ইভটিজিং বিরোধী গেরিলা বাহিনী : চলুন সবাই মিলে ইভটিজারদের রুখে দেই...

এবার ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে ঘোষিত হল সরাসরি যুদ্ধ। কেবল কথা নয়, মুখোমুখি প্রতিবাদ—এই অঙ্গীকার নিয়ে গঠিত হল ইভটিজিং বিরোধী গেরিলা বাহিনী।
প্রথাগত লেখালেখি, বিনোদনদায়ক টকশো আর নিয়মরক্ষার মানববন্ধনের বাইরে গিয়ে এই বাহিনী ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় অবস্থান নিতে ইচ্ছুক। সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে ইভটিজিংকে প্রতিরোধ করতে চায় এই বাহিনী। এর সদস্যরা মনে করেন, ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে সকল কান্নাকে প্রতিরোধে রূপান্তরিত করতে হবে। চোখের জল মুছে ফেলে দাঁড়াতে হবে ঘুরে। আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে কেবল নীতিবাক্য আওড়ান না, তাৎক্ষণিক প্রতিবাদও করেন। ইভটিজিংবিরোধী গেরিলা বাহিনী সেইসব সাহসী এবং নির্ভীক মানুষের সংগঠন—যারা কথা এবং কাজে বিশ্বাসী।

কেন হঠাৎ এই গেরিলা বাহিনী?
ইভটিজিং বিরোধী গেরিলা বাহিনী হবে নাগরিকদের সাহস জোগানোর প্লাটফর্ম। সমাজে গুটিকয়েক ইভটিজার থাকতেই পারে। তাদের ভয়ে মুখ লুকিয়ে থাকলে চলবে না। তাদের বিরুদ্ধে কেবল প্রথাগত লেখালেখি, বিনোদনদায়ক টকশো আর নিয়মরক্ষার মানববন্ধন যথেষ্ট নয়। ইভটিজারের মনে ভয় ধরিয়ে দিতে হলে তাদের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে, তাদের মুখোশ খুলে ফেলতে হবে, তাদের সাথে লড়তে হবে। এইসব নরপিশাচের ভয়ে মেয়েরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে করবে, লুকিয়ে থাকবে ঘরের নিরাপদ কোণে—এই অন্ধকার সময়ের অবসান ঘটাতে চায় ইভটিজিংবিরোধী গেরিলা বাহিনী।

কারা আছেন গেরিলা বাহিনীতে?
এই বাহিনীতে আছেন র‌্যাব ও পুলিশের পরিশ্রমী কিছু সদস্য, আছেন মেধাবী কিছু আইনজীবী, আন্তরিক ক'জন সাংবাদিক, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যমী কিছু শিক্ষার্থী এবং অফুরন্ত প্রাণশক্তিসম্পন্ন কিছু ব্লগার ও ফেসবুকার। বলে রাখা ভালো, এখানে কেউ নেতা নয়, সবাই কর্মী, সবাই সমান। সুখের বিষয়, এখন প্রতি ঘন্টাতেই বাড়ছে বাহিনীর সদস্য সংখ্যা। প্রত্যেকেই এই মর্মে অঙ্গীকারাবদ্ধ যে, যখন যেখানে যার সাহায্য প্রয়োজন হবে, তারা সেখানে সাহায্য করবেন। তাদের সাহায্য নিয়ে ইভটিজারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে সেটা প্রচার করা হবে।

গেরিলা বাহিনী মূল কাজ কী?
১. বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আগ্রহী মেয়েদের বিনামূল্যে কারাতে এবং সেলফ ডিফেন্স প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
২. বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক আমরা এক বা একাধিক ইভটিজিং বিরোধী গেরিলা গ্রুপ গড়ে তুলবো। আমাদের থাকবে একটি নির্দিষ্ট ফোন নাম্বার। কোথাও ইভটিজিংয়ের খবর পাওয়া গেলে, ফোনে জানালে গেরিলা গ্রুপের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে হাজির হবে।
৩. অনলাইনভিত্তিক ইভটিজারদের বিরুদ্ধে অনলাইনেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। এজন্য সদা প্রস্তুত থাকবে সাইবার গেরিলা ইউনিট।
৪. বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভটিজিং বিরোধী প্রচারণা চালাবো হবে।

যে কারণে ফেসবুক গ্রুপ
১. ইভটিজিং নিয়ে নেতিবাচক খবরই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় বেশিরভাগ সময়। এই গ্রুপের মাধ্যমে ইভটিজিংয়ের ইতিবাচক খবর, ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর খবর চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও আমরা উৎসাহিত করবো এই ধরনের খবর বেশি বেশি প্রকাশ করার জন্য। প্রসঙ্গত, যারা ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে রুখে দাড়িয়েছেন তারা তাদের অভিজ্ঞতা, কেসস্টাডি ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করতে পারেন।
২. বিভিন্ন সময়ে যারা ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছেন তাদের অভিজ্ঞতা এবং সেটা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়গুলো ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করা হবে।
৩. যৌন হয়রানিমূলক বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপের বিরুদ্ধে সবাই মিলে রিপোর্ট করা হবে।

গণমাধ্যমও আছে সঙ্গে
ইভটিজিং বিরোধী গেরিলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে গত ২৩ জুন এটিএন নিউজের জনপ্রিয় 'ইয়াং নাইট' অনুষ্ঠানে প্রচারিত হল আলোচনা অনুষ্ঠান। এর আগে রেডিও এবিসির 'শব্দগল্পদ্রুম' অনুষ্ঠানে এই বাহিনী নিয়ে প্রতি পর্বেই থাকছে বিশেষ আয়োজন।

রুখে দাঁড়ানোর সময় এখন
ইভ টিজিং আন্দোলন জোরদার হচ্ছে ক্রমশ। মাত্র ৪৮ ঘন্টায় ইভটিজিংবিরোধী গেরিলা বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন ৮৫০+ সাহ্সী যোদ্ধা। আপনিও কি সঙ্গে আছেন? যদি থাকেন তাহলে যোগ দিন গেরিলা বাহিনীতে, যুক্ত হন ফেসবুক গ্রুপে। আপনার নিজের সমস্যা, আপনার আশেপাশের সমস্যা, আপনার বন্ধু-বান্ধবের সমস্যা ফেসবুক গ্রুপে জানান। আর এই খবর জানিয়ে দিন আশেপাশের সবাইকেও। সমাজ কখন বদলাবে- সেই আশায় বসে থাকার দিন নেই আর। রুখে দাঁড়ানোর সময় এখন! চলুন সবাই মিলে ইভটিজারদের রুখে দেই।

বুকমার্কস
ফেসবুক গ্রুপ
সামহোয়্যারইন ব্লগে ইভটিজিংবিরোধী সংকলন

Tags: ,

About author

ফিউশন ফাইভ। ব্লগ লিখছেন পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে।

1 মন্তব্য

  1. আপনাদের কাছে প্রশ্ন, “যৌন হয়রানি” কেন “ইভ-টিজিং”? আন্দোলন শুরুর আগে আপনাদের জানা দরকার, ইভ টিজিং শব্দটি নারীর প্রতি অবমাননাসুচক, এতে ধরে নেয়া হয়, নারী ইভের মতো প্রলুব্ধকারীর তাই পুরুষ আদমের মতোই স্বাভাবিকভাবে প্রলুব্ধ হয়। এই কারণে এই শব্দটিকে পরিহার করার বাংলাদেশের দীর্ঘ নারী আন্দোলনের ফলে সরকারীভাবে এটিকে অবশেষে যৌন হয়রানি বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়। একইভাবে এটি শ্লীলতাহানীও না। এটি নারীর বিরুদ্ধে ঘটিত একটি যৌন অপরাধ। এই অপরাধ পুরুষের বিরুদ্ধেও ঘটতে পারে। তাই আসুন “ইভটিজিং” না সকল প্রকার “যৌন হয়রানি” এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলি। সাথে আছি।

Leave a Reply