'অনুভূতি' আসলে সব শালারই আছে! প্রগতিশীলতার ভেক ধরা কেউ কেউ এতোদিন নিপুণভাবে অভিনয় করে আসছিল যে, 'অনুভূতি' জিনিসটা শুধু হেফাজতিদেরই আছে, ধর্মান্ধদেরই আছে, মৌলবাদিদেরই আছে। এই বেলা হাসনাত আবদুল হাইয়ের ছোট্ট একটি গল্প একেবারে হাতেনাতে প্রমাণ করিয়ে ছাড়লো যে, প্রগতিশীলতার ভেক ধরে যারা হেফাজতিদের বিরোধিতা করে আসছিল, বাক-স্বাধীনতার কথা বলে চোখের জল ফেলছিল, তারাও আসলে হেফাজতি গোত্রেরই, তারাও আসলে মৌলবাদিই, হেফাজতিদের মতো তারাও ভিন্নমতকে সহ্য করতে পারে না। রসুনের সবগুলো কোয়াই আসলে এক জায়গায়। এতোদিন ধরে বাক-স্বাধীনতার ধ্বজা ধরার অভিনয় যারা করে আসছিলেন, ছোট্ট একটি গল্প তাদের মুখোশটা পুরোপুরি খুলে দিয়েছে। এই লোকগুলোই এতোদিন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যেভাবে চোখের জল ফেলে আসছিলেন, তার সব একত্র করলে উত্তরবঙ্গের কোনো এক মরা নদীতে প্রাণ সঞ্চার করা যেতো নিশ্চিত। হেফাজতের ধর্ম-'অনুভূতি' নিয়ে এতোদিন ধরে কতোই না ঠাট্টা, কতোই না মশকরা তারা করে আসছিলেন! অথচ ছোট্ট একটি গল্পের ভার বহন করতে গিয়ে তাদের 'অনুভূতি' এতোটাই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে যে, রীতিমতো হেফাজত স্টাইলে তারা সাহিত্যিকের কল্লা চাইছে, পত্রপত্রিকা পোড়ানোর উৎসবে মেতেছে। আমার নিজের ধারণা, প্রথম আলো শ্রেফ বাণিজ্যিক স্বার্থে ক্ষমা চেয়েছে। সেটিই স্বাভাবিক। কারণ প্রথম আলো তো আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম কিংবা গাণ্ধী আশ্রম নয় যে, তারা জনসেবা করার জন্য পত্রিকা বের করেছে। বিশ্বের যে কোনো দেশেই সংবাদপত্র হলো একটি বাণিজ্যিক পণ্য। তবু প্রথম আলোর এই ক্ষমাপ্রার্থনা মুক্তচিন্তাকে কিছুটা হলেও ব্যাহত করবে। তাদের এই ক্ষমাপ্রার্থনার নিন্দা জানাই।
লেখক কী লিখবেন, সেটি তার স্বাধীনতা
হাসনাত আবদুল হাইয়ের সেই ছোট গল্পে সীমা নামের একটি মেয়ের জীবনকথা চিত্রিত হয়েছে। চাঁদে যেমন সাঈদীর ছবি খুঁজে পেয়েছেন অনেকে, ঠিক তেমনি ওই গল্পে গণজাগরণ মঞ্চের কোনো এক নারীকর্মীর জীবনকাহিনী খুঁজে পেয়েছেন কল্পনার জোর খাটিয়ে। অনেকে এনেছেন অশ্লীলতার অভিযোগ। সাহিত্যে যৌনতা থাকাটা কি অবৈধ কোনো কিছু? কোনো লেখা কারো ভালো লাগতে না পারে, কারো কোনো লেখা একজনের কাছে অশ্লীল মনে হতে পারে, তিনি আপত্তি জানাতেই পারেন। ক্ষুব্ধ কেউ সমালোচনাও করতে পারেন শালীন ভাষায়, সাহিত্যের প্রথা মেনে। আবার কারো কাছে সেই একই লেখা অশ্লীল মনে নাও হতে পারে। কিন্তু একজন লেখকের লেখা একেবারে বাতিল করে দেওয়া যায় না। লেখকের কলমের ওপর ফিল্টার বসানো যায় না। লেখক কী লিখবেন, সেটি পুরোপুরিই তার নিজের স্বাধীনতা। অমুক-তমুক এই নির্দেশ দিতে পারেন না যে, লেখক এই শব্দ ব্যবহার করতে পারবেন আর ওই শব্দ ব্যবহার করতে পারবেন না। অমুক বিষয়ে লেখা যাবে আর তমুক বিষয়ে লেখা যাবে না। এগুলো শ্রেফ তালেবানি মানসিকতা। জামায়াতে-হেফাজতে ইসলামীর সঙ্গে এইসব প্রগতিশীল-মোল্লার খুব বেশি তফাৎ নেই। হাসনাত আবদুল হাইয়ের লেখাটির ক্ষেত্রে যা ঘটছে, তা হচ্ছে লেখকের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ - স্পষ্ট করে বললে শব্দ-তালেবানি। ব্লগ ও ফেসবুকের কল্যাণে এই শব্দ-তালেবানি ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। এই তালেবানদের হাতে লেখকের স্বাধীনতা পরাস্ত হতে পারে না। একপাল শব্দ-তালেবানের হাতে লেখকের স্বাধীনতা ভূলুন্ঠিত হবে- এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তা না হলে হয়তো এমন একদিন আসবে, প্রগতিশীলতার ভেক ধরা এই শব্দ-তালেবানরা তাদের পছন্দসই শব্দ কিংবা প্লটের তালিকা ধরিয়ে দেবে লেখকের হাতে। আর লেখক সেই তালিকা দেখে দেখে শ্লীল সাহিত্য-আইনসম্মত সাহিত্য রচনা করবেন।
শব্দ-তালেবানদের প্রতিহত করা জরুরি
প্রগতির স্বার্থে যে কোনো মূল্যে এই শব্দ-তালেবানদের প্রতিহত করা জরুরি। এই স্বাধীনতা রক্ষার জন্য লড়েছি অতীতে, লড়বো সারাজীবনই।
লেখক কী লিখবেন, সেটি তার স্বাধীনতা
হাসনাত আবদুল হাইয়ের সেই ছোট গল্পে সীমা নামের একটি মেয়ের জীবনকথা চিত্রিত হয়েছে। চাঁদে যেমন সাঈদীর ছবি খুঁজে পেয়েছেন অনেকে, ঠিক তেমনি ওই গল্পে গণজাগরণ মঞ্চের কোনো এক নারীকর্মীর জীবনকাহিনী খুঁজে পেয়েছেন কল্পনার জোর খাটিয়ে। অনেকে এনেছেন অশ্লীলতার অভিযোগ। সাহিত্যে যৌনতা থাকাটা কি অবৈধ কোনো কিছু? কোনো লেখা কারো ভালো লাগতে না পারে, কারো কোনো লেখা একজনের কাছে অশ্লীল মনে হতে পারে, তিনি আপত্তি জানাতেই পারেন। ক্ষুব্ধ কেউ সমালোচনাও করতে পারেন শালীন ভাষায়, সাহিত্যের প্রথা মেনে। আবার কারো কাছে সেই একই লেখা অশ্লীল মনে নাও হতে পারে। কিন্তু একজন লেখকের লেখা একেবারে বাতিল করে দেওয়া যায় না। লেখকের কলমের ওপর ফিল্টার বসানো যায় না। লেখক কী লিখবেন, সেটি পুরোপুরিই তার নিজের স্বাধীনতা। অমুক-তমুক এই নির্দেশ দিতে পারেন না যে, লেখক এই শব্দ ব্যবহার করতে পারবেন আর ওই শব্দ ব্যবহার করতে পারবেন না। অমুক বিষয়ে লেখা যাবে আর তমুক বিষয়ে লেখা যাবে না। এগুলো শ্রেফ তালেবানি মানসিকতা। জামায়াতে-হেফাজতে ইসলামীর সঙ্গে এইসব প্রগতিশীল-মোল্লার খুব বেশি তফাৎ নেই। হাসনাত আবদুল হাইয়ের লেখাটির ক্ষেত্রে যা ঘটছে, তা হচ্ছে লেখকের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ - স্পষ্ট করে বললে শব্দ-তালেবানি। ব্লগ ও ফেসবুকের কল্যাণে এই শব্দ-তালেবানি ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। এই তালেবানদের হাতে লেখকের স্বাধীনতা পরাস্ত হতে পারে না। একপাল শব্দ-তালেবানের হাতে লেখকের স্বাধীনতা ভূলুন্ঠিত হবে- এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তা না হলে হয়তো এমন একদিন আসবে, প্রগতিশীলতার ভেক ধরা এই শব্দ-তালেবানরা তাদের পছন্দসই শব্দ কিংবা প্লটের তালিকা ধরিয়ে দেবে লেখকের হাতে। আর লেখক সেই তালিকা দেখে দেখে শ্লীল সাহিত্য-আইনসম্মত সাহিত্য রচনা করবেন।
শব্দ-তালেবানদের প্রতিহত করা জরুরি
প্রগতির স্বার্থে যে কোনো মূল্যে এই শব্দ-তালেবানদের প্রতিহত করা জরুরি। এই স্বাধীনতা রক্ষার জন্য লড়েছি অতীতে, লড়বো সারাজীবনই।
রাঙামাটি মহকুমা সদরের এসডিও ছিলেন যে আবদুল আলী, তিনি বেঁচে নেই। এই বীর
মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়েছিল মর্মান্তিকভাবে। দৈবাৎ যদি বেঁচে থাকতেন, তার
মুখ থেকে নিখুঁতভাবে জানা যেতো, পাকিস্তান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে
থাকার পরও একাত্তরের এপ্রিলে কী করে তিনি দুটি স্পিডবোটযোগে মহালছড়ি থেকে
রাঙামাটিতে নিয়ে এসেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দলকে। জানতাম, তার সেই এক
মূহূর্তের ভুলের কথা, যার ফল তিনি পেয়েছিলেন নিজের জীবন দিয়ে। ঘূণাক্ষরেও
তিনি টের পাননি, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আসার আগেই চট্টগ্রামের নতুনপাড়ায়
ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারে আগেই চাকমা রাজা গোপনে বৈঠক করে এসেছেন
পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে। বৈঠকের পরপরই সঙ্গোপনে চাকমা রাজার
সঙ্গে রাঙামাটি আসে পাকিস্তানি কয়েকজন জুনিয়র অফিসার। প্রায় একই সঙ্গে
কাপ্তাই থেকে পাকিস্তানি হানাদারদের একটি দল কয়েকটি লঞ্চ ও স্ডিপবোট নিয়ে
রাঙামাটি এসে চুপিসারে অবস্থান নেয়। যা হওয়ার তাই হল। ভারত প্রত্যাগত
মুক্তিযোদ্ধাদের দল রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের বাংলোর কাছাকাছি পৌঁছানোর
সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে
মুক্তিযোদ্ধারা ধরা পড়লেন। একপর্যায়ে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই রাঙামাটি দখল করে
নেয় পাক হানাদাররা। সেই এসডিও আবদুল আলীর পরিণতি হয়েছিল মর্মান্তিক।
শরবিন্দু শেখর চাকমার 'মুক্তিযুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রাম' বইয়ে বর্ণনা দেওয়া
হয়েছে এভাবে- রাঙামাটি পুলিশ লাইনের এক ব্যারাকে আটক করে রেখে আবদুল আলীর
শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্লেড দিয়ে আঁচড় দিয়ে সেসব জায়গায় লবণ দেওয়া হয়েছিল।
এরপর তাকে একটি জিপের পিছনে বেঁধে টেনে রাঙামাটির বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো
হয়।
নেপথ্যে সেই একজন
এই সবকিছুর মূলে, সমস্ত ঘটনার নেপথ্যে কলকাঠি নেড়ে গেছেন একজন দালাল, একজন বিশ্বাসঘাতক, একজন যুদ্ধাপরাধী - চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়। নিজের আত্মজীবনী 'ডিপার্টেড মেলোডি'তে সেই ত্রিদিব রায়ের নিজের স্বীকারোক্তি এসেছে এভাবে- ১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল সকালে তিনি (রাজা ত্রিদিব রায়) তার ভগ্নিপতি কর্নেল হিউম, ম্যাজিস্ট্রেট মোনায়েম চৌধুরী, হজরত আলী এবং আরো কয়েকজন বাঙালি মুসলিম লীগ নেতাসহ চট্টগ্রামের নতুন পাড়ায় অবস্থিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেন্টারের পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। পাকিস্তানি হানাদারদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় যে ম্যাজিস্ট্রেট মোনায়েম চৌধুরী এবং রাজা ত্রিদিব রায়ের সঙ্গে আসা আরো কয়েকজন বাঙালি ঢাকা থেকে আসা জুনিয়র অফিসারকে সঙ্গে করে কাপ্তাইয়ে যাবেন। ঠিক সেদিনই বিকেলে কাপ্তাই থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল কয়েকটি লঞ্চ এবং স্পিডবোট নিয়ে রাঙামাটি আসে এবং বিনা প্রতিরোধে দখল করে নেয়।
যুদ্ধাপরাধী এক সাচ্চা পাকিস্তানির প্রতিকৃতি
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বেঁচে থাকলে বিস্মিত হতেন আজ। কারণ ত্রিদিব রায় তার চেয়েও সাচ্চা পাকিস্তানি হয়ে উঠেছিলেন। পাকিস্তানি হওয়া অপরাধ নয়, কিন্তু এই লোকের গায়ে যুদ্ধাপরাধের ঘনঘোর কালিমা লেগে ছিল আমৃত্যু। একাত্তরে এই লোক স্বজাতির সঙ্গে বেঈমানি করে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যায় প্রত্যক্ষ মদদ দিয়ে গেছেন। একাত্তরে রাঙামাটিতে যতো গণহত্যা চলেছে, সবগুলোর পেছনেই তার প্রত্যক্ষ মদদ ছিল। পরাজয় আঁচ করতে পেরে মুক্তিযুদ্ধের শেষ সময়ে তিনি পাকিস্তানে চলে যান। ওই সময়ে তাকে পাকিস্তান সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে শ্রীলংকা, বার্মা, থাইল্যান্ডসহ বৌদ্ধপ্রধান দেশগুলোতে পাঠানো হয় পাকিস্তানের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তার অভিযোগে দালাল আইনে অভিযুক্তদের একটি তালিকা প্রকাশ করা ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি, দৈনিক বাংলায়। ওই তালিকার ৮ নম্বরে রাজা ত্রিদিব রায়, আর ১২ নম্বরে গোলাম আযম! ১২ নম্বর দালাল তবু ষড়যন্ত্রের নতুন মিশন নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছিল, কিন্তু আট নম্বর দালাল ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের পদসেবাতেই নিজেকে নিয়োগ করেছিলেন। খোদ পাকিস্তানের মানুষই তাকে বিদ্রুপ করে বলতো- উজির-ই-খামাখা। আজন্ম এই বিদ্রুপ মাথায় নিয়েও তিনি পেয়ারা পাকিস্তানের সেবা করে গেছেন। ১৯৭২ সালে ত্রিদিব রায়কে ফিরিয়ে আনার জন্য তার স্ত্রী বিনীত রায়কে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তিনি ঘৃণাভরে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। পাকিস্তানের প্রতি এই আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবে ওই সময়ের পাকি প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভূট্টো তার সম্মানে বিশেষ ভোজসভার আয়োজন করেছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিত্ব ছাড়াও ত্রিদিব রায় বিভিন্ন দেশে হয়েছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত।
যুদ্ধাপরাধীকে বরণে সরকারের বিস্ময়কর আগ্রহ
এই গুণধর যুদ্ধাপরাধী ত্রিদিব রায়, যিনি বর্তমান চাকমা সার্কেলপ্রধান ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের বাবা, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ৭৯ বছর বয়সে মারা গেছেন তার স্বপ্নভূমি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। সেই পাকিস্তানি দালালের লাশ এখন ৩০ লাখ শহীদের রক্তস্নাত এই বাংলাদেশের মাটিতে নিয়ে আসার জোর চেষ্টা চলছে। বঙ্গভবনে কদিন আগে অনুষ্ঠিত পাবর্ত্য অঞ্চলের হেডম্যানদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছেন বলে খবর বেরিয়েছে। অথচ এই লোক তার সারাজীবনই বাংলাদেশকে ঘৃণা করে এসেছেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ তার কাছে ছিল শ্রেফ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, পাকিস্তানে থেকেও নানাভাবে নানা কৌশলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত রাখতে ভূমিকা পালন করেছেন, মৃত্যুর পরও সেই লোকের স্থান কিভাবে হয় এই বাংলাদেশে? তবু সেটিই ঘটতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রযন্ত্র ত্রিদিব রায়কে বরণের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছে ইতিমধ্যে। চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়ের পরিবার ঠিক এই মুহূর্তে ঢাকায়। বিশেষ মর্যাদায় এক দালালের লাশ নেওয়ার অপেক্ষায় তারা ক্ষণ গুণছে।
পাকিস্তানের এই দাসানুদাসকে বাংলাদেশের মাটিতে সমাহিত করার ইচ্ছাসংবলিত একটি আবেদন গত আট বছর ধরেই ঝুলছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তাও সেটি ত্রিদিব রায়ের নিজের করা আবেদন ছিল না। বাংলাদেশের প্রতি এমনই ঘৃণা ছিল তার। পাকিস্তান সরকারকে লেখা তার একটি চিঠির অংশবিশেষ উল্লেখ করে পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে ২০০৪ সালে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বার্তায় ওই আবেদন করা হয়েছিল। পাকিস্তান সরকারও একাধিকবার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানায় বাংলাদেশকে। মাঝখানে বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোর্শেদ খান মানবিক বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশ দিলেও পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা স্পর্শকাতর ভেবে বিষয়টি নিয়ে আর এগোতে চাননি। সেই থেকে ঝুলছিল পাকিস্তান হাইকমিশনের আবেদন। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল যে আওয়ামী লীগ সরকার, তারাই বিনা বাক্যব্যয়ে, অনেকটা নিজেদের উদ্যোগে যুদ্ধাপরাধী ত্রিদিব রায়ের লাশ পাকিস্তান থেকে বরণ করে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত এখন। এই সরকারের লীলা বোঝা বড়ো কঠিন! ভোটের রাজনীতি বোঝা তার চেয়েও কঠিন। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে পাহাড়ি চাকমাদের মন জয় করাই কি সরকারের মূল উদ্দেশ্য, নাকি অন্য কিছু? অথচ বঙ্গভবনের সামনে যে মাঠ, তার নিচে যে মাটি, সেখানে কান পাতলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুনতে পেতেন - যুদ্ধাপরাধী ত্রিদিব রায়কে গ্রহণ করার জন্য শহীদের রক্তে ভেজা এই মাটি প্রস্তুত নয়। পাকিস্তানের পরিত্যক্ত ওই জঞ্জাল এই মাটি চায় না।
হায় দুঃখিনী বাংলাদেশ!
রাঙামাটির বুড়িঘাটেই শুয়ে আছেন আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফ, সহযোদ্ধাদের জন্য নিরাপদ পথ তৈরি করে দিতে গিয়ে একাই লড়ে নিজে ঝাজরা হয়ে গিয়েছিলেন শত্রুর গুলিতে। সেই মাটিতেই বিশেষ মর্যাদায় সমাহিত হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী ৮ নম্বর দালাল! শুনেছি, রাঙামাটিতে রীতিমতো নাগরিক সংবর্ধনা কমিটি হয়েছে, গোপনে চলছে বিপুল আয়োজনের প্রস্তুতি। একাত্তরে যে লোকের ইশারায় পাকিস্তানি হানাদাররা শত শত মায়ের বুক খালি করেছে, দেশের পর দেশ ঘুরে যে লোক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে গেছেন, সেই কুলাঙ্গারের লাশ যখন শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়েতে নামবে, বোবা কান্নায় একটু কি কেঁপে উঠবে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই দুঃখিনী বাংলাদেশ?
সংযুক্তি
● পাকিস্তানি পত্রিকায় ৮ নম্বর দালালের মৃত্যুসংবাদ
এসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান | ডেইলি ডন | পাকিস্তান অবজারভার
● পাকিস্তানে এক চাকমা রাজা : মূল প্রতিবেদন | অনুবাদ
● আদিবাসী রাজাকারদের কেন বিচার হবে না
● বাংলাদেশে সমাধি চান পাকিস্তানের 'উজির-এ-খামাখা'
● রাঙামাটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা
● যেভাবে যুদ্ধাপরাধী হয়ে উঠলো রাজা ত্রিদিব রায়
প্রথম প্রকাশ : সামহোয়্যারইন ব্লগ
নেপথ্যে সেই একজন
এই সবকিছুর মূলে, সমস্ত ঘটনার নেপথ্যে কলকাঠি নেড়ে গেছেন একজন দালাল, একজন বিশ্বাসঘাতক, একজন যুদ্ধাপরাধী - চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়। নিজের আত্মজীবনী 'ডিপার্টেড মেলোডি'তে সেই ত্রিদিব রায়ের নিজের স্বীকারোক্তি এসেছে এভাবে- ১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল সকালে তিনি (রাজা ত্রিদিব রায়) তার ভগ্নিপতি কর্নেল হিউম, ম্যাজিস্ট্রেট মোনায়েম চৌধুরী, হজরত আলী এবং আরো কয়েকজন বাঙালি মুসলিম লীগ নেতাসহ চট্টগ্রামের নতুন পাড়ায় অবস্থিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেন্টারের পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। পাকিস্তানি হানাদারদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় যে ম্যাজিস্ট্রেট মোনায়েম চৌধুরী এবং রাজা ত্রিদিব রায়ের সঙ্গে আসা আরো কয়েকজন বাঙালি ঢাকা থেকে আসা জুনিয়র অফিসারকে সঙ্গে করে কাপ্তাইয়ে যাবেন। ঠিক সেদিনই বিকেলে কাপ্তাই থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল কয়েকটি লঞ্চ এবং স্পিডবোট নিয়ে রাঙামাটি আসে এবং বিনা প্রতিরোধে দখল করে নেয়।
যুদ্ধাপরাধী এক সাচ্চা পাকিস্তানির প্রতিকৃতি
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বেঁচে থাকলে বিস্মিত হতেন আজ। কারণ ত্রিদিব রায় তার চেয়েও সাচ্চা পাকিস্তানি হয়ে উঠেছিলেন। পাকিস্তানি হওয়া অপরাধ নয়, কিন্তু এই লোকের গায়ে যুদ্ধাপরাধের ঘনঘোর কালিমা লেগে ছিল আমৃত্যু। একাত্তরে এই লোক স্বজাতির সঙ্গে বেঈমানি করে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যায় প্রত্যক্ষ মদদ দিয়ে গেছেন। একাত্তরে রাঙামাটিতে যতো গণহত্যা চলেছে, সবগুলোর পেছনেই তার প্রত্যক্ষ মদদ ছিল। পরাজয় আঁচ করতে পেরে মুক্তিযুদ্ধের শেষ সময়ে তিনি পাকিস্তানে চলে যান। ওই সময়ে তাকে পাকিস্তান সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে শ্রীলংকা, বার্মা, থাইল্যান্ডসহ বৌদ্ধপ্রধান দেশগুলোতে পাঠানো হয় পাকিস্তানের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তার অভিযোগে দালাল আইনে অভিযুক্তদের একটি তালিকা প্রকাশ করা ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি, দৈনিক বাংলায়। ওই তালিকার ৮ নম্বরে রাজা ত্রিদিব রায়, আর ১২ নম্বরে গোলাম আযম! ১২ নম্বর দালাল তবু ষড়যন্ত্রের নতুন মিশন নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছিল, কিন্তু আট নম্বর দালাল ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের পদসেবাতেই নিজেকে নিয়োগ করেছিলেন। খোদ পাকিস্তানের মানুষই তাকে বিদ্রুপ করে বলতো- উজির-ই-খামাখা। আজন্ম এই বিদ্রুপ মাথায় নিয়েও তিনি পেয়ারা পাকিস্তানের সেবা করে গেছেন। ১৯৭২ সালে ত্রিদিব রায়কে ফিরিয়ে আনার জন্য তার স্ত্রী বিনীত রায়কে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তিনি ঘৃণাভরে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। পাকিস্তানের প্রতি এই আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবে ওই সময়ের পাকি প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভূট্টো তার সম্মানে বিশেষ ভোজসভার আয়োজন করেছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিত্ব ছাড়াও ত্রিদিব রায় বিভিন্ন দেশে হয়েছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত।
যুদ্ধাপরাধীকে বরণে সরকারের বিস্ময়কর আগ্রহ
এই গুণধর যুদ্ধাপরাধী ত্রিদিব রায়, যিনি বর্তমান চাকমা সার্কেলপ্রধান ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের বাবা, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ৭৯ বছর বয়সে মারা গেছেন তার স্বপ্নভূমি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। সেই পাকিস্তানি দালালের লাশ এখন ৩০ লাখ শহীদের রক্তস্নাত এই বাংলাদেশের মাটিতে নিয়ে আসার জোর চেষ্টা চলছে। বঙ্গভবনে কদিন আগে অনুষ্ঠিত পাবর্ত্য অঞ্চলের হেডম্যানদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছেন বলে খবর বেরিয়েছে। অথচ এই লোক তার সারাজীবনই বাংলাদেশকে ঘৃণা করে এসেছেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ তার কাছে ছিল শ্রেফ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, পাকিস্তানে থেকেও নানাভাবে নানা কৌশলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত রাখতে ভূমিকা পালন করেছেন, মৃত্যুর পরও সেই লোকের স্থান কিভাবে হয় এই বাংলাদেশে? তবু সেটিই ঘটতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রযন্ত্র ত্রিদিব রায়কে বরণের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছে ইতিমধ্যে। চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়ের পরিবার ঠিক এই মুহূর্তে ঢাকায়। বিশেষ মর্যাদায় এক দালালের লাশ নেওয়ার অপেক্ষায় তারা ক্ষণ গুণছে।
পাকিস্তানের এই দাসানুদাসকে বাংলাদেশের মাটিতে সমাহিত করার ইচ্ছাসংবলিত একটি আবেদন গত আট বছর ধরেই ঝুলছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তাও সেটি ত্রিদিব রায়ের নিজের করা আবেদন ছিল না। বাংলাদেশের প্রতি এমনই ঘৃণা ছিল তার। পাকিস্তান সরকারকে লেখা তার একটি চিঠির অংশবিশেষ উল্লেখ করে পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে ২০০৪ সালে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বার্তায় ওই আবেদন করা হয়েছিল। পাকিস্তান সরকারও একাধিকবার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানায় বাংলাদেশকে। মাঝখানে বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোর্শেদ খান মানবিক বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশ দিলেও পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা স্পর্শকাতর ভেবে বিষয়টি নিয়ে আর এগোতে চাননি। সেই থেকে ঝুলছিল পাকিস্তান হাইকমিশনের আবেদন। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল যে আওয়ামী লীগ সরকার, তারাই বিনা বাক্যব্যয়ে, অনেকটা নিজেদের উদ্যোগে যুদ্ধাপরাধী ত্রিদিব রায়ের লাশ পাকিস্তান থেকে বরণ করে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত এখন। এই সরকারের লীলা বোঝা বড়ো কঠিন! ভোটের রাজনীতি বোঝা তার চেয়েও কঠিন। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে পাহাড়ি চাকমাদের মন জয় করাই কি সরকারের মূল উদ্দেশ্য, নাকি অন্য কিছু? অথচ বঙ্গভবনের সামনে যে মাঠ, তার নিচে যে মাটি, সেখানে কান পাতলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুনতে পেতেন - যুদ্ধাপরাধী ত্রিদিব রায়কে গ্রহণ করার জন্য শহীদের রক্তে ভেজা এই মাটি প্রস্তুত নয়। পাকিস্তানের পরিত্যক্ত ওই জঞ্জাল এই মাটি চায় না।
হায় দুঃখিনী বাংলাদেশ!
রাঙামাটির বুড়িঘাটেই শুয়ে আছেন আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফ, সহযোদ্ধাদের জন্য নিরাপদ পথ তৈরি করে দিতে গিয়ে একাই লড়ে নিজে ঝাজরা হয়ে গিয়েছিলেন শত্রুর গুলিতে। সেই মাটিতেই বিশেষ মর্যাদায় সমাহিত হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী ৮ নম্বর দালাল! শুনেছি, রাঙামাটিতে রীতিমতো নাগরিক সংবর্ধনা কমিটি হয়েছে, গোপনে চলছে বিপুল আয়োজনের প্রস্তুতি। একাত্তরে যে লোকের ইশারায় পাকিস্তানি হানাদাররা শত শত মায়ের বুক খালি করেছে, দেশের পর দেশ ঘুরে যে লোক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে গেছেন, সেই কুলাঙ্গারের লাশ যখন শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়েতে নামবে, বোবা কান্নায় একটু কি কেঁপে উঠবে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই দুঃখিনী বাংলাদেশ?
সংযুক্তি
● পাকিস্তানি পত্রিকায় ৮ নম্বর দালালের মৃত্যুসংবাদ
এসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান | ডেইলি ডন | পাকিস্তান অবজারভার
● পাকিস্তানে এক চাকমা রাজা : মূল প্রতিবেদন | অনুবাদ
● আদিবাসী রাজাকারদের কেন বিচার হবে না
● বাংলাদেশে সমাধি চান পাকিস্তানের 'উজির-এ-খামাখা'
● রাঙামাটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা
● যেভাবে যুদ্ধাপরাধী হয়ে উঠলো রাজা ত্রিদিব রায়
প্রথম প্রকাশ : সামহোয়্যারইন ব্লগ
আজ কি ভাদ্র মাসের ১১ তারিখ? শুনেছি, সারমেয় প্রজাতি এই সময় খানিকটা পাগলা কিসিমের হয়ে ওঠে। তার বদলে সরকারই কেন উল্টো পাগল হয়ে উঠল, বোঝা কঠিন। ভাদ্রের মহিমা বোঝা আসলেই কঠিন।
সরকার এতোদিন মাহবুবুল আলম হানিফ-টানিফকে দিয়ে ইউনূসের চরিত্রহননের চেষ্টা করে আসছিল। সেটি বাজার পায়নি। হানিফ কিংবা কামরুল ইসলামদের ইউনূসের মাপের লোকের সমালোচনা করার আদৌ যোগ্যতা আছে কিনা - উল্টো প্রশ্ন উঠেছে সেটি নিয়েই। শেষমেশ সরকার এবার অন্য লাইন ধরেছে, মাঠে নেমেছে ভিন্ন কৌশল নিয়ে। একপাল ভাড়ায় খাটা বুদ্ধিজীবী নিয়ে মাঠে নেমেছে তারা। ৫১ বুদ্ধিজীবী হঠাৎ করে বাংলার ভাগ্যাকাশে উদিত হয়ে এই মর্মে অভিযোগ তুলেছেন যে, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রে বৃহৎ শক্তি ও দাতাগোষ্ঠীকে দিয়ে বাংলাদেশের ওপর নানা চাপ দিচ্ছেন। দুর্নীতিবাজ আবুল হোসেনকে নিয়ে এদের কোনো কথা নেই। দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক-নাগরিক সমস্যা - কিছুই তাদের স্পর্শ করে না। কোনো কিছু নিয়েই তাদের বিবৃতি দেখিনি আমরা। এই সরকারের আমলে দুষ্কর্মের সংখ্যা কি কম? কিন্তু কখনোই এইসব বুদ্ধিজীবীকে লেজ নাড়তে দেখা যায়নি।অবশেষে ভাদ্র মাসের এই ১০ তারিখে বিশিষ্ট এই বুদ্ধিজীবীবৃন্দ আচমকা পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন!
ওরা কারা?
বিবৃতিদাতাদের নামগুলো একবার দেখে নিন- অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক, শিল্পী হাশেম খান, শামসুজ্জামান খান, কামাল লোহানী, বিচারপতি (অব.) মেজবাহ উদ্দন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক প্রাণগোপাল দত্ত, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত, অধ্যাপক আবদুল খালেক, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, কবি বেলাল চৌধুরী, রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, সেলিনা হোসেন, কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি মহাদেব সাহা, ড. হারুন-অর-রশিদ, অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক, স্থপতি রবিউল হুসাইন, সুরকার সুজেয় শ্যাম, সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, অভিনেতা-পরিচালক নাসিরউদ্দীন ইউসুফ, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয় ভাষিণী, ড. মুহাম্মদ সামাদ, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী প্রমুখ।
তালিকাটি পড়ে যে কেউই বুঝতে পারবেন, এই তালিকার প্রায় প্রত্যেকেই এই আওয়ামী সরকারের কাছ থেকে প্রত্যক্ষভাবে সুবিধা নিয়েছেন নানাভাবে। এদের প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের পোষা বুদ্ধিজীবী। জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী কিংবা সৈয়দ শামসুল হককে আওয়ামী লীগের অঘোষিত চাকুরেই বলা যায়। যদি এরপরও আপনার বোঝার ঘাটতি থাকে, তাহলে একবার এই সংবাদের নিচের দিকে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন, অথবা এখানে।
এই যে কাইয়ুম চৌধুরী, চিত্রশিল্পে অসাধারণ এক প্রতিভা, এর বাইরে তার প্রতিভা বড়জোর মদ্যপানে, এই লোক কী করে কোন্ প্রতিভাবলে বুঝলেন যে ইউনূস কবে কোথায় কিভাবে দাতাদের দিয়ে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন সরকারের ওপরে। ওই যে ডাক্তার প্রাণ গোপাল দত্ত কিংবা কবি বেলাল চৌধুরী কোন্ জাদুবলে পররাষ্ট্র বিষয়ক গোয়েন্দাগিরিতে এতো দক্ষ হয়ে উঠলেন, তাও হঠাৎ করে? প্রবল সন্দেহ জাগে, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী কি আসলেই জেনে-বুঝে সই দিয়েছেন বিবৃতিতে, নাকি কোনো বন্ধুবরের অনুরোধ রক্ষা করেছেন মাত্র?
সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্য
বুদ্ধিজীবীরা আগেও সুবিধা নিতেন, কিন্তু একটি মুখোশ মোটামুটি থাকতো। লজ্জাটুকু তাতে মোটামুটি ঢাকা পড়তো। সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্য, সেই মুখোশটা খসে পড়ছে ক্রমশ। বুদ্ধিজীবীরা ধীরে ধীরে ন্যাংটো হতে শুরু করেছেন। ভালোই হল একদিক থেকে। ভাড়ায়, হয়তো খুব কম মূল্যে এদের আরো নানান কাজে খাটানো যাবে! জীবিকার জন্য এদের দিয়ে যে কোনো কিছুই করানো সম্ভব।
সংযুক্তি
গ্রামীণ ব্যাংক ঘিরে ২৯ প্রশ্নের জবাব
প্রথম প্রকাশ : সামহোয়্যারইন ব্লগ
সরকার এতোদিন মাহবুবুল আলম হানিফ-টানিফকে দিয়ে ইউনূসের চরিত্রহননের চেষ্টা করে আসছিল। সেটি বাজার পায়নি। হানিফ কিংবা কামরুল ইসলামদের ইউনূসের মাপের লোকের সমালোচনা করার আদৌ যোগ্যতা আছে কিনা - উল্টো প্রশ্ন উঠেছে সেটি নিয়েই। শেষমেশ সরকার এবার অন্য লাইন ধরেছে, মাঠে নেমেছে ভিন্ন কৌশল নিয়ে। একপাল ভাড়ায় খাটা বুদ্ধিজীবী নিয়ে মাঠে নেমেছে তারা। ৫১ বুদ্ধিজীবী হঠাৎ করে বাংলার ভাগ্যাকাশে উদিত হয়ে এই মর্মে অভিযোগ তুলেছেন যে, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রে বৃহৎ শক্তি ও দাতাগোষ্ঠীকে দিয়ে বাংলাদেশের ওপর নানা চাপ দিচ্ছেন। দুর্নীতিবাজ আবুল হোসেনকে নিয়ে এদের কোনো কথা নেই। দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক-নাগরিক সমস্যা - কিছুই তাদের স্পর্শ করে না। কোনো কিছু নিয়েই তাদের বিবৃতি দেখিনি আমরা। এই সরকারের আমলে দুষ্কর্মের সংখ্যা কি কম? কিন্তু কখনোই এইসব বুদ্ধিজীবীকে লেজ নাড়তে দেখা যায়নি।অবশেষে ভাদ্র মাসের এই ১০ তারিখে বিশিষ্ট এই বুদ্ধিজীবীবৃন্দ আচমকা পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন!
ওরা কারা?
বিবৃতিদাতাদের নামগুলো একবার দেখে নিন- অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক, শিল্পী হাশেম খান, শামসুজ্জামান খান, কামাল লোহানী, বিচারপতি (অব.) মেজবাহ উদ্দন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক প্রাণগোপাল দত্ত, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত, অধ্যাপক আবদুল খালেক, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, কবি বেলাল চৌধুরী, রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, সেলিনা হোসেন, কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি মহাদেব সাহা, ড. হারুন-অর-রশিদ, অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক, স্থপতি রবিউল হুসাইন, সুরকার সুজেয় শ্যাম, সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, অভিনেতা-পরিচালক নাসিরউদ্দীন ইউসুফ, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয় ভাষিণী, ড. মুহাম্মদ সামাদ, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী প্রমুখ।
তালিকাটি পড়ে যে কেউই বুঝতে পারবেন, এই তালিকার প্রায় প্রত্যেকেই এই আওয়ামী সরকারের কাছ থেকে প্রত্যক্ষভাবে সুবিধা নিয়েছেন নানাভাবে। এদের প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের পোষা বুদ্ধিজীবী। জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী কিংবা সৈয়দ শামসুল হককে আওয়ামী লীগের অঘোষিত চাকুরেই বলা যায়। যদি এরপরও আপনার বোঝার ঘাটতি থাকে, তাহলে একবার এই সংবাদের নিচের দিকে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন, অথবা এখানে।
এই যে কাইয়ুম চৌধুরী, চিত্রশিল্পে অসাধারণ এক প্রতিভা, এর বাইরে তার প্রতিভা বড়জোর মদ্যপানে, এই লোক কী করে কোন্ প্রতিভাবলে বুঝলেন যে ইউনূস কবে কোথায় কিভাবে দাতাদের দিয়ে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন সরকারের ওপরে। ওই যে ডাক্তার প্রাণ গোপাল দত্ত কিংবা কবি বেলাল চৌধুরী কোন্ জাদুবলে পররাষ্ট্র বিষয়ক গোয়েন্দাগিরিতে এতো দক্ষ হয়ে উঠলেন, তাও হঠাৎ করে? প্রবল সন্দেহ জাগে, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী কি আসলেই জেনে-বুঝে সই দিয়েছেন বিবৃতিতে, নাকি কোনো বন্ধুবরের অনুরোধ রক্ষা করেছেন মাত্র?
সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্য
বুদ্ধিজীবীরা আগেও সুবিধা নিতেন, কিন্তু একটি মুখোশ মোটামুটি থাকতো। লজ্জাটুকু তাতে মোটামুটি ঢাকা পড়তো। সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্য, সেই মুখোশটা খসে পড়ছে ক্রমশ। বুদ্ধিজীবীরা ধীরে ধীরে ন্যাংটো হতে শুরু করেছেন। ভালোই হল একদিক থেকে। ভাড়ায়, হয়তো খুব কম মূল্যে এদের আরো নানান কাজে খাটানো যাবে! জীবিকার জন্য এদের দিয়ে যে কোনো কিছুই করানো সম্ভব।
সংযুক্তি
গ্রামীণ ব্যাংক ঘিরে ২৯ প্রশ্নের জবাব
প্রথম প্রকাশ : সামহোয়্যারইন ব্লগ
ঢাকায় আজ শনিবার সকালের প্রতিবাদ ছিল পুরোপুরি ব্যতিক্রমধর্মী,
প্রতীকী। সন্দেহাতীত প্রমাণ ছাড়াই সৌদি আরবে ৮ বাংলাদেশীকে শিরচ্ছেদ করা
হয়েছে কয়েকদিন আগে। আরো পাঁচ বাংলাদেশীর মৃত্যুদন্ডও খুব শীঘ্রই একই
পদ্ধতিতে কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে। এই ঘৃণ্য অমানবিক বর্বরতার
বিরুদ্ধে এটা ছিল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি। না, এটা কোনো মিছিল ছিল
না, মানুষ ভাড়া করে মানববন্ধনও নয়, আটজন তুচ্ছ মানুষ নিজেদের শরীরে দড়ি
বেঁধে মাথা নিচু করে রাজপথে দাঁড়িয়ে ছিলেন কিছুক্ষণ। সৌদি আরবে আট
বাংলাদেশিকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে নির্মমভাবে হত্যার পূর্ব মুহূর্তে অসহায়
মানুষগুলো ঠিক যেভাবে হাঁটুতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, অবিকল সেভাবে।
ফুটেজ : যেভাবে হত্যা করা হয় আট বাংলাদেশিকে
ফুটেজ : যেভাবে হত্যা করা হয় আট বাংলাদেশিকে
অথচ দোষ ছিল না সেই আট বাংলাদেশির!
আগেই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে, সৌদি আরবে অভিযুক্ত আট বাংলাদেশি আত্মপক্ষ সমর্থনের সামান্যতম সুযোগও পাননি। এমনকি নিজেদের পক্ষে কোনো আইনি সহায়তাও তারা পাননি। বিচার হয়েছে শুধুমাত্র মৌখিক স্বীকারোক্তি আদায়ের মাধ্যমে। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই স্বীকারোক্তি কিভাবে আদায় করা হয়েছিল? যেখানে পুলিশ থেকে তথাকথিত আদালত - সবখানেই ভাষা কেবল আরবি, সেখানে আরবি না জানা কিংবা স্বল্প জানা আট বাংলাদেশি শ্রমিক স্বীকারোক্তিই বা কিভাবে দিলেন? তথাকথিত আদালতে শুনানিই বা কিভাবে হয়েছিল, যেখানে এমনকি অভিযুক্ত আট বাংলাদেশির পক্ষে কোনো আইনজীবিও ছিল না?
বিশ্বখ্যাত মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক তার চুরি করছিল অন্য একটি অজ্ঞাত গ্রুপ। সেখানে চাকরিরত আট বাংলাদেশি শ্রমিক চুরি নয়, বরং চোরদের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। এই দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির সময় মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মী মারা যান।
আট বাংলাদেশি কি তার চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন? না, সেরকম কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং এটাই অস্বাভাবিক যে, যে প্রতিষ্ঠানে আট বাংলাদেশি দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন, তারা কেন হঠাৎ চুরি করতে নামবেন?
আট বাংলাদেশি কি মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মী খুনের সঙ্গে জড়িত? সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, আট বাংলাদেশি নয়, চুরির কাজটা করতে গিয়েছিল অন্য একটি গ্রুপ। বাধা দিতে গিয়ে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় চোরদের। এই সময় মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মীটি নিহত হন।
প্রতিবাদের স্বর পৌঁছে গেছে সৌদি আরবেও
ঢাকায় আজকের প্রতীকী প্রতিবাদের পরপরই খবরটি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে সৌদি নিউজ টুডে। যার শিরোনাম ছিল - Members of 'Magic Movement' protest against beheading of eight Bangladeshis in Saudi Arabia. সৌদি জনগণ জানলো, বাংলাদেশিরা শুধুই তরবারির নিচে মাথা পেতে দিতে জানে না, প্রতিবাদও করতে জানে।ডেমোটিক্স
নিউ ইয়র্ক টাইমস, হাফিংটন পোস্টের মতো সংবাদমাধ্যম যার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, সেই ডেমোটিক্সও প্রতিবাদ সমাবেশটিকে দিয়েছে আলাদা গুরুত্ব।
ইয়াহু নিউজ
Mock execution scene...
সালেম রেডিও নিউজ নেটওয়ার্ক
বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে মার্কিনভিত্তিক এই নিউজ নেটওয়ার্ক।
চীনা সংবাদ সংস্থা DAUM
BANGLADESH SAUDI ARABIA PROTEST
প্রথম আলো
অভিনব কর্মসূচিতে বর্বতার প্রতিবাদ
ই-প্রথম আলো
অভিনব কর্মসূচিতে বর্বরতার প্রতিবাদ
সকালের খবর
ম্যাজিক মুভমেন্টের অবস্থান কর্মসূচি
এবিসি রেডিও
৮ বাংলাদেশীর শিরোশ্ছেদের ঘটনার প্রতিবাদ ম্যাজিক মুভমেন্টের
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস
Protesting against beheading of eight Bangladeshis
ডেইলি সান
NHRC to protest beheading in int'l forums
নিউ এইজ
Mock execution to protest at Saudi beheading of 8 Bangladeshis
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
'শিরোচ্ছেদের সময় এমনই অসহায় ছিলেন তারা'
বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর
শাহবাগে ৮ তরুণের শিরোশ্ছেদ!
বার্তা টোয়েন্টিফোর ডট নেট
৮ বাংলাদেশীর শিরশ্ছেদের নিন্দায় ব্লগারদের প্রতিবাদ
আমরা আছি এই ঠিকানায়
ম্যাজিক মুভমেন্ট
ফেসবুক গ্রুপ : কিক আউট সৌদি ডাইনেস্টি ফ্রম দ্য ল্যান্ড অফ ইসলাম
পারসোনায় হিডেন ক্যাম পাওয়া নিয়ে ব্লগ ও ফেসবুকে সবাই সরব। সবকিছু
মিলিয়ে পুরো ঘটনার একটি সারাংশ তৈরি করেছি আমি, একদমই নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ
থেকে।
অভিযোগ কী?
পারসোনার বনানী শাখায় একটি সিসিটিভি ক্যামেরা পাওয়া গেছে, যার মুখ একটি বিশেষ কক্ষের দিকে ফেরানো ছিল।
কী করা যায় এখন?
১. পারসোনা বন্ধ করে দেওয়া।
২. কানিজ আলমাসকে বিচারের মুখোমুখি করা।
৩. পারসোনার বিপক্ষে জনসচেতনতা তৈরি করা।
কেন করা যায় না?
১. চাপ দিয়ে পারসোনা বন্ধ করা যাবে না, যেহেতু সেটা একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সরকারি বিধিবিধান মেনে প্রতিষ্ঠানটি চলে।
২. বিচারের মুখোমুখি করার জন্য একটি মামলা লাগে। কিন্তু আমরা দেখছি যে চিকিৎসক ভদ্রমহিলা অভিযোগটি করেছিলেন, তিনি মামলা করতে আগ্রহী নন। এমনকি আজকে কানিজ আলমাস এবং ওই মহিলার স্বামীর একটি যৌথ বিবৃতি সংবাদপত্র অফিসগুলোতে গেছে। যাতে দুজনেই বলেছেন, "সেদিনের ঘটনা নিছকই ভুল বোঝাবুঝির ফল। বিষয়টি ঘটনাস্থলেই মীমাংসা হয়ে যায়। এমনকি আমরা উভয়পক্ষই পুরো বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকায় কেউ কারো বিরুদ্ধে কোথাও কোন অভিযোগও করিনি।" পুলিশও বলছে, তাদের জব্দ করা হার্ডডিস্কে আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায়নি।
৩. অনলাইনে পারসোনার বিপক্ষে বিস্তর প্রচার-প্রচারণা চললেও এমনকি সেই অভিযুক্ত বনানী শাখায় ঠিক আজকেই রূপচর্চাপ্রেমী বিপুল মহিলার ভিড় দেখা গেছে। ফলে জনসচেতনতা আদৌ তৈরি হচ্ছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে আমার।
তাহলে কী হবে এখন?
সবমিলিয়ে আমার মনে হচ্ছে, পারসোনা এবং কানিজ আলমাস খান এই যাত্রায় পার পেতেই চলেছেন। এর মূল কারণ, ঘটনার ব্যাপারে আমাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য নেই। হাতে প্রমাণ নেই। ফলে প্রধান প্রধান সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন চ্যানেলে ঘটনাটিকে গুরুত্ব দেয়নি। আবার এমনও মনে করার কারণ নেই যে, সব সংবাদপত্রই পারসোনার কাছে বিক্রি হয়েছে। সেটা অসম্ভবই বলতে গেলে। আর এমনিতে একটি প্রতিষ্ঠান তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ব্যবহার করতেই পারে। কিন্তু যেহেতু ভুল হোক, সঠিক হোক পারসোনার বিরুদ্ধে অনৈতিকতার একটি অভিযোগ এসেছে, সুতরাং কানিজ আলমাস খানের উচিত পারসোনার সবগুলো শাখা থেকে পুরুষ কর্মীদের সরিয়ে সেখানে নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া। পুরুষ কর্মী যদি থাকেও, তারা অবশ্যই পার্লারের বাইরে থাকবে এবং সিসিটিভি অপারেশনের মতো কাজে তাদের কোনোভাবেই নিয়োগ দেওয়া চলবে না। এই ইস্যুতে আমরা কানিজ আলমাস খানের ওপর চাপ রাখতে পারি সবাই মিলে।
সংযুক্তি
প্রথম প্রকাশ
অভিযোগ কী?
পারসোনার বনানী শাখায় একটি সিসিটিভি ক্যামেরা পাওয়া গেছে, যার মুখ একটি বিশেষ কক্ষের দিকে ফেরানো ছিল।
কী করা যায় এখন?
১. পারসোনা বন্ধ করে দেওয়া।
২. কানিজ আলমাসকে বিচারের মুখোমুখি করা।
৩. পারসোনার বিপক্ষে জনসচেতনতা তৈরি করা।
কেন করা যায় না?
১. চাপ দিয়ে পারসোনা বন্ধ করা যাবে না, যেহেতু সেটা একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সরকারি বিধিবিধান মেনে প্রতিষ্ঠানটি চলে।
২. বিচারের মুখোমুখি করার জন্য একটি মামলা লাগে। কিন্তু আমরা দেখছি যে চিকিৎসক ভদ্রমহিলা অভিযোগটি করেছিলেন, তিনি মামলা করতে আগ্রহী নন। এমনকি আজকে কানিজ আলমাস এবং ওই মহিলার স্বামীর একটি যৌথ বিবৃতি সংবাদপত্র অফিসগুলোতে গেছে। যাতে দুজনেই বলেছেন, "সেদিনের ঘটনা নিছকই ভুল বোঝাবুঝির ফল। বিষয়টি ঘটনাস্থলেই মীমাংসা হয়ে যায়। এমনকি আমরা উভয়পক্ষই পুরো বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকায় কেউ কারো বিরুদ্ধে কোথাও কোন অভিযোগও করিনি।" পুলিশও বলছে, তাদের জব্দ করা হার্ডডিস্কে আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায়নি।
৩. অনলাইনে পারসোনার বিপক্ষে বিস্তর প্রচার-প্রচারণা চললেও এমনকি সেই অভিযুক্ত বনানী শাখায় ঠিক আজকেই রূপচর্চাপ্রেমী বিপুল মহিলার ভিড় দেখা গেছে। ফলে জনসচেতনতা আদৌ তৈরি হচ্ছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে আমার।
তাহলে কী হবে এখন?
সবমিলিয়ে আমার মনে হচ্ছে, পারসোনা এবং কানিজ আলমাস খান এই যাত্রায় পার পেতেই চলেছেন। এর মূল কারণ, ঘটনার ব্যাপারে আমাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য নেই। হাতে প্রমাণ নেই। ফলে প্রধান প্রধান সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন চ্যানেলে ঘটনাটিকে গুরুত্ব দেয়নি। আবার এমনও মনে করার কারণ নেই যে, সব সংবাদপত্রই পারসোনার কাছে বিক্রি হয়েছে। সেটা অসম্ভবই বলতে গেলে। আর এমনিতে একটি প্রতিষ্ঠান তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ব্যবহার করতেই পারে। কিন্তু যেহেতু ভুল হোক, সঠিক হোক পারসোনার বিরুদ্ধে অনৈতিকতার একটি অভিযোগ এসেছে, সুতরাং কানিজ আলমাস খানের উচিত পারসোনার সবগুলো শাখা থেকে পুরুষ কর্মীদের সরিয়ে সেখানে নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া। পুরুষ কর্মী যদি থাকেও, তারা অবশ্যই পার্লারের বাইরে থাকবে এবং সিসিটিভি অপারেশনের মতো কাজে তাদের কোনোভাবেই নিয়োগ দেওয়া চলবে না। এই ইস্যুতে আমরা কানিজ আলমাস খানের ওপর চাপ রাখতে পারি সবাই মিলে।
প্রথম প্রকাশ
সরকার যদি ব্যবসা করেও থাকে, সেটা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। ছিল না কোনোকালে। যে যেভাবে পারে দুটো টাকা রোজগার করুক - তাতে অসুবিধার কিছু দেখছি না। বরং সরকার যদি এই ব্যবসাটা ভালোভাবে করতে পারে, তাতে দেশেরই উন্নতি। আগে হয়তো গ্রামেগঞ্জে গ্রাহক বেশি পাওয়া যেতো, এখন শহরে, এমনকি এমনকি এই রাজধানীতেও বিস্তর গ্রাহক পাওয়া যাবে।
---
বড়ো করে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।
প্রথম প্রকাশ
---
বড়ো করে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।
প্রথম প্রকাশ
মধ্যরাত। দরজায় ঠকঠক শব্দ। ওপাশে টের পাওয়া যায় কালো পোশাকের কিছু মানুষের
আনাগোনা । দরজা খুলতেই হড়হড় করে ঢুকে পড়ে একপাল র্যাব। কয়েকজোড়া আতঙ্কিত
চোখের সামনে দ্রুতই ঘরের কোণে আসন গাড়া কম্পিউটার মনিটরটা চালু হয়।
মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের লাইসেন্স আছে কিনা - সেটা নিশ্চিত হতে সশস্ত্র র্যাবের
খুব বেশি সময় লাগে না। অতঃপর কলেজপড়ুয়া ছেলেটার হাত দুটো প্রার্থনার
ভঙ্গিতে এক হয় স্টেইনলেস স্টিল হাতকড়ার বন্ধনে।
এমন দৃশ্য ঠিক এই মুহূর্তে হাস্যকর মনে হতে পারে। কিন্তু নিশ্চিত করে বলতে পারি, এই দৃশ্য খুব শীঘ্রই দেখা যাবে এই বাংলাদেশে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা কিংবা রাজশাহীই শুধু নয়, কিম্ভূত এক চুক্তির জাল থেকে রেহাই পাবে না বাংলাদেশের কোনো কম্পিউটার ব্যবহারকারীই।
টিফা থেকে টিইসিএফ
এর আগে বহু চেষ্টার পরও গণমানুষের বিক্ষোভের মুখে সরকার টিফা চুক্তি করতে পারেনি। ধুরন্ধর সরকার সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে আবার সেই একই চুক্তির পসরা নিয়ে ওয়াশিংটন-ঢাকা আসা-যাওয়া শুরু করেছে। চুক্তির নামটিও প্রস্তাব করেছে সরকার নিজেই। মার্কিন সরকার নামটা টিফাই রাখতে চেয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশের ধূর্ত আমলারা একটু বদলে নাম দিয়েছে 'টিইসিএফ'। একটু নতুন মোড়কে সেই একই মালমসলা। চুক্তির সবকিছুই আসলে শেষপর্যায়ে। সরকার পক্ষে যারা এই চুক্তির সঙ্গে জড়িত, তারা বিষয়টা নিয়ে লুকোচুরি করতে চাইছে, যেন এ নিয়ে কোনো বাদ-প্রতিবাদ না হয়। অর্থ, বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েই এখন সামান্য আটকে আছে চুক্তির সবকিছু চূড়ান্ত হওয়াটা। সেটাও এখন শ্রেফ সময়ের ব্যাপার। কারণ খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে এই চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান সম্ভাব্য চুক্তিটির অগ্রগতি হচ্ছে না কেন, জানতে চেয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খানের কাছে সম্প্রতি একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি বারবার আলোচনা ভেঙে গেলে পারস্পরিক অনাস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই অর্থ উপদেষ্টা যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিযুক্ত ভৃত্য! আর এই যে অর্থমন্ত্রী কিংবা বাণিজ্যমন্ত্রী তাদের কথোপকথনের শেষাংশে 'অবশ্যই দেশের স্বার্থ রক্ষা হবে' বলে যে বাণীটি উচ্চারণ করছেন নিয়ম করে, সেটাও ওই কথার কথাই। রাজনৈতিক বুলি মাত্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারলেই আমাদের বাণিজ্য সচিবের খুশিতে ডগমগ করার কথা। দেশের স্বার্থের কথা চিন্তা করার সময় কোথায় তার? বরং খোঁজ নিলে হয়তো দেখা যাবে, এই চুক্তির বিনিময়ে অবসরে যাওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যপুষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে এসেছেন।
চুক্তিটা যে কারণে স্পর্শকাতর
টিইসিএফ চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান বিষয় হল মেধাস্বত্ব আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাছ থেকে কিছু ছাড় ও সুবিধা পেয়ে আসছিল। এর একটি হল ২০১৩ সালের ১ জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশকে কপিরাইট, ট্রেডমার্ক, পেটেন্টসহ অন্য কোনো মেধাস্বত্ব বিধি প্রয়োগ করতে হবে না। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির যেটুকু প্রসার হয়েছে, তা মূলত এই সুবিধার কারণেই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত টিইসিএফ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়া মাত্রই বাংলাদেশে মেধাস্বত্ত্ব বিধি কার্যকর হয়ে যাবে। তাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার হয়ে উঠবে অকল্পনীয়ভাবে ব্যয়বহুল। কম্পিউটারে ব্যবহৃত প্রতিটি সফটওয়্যারেরই লাইসেন্স নিতে হবে চড়া মূল্যে। শুধু তাই নয়, কৃষিসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব সম্ভাবনাময় খাত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কারণ ট্রেড রিলেটেড আসপেক্টস অব ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটসের (ট্রিপস) নামে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা ক্ষেত্রে নানা স্বত্ব তৈরি করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। আবার তথ্যপ্রযুক্তিই শুধু নয়, দেশের সম্ভাবনাময় ওষুধশিল্পও এই চুক্তির অনলে পুড়বে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ওষুধের ক্ষেত্রে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেটেন্টের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বাংলাদেশের ওপর। টিইসিএফ চুক্তি হলে সেটা অকার্যকর হয়ে পড়বে। তাতে ওষুধ উৎপাদনকারী অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। ওষুধের দামও অনেকগুণ বেড়ে যাবে।
দেশবিরোধী চুক্তিতে সরকারের কেন এতো আগ্রহ
এটা কারও অজানা নয় যে, ইউনূস ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটা শীতল সম্পর্ক যাচ্ছে এই সরকারের। এর জের হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন পার্শ্ববর্তী ভারত সফরে এলে ঘন্টাখানেকের জন্যও তাকে বাংলাদেশের আনতে রাজি করাতে পারছে না সরকার, এমনকি মার্কিন প্রশাসনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েও। ফলে সরকার এখন যে কোনো মূল্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ হতে চাইছে। সরকারের অসহায়ত্ব বুঝে যুক্তরাষ্ট্রও এই ফাঁকে চুক্তিটা করিয়ে নিতে চায়। মার্কিন-ভক্ত প্রমাণের জন্য সরকার এখন বাংলাদেশের মানুষের পশ্চাৎদেশটা মেরে মার্কিনীদের স্বার্থ রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
সামনে তাহলে কী ঘটতে যাচ্ছে?
বিজয় সফটওয়্যারের মেধাস্বত্ত্ব নিয়ে এক মোস্তফা জব্বারের অশ্লীল বিলাপ ছাড়া বাংলাদেশে সেভাবে আর কিছু দেখা যায় না। কিন্তু টিইসিএফ চুক্তির মূল বিষয় যেহেতু মেধাস্বত্ত্বের পূর্ণ বাস্তবায়ন, সে কারণে দরিদ্র দেশ বাংলাদেশ আর তার প্রতিটি কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে এই মেধাস্বত্ত্বের ধকল পোহাতেই হবে। সবদিক থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার হয়ে দাঁড়াবে চরম ব্যয়বহুল। আগামী বছর থেকেই হয়তো একটা কম্পিউটারের সঙ্গে লক্ষাধিক টাকার সফটওয়্যার কিনতে হবে। ওয়ার্ড-এক্সেল মিলিয়ে মাইক্রোসফট অফিসটা কিনতে গেলে আপনাকে গুণতে হবে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। আরেকটু কম সুবিধাসম্পন্ন প্যাকেজ কিনতে হলে কমপক্ষে ২০ হাজার। কেবল এডবি ফটোশপেরই সর্বশেষ সংস্করণের দাম পড়বে মাত্র ৫১ হাজার টাকা। এর চেয়েও ভয়ংকর বিষয় হল, চুক্তি হলে এমন এমন সব জিনিস তখন কপিরাইট আইনের আওতায় চলে আসবে, যা ঠিক এই মুহূর্তে ভাবাটাও খুবই কঠিন। বিধি কার্যকর হলে সেটা বাস্তবায়নের ব্যাপারটাও আসে। কাজেই এটা খুব স্বাভাবিক যে, মার্কিন সরকারের আয়োজনে মাইক্রোসফট-এডবির অর্থায়নে খুব শীঘ্রই RAB-পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটদের পাইরেটেড সফটওয়্যার শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অনুদান দেওয়া হবে থানাগুলোতে। সরকারের চাঁইদের পকেটটা ফুলিয়ে দেওয়া হবে ডলারে ডলারে। প্রাপ্তির তুলনায় এই বিনিয়োগ সামান্যই হবে বলতে গেলে।
দেশি-বিদেশি শকুনদের টার্গেট কারা
বিটিআরসির তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এখন প্রায় এক কোটি। ২০১৪ সালে সেটা আড়াই কোটিতে গিয়ে দাঁড়াবে। পরিসংখ্যান না থাকলেও সবমিলিয়ে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখনই অন্তত দুই কোটি হবে। এদের বেশিরভাগই তরুণ। এই তরুণরাই এখন মার্কিন বাণিজ্য শকুনদের টার্গেট।
পকেটে টাকা নেই, দু বেলা খাওয়ার পয়সা নেই, চাকরির সুযোগ নেই, তবু উপায়হীন তরুণরা কম্পিউটারটা শিখছিল খেয়ে না খেয়েই। ৩০ হাজার টাকা দিয়ে যদি তাদের মাইক্রোসফট অফিসটা কিনতে হতো, তাহলে গরিব এই দেশে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা হতো হাতেগোনা। যে ছেলেটা এই ঢাকায় মাসের শেষে মেস ভাড়াটা ঠিকমতো দিতে পারে না, শীঘ্রই তাকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের লাইসেন্স কিনতে হবে। দিনরাত জেগে অমানুষিক পরিশ্রম দিয়ে বাংলাদেশের তরুণরা আউটসোর্সিংয়ের কাজে নেমেছিল। সেখান থেকে মেসে থাকা তরুণের ইন্টারনেট বিলটা আসছিল, কেউবা আয় করছিলেন দু পয়সা। হঠাৎ করেই সেদিকে নজর পড়ল সরকারের। তড়িঘড়ি ট্যাক্স বসিয়ে দেওয়া হল তার ওপর। এখন শুধু ট্যাক্স নয়, পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া হবে তাদের পেছনে।
সুতরাং!
অপেক্ষায় থাকুন, আগামী মাসেই মার্কিন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসছে, সরকারও প্রস্তুত - মাত্রই শৈশব-উত্তীর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি অঙ্গনকে বলাৎকার করার সব আয়োজন মোটামুটি সম্পন্ন। বাদ-প্রতিবাদ নয়, সম্ভব যদি হতো নিজ হাতে কয়েকটা খুন করে ফেরার হতাম নিশ্চিত!
মার্কিন বেনিয়া কনোকোফিলিপসের হাতে দেশের মূল্যবান গ্যাসসম্পদ অনেকটা বিনামূল্যেই তুলে দেওয়ার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকাই শুধু নয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার রীতিমতো লুঙ্গি তুলে কনোকোফিলিপসের স্বার্থ রক্ষা করে যাচ্ছে। সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বাইরে ভাব দেখাচ্ছেন তেল-গ্যাস আন্দোলন খুবই তুচ্ছ একটি ব্যাপার। কিন্তু তাদের বক্তব্য-প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্টই বোঝা যায়, এই আন্দোলনে তারা দারুণ ক্ষিপ্ত। ৩ জুলাইয়ের হরতাল সফল হওয়ার পর তারা এখন আরো বেশি ক্ষিপ্ত। নিচে কয়েকটি প্রতিক্রিয়ার ধরন লক্ষ্য করুন।
অমূল্য স্মরণীয় বাণী!
■ ‘তেল-গ্যাস রক্ষার নামে যারা হরতাল ডেকেছে ওরা কারা? ওরা সব সময় সামরিক শাসকদের পক্ষে কাজ করেছে। পাকিস্তান আমলে এরা বলেছে ভোটের আগে ভাত চাই। এরা বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার বিরোধীতা করেছে। এদেশের জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।’ [উৎস লিংক]
- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম
■ "আপনারা হরতাল ডেকেছেন। কার স্বার্থে, কোন অধিকারে আপনারা হরতাল ডেকেছেন? আপনারা কি জনপ্রতিনিধি? আপনাদের তো জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে না। জনগণের স্বার্থে আমরা গ্যাস-কয়লা অনুসন্ধান করবো, গ্যাস-কয়লা উত্তোলন করবো। আপনারা যা পারেন করুন গিয়ে। দেশের মানুষের ভালোর জন্য যা করার তাই আমরা করবো। আপনারা চিৎকার করতে থাকেন। যুক্তিসঙ্গত কিছু থাকলে নিয়ে আসুন। [উৎস লিংক]
- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম
■ 'কোথাকার কোন মনু মোহাম্মদ এসে তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির নামে তেল-গ্যাস উত্তোলনের বিরোধিতা করছেন। আসলে আলোচনায় থাকার জন্য মনু মুহাম্মদ-আনু মুহাম্মদরা বিদেশি গুপ্তচর হিসেবে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।' [উৎস লিংক]
- বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদের বাণী
ধরন দেখে মনে হয় এদের চেয়ে বড়ো দেশপ্রেমিক দেশে আর দ্বিতীয়টি নেই। তবে ইতিহাস বলে, দেশের সম্পদ অন্যের হাতে তুলে দেওয়া এইসব কমিশনখোরের অতীত ভালো নয়। শুনুন আলোচিত সেইসব অডিও টেপ। পাবেন অকপটে বলা অনেক অজানা তথ্য। পড়ুন কয়েকটি অডিও টেপের লিখিত রূপও।
শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সেই স্বীকারোক্তি
■ পর্ব - এক
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ৩.৬৭ মেগাবাইট
■ পর্ব - দুই
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ১৩ মেগাবাইট
■ পর্ব - তিন
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ৪৪ মেগাবাইট
■ পর্ব - চার
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ১৮ মেগাবাইট
লিখিত রূপ (পিডিএফ)
■ আবদুল জলিল, শেখ সেলিম ও আবদুল আউয়াল মিন্টুর স্বীকারোক্তির লিখিত রূপ
ফাইলের ধরন : পিডিএফ ■ আকার : ১১৬ কিলোবাইট
■ ওবায়দুল কাদেরের স্বীকারোক্তি
ফাইলের ধরন : টেক্সট/এইচটিএমএল
■ গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিনের স্বীকারোক্তি
ফাইলের ধরন : টেক্সট/এইচটিএমএল
তখন আর মিনমিনে স্বর নয়
টেন্ডার নিয়ে লুটপাট করুন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যা ইচ্ছে তাই করুন কিংবা হাজার লিমনের পা কেটে নিন - কিছু বলার নেই। বুকের কষ্ট চেপে রেখে দেখেও না দেখার ভান করে অন্য পথে হাঁটবো। কিন্তু প্রশ্নটা যখন দেশের স্বার্থ নিয়ে, দেশের অমূল্য সম্পদ নিয়ে, তখন আর নিরবে চোখের জল ফেলা নয়, বুকের কষ্ট চাপা দেওয়া নয়, মিনমিনে স্বরে রবীন্দ্রগীতিও নয় - সরাসরি চোখে চোখ রেখে বলবো -
দেশের স্বার্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবি না অমানুষের বাচ্চা! বঙ্গোপসাগর থেকে পাইপলাইন যদি টানা হয়, সেটা দিয়ে দালাল আর কমিশনখোর রপ্তানি হবে, আমার দেশের অমূল্য সম্পদ তেল-গ্যাস যাবে না কিছুতেই।
প্রথম প্রকাশ
অমূল্য স্মরণীয় বাণী!
■ ‘তেল-গ্যাস রক্ষার নামে যারা হরতাল ডেকেছে ওরা কারা? ওরা সব সময় সামরিক শাসকদের পক্ষে কাজ করেছে। পাকিস্তান আমলে এরা বলেছে ভোটের আগে ভাত চাই। এরা বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার বিরোধীতা করেছে। এদেশের জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।’ [উৎস লিংক]
- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম
■ "আপনারা হরতাল ডেকেছেন। কার স্বার্থে, কোন অধিকারে আপনারা হরতাল ডেকেছেন? আপনারা কি জনপ্রতিনিধি? আপনাদের তো জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে না। জনগণের স্বার্থে আমরা গ্যাস-কয়লা অনুসন্ধান করবো, গ্যাস-কয়লা উত্তোলন করবো। আপনারা যা পারেন করুন গিয়ে। দেশের মানুষের ভালোর জন্য যা করার তাই আমরা করবো। আপনারা চিৎকার করতে থাকেন। যুক্তিসঙ্গত কিছু থাকলে নিয়ে আসুন। [উৎস লিংক]
- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম
■ 'কোথাকার কোন মনু মোহাম্মদ এসে তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির নামে তেল-গ্যাস উত্তোলনের বিরোধিতা করছেন। আসলে আলোচনায় থাকার জন্য মনু মুহাম্মদ-আনু মুহাম্মদরা বিদেশি গুপ্তচর হিসেবে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।' [উৎস লিংক]
- বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদের বাণী
ধরন দেখে মনে হয় এদের চেয়ে বড়ো দেশপ্রেমিক দেশে আর দ্বিতীয়টি নেই। তবে ইতিহাস বলে, দেশের সম্পদ অন্যের হাতে তুলে দেওয়া এইসব কমিশনখোরের অতীত ভালো নয়। শুনুন আলোচিত সেইসব অডিও টেপ। পাবেন অকপটে বলা অনেক অজানা তথ্য। পড়ুন কয়েকটি অডিও টেপের লিখিত রূপও।
শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সেই স্বীকারোক্তি
■ পর্ব - এক
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ৩.৬৭ মেগাবাইট
■ পর্ব - দুই
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ১৩ মেগাবাইট
■ পর্ব - তিন
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ৪৪ মেগাবাইট
■ পর্ব - চার
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ১৮ মেগাবাইট
লিখিত রূপ (পিডিএফ)
■ আবদুল জলিল, শেখ সেলিম ও আবদুল আউয়াল মিন্টুর স্বীকারোক্তির লিখিত রূপ
ফাইলের ধরন : পিডিএফ ■ আকার : ১১৬ কিলোবাইট
■ ওবায়দুল কাদেরের স্বীকারোক্তি
ফাইলের ধরন : টেক্সট/এইচটিএমএল
■ গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিনের স্বীকারোক্তি
ফাইলের ধরন : টেক্সট/এইচটিএমএল
তখন আর মিনমিনে স্বর নয়
টেন্ডার নিয়ে লুটপাট করুন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যা ইচ্ছে তাই করুন কিংবা হাজার লিমনের পা কেটে নিন - কিছু বলার নেই। বুকের কষ্ট চেপে রেখে দেখেও না দেখার ভান করে অন্য পথে হাঁটবো। কিন্তু প্রশ্নটা যখন দেশের স্বার্থ নিয়ে, দেশের অমূল্য সম্পদ নিয়ে, তখন আর নিরবে চোখের জল ফেলা নয়, বুকের কষ্ট চাপা দেওয়া নয়, মিনমিনে স্বরে রবীন্দ্রগীতিও নয় - সরাসরি চোখে চোখ রেখে বলবো -
দেশের স্বার্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবি না অমানুষের বাচ্চা! বঙ্গোপসাগর থেকে পাইপলাইন যদি টানা হয়, সেটা দিয়ে দালাল আর কমিশনখোর রপ্তানি হবে, আমার দেশের অমূল্য সম্পদ তেল-গ্যাস যাবে না কিছুতেই।
প্রথম প্রকাশ

স্কুলে ভাষণ দিতে গিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী গতকালও সেই একই শিবের গীত গাইলেন এই বলে- 'একটি কুচক্রী মহল বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ও মহাজোট সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন থামিয়ে দিতে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।'
সেই একই রেকর্ড...
শুনে আসছি গত দু বছর ধরে। সরকার, বলা ভালো আওয়ামী লীগের বিপক্ষে কেউ অবস্থান নিলেই 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতেই' কিংবা 'ধারাবাহিক উন্নয়ন থামিয়ে দিতেই এই অপচেষ্টা' বলে হুঙ্কার ছাড়েন সরকারের প্রধান থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরাও। প্রতিমন্ত্রীর দেখছি অতো সাহস নেই। আড়িয়ল বিলের দিকে যেতে পারছেন না। উস্কানিমূলক বক্তব্য-টক্তব্য দিয়ে ঘুরে আসছেন আশেপাশের এলাকা থেকে। তার আগেই আড়িয়ল বিলে মানুষের পিঠ ঠেকে গেছে দেয়ালে। নারীরা ঝাড়ু নিয়ে তৈরি, তরুণদের মাথায় কাফনের কাপড় আর হাতে লাঠি, এমনকি যে বৃদ্ধার চলার শক্তিও নেই তিনিও দা হাতে পাহারা দিচ্ছেন নিজেদের ভূমিটুকু। এদের কারোরই রাজনৈতিক পরিচয় নেই, বেশিরভাগই নির্দলীয়। এই লোকগুলোর সামনে দাঁড়ানোর সাহস নেই সরকারের। তারা পারছে শুধু নিরীহ মানুষগুলোর ওপর পুলিশ লেলিয়ে দিতে, নিরীহ মানুষগুলোকে মামলার পর মামলা দিয়ে হয়রানি করতে। সবমিলিয়ে সরকারের অবস্থান জনতার বিপক্ষে, জনমতের বিরুদ্ধে। আচরণ পুরো মাফিয়ার মতো।
অথচ ভালো যুক্তি নেই একটিও
দেখবেন, বিমানবন্দর স্থাপনের পক্ষে সরকারের হাতে ভালো যুক্তিও নেই। বিমানসচিব যুক্তি দেখিয়েছেন, ঢাকায় যেহেতু একটিমাত্র রানওয়ে, ফলে কোনো বিমান দুর্ঘটনায় পড়লে ভবিষ্যতে সমস্যা হবে। আর 'সমস্যা' হবে বলে ঢাকা বিমানবন্দরের পাশেই দ্বিতীয় আরেকটি রানওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ না নিয়ে ২৫ হাজার একর ভূমি নষ্ট করে ১০ লাখ মানুষকে কর্মহীন করে দিয়ে আরেকটি বিমানবন্দর বানাতে হবে, তাও ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে? এমন তো নয় যে, ঢাকা বিমানবন্দরের পাশে জায়গা নেই। জায়গা যথেষ্টই আছে, নইলে পাশের ১৩০ একর জমি শ্রেফ লুটেপুটে খাওয়ার জন্য কিভাবে তুলে দেওয়া হল নামসর্বস্ব এক প্রতিষ্ঠানের কাছে? আর রানওয়ের অজুহাত যদি জীবিত রাখাও হয়, তাহলে উদাহরণ হিসেবে জানানো যায়, জাপানের নারিতা বিমানবন্দরেও রানওয়ে একটি। নারিতার তুলনায় ঢাকা বিমানবন্দর নিতান্তই মফস্বলস্থানীয়। ফলে বোঝা যায়, এটা কোনো ভালো কাজ নয়, বরং জনগণের অর্থের অপব্যবহার। এদিকে আমরা দেখছি, বিমানবন্দরই শুধু নয় নিরীহ কৃষককে আরো বিপদে ফেলে বিশাল 'বঙ্গবন্ধু সিটি' করারও উদ্যোগ আছে সরকারের।
যেখানে মানুষের চেয়ে পরিবার বড়ো
আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর স্থাপনের এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক একটি ইচ্ছা - তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। শুধু পিতার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য শেখ হাসিনা ও তার সরকার কয়েক শত বছরের ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ও আড়িয়ল বিলকে বিপন্ন করতে চাইছে। বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর আর বঙ্গবন্ধু সিটি যদি বাস্তবায়িত হয়েই যায়, হাজার হাজার মানুষ যে নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের শিকার হবে তা শুধু নয়, ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জ জেলার তিন উপজেলায় বিস্তৃত মধ্যাঞ্চলের সবচেয়ে বড় জলাধারটির প্রায় পুরোটা শেষ হয়ে যাবে। ঢাকার আশপাশে বন্যার প্রকোপও আরো বাড়বে। সরকার সেসব নিয়ে ভাবছে না।
শীতটা কেটে গেলেই আবার নামবে ভ্যাপসা গরম। বাড়বে বিদ্যুতের চাহিদা। উৎপাদন যেহেতু মোট চাহিদার ভগ্নাংশের সমপরিমাণ, সুতরাং জনজীবনে শীঘ্রই নেমে আসবে সেই পুরনো হাহাকার। সরকারের নজর সেদিকে নেই। বিদ্যুতের টাওয়ারের নাম তো আর বঙ্গবন্ধুর নামে করা যায় না, শোভনও নয়! সুতরাং বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, বানাও বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর, বানাও ফজিলাতুন্নেসা নৌবন্দর...
জনতার বিপক্ষে জনমতের বিরুদ্ধে
বঙ্গবন্ধুকে আমরা শ্রদ্ধা করি, বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়ের নায়ক ছিলেন তিনি। কিন্তু গরিব মানুষের ভিটেবাড়ি কেড়ে নিয়ে যে বঙ্গবন্ধুর 'নাম প্রতিষ্ঠা'র উদ্যোগ নিতে হয়, সেই বঙ্গবন্ধুকে আমরা চিনি না, সেই বঙ্গবন্ধু আমাদের লোক নন! যে সরকার জনতার বিপক্ষে জনমতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, সেই সরকারও আমাদের নয়।
জীবন যায়, যাক দু একটা, তবু রুখে দিন নামকরণের জন্য মরিয়া এই ম্যানিয়াকদের।
দেশে সমস্যার শেষ নেই। খাতার পর খাতা লিখে ভরে ফেলা যাবে, তবু তালিকা শেষ হবে না। তার মধ্যে জনসংখ্যা, খাদ্য, বাসস্থান কিংবা যানজটের মতো নাগরিক সমস্যাগুলো আপাতত পাশ কাটিয়ে রাখছি। আজ ব্লগারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি সাম্প্রতিককালের গুরুত্বপূর্ণ চারটি জাতীয় সমস্যার দিকে। সুখের বিষয়, তার মধ্যে অন্তত দুটি সমস্যার সমাধান সাম্প্রতিক সময়ে আমরা পেয়েছি মূলত সরকারের ত্বরিৎ উদ্যোগে।১.
সমস্যা : প্রথম রাকাতের ৩ তাকবির ছাড়া নামাজ আদায় সংক্রান্ত জটিলতা।
মূল ঘটনা : ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ৬ তাকবিরের সঙ্গে আদায় করতে হয়, যা বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব মাওলানা সালাউদ্দিন ভুলে যান। তিনি প্রথম রাকাতের ৩ তাকবির ছাড়াই নামাজ শুরু করেন।
প্রতিক্রিয়া : ওহ্ আল্লাহ! মুসলিম বিশ্ব এই ধরনের ঘটনা অতীতে প্রত্যক্ষ করেনি। বায়তুল মোকাররমের মুসল্লি সমাজ ন্যাক্কারজনক এ ঘটনায় ঈদের জামাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিজ্ঞ আলেম সমাজও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে খতিব সালাউদ্দিনের অপসারণ দাবি করেন। তবে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের হুমকির পরই বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেছেন, 'প্রথম রাকাতে ৩ তাকবির ছাড়া নামাজ আদায়ের ঘটনা আমাদের স্তম্ভিত করেছে। এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে বাধাগ্রস্থ করবে।' হোয়াইট হাউস মুখপাত্র ক্রিস্টোফার খাঙ্ক্ ইর্পো বায়তুল মোকাররমের এই ঘটনায় সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
২.
সমস্যা : বঙ্গবন্ধুর অধিকার শ্রদ্ধার সঙ্গে পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
সমাধান : সেশনজটে পড়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নষ্ট হোক কিংবা র্যাংকিংয়ে পাঁচ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে 'প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের' স্থান না হোক- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার মূল দায়িত্বসমূহ ভালোভাবেই পালন করে চলেছে। উদাহরণস্বরূপ গত ১৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতভাবে বঙ্গবন্ধুর ছাত্রত্ব বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ নিয়ে পুরো দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ছিল গভীর উৎকন্ঠায়। ওইদিন দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে আদেশ প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে দেশবাসীর মনে স্বস্তি নেমে আসে। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, 'আমরা সকলেই বঙ্গবন্ধুর অধিকার শ্রদ্ধার সঙ্গে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই ।' উপসংহার : এভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা কার্যক্রম নিয়মিত জোরদার করা গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে- এ বলাই বাহূল্য!
৩.
সমস্যা : দেশে দেশে ক্ষমা চাহিয়া পত্র পাঠানোয় উদ্বেগজনক দীর্ঘসূত্রতা।
সম্ভাব্য সমাধান : সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি "ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ অধিদপ্তর" গঠনের সিদ্ধান্ত গভীরভাবে বিবেচনা করতে পারে। এই অধিদপ্তর বিশ্বের দুর্বলতম দেশগুলোকে প্রতি তিন মাস অন্তর মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার জন্য একবার করে ক্ষমা/দুঃখ প্রকাশ করার প্রস্তাব পাঠাবে। প্রাথমিকভাবে তালিকার শীর্ষে রাখা যেতে পারে আফ্রিকার মোজাম্বিক, সোমালিয়া এবং এশিয়ার ভূটান ও শ্রীলংকাকে। অথবা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সম্ভাব্য দেশের তালিকা চেয়ে এইরকম রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে।
বিশেষ সতর্কতা : মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে বিরোধিতাকারী ক্ষমতাধর রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব এবং বিশেষভাবে পাকিস্তানকে এই তালিকার বাইরে রাখার নীতি কঠোরভাবে পূর্বের মতো বহাল থাকবে।
৪.
সমস্যা : এটা খুবই দুঃখজনক যে, স্বাধীনতার ৩৯ বছরেও মুক্তিযুদ্ধের দলিলাদি সমুন্নত রাখা সম্ভব হয়নি। অতীতে এজন্য অনেকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করেছেন, কেউ কেউ আবার সরাসরি আঙ্গুল তুলেছেন ক্ষতিকর পোকা ও রোগবালাই দমন বিভাগের দিকে।
সমাধান : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে দলিলাদি সমুন্নত রাখার কাজটি সম্পন্ন হল গত পরশু। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের দুই পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ আবু নাসের, আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও শেখ ফজলুল হক মণিসহ ৫ মুক্তিযোদ্ধাকে সনদ দেওয়ার মাধ্যমে সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পাদিত হল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রদান করে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত সম্প্রতি বাসসকে বলেছেন, 'বীরপ্রতীক তারামন বিবি, বীরপ্রতীক লালুর সন্তান কিংবা ফজলুদের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে অবশ্য চিন্তার কিছু নেই। এইসব ছাইপাশ দেখার যথেষ্ট সময় বাংলাদেশের সামনে আছে!
প্রথম প্রকাশ
বাংলাদেশ বিমান দুর্ঘটনায় পড়েছে- এটা এতোই মামুলি ব্যাপার যে, কেউই সাধারণত এইসব খবরে বিচলিত হন না। যেন ওটাই হওয়ার কথা, বরং না হওয়াটাই উদ্বেগের বিষয়! কোথাও কৌতূহল যদি কিছু থাকে, সেটা দুর্ঘটনার ধরনে। এর আগে আস্ত বিমান রানওয়ের বদলে খালে-বিলে-খাদে আছড়ে পড়ার দৃশ্য আমরা দেখেছি। গতকালের ঘটনা আরো মজাদার। ৩০৫ জন যাত্রী নিয়ে ওমানের মাসকট থেকে আসা একটি বিমানের আস্ত পাখা খসে পড়েছে চট্টগ্রামের আকাশে। চট্টগ্রামের পটিয়ায় সেই পাখা তিন টুকরো হয়ে ভূপাতিত হয়।
ভাবতে ভালো লাগে, বাংলাদেশ বিমান খালে-বিলে আছড়ে পড়লেও, আকাশে এমনকি পাখা খসে গেলেও প্রাণহানির ঘটনা তেমন একটা নেই। যাত্রীগুলো কিভাবে কিভাবে বেঁচে যান। গিনেস বুক অফ রেকর্ডের স্বীকৃতির অপেক্ষা করে লাভ নেই। আমরা এখনই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, বাংলাদেশ বিমানের যাত্রীরাই পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী মানুষ!
ছবিটি বড়ো আকারে দেখুন এইখানে ক্লিক করে।
ছবিতে ব্যবহৃত বিমানের শ্লোগানটি পথ হারা পাখির সৌজন্যে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bangladesh biman, bangladesh airlines, biman ;
প্রথম প্রকাশ
সন্ধ্যায় গলি দিয়ে রিকশাযোগে যাচ্ছিলাম। পথে তখন গার্মেন্টস কর্মীদের মিছিল। কারখানায় সারাদিন শ্রম দিয়ে ঘরে ফিরছিল ওরা। নারী কর্মীগুলোকে দেখে আমার রিকশাচালক হঠাৎই যেন গায়ক হয়ে উঠল। ঠোঁটে তার সদ্য হিট হওয়া কোনো বাংলা সিনেমার গান। চলতে চলতে হঠাৎ লক্ষ্য করলাম, রিকশাচালকের ডান হাতটি হ্যাণ্ডেল থেকে সরে গেল আচমকা। সেই হাত, আধো অন্ধকারেও স্পষ্ট দেখলাম, লাজুক এক নারী কর্মীর বুকের ওপর গিয়ে থেমেছে! হতচকিত মেয়েটি মাথা বাঁকিয়ে তাকালেন একনজর, চোখেমুখে ভয়। কয়েক সেকেন্ড পর হাত ছাড়িয়ে মাথা নিচু করে আবার পথ চলতে শুরু করলেন। যেন এই অপমান তাদের নিত্যদিনের পাওনা, যেন কোনো কিছুই ঘটেনি। কিন্তু ঘটেছে তো বটেই! নতমস্তকে হেঁটে যাওয়া মেয়েটি দেখলো না, ততোক্ষণে রিকশাচালকের শার্টটা পরিষ্কার দু ভাগ! আজ মনে পড়ছে, সেদিন এক অসুর ভর করেছিল আমার শরীরে। এ হল নিচুতলার গল্প।উঁচুতলার গল্প এবার
■ হাসিব আজিজ উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে কয়েকদিন আগে তাকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে হাসিবের দ্বিতীয় স্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেছেন, সাত বছর আগে তাকে বিয়ে করার পর থেকেই হাসিব আজিজ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। প্রতিবাদ করলে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। এর আগে ২০০২ সালে হাসিব তাকে কাজের লোক সাজিয়ে লন্ডন নিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শী ও পাঠকের প্রতিক্রিয়া থেকে জানা যাচ্ছে, পররাষ্ট্র দপ্তরের এই ক্যাডারের পোস্টিং যে দেশেই হতো, সেখানেই তিনি আদমব্যবসা খুলে বসতেন। এই লেখায় সেই প্রসঙ্গ গৌণ অবশ্য। মূখ্য হচ্ছে, যে দেশেই তিনি যেতেন, সেই দেশেই তিনি একটি করে 'বিয়ে' করতেন। সর্বশেষ মরক্কোতে তার এই ধরনের একজন স্ত্রীর খোঁজ পাওয়া গেছে।
■ গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুনকে বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া হয়েছে বিভাগের এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে। তার কয়েকদিন পরই জাহাঙ্গীর নগরে স্বয়ং এক শিক্ষিকা বিভাগের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনলেন।
একসঙ্গে মাত্র দুদিনের কিছু সংবাদ
■ জুড়িতে এক নারীর সম্ভ্রমের মূল্য ৩২ হাজার টাকা!
■ ভিকারুন নিসার ছাত্রী অপহরণের চেষ্টা
■ মোহনপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও চিত্র ধারণ!
■ মঠবাড়িয়ায় আপন ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগে চাচা গ্রেফতার
■ হবিগঞ্জে যৌন নিপিড়নকারী শিক্ষক মইন সাময়িক বরখাস্ত
■ জাবি শিক্ষিকার অভিযোগ গ্রহণ করে যৌননিপীড়ন সেলে পাঠালেন ভিসি
■ ঢাবিতে বৈশাখের অনুষ্ঠানে ৩০ ছাত্রী লাঞ্ছিত
■ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর আত্মহত্যা
■ অভয়নগরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার
যেখানে সবাই এক চেহারার
মাত্র দুদিনে যৌন উন্মত্ততার এতোগুলো ঘটনা পড়া আমাদের অনেকের জন্য মামুলি ব্যাপার হয়তো, কিন্তু অনেকের জন্যই বিষয়টা নিশ্চিৎ পীড়াদায়ক। মনের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি করে। তবে এটা ঠিক যে, আমরা বোধহয় ক্রমশ যৌন উন্মাদ হতে চলেছি। সমাজের উঁচুতলা থেকে নিচতলা, নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত, কামলা থেকে আমলা- সবখানে, সবক্ষেত্রেই যেন অস্বাভাবিক এক দণ্ডঘটিত সমস্যা ছড়িয়ে পড়ছে, যেখানে রাষ্ট্রদূত থেকে রিকশাওয়ালা সবাই এক চেহারার, যমজ যেন!
ঘটনা হয়তো দিনাজপুর কি রংপুরের, শিকার হয়তো ২০০ কি ৪০০ মাইল দূরের কোনো নারী, জাবি শিক্ষিকা কিংবা অভয়নগরের স্কুল ছাত্রী। অনায়াসে এই সবকিছু থেকে গা বাঁচিয়ে চলা যায় নিশ্চয়ই। চোখ বুঁজে থাকলেই হয়। চলতি পথে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকলেই হয়। কিন্তু চাপ পড়ে ঠিকই। শেষপর্যন্ত এই সবকিছু কোনো না কোনো সময় মনের ওপর এক ধরনের চাপ ফেলেই। হ্যাঁ!
প্রথম প্রকাশ
একটি মাত্র ছবি গত রাত থেকে আমার ভেতরটা কেমন যেন ওলটপালট করে দিল। বাঁচার আশায় আতঙ্কিত অবোধ শিশুটি লোকটার লুঙ্গি টেনে ধরেছে- আজ সারাদিন ওই ছবিটাই শুধু চোখের সামনে ভাসছে । কতোইবা বয়স শিশুটির? এক-দেড় হবে হয়তো। এই বয়সী একটা শিশু যখন শূন্যে ঝুলছিল সজোরে, কতোটা আতঙ্কিত হয়েছিল সে? তার পেটের ওপর দুটো পা, আসলে দুটো পাহাড় যখন চেপে বসেছিল, কেমন লাগছিল শিশুটির?এই বয়সে যে দৃশ্যের সঙ্গে সে পরিচিত হয়েছে, আজীবন তাকে সেই ভীতি তাড়িয়ে বেড়াবে নিশ্চিত। পৃথিবীর কোনো মনোচিকিৎসকের পক্ষে সম্ভব নয়- তার সেই ভীতি সারিয়ে তুলবে।
আমার শুধু মনে হচ্ছে, আজ সকালে গ্রেপ্তার হওয়া ওই ভণ্ডপীরকে ১০০ তলা বিল্ডিংয়ের ওপর থেকে যদি ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারতাম! সবকিছুই আসলে বিস্বাদ লাগছে। টের পাই, বুকের কোথাও কোনো এক কোণে অক্ষম কেউ একজন কাঁদছে সঙ্গোপনে।
প্রথম প্রকাশ
প্রবাস থেকে অনেক পত্রিকাই বের হয়- সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক। এর মধ্যে বিশেষভাবে নজর কাড়ে কানাডা থেকে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকা 'নতুন দেশ'। মূল কারণ এর পেশাদারিত্ব। নতুন দেশের অনেক খবর বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতে স্থান পেতে দেখেছি বিভিন্ন সময়ে। পত্রিকাটির নেপথ্যে আছেন যে দুজন- সেরীন ফেরদৌস ও শওগাত আলী সাগর, তাদের চিনি বহুদিন ধরে। কানাডা প্রবাসী হওয়ার আগে দুজনেই দীর্ঘকাল প্রথম আলোতে কর্মরত ছিলেন।নতুন দেশের চলতি সংখ্যায় শীর্ষ নিউজটি পড়ে আমি স্তম্ভিত হয়েছি। সেরীন ফেরদৌসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটিতে সবিস্তারে উঠে এসেছে কিভাবে বাংলাদেশী কবিদের অভিনব প্রতারণার ফাঁদে আটকা পড়ছেন প্রবাসী নারীরা। দীর্ঘ প্রতিবেদনে সাহিত্য জগতের অনাবিস্কৃত এক অন্ধকার দিক তিনি উন্মোচন করেছেন।
সেরীন ফেরদৌস লিখেছেন- 'ফেসবুকে বন্ধু বানিয়ে রোমান্টিক কবিতায় প্রলুব্ধ করা হয়েছে প্রবাসী নারীদের। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁরা পরিণত হয়েছেন বন্ধু বা প্রেমিকে। তারপর শুরু হয়েছে নানা অজুহাতে টাকা-পয়সা, অন্যান্য দামী সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়া । বেশ কিছু খসিয়ে নেবার পর এরা বন্ধু বা প্রেমিকা পাল্টান, টার্গেট করেন অন্যদের। প্রবাসী বাংলাদেশী নারী, বিশেষ করে চাকরিজীবী নারীরা এদের প্রধান টার্গেট, তবে গৃহবধুরাও এদের শিকার।'
প্রতিবেদক অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছেন, 'প্রতারণার শিকার প্রবাসী নারীরা দামি উপহারসামগ্রী ( ভিডিও ক্যামেরা, ডিজিটাল ক্যামেরা, গেরস্তালী সামগ্রীর মূল্য, মোবাইল ফোন ইত্যাদি) দেওয়া ছাড়াও নিয়মিত নগদ টাকা পাঠিয়েছে। একপর্যায়ে টাকা পাঠাতে কেউ কেউ অপারগতা প্রকাশ করলে, তাদের পাঠানো উপহার সামগ্রী, মেইল এবং ফেসবুক তথ্য তাদের স্বামী ও অন্যান্যদের জানিয়ে দেবার ভয় দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে দু’একজন দেশে বেড়াতে গেলে গোপনে ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ঢাকায় গিয়ে থানা-পুলিশও করতে হয়েছে কাউকে কাউকে। তবে সামাজিকভাবে হেয় হবার ভয়ে এবং সংসারে অশান্তির আশংকায় প্রতারিত এসব নারীরা কোথাও মুখ না খুললেও মুষড়ে পড়েছেন এবং কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কানাডার টরন্টো, নিউইয়র্ক, অস্ট্রিয়া, সিডনি এবং মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত বেশ কয়েকজন নারী ‘ঢাকাই কবি’দের হাতে প্রতারিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন নতুনদেশের কাছে।'
কাগুজে অভিযোগ নয়, সেরীন ফেরদৌস প্রমাণ হাতে রেখেই জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যে এই কবিচক্রটির পাঁচ সদস্যকে সনাক্ত করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন একটিই- ঢাকার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে খ্যাতিমান এই পাঁচ কবির পরিচয় কী? এরা কারা?
বিস্তারিত পড়ুন এখানে
প্রথম প্রকাশ
কানাডা থেকে প্রকাশিত নতুনদেশে ঢাকার পাঁচ কবির প্রতারণার ঘটনা নিয়ে পর পর দু সংখ্যায় কবির প্রতারণার ফাঁদে প্রবাসী নারী এবং একজন রোকন সাকুরের প্রতারণার চিত্র শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যা ব্যাপক আলোড়ন তোলে বিভিন্ন মহলে। দেশে-বিদেশে শত শত ব্লগার ও ফেসবুকজীবী এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আবার অনেকে প্রতারক কবিদের পক্ষ নিয়ে ফেসবুকে প্রচারণা চালানোর চেষ্টাও করে। নতুন দেশের চলতি সংখ্যায় নতুন কোনো কবির বৃত্তান্ত প্রকাশিত না হলেও চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
নতুনদেশের সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানানো হচ্ছে- "কবিতায় প্রলুব্ধ করে প্রবাসী নারীদের প্রতারণা করা নিয়ে নতুনদেশ ডটকম এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি এখন ঢাকার গোয়েন্দাদের হাতে। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইবার অপরাধ দমন সেলের পক্ষ থেকে রিপোর্টটির ব্যাপারে নতুনদেশের কাছে খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং তারা এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য- চায়।"
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, "সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ বড় একটি অপরাধী চক্রকে ধরতে সরকারের গোয়েন্দারা কাজ করছেন। কবি নামধারীদের প্রতারণার এই তথ্য-উপাত্ত তাদের অনুসন্ধানে সহায়তা করবে বলে তারা মনে করছেন।"
এই ধরনের ব্যতিক্রমী ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থার জড়িত হওয়ার নজির এর আগে সম্ভবত নেই। সাইবার ক্রাইম দমনে গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষতা আছে কি নেই- তাও আমাদের অজানা। ঘটনা কোনদিকে এগোচ্ছে- সেটাই এখন দেখার বিষয়। গোয়েন্দা সংস্থার জালে ঢাকার কোন্ কোন্ কবি আটকা পড়ছে- সেটাই এখন কৌতূহলের বিষয়।
সংযুক্তি
এরা কবি...
প্রথম প্রকাশ
নতুনদেশের সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানানো হচ্ছে- "কবিতায় প্রলুব্ধ করে প্রবাসী নারীদের প্রতারণা করা নিয়ে নতুনদেশ ডটকম এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি এখন ঢাকার গোয়েন্দাদের হাতে। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইবার অপরাধ দমন সেলের পক্ষ থেকে রিপোর্টটির ব্যাপারে নতুনদেশের কাছে খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং তারা এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য- চায়।"
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, "সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ বড় একটি অপরাধী চক্রকে ধরতে সরকারের গোয়েন্দারা কাজ করছেন। কবি নামধারীদের প্রতারণার এই তথ্য-উপাত্ত তাদের অনুসন্ধানে সহায়তা করবে বলে তারা মনে করছেন।"
এই ধরনের ব্যতিক্রমী ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থার জড়িত হওয়ার নজির এর আগে সম্ভবত নেই। সাইবার ক্রাইম দমনে গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষতা আছে কি নেই- তাও আমাদের অজানা। ঘটনা কোনদিকে এগোচ্ছে- সেটাই এখন দেখার বিষয়। গোয়েন্দা সংস্থার জালে ঢাকার কোন্ কোন্ কবি আটকা পড়ছে- সেটাই এখন কৌতূহলের বিষয়।
সংযুক্তি
এরা কবি...
প্রথম প্রকাশ
কানাডা থেকে প্রকাশিত নতুন দেশ পত্রিকা এর আগে সবিস্তারে জানিয়েছিল, বাংলাদেশী কবিদের অভিনব প্রতারণার ফাঁদে কিভাবে আটকা পড়ছেন প্রবাসী নারীরা। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ব্লগ, ফেসবুক ছাড়াও ঢাকার সাহিত্য অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। আজ প্রকাশিত হল সেরীন ফেরদৌসের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব।কবিদের প্রতারণার ফাঁদে প্রবাসী নারীরা : কে এই
প্রতিবেদনে বেশ কিছু কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য পাওয়া গেছে। সেরীন তার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য থেকে জানাচ্ছেন, '২০০৯ সালের শেষের দিকে একইসঙ্গে কানাডা, অস্ট্রেলিয়াএবং যুক্তরাষ্ট্রের তিন শহরের তিনজন নারীর সঙ্গেই একই মাত্রায় সম্পর্ক চালিয়ে গেছে এবং নিয়মিত দামি উপহার এবং টাকা পয়সা নিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, গত ২রা এপ্রিল ২০১০ রাতে রোকন মাথা ব্যথার কথা বলে একই সময়ে তিন শহরের তিনজনের কাছ থেকে সহানুভূতি আদায় ক
প্রথম প্রকাশ
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের আলোচিত সেই ভণ্ডপীর হারামজাদ হোসেন তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হয়েছে- এটা পুরনো খবর। এখন আনন্দের খবরগুলো বলি একেক করে-১. সিরাজদিখান থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার বাদী নির্যাতিত সেই শিশু দুটির মা। প্রক্রিয়া চলছে আরও একটি প্রতারণা মামলা দায়েরের।
২. জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে চিকিৎসার নামে নির্যাতিত রোগীদের খোঁজখবর নিয়েছেন। আমজাদের নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন সিভিল সার্জন।
৩. পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আমজাদ দোষ স্বীকার করে বলেছে, ‘আমার ভুল হয়েছে। অভাবের কারণে গ্রামের কিছু লোকের প্ররোচনায় এই পেশায় নেমেছি। আমার এই কর্মের কারণে সাজা হওয়া উচিত, যাতে আর কেউ এই কাজ না করে।’
সবচেয়ে আনন্দের খবরটি হচ্ছে-
৪. আমজাদ শিশুদের যেভাবে ‘চিকিৎসা’ দিতো, তাকেও গ্রেপ্তারের পর মাটিতে ফেলে সেভাবে কিছু ‘নমুনা চিকিৎসা’ দেওয়া হয়েছে আজ দুপুর নাগাদ। সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, শিশুদের যেভাবে মাটিতে ফেলা হয়েছিল, তাকেও সেভাবে মাটিতে ফেলে দেখানো হয়েছে মাত্র।
মতিউর রহমান, আপনি আমাদের অভিনন্দন গ্রহণ করুন।
দুঃখের খবর একটিই-
সকালে ভন্ডপীর আমজাদের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময় রেবের একটি দলও সেখানে হাজির হয়। অথচ!
যা হোক, এর মধ্যে অবশ্য রেব-১১-এর এএসপি মিলন রহমান জানাচ্ছেন, আমজাদের বাকি সহযোগীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রেব যেহেতু, আশা করার অনেক কিছুই আছে। ওহে মিলন ভাই, একটু দেইখেন বস। গ্রেপ্তার-টেপ্তারের দরকার কি খামোখা!
প্রথম প্রকাশ
দেশে এখন জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বই লেখকের সংখ্যা। বাংলা ব্লগ চালু হওয়ার পর অনেকে আবার শুধু ব্লগার থাকতে চাইছেন না, তারাও লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে মরিয়া হয়ে উঠছেন। আর ওদিকে বাংলা একাডেমির বইমেলার দিকে তাকালে দেখি, লেখকের ছড়াছড়ি রীতিমতো! মুড়ি-মুড়কির মতো জন্ম নিচ্ছে লেখক। অনেকেই আবার বিরল প্রতিভার অধিকারী - ডান হাতে লিখছেন প্রেমের উপন্যাস, বাম হাতে জীবনঘনিষ্ঠ গল্প, ডান পায়ে রম্যরচনা, বাম পায়ে কবিতা, এমনকি কনুই দিয়ে লিখছেন সায়েন্স ফিকশনও। এই পর্যন্ত হলে ব্যাপারটা খারাপ কিছু নয়। কিন্তু নিজেদের বই বিক্রির জন্য ছোট-বড়ো-মাঝারি-জনপ্রিয় সব লেখকই পুরো ফেব্রুয়ারিজুড়ে এমন সব কাণ্ডকারখানা করেন, কাছ থেকে দেখে-টেখে শ্রেফ ঘেন্না লাগে! বড়োদের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ এবং তার প্রকাশক অন্যপ্রকাশের মাযহারুল ইসলাম এক্ষেত্রে বেশ কয়েক বছর ধরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গতবার আমরা দেখেছি, বইমেলা আর নুহাশ পল্লীতে হিমুরূপী ভাড়াটে তরুণদের কাণ্ডকারখানা। বাংলালিংক আবার টাকা দিয়ে সেটা স্পন্সর করেছে। প্রচারণার এমনই মরিয়া ধরন, সুযোগ ও সাধ্য থাকলে এরা সম্ভবত আধা নগ্ন মডেল ভাড়া করে বইয়ের প্রচারণা চালাতেন। অন্যদিকে মাঝারিগোছের লেখকরাও বইমেলায় নিজেদের বই বিক্রির জন্য যা কাণ্ডকারখানা করেন, সত্যিই লজ্জাজনক। নিজেদের বইয়ের প্রচারণা বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য তাদের কায়দা-কৌশলের শেষ নেই যেন। বিজ্ঞাপন শুধু প্রকাশকরাই দিচ্ছেন তা নয়, জনপ্রিয় লেখকরা নিজেদের গরজেও বিভিন্ন প্রকাশনীর বই একত্র করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপছেন। সেসব বিজ্ঞাপনে প্রায়ই ভোজবাজির মতো "তিন দিনে তৃতীয় মুদ্রণ" প্রসবিত হচ্ছে। এবং অবধারিতভাবে তাদের প্রতিটি উপন্যাস আর গল্পই "আলোড়ন সৃষ্টিকারী!"
ছোট লেখকদের অবস্থা রীতিমতো ভয়াবহ। অনেককে দেখছি, দিনরাত স্টলের সামনে পড়ে থাকছেন খদ্দের ধরার আশায়। বই পড়িয়েই ছাড়বেন- এমন এক প্রতিজ্ঞা নিয়ে তারা মেলাঙ্গনে মাটি কামড়ে পড়ে থাকছেন। নিজেদের বই বিক্রির জন্য এদের অনেকে পায়ে ধরাটাই শুধু বাকি রাখেন। এদের প্রচার কৌশল আবার ভিন্ন। বইমেলা এলেই তাদের অনেকে হামলে পড়েন ফেসবুক, ব্লগ আর বিভিন্ন ফোরামে। ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ওয়াল, ম্যাসেজ থেকে স্ট্যাটাস - সবখানেই নিজেদের বইয়ের বিজ্ঞাপন, ইনিয়ে-বিনিয়ে, আকারে-ইঙ্গিতে, কখনোবা খোলাখুলিই। রীতিমতো ক্ষ্যাপা কুকুরের অবস্থা। গত বছর থেকে ব্লগে আরেকটি ট্রেণ্ড তৈরি হয়েছে - লোক ভাড়া করে 'আলোচনা' লেখানো। আলোচনা তো নয় ঠিক, ভালোচনা বলাই ভালো। আমাদের সুহৃদ রাসেল (........) এ ধারার পথিকৃৎ। আবার আলোচনার ধার না ধেরে তমুকের বই কিনলাম শীর্ষক মিনি পোস্টও দেখা যাচ্ছে এবার।
বলাবাহূল্য, বইমেলায় প্রকাশিত দুই-তৃতীয়াংশ বই-ই শ্রেফ সময়ের নিদারুণ অপচয়। কাগজের দামের দিকে মানবিক দৃষ্টি রেখে এগুলোকে 'ফর্মা' হয়ে ওঠে, কিন্তু 'বই' কিছুতেই নয়। এমনিতে বই নিয়ে যতো মহতী কথাবার্তা, স্মরণীয় বাণী আছে, সবই কিন্তু বইলেখকদের লেখা। ফলে মাঝে মাঝে সেগুলো পুনর্বিবেচনা করে দেখা ভালো!
সংযুক্তি
বই বিক্রি হচ্ছে নতুন ফর্মূলায়
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ekushey book fair, ekushey boi mela, boi mela, book fair, humayun ahmed ;
প্রথম প্রকাশ
অফিস থেকে বেরুবো বেরুবো ভাবছি। তখনই আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ফোন। পল্টন থানায় তার কী যেন কাজ। সঙ্গে যাওয়ার কাতর অনুরোধ করেই ক্ষান্ত নয় বন্ধু, আধঘন্টার মাথায় গাড়িসমেত এসে হাজির, আমার অফিসের নিচে। অগত্যা যেতেই হল। থানা, সেটা যেখানেই অবস্থিত হোক না কেন, যাওয়াটা খুব সুখকর কাজ নয়। এমনিতে অনিয়মিত পর্যটক হয়েও বলে দিতে পারি, ঢাকার থানাগুলোর চেহারা খানিকটা বদলেছে, তবে খুব নজর কাড়ার মতো নয়। প্রত্যাশিত শ্রী খুঁজে পেলাম না যথারীতি পল্টনেও। যাওয়া ঢাকার ব্লগার মাত্রেই জানেন, রাজধানীর সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ থানাগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে এই পল্টন থানা।বন্ধুর উদ্দেশ্য তার পুরনো মামলা হলেও আমার কৌতূহল ছিল অন্যত্র। এর আগে শুনেছিলাম, ঢাকার ৪০টি থানায় পুলিশের কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্তব্যরত কর্মকতাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার কক্ষ তো বটেই, এমনকি থানায় ঢোকার পথেও সেই ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে জানি। কথা ছিল, থানাগুলো থেকে ধারণ করা চিত্র ডিএমপি কমিশনার স্বয়ং দেখবেন। কিন্তু আস্ত ক্যামেরা-ট্যামেরা দূরের কথা, পল্টন থানায় সেরকম কিছুর লক্ষণই খুঁজে পেলাম না। শুনেছি, এর আগে দুয়েকটি থানায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই সেগুলোতে নাকি অনিবার্যভাবে 'যান্ত্রিক ত্রুটি' দেখা দিয়েছে। এ দিকটা ভেবে ক্যামেরা সংক্রান্ত যাবতীয় জিজ্ঞাসা মনেই চাপা দিয়ে রাখলাম। কাউকে জিজ্ঞেস করে লজ্জা দিতে বা নিজে লজ্জা পেতেও ইচ্ছে হল না খুব একটা।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাকি বিস্তর ব্যস্ত। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। সেই ব্যস্ততার তোড়ে তার সহকারী নেইমকার্ড নিয়ে যেতে পর্যন্ত রাজি হল না। অগত্যা থানার ভেতরে একজন উপ-পরিদর্শকের সঙ্গে আলাপ জমানোর চেষ্টা চলল। আলাপ বলা ঠিক হবে না, মারেফতি লাইনের 'এই দেশের কী হবে গো' গোছের আর্তি কিংবা আর্তনাদই মিনিটদশেক ধরে অনুরণিত হল। এই করে করে যখন বিরক্তির প্রায় শেষ সীমায়, তখনই আশার প্রদীপ যেন দপ করে জ্বলে উঠল। টেবিলের ওপাশে হাতকড়া পরা এক লোক। হাত তুলে থানার সেই উপ-পরিদর্শক বৃত্তান্ত পেশ করলেন গর্বিত ভঙ্গিতে। এক লাখ টাকার চেক ঘষেমেজে এক কোটি টাকা করার মামলা!
ঘটনা তিন বছর আগের। কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কাজের বিল বাবদ ১ লাখ টাকার একটি চেক নেন ছাপাখানা ব্যবসায়ী মাইনুদ্দিন আহমেদ। কর্মক্ষেত্র ছাপাখানা হলেও প্রতিভায় তিনি অসামান্য। সামান্য ঘষেমেজে দুটি শূন্য বাড়িয়ে ১ লাখ টাকার চেকটিকে তিনি মাত্র ১ কোটি টাকায় রূপান্তর করেন। তবে বেচারার দুর্ভাগ্য। চেকটি ব্যাংকে জমা দিতে গেলে ব্যাংক কর্মকর্তারা সন্দেহ করে বসেন। প্রতিভার চ্ছটা দেখিয়ে ব্যাংক থেকে তিনি বেরিয়ে আসেন বটে, তবে মামলা থেকে বেরুনোর সৌভাগ্য তার হয়নি। গত সোমবার পল্টন থানার পুলিশ অবশেষে তাকে প্রগতি সরণী থেকে গ্রেপ্তার করে।
দেহের ঘাম শুকানোর আগেই যেমন মজুরী প্রদান আবশ্যক, তেমনি এই ধরনের বিরল প্রতিভাকে তৎক্ষণাৎ স্বীকৃতি দেওয়াও প্রায় ফরজের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আসলেই প্রতিভার ছড়াছড়ি। বাব্বাহ্!
প্রথম প্রকাশ
নিজের জন্য একটা সোয়েটার কিনতে যাচ্ছিলাম। পথে দেখলাম, ফুটপাতেই ভাসমান কিছু মানুষ মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর আয়োজন করছেন। নারী-শিশু-বৃদ্ধও আছে সেই কাফেলায়। পাঁচ-ছয় বছর বয়স হবে বোধহয়, এক শিশুকে দেখলাম বড়োদের এক জীর্ণ কোট গায়ে জড়িয়ে বসে আছে ফুটপাতের এককোণে। আধো অন্ধকারে তার কাঁপুনি আমিও স্পষ্ট টের পাচ্ছিলাম। কি থেকে কী হয়ে গেল, নিজেই টের পেলাম না। শুধু মনে হল, বুকের কোনো একটা জায়গা খালি হয়ে গেল হঠাৎ! কম দামে কোথায় কাপড় পাওয়া যায়, সেটা জানা ছিল। বন্ধুকে নিয়ে পকেটে যা টাকা ছিল, সবটা দিয়ে প্রথমে শিশুদের কিছু সোয়েটার কিনলাম, তারপর বড়োদের জন্য আরো কয়েকটি। ইচ্ছে হল, আরো কিনি। কিন্তু ঘরে ফেরার টাকা ছাড়া আর কিছু ছিল না মানিব্যাগে। ঘন্টাখানেকের মধ্যে সেই জায়গায় ফিরে আসি বটে, কিন্তু লজ্জা আর কাটিয়ে উঠতে পারি না। শীতার্ত শিশু আর কয়েকজন বৃদ্ধের হাতে পোশাকগুলো তুলে দেয় আমার বন্ধুটি। তখনই জন্ম হয় আরেক দৃশ্যের। মুহূর্তের মধ্যে ভোজবাজির মতো প্রচুর মানুষ ছুটে আসে সেখানে। সবাই এক টুকরো কাপড় চান শীতের ছোবল থেকে বাঁচার জন্য। ভিক্ষা দেওয়ার বেলায় এমনিতে আমি চূড়ান্ত নির্মম। কিন্তু সামান্য দূরে দাঁড়িয়েও এইবার নিজেকে শ্রেফ একটা অসহায় মানুষ বলে মনে হচ্ছিল।প্রতিরাতে অভাবী মানুষের যুদ্ধ
খোদ এই ঢাকায় কমলাপুর রেলস্টেশন, কারওয়ান বাজার, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন ফুটপাত ও ওভারব্রিজে লাখ লাখ মানুষ শীতবস্ত্র ছাড়াই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে এখন। ঢাকার বাইরে অবস্থা আরো করুণ, আরো মর্মন্তুদ। দেশের অনেক জায়গায় সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। তীব্র শীত সইতে না পেরে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। দিনাজপুর, গাইবান্ধা, শ্রীমঙ্গলে ইতিমধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে এই সংখ্যা আরো বাড়বে। যদিও মৃত্যুসংখ্যা দিয়ে এই শীতের তীব্রতা মাপা যায় না। শুধু বলতে পারি, এই কষ্টের ওপরে আর কষ্ট নেই। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে ক্ষুধার কষ্ট। সাধারণভাবে শীতের সময় ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষের আয় কমে যায় সার্বিকভাবে। ফলে ক্ষুধা মেটানোই এখন দায় হয়ে পড়েছে অনেকের পক্ষে। আমার এক বন্ধু ফলোআপ করতে গিয়ে সেদিন দেখে অভাবী এক মানুষকে দেওয়া কম্বলটি পরদিনই তিনি ৫০ টাকায় আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। ক্ষুধা যেখানে বড়ো, সেখানে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ডাস্টবিন ঘেটেও হয়তো ক্ষুধা মেটানো যায়, কিন্তু শীত মানানো যায় না। কনকনে শীতের মধ্যেই এখন হু হু বাতাস আরেক উপদ্রব হয়ে উঠেছে। ফলে শীতের তীব্রতা বাড়ছে ক্রমেই। সুরম্য দালানের ভেতর বসে ইদানিং কাঁপছি রীতিমতো। অসহায় বিপন্ন মানুষের অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়। প্রতি সন্ধ্যায় হাঁটতে হাঁটতেই মানুষের প্রাণপণ সংগ্রাম দেখতে পাই। কিন্তু খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে কতোক্ষণ আর বসে থাকতে পারে ওরা? ছেঁড়া কাঁথা, চট কিংবা ছালা দিয়ে কতোটা আর শীত ঠেকাতে পারে তারা? আমার নিজের দেখায়, বৃদ্ধ আর শিশুরাই বেশি বিপন্ন হয়ে পড়ছে শীতে।
মানবতার অপমান!
দেশের দরিদ্র মানুষগুলো শীতের সঙ্গে প্রতি রাতেই এখন অসম যুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে প্রাণপণ, শীতের ছোবল সইতে না পেরে তাদের অনেকে বরণ করে নিচ্ছে মৃত্যুকে, অথচ এই ঢাকাতেই বিলাসী জীবন যাপনে প্রতিদিনই ব্যয় হচ্ছে কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে একজনমাত্র সফরসঙ্গী কমালে সেই খরচে এক হাজার গরিব মানুষের গায়ে শীতের পোশাক তুলে দেওয়া যায়। সারা দেশে বিএনপির বাকি সম্মেলনগুলোর আয়োজনে যে খরচ হবে, তা থেকে সামান্য সাশ্রয় করলেও হাজার হাজার ছিন্নমূলকে শীতের অসহ্য কষ্ট পোহাতে হয় না প্রতিরাতে। এই শহরের বিত্তবানরা মাত্র একবেলা মদ না খেলে অন্তত একলাখ মানুষের একটা গতি হয়ে যায়। সংসদে একবেলা বেয়াই-বেয়াইনসুলভ অর্থহীন গল্পগুজব বাদ দিলে যে সাশ্রয় হয়, তা দিয়ে অন্তত ১০ হাজার মানুষের যন্ত্রণা লাঘব করা যায়। কিন্তু এই দেশের নাম বাংলাদেশ। এখানে কুকুরের চেয়েও অধম মানুষের জীবন। গুলশান-ধানমণ্ডি-বনানীতে পোষা কুকুরও শীতের পোশাক পায়, নিজের দেখা, কিন্তু দরিদ্র মানুষের সেই সৌভাগ্য হয় না।
একটিবার ফিরে তাকান
আপনি যখন এই লেখায় চোখ বুলোচ্ছেন, তখনও নিশ্চিত আপনার আশেপাশেই বহু মানুষ শীতের সঙ্গে অসহায় লড়ে যাচ্ছে। কৃষ্ণগহবরের কসম, পথের এই মানুষগুলোর দিকে একটিবার ফিরে তাকান, মাত্র একটিবার। কাল কিংবা পরশুর মধ্যেই। ওরা আমাদেরই লোক। আমার দেশের লোক। এদের কষ্টে রেখে আপনি ঘুমোতে পারেন না।
ছবির শিশুটির দেশের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইলে। মায়ের সঙ্গে থাকে মোহাম্মদপুরে বেড়িবাঁধে। ছবি সৌজন্য : প্রথম আলো
প্রথম প্রকাশ











