• Home
  • Contact
  • About
  • RSS
  • My Somewherein blog
  • Facebook
  • Twitter
  • Problem with Bengali Font?

  • মূলপাতা
  • স্বদেশ
    • সবিশেষ
    • মুক্তিযুদ্ধ
    • রাজনীতি
    • সমসাময়িক
    • প্রতিরক্ষা
    • ধর্ম
    • পার্বত্য চট্টগ্রাম
    • মানবাধিকার
  • মিডিয়া
    • গণমাধ্যম
    • ই-সংকলন
    • বইপত্র
    • ▬▬
    • বাংলা দৈনিক
      • আরো »
        • আমার দেশ
        • আমাদের সময়
        • বাংলাদেশ প্রতিদিন
        • সংবাদ
        • যায়যায়দিন
        • মানবজমিন
        • ভোরের কাগজ
        • আমাদের অর্থনীতি
        • ডেস্টিনি
      • প্রথম আলো
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • কালের কন্ঠ
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • যুগান্তর
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • সমকাল
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • ইত্তেফাক
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • জনকণ্ঠ
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • নয়া দিগন্ত
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • সকালের খবর
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
    • ইংরেজি দৈনিক
      • ডেইলি স্টার
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
        • সাপ্লিমেন্টস
      • সান
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • ইন্ডিপেন্ডেন্ট
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • নিউ এইজ
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • বাংলাদেশ টুডে
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • আওয়ার টাইম
    • সংবাদ সংস্থা
      • আরো »
        • ফোকাস বাংলা
        • বিডি স্পোর্টস নিউজ
        • ঢাকা নিউজ
        • আরটিএনএন
        • রেডটাইমস
        • বিএনএন
        • বাংলাদেশ নিউজ
      • বিডিনিউজ
      • বাংলা নিউজ
      • বাসস
      • ইউএনবি
      • শীর্ষনিউজ
      • দি এডিটর
    • রেডিও-টেলিভিশন
      • রেডিও »
        • রেডিও ফূর্তি
        • রেডিও টুডে
        • এবিসি রেডিও
        • রেডিও লিংক
      • আরো »
        • বৈশাখী
        • দিগন্ত টিভি
        • বাংলা ভিশন
        • ইসলামিক টিভি
        • আরটিভি
        • মোহনা
        • মাই টিভি
      • চ্যানেল আই
      • এটিএন বাংলা
      • এনটিভি
      • দেশ টিভি
      • একুশে টিভি
    • সাময়িকী
      • আরো »
        • আরো »
          • আরো »
            • খবর
            • ডয়চে ভেলে
            • রেডিও ইরান
            • রেডিও চায়না
            • ই-বাংলাদেশ
            • খেলার খবর
            • সাময়িকী
          • মনোজগত
          • প্রবাসে প্রতিদিন
          • নতুন দেশ
          • ইউকে বেঙ্গলি
          • লন্ডন বাংলা
          • এনওয়াই বাংলা
          • ইউরো বাংলা
          • দশদিক
        • প্রোব ম্যাগাজিন
        • চিন্তা
        • একপক্ষ
        • নতুনধারা
        • বাংলামাটি
        • কম্পিউটার জগৎ
        • কম্পিউটার বার্তা
        • কালিকলম
      • সাপ্তাহিক
      • সাপ্তাহিক ২০০০
      • বুধবার
      • বিচিন্তা
      • কাগজ
      • সচিত্র সময়
      • ডিজিটাল সময়
      • মিডিয়া ওয়াচ
    • অনলাইন
      • এক
      • দুই
      • তিন
    • অন্যান্য
  • ব্লগ
    • ব্লগ পর্যালোচনা
    • ব্লগ বিতর্ক
    • ব্লগ স্যাটায়ার
    • ব্লগপিডিয়া
    • ব্লগতালিকা
      • আরো »
        • নাগরিক ব্লগ
        • একুশে ব্লগ
        • সোনার বাংলা ব্লগ
        • মুক্ত ব্লগ
        • চতুর্মাত্রিক ব্লগ
        • আমার বর্ণমালা ব্লগ
        • ওপেস্ট ব্লগ
      • সামহোয়্যারইন ব্লগ
      • প্রথম আলো ব্লগ
      • সচলায়তন
      • আমার ব্লগ
      • বিডিনিউজ ব্লগ
      • টেকটিউনস
      • গ্লোবাল ভয়েসেস বাংলা
  • গদ্যকার্টুন
    • গদ্যকার্টুন
    • ক্যারিকেচার
    • ব্লগ স্যাটায়ার
    • টেক-হিউমার
    • রস+আলো সংগ্রহ
  • প্রযুক্তি
    • প্রযুক্তি
    • কম্পিউটার
    • ইন্টারনেট
    • মোবাইল
    • সফটওয়্যার
    • হ্যাকিং
  • বিনোদন
    • বিনোদন
    • বেড়ানো
    • খেলা
    • সিনেমা
    • ডকুমেন্টারি
  • বিবিধ
    • ওয়ার্কশপ
      • আশাজাগানিয়া
      • ছিন্ন চিন্তাবলী
      • মুজতবা হোসেন মুরশেদ
    • দূরের জানালা
    • স্মৃতিকথা
    • গার্হস্থ্য
    • দিনলিপি
  • হেল্পলাইন
    • কনভার্টার
      • ইউনিকোড লেখনী ও পরিবর্তক
      • বাংলা কম্পিউটিং কনভার্টার
    • অভিধান
      • ইংরেজি থেকে বাংলা
      • বাংলা থেকে ইংরেজি
    • অনুবাদ
      • ইংরেজি থেকে বাংলা
      • বাংলা থেকে ইংরেজি
    • অভ্র কি-বোর্ড
    • টুইটার স্ট্যাটাস বাংলায়
  • ডাউনলোড
    • ই-সংকলন
      • ফিরে দেখা একাত্তর
      • প্রিয় কবিতা
    • সফটওয়্যার
      • ট্রু-ক্রিপ্ট
      • সেভেন জিপ
    • গুগল কোড
  • ভিডিও
    • রাজনৈতিক
    • অন্যান্য
BANGLADESH
internet লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর বুধবার ::
● গত ১২ সেপ্টেম্বর তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত 'অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা' নিয়ে মতামত দানের জন্য নির্ধারিত ১০ দিনের মধ্যে সাতদিন পার হয়েছে। মূলধারার গণমাধ্যমের পাশাপাশি অনলাইন গণমাধ্যমগুলো ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তবে বিডিনিউজ চক্র নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর পরই যে কোনো মূল্যে এই নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় আগবাড়িয়ে তারা তথ্য সচিবের একটি সাক্ষাৎকারও প্রকাশ করেছে। ব্লগারদের বিভ্রান্ত করার জন্য ওই চক্রটির এ হল ভিন্ন কৌশল - বলছেন আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট অনেকেই। এর বাইরেও বিডিনিউজ ব্লগে কর্তৃপক্ষীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নীতিমালার পক্ষে সাফাই গাওয়া হচ্ছে।
● অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা নিয়ে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল উন্মোচনডটকম। রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের প্রগতি মিলনায়তনে বিকেল চারটায় এ বৈঠক শুরু হবে। বৈঠকে আগ্রহী যে কেউ অংশ নিতে পারবেন। এ বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করুন: [সালমান তারেক শাকিল, ০১১-৯৮-৩৬৪৪৯২]।
● ব্লগারদের একাংশের উদ্যোগে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ছয়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মাঠে একটি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে যোগাযোগ : ০১৭১৪৫৫১৯৩৭ ও ০১৬১১৮২৪৭৪২।
● ইতিমধ্যে ফেসবুকে তৈরি হয়েছে দুটি গ্রুপ - অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১২ : আপনার মত কী? এবং অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা- আন্দোলন।
--------------------------------


কখনোই যা ঘটবে না এমন চিন্তা করে একবার ফেসবুক নিয়ে খানিকটা রসিকতা করেছিলাম। কী পোড়া কপাল! একটু ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ঠিক সেই ফেসবুক-কাণ্ডই বাস্তবে রূপ দিল খোদ বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়।
না ছিল কারো দাবি, না ছিল কারো আবেদন কিংবা অনুরোধ - দিনের পর দিন প্রায় ঘুমিয়ে কাটানো অকর্মণ্য তথ্য মন্ত্রণালয় দিনকয়েক আগে হঠাৎই উদ্যোগী হয়ে উঠল অনলাইন গণমাধ্যমের পরিচালনা নীতিমালা তৈরি নিয়ে। গত ১২ সেপ্টেম্বর জনাকয়েককে ডেকে রীতিমতো বৈঠকে বসলেন তথ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন। কাউকে কাউকে খসড়ার অনুলিপি দিয়ে ১০ দিনের মধ্যে মতামত দিতে বলা হয়েছে। কারণ আগামী মাসেই চূড়ান্ত করা হবে নীতিমালা। সেই নীতিমালার খসড়া ইতিমধ্যে নানা মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যারাই সেটি দেখছেন, তারাই একবাক্যে বলছেন অনলাইনের জন্য এর চেয়ে হাস্যকর নীতিমালা আর কিছুই হতে পারে না। এর আগে সরকারের প্রিয় শব্দাবলী ব্যবহার করে এর আগে ঠিক একইভাবে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার একটি খসড়া তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গণমাধ্যম কর্মীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে সেই নীতিমালা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। খোদ তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও বলেছিলেন, ‘গণমাধ্যমের জন্য হুমকি হবে, এমন কোনো নীতিমালা চাই না।’ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে বলে মুখে ফেনা তুলছে, অথচ তারাই ডিজিটাল মাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার আয়োজন করছে - এর চেয়ে বড়ো পরিহাস আর কী হতে পারে! পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশেই অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য এইরকম আজগুবি নীতিমালা নেই।

অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা : হাইলাইটস
এই নীতিমালা “অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনা নীতিমালা ২০১২” নামে অভিহিত হবে।
● প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী (অফিস অবকাঠামো, মোট জনবল ও নির্ধারিত ব্যাংক ব্যালেন্স, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, সাংবাদিকতায় অভিজ্ঞতার সনদপত্র)সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
● অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপনের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক এবং কোম্পানীকে অবশ্যই বাংলাদেশী কোম্পানী হতে হবে।
● এই নীতিমালার অধীনে প্রদেয় লাইসেন্স ব্যতিরেকে কোন প্রতিষ্ঠান অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা কিংবা পরিচালনা করতে পারবে না;
● আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে আবেদনের সাথে ফেরতযোগ্য আর্নেস্টমানি বাবদ সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবরে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকার ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার প্রদান করতে হবে;
● সরকার কর্তৃক নির্বাচিত আবেদনকারীদের অনুকূলে লাইসেন্স প্রদানের পর বিটিআরসির নিকট থেকে অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে:
● লাইসেন্স গ্রহণকালে আবেদনকারী এককালীন ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কোডে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা প্রদান করে মূল কপি মন্ত্রণালয়ে দাখিল করবে।
● প্রতি বছরে সংশ্লিষ্ট খাতে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা ফি প্রদান করে লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। সরকার প্রয়োজনে লাইসেন্স ফি পুন:নির্ধারণ করতে পারবে;
● লাইসেন্স-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৩০ (ত্রিশ) দিন পূর্বে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে এবং বিশেষ কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নবায়ন করতে ব্যর্থ হলে ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা সারচার্জ জমা দিয়ে সর্বোচ্চ ০২ মাসের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে;
● লাইসেন্স গ্রহণকালে অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পূর্বে প্রদত্ত আর্নেস্টমানি বাবদ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা পরবর্তীতে জামানত হিসেবে গণ্য হবে;
● অনলাইন পত্রিকার ক্ষেত্রে পত্রিকার প্রতিটি কপিতে প্রকাশক ও সম্পাদকের নাম ঠিকানা অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে;
● অনলাইন পত্রিকার ক্ষেত্রে পরিচালনাকারীর ন্যূনতম ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স থাকতে হবে;
● সকল অনলাইন গণমাধ্যম বাংলাদেশে স্থাপিত সার্ভারে হোস্টিং করতে হবে। ডিএন এস আই (ডোমেইন নেইম সার্ভার ইন্টারনেট প্রটোকল) সম্পর্কে তথ্য মন্ত্রণালয় অবহিত থাকতে হবে।
● অনলাইন গণমাধ্যমের অন্য কোন দেশি বা বিদেশী গণমাধ্যম লিংক করা যাবে না।
● সম্প্রচারিত বিষয়সমূহের রেকর্ড (কনটেন্ট) ৯০ (নব্বই) দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে;
● বিজ্ঞাপন প্রচার সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানসহ প্রতিদিনের মোট প্রচার সময়ের ২০% এর বেশী হবে না।
● অনলাইন গণমাধ্যম দেশী-বিদেশী ধারণকৃত অনুষ্ঠান প্রচার করতে পারবে। তবে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সেন্সর নীতিমালা সম্পূর্ণভাবে অনুসৃত হবে। কোন অবস্থাতেই বিদেশী অনলাইন গণমাধ্যম সংবাদ, সংবাদ পর্যালোচনা, টক-শো; আলোচনা, সম্পাদকীয় এবং সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়ে অনুষ্ঠান ও মন্তব্য সরাসরি সম্প্রচার বা ধারণকৃত বা যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না।
● মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণ, একযোগে বিনামূল্যে সম্প্রচার করতে হবে। সরকার ঘোষিত বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ দিবসের সংবাদ/অনুষ্ঠানাদি যথাযথ গুরুত্ব সহকারে প্রচার করতে হবে। দেশের জরুরি জাতীয় প্রয়োজনে বা জনস্বার্থে প্রচারের জন্য সরকার যখন যে রকম নির্দেশ প্রদান করবে, তা যথাযথভাবে পালনপূর্বক প্রচার করতে হবে।
● সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারের নীতিমালা প্রতিফলনসহ বিনামূল্যে সরকারি প্রেস নোট, বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
● নিম্নলিখিত সংবাদ/অনুষ্ঠানাদি সম্প্রচার করা যাবে না:
(ট) বন্ধুপ্রতিম দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে ক্ষতিকর কিছু রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;
● বার্ষিক ফি: লাইসেন্স প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনলাইন প্রচারিত বিজ্ঞাপন বাবদ প্রাপ্ত মোট অর্থের শতকরা ২ ভাগ সরকারি কোষাগারে সংশ্লিষ্ট খাতে চালানের মাধ্যমে প্রতি অর্থ বছর শেষ হওয়ার ৪ (চার) মাসের মধ্যে জমা প্রদান করতে হবে।
● বর্তমানে বিদ্যমান অনলাইন গণমাধ্যমের কোন টেলিভিশন, বেতার এবং সংবাদ পত্রকে এই নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর অনধিক ১২০ (একশত বিশ) দিনের মধ্যে এই নীতিমালার আওতায় লাইসেন্স করতে হবে।
● নীতিমালার খসড়ার পুরোটা পাবেন এখানে।

নীতিমালা, নাকি চাঁদাবাজির ডিজিটাল স্টাইল?
অনলাইন গণমাধ্যম ব্যাপারটা যে আসলে কী, সে সম্পর্কেই মাথামোটা আমলাদের কোনো ধারণাই নেই। এই অজ্ঞতা ঢাকতে তারা কমিউনিটি রেডিও সংক্রান্ত নীতিমালার প্রায় পুরোটাই কপি করে অনলাইন গণমাধ্যমের নীতিমালা তৈরি করেছেন। প্রস্তাবিত নীতিমালার এই একটা লাইনেই তাদের মূর্খতা প্রায় পুরোটাই বেরিয়ে পড়েছে - ‌'১১. (ঘ) অনলাইন পত্রিকার ক্ষেত্রে পত্রিকার প্রতিটি কপিতে প্রকাশক ও সম্পাদকের নাম ঠিকানা অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে!' এ যেন মাংস রন্ধনের প্রণালী অনুসরণ করে শরবত বানানোর চেষ্টা। এতোটা মূর্খ কী করে হন একজন সচিব কিংবা তার অধস্থনরা? সরকারিভাবে যে নীতিমালার ভিত্তিতে ঠিকাদার কিংবা আসবাবপত্র সরবরাহকারী নিয়োগ করা হয়, অনলাইন গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও তথ্য মন্ত্রণালয় প্রায় একই নীতিমালা তৈরি করেছে।
লাইসেন্স পাওয়ার জন্য এককালীন পাঁচ লাখ টাকা তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে হাস্যকর সেই নীতিমালায়। প্রতিবছর নবায়ন ফি দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু কেন দিতে হবে - তার কোনো যুক্তি নেই। সরকার কি অনলাইন গণমাধ্যমগুলোতে বিজ্ঞাপন হিসেবে টেন্ডারগুলো দেবে, নাকি মাসিক ভর্তুকি দেবে? নাকি ডোমেইন-হোস্টিংয়ের মাসিক ফি বহন করবে? কোনোটিই যেখানে নয়, সেখানে ঠিক কী কারণে তথ্য মন্ত্রণালয়কে এককালীন পাঁচ লাখ আর প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে? নাকি সরকারি চাঁদাবাজির এ কোনো ডিজিটাল স্টাইল?

মূর্খতার ধারাপাত
অনলাইন গণমাধ্যম এখন পর্যন্ত 'ঘরের খেয়ে পরের মোষ চড়ানো' ছাড়া আর কিছুই নয়। আগামী অন্তত ২০ বছরে এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটার সম্ভাবনাও কম। খোদ খালিদীর বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরই কর্মরত সাংবাদিকদের বেতন-ভাতাই দিতে পারে না। কাকতালীয়ভাবে আজই জাতীয় সংসদে অভিযোগ করা হয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানটি এসএমএসের মাধ্যমে প্রতারণা করছে। ওদিকে বাংলানিউজকে বিজ্ঞাপন সংগ্রহের জন্য করতে হচ্ছে রীতিমতো 'চাঁদাবাজি' ও ব্ল্যাকমেইলিং। টিকে থাকার এই যখন অবস্থা, সেখানে বিকাশমান অনলাইন গণমাধ্যমের ওপর হয়রানিমূলক নিয়ন্ত্রণ আরোপের একটিই কারণ থাকতে পারে, সেটি হচ্ছে মুক্ত গণমাধ্যমকে সরকারি শেকল পরিয়ে 'পোষা' বানানো। আমার মাথায় আসে না, দেশের বাইরে যাদের ডোমেইন-হোস্টিং, তাদের ক্ষেত্রে সরকারের কী করার আছে, আঙ্গুল চোষা ছাড়া? কেউ যদি চান, দেশের বাইরে থেকে তিনি একটি অনলাইন পত্রিকা চালাবেন, সেক্ষেত্রে সরকারের করার কী আছে? কোনো অনলাইন পত্রিকা যদি লন্ডন কি নিউইয়র্ক, কোপেনহেগেন কি টরন্টো থেকে কথিত লাইসেন্স ছাড়াই প্রকাশিত হয় - সেটি নিয়ে সরকারের করণীয় কিছু আছে কি? বছরদুয়েক আগে সরকার দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের হাস্যকর অভিযোগে পুরো ফেসবুকই ব্লক করে হাস্যরসের পাত্র হয়েছিল। কদিন পর আবার খুলে দিতেও বাধ্য হয়েছে। খুলতেই হবে। কারণ ফেসবুককে নিয়ে সরকারের কিছুই করার নেই। ফেসবুক নিজেই আরেক 'সরকার'!
কাকতালীয়ভাবে ঠিক আজকেই (১৭ সেপ্টেম্বর) আপত্তিকর ছবির ট্রেলার প্রচারের অভিযোগে পুরো ইউটিউবই বন্ধ করে দেওয়ার কিছু সময় পর আবার খুলেও দেওয়া হয়।
এমনকি মুদ্রিত সংবাদপত্রের নীতিমালাও অনলাইন পত্রিকার সঙ্গে মিলবে না। দুটোর চরিত্র অনেকটাই আলাদা। প্রকৃতপক্ষে গুরুতর সাইবার অপরাধ দমন ছাড়া ইন্টারনেটে সরকারের করণীয় কিংবা খবরদারি করার কিছুই নেই। তথ্যসচিব কি জানেন ডিক্লারেশন নিয়ে, লাইসেন্স ফি দিয়ে, সরকার মহাশয়ের সহৃদয় অনুমতি নিয়ে দুনিয়ার কোথায়-কবে কোন্ অনলাইন পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়েছে?


কালো নীতিমালার নেপথ্যে কারা?
একাধিক উৎস থেকে জেনেছি, অনলাইন গণমাধ্যম নিয়ে হাস্যকর এই নীতিমালা তৈরির পেছনে মূল তদবির করেছেন দুজন ব্যক্তি - বেবী মওদুদ এবং তৌফিক ইমরোজ খালিদী। বেবী মওদুদ খোদ প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী, সংরক্ষিত কোটায় নির্বাচিত সাংসদ এবং অনলাইন পত্রিকা বিডিনিউজের সোশ্যাল এফেয়ার্স এডিটর। আর দ্বিতীয়জন সেই অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী। গত ১২ সেপ্টেম্বর তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত বৈঠকে অংশগ্রহণকারী একাধিক ব্যক্তি এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, কেবল নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রভাব অক্ষুণ্ন রাখতে তারা অনলাইন গণমাধ্যমের রাশ টেনে ধরতে চাইছেন। মন্ত্রণালয়ের অনাগ্রহ সত্ত্বেও তারা নিয়ন্ত্রণমূলক নীতিমালা তৈরির জন্য বারবার তদবির এবং ক্ষেত্রবিশেষে চাপ প্রয়োগ করেছেন। অনেকেরই হয়তো মনে থাকবে, বিভিন্ন সময়ে এই দুজন ব্যক্তি ব্লগসহ অনলাইন গণমাধ্যম নিয়ে বিষোদগারে মেতেছেন।
গত ডিসেম্বরে এক অনুষ্ঠানে তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, "যে কেউ একটি সংবাদ মাধ্যমের (টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদপত্র ইত্যাদি) মালিক হয়ে যাবে, এটা হতে পারে না। সেই সঙ্গে মোবাইল ফোনে যে কেউ সংবাদ সেবা দেবে, এটাও হতে পারে না। কোনো নিয়ামকের ভিত্তিতে এটা করতে হবে। এ জন্য একটি নীতিমালা প্রয়োজন।" “১০০টি টেলিভিশন চ্যানেলও হতে পারে, তবে সবাইকেই যে খবর প্রচার করতে হবে, তার কোনো মানে নেই। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারকদেরই এ বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে,” বলেন তিনি। মুক্ত মত প্রকাশের প্রসঙ্গ ধরে ব্লগিংয়ের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি সবিনয়ে বলতে চাই, মত প্রকাশের নামে যা ইচ্ছা তাই প্রকাশের আমি বিরোধিতা করি। মত প্রকাশ করতে হবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে। আমি এখানে বলতে চাই, পুরোপুরি স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের যে কথাটি বিভিন্ন ব্লগাররা বলতে চান, তার সঙ্গে আমার ভিন্নমত রয়েছে। মত প্রকাশের সম্পূর্ণ স্বাধীনতার স্বপ্ন একটি বিভ্রম এবং কোনো সমাজেই যে এর নজির নেই, অনেকের এই ভাবনার সঙ্গে আমিও একমত পোষণ করি।"
গত মার্চে জাতীয় সংসদেও ব্লগসহ সোশ্যাল মিডিয়াগুলো নিয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাংসদ ও বিডিনিউজের সোশ্যাল স্যোশাল অ্যাফেয়ার্স এডিটর বেবী মওদুদ বলেন, 'ফেইসবুকসহ নানা ব্লগে গুজব ছাড়াও মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রচারণা চলে।'

পরবর্তী টার্গেট ব্লগ?
আগে থেকেই ভয় ছিল, রেডিও-টিভির পর সরকার খুব দ্রুতই ইন্টারনেটের দিকে পা বাড়াবে। অনলাইন গণমাধ্যম নিয়ে সরকারের অহেতুক উদ্যোগ সেটিই স্পষ্ট করে তুলেছে। এখানে শঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে যে, কালো এই নীতিমালা যদি কোনোভাবে বাস্তবায়িত হয়ে যায়, তাহলে পরবর্তী টার্গেট অবধারিতভাবেই ব্লগ ও ব্লগাররা। এখনই অনেকে বলছেন যে, অনলাইন গণমাধ্যমের আওতায় ব্লগগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা কেবলই সময়ের ব্যাপার। এমনকি প্রস্তাবিত এই নীতিমালার আওতায় ব্লগে স্বাধীন মতামত প্রকাশের দায়ে অভিযুক্ত হতে পারেন যেকোনো ব্যক্তিই। মাথামোটা আমলারা যদি ইচ্ছে করে, তাহলে ব্লগস্পট কিংবা ওয়ার্ডপ্রেসে থাকা আপনার ব্যক্তিগত ব্লগটিকেও এই নীতিমালার আওতায় নিয়ে আসতে পারে। যদিও ঠিক আজকেই তথ্য সচিব হেদায়তুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, প্রস্তাবিত ইন্টারনেট সংবাদ মাধ্যম নীতিমালার আওতায় সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্লগ নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। কিন্তু একা তার কথায় আশ্বস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সাম্প্রতিক অনেক ইস্যুতেই ব্লগারদের প্রতিক্রিয়া সরকারের শীর্ষমহলে উষ্মা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে সরকারের উচ্চ পর্যায়েও ব্লগকে ভালো চোখে দেখা হয় না। সরকার চাইবেই ব্লগের পায়ে শেকল পরানোর জন্য।

ইন্টারনেটকে শেকল পরানো যাবে না
সবমিলিয়ে মুক্ত গণমাধ্যমকে শেকল পরানোর এই নীতিমালা যদি কোনোভাবে বাস্তবায়িত হয়ে যায়, তাহলে প্রথমত মুক্তমত প্রকাশের স্বাধীনতা বিঘ্নিত হবে। সরকারের সমালোচনা যারা করবেন, নানা কৌশলে তাদের হয়রানি করার একটি পথ তৈরি হবে। এই এখনো মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা আছে একটিই - ইন্টারনেট। একে শেকল পরানোর যে কোনো অপচেষ্টা রুখতে হবে। এরপরও যদি হয়েই যায়, তথ্য মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় স্বার্থান্বেষী মহলের এই অপচেষ্টা 'ডিজিটাল বাংলাদেশের' সবচেয়ে কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

সংযুক্তি
● নীতিমালার খসড়া : প্রতিষ্ঠানের জন্য লাইসেন্স নিতে হবে
● অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক
● অনলাইন সংবাদমাধ্যমে নীতিমালা আসছে
● অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা অক্টোবরে
● অনলাইন সংবাদপত্র : নীতিমালার প্রয়োজন নেই
● ‘অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা’ অগণতান্ত্রিক
● ‘ভয়তু’ অনলাইন পত্রিকা
● নীতিমালায় হ্যাঁ, আইনি ভীতিমালায় না
● ডিজিটাল বাংলাদেশবিরোধী নীতিমালা কার স্বার্থে?
● সম্পাদকীয় : অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ডিজিটাল সংস্কৃতির পরিপন্থি
● ডিজিটাল সাংবাদিকতা আর পাঁচলক্ষ টাকার লাইসেন্স
● এই উদ্যোগ সফল হওয়ার সুযোগ নেই
● নীতিমালার উদ্দেশ্য সোশ্যাল মিডিয়া-ব্লগ নিয়ন্ত্রণ নয় : তথ্যসচিব
● অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা নয়

প্রথম প্রকাশ : সামহোয়্যারইন ব্লগ 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
তথ্য মন্ত্রণালয়

বিশ্বায়নের এই যুগে অনলাইনভিত্তিক সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও বেতার শক্তিশালী ও কার্যকর প্রচার মাধ্যম। প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়নের ফলে মানুষের বাক ও ভাব প্রকাশের এই মাধ্যম অতি দ্রুততার সাথে বিশ্বব্যাপী প্রসার লাভ করেছে। প্রচলিত সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও বেতারের বিভিন্ন চ্যানেলের পাশাপাশি ওয়েব বা ইন্টারনেটের মাধ্যমেও অনলাইন সংবাদ ও অনুষ্ঠানের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা সম্প্রচার, প্রকাশনা, প্রদর্শন ও পরিচালনায় কোন বিধি বিধান বিদ্যমান নাই এবং এ সম্পর্কিত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরী।

১। (ক) এই নীতিমালা “অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনা নীতিমালা ২০১২” নামে অভিহিত হবে।

(খ) জারির তারিখ থেকে এই নীতিমালা কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

২। অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনার লক্ষ্যে আবেদন আহ্বান:
(ক) শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা ও বিনোদনের পরিসর বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিকাশ ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার এবং বিশ্বব্যাপী এ সকল বিষয়াদি সম্প্রচারের অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপনের জন্য বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েব সাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে তথ্য মন্ত্রণঅলয় দরখাস্ত আহ্বান করবে।

(খ) প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী (অফিস অবকাঠামো, মোট জনবল ও নির্ধারিত ব্যাংক ব্যালেন্স, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, সাংবাদিকতায় অভিজ্ঞতার সনদপত্র)সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

৩। মালিকানা সংক্রান্ত নীতিমালা:
(ক) অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপনের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক এবং কোম্পানীকে অবশ্যই বাংলাদেশী কোম্পানী হতে হবে।
(খ) অনাইন গণমাধ্যমের মালিকগণ বেসরকারী মালিকানাধীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মত প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারকে আয়কর পরিশোধ করবেন।

৪। লাইসেন্স আবেদনের নিয়মাবলী:
(ক) এই নীতিমালার অধীনে প্রদেয় লাইসেন্স ব্যতিরেকে কোন প্রতিষ্ঠান অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা কিংবা পরিচালনা করতে পারবে না;
(খ) আগ্রহী প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানীকে অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে;

(গ) সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকার অফেরতযোগ্য ব্যাংক ড্রাফট/পে অর্ডার জমা দিয়ে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে;

(ঘ) আবেদনকারী কোম্পানীকে অবশ্যই কোম্পানী আইন ১৯৯৪ এর আওতায় নিবন্ধিত হতে হবে;

(ঙ) আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে আবেদনের সাথে ফেরতযোগ্য আর্নেস্টমানি বাবদ সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবরে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকার ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার প্রদান করতে হবে;

(চ) আবেদনে অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপনের উদ্দেশ্য সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে;

(ছ) কোন অনলাইন গণমাধ্যমের মালিক/পরিচালক সরকারের অনুমতিক্রমে একাধিক অনলাইন গণমাধ্যমের মালিক/পরিচালক হতে পারবেন;
(জ) সরকারি/বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ/বিল/কর খেলাপী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং ফৌজদারী অপরাধ বা নৈতিক স্খলনজনিত কারণে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি বা কোম্পানি আবেদন করতে পারবে না;
(ঝ) লাইসেন্স প্রদানের পূর্বে সরকার কর্তৃক বিবেচিত আবেদনসমূহ নিরাপত্তা ছাত্রপত্রের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে। অনুকূল নিরাপত্তা ছাড়পত্র না পাওয়া গেলে লাইসেন্স প্রদানের জন্য কোন আবেদন যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না;

(ঞ) সরকার কর্তৃক নির্বাচিত আবেদনকারীদের অনুকূলে লাইসেন্স প্রদানের পর বিটিআরসির নিকট থেকে অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে:

৫। লাইসেন্স ফি:
লাইসেন্স গ্রহণকালে আবেদনকারী এককালীন ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কোডে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা প্রদান করে মূল কপি মন্ত্রণালয়ে দাখিল করবে।

৬। লাইসেন্স নবায়ন:
(ক) প্রতি বছরে সংশ্লিষ্ট খাতে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা ফি প্রদান করে লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। সরকার প্রয়োজনে লাইসেন্স ফি পুন:নির্ধারণ করতে পারবে;

(খ) লাইসেন্স-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৩০ (ত্রিশ) দিন পূর্বে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে এবং বিশেষ কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নবায়ন করতে ব্যর্থ হলে ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা সারচার্জ জমা দিয়ে সর্বোচ্চ ০২ মাসের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে;

৭। জামানত:
লাইসেন্স গ্রহণকালে অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পূর্বে প্রদত্ত আর্নেস্টমানি বাবদ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা পরবর্তীতে জামানত হিসেবে গণ্য হবে;

৮। লাইসেন্স হস্তান্তরের বিধি নিষেধ:
সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন লাইসেন্স বা এর উপর অর্জিত স্বত্ব বা শেয়ার সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে হস্তান্তর করা যাবে না। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি সম্পাদন করে সরকারি কোষাগারে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা ফি প্রদান পূর্বক লাইসেন্স বা অর্জিত স্বত্ব বা শেয়ার হস্তান্তর করা যাবে।

৯। লাইসেন্স স্থগিতকরণ ও বাতিলকরণ:
সরকার নিম্নোক্ত এক বা একাধিক কারণে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে:

(ক) লাইসেন্স/চুক্তি সংক্রান্ত সরকারের কোন পাওনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে;
(খ) বিটিআরসি প্রদত্ত কোন শর্ত ভঙ্গ করলে;
(গ) এই নীতিমালার কোন শর্ত/শর্তাবলি ভঙ্গ করলে; এবং
(ঘ) সরকারের অন্য কোন নির্দেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে।

১০। অনলাইন সংস্করণ পরিচালনা:

সরকার কর্তৃক অনুমোদনকৃত বর্তমানে বিদ্যমান টেলিভিশন ও বেতার চ্যানেলসমূহ লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত রেখে অনলাইন সংস্কারণ পরিচালনা করতে পারবে। বিদ্যমান সংবাদপত্রসমূহ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত রেখে অনলাইন সংস্করণ পরিচালনা করতে পারবে।

১১। পেশাগত ও কারিগরি মান:

(ক) আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে পেশাগত ও কারিগরি মানসম্মত অনুষ্ঠান পরিচালনায় সক্ষম হতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে যাতে অনুষ্ঠানের মান সমুন্নত থাকে সেজন্য একাধিক প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি মালিকানায় অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপন ও পরিচালনার অনুমতি দেয়া যেতে পারে;

(খ) শর্ত থাকে যে অনলাইন গণমাধ্যম সম্প্রচারের জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে International Telecommunication Union (ITU) ও বিটিআরসি আরোপিত সকল টেকনিক্যাল স্টান্ডার্ড, শর্ত ও নিয়ন্ত্রণমূলক নীতিমালা মেনে চলতে হবে;

(গ) ব্রডকাস্টিং নীতিমালা, শর্তসমূহ, ফ্রিকোয়েন্সি, আন্তর্জাতিক রীতিনীতিসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের বা সরকার কর্তৃক দায়িত্ব প্রাপ্ত সংস্থা বা বোর্ড-এর প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে বা সম্মতিক্রমে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন/বিটিআরসি কর্তৃক গৃহীত বা স্বীকৃত সিদ্ধান্ত অবশ্যই নে চলতে হবে;

(ঘ) অনলাইন পত্রিকার ক্ষেত্রে পত্রিকার প্রতিটি কপিতে প্রকাশক ও সম্পাদকের নাম ঠিকানা অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে;

(ঙ) অনলাইন পত্রিকার ক্ষেত্রে পরিচালনাকারীর ন্যূনতম ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স থাকতে হবে;

(চ) অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনাকারীর (পত্রিকার ক্ষেত্রে সম্পাদকের) শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক/সমমানের থঅকতে হবে এবং সাংবাদিকতায় প্রথম শ্রেণীর পত্রিকায় (সার্কুলেশন ভিত্তিক) ০২ (দুই) বছর কাজের অভিজ্ঞতা ও যথাযথ প্রশিক্ষণ থাকতে হবে;

(ছ) উক্ত রীতিনীতি, নিয়ম-পদ্ধতি এবং শর্তসমূ এর প্রয়োগ বা প্রতিপালনের বিষয় সরকারের আদেশ-নির্দেশ অবশ্যই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে;

(জ) যে কোন অনলাইন গণমাধ্যম টেক্সট, অডিও ও ভিডিও content অথবা একাধিক প্রকার content সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট হোস্টিং করে তা পরিচালনা করতে হবে।

(ঝ) সকল অনলাইন গণমাধ্যম বাংলাদেশে স্থাপিত সার্ভারে হোস্টিং করতে হবে। ডিএন এস আই (ডোমেইন নেইম সার্ভার ইন্টারনেট প্রটোকল) সম্পর্কে তথ্য মন্ত্রণালয় অবহিত থাকতে হবে।

(ঞ) অনলাইন গণমাধ্যমের অন্য কোন দেশি বা বিদেশী গণমাধ্যম লিংক করা যাবে না।

১২। সম্প্রচার সংক্রান্ত শর্তাবলি:
(ক) সম্প্রচারিত বিষয়সমূহের রেকর্ড (কনটেন্ট) ৯০ (নব্বই) দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে;

(খ) তথ্য মন্ত্রণালয় বা সরকারের কোন এজেন্সি কর্তৃক চাহিত বা অধিযাচিত তথ্যাবলি লাইসেন্স গ্রহীতাকে নিয়ে খরচে প্রচারিত অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু (কনটেন্ট) অবশ্যই সরবরা করতে হবে এবং মনিটর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

(গ) সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞাপন নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে;

(ঘ) বেসরকারি মালিকানাধীন সংস্থা নিজস্ব ব্যবস্থাধীন প্রচার সময় (time slot) বিক্রয় করে বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। তবে অনুমতিপ্রাপ্ত সংস্থা অন্য কোন সংস্থার নিকট প্রচার সময় বিক্রয় করলে অনুমতিপ্রাপ্ত সংস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সমগ্র নীতিমালা অন্য সংস্থার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। তবে কোন বিদেশী সম্প্রচার সংস্থার নিকট সরাসরি বা তাদের দেশী/বিদেশী এজেন্সীর মাধ্যমে প্রচার সময় (time slot) বিক্রয় করা যাবে না।

(ঙ) বিজ্ঞাপন প্রচার সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানসহ প্রতিদিনের মোট প্রচার সময়ের ২০% এর বেশী হবে না।

১৩। সংবাদ/অনুষ্ঠানাদি সম্প্রচারের শর্তাবলি:

(ক) অনলাইন গণমাধ্যম দেশী-বিদেশী ধারণকৃত অনুষ্ঠান প্রচার করতে পারবে। তবে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সেন্সর নীতিমালা সম্পূর্ণভাবে অনুসৃত হবে। কোন অবস্থাতেই বিদেশী অনলাইন গণমাধ্যম সংবাদ, সংবাদ পর্যালোচনা, টক-শো; আলোচনা, সম্পাদকীয় এবং সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়ে অনুষ্ঠান ও মন্তব্য সরাসরি সম্প্রচার বা ধারণকৃত বা যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না।

(খ) সংবাদ প্রচারের জন্য অনলাইন গণমাধ্যম নিজস্ব প্রক্রিয়ায় স্ক্রিপ্ট প্রণয়ন করতে পারবে। স্থানীয় সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারের নীতিমালার প্রতিফলন থাকবে।

(গ) মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণ, একযোগে বিনামূল্যে সম্প্রচার করতে হবে। সরকার ঘোষিত বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ দিবসের সংবাদ/অনুষ্ঠানাদি যথাযথ গুরুত্ব সহকারে প্রচার করতে হবে। দেশের জরুরি জাতীয় প্রয়োজনে বা জনস্বার্থে প্রচারের জন্য সরকার যখন যে রকম নির্দেশ প্রদান করবে, তা যথাযথভাবে পালনপূর্বক প্রচার করতে হবে।

(ঘ) সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারের নীতিমালা প্রতিফলনসহ বিনামূল্যে সরকারি প্রেস নোট, বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

১৪। নিম্নলিখিত সংবাদ/অনুষ্ঠানাদি সম্প্রচার করা যাবে না:

(ক) দেশের অখণ্ডতা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, ভাষা-সংস্কৃতি, জনস্বাস্থ্য হানিকর এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের পরিপন্থী কোন সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(খ) রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং রাষ্ট্রীয় নীতির পরিপন্থী কোন সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(গ) হিংসাত্মক, সন্ত্রাস, বিদ্বেষ ও অপরাধ সম্বলিত কোন সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ঘ) দেশের কোন সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন কোন অনুষ্ঠান, যা কোন ধর্ম, জাতি গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় সম্পর্কে মানহানিকর মন্তব্য প্রচার করে এবং যা সাম্প্রদায়িকতাকে উৎসাহিত করে, নারী-পুরুষ বৈষম্যকরণ ও শারীরিক অক্ষমতার ভিত্তিতে ঘৃণা বা মানহানি ঘটাতে পারে এমন সংবাদ বা অনুষ্ঠান;

(ঙ) অশালীন বা আক্রমাণাত্মক কোন রসিকতা/গান/বিজ্ঞাপন/সংবাদ বা সাবটাইটেল সম্বলিত কোন অনুষ্ঠান, যা জনগণের নৈতিকতাকে কলুষিত, দুর্নীতিগ্রস্ত বা আহত করতে পারে এমন কো অনুষ্ঠান;

(চ) মানহানিকর উপাদান বা জ্ঞাতসারে মিথ্যা বিষয়াদি রয়েছে এমন সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ছ) আদালত অবমাননার কোনো বিষয় রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(জ) বিচার বিভাগ/বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী/বেসামরিক প্রশাসনের বিরুদ্ধে কুৎসামূলক উপাদান রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ঝ) মৌলিক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও সদাচরণ পরিপন্থী উপাদান রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ঞ) বাংলাদেশ দণ্ডবিধির অধীনে আমলযোগ্য কোনো অপরাধে উৎসাহ প্রদান, সাহায্য বা সহায়তা করে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ট) বন্ধুপ্রতিম দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে ক্ষতিকর কিছু রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ঠ) উচ্ছৃঙ্খলতা, ধ্বংসযজ্ঞ, শিশু-কিশোর অপরাধ বা অপসংস্কৃতিকে আকর্ষনীয় ও উৎসাহিত করতে পারে বা শিশুদের বুদ্ধিমত্তা বিকাশে ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন কোনো অনুষ্ঠান যাতে শিশুদের জন্য তৈরী অনুষ্ঠানগুলিতে আপত্তিকর ভাষঅ বা তাদের পিতা-মাতা বা মুরব্বীদের প্রতি অশ্রদ্ধাজনক কিছু রয়েছে এমন সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ড) তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ঢ) অন্য কোন আইন দ্বারা বারিত বা অসেন্সরকৃত কোন অশ্লীল অনুষ্ঠান এবং

(ণ) পরবার ও বৈবাহিক সম্প্রীতির পবিত্রতার বিরুদ্ধে কোনো কিছু রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান।

(ত) অনলাইন গণমাধ্যমে বাংলাভাষার, বিকৃতি ও শিক্ষা সংস্কৃতির পরিপন্থী অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না।

১৫। সম্প্রচার কার্যক্রম শুরুর সময়সীমা:
লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সপ্রাপ্তির ১ (এক) বছরের মধ্যে সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। অন্যথায় লাইসেন্স বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে শর্ত থাকে যে, সরকার যুক্তিসঙ্গত মনে করলে এ সময়সীমা বৃদ্ধি করতে পারবে।

১৬।বার্ষিক ফি:
লাইসেন্স প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনলাইন প্রচারিত বিজ্ঞাপন বাবদ প্রাপ্ত মোট অর্থের শতকরা ২ ভাগ সরকারি কোষাগারে সংশ্লিষ্ট খাতে চালানের মাধ্যমে প্রতি অর্থ বছর শেষ হওয়ার ৪ (চার) মাসের মধ্যে জমা প্রদান করতে হবে।

১৭। জাতীয় রেগুলেটরি কমিটি:
(ক) জাতীয় রেগুলটরি কমিটি (National Regulatory Committee) গঠন:
অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপন ও পরিচালনায় নিম্নলিখিত কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে একটি ‘জাতীয় রেগুলেটরি কমিটি থাকবে। এ কমিটির গঠন প্রকৃতি নিম্নরুপ হবে:

(১) সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা। -সভাপতি
(২) যুগ্ম-সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।-সদস্য
(৩) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বেতার, শাহবাগ, ঢাকা। – সদস্য
(৪) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশন, রামপুরা ঢাকা।- সদস্য
(৫) সরকার মনোনীত বেসরকারি বেতারের একজন প্রতিনিধি। – সদস্য
(৬) সরকার মনোনীত ০২ (২) জন বিশিষ্ট নাগরিক। – সদস্য
(৭) সরকার মনোনীত বেসরকারি বেতারের একজন প্রতিনিধি – সদস্য
(৮) সরকার মনোনীত বেসরকারি টেলিভিশনের একজন প্রতিনিধি। – সদস্য
(৯) সরকার মনোনীত বাসসের একজন প্রতিনিধি। – সদস্য
(১০) তথ্য অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি। -সদস্য
(১১) চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি। – সদস্য
(১২) বিটিআরসি’র একজন প্রতিনিধি (পরিচালক বা তদূর্ধ্ব পর্যায়ের) – সদস্য
(১৩) যুগ্ম-সচিব (সম্প্রচার), তথ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকা। – সদস্য-সচিব

(খ)। কমিটির কর্ম-পরিধি :

এই কমিটির কর্ম-পরিধি নিম্নরূপ হবে:
(ক) সম্প্রচার সংক্রান্ত আইন-কানুন ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করা এবং অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনায় সময়োপযোগী সংশোধনী সম্পর্কে পরার্শ প্রদান করা;

(খ) “মনিটরিং কমিটিক”র রিপোর্ট পর্যালোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা করা;

(গ) অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা লঙ্ঘিত হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

১৮। মনিটরিং কমিটি:
(ক) অনলাইন গণমাধ্যম মনিটরিং-এর লক্ষ্যে “মনিটরিং কমিটি” গঠন।

অনলাইন গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত সংবাদ/অনুষ্ঠান মনিটরিং-এর জন্য একটি “মনিটরিং কমিটি” থাকবে। এ কমিটির গঠন প্রকৃতি নিম্নরূপ হবে:

মনিটরিং কমিটি:
(১) যুগ্ম-সচিব (সম্প্রচার), ঢাকা -সভাপতি
(২) উপ-সচিব, (টিভি), তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা – সদস্য
(৩) উপ-সচিব (বেতার), তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা – সদস্য
(৪) উপ-সচিব (প্রেস), তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা – সদস্য
(৫) বিটিআরসি এর প্রতিনিধি – সদস্য
(৬) বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন প্রতিনিধি – সদস্য
(৭) বাংলাদেশ বেতারের একজন প্রতিনিধ – সদস্য
(৮) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার একজন প্রতিনিধি – সদস্য
(৯) সিনিয়র সহকারী সচিব (প্রেস/টিভি) – সদস্য সচিব
(১০) পিআইডি (সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা) – ২ জন
(১১) অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি – ৪ জন

(খ) কমিটির কার্যপরিধি:

(ক) অনলাইন গণমাধ্যমের সম্প্রচার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সরকারের নিকট প্রতিবেদন প্রদান;

(খ) অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপন সংক্রান্ত নীতিমালা এবং চুক্তিপত্রে বর্ণিত শর্তাদি যথাযথ প্রতিপালন হচ্ছে কিনা তা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন প্রদান;

(গ) সম্প্রচার কার্যক্রমে কোন অনিয়ম কিংবা কোন ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হলে এ ব্যাপারে সরকারের নিকট সুপারিশ প্রদান;

(ঘ) কমিটি কর্তৃক প্রতি মাসে একবার সভা আহ্বান করা এবং কর্যবিবরণী সরকারের নিকট যথাসময়ে প্রেরণ করা;

(ঙ) বিদ্যমান নীতিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধনী বিষয়ে সুপারিশ করা।


১৯। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ :

(ক) অনলাইন গণমাধ্যম বাতিল করার পূর্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হবে;

(খ) উপ-ধারা (ক) এর অধীন লাইসেন্সধারীর কোন বক্তব্য থাকলে তা বিবেচনা করে সরকার জরিমানা/জামানত বাজেয়াপ্তকরণ অথবা যথাযথ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যান্ত লাইসেন্স স্থগিত রাখার নির্দেশ দিতে পারবে এবং

(গ) কোন লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করার পর্যায়ে সরকার আশু ব্যবস্থা গ্রহণ সমীচীন বিবেচনা করলে সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারকেন্দ্রের প্রচার বন্ধ বা স্থগিত করার উদ্দেশ্যে উক্ত কেন্দ্রের যে কোন বা সকল যন্ত্রপাতি জব্দ করার আদেশ দিতে পারবে।

২০। হেফাজতকরণ:
বর্তমানে বিদ্যমান অনলাইন গণমাধ্যমের কোন টেলিভিশন, বেতার এবং সংবাদ পত্রকে এই নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর অনধিক ১২০ (একশত বিশ) দিনের মধ্যে এই নীতিমালার আওতায় লাইসেন্স করতে হবে।

প্রাসঙ্গিক
অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালার খসড়া : প্রতিষ্ঠানের জন্য লাইসেন্স নিতে হবে
‘অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা অক্টোবরে’

আমি এখনো নিশ্চিত নই। তবে ধরনধারণ, অস্বাভাবিক কিছু লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে, গুগল বাংলাদেশের ডোমেইন আবার হ্যাকারদের কবলে পড়েছে। তার চেয়েও বিপজ্জনক একটি কাণ্ড ঘটতে দেখছি এই মুহূর্তে।

এই মুহূর্তের বাস্তবতা হল
■ গুগল বাংলাদেশ খুলছে না।
■ টেকটিউনস ব্লগ বন্ধ।

যা সবচেয়ে অস্বাভাবিক
জিমেইল সিকিউর সার্ভারে (HTTPS) লগইন করি বরাবরই। কিন্তু আজই প্রথম দেখলাম যে, জিমেইলে লগইন করার পর সেটা গুগল ডট কম ডট বিডিতে (http:// Click This Link.) রিডাইরেক্ট হয়ে যাচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। (ছবিতে দেখুন) এই ধরনটা আমার কাছে বিপজ্জনক মনে হচ্ছে।

আবার ডিএনএস হ্যাক?
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি একদফা গুগল.বিডি ডোমেইন হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছিল। টেকটিউনসকে তো বড়োসড়ো ধকলই পোহাতে হয়েছিল। টাইগার মেইট নামে হ্যাকারদেরর একটি দল কাজটি করেছিল। তখন এটাকে ডিএনএস হ্যাক হিসেবে দাবি করা হয়েছিল ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে।

আমি বিটিসিএল ইন্টারনেট ব্যবহার করছি। অন্য ইন্টারনেট প্রভাইডারের কী অবস্থা, সেটা কেউ শেয়ার করলে বোঝা যেত আসলেই হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে, নাকি অন্য কোনো সমস্যা?


প্রথম প্রকাশ

গুগল আসলে একটি ক্যালকুলেটর। আপনি যতো যাই হিসাব করতে চান না কেন, সেটা যতো জটিল গাণিতিক সমীকরণই হোক না কেন, গুগলের ছোট্ট সার্চ বক্সটায় সেটা পারবেন। একইসঙ্গে সেটা আবার ভালো এক কনভার্টার, জটিল অভিধান, ফোনবুক, নির্ভরযোগ্য উত্তরদাতা- আরো কতো কী। কিছুটা গুগলসূত্রে আর বাকিটা ইন্টারনেট ঘেঁটে তারই কিছু খোঁজখবর থাকছে এখানে, যদিও ব্লগারদের অনেকেরই এসব বিষয়আশয় ভালোই জানা।

গুগল আসলে একটি ক্যালকুলেটর
গুগলের ক্যালকুলেটরটা যে কতোভাবে কতো কায়দায় ব্যবহার করা যায়, 'তার উদাহরণ পাবেন এখানে। ক্যালকুলেটর কখনো কখনো উত্তরদাতার ভূমিকাও পালন করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার ভৌতিক কাজকারবারও দেখায়। যেমন আপনি যদি গুগলের সার্চ বক্সে গিয়ে প্রশ্ন করেন- The answer to life, the universe, and everything is. গুগল সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর দেবে '42'. অথবা যদি লিখেন- once in a blue moon. গুগল কী উত্তর দেয় দেখুন! সার্চ বক্সে 'number of horns on a unicorn' লিখলেও গুগল রসিকতা করতে ছাড়বে না। গণিতে আবার গুগল বেশ পাকা। দেখুন কিছু উদাহরণ- e, pi, phi, G.

ভালো এক কনভার্টার
ভ্রমণে গিয়ে আপনি যখন ভেবে হয়রান, এক পাউন্ডে কতো ডলার চলছে বর্তমান বাজারে, গুগল তখন আপনার জন্য নির্ভরযোগ্য সমাধান। পাউন্ড থেকে ডলার, ইউরো থেকে ইয়েন - এভাবে প্রায় সব মুদ্রার মান রূপান্তর করে দিতে পারে অনায়াসে, যদিও টাকা (BDT) তার হিসেবে এখনো নেই। তাপমাত্রার সূচক রূপান্তরই হোক আর কিংবা এক কিলোমিটারে কতো ফুট কিংবা এক ইঞ্চি সমান কতো সেন্টিমিটার- সবই মহূর্তে রূপান্তর করে দিতে পারে গুগলের ছোট্ট সার্চ বক্সটা। কিলোমিটার থেকে ফুটে রূপান্তরের জন্য লিখুন 1 km in feet. ইঞ্চি থেকে সেন্টিমিটারে রূপান্তরের জন্য 1 in in cm. মূদ্রাকে পাউন্ড থেকে ডলারে রূপান্তরে জন্য লিখুন 1 GBP in USD. ইউরোকে ইয়েনে রূপান্তরের জন্য 1 EUR in YEN. উল্টোটাও করতে পারেন।

মাথায় কতো প্রশ্ন আসে
বিখ্যাত কারো জন্মদিন কিংবা মৃত্যুদিন জানতে চান কোনো কিছু না ঘেঁটেই? তাহলে শুধু লিখুন এভাবে- barack obama born in * কিংবা Einstein died in *. লক্ষ্য রাখবেন শেষে শুধু একটি স্পেস দিয়ে একটি অ্যাসটারিস্ক চিহ্ন (*) শুধু যোগ করে দেবেন। ঠিক এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জনসংখ্যা কতো জানার ইচ্ছে হতেই পারে আপনার, শুধু লিখুন population bangladesh আর দেখুন। কিংবা আপনি জানতে চাইতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বা গ্রিসের প্রেসিডেন্টের নাম কী।

বেশ কাজের একটা অভিধান
গুগল আবার ডিকশনারিও। বাংলা থেকে ইংরেজি আর ইংরেজি থেকে বাংলা অভিধানটি খুবই কাজের জিনিস।

ভালো থাকুন, আপডেটেড থাকুন
■ ঠিক এখনই জেনে নিন নিউ ইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, প্যারিস কিংবা লন্ডন অথবা আমাদের ঢাকার আবহাওয়ার খোঁজখবর। শহরের নাম লিখে একটি স্পেস দিয়ে শুধু forecast শব্দটি লিখে সার্চ দিন। 'temperature' লিখলেও চলবে।
■ সূর্যাস্ত কবে আর সূর্যোদয় কখন- সেটাও জেনে নিন এক সেকেন্ডে। সূর্যাস্তের জন্য 'Sunset in' লিখে তার পাশে যে কোনো শহরের নাম লিখুন। আর সূর্যোদয়ের সময় জানার জন্য লিখবেন 'Sunrise in'. দেখুন- আজ ঢাকায় সূর্য অস্ত কবে গেছে?
■ বাইরের তো বটেই, বাংলাদেশের স্থানীয় সময়ও জানিয়ে দিতে পারে গুগল। time in লিখে একটি স্পেস দিয়ে যে কোনো শহরের নাম লিখে সার্চ দিন কেবল। যেমন এই মুহূর্তে সিলেটে ক'টা বাজে?

নির্দিষ্ট ফরম্যাটের ফাইল খোঁজা
ধরুন নির্দিষ্ট কোনো ফরম্যাটের ফাইল চান আপনি। সেটাও পারবেন। সার্চ টার্মের জায়গায় আপনি কোন্ বিষয়ে ফাইল চান, সেটা লিখুন। যেমন আপনি যদি পিডিএফ ফরম্যাটে শুধু হুমায়ূন আহমেদের বইগুলো চান, তাহলে লিখুন- humayun ahmed filetype:pdf
গুগলের সার্চ বক্সে সার্চের বিষয়টি লিখে একটি স্পেস দিয়ে ফাইল টাইপ লিখুন- মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের ফাইল চাইলে filetype:doc কিংবা পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন চাইলে filetype:ppt. এভাবে অন্যান্য যে কোনো ফরম্যাটের ফাইল আপনি খুঁজে বের করতে পারবেন।

গানের রাজ্য
এমপিথ্রি ফরম্যাটের ফাইল নিয়ে গুগল একধরনের লুকোচুরি খেলে সবসময়ই। সাদামাটা সার্চ করলে সহজে পাওয়া যায় না। এ থেকে মুক্তি পেতে গুগলের মাধ্যমে আপনি মিডিয়াফায়ার, ইস্লাইপস বা এই ধরনের আপলোডিং সার্ভিসে হানা দিতে পারেন। পদ্ধতিটাও সোজা। কেনি ওয়েস্টের গান দরকার আপনার, সেক্ষেত্রে গুগল সার্চ বক্সে গিয়ে আপনাকে লিখতে হবে
kanye west site:mediafire.com
এখানে মিডিয়াফায়ারের বদলে অন্য যে কোনো আপলোডিং সার্ভিসের নাম বসাতে পারেন ইচ্ছেমতো।

সাইট সার্চ
অনেকেই জানেন, আপনি যদি 'site:'-এর পাশে যে কোনো ওয়েবসাইটের নাম লিখে সার্চ করেন, তাহলে গুগল শুধু ওই সাইট থেকেই ফলাফল দেখাবে। উদাহরণস্বরূপ- আপনি যদি সামহোয়্যারইন ব্লগে 'ভূমিকম্প' বিষয়ক ফলাফলগুলো চান, তাহলে সার্চ করলে কী দাঁড়ায় দেখুন। চাইলে কোনো নির্দিষ্ট দেশের ডোমেইন দিয়েও সার্চ করতে পারেন।
সাইট সার্চের আরো সুবিধা আছে, ধরুন আপনার নিজের ব্লগের আর্কাইভ থেকে পুরনো একটি লেখা খুঁজছেন, সেক্ষেত্রে 'site:'-এর জায়গায় আপনার ব্লগের ঠিকানাটি দিয়ে দিন। উদাহরণ হিসেবে ধরুন, মোবাইল নিয়ে আমার পুরনো লেখাগুলো খুঁজছি। সেক্ষেত্রে আমার কাজ হবে গুগলের সার্চ বক্সে গিয়ে শুধু মোবাইল+site:http://www.somewhereinblog.net/blog/Fusion5 লিখে এন্টার করা।

আপনাকে নিয়ে কী বলাবলি হচ্ছে
আপনার সম্পর্কে অন্যরা কী বলছে, সেটা জানার ইচ্ছে আপনার হতেই পারে। যেমন আমি মাঝে মাঝে দেখি, ব্লগসাইটগুলো ছাড়া ইন্টারনেটের অন্যত্র আমার সম্পর্কে কী কী কুৎসা লেখা হচ্ছে সাম্প্রতিককালে। যেমন, আজ দেখলাম ডয়েচে ভেলে ব্লগ পুরস্কার বিজয়ী আলী মাহমেদ তার এক লেখায় আমার বিরুদ্ধে একটি ক্ষুদ্র কুৎসা রচনার চেষ্টা করেছেন। যা হোক, এই ধরনের সার্চের ফরম্যাটটি হবে এরকম-
ফিউশন ফাইভ -site:somewhereinblog.net -site:sachalayatan.com -site:amarblog.com -site:prothom-aloblog.com.com
অর্থাৎ যে সাইট থেকে আপনি সার্চের ফলাফল চান না, সেটা লিখে তার আগে একটি মাইনাস (-) চিহ্ন দিন। তাহলে ওই সাইটকে উপেক্ষা করেই গুগল তার সার্চের ফলাফল দেখাবে। 'ফিউশন ফাইভ'-এর জায়গায় আপনার ইচ্ছেমতো যে কোনো শব্দ বসাতে পারেন। ওটা কেবল উদাহরণ।

উন্মুক্ত ক্যামেরার খোঁজ
■ আইপি ক্যামেরা থেকে পাওয়া ভিডিও স্ট্রিমও দেখতে পারেন গুগল থেকেই। গুগলের "inurl" ফিচার ব্যবহার করে আপনি পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অনেকগুলো উন্মুক্ত ক্যামেরার খোঁজ পেতে পারেন। যেমন দেখতে পারেন এই ক্যামেরাগুলোর ভিডিও স্ট্রিমগুলো।
■ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত লাইভ ওয়েবক্যামের খোঁজ পাওয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারেন গুগলের এই ফিচারটি।

হোমপেজে ভিনদেশী হানা
গুগল হোমপেজ নিয়ে আগে আমি প্রায়ই ঝামেলায় পড়তাম। হোমপেজে হংকংয়ের লিংক দেখাতো। পরে জেনেছি, ইউজারের আইপির অবস্থান শনাক্ত করে গুগল ঠিক ওই দেশের হোমপেজে নিয়ে যায়। এটা অনেক সময় বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে দেশের বাইরে কোথাও গেলে। এ থেকে মুক্তি পেতে, মানে গুগলের মূল হোমপেজ সবসময় অটুট রাখার জন্য নিচের ঠিকানাটি ব্যবহার করুন-
http://www.google.com/ncr

ভৌতিক কাণ্ডকারখানা
■ গুগল সবসময় যে সঠিক বলে, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় সঠিক শব্দ লিখলেও সে একপ্রস্থ পণ্ডিতি করবেই! 'recursion' শব্দটি দিয়ে সার্চ করেই দেখুন না।
■ গুগলের বহুল পরিচিত 'I'm Feeling Lucky' বাটনটা ঠিক কতো মানুষ ব্যবহার করে, কিংবা আদৌ ব্যবহার করে কিনা- সেটা আমার কাছে এক রহস্য। আপনি গুগলের হোমপেজে xx-hacker লিখে "I'm Feeling Lucky" বাটনে ক্লিক করুন। কী কাণ্ড দেখুন! অথবা 'french military victories' লিখে "I'm Feeling Lucky" বাটনে চাপ দিন। সবচেয়ে মজা লাগবে, যদি গুগল হোমপেজের সার্চ বক্সে 'who's the cutest?' লিখে "I'm Feeling Lucky" বাটনে ক্লিক করেন।
■ গুগলের মাঝেই লুকিয়ে আছে বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত সার্চ ইঞ্জিন। আপাতত মাইক্রোসফট আর লিনাক্সের দিকে তাকান একনজর।

বিবিধ
গুগলের নতুন ফন্ট ডিরেক্টরিটা বেশ কাজের মনে হল, বিশেষত ওয়েব ডেভেলপারদের জন্য। ওদিকে গুগলকে কিন্তু ফোনবুকও বলা যায়। আপাতত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব পাবলিক নম্বরই সেখানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে সীমানা আরো বাড়তে পারে হয়তো। তবে গুগলের স্পেলচেকারটিকে সর্বজনীন বলতে হবে। এরপরও শুধু ব্রিটনি স্পিয়ার্সের নাম লিখতে গিয়ে মানুষ যে কী হারে ভুল করেছে, দেখুন একনজর! গুগল সার্চ সম্পর্কে আরো জানতে এটা দেখুন, আর সার্চ টিপস পাবেন এখানে।


প্রথম প্রকাশ
গত বৃহস্পতিবার অবশেষে বন্ধ হয়ে গেল মিনিনোভা । ২০০৭ সালে চালু হওয়া টরেন্ট সাইটটি অল্পদিনেই পেয়েছিল অভাবনীয় জনপ্রিয়তা। কপিরাইট নিয়ে মামলার জের ধরে সাইট চালু আছে বটে, তবে এখন সেখান থেকে কিছুই আর ডাউনলোডের সুযোগ নেই । টরেন্ট সাইটের ভক্ত নয়- এমন ইন্টারনেট ইউজার সম্ভবত পুরো বিশ্বেই হাতেগোনা। টরেন্ট সাইটগুলোতে সফটওয়্যার থেকে সিনেমা, গান থেকে গেইম- সবই পাওয়া যায় বিনামূল্যে। মিনিনোভাই প্রথম নয়। এর আগে পাইরেট বে'র ওপর নেমে এসেছিল কপিরাইটওয়ালাদের খড়গ।

পাইরেট বে হত্যাযজ্ঞ
এই বছরের শুরুতে ওয়ার্নার ব্রাদার্স, এমজিএম, কলাম্বিয়া পিকচার্সসহ হলিউডের মহারথীরা একজোট হয়ে পাইরেট বে'র বিরুদ্ধে কপিরাইট ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করে। বিশ্বের বৃহৎ এই ইন্টারনেট ফাইল শেয়ারিং সাইটের বিরুদ্ধে সুইডেনের আদালতে দায়ের করা সেই মামলা তোলপাড় তোলে বিশ্বজুড়ে। পাইরেট বে'র আইনজীবীরা আদালতকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে, তাদের সাইট পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কে কাজ করে। সুতরাং একজন ইউজার আরেকজনের সঙ্গে কিছু বদলাবদলি করল সেজন্য তাদের দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। তাছাড়া তারা এ থেকে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন না। বলাবাহূল্য, পাইরেট বে'র যুক্তি আদালতে টেকেনি। সুইডিশ আদালত পাইরেট বে'র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজনকে এক বছরের জেল তো দিয়েছেনই, জরিমানাও করেছেন বিপুল অংকের অর্থ- ৩৮ লাখ ডলার!
মামলা নিষ্পত্তির পর সুইডিশ একটি প্রতিষ্ঠান গেমিং ফ্যাক্টরি এক্স ৮০ লাখ ডলার দিয়ে পাইরেট বে'র স্বত্ত্বাধিকার কিনে নিলেও তাতে আশা জাগানোর মতো কিছু নেই। গেমিং ফ্যাক্টরি এক্স কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, আইটিউন বা ন্যাপস্টারের মতো পে-সাইট না হলেও তারা ইউজারদের কাছ থেকে একটি মাসিক ফি নিতে পারেন ভবিষ্যতে। ২০০৩ সালে চালু হওয়া পাইরেট বে'র গ্রাহক দুই কোটিরও বেশি।

একে একে নিভিছে দেউটি!
মিউজিক, ভিডিও, সফটওয়্যার ও গেমিং ইন্ডাস্ট্রি এই ইস্যুতে একজোট হচ্ছে। ফলে অন্যান্য টরেন্ট ক্লায়েন্টগুলোর ওপরেও আঘাত আসবে সামনে- এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। কী হবে আমাদের, যেখানে একে একে নিভিছে দেউটি!

ছবিতে পাইরেট বে'র প্রতিষ্ঠাতাদ্বয়

প্রথম প্রকাশ
দুই কি তিন মাস মেইল চেক করা হয়নি বলে আমার অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ মেইল মুছে দিয়ে একাউন্টই ব্লক করে দিয়েছিল ইয়াহু। সেই থেকে মেজাজ খারাপ। নিতান্তই পরীক্ষামূলকভাবে ইয়াহুর কাছ থেকে একটি ডোমেইন কিনেছিলাম গত বছর। তার জন্যও আবার একটা ইয়াহু একাউন্ট লেগেছে। সেটাও দেখি কখনো অ্যাকটিভ, কখনো ইনঅ্যাক্টিভ। স্পাম তো আছেই। রাগে-ক্ষোভে সেই ডোমেইনই আর রিনিউ করিনি।

একে একে বন্ধ হচ্ছে দোকানের ঝাঁপ
একদিন মেইল খুলে দেখি, আচমকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইয়াহু ফটো সার্ভিস। কিছু ছবি তুলে রেখেছিলাম সেখানে। মন খারাপ হল ঠিকই, কিন্তু ততোদিনে যেহেতু ফ্লিকার এসে গেছে, ফটো সার্ভিস বন্ধ করার ব্যাপারটা মেনে নেই। বুঝিনি তখন, দোকানের ঝাঁপ ফেলার সবে তো শুরু! এই বছরের ৩০ মার্চ হুট করে বন্ধ হল ফাইল হোস্টিং সার্ভিস ইয়াহু ব্রিফকেস। তাতে ৩০ মেগাবাইট পর্যন্ত ফাইল আপলোড করা যেতো। উপায়হীন গ্রাহক কী করবে- তা নিয়ে মাথাব্যাথা ছিল না ইয়াহুর। তারা মেইল পাঠিয়ে সোজাসাপটা বলে দিল, ফাইল ডিলিট করো দ্রুত। ইয়াহু ৩৬০° নামে ইয়াহুর একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সার্ভিস ছিল, ফেসবুকের মতোই অনেকটা। সেটা বন্ধ হল গত ১৩ জুলাই। ২৬ অক্টোবর বন্ধ হয়ে গেল ইয়াহু জিওসিটিস। বিনামূল্যে ওয়েব সাইট তৈরির এই সেবা চালু ছিল প্রায় ১০ বছর ধরে। কতো মানুষের কতো যে সাইট, কতো যে ফাইল, লাইনের পর লাইন কতো যে আবেগ-অনুভূতি - এক ঝটকায় সব শেষ! সর্বশেষ সামনের ১২ জানুয়ারি বন্ধ হতে চলেছে আরো একটি সার্ভিস জাভাভিত্তিক ফোন অ্যাপ্লিকেশন- ইয়াহু গো!

ধানাইপানাই সমগ্র
জিমেইল যদি না আসতো, ইয়াহু মেইল এই ২০০৯ সালেও ২ মেগাবাইট স্টোরেজই দিতো নিশ্চিত। ওদের যা স্বভাব, বরং সংকোচনই করতো- এক মেগাবাইট ফ্রি, বাকি এক মেগাবাইটের জন্য মাসিক ফি! জিমেইল আসার পর ইয়াহু মেইল কিছুটা বদলেছে বটে, তবে এখনো ইয়াহু মেইলে ঢুকতেই বিচিত্র সব বিজ্ঞাপনে আহত হতে হয় নিত্যই, অথচ জিমেইল সেখানে পরিচ্ছন্ন, বিজ্ঞাপনেও বুদ্ধিদীপ্ত। কে না জানে, বহুকাল ধরেই স্পামারদের প্রথম পছন্দ এই ইয়াহু মেইল। এই যুগেও মেইলে সামান্য POP সুবিধা দিতে কতো ধানাইপানাই ইয়াহুর! জিমেইল যেসব সেবা বিনামূল্যে অকাতরে দিচ্ছে, এই এখনো ইয়াহুর মেইল প্লাস সেই সেবাগুলো দেওয়ার জন্য বার্ষিক ফি নিচ্ছে প্রায় ১৫০০ টাকা। আগে এই ফি আরো বেশি ছিল।

গর্দভের প্রতিকৃতি
মেইল আর মেসেঞ্জার না থাকলে ইয়াহুর অস্তিত্বই থাকতো না বোধ করি। বিশেষ করে, অনেকেরই বদ্ধমূল ধারণা, মূলত মেইল সার্ভিসটা নিয়েই টিকে আছে তারা। গ্রাহকের সঙ্গে পথেঘাটে শুধুই 'স্মল বিজনেস' করতে চাওয়া ইয়াহুকে ১০ বছর আগে যেরকম দেখেছি, ১০ বছর পরও তাতে কোনোই পরিবর্তন টের পাই না।

পুরা ফকিন্নির স্বভাব ওই কোম্পানিটার! 

প্রথম প্রকাশ
হাসবো কি কাঁদবো- ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। মনে হয় কাঁদতেই ইচ্ছে করছে। বাংলাদেশ, যেখানে একটুকু ব্যান্ডউইডথের জন্য মানুষ হাহাকার করছে, সেই বাংলাদেশ এবার বিদেশে ব্যান্ডউইডথ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তথ্যমতে, সাবমেরিন ক্যাবলের মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ৩১ শতাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। আর বাকিটা নেপাল ও ভুটানে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নেপাল ও ভুটানে সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ নেই। একসময় আমরা যা করতাম, নেপাল-ভুটানও সেই স্যাটেলাইট ব্যবহার করে এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। সে কারণেই তারা বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইডথ কিনতে আগ্রহী। প্রসঙ্গত, আমাদের সাবমেরিন ক্যাবলের মোট ধারণক্ষমতা ২৪.১২ জিবিপিএস।

অথচ হায়, আমি নিজে ইউটিউব থেকে ৫-৬ মেগাবাইটের একটি ছোট্ট ভিডিও নামাতে, জিমেইলের স্ট্যান্ডার্ড ভার্সনটা লোড করতে গিয়ে মাথাকুটে মরি প্রতিদিন। স্লথগতির ইন্টারনেটের জন্য টুকটাক আউটসোর্সিং থেকে পর্যন্ত প্রত্যাখ্যাত প্রায়। ব্যান্ডউইডথের ছড়াছড়ির পরও স্বয়ং বিটিসিএল এই এখনো যে মূল্যে যে গতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ দিচ্ছে, ডায়ালআপের জন্য যে চার্জ নিচ্ছে- ভাবতেই অবাক লাগে। যে দেশে ইন্টারনেট এখনো ব্যয়বহুল একটি সেবা, মাসে এক হাজার টাকা খরচ করেও যেখানে কিলোবাইটের ওপরে গতি উঠে না, সেই দেশ কিভাবে বেঁচে যাওয়া ব্যান্ডউইডথ বিক্রি করার মতো নির্লজ্জ হয়?

এই সেই সাবমেরিন ক্যাবল, যা একসময় বিনামূল্যে দেওয়া হলেও বাংলাদেশ তা নিতে সম্মত হয়নি দেশের গোপন তথ্য পাচার হয়ে যাওয়ার অজুহাতে। ফলে এই সাবমেরিন ক্যাবল কিংবা ব্যান্ডউইডথ নিয়ে তুঘলকি কারবার হবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে রীতিমত ব্যান্ডউইডথ বিক্রি? এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবেই মাথামোটা আমলাদের মাথা থেকে বেরিয়েছে। আর মন্ত্রী-পাতিমন্ত্রীরা তাতে মাথা নেড়ে সায় দিয়েছেন। সাবমেরিন ক্যাবল তত্ত্বাবধানকারী সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবশ্য ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, এর ফলে নাকি কোনো সমস্যা হবে না। বরং দেশের আয় বাড়বে।

এইগুলারে আন্ডারওয়্যার পরিয়ে জাতীয় জাদুঘরে জীবন্ত সাজিয়ে রাখা উচিত। 

প্রথম প্রকাশ
অনেকেই জানেন, মোবাইল কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রতারণাটি করছে একটেল। এদের যে কী রকম নিম্নমানের ইন্টারনেট সেবা, ব্যবহার না করলে বোঝার উপায় নেই। মাসে ৩০ দিনের মধ্যে কমপক্ষে ১০ দিন, অনেক সময় তারও বেশি সময় ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ থাকছে নিয়ম করে। অথচ বকেয়া বিলের জন্য মিনিটে মিনিটে এসএমএস, প্রতি চারদিন পর পর সুকণ্ঠীর (ভুটকিই হবে!) ফোন- ‌‌‌‌‌‌‌'স্যার, আপনার বিল হয়েছে এতো টাকা...অতো পয়সা।' কিন্তু ইন্টারনেট সার্ভিসের নামে এই যে এতো এতো টাকা প্রতি মাসে নেওয়া হচ্ছে, সেটা বন্ধ থাকলে এসএমএস তো দূরের কথা, আপনি এমনকি অভিযোগও জানাতে পারবেন না। অভিযোগ জানানোর জন্য যে নম্বরটি (১২৩) আছে, সেখানে কল করলে প্রতিদিনই একই অবস্থা। কি রাত কি দিন সবসময়ই নাকি এদের কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভরা বিজি থাকে।

ওই নম্বরে ফোন করলে তিন দফায় দীর্ঘ নির্দেশনা শোনার পর কাস্টমার কেয়ার ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে কম্পিউটারের স্বয়ংক্রিয় কন্ঠে শোনা যায় ‌‌‌‌‌‌'দুঃখিত, এই মুহূর্তে আমাদের সকল কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভ ব্যস্ত আছেন! আপনাকে অপেক্ষা করতে হতে পারে ছয় মিনিট ২০ সেকেন্ড।' আমি একজনের কাছ থেকে জেনেছি, এই সময় প্রতি মিনিটে আড়াই টাকা করে চার্জ কাটা যায়। অবাক করার বিষয় হচ্ছে এই তথাকথিত ব্যস্ততা সবসময়ই আছে, যখনই ওই নম্বরে ফোন করি। হস্তমৈথুন ছাড়া এইসব কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভের ব্যস্ততার অন্য কোনো কারণ তো দেখি না। গ্রামীণফোনের পর পর খালি মাঠে দীর্ঘদিন থাকার পরও একটেল ক্রমাগত পিছনের দিকে হেঁটেছে। বরং অনেক পরে এসে এগিয়ে গেছে বাংলালিংক। জনতার বিচার আসলেই আলাদা জিনিস।

কিছুদিন আগে জেনেছি, একটেলের ইন্টারনেট সার্ভিসের গ্রাহক তেমন নেই। দিনের পর দিন নিম্নমানের সেবা আর প্রতারণা যে কোম্পানির অর্থ আয়ের উৎস, তার গ্রাহক থাকার কথা নয়। আমার মতো আরো কেউ কেউ আছেন, যারা এইসব প্রতারক মোবাইল কোম্পানির ফাঁদে পড়ে যায়। সকলের প্রতি অনুরোধ, প্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহার করাই বাদ দিন, তবুও একটেলের ইন্টারনেট সেবার ফাঁদে পড়বেন না।

খাঙ্ক ইর্পো!
ভারতীয় মালয়ালাম ভাষার একটি সুসম্ভাষণ

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): একটেল, ইন্টারনেট, মোবাইল, aktel, internet, mobile company ;

প্রথম প্রকাশ
জিমেইল নিয়ে এক মহা সমস্যায় পড়েছি। এর আগেও এই সমস্যা একবার হয়েছিল। তখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ মেইল মুছে দিয়ে জরুরিভিত্তিতে জায়গা খালি করেছিলাম। এই সময়ে আবার একই দশা। এমন নয় যে, আমি জিমেইলকে ফাইল স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করি। সেটা করলে না হয় একটা কথা ছিল। সবই তো মেইল। এই মেইল একউন্টটাও গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত কারণে এই একাউন্টটি বহু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরেই। ফলে এর একটা মূল্য দাঁড়িয়ে গেছে। শ্লার, এক মধুর সমস্যায় পড়ে গেলাম!

প্রথম প্রকাশ
ছবিটি জিমেইলের বাংলা সংস্করণের। বেশ কিছুদিন ব্যবহার করলাম বঙ্গদেশীয় ভাষায়। দু একদিনের মধ্যে ইংরেজির দিকে বদলি হওয়ার আশা রাখি। প্রথমত বাংলা রাখলে বিস্ময়করভাবে লোডিংয়ের গতি বেশ ধীর হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত বিচিত্র এই অনুবাদের সঙ্গে ঠিক একাত্মবোধ করতে পারছি না। পোস্টের সঙ্গে যুক্ত ছবিতে কিছু ক্রস চিহ্ণ দিলাম। এর মানে হল, ওই ভাষা আমার পছন্দ হয়নি। তে ব্লগাররা যদি আরো সহজবোধ্য ও স্মার্ট ভাষা প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হন, তাহলে ফের বাংলায় ফেরার আশা রাখছি।

প্রথম প্রকাশ
ফেসবুকের কথা শুনে আসছি বহুদিন ধরে। এই ব্লগেই অনেকের পোস্ট ও মন্তব্যে ফেসবুকের প্রশস্তি শুনেছি। শেষমেশ আর উপেক্ষা করা সম্ভব হল না। যোগ দিলাম সেখানে। প্রথম কয়েকদিনেই বন্ধুবান্ধব বেশকিছু জুটেছে আমার। প্রায় সবাই সামহোয়্যারইনের ব্লগার, দু একজন আছেন সচলের। তবে নিয়মকানুন এখনো কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। ওয়াল টু ওয়াল জিনিসটা কী, বুঝতে পারছি না।

একসময় হাইফাইভ আর রুপার্ট মারডকের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট মাইস্পেসে মোটামুটি সক্রিয় ছিলাম। তবে ফেসবুক ঠিক অতোটা সহজবোধ্য মনে হচ্ছে না। বাঙালি তরুণের সমিতি-ক্লাবের জায়গাটা এখন ফেসবুক আর ব্লগ দখল করে নিয়েছে। নিশ্চিত নই, এটা নিতান্তই ধারণা। অন্তত নিজের অভিজ্ঞতা তাই বলে। 

প্রথম প্রকাশ
গ্রামীণফোন আসলে কার? নরওয়েজিয়ান কম্পানি টেলিনরের। বাংলালিংক ইজিপশিয়ান কম্পানি ওরাসকমের। একটেল? প্রায় পুরোটাই মালয়েশিয়ান বিনিয়োগ। দুবাই রাজপুত্রের ওয়ারিদের তো জানা কথা। অমিত সম্ভাবনাময় মোবাইল ফোন সেক্টরে বাংলাদেশী কোনো উদ্যোগ নেই। ওয়েবে কি এমন একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের কথা আপনি আমাকে বলতে পারবেন, যা পুরোটাই 'বাংলাদেশী-উদ্যোগ'? ব্লগ-প্ল্যাটফর্মের কথাই ধরুন। আছে কি? আমি অন্তত এমন উদাহরণ পাইনি। অথচ দেখুন, ঘুরেফিরে এই আমরাই বারবার ব্যবহৃত হচ্ছি কর্পোরেটের প্রয়োজনে। তাদের প্রলোভনে মাথা নেড়ে নেড়ে যাচ্ছি কোনো প্রশ্ন ছাড়াই। কর্পোরেটের প্রয়োজনে আমাদের মেধাবী প্রোগ্রামাররা সস্তা শ্রমমূল্যে নিজের শ্রেষ্ঠ সময়টা বিকিয়ে দিচ্ছে। ইউজার কিন্তু সব বাংলাদেশীই, এই আমরাই। ঢাকা থেকে আমি, চট্টগ্রাম থেকে তুমি, নিউইয়র্ক থেকে আমারই বন্ধু, লন্ডন থেকে তোমার ছোট ভাই- সবমিলিয়ে আমরা আমরাই তো! অথচ তারপরও আমাদের নিজস্ব বলতে কিছু নেই। আমাদের একটা সার্চ ইঞ্জিন নেই, ভালো একটা পোর্টাল নেই, এমনকি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগটিও বাংলাদেশীদের নয়। এরপরও বিচ্ছিন্নভাবে কী না হচ্ছে! ভালো ভালো ব্লগার তো আছেই অনেক। ওয়েব প্রোগ্রামিং হোক আর ওয়েব ডিজাইন হোক- আমাদের ছেলেদের প্রতিভার ফুলকি কি দেখছি না অহরহ? পৃথিবীর জটিল ভাষাগুলোর একটি বাংলায় যে স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ হচ্ছে, তা তো বাইরে থেকে এসে করে দিয়ে যাচ্ছে না, করছে আমাদের ছেলেরাই। তারপরও আমরা বিচ্ছিন্ন থাকতে পছন্দ করি। আমরা যতো বিচ্ছিন্ন থাকবো, কর্পোরেটের ততোই লাভ। কেউ কর্পোরেটের রক্তচক্ষুর সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করবে, তা হবে না। কর্পোরেট নীতিতে ভিন্নচিন্তা প্রকাশ করাটাই একটি দুঃসাহস। অথচ নরসিংদীর একজনের সঙ্গে সিলেটের আরেকজনের ভাবনায় হয়তো তেমন পার্থক্য নেই। কক্সবাজারের এক তরুণ ভাবছে হয়তো খুলনার আরেকজনের মতোই। ইন্টারনেট, বাংলাদেশে তা যতোই শ্লথগতির হোক না কেন, মিরপুরের মশিউরের সঙ্গে উত্তরার ফখরুলের যোগাযোগ তো হচ্ছেই মিনিটে মিনিটে, ঘরের বাইরে না গিয়েই। ব্যস্ততার মাঝেও আজ দুপুরে মেইল কি পাঠাইনি তোকে, মীম? ঠুনকো অজুহাতের চেয়েও আসল কথা হল, ভাবনাগুলোকে আমরা একত্র করতে পারি না, যূথবদ্ধ হতে পারি না নিজেরা। ঘাটতি যে আমাদের কম নেই, তা নয়। আমাদের তরুণরা যখন একটি পোর্টাল নামায় ওয়েবে, তখন বোঝা যায় সেটা 'পোলাপানের কাজ।' অ্যাজাক্সের মতো ওয়েব-ভাষা এসে যে সাধারণ ওয়েবসাইটগুলোকে আমূল বদলে দিচ্ছে, তারা সেটা জানে, তারা সেটার প্রশংসা করে, কিন্তু শেষপর্যন্ত তারা নিজেরা তৃতীয় শ্রেণীর ওয়েবসাইটই তৈরি করে। "তারা সিংহের প্রশংসা করে, কিন্তু নিজের জন্য পছন্দ করে একটি গাধা!" স্নিগ্ধ রুচির পরিচয় মেলে না। গোছানো ভাবটা থাকে না। ওয়েবে এই জায়গায় এসে সব বাংলাদেশী উদ্যোগই মার খায়। না বললেও বোঝা যায়, এটা পোলাপানের কাজ। কর্পোরেট-উদ্যোগ ঠিক এর উল্টো। ক্ষতিকর জেনেও আমরা তাদের টোপ গিলতে বাধ্য হই। টোপটাও তারা দৃষ্টিনন্দন করেই তৈরি করে। এই যে, কেনা-বেচা নিয়ে সামহোয়্যার ইন যে নতুন সার্ভিস নিয়ে এল, তা দেখে আমি চমৎকৃত। কিন্তু এই কর্পোরেট-উদ্যোগের সঙ্গে আমি একাত্ম বোধ করি না। আমার মন টানে না কিছূতেই। চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনের নাম কিন্তু গুগল নয়, ইয়াহু বা এমএসএনও নয়, তার নাম বাইডু। প্রায় পুরোটাই স্থানীয় উদ্যোগে তৈরি "বাইডু" ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে ওয়েবে চীনাদের নিজস্বতার প্রতীক। লোভী কর্পোরেটকে তারা ঢুকতে দেয়, কিন্তু তা নিজেদের ভাগটা সবার ওপরে রেখে। আহা, কবে দেখবো, আট-দশজন মেধাবী বাংলাদেশী তরুণের হাতে গড়া বাংলাভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগটি? আহা, একটি বাংলা সার্চ ইঞ্জিন দেখে কবে আসবে মুগ্ধ হওয়ার সেই সময়? 
 
প্রথম প্রকাশ  |  দ্বিতীয় প্রকাশ
পুরাতন পোস্টসমূহ হোম

  • সাম্প্রতিক
  • মন্তব্যমালা
  • Problem with Bengali Font?
  • English Version
  • Mobile View
Advertisement সপ্তাহের নির্বাচন : ব্লগারের ২০টি সেরা উইজেট

অফিসিয়াল একাউন্ট

  • সামহোয়্যারইন ব্লগ
  • প্রথম আলো ব্লগ
  • বিডিনিউজ ব্লগ
  • নাগরিক ব্লগ
  • আমারব্লগ
  • গুগল প্লাস
  • ফেসবুক
  • টুইটার
  • টাম্বলার

ব্লগ স্টাইল

  • ম্যাগাজিন
  • টাইমস্লাইড
  • ফ্লিপকার্ড
  • মোজাইক
  • সাইডবার
  • স্ন্যাপশট

  • Home
  • About
  • Contact
  • বাংলা লিখুন ইউনিকোডে
Tweet
.



    1/11 advertisement amader shomoy amarblog audio audio-tape awami league Bangladesh bangladeshi blogger bank bdr-mutiny bijoy bijoy ekattor bijoy ekushe bijoy ekushey Blog blog ban blog-debate blog-review blog-satire blogger bobs boi-mela book-fair books bottle brain caricature children chile cht cinema computer contemporary corruption corruption tape cover cricket cyber-crime defense dhaka university diary documentary e-voting ebook economy entertainment eve-teasing everest exclusive facebook Feature finance football google hacking highlights human-rights india internet julian assange kaler-kantha khaleda-zia liberation-war libya load-shedding love media memoirs misc mlm mobile musa-ibrahim niagara falls oporbastob poetry police politics prothom-alo-blog rab religion rosh-alo sachalayatan satire saudi arab sheikh mujib social-media software somewherein blog sound special sports statue-of-liberty stock market survey sw-ban swine flu tech tech-humor technology television train accident transparency report travel video weather women world-affairs
Fusion Factory by Fusion5 is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.
Designed by SimplexDesign