বস্তিকা চিহ্ণ সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রতিবাদ সমাবেশের ছবি ইজরায়েল সমর্থক সাইটগুলোতে শোভা পাচ্ছে। তারা বলছে, বলে বলে সত্য হিসেবে প্রতিষ্টা করছে- বিশ্বের কয়েকটি দেশে প্রতিবাদ সমাবেশের নামে যা কিছু হচ্ছে, তার সবই আসলে এন্টি-সেমিটিক প্রচারণা এবং স্পষ্টতই ইহুদিবিদ্বেষ। ইজরায়েলি প্রপাগান্ডা মেশিনগুলোর পাশাপাশি বিশ্বমিডিয়াও এই বিষয়টিকে হাইলাইট করেছে। এবং এখনো করা হচ্ছে। বোধহয় এইজন্য বিশ্ব মিডিয়ার কোথাও (বলা যায় খুব কম জায়গায়) ফিলিস্তিনিদের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতি দেখা যায়নি।
বাংলাদেশেও এই জাতিবিদ্বেষ, আমার ধারণা, ইতিমধ্যে গণহিস্টিরিয়ার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তাই ভাবুন- এতো প্রতিবাদ-বিক্ষোভের পরও কী কারণে বাংলাদেশের মানুষের কণ্ঠ গাজায় গিয়ে পৌঁছায় না? নিজেকে প্রশ্ন করুন- প্রতিবাদ কেন বিদ্বেষের অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে?
এবং ব্লগ...
দিনে দিনে সামহোয়্যার হয়ে উঠেছে এন্টি-সেমিটিক প্রচারণা আর ইহুদি-বিদ্বেষের আখড়া। আমি এরকম প্রচুর উদাহরণ দিতে পারবো, যাতে পরিস্কার বিদ্বেষ ছাড়া আর কিছুই নেই। সামহোয়্যারইন সংশ্লিষ্টদের এখনই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবা দরকার। এটা কিন্তু ভালো লক্ষণ নয়। ব্লগের মতো প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষের ছত্রচ্ছায়ায় একপেশে প্রচারণার ক্ষেত্র হয়ে উঠলে সেটা আর ব্লগ থাকে না।
আমি সতর্ক করতে চাই যে, বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচয়টা উপস্থাপিত হচ্ছে জাতিবিদ্বেষী মোল্লারাষ্ট্র হিসেবে। অথবা এমনও বলা যায় যে, বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল বার্তা পৌঁছাচ্ছে বিশ্বসমাজে। বাকিটা আপনাদের বিবেচনা।
আমার এই লেখার বিরোধিতা করার আগে দয়া করে লেখার মূল ভাবটি বুঝতে চেষ্টা করবেন। পর্যবেক্ষণ হয়তো মামুলি, কিন্তু মন্দ কিছু যে বলিনি, এমনকি স্বধর্মের (মুসলিম) লোকদের বিপক্ষেও যে এ লেখায় কিছু নেই- আমি নিশ্চিত। আপনিও নিশ্চিত থাকবেন আশা করি।
প্রাসঙ্গিক লিংক : এসোসিয়েটেড প্রেসের একটি সংবাদ
ছবির উৎস : এসোসিয়েটেড প্রেস
ইজরায়েলি প্রপাগাণ্ডা সাইটগুলো দেখছিলাম ওয়েব ঘুরে ঘুরে। মাত্র একটি সাইটে বাংলাদেশের নাম পেয়েছি, যাতে এক লাইনে শুধু লেখা আছে- ''বাংলাদেশের ঢাকায় একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।" এবং একে উল্লেখ করা হয়েছে এন্টি-সেমিটিক মুভমেন্ট হিসেবে।
বিস্ময় নিয়ে দেখলাম, ইরান-লেবানন-কেনিয়ায় হিটলারের স্বস্তিকা চিহ্ণ সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রতিবাদ সমাবেশের ছবি ইজরায়েল সমর্থক সাইটগুলোতে শোভা পাচ্ছে। তারা বলছে, বলে বলে সত্য হিসেবে প্রতিষ্টা করছে- বিশ্বের কয়েকটি দেশে প্রতিবাদ সমাবেশের নামে যা কিছু হচ্ছে, তার সবই আসলে এন্টি-সেমিটিক প্রচারণা এবং স্পষ্টতই ইহুদিবিদ্বেষ। ইজরায়েলি প্রপাগান্ডা মেশিনগুলোর পাশাপাশি বিশ্বমিডিয়াও এই বিষয়টিকে হাইলাইট করেছে। এবং এখনো করা হচ্ছে। বোধহয় এইজন্য বিশ্ব মিডিয়ার কোথাও (বলা যায় খুব কম জায়গায়) ফিলিস্তিনিদের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতি দেখা যায়নি।
বাংলাদেশেও এই জাতিবিদ্বেষ, আমার ধারণা, ইতিমধ্যে গণহিস্টিরিয়ার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তাই ভাবুন- এতো প্রতিবাদ-বিক্ষোভের পরও কী কারণে বাংলাদেশের মানুষের কণ্ঠ গাজায় গিয়ে পৌঁছায় না? নিজেকে প্রশ্ন করুন- প্রতিবাদ কেন বিদ্বেষের অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে?
এবং ব্লগ...
দিনে দিনে সামহোয়্যার হয়ে উঠেছে এন্টি-সেমিটিক প্রচারণা আর ইহুদি-বিদ্বেষের আখড়া। আমি এরকম প্রচুর উদাহরণ দিতে পারবো, যাতে পরিস্কার বিদ্বেষ ছাড়া আর কিছুই নেই। সামহোয়্যারইন সংশ্লিষ্টদের এখনই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবা দরকার। এটা কিন্তু ভালো লক্ষণ নয়। ব্লগের মতো প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষের ছত্রচ্ছায়ায় একপেশে প্রচারণার ক্ষেত্র হয়ে উঠলে সেটা আর ব্লগ থাকে না।
আমি সতর্ক করতে চাই যে, বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচয়টা উপস্থাপিত হচ্ছে জাতিবিদ্বেষী মোল্লারাষ্ট্র হিসেবে। অথবা এমনও বলা যায় যে, বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল বার্তা পৌঁছাচ্ছে বিশ্বসমাজে। বাকিটা আপনাদের বিবেচনা।
আমার এই লেখার বিরোধিতা করার আগে দয়া করে লেখার মূল ভাবটি বুঝতে চেষ্টা করবেন। পর্যবেক্ষণ হয়তো মামুলি, কিন্তু মন্দ কিছু যে বলিনি, এমনকি স্বধর্মের (মুসলিম) লোকদের বিপক্ষেও যে এ লেখায় কিছু নেই- আমি নিশ্চিত। আপনিও নিশ্চিত থাকবেন আশা করি।
প্রাসঙ্গিক লিংক : এসোসিয়েটেড প্রেসের একটি সংবাদ
ছবির উৎস : এসোসিয়েটেড প্রেস
গতকাল শুক্রবার শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে যা করেছেন, তার জন্য ঠিকই ছিল, তড়িঘড়ি তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্টেশনে ছুটে গেছেন। সহাস্য মুখে তিনি ঘোষণা করলেন- "কয়েক মাসের লড়াইয়ের পর অবশেষে তামিল টাইগারদের রাজধানী কিলিনোচ্চি দখল করেছে শ্রীলংকার সেনারা।" খবরটি শুনে কেমন যেন এক বিষণ্নতা ছুঁয়ে গেল। লাখ লাখ তামিলের স্বাধীন আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন তাহলে শেষ হতে চলেছে!দেশের ভেতরে এলটিটিই, লিবারেশন টাইগারস অব তামিল ইলম, স্মরণকালের ভয়াবহ সেনা অভিযানের মুখে পড়ে প্রায় ছয় মাস ধরে। জল-স্থল-আকাশে সর্বাত্মক সেই অভিযান তামিল টাইগারদের কোণঠাসা করে ফেলছিল- সংবাদ সংস্থার তরফে কিছুই আমাদের অগোচরে থাকছিল না। এরও আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের ক্রমাগত চাপ বহির্বিশ্বে তামিল টাইগারদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল প্রায় পুরোপুরি। বর্হিবিশ্ব কার্যক্রমের মূল সংগঠকদের গ্রেপ্তার করে অর্থ সংগ্রহের সবগুলো পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়। টাইগাররা এতে নিদারুণ অর্থসংকটে পড়ে যায়। অস্ত্র কেনার জন্য অর্থ লাগে। ক্ষতিগ্রস্থ বিমান মেরামতের জন্য অর্থ লাগে। এলটিটিই নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে প্রশাসন সচল রাখার জন্য অর্থ লাগে। কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। এর ওপর স্বপক্ষত্যাগী গেরিলাদের সংখ্যাও বাড়ছিল।
সব আশা চূর্ণ করে এলটিটিইর রাজধানী কিলিনোচ্চির পতন ঘটল। তারও আগে পতন ঘটে পারানথান শহরের। এখন হাতে সবেধন নীলমনি বন্দরনগরী মুল্লাইতিভু। এটিও টাইগারদের হাতছাড়া হয়ে যাবে শীঘ্রই। সহযোদ্ধাদের নিয়ে ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণ আবার আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাবেন নিশ্চিত। পলায়নোন্মুখ তামিল গেরিলারা আবার নিশ্চয়ই সংঘবদ্ধ হবেন একদিন। ২৫ বছর ধরে তিলে তিলে চলা যুদ্ধ তামিলদের সহজে ঘরে ফেরাবে না- এটাই আশা।
তামিল জাতির মহানায়ক এলটিটিই প্রধান ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের ইস্পাতসম মুখটি মনে পড়ছে। মনের কোণে মন খারাপের মেঘ জমে। একদিন আমরাও তাদের মতো ছিলাম, সেই একাত্তরে।
ছবিতে এলটিটিই প্রধান ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণ, ওপরে তামিল টাইগারদের প্রতীক
দেশে কাজের অভাব, মানুষগুলো তাই ভাগ্য গড়ার আশায় বঙ্গোপসাগর ধরে রওনা হয়েছিলেন মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে। উত্তাল সাগরে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তুলে দিয়ে প্রতারক দালাল সটকে পড়ে। বেঁচে যাওয়াদের একজন মহম্মদ সোয়েবের মুখে শুনুন পরের কাহিনী-
"তাঁরা ভাসতে ভাসতে থাইল্যান্ডের সমুদ্রসীমানায় ঢুকে পড়েন। তখন থাই নৌবাহিনীর একটি জাহাজ তাঁদের আটক করে। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় একটি নির্জন দ্বীপের ক্যাম্পে। সেখানে ১৫ দিন আটক রাখার পর তাঁদের ছয়টি নৌকা ফেরত না দিয়ে ২৫ মিটার লম্বা একটি নৌকার মধ্যে সবাইকে গাদাগাদি করে উঠিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের দেওয়া হয়েছিল একটি প্লাস্টিকের চাদর আর কিছু খাবার। সেই নৌকা থেকে ইঞ্জিন খুলে নেওয়া হয়। একটি থাই নৌজাহাজ প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে টেনে নিয়ে মাঝ সমুদ্রে তাঁদের নৌকাটি ছেড়ে দেয়। সেই থেকে প্রায় দুই সপ্তাহ উদ্দেশ্যহীনভাবে সাগরে ভেসে বেড়ান চার শতাধিক বাংলাদেশি। স্রোতের টানে এক সময় তাঁরা ভাসতে ভাসতে চলে আসেন ভারতের সমুদ্রসীমানায়। আন্দামানের কাছে একটি বাতিঘর দেখতে পেয়ে তাঁরা ভেবেছিলেন উপকুলের কাছাকাছি এসে গেছেন। তাই প্রাণ বাঁচানোর জন্য তাঁরা একে একে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছিলেন।"
এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশী বলেই থাই নৌবাহিনী এই নিষ্ঠুর কাজটি করতে পারলো। পশ্চিমের কথা বাদ দিলাম, মালয়েশিয়া হোক কিংবা সিঙ্গাপুরের, এমনকি যদি হতো পাকিস্তানের নাগরিকও - থাইল্যান্ড নৌবাহিনীর এই সাহস কখনোই হতো না। শালার বাংলাদেশের মানুষের জীবন যেন সামান্য পিঁপড়ার জীবন। ৪০০ মানুষভর্তি একটি নৌকা জাহাজের পিছনে বেঁধে ১৮ ঘন্টা ধরে সাগরে টেনে নিয়ে যাওয়া, হোক তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, এই সভ্য যুগে কিভাবে সম্ভব? নৌকার ইঞ্জিন খুলে অসহায় মানুষগুলোকে মাঝ সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়।
ভারতীয় নৌবাহিনী চাইলে পাশ কেটে যেতে পারতো। তাদের কোনো দায়ও ছিল না। কিন্তু তারা একটি জীবন বাঁচানোর সর্বাত্মক লড়াই করেছে। এখনো তারা বঙ্গোপসাগর চষে বেড়াচ্ছে হতভাগ্য বাংলাদেশীদের খোঁজে। কৃতজ্ঞতা জানানোর উদারতা কম বাংলাদেশের মানুষের। ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচজন মানুষ মারা গেলে এতোক্ষণে পঞ্চম নৌবহর এসে থাইল্যান্ড উপকূলে অবস্থান নিতো। ভারত হলে মুম্বাই-কলকাতা-নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ হতো। এমনকি পাকিস্তানও যদি হতো, ছেড়ে কথা বলতো না। ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশ, তৃতীয় বিশ্বেরও তৃতীয়, চার যুগ পার হতে চললেও আত্মসম্মানবোধ জন্মেনি। আর আমরা তো বাংলাদেশের মানুষই! তাই ঢাকা-চট্টগ্রাম-রাজশাহী খুলনায় এ বর্বরতার ঘটনায় একটি বিক্ষোভ হয়নি, হবেও না।
সম্ভব হলে কোনো বান্দা অনলাইনে একটি পিটিশন খোলার ব্যবস্থা করেন। সেই পিটিশন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ থাই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর একটা উপায় খুঁজে বের করি চলুন। তাতে হয়তো কাজ কিছুই হবে না, কিন্তু একটা চিহ্ন তো থাকলো।
গত বুধবারের সেই সংবাদের পুরোটা-
নিখোঁজ বাংলাদেশিদের সন্ধানে সাগরে উদ্ধার অভিযান চলছে
কলকাতা প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ তিন শতাধিক বাংলাদেশির সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। উপকুল রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে উদ্ধারকাজে নেমেছে ভারতের নৌবাহিনীও। গতকাল মঙ্গলবার একটি হেলিকপ্টার ও চারটি জাহাজের সাহায্যে সমুদ্রে অভিযান চালানো হয়।
এখন পর্যন্ত ১০৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৭ জন দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা সাঁতরে তীরে এসে উঠেছিলেন। বাকি ৮৮ জনকে উদ্ধার করা হয় সমুদ্র থেকে। লিটল আন্দামানের কাছে কয়েকজনের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিন শতাধিক বাংলাদেশি এখনো নিখোঁজ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাঁরা সবাই সাগরে ডুবে মারা গেছেন।
উদ্ধারকৃতরা আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আন্দামানের পুলিশ প্রশাসন মানবিক কারণে তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গ্রেপ্তার না করে বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
বেঁচে যাওয়াদের একজন মহম্মদ সোয়েব পুলিশকে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় কাজ পাওয়ার আশায় দালালদের টাকা দিয়েছিলেন তিনি ও তাঁর মতো চার শতাধিক বাংলাদেশি। প্রায় দুই মাস আগে মাঝ সমুদ্রে তাঁদের ছয়টি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় উঠিয়ে দিয়ে দালালেরা সটকে পড়ে। তাঁরা ভাসতে ভাসতে থাইল্যান্ডের সমুদ্রসীমানায় ঢুকে পড়েন। তখন থাই নৌবাহিনীর একটি জাহাজ তাঁদের আটক করে। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় একটি নির্জন দ্বীপের ক্যাম্পে। সেখানে ১৫ দিন আটক রাখার পর তাঁদের ছয়টি নৌকা ফেরত না দিয়ে ২৫ মিটার লম্বা একটি নৌকার মধ্যে সবাইকে গাদাগাদি করে উঠিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের দেওয়া হয়েছিল একটি প্লাস্টিকের চাদর আর কিছু খাবার। সেই নৌকা থেকে ইঞ্জিন খুলে নেওয়া হয়। একটি থাই নৌজাহাজ প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে টেনে নিয়ে মাঝ সমুদ্রে তাঁদের নৌকাটি ছেড়ে দেয়। সেই থেকে প্রায় দুই সপ্তাহ উদ্দেশ্যহীনভাবে সাগরে ভেসে বেড়ান চার শতাধিক বাংলাদেশি। স্রোতের টানে এক সময় তাঁরা ভাসতে ভাসতে চলে আসেন ভারতের সমুদ্রসীমানায়। আন্দামানের কাছে একটি বাতিঘর দেখতে পেয়ে তাঁরা ভেবেছিলেন উপকুলের কাছাকাছি এসে গেছেন। তাই প্রাণ বাঁচানোর জন্য তাঁরা একে একে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছিলেন।
প্রথম আলো, ৩১ ডিসেম্বর ২০০৮
"তাঁরা ভাসতে ভাসতে থাইল্যান্ডের সমুদ্রসীমানায় ঢুকে পড়েন। তখন থাই নৌবাহিনীর একটি জাহাজ তাঁদের আটক করে। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় একটি নির্জন দ্বীপের ক্যাম্পে। সেখানে ১৫ দিন আটক রাখার পর তাঁদের ছয়টি নৌকা ফেরত না দিয়ে ২৫ মিটার লম্বা একটি নৌকার মধ্যে সবাইকে গাদাগাদি করে উঠিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের দেওয়া হয়েছিল একটি প্লাস্টিকের চাদর আর কিছু খাবার। সেই নৌকা থেকে ইঞ্জিন খুলে নেওয়া হয়। একটি থাই নৌজাহাজ প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে টেনে নিয়ে মাঝ সমুদ্রে তাঁদের নৌকাটি ছেড়ে দেয়। সেই থেকে প্রায় দুই সপ্তাহ উদ্দেশ্যহীনভাবে সাগরে ভেসে বেড়ান চার শতাধিক বাংলাদেশি। স্রোতের টানে এক সময় তাঁরা ভাসতে ভাসতে চলে আসেন ভারতের সমুদ্রসীমানায়। আন্দামানের কাছে একটি বাতিঘর দেখতে পেয়ে তাঁরা ভেবেছিলেন উপকুলের কাছাকাছি এসে গেছেন। তাই প্রাণ বাঁচানোর জন্য তাঁরা একে একে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছিলেন।"
এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশী বলেই থাই নৌবাহিনী এই নিষ্ঠুর কাজটি করতে পারলো। পশ্চিমের কথা বাদ দিলাম, মালয়েশিয়া হোক কিংবা সিঙ্গাপুরের, এমনকি যদি হতো পাকিস্তানের নাগরিকও - থাইল্যান্ড নৌবাহিনীর এই সাহস কখনোই হতো না। শালার বাংলাদেশের মানুষের জীবন যেন সামান্য পিঁপড়ার জীবন। ৪০০ মানুষভর্তি একটি নৌকা জাহাজের পিছনে বেঁধে ১৮ ঘন্টা ধরে সাগরে টেনে নিয়ে যাওয়া, হোক তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, এই সভ্য যুগে কিভাবে সম্ভব? নৌকার ইঞ্জিন খুলে অসহায় মানুষগুলোকে মাঝ সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়।
ভারতীয় নৌবাহিনী চাইলে পাশ কেটে যেতে পারতো। তাদের কোনো দায়ও ছিল না। কিন্তু তারা একটি জীবন বাঁচানোর সর্বাত্মক লড়াই করেছে। এখনো তারা বঙ্গোপসাগর চষে বেড়াচ্ছে হতভাগ্য বাংলাদেশীদের খোঁজে। কৃতজ্ঞতা জানানোর উদারতা কম বাংলাদেশের মানুষের। ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচজন মানুষ মারা গেলে এতোক্ষণে পঞ্চম নৌবহর এসে থাইল্যান্ড উপকূলে অবস্থান নিতো। ভারত হলে মুম্বাই-কলকাতা-নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ হতো। এমনকি পাকিস্তানও যদি হতো, ছেড়ে কথা বলতো না। ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশ, তৃতীয় বিশ্বেরও তৃতীয়, চার যুগ পার হতে চললেও আত্মসম্মানবোধ জন্মেনি। আর আমরা তো বাংলাদেশের মানুষই! তাই ঢাকা-চট্টগ্রাম-রাজশাহী খুলনায় এ বর্বরতার ঘটনায় একটি বিক্ষোভ হয়নি, হবেও না।
সম্ভব হলে কোনো বান্দা অনলাইনে একটি পিটিশন খোলার ব্যবস্থা করেন। সেই পিটিশন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ থাই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর একটা উপায় খুঁজে বের করি চলুন। তাতে হয়তো কাজ কিছুই হবে না, কিন্তু একটা চিহ্ন তো থাকলো।
গত বুধবারের সেই সংবাদের পুরোটা-
নিখোঁজ বাংলাদেশিদের সন্ধানে সাগরে উদ্ধার অভিযান চলছে
কলকাতা প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ তিন শতাধিক বাংলাদেশির সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। উপকুল রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে উদ্ধারকাজে নেমেছে ভারতের নৌবাহিনীও। গতকাল মঙ্গলবার একটি হেলিকপ্টার ও চারটি জাহাজের সাহায্যে সমুদ্রে অভিযান চালানো হয়।
এখন পর্যন্ত ১০৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৭ জন দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা সাঁতরে তীরে এসে উঠেছিলেন। বাকি ৮৮ জনকে উদ্ধার করা হয় সমুদ্র থেকে। লিটল আন্দামানের কাছে কয়েকজনের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিন শতাধিক বাংলাদেশি এখনো নিখোঁজ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাঁরা সবাই সাগরে ডুবে মারা গেছেন।
উদ্ধারকৃতরা আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আন্দামানের পুলিশ প্রশাসন মানবিক কারণে তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গ্রেপ্তার না করে বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
বেঁচে যাওয়াদের একজন মহম্মদ সোয়েব পুলিশকে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় কাজ পাওয়ার আশায় দালালদের টাকা দিয়েছিলেন তিনি ও তাঁর মতো চার শতাধিক বাংলাদেশি। প্রায় দুই মাস আগে মাঝ সমুদ্রে তাঁদের ছয়টি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় উঠিয়ে দিয়ে দালালেরা সটকে পড়ে। তাঁরা ভাসতে ভাসতে থাইল্যান্ডের সমুদ্রসীমানায় ঢুকে পড়েন। তখন থাই নৌবাহিনীর একটি জাহাজ তাঁদের আটক করে। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় একটি নির্জন দ্বীপের ক্যাম্পে। সেখানে ১৫ দিন আটক রাখার পর তাঁদের ছয়টি নৌকা ফেরত না দিয়ে ২৫ মিটার লম্বা একটি নৌকার মধ্যে সবাইকে গাদাগাদি করে উঠিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের দেওয়া হয়েছিল একটি প্লাস্টিকের চাদর আর কিছু খাবার। সেই নৌকা থেকে ইঞ্জিন খুলে নেওয়া হয়। একটি থাই নৌজাহাজ প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে টেনে নিয়ে মাঝ সমুদ্রে তাঁদের নৌকাটি ছেড়ে দেয়। সেই থেকে প্রায় দুই সপ্তাহ উদ্দেশ্যহীনভাবে সাগরে ভেসে বেড়ান চার শতাধিক বাংলাদেশি। স্রোতের টানে এক সময় তাঁরা ভাসতে ভাসতে চলে আসেন ভারতের সমুদ্রসীমানায়। আন্দামানের কাছে একটি বাতিঘর দেখতে পেয়ে তাঁরা ভেবেছিলেন উপকুলের কাছাকাছি এসে গেছেন। তাই প্রাণ বাঁচানোর জন্য তাঁরা একে একে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছিলেন।
প্রথম আলো, ৩১ ডিসেম্বর ২০০৮

বাংলাদেশের স্থলভাগে ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে জ্বালানির মজুদ। গ্যাস প্রায় নিঃশেষ। ঢিমেতালের অনুসন্ধানে নতুন কোনো সুসংবাদও নেই। তেল আর কোথায়! কয়লায় এখন পর্যন্ত সবেধন নীলমনি ওই বড়পুকুরিয়া। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য শেষ ভরসা হিসেবে আছে একমাত্র বঙ্গোপসাগর। বাংলাদেশকে ঘিরে আছে দুটি মাত্র দেশ- মিয়ানমার ও ভারত। বঙ্গোপসাগরে তাদেরও ভাগ আছে। এই জায়গায় বাংলাদেশের সঙ্গে দেশ দুটির পার্থক্য হচ্ছে, তেল-গ্যাসের খোঁজে তারা বঙ্গোপসাগর চষে বেড়াচ্ছে আর অন্যদিকে টিভি চ্যানেলের মাউথপিস মুখে নিয়ে বাংলাদেশ রাজা-উজির মেরে বেড়াচ্ছে।
গায়ে পড়ে ঝগড়া যে কারণে হয়
বঙ্গোপসাগরে অধিকার নিয়ে ভারত ও মিয়ানমারের মনোভাব এখন পর্যন্ত গায়ে পড়ে ঝগড়া লাগানোর মনোভাব। জেনেশুনেই তারা আন্তর্জাতিক আইনকে অবজ্ঞা করছে। তবে প্রতিটি দেশই নিজেদের স্বার্থ দেখবে, তা যেভাবেই হোক না কেন- সেটিই স্বাভাবিক। বাংলাদেশকেও তার নিজের স্বার্থটি দেখতে হবে। শুধু দেখলেই হবে না, অগ্রাধিকারভিত্তিতে দেখতে হবে।
এমনিতে সামরিক শক্তি যতোই থাক, যে অর্থনৈতিক অবস্থা আমাদের, তাতে কারো সঙ্গেই সংঘাতে যাওয়ার সঙ্গতি নেই বাংলাদেশের। বিকল্প থাকে একটিই- কূটনৈতিক উদ্যোগ। কিন্তু এই যে মিয়ানমার সেন্টমার্টিনের দিকে বাংলাদেশ সীমানায় ঢোকার সাহস পেল, ভারত যে মংলার দিকে ঢুকে বসে আছে- এ সবই ইতিপূর্বেকার সরকারগুলোর মূর্খতার ফল, এ সবই তো অমার্জনীয় কূটনৈতিক ব্যর্থতার ফল।
দুই প্রতিবেশীর দিনকাল
ভারত ও মিয়ানমার- এই দুটি দেশই বহুকাল আগে থেকে যথার্থ প্রস্তুতি নিয়ে সমুদ্রসম্পদের দিকে মনোযোগী হয়েছে, কাজ করে যাচ্ছে নিরলস, তেল-গ্যাস নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে জোর অনুসন্ধান। বঙ্গোপসাগর নিয়ে দেশ দুটি কী ভীষণ মনোযোগী- গত দু মাসে পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া লাগানোর প্রচেষ্টা থেকেই সেটি বোঝা যায়। রক্ষণশীল মিয়ানমার তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য রীতিমতো বিদেশী বিনিয়োগ পর্যন্ত নিজেদের ঘরে ডেকে এনেছে। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতীয় কম্পানিগুলো মিয়ানমারের পক্ষে একযোগে অনুসন্ধান কাজ চালাচ্ছে বঙ্গোপসাগরে বেশ অনেক দিন ধরেই। ইতিমধ্যে মিয়ানমার বঙ্গোপসাগরে সাত টিসিএফ গ্যাস পেয়েছে। অন্যদিকে ভারত নিজেদের সমুদ্রসীমায় এখন পর্যন্ত ১০০ টিসিএফ গ্যাসের খোঁজ পেয়েছে। এমনকি সুনির্দিষ্ট মজুদের পরিমাণ পর্যন্ত তারা বের করে ফেলেছে। জ্বালানি অনুসন্ধানের এই ঘোড়দৌড়ে বাংলাদেশকে হিসেবে রাখার সময় তাদের কারোরই নেই। তারা এগিয়ে যাচ্ছে নিজেদের মতো, নিজেদের বিবেচনা সামনে রেখে। শুধু বাংলাদেশই, আর তার বেজন্মা সরকারগুলো এবং কুশিক্ষিত-দুর্নীতিবাজ সরকারি চাকরেরা হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে। তারা দিনমান বসে থাকে এই কারণে, দেশের অমূল্য জ্বালানি সম্পদ অন্যের কাছে বেচে দিয়ে দুটো পয়সা তারা হাতিয়ে নেবে।বঙ্গোপসাগরে মূষিকপ্রসব
রাজনৈতিক সরকারগুলোর লুটপাট আর দীর্ঘ শীতনিদ্রা শেষে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদ্যোগে গত ফেব্রুয়ারিতে বঙ্গোপসাগরের গভীরে ২০টি এবং অগভীর সমুদ্রে আটটি ব্লক নির্ধারণ করা গেছে। সেখানে অনুসন্ধান কাজ চালানোর জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্রও আহ্বান করা হয়। সংক্ষেপে একে বলা যেতে পারে 'পর্বতের মূষিকপ্রসব'। তবে দৌড়ে অনেক পিছিয়ে থাকার পরও যে বাংলাদেশ উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে- এটা আবার হয়ে গেছে ভারতের মাথাব্যাথা, তা বোঝা যায় আজ শনিবার ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর প্রশ্নে- "যখন আলোচনা চলছে, তখন বাংলাদেশ সরকার কেন ওই এলাকায় খনিজ অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করলো?" ইতিপূর্বে বাংলাদেশ ব্লকগুলো ঘোষণার পরই ভারত আটটি ব্লকের ব্যাপারে এবং মিয়ানমার ঢালাওভাবে আপত্তি জানিয়েছে। মিয়ানমার যেসব এলাকায় গত বছর সাত টিসিএফ গ্যাসের খোঁজ পেয়েছে, ওই এলাকাগুলো বাংলাদেশ সীমানার খুব কাছেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমানার মধ্যেই পড়েছে। বাংলাদেশ সীমায় ঢুকতে তাদের মরিয়া হয়ে ওঠার কারণও এ থেকে বোঝা যায়।
ভেতরবাড়ির সমস্যা
জ্বালানি সম্পদ নিয়ে মাতামাতি শুরু হওয়ার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারই ক্ষমতায় ছিল বেশি সময়। কিছুকাল ছিল আওয়ামী লীগও । তারা একযোগে তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের ইজারা নিয়ে ক্ষমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছে। সিলেটের দিকে তাকান, সাঙ্গুর দিকে তাকান- দেখবেন অমূল্য জ্বালানি সম্পদ নিয়ে এই রাজনৈতিক টাউটগুলো কী লুটপাট, দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছে! বিশেষ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারগুলো দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই ক্ষতি সাদা চোখে এখনই দেখা যাচ্ছে না হয়তো, তবে এই ক্ষতির বোঝা নিশ্চিতভাবেই বিশাল এবং দীর্ঘস্থায়ী। ভেতরবাড়িতে এই ধরনের সমস্যা আবার ভারত ও মিয়ানমারের নেই। থাকলেও তা মূল কাজে প্রভাব ফেলে না। দেশের স্বার্থ তাদের কাছে সবার আগে।
বরং বাংলাদেশ এগিয়ে যাক নিজের মতো
একটি পথই এখন খোলা- সমুদ্রসীমার দাবি বাংলাদেশকে তুলে ধরতে হবে জোরালোভাবে। তার জন্য নিবিড় হোমওয়ার্কের দরকার আছে। দেশের অভিজ্ঞ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে চালাতে হবে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরে পেশাদার মেধাবী কূটনীতিকের অভাব প্রচণ্ড। দিনে দিনে এটা হয়ে উঠেছে বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে। ভারতের রাজিব সিক্রির (একসময়কার ভারতীয় হাইকমিশনার বীনা সিক্রির স্বামী) মতো মেধাবী কূটনীতিবিদ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরে কেউ আছেন কি? নেতাদের তৈলমর্দনে তারা যতোটা সিদ্ধহস্ত, দেশের জন্য তার সামান্যও না। গণমাধ্যমের ওপরও খুব বেশি আস্থা রেখে লাভ নেই। আমাদের সময় সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান তেল-গ্যাস কম্পানির গণসংযোগ বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন। তথাকথিত এনার্জি রিপোর্টারদের জীবনের লক্ষ্যও একটিই- বিদেশী বেনিয়াগুলোর পয়সায় বিদেশ ভ্রমণ। অপাত্রে আশা করে লাভ নেই সুতরাং! বরং বাংলাদেশ এগিয়ে যাক নিজের মতো, নিজের বিবেচনা সম্বল করে।

গুগল আর্থে একবার অনেক খুঁজেটুজে নৌবাহিনীর ফ্রিগেট খালিদ বিন ওয়ালিদকে চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি জায়গায় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এর ওপর আমি একটি গুগল ফ্ল্যাগও গেড়ে দিয়েছিলাম। এখনও থাকতে পারে সেই চিহ্ন। সেই ফ্রিগেট এই মুহূর্তে আছে মংলা সমুদ্র বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়া থেকে ১৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে। গত বৃহস্পতিবার বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় ভারতের তিনটি জাহাজের অনুপ্রবেশের পর খালিদ বিন ওয়ালিদ ওই জায়গায় অবস্থান নেয়।
ভারতের গোয়ার্তুমি, সংঘাত কি অনিবার্য?
ভারতীয় জাহাজগুলো বঙ্গোপসাগরের যে এলাকায় সিসমিক জরিপ করছে, ওই এলাকাটি বাংলাদেশ ও ভারত দু পক্ষই নিজেদের বলে দাবি করছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জলসীমার বিতর্ক শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই সেখানে অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করতে পারে না। ভারত সেই আইনকে যে গা করেনি, সেটা বোঝা যায় স্পষ্টই। বৃহস্পতিবার নৌবাহিনীর ফ্রিগেট খালিদ বিন ওয়ালিদ ভারতীয় জাহাজগুলোকে সরে যেতে বলার পর তারা প্রথমে কিছুটা পথ সরে গিয়েছিল। কিন্তু পরে আবার সদর্পে ফিরে আসে এবং এলাকা ছেড়ে চলে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এই ঘটনায় তাদের গোয়ার্তুমিটা টের পাওয়া যায়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সম্মতি ছাড়া জাহাজগুলো নিশ্চয়ই একটি বিরোধপূর্ণ জায়গায় আসে না। এই মুহূর্তে, মিয়ানমারের ঘটনার মতো কূটনৈতিক উদ্যোগে ঘটনার সুরাহা হলে ভালো। আর যদি না হয়, তাহলে প্রথমেই প্রশ্ন আসে- সীমিত শক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ভারতের মতো শক্তিশালী সামরিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাবে কিনা। যদি যায় তাহলে কী ঘটতে পারে?
নৌশক্তির তুলনা
বলাবাহূল্য ভারতের নৌশক্তি অকল্পনীয়। ভারতীয় নৌবাহিনীর কেবল জাহাজবহর আর সাবমেরিনের তালিকাটা দেখলেই মাথা ঘুরে ওঠার জোগাড় হয়। সে তুলনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শক্তি খুবই সামান্য। চুলচেরা হিসেব করলেও শক্তি বলতে দেখা যায় পাঁচটি ফ্রিগেট, ২৪টি পেট্রল ক্রাফটস, পাঁচটি মাইন সুইপার, নয়টি মিসাইল বোট, আটটি টর্পেডো বোট এবং ১২ হাজার ১৫০ নৌসেনা ও কর্মকর্তা। একটি সাবমেরিন কেনা হচ্ছে কেনা হচ্ছে বলে আর কেনা হয়ে ওঠেনি।
মিয়ানমারের অভিজ্ঞতা
গত নভেম্বরে ভারতের মতো একইভাবে মিয়ানমার সেন্ট মার্টিন দ্বীপের প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল দূরে তাদের জরিপ জাহাজ পাঠিয়েছিল। বাংলাদেশের কড়া প্রতিবাদের মুখে কয়েকদিন পর জাহাজ সরিয়ে নেয় মিয়ানমার। সেদিনের ঘটনায় মিয়ানমার সীমান্তগুলোতে আমরা দেখেছি, বাংলাদেশ রাইফেলস যথেষ্ট পেশাদারি, যথেষ্ট দৃঢ়তার পরিচয় রেখেছে ঘটনার আগাগোড়া। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী নাসাকা প্রায় যুদ্ধাবস্থা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কিছুটা সাফল্য এসেছে বটে, তবে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক শক্তির খুব বেশি পার্থক্য নেই। বরং নানা দিক থেকে শক্তিতে বাংলাদেশই এগিয়ে থাকবে।
ভারতের মাথাব্যথা
ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার মতো নিবুর্দ্ধিতা করবে বলে মনে হয় না। প্রথমত গা লাগালাগি প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশে ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ আছে। এই স্বার্থের কারণেই বাংলাদেশের সঙ্গে সংঘাতে যেতে তাদের ভাবতে হবে কমপক্ষে দুবার। দ্বিতীয়ত ভারতকে সারা বছরই বিভিন্ন রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ে তটস্থ থাকতে হয়। তৃতীয়ত দুই বৈরী প্রতিবেশী পাকিস্তান এবং চীনের কথা সবসময়ই ভারতের ভাবনায় থাকে, থাকতে হয় প্রতিনিয়ত।
স্যালুট!
এই অবস্থায়, দেশে যখন নির্বাচনের ডামাডোল, বঙ্গোপসাগরে খালিদ বিন ওয়ালিদ দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের প্রতীক হয়ে। নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মেঘলাও বঙ্গোপসাগর ধরে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটছে। তাদের জন্য শুভকামনা। স্যালুট!

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে জুতা মারার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করা হচ্ছে- এটা স্বাভাবিক। মার্কিন প্রশাসনের নানা তৎপরতায় আহত তৃতীয় বিশ্বের আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ বলা চলে একে।
পুরো ঘটনায় মুনতাজের আল জায়েদীর কৃতিত্বের চাইতে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের ব্যর্থতাটাই চোখে পড়ল বেশি। যে প্রশ্নটি মাথায় ঘুরেফিরে আসছে, পুরো বিশ্বে প্রবাদপ্রতিম মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস এই ধরনের সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের আগে কেন অধিকতর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করল না? গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে মার্কিন এজেন্সিগুলোর যে ঘাটতি আছে, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সেটি ভালোভাবেই প্রকাশ পেল।
একটি আশঙ্কা
আল-বাগদাদিয়ার সাংবাদিক মুনতাজের আল জায়েদীর ঘটনার পর হয়তো এখন থেকে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রবেশে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করা হবে। হয়তো আগাম তালিকা তৈরি হতে পারে। তালিকাভুক্ত সাংবাদিকদের ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে- কারা সংবাদ সম্মেলনে প্রবেশাধিকার পাবে। তাতে তথ্য সংগ্রহের অবারিত দ্বার কিছুটা হলেও রুদ্ধ হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলনগুলো এমবেডেড জার্নালিস্টদের দ্বারা অভিনীত একেকটি নাটক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।


