মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে QUBEE-র পৃষ্ঠপোষকতায় নর্থ আলপাইন ক্লাব কর্তৃক প্রকাশিত স্মারক 'যেমন দেখেছে বাংলাদেশ'-এ প্রকাশিত। প্রকাশকাল : মে ২০১১।
————
‘দৃঢ় সংকল্প + অদম্য স্পৃহা + সহযোগিতা ও শুভেচ্ছা + টিমওয়ার্ক + চ্যালেঞ্জ জয় + অভিজ্ঞতা + সামর্থ্য = এভারেস্ট অভিযান’
না, এই ‘জটিল’ সমীকরণ কোনো গণিতবিদের তৈরি নয়, মাউন্ট এভারেস্টের দিকে রওনা হওয়ার দু মাস আগে শব্দের পর শব্দ যোগ করে মুসা ইব্রাহীম নিজেই সেটা সাজিয়েছিলেন। বাংলাভাষার সবচেয়ে বড়ো ব্লগ সামহোয়্যারইনে মাঝে মাঝেই লিখতেন মুসা, ইউনিকোডে লিপিবদ্ধ হতো তার স্বপ্নগুলো, বলা ভালো নিভৃতেই। তার সেই লেখাগুলো খুব যে পাঠক টেনেছিল, তা নয়। বরং প্রচ্ছন্ন এক হেলাফেলার সুর ছিল পাঠকের মন্তব্যমালায়। এরপর মাঝখানে ষাটটি দিন। ২০১০ সালের ২৪ মে তিরিশ বছরের তরুণটি উঠে গেলেন ২৯ হাজার ৩৫ ফুট উঁচুতে। পৃথিবী তার পায়ের নিচে। আর সামহোয়্যারইনে মুসার নিভৃত ব্লগটা তখন ব্লগারদের তীর্থ। সেই সঙ্গে দু মাস আগের আপাত জটিল সমীকরণটা দাঁড়ায় এইরকম—
‘দৃঢ় সংকল্প + অদম্য স্পৃহা + সহযোগিতা ও শুভেচ্ছা + টিমওয়ার্ক + চ্যালেঞ্জ জয় + অভিজ্ঞতা + সামর্থ্য = এভারেস্ট জয়!’
ব্লগমন্ডলে নতুন আগন্তুক
ব্লগ সবসময়ই ছুটে চলে সময়ের সঙ্গে, কখনও বা সময়েরও যেন আগে। সপ্রাণ এই দুরন্ত গতিই আসলে ব্লগের অক্সিজেন। পিলখানার গণহত্যা থেকে শেয়ারবাজারের ওঠানামা—ক্রিকেট থেকে ক্ষুদ্রঋণজাত রাগ—কোনো কিছুই খুব বেশি সময় ধরে ব্লগারদের আটকে রাখতে পারে না, কোনো কিছুই খুব বেশি সময় আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে না। কিন্তু মুসা ছিলেন, ভালোভাবেই ছিলেন ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে—প্রশস্তিতে, বিতর্কে, প্রাণবন্ত আলোচনায়। সত্যি বলতে কী, বিশেষ কাউকে নিয়ে এভাবে উৎসবে মেতে ওঠার উপল আর আসেনি বাংলাভাষী ব্লগমন্ডলে। সাধারণ ব্লগাররা তো বটেই, এভারেস্ট চূড়োয় লাল-সবুজ পতাকার অভিষেক আপ্লুত করেছিল সামহোয়্যারইন ব্লগের কর্নধার আরিল ক্লকারহগকেও। বাংলা অন্তঃপ্রাণ এই নরওয়েজিয়ান মানুষটি মন্তব্যে লিখেন : ‘অভিনন্দন মুসা ইব্রাহীম! you are my new hero! i am just thinking about young guys from my cold and mountainous country: Norway. they start skiing when they are 2 years old, they grow up with snow and cold weather. they start climbing small rocks on the way back home from their play group. when they grow up, they have access to all kind of equipment, experienced trainers and a solid rock climbing community. still, if anyone of them climb Everest, they easily become national heroes.’
যেন নিজেদেরই বিজয়!
সামহোয়্যারইন ব্লগে মুসাকে তাৎণিক অভিনন্দন জানিয়ে একটি লেখা স্টিকি করা হয়েছিল। তাতে ব্লগারদের স্বতঃস্ফূর্ত মন্তব্য এসেছিল আড়াইশো। এরপর কম করে হলেও ব্লগারদের শতাধিক লেখা প্রকাশিত হয়েছে মুসাকে নিয়ে। এভারেস্ট বিজয় নিয়ে আমার নিজেরই একটি ব্যাখ্যামূলক লেখা পঠিত হয়েছিল ১০ সহস্রাধিক বার। এ থেকেই বোঝা যায় মুসাকে নিয়ে কতোটা গভীর আগ্রহ ছিল ব্লগমন্ডলে। পিছিয়ে ছিল না বাংলাভাষার অন্য ব্লগগুলোও। দলমতনির্বিশেষে সব ব্লগেই ব্লগাররা মেতে উঠেছিলেন উচ্ছ্বাসে—এ যেন তাদের নিজেদেরই বিজয়।
ঘরের কাছের এভারেস্ট চিরকালের অতি চেনা হয়েও সবার কাছে একরকম অনাত্মীয়ের মতোই ছিল। চারদিক চোখ-কান খোলা রাখা ব্লগারের জ্ঞানও ছিল বড়জোর মলিনপ্রায় কেওকারাডং পর্যন্ত, জানাশোনার পথ ধরে আরেকটু হাঁটলে বড়জোর নাতিদীর্ঘ সাফা হাফলং। মুসার বিজয়ের পর নতুন করেই যেন ধরা দিল এভারেস্ট, নতুন করে চেনা গেল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু চূড়োটিকে। আর এই প্রথম আবিস্কার করা গেল পর্বতাভিযান নিয়ে ব্লগারদের মনে বিচিত্র সব জিজ্ঞাসা, অদ্ভূত সব প্রশ্নের পাহাড়। কাজেই বহুদিন ধরে চলল পর্বত অভিযান নিয়ে বিচিত্র সব আলোচনা—তাত্ত্বিক আলোচনা থেকে সাধারণ বিষয় আশয়—পিরামিড শ্যাডোর আকার-প্রকার থেকে মুসার প্রাণ বাঁচানো ব্রেন্ডান ওমামানিও বাদ থাকেনি। অন্নপূর্ণার আঠারো হাজার ফুটের পর পুরোটাই বরফ কিনা, কোন্ পদ্ধতিতে মেলে পর্বতারোহণের সনদ কিংবা এভারেস্ট কেন ‘চমলাংমা’, এমনকি এভারেস্ট চূড়োয় ব্যাটারির চার্জ থাকে না কেন সেটা নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা চললো ব্লগারদের মধ্যে। মজার ব্যাপার হল, এক ব্লগারের প্রশ্নের উত্তরও আবার আরেক ব্লগারই দিয়েছেন—এভাবে এগিয়ে গেছে বিতর্ক, সপ্রাণ আলোচনা। এই করে করে বাঙালি ব্লগার নাম-ধাম-মাপেই কেবল এভারেস্ট চেনেনি, চিনেছে একেবারে জিপিএস লংগিচ্যুডসহই।
এমনিতে পাহাড়ের উচ্চতা দেখে হা-হুতাশ করা জাতি আমরা। ফলে মুসার বিজয় নিয়েও সন্দিহান থাকতে দেখা গেছে কাউকে কাউকে, বাঙালির চিরকেলে স্বভাব। এমনকি কূপমন্ডুক সতীর্থ অভিযাত্রীদের পৌরহিত্যে খানিকটা নোংরামিও ছুঁতে চেষ্টা করেছিল মুসার বিজয়কে। ডাঙ্গায় বসে মুসাকে এভারেস্ট থেকে টেনে ফেলে দেওয়ার চেষ্টাও কম চলেনি। বলাবাহুল্য, সশরীরে না থেকেও দিনশেষে মুসা সেখানেও বিজয়ী।
হয়ে আশার প্রদীপ
ব্লগ যদিও সিরিয়াস আলোচনার জায়গা, তবে মাঝে মাঝে সেখানেও ঘটে অদ্ভূত সব কাণ্ডকারখানা। কিছুদিন আগে হঠাৎ করেই এক ব্লগার লিখে বসলেন, তিনি আত্মহত্যা করতে চান। যাপিত জীবন নিয়ে ভুগছেন চরম হতাশায়। আতঙ্কিত হওয়ার কথাই। সেই আতঙ্ক থেকে সহ-ব্লগারদের অনেকে তাকে নানান আশার বাণী শোনালেন। কেউ কেউ জোগালেন সান্ত্বনা। শেষে এক ব্লগার লিখলেন—‘যে দেশে মূসা ইব্রাহীমের মতো তরুণ কারো সাহায্য ছাড়াই এভারেস্ট জয় করে আসতে পারে, সেই দেশের তরুণ হয়ে আপনি কেন কাপুরুষতার পথে হেঁটে আত্মহনন করবেন?’ আত্মহত্যাপ্রবণ সেই ব্লগার মন্তব্যের জবাব দেননি, হতে পারে লজ্জায়, তবে এর চেয়ে ভালো জবাবও কি আর হয়? হোক বা না হোক, মুসা কিন্তু হয়ে উঠেছেন জীবন্ত উদাহরণ, তারুণ্যের কাছে আশার প্রদীপ। ছোট্ট এক মন্তব্যে এক ব্লগারের আশাবাদ, মনে পড়ে এখনও—‘বাংলাদেশ ভরে যাক মুসার মতো ‘কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হওয়া’ ছেলে এবং মেয়েতে।’
নিঃসঙ্গ শেরপা
ব্লগে বসলে লোডশেডিং, সড়কজুড়ে অসহনীয় যানজট, পথে-ফুটপাতে ক্ষুধার্ত মুখের সারি—এই যখন বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র—এভারেস্ট জয় সেখানে অসামান্য কোনো ঘটনা নয়। বরং সেটা একটি প্রেরণা—জয়ের জন্য অদম্য চেষ্টা চালানোর প্রেরণা। ক্ষুধা-দারিদ্র-সমস্যাকে রুখে দাঁড়ানোর সাহস। মুসার অর্জন আমাদের আশা দেয়। সমস্যাজর্জর এই দেশে এইটুকুন আশা জোগানোর মূল্য যে কতোটা, সেটা ঠিক এখনই বুঝে উঠতে পারবেন না অনেকেই, তবে নিশ্চিত একদিন! আমরা তো দেখেছি, যা করার মুসা একাই করেছেন। সবকিছুর জোগাড়যন্ত্র তো বটেই, এমনকি নিজের প্রাণটা বাজি রাখা পর্যন্ত। প্রিয় পরিবারকে রেখে মুসা যখন বেসক্যাম্পের পথ ধরেছেন, তখনও তিনি একাই—নিঃসঙ্গ শেরপা, পাশে ছিল না কেউই। কিন্তু লেগে থাকলে কোনোকিছুই অসম্ভব নয়—আগামী দিনের নাগরিকদের জন্য উদাহরণটি মুসা নিজে হাতেকলমে তৈরি করে দিয়েছেন। নিশ্চিত আমি, অসম্ভবকে সম্ভব করে মুসার এই অর্জনটুকু হতাশ তারুণ্যকে উদ্যমী হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।
এভারেস্ট বহু বছর ধরে ১৬ কোটি মানুষের দেশ থেকে বিশেষ কারো অপেক্ষায় ছিল। কে না জানে, সেই অপেক্ষার কালও ফুরিয়েছে। বলে তো দেওয়াই যায়—‘চূড়োকে বলো না একা, শীর্ষে তার মুসা ইব্রাহীম!’
ছবিগুলো অনেকদিন ধরে আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল। আগলে রেখেছিলাম সযত্নে। পত্রিকার সাংবাদিকদের উপর্যুপরি পীড়াপিড়ি আর কাতর অনুরোধে বহুদিন পর আজ সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দিলাম। ছবিগুলোর কপিরাইট কঠোরভাবে সংরক্ষিত।
প্রথম প্রকাশ
![]() |
| [পূর্ণ রেজ্যুলেশনে দেখার জন্য ছবির ওপর ক্লিক করুন] |
![]() |
| [পূর্ণ রেজ্যুলেশনে দেখার জন্য ছবির ওপর ক্লিক করুন] |
প্রথম প্রকাশ
দীর্ঘ চার মাস ধরে আমি এ ব্যাপারে পর্বতারোহীদের সাক্ষাৎকার নেয়ার চেষ্টা করেছি, ছবি সংগ্রহ করেছি, ত্রিমাত্রিক মডেলে মুসার ছবি বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করে প্রমাণ খোঁজার চেষ্টা করেছি। আমি সন্তুষ্ট যে অবশেষে যুক্তি এবং বিশ্লেষণের আলোকেই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তে আসতে পেরেছি, কোনো মিডিয়াগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেয়া কথার ভিত্তিতে নয়। ছবিগুলো যদি আরো আগে জনগণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হতো, তাহলে আরো আগেই এই বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো। (পোস্টদাতা : হিমু | পোস্টের লিংক | পোস্টের স্ক্রিনশট)অবশেষে অরিন্দম কহিলো বিষাদে
অবশেষে হিমু স্বীকার করে নিলেন, মুসার এভারেস্ট বিজয় সম্পর্কে তার আর সন্দেহ নেই। তিনি সন্তুষ্ট। যে চিলের পেছনে হিমু সবাইকে ছুটিয়েছেন, সেই চিলের খোঁজও শেষপর্যন্ত তিনি দিয়েছেন। তাকে ধন্যবাদ, তাকে অভিনন্দন! শুধু হিমুর কাছে জানতে চাই, আপনি মানুষের কাছে স্পষ্ট উত্তর জানতে চান। কিন্তু আপনি নিজে কেন ইনিয়ে-বিনিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করলেন আজ? আপনি তো গর্জন করেও বলতে পারতেন, এতোগুলো দিন মুসার বিরুদ্ধে কুৎসা রচনা করেছেন এবং এখনো করছেন ফ্রে পিক-অন্নপূর্ণা নিয়ে, এভারেস্ট নিয়ে যা এতোদিন করে এসেছেন। অথচ এই এখনো আপনার হাতে কোনো প্রমাণ নেই, নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্যও নেই। প্রমাণিত সত্য ছাড়া আর কোনো পর্বতারোহীর চরিত্রহনন করবেন না- এই প্রত্যাশা রাখছি। আবারও বলতে চাই, আপনার এই প্রচেষ্টা অভিনন্দনযোগ্যই হতো, যদি আপনি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে অনুসন্ধান শুরু করতেন এবং শুরু থেকেই নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে আপনার কর্মকাণ্ড না চলতো। আমাদের দুর্ভাগ্য, আপনি অনুসন্ধান শুরুই করেছিলেন কুৎসা রটনা আর নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে। আমরা আশা করবো, আপনি যখন ভবিষ্যতেও এমন কোনো অনুসন্ধানে যাবেন, ইতিবাচক মনোভাব থেকে সেটা শুরু করবেন, সেখান থেকে নেতিবাচক কিছু পেলে সেভাবে এগোবেন।
একদিকে অভিনন্দন, অন্যদিকে চলছিল ইমেইল চালাচালি
এভারেস্ট আরোহণে যাওয়া মুসাদের পর্বতারোহী দলটি ছিল নানা দিক থেকেই একটি 'বিশেষ দল'। সেই দলে সবাই ছিল প্রথম, বিভিন্ন কারণে। যেমন মুসা ছিলেন এভারেস্ট চূড়োয় প্রথম বাংলাদেশী। মন্টেনিগ্রোর যে তিন পর্বতারোহী ছিলেন মুসার সঙ্গী, তারাও ছিলেন মন্টেনিগ্রো থেকে প্রথম এভারেস্ট আরোহী। সার্বিয়ার যে ডাক্তার ভদ্রলোক ছিলেন ওই দলে, তিনিও এভারেস্ট চূড়োয় প্রথম সার্বিয়ান ডাক্তার আর নেপালের লাল বাহাদুর জিরেল ছিলেন 'জিরেল' সম্প্রদায় থেকে প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী। আট জনের দলে দুজন তাইওয়ানিজ ও কোরিয়ান ছিল, তাদেরও কী যেন বিশেষত্ব ছিল।
তিন মন্টেনেগ্রান যখন এভারেস্ট চূড়ো থেকে বেস ক্যাম্পে ফিরলেন, ফোন বেজে উঠল। ফোনের ওপ্রান্তে মন্টেনিগ্রোর প্রেসিডেন্ট স্বয়ং! অভিনন্দন আর ভালোবাসায় সিক্ত করলেন মন্টেনিগ্রোর প্রথম তিন এভারেস্ট বিজয়ীকে। সেই একই ক্যাম্পে ছিলেন ওই একই গৌরবের অংশীদার এক বাংলাদেশীও- মুসা ইব্রাহীম! অন্যরা যখন অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছিলেন, তখন দেশ থেকে উড়ে যাওয়া ফোনকলে মুসার কাছে প্রশ্ন এসেছে- ''মুসা, আপনি আসলেই এভারেস্টে উঠছেন তো, নাকি?' সজল খালেদরা তখন মুসার বিরুদ্ধে লম্বা লম্বা ইমেইল চালাচালি করছেন। আর হিমুরা লিখছিলেন নেভারেস্ট সিরিজ!
তিনি এই বাংলাদেশেরই সন্তান
মুসা ইব্রাহীমের অর্জন বাংলাদেশেরই অর্জন। তাকে নিয়ে যে অনাবশ্যক বিতর্কটি শুরু হয়েছিল, তা আমাদের সবার জন্যই লজ্জা ও দুঃখজনক। আসলে মুসার প্রতি বিস্তর অবিচার আমরা সবাই মিলে ইতিমধ্যে করে ফেলেছি। কী পরিমাণ মানসিক যন্ত্রণা তার ওপর দিয়ে গেছে, তার একটি ছোট্ট নমুনা এখানে দিতে পারি। গভীর রাতে মুসার কাছে এসএমএস আসে, তুই একটা শয়তান। স্টেডিয়ামে তোর ফাঁসি দেখতে চাই। এতো কষ্ট, এতো যন্ত্রণা- মুসার বোধহয় প্রাপ্য ছিল না।
মুসা ইব্রাহীম, এভারেস্টজয়ী প্রথম বাংলাদেশী, আমাদের দীনতাকে ক্ষমা করবেন। আপনাকে পুনর্বার অভিনন্দন!
একনজরে মুসা ইব্রাহীম
উইকিপিডিয়ায় মুসা ইব্রাহীম : ইংরেজি | বাংলা
মুসা ইব্রাহীম এর বাংলা ব্লগ
মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট বিজয় : বিদেশী সংবাদমাধ্যমে
এএফপি | বিবিসি | ডয়চে ভেলে ১ | ডয়চে ভেলে ২ | ডয়চে ভেলে ৩ | ডয়চে ভেলে ৪ | দি হিন্দু | দি ডন | ইয়াহু নিউজ | এমএসএন | জি নিউজ | জিমবায়ো নিউজ | নিউজ টোয়েন্টিফোর | মিড ডে ডটকম | SMUCT
মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট বিজয় : বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে
প্রথম আলো ১ | প্রথম আলো ২ | প্রথম আলো ৩ | প্রথম আলো ৪ | প্রথম আলো ৫
প্রথম আলো ৬ | প্রথম আলো ৭ | ডেইলি স্টার ১ | ডেইলি স্টার ২
ইত্তেফাক | আমাদের সময় | ডেইলি নিউএজ | ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস | বিডিনিউজ ১ | বিডিনিউজ ২ | বিডিনিউজ ৩ | ভোরের কাগজ | বাংলা ওয়ার্ল্ড | ট্রুলি বাংলাদেশ
তাজাখবর
মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট বিজয় : দেশী-বিদেশী ফোরামে
এক্সপ্লোরার ওয়েব-১ | এক্সপ্লোরার ওয়েব-২ | ডিফেন্স ফোরাম | কেওকারাডং
মুসা ইব্রাহীমের অডিও সাক্ষাৎকার
পর্ব : ১ | পর্ব : ২ | পর্ব : ৩ | পর্ব : ৪ | পর্ব : ৫
টেলিভিশন সাক্ষাৎকার
দেশ টিভির মুখোমুখি মুসা ইব্রাহীম
মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট বিজয় : বাংলা ব্লগমণ্ডলে
অবশেষে বাংলাদেশের এভারেস্ট জয়!!
মুসা ইব্রাহীম- ‘বাংলা ভুতের’ প্রথম সাক্ষাতকার
মুসা ই কি প্রথম বাংলাদেশি?
মুসা ইব্রাহিমের এভারেস্ট সামিটের ছবি
ফ্লিকারে মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট অভিযানের ছবি
বামনকূলের ২০ প্রপাগাণ্ডা নিয়ে একটি পোড়ামাটি অনুসন্ধান - পর্ব : ১
বামনকূলের ২০ প্রপাগাণ্ডা নিয়ে একটি পোড়ামাটি অনুসন্ধান - পর্ব : ২
নেভারেস্ট এবং একজন ব্রেনডন ও'ম্যাহনি
মুসা ইব্রাহিমের ছবিগুলো
প্রায়নেভারেস্ট পোস্ট: মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্টের ছবি সম্পর্কে বিশ্লেষণ
আবারও অভিনন্দন মুসা ইব্রাহিমকে
যে বুদ্ধের মূর্তি আমরা কখনই দেখবো না
মুসা ইব্রাহীম-এর এভারেস্ট জয়, বিতর্ক, বাস্তবতা ও বিবিধ...
মুসা ইব্রাহীমের 'সাগর মাতা' জয় নিয়ে সৃষ্ট সংশয় ও কিছু বিশ্লেষন
মুসা ইব্রাহীম সংক্রান্ত পোস্ট এবং অনুসিদ্ধান্ত
মুসা ইব্রাহিম ইস্যুতে আমাদের ডাকসাইটে ব্লগারদের বিতর্ক সংস্কৃতির বেহাল দশা
টুকরো-টাকরা ৩
মুসা বিষয়ে মিথ্যাচার করে আমরা কি নিজেরাই নিজেদের ছোট করছি না?
মুসা এভারেস্টে উঠবার আগে ও পরে যা যা করতে পারতো
মুসা ইব্রাহিমের এভারেস্ট জয় এবং একজনের অভিজ্ঞতা
সজল খালেদ বনাম মুসা ইব্রাহিম
অভিনন্দন মুসা, অভিনন্দন ব্রেন্ডন, অভিনন্দন জলদস্যু
হাই ইস্পিড ইন্টারনেট দিয়াও হিমালয় থিকা কাউরে নামানো গেল না!
এক্সট্রা লার্জ ফুটোস্কোপিক সচিত্র অডিওভিস্যুয়াল ডিজিটাল রুপকথা
নেভারেস্ট বাংলা ব্লগের একটি দুষ্টক্ষত
হোয়াই হিমু গং এট রেস্ট ০
প্রসঙ্গ: মুসা ইব্রাহীম ।ব্লগারদের বিভ্রান্তকর। প্রয়োজন হিমুর সুরতহাল
প্রথম প্রকাশ
মুসা ইব্রাহীম সামহোয়্যারইনেরই ব্লগার, আগে কখনো নজর কাড়েননি সেভাবে। আজ এই তুমুল তরুণের ব্লগে গিয়ে দেখলাম, প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে কী অদ্ভূতভাবে ছড়িয়ে ছিল পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া জয়ের সুকঠিন প্রতিজ্ঞা! প্রোফাইলে লিখে রেখেছেন- 'লক্ষ্য ২০১০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এভারেস্ট জয় করা।' এখন সেটা ইতিহাস! প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট বিজয়ের পর সামহোয়্যারইন ব্লগ ছাড়াও কয়েকটি ছোট ব্লগে বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। নেটজগতের বাইরে এইসব চিৎকার-চেঁচামেচি একেবারেই মূল্যহীন। তবুও একজন নেটিজেন হিসেবে আমার মনে হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে একটি পোড়ামাটি অনুসন্ধান জরুরি। অনুসন্ধানের স্বার্থে মুসা ইব্রাহীম ছাড়াও তার সঙ্গে যাওয়া শেরপা, তার কাছের বন্ধুবান্ধব, ঘনিষ্ঠজন এবং ঢাকাভিত্তিক পর্বতারোহীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেগুলো আবার যাচাই-প্রতিযাচাই করেছি যথাসম্ভব। সেদিকে সময়ও লেগে গেছে বেশ খানিকটা। ওয়েবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তথ্য খুঁজেপেতেও সময় লেগেছে, তবে কার্পণ্য করিনি কিছুতেই।
প্রপাগাণ্ডা ১ থেকে ৯ নিয়ে ছিল প্রথম পর্ব। এবার দ্বিতীয় পর্ব।
কক্সবাজারে অবকাশ, কৃতজ্ঞতা অথবা উৎকোচ
প্রপাগাণ্ডা ১০ : এভারেস্ট অভিযানের সঙ্গী তিন শেরপাকে মুসা বাংলাদেশে শুধু আমন্ত্রণই জানাননি, বেড়াতে নিয়ে গেছেন কক্সবাজার সৈকতে। অথচ তার প্রাণ রক্ষা করেছেন যে ব্রেণ্ডান ওম্যামানি আর স্টিফেন গ্রিন, তাঁদের সম্পর্কে তিনি একেবারেই নিরব। একটি বারও তিনি তাদের নাম ধরে এখন পর্যন্ত কোথাও লেখেননি। বাংলাদেশে এই তিন শেরপা গাইডের জন্যে ভ্রমণের আয়োজন কি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, নাকি কোনো ধরনের উৎকোচ?অনুসন্ধান : এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে, ওই তিন শেরপা না থাকলে মুসার এভারেস্ট সামিট হতো না। পুরোটা সময় তারা তাকে মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছেন। যার যে দায়িত্ব সেটা তারা পালন করেছেন। প্রয়োজনে তাকে বকাবকিও করেছেন। এভারেস্ট টপ থেকে কিছুটা নিচে যখন পাথরে ঘষা খেয়ে মুসার অক্সিজেনের নল ফুটো হয়ে গিয়েছিল তখন সেটা মেরামত করে তার প্রাণ বাঁচিয়েছিল সঙ্গে থাকা দুই শেরপাই। আর নামার সময় মাস্কে বেশি নাড়াচাড়ার ফলে বেশ কিছু জায়গায় বরফ জমে গিয়ে মুসার যখন নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল, প্রচন্ড পানির তৃষ্ণায় যখন তিনি কাতর, তখন তাকে পানি আর পাওয়ার জেল খাইয়ে একটু চাঙ্গা করে তোলে স্টিফেন গ্রিন এবং ব্রেণ্ডান ওমামানি। তখনও মুসার সঙ্গে শেরপা ছিল। কিন্তু শেরপাদের পানিও শেষ হয়ে যাওয়ায় গ্রিন আর ওমামানির সাহায্য তখন খুব কাজে লেগেছিল। এই ছবিতে দেখুন এভারেস্ট চূড়া বিজয় শেষে নেপালে মুসা ইব্রাহীমের সঙ্গে ওই দুজনকে।
অনুসন্ধানে জেনেছি, মুসা তার এভারেস্ট অভিযানের সঙ্গী তিন শেরপাকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে এবং কক্সবাজার বেড়াতে নিয়ে গিয়ে তাদের প্রতি যে ধরনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, একই ধরনের কৃতজ্ঞতা ব্রেন্ডান ওমামানি ও স্টিফেন গ্রিনের কাছেও প্রকাশ করেছেন ওই একই সময়ে বাংলাদেশে ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানিয়ে। কিন্তু তারা সময় বের করতে না পারায় মুসা ইব্রাহীমের অনুরোধ রক্ষা করতে পারেননি। তবে গ্রিন ও ওম্যামানি আর তাদের দলের সঙ্গে নেপালের বিখ্যাত রামডুডল হোটেলে দেখা হলে সেখানে তাদের বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়, কৃতজ্ঞতার নিদর্শন স্বরূপ তাদের মাথায় লাল সবুজের ব্যান্ডানা পরিয়ে দেন মূসা ইব্রাহীম। দীর্ঘক্ষণ ধরে তারা সাংবাদিকদের কাছে সাক্ষাৎকার দেন এবং তখনকার ঘটনা বর্ণনা করে। সেদিন সন্ধ্যাতেই ছিল নেপালস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে মুসা ইব্রাহীমের সংবর্ধনা। সেই সংবর্ধনায় গ্রিন আর ওমামানিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা যথাসময়ে মুসার জন্য উপহার হাতে হোটেল এভারেস্টের সংবর্ধনায় হাজির হন। মুসা ইব্রাহীমের অনুরোধে তারাও মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। পরে মুসা ইব্রাহীম ও উপস্থিত বাঙালিরা তাদের সঙ্গেই বাংলাদেশ ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানায়। কিন্তু সময়ের টানাটানি থাকায় তারা অপারগতা প্রকাশ করলেও ভবিষ্যতে তারা বাংলাদেশে আসবেন এই কথা জানান। বাংলাদেশী পর্বতারোহীদের অনেকেই বলেছেন, শেরপাদের এদেশে ভ্রমণ করাটাকে উৎকোচ ভাবা অত্যন্ত অরুচিকর একটি সন্দেহ, যেখানে বাংলাদেশীরা অতিথিপরায়ণ হিসেবে বিশ্বখ্যাত। এখানে আরেকটি তথ্য, পর্বতারোহীদের অপর একটি সংগঠনের আমন্ত্রণে রেকর্ডধারী শেরপা পেমবা দর্জি একাধিকবার বাংলাদেশে এসেছেন সাম্প্রতিককালে। একে কি আমরা 'উৎকোচ' ভেবে সন্দেহ করতে পারি?
হিমালয়ান গাইডসের ওয়েবসাইটে অস্বাভাবিক নোটিশ
প্রপাগাণ্ডা ১১ : সাধারণত অভিযান আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলো বরাবরই তাদের ওয়েবসাইটে শিখরজয়ীদের নামের তালিকা প্রকাশ করে। কিন্তু হিমালয়ান গাইডস একটি অভূতপূর্ব ব্যতিক্রম ঘটিয়েছে মুসার ক্ষেত্রে। মনোযোগী পাঠক এখানে একটু লক্ষ করলেই দেখবেন, ১৭ মে ও ২৫ মে এভারেস্ট শিখরজয়ীদের প্রত্যেকের নামের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা এসেছে। এ দুয়ের মাঝখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ২৬ জনের H.G. International Everest Expedition ২০১০ দলের ২৫ জনকেই উপোর অন্ধকারে ঠেলে ফেলে দিয়ে এক ও একক মুসা ইব্রাহীমের কীর্তির জয়গান গাওয়া হয়েছে। মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, মুসা কি হিমালয়ান গাইডসের কোনো বিশেষ মক্কেল? এমন একজন ক্লায়েন্ট, যার নামটি অভিযাত্রী দলের একজন হিসেবে না এসে একটি পৃথক ভুক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে যুক্ত হয়? পাঠকের প্রশ্ন, হিমালয়ান গাইডস কেন এ ধরনের অস্বাভাবিক নোটিশ ইস্যু করলো? মুসা ইব্রাহীমই বা কেন বিশেষ একজন মক্কেল হতে যাবেন?
অনুসন্ধান : মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ের খবর বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর এদেশের আরেকজন পর্বতারোহী সজল খালেদ একটা ই-মেইলে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করে এই খবর কেন বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং সন্দেহজনক, তা সবার কাছে ব্যাখ্যা করেছিলেন। সজল খালেদ বলেছিলেন, মুসা ইব্রাহীম চায়না-তিব্বত মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন থেকে সনদ পেলে তবেই তার এভারেস্ট জয়কে বিশ্বাস করা যেতে পারে। এরপর তিনি অবশ্য ক্ষমা চেয়ে সবার কাছে ই-মেইল করেছেন যখন মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ের খবর সন্দেহাতীতভাবে নিশ্চিত হয়ে নেপালে বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বার্তায় তা দেশে পৌঁছে দিয়েছিল। কিন্তু এ সময়ে বিএমটিসি, ইনাম আল হক, সজল খালেদ, মুনতাসির মামুন ইমরান, মীর শামসুল আলম বাবু তখনও বিভিন্ন ব্লগে সরব ছিলেন এই বলে যে কোনো ওয়েবসাইট এখনও (২৫ মে ২০১০) যেহেতু মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ের খবর প্রচার করেনি, সুতরাং তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাদের নেতিবাচক প্রচারণায় অতিষ্ট হয়ে বাংলাদেশ থেকে মুসার বন্ধুরা তখন নেপালে অবস্থানরত নর্থ আলপাইন ক্লাব বাংলাদেশের সভাপতি আনিসুল হককে অনুরোধ করেন, হিমালয়ান গাইডসের ওয়েবসাইটে মুসার খবরটা ‘আপ’ করার ব্যাপারে হিমালয়ান গাইডসকে তাড়া দিতে। আনিসুল হক যখন পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে হিমালয়ান গাইডসের স্বত্ত্বাধিকারী ঈশ্বরী পাউডেলকে অনুরোধ করেন তখন তিনি হেসেই বাঁচেন না। তার কথা, একটা লোক এভারেস্টে উঠেছে কি উঠে নাই এটা ওয়েবসাইটে দেখিয়ে তোমাদের দেশের মানুষকে বিশ্বাস করাতে হবে? আচ্ছা ঠিক আছে আমি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই মুসার খবর ‘আপ’ করার ব্যবস্থা করছি। যাদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই খবর ‘আপ’ করা হলো তারাই এখন এখন বলছে এত গুরুত্ব দেওয়া হলো কেন। অনুসন্ধানকালে এখানে ভিন্ন কোনো রসায়নের খোঁজ পাইনি। তারপরও পাঠকদের মধ্যে কারো যদি সন্দেহ বর্তমান থাকে, তিনি চাইলে বিষয়টা নিয়ে হিমালয়ান গাইডসের প্রধান ঈশ্বরী পাডওয়েলের (উনি কিন্তু জলজ্যান্ত পুরুষ, মহিলা নন) সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন। তার ঠিকানা : Himalayan Guides Nepal: Treks & Expedition Pvt. Ltd. P.O. Box No: 20654, Thamel, Kathmandu, Nepal. Tel. : 4268211, 4260205, Fax : 00977-1-4260205, himguidenp@hons.com.np, basecamp@hons.com.np, http://www.himalayanguides.com
মুসা সম্পর্কে পবর্তারোহণ বিষয়ে বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিখ্যাত সাইট এক্সপ্লোরারওয়েবের দুটি লিংক এখানে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছি - প্রথম লিংক | দ্বিতীয় লিংক।
২৫ বনাম ৪৬ লাখ টাকা
প্রপাগাণ্ডা ১২ : আচ্ছা, একই সময়ে এভারেস্ট অভিযানে থাকা পর্বতারোহী এমএ মুহিত ২৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছেন একই পথ ধরে। মুসার দাবি অনুযায়ী, তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন ৪৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে এক মন্তব্যে সজল খালেদ জানাচ্ছেন, বিশ্ববিখ্যাত গাইডের প্রতিষ্ঠান ছাড়া এই খরচ হতে পারে সর্বোচ্চ ষোল-বিশ লাখ টাকা। সবমিলিয়ে তফাতটা বেশ বড়সড়, এখানে নিশ্চয়ই কোনো গোজামিল আছে!
অনুসন্ধান : খোঁজ নিয়ে দেখেছি, পর্বতারোহী এমএ মুহিতের এভারেস্ট অভিযানে শুধু ট্রান্সকম বেভারেজই ২৫ লাখ টাকা দিয়েছে। বিটিএমসির ইনাম আল হকও প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় নিজেই এ তথ্য জানিয়েছিলেন। মুহিতের অন্যান্য স্পন্সর সিটি ব্যাংক ও আকিজ গ্রুপও তাকে অভিযানের জন্য বড়ো অংকের টাকা দিয়েছিল। তাহলে মুহিত শুধু ২৫ লাখ টাকা নিয়ে গেলেন কিভাবে? অবশ্য সিটি ব্যাংক আর আকিজ গ্রুপের টাকাটা অন্যভাবে পকেটস্থ হয়েছে কিনা- সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে মুসা ইব্রাহীম এভারেস্ট অভিযানের জন্য নিয়ে ৪৬ লাখ টাকাই নিয়ে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে এভারেস্ট অভিযান করতে সরকারিভাবে ফি জমা দিতে হয়েছে দশ হাজার ডলার। প্রতি শেরপার বেতন পাঁচ হাজার ডলার করে (৫X৩=১৫ হাজার ডলার)। আর নর্থ ফেস দিয়ে হিমালয়ান গাইডের এভারেস্ট অভিযানের প্যাকেজের খরচ ৩৮ হাজার ডলার (যার ভেতর যাওয়া-আসা, খাওয়া-দাওয়া, থাকা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত)। এছাড়াও পর্বতারোহণ সরঞ্জাম কেনা ও ইন্স্যুরেন্স করতেও খরচ হয়েছে ২১০০ ডলার। এবার ডলারগুলোকে বাংলাদেশের টাকায় কনভার্ট করলে মুসা ইব্রাহীমের দাবির সত্যতাই প্রমাণ হয়। এমনিতে এভারেস্ট অভিযানে কত খরচ হয় সেটা আরও বিস্তারিত জানতে যে কেউ গুগলে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইটে এভারেস্ট অভিযানের খরচ কতো, তা সেখানেই দিয়ে রেখেছে।
সার্টিফিকেটের ভাষায় অসঙ্গতি
প্রপাগাণ্ডা ১৩ : সব বুঝলাম। কিন্তু মুসার সার্টিফিকেটের ভাষায় তো অসঙ্গতি রয়েছে বলে শুনেছি। এমনকি এক সার্টিফিকেটে যেখানে 'এভারেস্ট' লেখা, ঠিক সেই জায়গায় মুসার সার্টিফিকেটে কেন 'চমলাংমা' লেখা?
অনুসন্ধান : সজল খালেদ যখন দেশে বসে মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ের সংশয় ও সন্দেহ নিয়ে তার অপপ্রচারে ব্যস্ত, তখন দেশের সাংবাদিকরা মুসা ইব্রাহীমের কাছ থেকে (মুসা তখন বেস ক্যাম্পে) তার এভারেস্ট জয়ের সনদের ভাষা মোবাইল ফোনে জেনে নিতে ব্যস্ত। উদ্দেশ্যটা ছিল সংশয়বাদীর সংশয় দূর করার সর্বৈব প্রচেষ্টা চালানো। এটা করতে গিয়ে মোবাইল ফোনে সাংবাদিকরা এভারেস্ট জয়ের সনদের ভাষা শুনে নোট নিয়েছেন এবং তা তিন চার হাত বদল হয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ভাষায় কোনো বিচ্যুতি ঘটলে তার দায় কার ঘাড়ে পড়ে? মুসার, নাকি পত্রপত্রিকার? অনুসন্ধানকালে মুসার সার্টিফিকেটের ভাষায় কোনো অসঙ্গতি খুঁজে পাইনি। ওই একই রুট দিয়ে এভারেস্ট জয় করা অন্যান্যদের সার্টিফিকেট আর মুসার সার্টিফিকেটের ভাষা একই। নিচের ছবি দুটো দেখুন-
সার্টিফিকেটের ছবি ১ | সার্টিফিকেটের ছবি ২
আর অনেকেরই নিশ্চয়ই এটা জানা আছে যে, মাউন্ট এভারেস্টকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়ে থাকে। নেপালিরা ডাকে 'সাগরমাতা', তিব্বতে ডাকা হয় 'ঝুমুলাংমা' 'চমলাংমা' ইত্যাদি নামে। এই পার্থক্যের বিষয়ে আরো ভালোভাবে জানা যাবে উইকিপিডিয়ার এই ভুক্তি থেকে।
সার্টিফিকেটের ওজন পরিমাপ
প্রপাগাণ্ডা ১৪ : আচ্ছা, অসঙ্গতি না হয় নাই বা থাকলো, কিন্তু পর্বতারোহীর অনুপস্থিতিতে তার ট্যুর অপারেটরই যেখানে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারেন, সেখানে সার্টিফিকেটের গুরুত্ব কতটুকু?
অনুসন্ধান : পর্বতারোহীর অনুপস্থিতিতে ট্যুর অপারেটর সার্টিফিকেট কখন সংগ্রহ করে? এর উত্তর কি জানা আছে কারো? একটা ট্যুর অপারেটর পর্বতারোহীর অনুপস্থিতিতে তখনই সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে, যখন সেই পর্বতারোহী সম্পর্কে লিয়াজোঁ অফিসার এবং শেরপারা সাক্ষ্য দেয় যে তিনি সেই পর্বতে উঠেছেন। ট্যুর অপারেটরই যদি ‘যেনতেনভাবে’ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারতেন, তাহলে বাংলাদেশেই ‘এভারেস্ট বিজয়ী’র সংখ্যা হাজারদশেকের ঘরে পৌঁছাতো নিশ্চিত!
প্রমাণের অস্পষ্টতা কিংবা সুস্পষ্টতা
প্রপাগাণ্ডা ১৫ : এভারেস্ট জয়ের সুস্পষ্ট প্রমাণ কী? আমার উত্তর, একাধিক স্পষ্ট ছবি, যেখানে এভারেস্টের আশেপাশের ভৌগোলিক ফিচারগুলো বোঝা যায়; একটি ভিডিও লগ; সম্ভব হলে অন্যান্য পর্বতারোহীদের ডিসপ্যাচে উল্লেখ। এই তিনটির একটিও মুসা এখন পর্যন্ত জনসম্মুখে হাজির করেননি, কেবল একটি অস্পষ্ট ছবিকে এভারেস্টের শীর্ষে তোলা বলে প্রথম আলোতে প্রকাশ করা হয়েছে। এভারেস্ট অভিযানের ছবি যদি থেকেই থাকে, তাহলে সেসব প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন?
অনুসন্ধান : এভারেস্ট জয়ের সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসাবে একাধিক স্পষ্ট ছবি মুসা ইব্রাহীম ২০১০ সালের ২ জুন ঢাকার আইডিবি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সকল মিডিয়ার সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করেছেন। এছাড়া সামহোয়্যারইন ব্লগেই এসব ছবি ইতিপূর্বে প্রকাশ করেছেন একাধিক ব্লগার। এসব ছবি নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ থাকলে গুগলে সার্চ দিয়ে অন্যান্য দেশের পর্বতারোহীদের এভারেস্ট জয়ের ছবিগুলো কেমন, সেটা দেখে নেওয়া যায় সহজেই।
জানা গেছে, শীঘ্রই মুসার সকল ছবি ও তথ্য নিয়ে একটি ওয়েবসাইট আসছে শীঘ্রই। আগামী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে হতে যাচ্ছে প্রদর্শনী। তবে বলে রাখা ভালো, সামিটের যেসব ছবি আছে তা ইতিমধ্যে ব্লগ ও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, এর বাইরে সামিটের আর কোন ছবি নাই। মুসার বাকি ছবি যাত্রাপথ এবং ক্যাম্পের ছবি। প্রসঙ্গত, মন্টেনেগ্রোর পর্বতারোহী স্ল্যাগি এবং নেপালি পর্বতারোহী লাল বাহাদুর জিরেল যে মুসা ইব্রাহীমের সঙ্গে একই সময়ে এভারেস্ট চূড়ায় উঠেছেন, এর সত্যতা জানতে চেয়েছিলাম দুজনের কাছে পাঠানো পৃথক দুটি ইমেইলে। তারা দুজনেই সন্দেহাতীতভাবে এর সত্যতা স্বীকার করেছেন এবং একইসঙ্গে বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন এই ধরনের কৌতূহলে। তাদের ইমেইলের কপি দুটি আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে এটা ঠিক যে, মুসা ইব্রাহীম তার কোনো ভিডিও সামিটে করেননি। করতে পারেননি। একই কথা সার্বিয়ান পর্বতারোহী ড্রাগুটিন, মন্টেনেগ্রোর পর্বতারোহী ব্লেকা, স্ল্যাগি ও জোকো এবং নেপালি পর্বতারোহী লাল বাহাদুরর জিরেলের ক্ষেত্রেও। তারাও কোনো ভিডিও করেননি। করতে পারেননি। ভিডিও না করলে যে এভারেস্ট জয় মিথ্যা হয়ে যায়- সৌরজগতে এমন দাবি এই প্রথম বাংলাদেশেই করা হচ্ছে জেনে গর্বিত বোধ করছি!
ঠাণ্ডায় ব্যাটারির কাণ্ড-অকাণ্ড
প্রপাগাণ্ডা ১৬ : অভিযানে মুসা ব্যাটারি ফুল চার্জ দিয়ে নিয়ে গেছিলেন কিন্তু ৭/৮টি ছবি তোলার পর ব্যাটারি শেষ হয়ে যায়। ব্যাপারটা অস্বাভাবিক নয় কি?
অনুসন্ধান : মুসা ইব্রাহীম এভারেস্ট চূড়ায় ১৯টি ছবি তুলেছিলেন- দু’য়েকটা বাদে সবগুলোই ফ্ল্যাশ দিয়ে। এভারেস্ট চূড়ার ভয়াবহ ঠাণ্ডার কথা ওয়াকিবহাল মাত্রেরই জানার কথা। বিশেষ করে ভোরবেলায় এভারেস্ট চূড়ার তাপমাত্রা সম্পর্কে গুগলের কল্যাণে ধারণা নেওয়া অতি সহজ। সেখানে ঠান্ডায় ব্যাটারির স্বাভাবিক অবস্থা থাকে না। কেউ কেউ বলছেন, একাধিক ব্যাটারি নিয়ে গেলে কী সমস্যা হতো? তাতেও বোধহয় কাজের কাজ কিছু হতো না। ঠান্ডার প্রভাব সকল ব্যাটারির উপরই পড়ে। আপনার যদি নৌকাডুবি হয় তাহলে আপনার সঙ্গে থাকা একটা ব্যাটারির যে অবস্থা হবে এক ডজন ব্যাটারিরও সেই একই অবস্থা হবে।
ছবি হিমালয়ের, তবে চূড়ার নয়
প্রপাগাণ্ডা ১৭ : ব্লগে প্রকাশিত এই ছবিগুলো হিমালয়ের যে কোনো জায়গায় হতে পারে। এগুলো তো আর চূড়ার ছবি নয়, নাকি?
অনুসন্ধান : ব্লগে প্রকাশিত ওই ছবিগুলো হিমালয়ের যেকোনো জায়গারই হতে পারে, বেশ তো বলুন তাহলে কোন্ জায়গার? সেই জায়গাটার পরিচয় খুঁজে বের করতে পারলেই বোঝা যাবে ছবিটি আসলে কোন্ জায়গার। গবেষণা করতে চাইলে এই ছবিটিতে দেখুন মুসা ‘ভি’ চিহ্ন দেখাচ্ছেন। সেই ছবিতে পেছনে হিমালয় রেঞ্জের বেশ কিছু চূড়া দেখা যাচ্ছে। ওই চূড়ার পরিচয় বের করলেই অনায়াসে বোঝা যাবে, এই এঙ্গেলে ওই চূড়ার ছবি কেবল এভারেস্ট টপ থেকেই নেওয়া সম্ভব।
এভারেস্টের পিছনে পিরামিড শ্যাডো দেখা যাচ্ছে যে ছবিটায়, সেটা যে মুসা ইব্রাহিমের তোলা, তা বিশেষায়িত যে কোনো সফটওয়্যার দিয়ে পরীক্ষা করলেই বোঝা সম্ভব। তাতে ক্যামেরার সিরিয়াল নম্বর এবং অন্যান্য তথ্য বের করা গেলে সহজেই পরীক্ষা করা সম্ভব সামিটের অন্যান্য ছবিগুলো একই ক্যামেরা দিয়ে একই লোকের হাতে তোলা কিনা।
মুসা ইব্রাহীমের সদ্য নেওয়া অডিও সাক্ষাৎকার
গ্রহণে : মাসকাওয়াথ আহসান
প্রথম পর্ব :
দ্বিতীয় পর্ব :
তৃতীয় পর্ব :
চতুর্থ পর্ব :
পঞ্চম পর্ব :
জিজ্ঞাসার দরজা খোলা
এরপরও যদি এই বিষয়ে ব্লগারদের কোনো জিজ্ঞাসা-প্রশ্ন থাকে, জানাতে দ্বিধা করবেন না। কোনো কোনো বিষয়ে অনুসন্ধানের খাতিরে জবাব দিতে কিঞ্চিৎ দেরি হতে পারে হয়তো, তবে কার্পণ্য থাকবে না। সামহোয়্যারের সদস্য নন যারা, তারা bolekoye[এট]gmail.com -এ মতামত-দ্বিমত জানাতে পারেন। সত্য উদঘাটনই এই অনুসন্ধানের মূল্য লক্ষ্য।
প্রথম প্রকাশ
প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট বিজয়ের পর সামহোয়্যারইন ব্লগ ছাড়াও কয়েকটি ছোট ব্লগে বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এসব প্রশ্নে কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, অনেকের কলমে দেখা গেছে ক্ষোভ-হতাশা। তবে বেশিরভাগই না-বুঝে 'একেবারে ফাটায়া ফেলসেন' শীর্ষক হর্ষধ্বনি, কেউ কেউ আবার 'বিষয়টা এখনো আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না কেন' শীর্ষক প্রবাসবিলাস প্রকাশ করেছেন। যদিও নেটজগতের বাইরে এইসব চিৎকার-চেঁচামেচি একেবারেই মূল্যহীন। তবুও একজন নেটিজেন হিসেবে আমার মনে হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে একটি পোড়ামাটি অনুসন্ধান জরুরি। অনুসন্ধানের স্বার্থে মুসা ইব্রাহীম ছাড়াও তার কাছের বন্ধুবান্ধব, ঘনিষ্ঠজন এবং ঢাকাভিত্তিক পর্বতারোহীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেগুলো আবার যাচাই-প্রতিযাচাই করেছি যথাসম্ভব। সেদিকে সময়ও লেগে গেছে বেশ খানিকটা। ওয়েবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তথ্য খুঁজেপেতেও সময় লেগেছে, তবে কার্পণ্য করিনি কিছুতেই। বিষয়ের মূলে যাওয়ার আগে দেখা যাক, কেন আমরা প্রোপাগাণ্ডা বিশ্বাস করি? বড়ো ব্লগে এটা তেমন সমস্যা নয়। যেমন সামহোয়্যারে এভারেস্ট সংক্রান্ত প্রোপাগাণ্ডাগুলো হাওয়ায় মিশে যেতে সময় লাগেনি। কিন্তু ছোট ব্লগ কিংবা বদ্ধ জায়গা থেকে প্রোপাগাণ্ডার গন্ধ যেতে সময় লাগে। দেশী প্রোপাগাণ্ডার ধরনধারণ বিশ্লেষণ করে এর তিনটি মৌল উপাদানকে ছক কেটে আলাদা করলাম, যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিশেষ করে বাংলাদেশে 'প্রোপাগাণ্ডা' গড়ে ওঠে। এই তিনটি যদি একটি ভারসাম্যে এসে পৌঁছায়, তাহলে প্রোপাগাণ্ডার শেকড় পোক্ত হতে থাকবে ধীরে ধীরে। নিচের ডায়াগ্রামে দেখুন। ডায়াগ্রামটি বড়ো আকারে দেখতে চাইলে ক্লিক করুন এখানে।
অন্নপূর্ণা ফোর সামিট, হোয়াইট আউট এবং অন্যান্য
প্রপাগাণ্ডা ১ : ওপরের ছবিটি অন্নপূর্ণা ফোর সামিটের। বরফের ওপর ঘোলা ব্যাকড্রপের সামনে দাঁড়িয়ে মুসা ইব্রাহীম [বামে] আর তৌহিদ হোসেন। আমরা ঠিক কী দেখে বুঝবো যে, এটি একটি পর্বতশীর্ষের ওপর তোলা ছবি? অন্নপূর্ণায় আঠারো হাজার ফিটের পর থেকে সমস্তটাই বরফ, তার কোথায় দাঁড়িয়ে এ ছবি তোলা, তা কী করে বোঝা যাবে? এই ছবিটি কি প্রমাণ হিসেবেই দর্শকের কাছে উপস্থাপন করা হচ্ছে না? এই প্রমাণ কি যথেষ্ট?অনুসন্ধান : একাধিক পর্বতারোহী নিশ্চিত করেছেন, পর্বতে হোয়াইট আউট (হঠাৎ করে মেঘ এসে চারদিক ঢেকে দেওয়া) হওয়া একটা স্বাভাবিক ঘটনা। হোয়াইট আউট হলে পাঁচ হাত দূরে কী আছে, তা দেখা যায় না, বোঝা যায় না। ইন্টারনেট ঘেঁটে পাওয়া এরকম কয়েকশত ছবি থেকে কয়েকটি নিচে তুলে দিচ্ছি-
প্রথম ছবি | দ্বিতীয় ছবি | তৃতীয় ছবি | চতুর্থ ছবি | পঞ্চম ছবি
ব্যাকগ্রাউন্ড ফিচার বিষয়ক জটিলতা
প্রপাগাণ্ডা ২ : হুম, তা না হয় বুঝলাম, কিন্তু পর্বতশীর্ষ জয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যাকগ্রাউন্ডে অন্যান্য ফিচারগুলো রাখা কি জরুরি নয়?
অনুসন্ধান : এখানে একটি পাল্টা প্রশ্ন রাখা যায় এরকম- আপনি যখন পর্বতের শীর্ষ জয় করবেন তখন যদি হোয়াইট আউট হয় তখন কী করবেন? হোয়াইট আউটের মধ্যেই ছবি তুলবেন নাকি হোয়াইট আউট কেটে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন? হোয়াইট আউট এক মিনিটেও সরে যেতে পারে, আবার ঘন্টার পর ঘন্টাও থাকতে পারে। অনুসন্ধানে জেনেছি, অন্নপূর্ণা ফোর পর্বতাভিযানে ওই পর্বতের চূড়ায় যে সময়ে (১১টা ৫৪ মিনিট, স্থানীয় সময়) মুসা ইব্রাহীম আর তৌহিদ হোসেন পৌঁছেছিলেন, সে সময়ে পর্বতের চূড়ায় পুরোটাই হোয়াইট আউট ছিল। এ কারণে বরফের ঘোলা ব্যাকড্রপ বলে মনে হচ্ছে। আর অন্নপূর্ণায় আঠারো হাজার ফুটের পর থেকে সমস্তটাই বরফ, কিন্তু চূড়া একটাই। সেখানেই এ দুজন পর্বতারোহী ছবিটি তুলেছেন।
এভারেস্ট সার্টিফিকেট একটি মামুলি জিনিস
প্রপাগাণ্ডা ৩ : এদিক- সেদিক করে পর্বতে না গিয়েই যে কেউ নেপাল বা তিব্বত থেকে সার্টিফিকেট বাগিয়ে নিতে পারে।
অনুসন্ধান : না, সেটা সম্ভব নয়। এককথায়, হাস্যকর অনুমান। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের নিয়ম অনুসারে ৭ হাজার মিটার অধিক উচ্চতার যে কোনো পর্বতে অভিযান পরিচালনা করতে গেলে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড (সরকারি প্রতিষ্ঠান) নিজের পছন্দমাফিক একজন লিয়াঁজো অফিসার অভিযাত্রী দলের সঙ্গে দিয়ে দেয় যে- অভিযাত্রী দলটি সত্যিই অভিযানে গেল কি না, অভিযাত্রী দলটি কবে বেস ক্যাম্পে পৌঁছাল, বেস ক্যাম্প পরিবেশবান্ধব রাখার নিয়মকানুন দলটি মানছে কি না, দলটি কবে কোন্ কোন্ ক্যাম্প স্থাপন করল, দলটি কবে পর্বত জয় করল, দলটির কোনো বিপদ হলো কি না, দলে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ল কি না ইত্যাদি সব বিষয় এই লিয়াঁজো কর্মকর্তা নিজ দায়িত্বে সরকারের কাছে রিপোর্ট করে থাকেন। তার রিপোর্টের ভিত্তিতেই অভিযাত্রী দলকে নির্দিষ্ট পর্বতারোহণের সনদ নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড দিয়ে থাকে।
অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এনএসিবির (নর্থ আলপাইন ক্লাব) অন্নপূর্ণা ফোর অভিযানে লিয়াঁজো অফিসার নিজে সামিটের ছবি দেখে নিশ্চিত হয়ে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এর পরই নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড এনএসিবি দলকে অন্নপূর্ণা ফোর পর্বতে সাফল্যসূচক সনদ দিয়েছে।
রুবল কাং ও মেরা পর্বত নিয়ে প্রশ্ন
প্রপাগাণ্ডা ৪ : নাহ্, তারপরও সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। আচ্ছা, ওরকম উদাহরণ তো আর নেই। থাকলে না হয় একটা কথা ছিল।
অনুসন্ধান : কে বলল উদাহরণ নেই! বিদেশের কথা থাকুক, একেবারে খোদ ঘরেরই আছে তাজা দুটি উদাহরণ। যেমন, মুসা ইব্রাহীমের অন্নপূর্ণা ফোর পর্বত জয়ের ছবিকে যদি সন্দেহের চোখে দেখতে হয়, তাহলে মুনতাসির মামুন ইমরানের দাবিকৃত কেওক্রাডং বাংলাদেশ ক্লাবটির ভারতে রুবল কাং পর্বত জয়ের যে ছবি রয়েছে, সেগুলো নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায়। ছবিটি দেখুন এখানে।
আরো জোরালো প্রশ্ন তোলা যায়, ইনাম আল হকের পরিচালনায় বিএমটিসির সদস্য সজল খালেদ, নিশাত মজুমদার, নূর মোহাম্মদ, এম এ মুহিতের নেতৃত্বে নেপালে মেরা পর্বত জয়ের দাবিকৃত ছবিগুলো নিয়ে। নিজেই দেখুন, ছবিতে বোঝা কি যাচ্ছে কিছু?
পর্বতের ঢালে ছবি, চূড়োয় ফুটবল মাঠ
প্রপাগাণ্ডা ৫ : ধুরো, বললেই হল! মুসা ইব্রাহীম অন্নপূর্ণা ফোর পর্বত জয় করেননি, কোনো এক পর্বতের ঢালে গিয়ে এই ছবি তুলেছেন।
অনুসন্ধান : অনুসন্ধানের স্বার্থে সন্দেহবাদীদের কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ঠিক কোন্ কোন্ পর্বতের চূড়ায় ঢাল নেই এবং কোন্ কোন্ পর্বতের চূড়া সমতল- তা কি দয়া করে জানাবেন? না, তারা জানাতে পারেননি। আমি আরো নির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছিলাম, অন্নপূর্ণা ফোর পর্বতের চূড়ার ঠিক কতোখানি জায়গা সমতল? না, সন্দেহবাদীরা নিশ্চুপ থেকেছেন। ভবিষ্যতে হয়তো এ বিষয়ে তারা জবাব দেবেন। তবে এটা নিশ্চিত যে, পর্বতের চূড়া নিশ্চয়ই ফুটবল খেলার মাঠের মতো সমতল জায়গায় ভরপুর থাকে না!
দুদিনের ভেতরে চার হাজার একশো এক ফিট!
প্রপাগাণ্ডা ৬ : অন্নপূর্ণা-৪ এ আবহাওয়া মোটামুটি ভালো থাকলে দিনে এক হাজার ফুট উচ্চতা পাড়ি দেন পর্বতারোহীরা। আর মুসার অন্নপূর্ণা-৪ অভিযানে পোর্টার-শেরপারা দুদিনের ভেতরে চার হাজার একশো এক ফিট কিভাবে উঠে গেলেন? পরে মুসা যে গতির কথা দাবি করছেন, তুষারপাতের সময় কি পর্বতারোহণে সে গতি অর্জন করা আদৌ সম্ভব?
অনুসন্ধান : এনএসিবির (নর্থ আলপাইন ক্লাব) প্রমাণাদি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, অন্নপূর্ণা ফোর অভিযান শুরু হয়েছিল ২৯ মে ২০০৯ তারিখে। অভিযাত্রীরা রওনা হওয়ার আগেই এদিন তিনজন শেরপা গাইড, ২২ জন মালবাহক এবং একজন ট্রেকিং অভিযাত্রী কাঠমান্ডু থেকে অন্নপূর্ণা ট্রেইলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। তারা ভুলভুলে থেকে ট্রেকিং শুরু করে ৩ জুন ২০০৯ তারিখে অন্নপূর্ণা ফোর বেস ক্যাম্পে পৌঁছান। এনএসিবির অভিযাত্রীরা রওনা দেন ২ জুন। বেসক্যাম্পে এনএসিবির মূল পর্বতারোহী দলের তিন সদস্য গিয়ে পৌঁছান ৮ জুন। মাঝখানে সময় গিয়েছে ৫ দিন। এই পাঁচ দিনের মধ্যে তিনজন শেরপা গাইড আরও উপরে উঠে ক্যাম্প টু স্থাপন করে রেখে আবার এই বেসক্যাম্পে ফেরত আসে। দেখা যাচ্ছে, ধ্রুব জ্যোতি ঘোষ নিজেও ওই সময়ে শেরপাদের সঙ্গে ছিলেন। এই তিনজন শেরপা গাইডের মধ্যে একজন- কৈলাস তামাং সে সময় ছিলেন দুবার এভারেস্ট জয়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন (২০০৭ নর্থ ফেস, ২০০৮ নেপাল সাইড), সোম বাহাদুর পর্বতারোহণে গাইড পেশায় রয়েছেন ২৫ বছর ধরে। এনএসিবি দলের সদস্যরা আবহাওয়ার বিরূপ অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা চিন্তিত থাকলেও সৌভাগ্যক্রমে ট্রেইলে দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টি ছাড়া তেমন কোনো বৈরিতার মধ্যে পড়েনি। বেস ক্যাম্প, ক্যাম্প ওয়ান, ক্যাম্প টু ইত্যাদি জায়গাগুলোতে সকাল ও সন্ধ্যায় হোয়াইট আউট, সন্ধ্যার পর থেকে পুরো রাত তুষারপাত ইত্যাদি হলেও তা ছিল পর্বতের জন্য স্বাভাবিক। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবং তিনজন শেরপার সহযোগিতায় এনএসিবি দল ১৪ জুন অন্নপূর্ণা ফোর আরোহণ করতে সক্ষম হয়।
এটা খুব হাস্যকর কথা যে, সময় মেপে মেপে পর্বত আরোহণ করতে হবে কিংবা অনুমিত সময়ের চেয়ে কম সময়ে কোনো পর্বত আরোহণ করা যাবে না। তাহলে ৮ ঘণ্টায় যে পেমবা দরজি শেরপা এভারেস্ট জয় করেছে, তাও সম্ভব হতো না। এখানেও তো প্রশ্ন তোলা যায়, পেমবা কিভাবে দাবি করেন যে তিনি ৮ ঘন্টায় সামিট করেছেন? কিন্তু তিনি যে সামিট করেছেন তাতে কি কোন সন্দেহ আছে? যদি না থাকে তাহলে কেন নেই?
অন্নপূর্ণায় অলৌকিক গতি
প্রপাগাণ্ডা ৭ : প্রসঙ্গক্রমে আরো কিছু কথা কিন্তু থাকে। এর আগে লাংসিসা রি অভিযানে, মাত্র ৭ মাস আগে, ২১,০৮১ ফিট উঁচু লাংসিসা রি শীর্ষে পৌঁছতে মুসা ও তাঁর দলের লেগেছিলো ২৪ দিন। লাংসিসা রি আরোহণ খুব দুঃসাধ্যও নয়। আর মাত্র ৭ মাস পর তারা কিভাবে এমন দুর্দান্ত গতিবেগ অর্জন করলেন যে ট্রেইলে পা রাখার ১১ দিনের মাথায় ২৪,৬৮৮ ফিট উচ্চতার অন্নপূর্ণা-৪ এ পৌঁছে গেলেন? তার ওপর বেইসক্যাম্প থেকে যাত্রা শুরুর পঞ্চম দিনের মাথায় এবং অক্সিজেন ছাড়াই?
অনুসন্ধান : ২১,০৮১ ফুট উঁচু লাংসিসা রি পর্বত আরোহণ করতে সময় লেগেছে ২৪ দিন। কিন্তু অন্নপূর্ণা ফোর পর্বতে মাত্র ১১ দিনের মাথায় ২৪,৬৮২ ফুট উঁচু সামিটে মুসা ইব্রাহীমরা পৌঁছে গেছেন। কথার ভেতর একটা বড় ফাঁক রয়েছে। এই ফাঁকটাই যে কাউকে বিভ্রান্ত করে তুলতে পারে। এখানে লাংসিসা রি পর্বতাভিযানের সময়ের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে সেটা ঢাকা থেকে লাংসিসা রি হয়ে আবার ঢাকায় ফেরার হিসেব। ঢাকা থেকে লাংসিসা রি চূড়া হয়ে আবার ঢাকায় আসতে মোট সময় লেগেছিল ২৪ দিন। আর ট্রেকিং শুরুর পর থেকে লাংসিসা রি সামিটে পৌঁছতে সময় লেগেছে ১০ দিন। একইভাবে ঢাকা থেকে অন্নপূর্ণা ফোর পর্বতাভিযান শুরু করে তা শেষ করে আবার ঢাকায় ফিরতে সময় লেগেছে ৩০ দিন। আর ট্রেক শুরু করে সামিটে পৌঁছতে সময় লেগেছে ১১ দিন। তবে এই অভিযানের সময় হিসাব করতে হবে, শেরপারা যেদিন কাঠমাণ্ডু থেকে রওয়ানা দিয়ে ট্রেক শুরু করেছেন, সেদিন থেকে (২৯ মে)। সেই হিসাবে সময় লেগেছে ১৫ দিন। তাহলে সময়ের গরমিলটা হলো কোথায়?
ব্লগে এবং অন্যান্য ওয়েবসাইটে যে রেফারেন্স টেনে কথা বলা হচ্ছে তা ১৯৫০ সালের রেফারেন্স। পর্বতারোহণ এখন আগের তুলনায় কৌশলগতভাবে অনেক সহজ হয়েছে। আগে যেসব রুটে হাঁটা ছাড়া গতি ছিল না সেসব জায়গায় এখন গাড়ি চলে। অন্নপূর্ণা ফোরেও তাই। একদিনের গাড়ি করে চলা পথ চারদিনের হাঁটার দুরত্ব কমিয়ে দেয়। মুসা ইব্রাহীমের নর্থ আলপাইন ক্লাবের অভিযাত্রীরাও গাড়িতে করে পায়ে হাঁটার দুই দিনের দুরত্ব কমিয়েছেন- এটা যেমন খুব স্বাভাবিক, ঠিক তেমনি ১৯৫০ সালের সঙ্গে ২০০৯ সালের হিসেব মিলবে না এটাও একেবারেই সাধারণ হিসাব।
সোম বাহাদুর তামাংয়ের সাক্ষ্য : বিশ্বাস-অবিশ্বাস
প্রপাগাণ্ডা ৮ : সোম বাহাদুর তামাং এমন একজন গাইড, যিনি সত্য সাক্ষ্য দেন না, এবং অসত্য সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে অনায়াসে একটি শৃঙ্গজয়ের সার্টিফিকেট কব্জা করা যায়। তাকে কিভাবে আমরা বিশ্বাস করতে পারি?
অনুসন্ধান : নেপালে পর্বতারোহণে শেরপা/গাইডকে কতোখানি বিশ্বাস করা যায়, এটা নির্ভর করে পর্বতারোহীর সততার ওপর। পর্বতারোহী সজল খালেদের ভাষ্যমতে সোম বাহাদুর তামাং যদি মিথ্যুক গাইড হয়েই থাকেন, তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, চুলু ওয়েস্ট পর্বতাভিযানে (২০০৭) সেটা ‘বুঝতে পেরেও’ কেন তিনি বিএমটিসি’র সিঙ্গুচুলি পর্বতাভিযানে (২০০৮) তাকে শেরপা সর্দার কিংবা গাইড হিসাবে নিয়েছিলেন? রিয়াজ আহমেদ ও ওয়ালিদ আশরাফ সিঙ্গুচুলি পর্বত জয় না করলেও কেন তারা নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের সনদ নিয়েছিলেন? এটা কি শুধু গাইডের দোষ? খোঁজ নিয়ে জেনেছি, রিয়াজ আহমেদ এই পর্বতাভিযান শেষ হওয়ার বহু আগেই দেশে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু তাকে সনদ পাইয়ে দিয়েছিল কি শুধুই সোম বাহাদুরের অসততা? প্রশ্ন উঠতে পারে, সজল খালেদের এতে কি কোনো ভূমিকা ছিল না? একইভাবে চুলু ওয়েস্ট পর্বত জয়ের মিথ্যা দাবি করেও নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন থেকে সজল খালেদ ও এম এ মুহিত যখন সনদ নিয়েছেন, তখন সে সময়ে নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনে মুসা ইব্রাহীম উপস্থিত না থাকলেও তার সনদ কেন সজল খালেদ নিলেন? এটা সোম বাহাদুরের অসততা না কি সজল খালেদের অসততা? সবচেয়ে বড়ো কথা, সোম বাহাদুরের কি আর কোনো কাজ নেই যে, শুধু বাংলাদেশ থেকে পর্বতারোহী গেলেই তাকে একটা করে সনদ পাইয়ে দেন তিনি?
এমএ মুহিতের দেখা- না দেখা
প্রপাগাণ্ডা ৯ : মুসার একই সময়ে এভারেস্ট অভিযানে থাকা এম এ মুহিত তো মুসা ইব্রাহীমকে দেখেননি, তার নামই শোনেননি।
অনুসন্ধান : ভুল তথ্য। এম এ মুহিত যে এভারেস্ট অভিযানের সময় মুসাকে দেখেছেন, তা তিনি নেপালের কাঠমান্ডুতেই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কাছে। চাইলে এর ফুটেজও সংগ্রহ করা যাবে।
জিজ্ঞাসার দরজা খোলা
এরপরও যদি এই বিষয়ে ব্লগারদের কোনো জিজ্ঞাসা-প্রশ্ন থাকে, জানাতে দ্বিধা করবেন না। কোনো কোনো বিষয়ে অনুসন্ধানের খাতিরে জবাব দিতে কিঞ্চিৎ দেরি হতে পারে হয়তো, তবে কার্পণ্য থাকবে না। সামহোয়্যারের সদস্য নন যারা, তারা bolekoye[এট]gmail.com -এ মতামত-দ্বিমত জানাতে পারেন। সত্য উদঘাটনই এই অনুসন্ধানের মূল্য লক্ষ্য।
প্রথম প্রকাশ













