![]() |
| [ বড়ো আকারে দেখার জন্য ছবির ওপরে ক্লিক করুন ] |
এমনিতে নগরবাসীর মধ্যে তালাবিষয়ক সচেতনতার ঘাটতি থাকলেও তালাচর্চার ঐতিহ্য বহু পুরোনো। নানা ঝড়ঝাপটার মধ্যেও এই ঐতিহ্য টিকে আছে সগৌরবে। এই তো সেদিন, নেতাকে ভর্তি না করায় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে তালা ঝুলিয়ে দিলেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সৈয়দপুরের পাইলট স্কুলে তালা লাগিয়ে দিলেন আওয়ামী লীগ নেতা। শ্রীপুরের কার্টন কারখানা থেকে কারমাইকেল কলেজের প্রশাসনিক ভবন, ঢাকা মেডিকেলের বহির্বিভাগ থেকে লক্ষ্মীপুরের মুরগির খামার—কোনোটিই বাদ নেই তালাচর্চা থেকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার পর চারদিকে এখন তালা নিয়ে কান ঝালাপালা। জয় তালা!
সংযুক্তি
ই-প্রথম আলো □ প্রথম আলো অনলাইন ১ □ প্রথম আলো অনলাইন ২
ফেসবুক ফ্যান পেইজ □ সামহোয়্যারইন ব্লগ
প্রকাশকাল : ১৩ আগস্ট ২০১২
![]() |
| [ বড়ো আকারে দেখার জন্য ছবির ওপরে ক্লিক করুন ] |
সংযুক্তি
প্রথম আলো অনলাইন □ ই-প্রথম আলো ফেসবুক ফ্যান পেইজ
প্রকাশকাল : ১৬ এপ্রিল ২০১২
![]() |
| [ বড়ো আকারে দেখার জন্য ছবির ওপরে ক্লিক করুন ] |
সংযুক্তি
প্রথম আলো অনলাইন □ ই-প্রথম আলো ফেসবুক ফ্যান পেইজ
প্রকাশকাল : ৯ এপ্রিল ২০১২
![]() |
| [ বড়ো আকারে দেখার জন্য ছবির ওপরে ক্লিক করুন ] |
![]() |
| [ বড়ো আকারে দেখার জন্য ছবির ওপরে ক্লিক করুন ] |
![]() |
| [ বড়ো আকারে দেখার জন্য ছবির ওপরে ক্লিক করুন ] |
সংযুক্তি
ই-প্রথম আলো ১ □ ই-প্রথম আলো ২ □ ই-প্রথম আলো ৩ফেসবুক ফ্যান পেইজ ১ □ ফেসবুক ফ্যান পেইজ ২
প্রকাশকাল : ২ এপ্রিল ২০১২
নেই মানে নেই! দেশের কোথাও আসলে দুর্নীতি নেই। টিআই জরিপে এখনো
বাংলাদেশ সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের অন্যতম হতেই পারে, কিন্তু কে না জানে
দেশে কোনো দুর্নীতির নামগন্ধও নেই। কেউ হয়তো বলবেন, দুর্নীতির অভিযোগে
পদ্মা সেতুর কাজই তো আটকে গেল। আসলে ওটা শ্রেফ ভুল বোঝাবুঝি। বিশ্বব্যাংক
যোগাযোগমন্ত্রীর দিকে আঙ্গুল তুলেছে ঠিক, তবে সেটা বিএনপি আমলের যোগাযোগ।
আরো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠছে। কিন্তু প্রমাণ কোথায়? যারা বলেন
দুর্নীতি দমন অভিযানের গতি ঢিমেতালে, তারা আসলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে
বাধাগ্রস্থ করার চক্রান্ত করছেন। না, কোথাও দুর্নীতির লেশমাত্রও নেই। এমনকি
আওয়ামী লীগ আমলে যে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া শুরু করেছিল,
সেটাও ছিল রূপকথা।
সুতরাং এই পাড়েও সবাই মহাত্মা গান্ধীর একনিষ্ঠ অনুসারী। দুর্নীতি তো দূরের, ভাজা মাছও উল্টে খেয়েছেন কিনা সন্দেহ। বলাবাহূল্য, ‘বাংলা সার্চে’ তারই প্রতিফলন ঘটেছে হাতেনাতে।
সংযুক্তি
ই-প্রথম আলো ১ □ ই-প্রথম আলো ২
প্রকাশকাল : ৫ ডিসেম্বর ২০১১
![]() |
| [ বড়ো আকারে দেখার জন্য ছবির ওপরে ক্লিক করুন ] |
এমনিতে ডিজিটাল যুগে অ্যানালগ পদ্ধতিতে দুর্নীতি খোঁজাও খুব কাজের কথা নয়। যথারীতি ‘বাংলা সার্চে’ও নেই মানে নেই!
২.
মূল সমস্যা মূলত আমজনতার। খেয়ে না-খেয়ে তারা কেবল দুর্নীতির গন্ধ খুঁজে বেড়ায় আর নিষ্ঠাবান সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদেও একই ঘটনা। পুরো পাঁচটি বছর সবাই সাক্ষাৎ দুর্নীতিবিরোধী যমদূত। কিন্তু মেয়াদ পেরোতেই বেরিয়ে এল থলের বেড়াল। ওদিকে কাহিনী জমে ওঠার আগেই কেউ পাড়ি জমালেন লন্ডনে, কেউ আবার মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ডে। সে এক সুগভীর সম্প্রসারণবাদী ষড়যন্ত্র! ডজন ডজন দুর্নীতি মামলা? সে তো সরকারের দমননীতির অংশ মাত্র। বিদেশী ব্যাংকে নামে-বেনামে একাউন্ট? কে না জানে, এ হল সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত।
২.
মূল সমস্যা মূলত আমজনতার। খেয়ে না-খেয়ে তারা কেবল দুর্নীতির গন্ধ খুঁজে বেড়ায় আর নিষ্ঠাবান সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদেও একই ঘটনা। পুরো পাঁচটি বছর সবাই সাক্ষাৎ দুর্নীতিবিরোধী যমদূত। কিন্তু মেয়াদ পেরোতেই বেরিয়ে এল থলের বেড়াল। ওদিকে কাহিনী জমে ওঠার আগেই কেউ পাড়ি জমালেন লন্ডনে, কেউ আবার মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ডে। সে এক সুগভীর সম্প্রসারণবাদী ষড়যন্ত্র! ডজন ডজন দুর্নীতি মামলা? সে তো সরকারের দমননীতির অংশ মাত্র। বিদেশী ব্যাংকে নামে-বেনামে একাউন্ট? কে না জানে, এ হল সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত।
![]() |
| [ বড়ো আকারে দেখার জন্য ছবির ওপরে ক্লিক করুন ] |
সুতরাং এই পাড়েও সবাই মহাত্মা গান্ধীর একনিষ্ঠ অনুসারী। দুর্নীতি তো দূরের, ভাজা মাছও উল্টে খেয়েছেন কিনা সন্দেহ। বলাবাহূল্য, ‘বাংলা সার্চে’ তারই প্রতিফলন ঘটেছে হাতেনাতে।
ই-প্রথম আলো ১ □ ই-প্রথম আলো ২
প্রকাশকাল : ৫ ডিসেম্বর ২০১১
বিশ্বব্যাংকটা খুব দুষ্টু! মাননীয় যোগাযোগমন্ত্রীর মান-সম্মানের পর্দাটা একটানে সরিয়ে দিয়ে তারা বলছে - পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য কমিশন চেয়েছে সৈয়দ আবুল হোসেনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সাকো ইন্টারন্যাশনাল। কমিশন দিলে কাজ পেতে যোগাযোগমন্ত্রী নিজেই সহায়তা করবেন বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রমাণ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি বিশ্বব্যাংক। জুয়াচুরি আর দুর্নীতির অভিযোগে বিশাল অংকের ঋণ পর্যন্ত আটকে দিয়েছে। তাতেই বন্ধ পদ্মা সেতুর কাজ। তাই না দেখে যোগাযোগমন্ত্রীর মনে অনেক দুঃখ...

সংযুক্তি
ই-প্রথম আলো
ফেসবুক ফ্যান পেইজ ১ □ ফেসবুক ফ্যান পেইজ ২ □ ফেসবুক ফ্যান পেইজ ৩
প্রকাশকাল : ১৭ অক্টোবর ২০১১

সংযুক্তি
ই-প্রথম আলো
ফেসবুক ফ্যান পেইজ ১ □ ফেসবুক ফ্যান পেইজ ২ □ ফেসবুক ফ্যান পেইজ ৩
প্রকাশকাল : ১৭ অক্টোবর ২০১১
উইকিলিকস ফাঁস করেছে আড়াই লাখ মার্কিন তারবার্তা। মার্কিন কূটনীতিকদের
ভাষ্যে এসব তারবার্তায় বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার
অন্দরমহলের খবর। সেটা স্বাভাবিকই। কেননা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের
মোড়ল। বাংলাদেশের মতো গরিব রাষ্ট্রের খুঁটিনাটি বিষয়ে খবরদারি-নজরদারি করা
তারই সাজে। তবে যদি দৈবাৎ পাশার দান উল্টে যায়, যদি এমন হয় যে বাংলাদেশই
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পশ্চিমা বিশ্বের ওপর নজরদারি করছে, তাহলে কী
ঘটবে? কেমন হবে সেই তারবার্তার ধরন-ধারণ? চলুন, কল্পনা করা যাক—
হোয়াইট হাউসে সাম্প্রতিক রদবদলে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতের উষ্মামার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গত জুলাইয়ে মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই ঘণ্টাব্যাপী এক বৈঠকে মিলিত হন। ঢাকায় পাঠানো এ সংক্রান্ত এক তারবার্তায় জানানো হয়, বৈঠককালে মার্কিন প্রশাসনে সাম্প্রতিক বেশ কিছু রদবদলের ব্যাপারে অত্যন্ত প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হোয়াইট হাউসে কর্মকর্তা পর্যায়ে সাম্প্রতিক রদবদলে তাঁর উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, এটা একেবারেই অপ্রয়োজনীয় রদবদল। এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। কাউকে হুট করে সরিয়ে দেওয়া মানবাধিকারের পরিপন্থী। হোয়াইট হাউস প্রশাসনকে অবশ্যই এ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সম্মানজনক সমাধানে আসতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশের প্রশাসনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও প্রভাবিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হিলারি মানসিকভাবে, ক্লিনটন শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েনমনিকা লিউনস্কির সঙ্গে যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর ক্লিনটন ও হিলারি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে ক্লিনটন মানসিক অসুস্থতার চেয়ে শারীরিকভাবেই ভেঙে পড়েছিলেন বেশি। অন্যদিকে হিলারির মানসিক অবস্থা ছিল নাজুক।
প্রেসিডেন্টের একান্ত সচিব জন উইলিয়ামসকে উদ্ধৃত করে যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা দূতাবাসের কূটনৈতিক তারবার্তায় এ কথা বলা হয়েছে। বাংলালিকসের গত ৩০ আগস্ট ফাঁস করা তারবার্তার অন্যতম এটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে তখন তারবার্তাটি পাঠিয়েছিলেন হুসেন আরশাদ।
১৯৯৮ সালে পাঠানো এই তারবার্তায় বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির সঙ্গে আলাদাভাবে দুজন ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন সাইকিয়াটিস্ট ও অন্যজন ক্লিনটনের পারিবারিক চিকিৎ সক। এর আগের রাতে ক্লিনটনের শোবারঘর থেকে চিৎ কার-চেঁচামেচি ভেসে আসছিল। মনিকার সঙ্গে ক্লিনটনের সম্পর্কের বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না হিলারি। তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ক্লিনটনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এতে ক্লিনটন গুরুতর জখম হন। দুই পায়ে আঘাতের কারণে তিনি তখনই শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন। পড়ন্ত অবস্থায় ক্লিনটন তাঁর এই মনিকা-কেলেঙ্কারির ঘটনা ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে মিল রেখে ‘মনিকাগেট’ ও ‘জিপারগেট’ কেলেঙ্কারি বলে উল্লেখ করে হিলারির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
সে সময় ক্লিনটনের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে মানসিকভাবে সান্ত্বনা দিতে গিয়েছিলেন দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা। তাঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ক্লিনটনের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে ভৎর্ সনার সুরে বলেন, ‘আপনাকে আমি আগেই বলেছিলাম, যা করার বাইরে করেন। হোয়াইট হাউসে এসব করবেন না। এখন হলো তো!’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও শ্রমিক নেবে বাংলাদেশ, ক্ষুব্ধ কানাডা
দীর্ঘদিনের দেনদরবারের পর বাংলাদেশ অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও শ্রমিক নেবে বলে বাংলাদেশ সফররত উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এক বৈঠকে এ আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, জাপান ও সুইডেন থেকেও শ্রমিক নেওয়ার আগ্রহ আছে বাংলাদেশের। মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আবেদনের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের উপমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে মার্কিন শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করবে। প্রসঙ্গত, আগে বেতন-ভাতা হাতে-হাতে দেওয়ার প্রচলন ছিল।
এদিকে পত্রপত্রিকায় মার্কিন শ্রমিক নিয়োগ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর কানাডার রাষ্ট্রদূত এক ঘরোয়া বৈঠকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, বেকারত্ব বৃদ্ধির হার ভয়াবহভাবে বেড়ে যাওয়ায় তাঁর দেশ এক অস্থির সময় পার করছে। অথচ এই সময়ে বন্ধুপ্রতিম দেশটি কানাডার পাশে না দাঁড়িয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অদক্ষ শ্রমিক আনতে যাচ্ছে। তিনি এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়।
প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত খোলাখুলিভাবে মন্তব্য করেন, কানাডার রাষ্ট্রদূতের এই ধরনের যুদ্ধংদেহী মনোভাব বাংলাদেশে মার্কিন শ্রমবাজারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই শ্রমবাজার সম্প্রসারণে দুই দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
ডিবি পুলিশের সাহায্য চেয়েছিল নরওয়ে
গত জুলাইয়ে নরওয়েতে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের এখনো কোনো কূলকিনারা হয়নি। নরওয়ের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক তারবার্তায় বলা হয়, নরওয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে হতাশা প্রকাশ করেছে। প্রতিনিধিদলটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ডিবি পুলিশসহ অন্য সব ধরনের কূটনৈতিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি অনুরোধ জানায়। বৈঠকে প্রতিনিধিদল জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা শুধু নরওয়ের জন্যই না, বরং বিশ্বের জন্যও অতি আবশ্যকীয় একটি ব্যাপার। তারা নরওয়ে পুলিশের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সহায়তা চেয়েছে।
সেনানিবাসসংলগ্ন বিলাসী বাড়ি ছাড়তে চাননি জর্জ বুশ
বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় সেনানিবাসসংলগ্ন বিলাসী বাড়ি ছাড়তে হবে বলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন জর্জ বুশ। ১২ সেপ্টেম্বর ফাঁস হওয়া বাংলালিকস বার্তায় এ গোপন তথ্য বেরিয়ে আসে।
তৎ কালীন বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তার সঙ্গে এক আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাড়ি ছাড়তে হবে বলে ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘আমেরিকায় আমার কোনো বাড়ি নেই। এই বাড়ি ছাড়লে ভাইয়ের বাড়িতে ওঠা ছাড়া আমার আর কোনো পথ থাকবে না। এ সবই সরকারি দলের ষড়যন্ত্র। আমি অবশ্যই বাড়ি ছাড়াসংক্রান্ত হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করব।’
তার পরদিন সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় হাইকোর্টের রায়ের স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল করা হয়।
জর্জ বুশের আইনজীবী উইলিয়াম কেরি দূতাবাসের কর্মকর্তাকে তখন বলেছিলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। কাল চেম্বার বিচারপতির আদালতে এই লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি হবে।
বাংলাদেশ দূতাবাসের সেই কর্মকর্তা জর্জ বুশকে বাড়ি-গাড়ির মায়া ত্যাগ করে জনগণের জন্য কাজ করার কথা বলেন, ‘জনগণের ভালোবাসার কাছে আসলে সবই তুচ্ছ। দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করে গেলে বাড়ি-গাড়ি এমনিতেই হবে।’
জাপানে বাংলাদেশি অনুদান নিয়ে নয়ছয় সহ্য করা হবে না
জাপান থেকে দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি নিয়োগে অগ্রাধিকার দেবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সফররত জাপানের জনশক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি গৃহীত পঞ্চবার্ষিক রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় এ সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রায় এক লাখ জাপানি শ্রমিক বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে কাজ করছে। তবে মানবসম্পদ আমদানির ক্ষেত্রে জাপানকে অগ্রাধিকার দিতে আমাদের সিদ্ধান্তের সুবাদে আগামী পাঁচ বছরে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও অবহিত করেন যে, তাঁর সরকার দারিদ্র্যপীড়িত টোকিওতে কয়লাচালিত একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে দেওয়া সহায়তার অর্থ শিগগির ছাড় করবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অনুদানের অর্থ নিয়ে কোনো রকমের দুর্নীতি কিংবা নয়ছয় সহ্য করা হবে না। অতীতে এই ধরনের বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাপান সরকার দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। বৈঠককালে সফররত জাপানি জনশক্তিমন্ত্রী জাপানি শ্রমিক নিয়োগের সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, এ সিদ্ধান্ত জাপানের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে পাননি ফরাসি প্রেসিডেন্ট
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাই সারকোজি গত মার্চ থেকে পাঁচ-পাঁচবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে পাননি। ঢাকায় পাঠানো গোপনীয় এক তারবার্তায় জানানো হয়, মার্চে একবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ওই মাসেই ঢাকার ফরাসি দূতাবাসের মাধ্যমে পুনরায় অনুরোধ জানান। সেবারও ঢাকার পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া না গেলে এপ্রিলের মাঝামাঝিতে একবার, মে মাসে একবার এবং সর্বশেষ গত আগস্টে আবারও সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে অনুরোধপত্র পাঠান। তবে অভাবনীয়ভাবে প্রতিবারই এ ব্যাপারে নিশ্চুপ ছিল ঢাকা। এ নিয়ে ঢাকার কূটনৈতিক মহলেও নজিরবিহীন বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়। কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছিল, পারমাণবিক অস্ত্র নিরোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে গড়িমসি করায় ফ্রান্সের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল বাংলাদেশ। সাক্ষাৎ চেয়ে না পাওয়ার ঘটনা তারই প্রতিক্রিয়া বলে অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের ধারণা।
প্রসঙ্গত, এর আগে সিআইএ প্রধানের নিয়োগকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।
ইউরোপ-আমেরিকা ভ্রমণে রেড-অ্যালার্ট জারি করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ!
হানাহানি ও জঙ্গি হামলা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশিদের ইউরোপ ও আমেরিকা ভ্রমণের ওপর সতর্কতা জারি করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর এ সতর্কতা জারির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল বলে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানতে পারে। দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো এক তারবার্তায় জানানো হয়, এই সতর্কতার মেয়াদ যদি দীর্ঘ হয়, তাহলে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটনশিল্পে ধস নামার আশঙ্কা প্রবল। কারণ, বিশেষ করে গ্রীষ্মে বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক পর্যটক ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবকাশ কাটাতে যায়।
তারবার্তায় এক ঊর্ধ্বতন বাংলাদেশি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, এই সতর্কতায় কোনো বিশেষ দেশ, এলাকা বা পর্যটন অঞ্চলের কথা উল্লেখ করা হবে না। তা ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের বিরোধিতাও সেখানে থাকবে না। তবে জনসমাগমের এলাকাগুলো বিশেষ করে গণপরিবহন, বিমানবন্দর ও পর্যটন স্পটে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হবে।
সংযুক্তি
ই-প্রথম আলো ১ | ই-প্রথম আলো ২ | প্রথম আলো ওয়েব | রস+আলো ফেসবুক পেইজ
প্রকাশকাল : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১১
![]() |
| [পূর্ণ রেজ্যুলেশনে দেখার জন্য ছবির ওপর ক্লিক করুন] |
সংযুক্তি :
ই-প্রথম আলো | প্রথম আলো ওয়েব
প্রকাশকাল :
![]() |
| [পূর্ণ রেজ্যুলেশনে দেখার জন্য ছবির ওপর ক্লিক করুন] |
সংযুক্তি :
ই-প্রথম আলো | প্রথম আলো ওয়েব
প্রকাশকাল :
![]() |
| [পূর্ণ রেজ্যুলেশনে দেখার জন্য ছবির ওপর ক্লিক করুন] |
সংযুক্তি :
১. ই-প্রথম আলোতে মূল পাতা
২. দৈনিক আমাদের সময়ে প্রকাশিত সংবাদ
৩. ফিউশন ফাইভের পরিকল্পনায় নতুন ছবি "ঘর আমার ঘর"
৪. খালেদা জিয়ার বাড়ী ছাড়া নিয়ে রস+আলো এর পোস্টার
৫. আওয়ামী লীগের 'রাজনৈতিক মুখপাত্র'-এর দায়িত্বে দৈনিক প্রথম আলো
৬. আম্মা আমার ঘর ফিরাইয়া দে
৭. আসুন বাস্তুহারা লেদা-বিবির প্রতি একটু দয়া করে...
৮. নয়া ছিঃনেমা : ঘর আমার ঘর : হোয়েন শি লেফট দি হাইজ
৯. আসিতেছে ........
১০. ফেসবুক ফ্যান পেইজ
১১. ফেসবুক ওয়াল
![]() |
| [পূর্ণ রেজ্যুলেশনে দেখার জন্য ছবির ওপর ক্লিক করুন] |
এই গুণধর প্রতিভার সাম্প্রতিক দুরবস্থা দেখে একটি ক্যারিকেচার করার ইচ্ছে জেগেছিল মনে। যথারীতি সেটা ছাপা হয়েছে আজকের প্রথম আলোর রস+আলোতে। দেখতে পারেন...
ক্যারিকেচারটি দেখুন বড়ো আকারে
সংযুক্তি :
ই-প্রথম আলো | Rosh+Alo অফিসিয়াল ফ্যান পেজ
সামহোয়্যারইন ব্লগ
প্রকাশকাল :
ক্যারিকেচারটি দেখুন বড়ো আকারে
সংযুক্তি :
ই-প্রথম আলো | Rosh+Alo অফিসিয়াল ফ্যান পেজ
সামহোয়্যারইন ব্লগ
প্রকাশকাল :
২০০৭ সালে ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ সেলে খোলাখুলি স্বীকারোক্তি দেন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, ওয়াকিল উদ্দিন, শিল্পপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু ছাড়াও আরো অনেক রাজনীতিবিদ। পরে স্বীকারোক্তির অডিও সংস্করণ ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয় অজ্ঞাত সূত্র থেকে। তারই কিছু সংরক্ষণ করা হল এই লেখায়-
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের স্বীকারোক্তি
গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন সম্পর্কে-১
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ১.৮৫ মেগাবাইট
গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন সম্পর্কে-২
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ৩ মেগাবাইট
গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন সম্পর্কে-৩
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ২ মেগাবাইট
গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন সম্পর্কে-৪
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ৮৬০ কিলোবাইট
সাবের হোসেন চৌধুরী এবং প্রশিকা সম্পর্কে
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ৭ মেগাবাইট
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের স্বীকারোক্তি
গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন সম্পর্কে-১
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ১.৮৫ মেগাবাইট
গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন সম্পর্কে-২
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ৩ মেগাবাইট
গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন সম্পর্কে-৩
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ২ মেগাবাইট
গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন সম্পর্কে-৪
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ৮৬০ কিলোবাইট
সাবের হোসেন চৌধুরী এবং প্রশিকা সম্পর্কে
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ৭ মেগাবাইট
'পুলিশের ওপর হামলা' ও 'সরকারি কাজে বাধা দেওয়া'——বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা কৌতুককর দুটি প্রবাদ! রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কাউকে জব্দ করার জন্য এই দুটি অজুহাতের ব্যবহার হয়ে আসছে সম্ভবত বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই। আজও তার ব্যতিক্রম হল না। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সেই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মানিক মিয়া এভিনিউতে বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক, পাপিয়া সরোয়ারসহ ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুনুর রশিদ, সহকারী কমিশনার বিপ্লব কুমার ও থানার এক উপপরিদর্শককে (এসআই) মারধর করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তারও আগে ফারুকের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে ডিএমপির এক অতিরিক্ত কমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগে মামলা এবং পরে তদন্ত কমিটি গঠনের সূত্রটি আমাদের অনেকেরই জানা। স্পষ্টই বোঝা যায়, মহানগর পুলিশ কমিশনারের তদন্ত কমিটি কী আবিস্কার করবে! পুলিশের পোশাক পরা মহামান্য ছাত্রলীগ নেতা হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার আর পরম শ্রদ্ধেয় কনস্টেবলদের ওপর 'সংঘবদ্ধ হামলার' অভিযোগে উল্টো বিরোধীদলীয় চিফ হুইপকেই দোষী সাব্যস্ত করা হবে——এটা আগামই বলে দেওয়া যায়।
পুলিশ পারে, কিন্তু কতোটা পারে?
ফারুক যদি গালাগাল কিংবা হামলা করেও থাকেন, তাহলেও রাষ্ট্রের নিম্নপদস্থ কর্মচারী হিসেবে পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার, সহকারী কমিশনার কিংবা কনস্টেবলদের বিন্দুমাত্র অধিকার নেই তার ওপর পাল্টা নারকীয় হামলা করার। তারা মামলা দিতে পারতো, সেই মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারতো। বাংলাদেশের ওয়ারেন্ট অফ প্রিসিডেন্স অনুসারে চিফ হুইপের স্থান পঞ্চম। আর খোদ পুলিশের যিনি সর্বেসর্বা, সেই আইজিপির স্থান ১৬ নম্বরে। এই উপকমিশনার আর সহকারী কমিশনাররা গোণাতেই নেই। অনেকেরই যুক্তি, ফারুক লোকটি সুবিধার নয়। হ্যাঁ, আমি ধরলাম যে, লোকটি ডাকাতদলের সর্দার। কিন্তু তবুও কি পুলিশ এই বর্বরতা চালাতে পারে?
এক ছবি সব আমলেই
এর আগে বিএনপি শাসনামলেও আমরা দেখেছি, তারা পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর একইভাবে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম, তোফায়েল আহমেদ ছাড়াও দিলীপ বড়ুয়া, রাশেদ খান মেননদের ওপর বিএনপির পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া—এই সেদিনকার ঘটনা। তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির হরতালের দিনও সরকারের লেলিয়ে দেওয়া এই পুলিশ হামলে পড়েছিল নিরীহ মানুষের ওপর। নিজেই চোখেই দেখেছি, সে কী নির্মমতা! এই অসুস্থ সংস্কৃতি পরিবর্তনের সুযোগ ছিল আওয়ামী লীগের সামনে। তারা সুযোগটা নেয়নি। উল্টো তার অপব্যবহার করেছে মনের সব বিদ্বেষ একত্র করে। কিন্তু এই দিন তো দিন নয়। আওয়ামী লীগ তো নিশ্চয়ই নিশ্চিত নয় যে, তারাই ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে পরবর্তী মেয়াদে। আগামী নির্বাচনে বিএনপিও তো ক্ষমতায় যেতে পারে। তখন যদি এই পুলিশকেই লেলিয়ে দিয়ে সাহারা খাতুন কিংবা শামসুল হক টুকুদের লাঠির আগায় নাচায়? কিংবা আরো ওপরমহলকে চ্যাংদোলা করে যদি নিয়ে যায়?
বলতে দ্বিধা নেই
পুলিশের এই বর্বর হামলা যদি হতো আওয়ামী লীগের চিফ হুইপের ওপর, এমনকি সাহারা খাতুনের ওপরও——অবিকল একই বেদনা স্পর্শ করে যেতো আমাকে, একইরকম ক্ষোভে দগ্ধ হতাম আমরা। আমি কেবল ভাবছি, এইরকম এক পরিস্থিতিতে আমি নিজে কিংবা আমার মতোই কোনো সাধারণ মানুষ যদি পুলিশরূপী এই হায়েনাদের কবলে পড়তো, কী ঘটতো তাহলে? রক্তাক্ত বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তবু প্রাণ নিয়ে হাসপাতালে যেতে পেরেছেন, কোনো সাধারণ মানুষ কি নিজের প্রাণটা বাঁচাতে পারতো? প্রাণ বাঁচানো গেলেও থানায় নিয়ে কী বর্বর অত্যাচারটাই চালানো হতো! হয়তো ১০১ মামলার আসামিও।
দরকার একটি সুনামি
না, কোনো সংস্কার কর্মসূচি নয়——সে তো শুধুই সময়ের অপচয়। মানবাধিকার শেখানোর কোনো প্রশিক্ষণ কর্মশালা নয়——সে শুধুই আইওয়াশ। এমনকি কোনো আন্দোলনও নয়——সে হল সমস্যাকে আরো বেশি দিন জিইয়ে রাখার পদ্ধতি মাত্র। এই চির অমানুষ বর্বর পুলিশের বিরুদ্ধে দরকার একটি সুনামি—শুধুই একটি সুনামি!

গত বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কেন মেনে নেওয়া হবে না, সেটা স্পষ্ট নয়। ই-ভোটিংয়ের সুবিধাগুলো যেমন আওয়ামী লীগ-বিএনপি দু দলের জন্যই সমান, অসুবিধাগুলোও সমান। ই-ভোটিংয়ে আওয়ামী লীগ যদি কারচুপি করে, বিএনপিরও সেই একই কারচুপি করার সুযোগ আছে। তাহলে কেন বিরোধিতা? অনেক ভেবেচিন্তে দুটো বিষয় অনুমানের চেষ্টা করলাম-
অনুমান ১ : উপদেষ্টাদের কেউ কেউ তাকে ধারণা দিয়েছেন, ই মানে ইলেকট্রনিক। এবং এই ভোট দিতে হলে আপনাকে কম্পিউটার চালানো শিখতে হবে। কিন্তু এই বয়সে তার পক্ষে মোটেও সেটা সম্ভব নয়। বরং তাকে কম্পিউটার শেখানোর চেষ্টাটা রীতিমতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল হবে।
অনুমান ২ : খালেদা জিয়া বিএনপিপন্থী ব্লগারদের মাধ্যমে জেনেছেন, সম্প্রতি ডয়চে ভেলে ইলেক্ট্রনিক জালভোট প্রতিযোগিতায় ব্যাপক কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। চোখের সামনে এইরকম একটি উদাহরণ থাকার পর তিনি কিভাবে ই-ভোটিং মেনে নিতে পারেন?
মনে পড়ে, মনে পড়ে...
মনে পড়ে, ১৯৯২ সালে যখন বাংলাদেশকে বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবলের (সি-মি-উই-২) সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন এই খালেদা জিয়াই সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। অজুহাত ছিল - ইমেইলের মাধ্যমে দেশের গোপনীয় তথ্য পাচার হয়ে যাবে! পাশের শ্রীলংকা ও ভারত ওই লাইনে ঠিকই যুক্ত হয়। এরপর সিঙ্গাপুর ও ফ্রান্স টেলিকম আরো একটি সাবমেরিন ক্যাবল লাইন (সি-মি-উই-৩) স্থাপনের উদ্যোগ নেয় ১৯৯৪ সালে। বাংলাদেশ সেখানেও যুক্ত হয়নি। অজুহাত ওই একই- দেশের গোপনীয় তথ্য পাচার হয়ে যাবে! এরপর ২০০৬ সালের ২১ মে বাংলাদেশের উপলব্ধি হয় যে, সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া দরকার। আর তাতে খরচ হল দরিদ্র এই দেশের মূল্যবান এক হাজার কোটি টাকা। শ্রেফ এই খালেদা জিয়ার বোকামির চড়া মাশুল।
মানুষের ক্ষোভ কোথায় বিএনপি জানে না
মানুষের ক্ষোভ কোথায়, মানুষের দুঃখ কোথায় - সেটা বিএনপি কখনোই বোঝেনি, বুঝতেও চায়নি। অথচ নিজের একটি বাড়ির জন্য খালেদা জিয়া ঈদের সময়টাতেও হরতাল ডাকতে দ্বিধা করেননি। এখনও যদি জরিপ হয়, এই বাড়ি ইস্যুতে অন্ধ বিএনপি সমর্থক ছাড়া বিএনপিরই সবগুলো ভোট খালেদা পাবেন না। নৃংশসতার নির্মম শিকার এক দরিদ্র কলেজছাত্রকে নিয়ে সাহারা খাতুন আর তার রেব শ্রেফ মাস্তানি করে যাচ্ছে। সেটা নিয়ে বিএনপি চাইলে ক্ষুব্ধ মানুষের মন জয় করতে পারতো। কিন্তু না, তারা আছে তারেক-কোকোর দুর্নীতি মামলা নিয়ে অহর্নিশ কান্নাকাটিতে। কৃষ্ণগহবরের কসম, মানুষের কাছে এইসব ইস্যুর দু পয়সার মূল্য নেই।
শেয়ারবাজারের অরাজকতা নিয়ে ক্ষুব্ধ মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভে ফেটে পড়ছে। লাখ লাখ মানুষ শেয়ার-ডাকাতদের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। সেটা নিয়ে বিএনপির কোনো মাথাব্যাথা নেই। একটি সংবাদ সম্মেলন তারা করেছিল বটে, সেখানেও মূর্খতাই স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়েছে। প্রথমে চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী শেয়ারবাজারের তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করা হল। এর পরপরই আবার তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার দাবি করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন যদি প্রত্যাখ্যানই করা হয়, সে অনুযায়ী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারই বা কেন হবে? শীর্ষ শেয়ার-ডাকাত মোসাদ্দেক আলী ফালু খোদ খালেদা জিয়ার আপনজন। এই মূহুর্তে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও আওয়ামী লীগের মতোই আচরণ করতো দলটি।
কেন প্রযুক্তি বিরোধিতা?
ই-ভোটিং বা ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের বিরোধিতা কেন? কেন দেশকে টেনে টেনে পিছনে নিয়ে যাওয়া? বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা? নাকি অজ্ঞতা? যদি বিএনপি মনে করে যে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়, তারা জালিয়াতি করতে পারে, তাহলে আন্দোলন হোক বরং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রযুক্তির বিরোধিতা কেন? প্রযুক্তির যদি কোনো গলদ থাকে, কোনো সীমাবদ্ধতা থাকে, তাহলে সেটা বিএনপির জন্য যেমন সমস্যা, আওয়ামী লীগের জন্যও কি নয়?
নিজেদের অজ্ঞতা-অক্ষমতা ঢাকতে গিয়ে প্রযুক্তির বিরোধিতা করবেন না, নিজ হাতে দেশকে আর পিছিয়ে দেবেন না, হে অষ্টম শ্রেণী!
ই-ভোটিং নিয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা
■ চট্টগ্রামের নির্বাচনে ই-ভোট : সফলসূচনা
■ ই-ভোটিং যুগে বাংলাদেশ
■ দ্রুত ভোট দ্রুত গণনা
■ একটি ওয়ার্ডে বোতাম টিপে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন
■ চট্টগ্রামে ইলেকট্রনিক ভোটের মহড়া
■ আগামী সংসদ নির্বাচনে বড় পরিসরে ই-ভোট
অনুমান ২ : খালেদা জিয়া বিএনপিপন্থী ব্লগারদের মাধ্যমে জেনেছেন, সম্প্রতি ডয়চে ভেলে ইলেক্ট্রনিক জালভোট প্রতিযোগিতায় ব্যাপক কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। চোখের সামনে এইরকম একটি উদাহরণ থাকার পর তিনি কিভাবে ই-ভোটিং মেনে নিতে পারেন?
মনে পড়ে, মনে পড়ে...
মনে পড়ে, ১৯৯২ সালে যখন বাংলাদেশকে বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবলের (সি-মি-উই-২) সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন এই খালেদা জিয়াই সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। অজুহাত ছিল - ইমেইলের মাধ্যমে দেশের গোপনীয় তথ্য পাচার হয়ে যাবে! পাশের শ্রীলংকা ও ভারত ওই লাইনে ঠিকই যুক্ত হয়। এরপর সিঙ্গাপুর ও ফ্রান্স টেলিকম আরো একটি সাবমেরিন ক্যাবল লাইন (সি-মি-উই-৩) স্থাপনের উদ্যোগ নেয় ১৯৯৪ সালে। বাংলাদেশ সেখানেও যুক্ত হয়নি। অজুহাত ওই একই- দেশের গোপনীয় তথ্য পাচার হয়ে যাবে! এরপর ২০০৬ সালের ২১ মে বাংলাদেশের উপলব্ধি হয় যে, সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া দরকার। আর তাতে খরচ হল দরিদ্র এই দেশের মূল্যবান এক হাজার কোটি টাকা। শ্রেফ এই খালেদা জিয়ার বোকামির চড়া মাশুল।
মানুষের ক্ষোভ কোথায় বিএনপি জানে না
মানুষের ক্ষোভ কোথায়, মানুষের দুঃখ কোথায় - সেটা বিএনপি কখনোই বোঝেনি, বুঝতেও চায়নি। অথচ নিজের একটি বাড়ির জন্য খালেদা জিয়া ঈদের সময়টাতেও হরতাল ডাকতে দ্বিধা করেননি। এখনও যদি জরিপ হয়, এই বাড়ি ইস্যুতে অন্ধ বিএনপি সমর্থক ছাড়া বিএনপিরই সবগুলো ভোট খালেদা পাবেন না। নৃংশসতার নির্মম শিকার এক দরিদ্র কলেজছাত্রকে নিয়ে সাহারা খাতুন আর তার রেব শ্রেফ মাস্তানি করে যাচ্ছে। সেটা নিয়ে বিএনপি চাইলে ক্ষুব্ধ মানুষের মন জয় করতে পারতো। কিন্তু না, তারা আছে তারেক-কোকোর দুর্নীতি মামলা নিয়ে অহর্নিশ কান্নাকাটিতে। কৃষ্ণগহবরের কসম, মানুষের কাছে এইসব ইস্যুর দু পয়সার মূল্য নেই।শেয়ারবাজারের অরাজকতা নিয়ে ক্ষুব্ধ মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভে ফেটে পড়ছে। লাখ লাখ মানুষ শেয়ার-ডাকাতদের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। সেটা নিয়ে বিএনপির কোনো মাথাব্যাথা নেই। একটি সংবাদ সম্মেলন তারা করেছিল বটে, সেখানেও মূর্খতাই স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়েছে। প্রথমে চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী শেয়ারবাজারের তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করা হল। এর পরপরই আবার তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার দাবি করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন যদি প্রত্যাখ্যানই করা হয়, সে অনুযায়ী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারই বা কেন হবে? শীর্ষ শেয়ার-ডাকাত মোসাদ্দেক আলী ফালু খোদ খালেদা জিয়ার আপনজন। এই মূহুর্তে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও আওয়ামী লীগের মতোই আচরণ করতো দলটি।
কেন প্রযুক্তি বিরোধিতা?
ই-ভোটিং বা ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের বিরোধিতা কেন? কেন দেশকে টেনে টেনে পিছনে নিয়ে যাওয়া? বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা? নাকি অজ্ঞতা? যদি বিএনপি মনে করে যে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়, তারা জালিয়াতি করতে পারে, তাহলে আন্দোলন হোক বরং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রযুক্তির বিরোধিতা কেন? প্রযুক্তির যদি কোনো গলদ থাকে, কোনো সীমাবদ্ধতা থাকে, তাহলে সেটা বিএনপির জন্য যেমন সমস্যা, আওয়ামী লীগের জন্যও কি নয়?নিজেদের অজ্ঞতা-অক্ষমতা ঢাকতে গিয়ে প্রযুক্তির বিরোধিতা করবেন না, নিজ হাতে দেশকে আর পিছিয়ে দেবেন না, হে অষ্টম শ্রেণী!
ই-ভোটিং নিয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা
■ চট্টগ্রামের নির্বাচনে ই-ভোট : সফলসূচনা
■ ই-ভোটিং যুগে বাংলাদেশ
■ দ্রুত ভোট দ্রুত গণনা
■ একটি ওয়ার্ডে বোতাম টিপে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন
■ চট্টগ্রামে ইলেকট্রনিক ভোটের মহড়া
■ আগামী সংসদ নির্বাচনে বড় পরিসরে ই-ভোট
প্রথম প্রকাশ

সামান্য কজন লোক সবার চোখের সামনে শেয়ারবাজার থেকে লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সর্বস্ব ছিনিয়ে নিল, সরকার তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল। ৩০ লাখ বিনিয়োগকারীর অনেকে হয়েছে পথের ভিখারী, মানসিক বৈকল্যের শিকার হওয়া অনেকে হয়তো সারাজীবনেও আর সুস্থ হবেন না, কান পাতলে অনেক ঘরে এখনো কান্নার শব্দ শোনা যায়। সরকার বাধ্য হয়ে একটি তদন্ত কমিটি করল। ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে সেই তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদনও দিল। এরপরই শুরু হল সরকারের অবিশ্বাস্য লুকোচুরি। অর্থমন্ত্রী প্রথমে বললেন তদন্ত প্রতিবেদন থেকে কিছু নাম 'ডিলিট' করতে হবে। পরে সেখান থেকে সরে এসে বললেন, কিছু বিষয় পুনঃতদন্ত করতে হবে। এরপর চাপ বাড়তে থাকলে দোহাই দিলেন মুদ্রণকাজে দেরি হওয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তারও পরে আবার নতুন অজুহাত দেখালেন, এসইসি আর বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত লাগবে। আপাদমস্তক দুর্নীতিবাজ যে এসইসির বিরুদ্ধে স্পর্শকাতর সব অভিযোগ আছে ইব্রাহিম খালেদের রিপোর্টে, সেই এসইসির টাউট কর্মকর্তাদেরও মতামত দরকার আমাদের অর্থমন্ত্রীর!
ডাকাত বাঁচাতে সরকারের অবিশ্বাস্য লুকোচুরি
তদন্ত প্রতিবেদনে শেয়ার ডাকাত হিসেবে যদি শুধু বিএনপির মোসাদ্দেক আলী ফালু কিংবা লুৎফর রহমান বাদলের নাম আসতো, তাহলে আমি নিশ্চিত শেয়ারবাজার তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দ্রুততার সঙ্গে প্রকাশ করা হতো, ঢাকঢোল পিটিয়েই। কিন্তু সেখানে সবার আগে জ্বলজ্বল করছে একটি নাম - সালমান এফ রহমান, যিনি একইসঙ্গে শেখ হাসিনা এবং তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। এই বিশেষ কয়েকজন লোককে বাঁচাতে সরকার এখন ৩০ লাখ বিনিয়োগকারী তো বটেই, বলা ভালো জনগণের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। ওই লোকগুলো কি দেশের চেয়ে বড়ো, দেশের মানুষের চেয়েও বড়ো? একটি প্রতারক প্রতিষ্ঠান বিডিথাই অ্যালুমিনিয়াম তদন্ত কমিটির প্রধানের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করতে পারে? একজন শেয়ার-ডাকাত রকিবুর রহমান কী ভয়ানক স্পর্ধায় হুমকি দিয়ে যেতে পারেন 'এবার খেলা আমিই জমাব!' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচিত ছিল প্রথমেই তার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। এই লোক '৯৬ সালের কুখ্যাত শেয়ারবাজার ধ্বসেরও অন্যতম হোতা। কিন্তু কোথায় কী! গতকাল সালমান উল্টো হুঙ্কার ছাড়লেন, তার সম্পদের তথ্য কোনোভাবেই প্রকাশ করা যাবে না। করা হলে তিনি মামলা করবেন। সরকার শুধু সালমান এফ রহমানকেই নয়, দুর্নীতিগ্রস্থ এসইসিকেও বাঁচাতে চাইছে একইসঙ্গে। আবার সুযোগ থাকলেও ফালু-বাদল-রকিবুর-নূর আলীদেরও আটকানো যাচ্ছে না, কারণ ওরা সালমানেরই একান্ত সহযোগী। আর এদিকে ইব্রাহিম খালেদকে প্রতারক চক্রটি নানা দিক থেকে একের পর এক আক্রমণ করে যাচ্ছে। আমার ধারণা, এর পেছনেও সরকারের পরোক্ষ মদদ আছে।
জুজুর ভয় দেখিয়ে কতো আর!
অর্থমন্ত্রীকে আমি দোষ দেই না। এই দেশে পদত্যাগ করাকে ভালো চোখে দেখা হয় না পশ্চিমের মতো। অতীতে যতো খারাপ কাজই করুন না কেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল যখন দলে গণতন্ত্রায়নের কথা সাহস করে বললেন, তখন তাকে অভিনন্দন তো দূরের, খোদ বিএনপিও আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে তাকে ধুইয়ে দিল। অথচ মার্কিন মুল্লুকে আমরা দেখি, কী অবলীলায় ডেমোক্র্যাট দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে দ্বিধায় ভোগেন না সিনেটররাই। সেজন্য কেউ তাদের দুয়ো দেয় না। আমাদের দেশে এই সংস্কৃতি নেই। কাজেই পদত্যাগ না করায় দোষ দেখি না অর্থমন্ত্রীর। তিনি চলেন ওপরের নির্দেশে। এই ওপরমহল থেকে এখন এমনও বলা হচ্ছে যে, শেয়ারবাজারের তদন্ত রিপোর্ট নাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্থ করবে। আওয়ামী লীগ এই এক জুজুর ভয় দেখিয়ে আসছে ক্ষমতায় আরোহণের শুরু থেকেই। কিন্তু কতো আর! সবকিছুতেই যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্থ হয়, তাহলে মানুষের হাঁটাচলা, যানচলাচল - সবকিছুই বন্ধ করে দিন!
জনতার বিচার সামনে
যদিও বলা হয়ে থাকে, জনগণই যদিও সকল ক্ষমতার উৎস, তবে বাংলাদেশে দু পেয়ে মানুষের চেয়ে তুচ্ছ আর কিছু নেই। তবু জানেন আশা করি, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া জনতার বিচার একটু ভয়াবহই হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আর খুব বেশি হলে দু বছর!
সংযুক্তি
শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন
প্রথম প্রকাশ

এক নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে নিয়ে শেখ হাসিনা যখন প্রসন্ন মনে ঘুরছিলেন বইমেলায়, তার কয়েক দিন আগে হাস্যকর সব মামলায় জামিন নিতে দৌড়াচ্ছিলেন ঘরের নোবেলজয়ী ইউনূস। হাসিনার হাসিমুখ দেখে মনে হচ্ছিল, ঘরের লোককে হেনস্তা করায় এতো সুখ!
ইউনূসের ওপর হাসিনার রোষ
২০০৬ সালে নোবেল জয়ের পর থেকেই শেখ হাসিনা কেন যেন রুষ্ট হয়ে পড়েন ড. ইউনূসের ওপর। কথামালায় তার আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল, তবে অতোটা নয়। ওয়ান-ইলেভেনের পর ক্ষমতায় এসে হাসিনার মুখের ভাষা একটু একটু করে বিষ ছড়াতে থাকে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় ইউনূস একটি দল গঠনের চেষ্টা করেছিলেন, সেটা হয়তো একটি কারণ, তবে মূল কারণ নয়। যদি মূল কারণই হতো, তাহলে ফেরদৌস কোরেশীর এতোদিনে মৃত্যুদণ্ড হওয়ার কথা! নরওয়ে টেলিভিশনে গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল স্থানান্তর-সংক্রান্ত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচার হওয়ার পর হাসিনা ভদ্রতার মুখোশটা ফেলে স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হলেন। প্রধানমন্ত্রীই শুধু নন, তার অমাত্যবর্গও অশ্লীল অশোভন বাক্যবাণে বিদ্ধ করে চলছিলেন ইউনূসকে। ওই যে চাঁদাবাজ ছাত্রলীগ, এমনকি তারাও একপর্যায়ে মামার বাড়ির আবদার জানিয়ে বসল যে, ইউনূসের নোবেল পদক কেড়ে নিতে হবে। মাহবুবুল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল মুখপাত্র, ইউনূসের বুড়ো আঙ্গুলের নখের যোগ্যতা যার নেই এবং হবেও না এই জীবনে, সেই তিনিও ইউনূসের নামে প্রকাশ-অযোগ্য সব বক্তব্য দিতে লাগলেন। একসময় দেখা গেল, ইউনূসের পক্ষে নরওয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির পরও সরকার ইউনূসের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে ফেলল। সেটা চলতে চলতেই ইউনূসকে জড়ানো হল একের পর এক হাস্যকর মামলায়, তাও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
আসলে কারণটা কী?
সর্বশেষ ইউনূসকে সরিয়ে দেওয়া হল তার নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক থেকে। এমন অবস্থায় হঠাৎ দৃশ্যপটে নাজিল হলেন হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। দেশ, দেশের ভাষা, সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই লোকের যোগাযোগ ক্ষীণ বললেই চলে। ইউনূসকে নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা তো তার নেই-ই। অথচ এই লোকটিই ইউনূসের কুৎসা গেয়ে দেশে-বিদেশে গণহারে ইমেইল বার্তা পাঠিয়ে চলেছে। জানতে ইচ্ছে করে, জয় এই সরকারের কোন্ পদে আছেন, ইউনূস বিষয়ে জনে জনে ইমেইল করে বেড়ানোর তিনিই বা কে? দৃশ্যত, এক ইউনূসকে হেনস্থা করার জন্য সরকার তার পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে। আজ মঙ্গলবার দেখেছি, 'সম্ভাব্য গোলযোগ' দমনের নামে গ্রামীণ ব্যাংকের শাখাগুলোর দখল নেওয়ার জন্য পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে, বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, ইউনূস নোবেল জিতেছিলেন বলেই তার ওপর যতো আক্রোশ হাসিনার। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির জন্য শেখ হাসিনা নিজে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য ব্যয়বহুল করে যাচ্ছিলেন অনেকদিন ধরেই - এই খবর খুব গোপন থাকেনি। অপ্রাপ্তবয়স্কেরও বুঝতে বাকি নেই, ইউনূসকে হেনস্তা করাটা হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রোশ ছাড়া আর কিছুই নয়। এটাও একবিন্দু মিথ্যা নয় যে, সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তার বিচারে শেখ মুজিবুর রহমানের চেয়ে অনেকগুণ এগিয়ে আছেন ইউনূস। এটাও কি অন্যতম একটি কারণ? কানাডা প্রবাসী এক বাংলাদেশী সেদিন বলছিলেন, ৯০ ভাগ কানাডিয়ান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নামও জানেন না, কিন্তু ড. ইউনূসের নাম তারা জানেন।
সরকারবান্ধব আদালত?
সরকার আইনের দোহাই দিয়ে ইউনূসকে সরিয়েছে, ইউনূসও সেই আইনের কাছেই তার বিচার চাইতে গিয়েছিলেন। টানা তিন দিন আদালতের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে ইউনূসের আইনজীবীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, ন্যায়বিচার তারা পাবেন না। ইউনূসের আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ, যিনি নিজেই আওয়ামী লীগ ঘরানার, সেই তিনিই ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন গত সোমবার। আদালত টানা তিনদিন ধরে বিষয়টির ওপর শুনানি গ্রহণ করেছেন। অথচ কোনো রুল দেননি। দেশের সেরা আইনজীবীরা বলছেন, একটি রিটের ওপর এতো দীর্ঘ শুনানি গ্রহণ নজিরবিহীন। হাইকোর্টে সেই নজিরবিহীন কাণ্ড ঘটেছে। আইনজীবীদের আশঙ্কাকে সত্যি প্রমাণ করে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অপসারণের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দুটি রিট খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ইউনূসের আইনজীবী সারা হোসেন বলেছেন, 'আজ বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি দুঃখের দিন। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অবৈধ নোটিশকে আদালত আজ বৈধতা দিলো। গত কয়েকদিন শুনানির সময় আমরা যে আশঙ্কা করেছিলাম, আজ রিট খারিজের মধ্য দিয়ে তা সত্যি প্রমাণিত হলো।' শেখ হাসিনা ও তার পারিষদ যখন নিজেই ড. ইউনূসের বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন, তখন আদালতের কি বিপক্ষে যাওয়ার শক্তি কিংবা সাহস আছে? বিচার বিভাগ যদিও 'স্বাধীন', তবু সচরাচর সরকারকে তারা চটায় না। বিচার বিভাগ আলাদা হওয়ার পর এমন একটি উদাহরণও আমি খুঁজে পাচ্ছি না, যেখানে আদালত সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। হতে পারে, উদাহরণ খুঁজে না পাওয়াটা আমার নিজেরই অক্ষমতা।
আওয়ামীকরণ প্রকল্প
গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা আছে, অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো ভিত্তিহীনও নয়। তবু মনে রাখতে হবে, অনেক ত্রুটি-বিচ্যূতি সত্ত্বেও দারিদ্র বিমোচনে গ্রামীণ ব্যাংকের অবদান অসামান্য - সেটা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও। বিশ্বের কোটি কোটি লোক এই গ্রামীণ ব্যাংক ও ইউনূসের মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বের এই ক্ষুদ্র দেশটাকে চিনেছে। গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের অংশীদারিত্ব আছে বটে, তবে ব্যাংকটা একান্তই ইউনূসের ব্রেইন চাইল্ড, তার সারাজীবনের স্বপ্ন। সুতরাং গ্রামীণ ব্যাংকে ইউনূসের থাকা-না থাকা হেলাফেলার কোনো বিষয় নয়। ইউনূসের মতো লোকের জন্য বয়স কোনো অজুহাত হতে পারে না। সরকার নিজেদের ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থেও প্রচলিত বহু আইন সংশোধন করেছে ইতিপূর্বে, এই জায়গায় আইনও সম্ভবত সংশোধন করার প্রয়োজন পড়বে না, শুধু একটি আদেশই যথেষ্ট। সেটাও যদি সরকারের জন্য কষ্টকর হয়, তারা একজন বাংলাদেশের একমাত্র নোবেলবিজয়ীকে সম্মানজনকভাবে বিদায় দিতে পারতো। কারণ এর সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি যেমন, তেমনি গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত কয়েক কোটি মানুষের স্বার্থও জড়িত। এই ঘটনায় আমরা দেখলাম সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি বেশিরভাগ আওয়ামী সমর্থকও সরকারের পক্ষে নেই। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা ইতিমধ্যে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, সেটা অভূতপূর্ব। তবু লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে, গ্রামীণ ব্যাংককে পুরো আওয়ামীকরণ না করে এই সরকার থামবে না।
শেষপর্যন্ত এটা রাষ্ট্রীয় মাস্তানিই...
এই পোড়ার দেশে কৃতীর সম্মান নেই - এটা ঐতিহ্যবাহী প্রথা। নতুন করে সেটা আরো একবার জানা হল কেবল। এক ইউনূসকে সরানোর জন্য সরকার আইনের দোহাই দিচ্ছে, কুৎসা গেয়ে বেড়াচ্ছে দেশজুড়ে, কিন্তু না হাসিনা, আপনার নেতৃত্বে এটা রাষ্ট্রীয় মাস্তানিই এবং নিশ্চিতভাবেই আপনার ব্যক্তিগত আক্রোশ। অতিঅবশ্যই এটা আমরা মানছি না। আপনি জানেন, মনের ওপর আওয়ামী মাস্তানি অকার্যকর।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে কারা আছে জানেন? আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। সরকার তাদের পরিচালনা পর্ষদগুলোতে নিয়োগ দিয়েছে যোগ্যতা না থাকার পরও। সবুজকানন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক যেমন আছেন সেখানে, তেমনি আছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতাও। ছাত্রলীগের নেতারা যেমন আছেন, যুবলীগারও কম নয়। এদের প্রায় কারোরই ব্যাংকিং তো নয়ই, এমনকি ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়েও ন্যূনতম ধারণা নেই। পরিচালনা পর্ষদের এইসব সদস্যের মূল কাজ হল অর্থের বিনিময়ে বিশেষ বিশেষ লোককে ঋণ পাইয়ে দেওয়া, বদলি আর পদোন্নতিতে প্রভাব বিস্তার। প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউনূসকে সরিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের দখল নিতে সরকার মরিয়া হয়ে ওঠার পর এই প্রশ্ন এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, গ্রামীণ ব্যাংক সরকারের দখলে যাওয়ার পর সফল ওই বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্যে কী ঘটবে? তার আগে দেখা যাক, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের কী হাল-
অগ্রণী ব্যাংক
চেয়ারম্যান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক।
পরিচালক :
১. বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি শাহজাদা মহিউদ্দিন
২. যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা জাকির আহমেদ
৩. আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক আবদুস সবুর
৪. আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সহসম্পাদক নাগিবুল ইসলাম
৫. সাবেক কমিউনিস্ট নেতা, মণি সিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্টের সম্পাদক শেখর দত্ত।
৬. আওয়ামী লীগ সমর্থক আবদুজ জহির চৌধুরী
৭. গ্লোবাল নিউজ এজেন্সির প্রধান সম্পাদক কে এম এন মঞ্জুরুল হক (প্রকৃতপক্ষে গ্লোবাল নিউজ এজেন্সি নামের কোনো সংবাদ সংস্থার অস্তিত্বই নেই)
সোনালী ব্যাংক
চেয়ারম্যান : কাজী বাহারুল ইসলাম (সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা )
পরিচালক :
১. মাদারীপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুত্ফর রহমান খান
২. কক্সবাজারের আওয়ামী লীগ নেতা সাইমুম সরওয়ার
৩. আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কমিটির সদস্য কাশেম হুমায়ুন
৪. সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সত্যেন্দ্র চন্দ্র ভক্ত
৫. সবুজ কানন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মহিলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক জান্নাত আরা হেনরী (তিনি নবম সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন)
৬. বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি কে এম জামান।
৭. সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুভাষ সিংহ রায়।
জনতা ব্যাংক
চেয়ারম্যান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারকাত।
পরিচালক :
১. রাজবাড়ী চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি নজিবর রহমান
২. ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বলরাম পোদ্দার।
বেসিক ব্যাংক
চেয়ারম্যান : সাবেক সাংসদ শেখ আবদুল হাই
পরিচালক :
১. চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম
২. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাজিয়া বেগম
৩. অর্থ বিভাগের যুগ্ম-সচিব বিজয় ভট্টাচার্য
৪. সাবেক শুল্ক কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)
পরিচালক :
১. নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া
২. বেসিক ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলাউদ্দিন এ মজিদ
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)
পরিচালক :
১. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও আওয়ামী লীগের সমর্থক রুস্তম আলী আহমেদ
২. কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খোন্দকার জাহাঙ্গীর কবির।
এই হল অবস্থা!
নতুন বছরে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির নিজস্ব ক্যালেন্ডারটি কেমন হতে পারে—এ বিষয়ক নাতিদীর্ঘ গবেষণার ফলাফল এই পোস্ট। এর আগে একইরকম গবেষণা হয়েছিল আরেকটি ক্যালেন্ডার নিয়ে। তার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল গতকাল। এবার দেখুন ২০১১ সালের সহীহ্ সচিত্র জাতীয়তাবাদী ক্যালেন্ডার। অবশ্যই সারা বছর সংগ্রহে রাখার মতো।

তারিখ — জাতীয়তাবাদী ইভেন্ট
১ — যথারীতি ধানের শীষ দিয়ে শুরু...
৩ — অবশ্যই বগুড়া, সঙ্গে চন্দ্রিমা উদ্যান, পুষ্পাঞ্জলি...
৫ — দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে আর যাচ্ছে...
....
৩ — যেনতেনভাবে ক্ষমতা যাওয়ার চেষ্টা
৪ — এবং যথারীতি পূর্ণ অমাবস্যা...
মোহতারাম...
এই ক্যালেন্ডারটাও বড়ো আকারে দেখার ইচ্ছে আপনার হতেই পারে। সেক্ষেত্রে ঠিক এই জায়গায় ক্লিক করা খুব পরিশ্রমের কাজ হবে, আশা করি!
প্রথম প্রকাশ

তারিখ — জাতীয়তাবাদী ইভেন্ট
১ — যথারীতি ধানের শীষ দিয়ে শুরু...
৩ — অবশ্যই বগুড়া, সঙ্গে চন্দ্রিমা উদ্যান, পুষ্পাঞ্জলি...
৫ — দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে আর যাচ্ছে...
....
৩ — যেনতেনভাবে ক্ষমতা যাওয়ার চেষ্টা
৪ — এবং যথারীতি পূর্ণ অমাবস্যা...
মোহতারাম...
এই ক্যালেন্ডারটাও বড়ো আকারে দেখার ইচ্ছে আপনার হতেই পারে। সেক্ষেত্রে ঠিক এই জায়গায় ক্লিক করা খুব পরিশ্রমের কাজ হবে, আশা করি!
প্রথম প্রকাশ
























