• Home
  • Contact
  • About
  • RSS
  • My Somewherein blog
  • Facebook
  • Twitter
  • Problem with Bengali Font?

  • মূলপাতা
  • স্বদেশ
    • সবিশেষ
    • মুক্তিযুদ্ধ
    • রাজনীতি
    • সমসাময়িক
    • প্রতিরক্ষা
    • ধর্ম
    • পার্বত্য চট্টগ্রাম
    • মানবাধিকার
  • মিডিয়া
    • গণমাধ্যম
    • ই-সংকলন
    • বইপত্র
    • ▬▬
    • বাংলা দৈনিক
      • আরো »
        • আমার দেশ
        • আমাদের সময়
        • বাংলাদেশ প্রতিদিন
        • সংবাদ
        • যায়যায়দিন
        • মানবজমিন
        • ভোরের কাগজ
        • আমাদের অর্থনীতি
        • ডেস্টিনি
      • প্রথম আলো
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • কালের কন্ঠ
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • যুগান্তর
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • সমকাল
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • ইত্তেফাক
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • জনকণ্ঠ
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • নয়া দিগন্ত
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • সকালের খবর
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
    • ইংরেজি দৈনিক
      • ডেইলি স্টার
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
        • সাপ্লিমেন্টস
      • সান
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • ইন্ডিপেন্ডেন্ট
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • নিউ এইজ
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • বাংলাদেশ টুডে
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • আওয়ার টাইম
    • সংবাদ সংস্থা
      • আরো »
        • ফোকাস বাংলা
        • বিডি স্পোর্টস নিউজ
        • ঢাকা নিউজ
        • আরটিএনএন
        • রেডটাইমস
        • বিএনএন
        • বাংলাদেশ নিউজ
      • বিডিনিউজ
      • বাংলা নিউজ
      • বাসস
      • ইউএনবি
      • শীর্ষনিউজ
      • দি এডিটর
    • রেডিও-টেলিভিশন
      • রেডিও »
        • রেডিও ফূর্তি
        • রেডিও টুডে
        • এবিসি রেডিও
        • রেডিও লিংক
      • আরো »
        • বৈশাখী
        • দিগন্ত টিভি
        • বাংলা ভিশন
        • ইসলামিক টিভি
        • আরটিভি
        • মোহনা
        • মাই টিভি
      • চ্যানেল আই
      • এটিএন বাংলা
      • এনটিভি
      • দেশ টিভি
      • একুশে টিভি
    • সাময়িকী
      • আরো »
        • আরো »
          • আরো »
            • খবর
            • ডয়চে ভেলে
            • রেডিও ইরান
            • রেডিও চায়না
            • ই-বাংলাদেশ
            • খেলার খবর
            • সাময়িকী
          • মনোজগত
          • প্রবাসে প্রতিদিন
          • নতুন দেশ
          • ইউকে বেঙ্গলি
          • লন্ডন বাংলা
          • এনওয়াই বাংলা
          • ইউরো বাংলা
          • দশদিক
        • প্রোব ম্যাগাজিন
        • চিন্তা
        • একপক্ষ
        • নতুনধারা
        • বাংলামাটি
        • কম্পিউটার জগৎ
        • কম্পিউটার বার্তা
        • কালিকলম
      • সাপ্তাহিক
      • সাপ্তাহিক ২০০০
      • বুধবার
      • বিচিন্তা
      • কাগজ
      • সচিত্র সময়
      • ডিজিটাল সময়
      • মিডিয়া ওয়াচ
    • অনলাইন
      • এক
      • দুই
      • তিন
    • অন্যান্য
  • ব্লগ
    • ব্লগ পর্যালোচনা
    • ব্লগ বিতর্ক
    • ব্লগ স্যাটায়ার
    • ব্লগপিডিয়া
    • ব্লগতালিকা
      • আরো »
        • নাগরিক ব্লগ
        • একুশে ব্লগ
        • সোনার বাংলা ব্লগ
        • মুক্ত ব্লগ
        • চতুর্মাত্রিক ব্লগ
        • আমার বর্ণমালা ব্লগ
        • ওপেস্ট ব্লগ
      • সামহোয়্যারইন ব্লগ
      • প্রথম আলো ব্লগ
      • সচলায়তন
      • আমার ব্লগ
      • বিডিনিউজ ব্লগ
      • টেকটিউনস
      • গ্লোবাল ভয়েসেস বাংলা
  • গদ্যকার্টুন
    • গদ্যকার্টুন
    • ক্যারিকেচার
    • ব্লগ স্যাটায়ার
    • টেক-হিউমার
    • রস+আলো সংগ্রহ
  • প্রযুক্তি
    • প্রযুক্তি
    • কম্পিউটার
    • ইন্টারনেট
    • মোবাইল
    • সফটওয়্যার
    • হ্যাকিং
  • বিনোদন
    • বিনোদন
    • বেড়ানো
    • খেলা
    • সিনেমা
    • ডকুমেন্টারি
  • বিবিধ
    • ওয়ার্কশপ
      • আশাজাগানিয়া
      • ছিন্ন চিন্তাবলী
      • মুজতবা হোসেন মুরশেদ
    • দূরের জানালা
    • স্মৃতিকথা
    • গার্হস্থ্য
    • দিনলিপি
  • হেল্পলাইন
    • কনভার্টার
      • ইউনিকোড লেখনী ও পরিবর্তক
      • বাংলা কম্পিউটিং কনভার্টার
    • অভিধান
      • ইংরেজি থেকে বাংলা
      • বাংলা থেকে ইংরেজি
    • অনুবাদ
      • ইংরেজি থেকে বাংলা
      • বাংলা থেকে ইংরেজি
    • অভ্র কি-বোর্ড
    • টুইটার স্ট্যাটাস বাংলায়
  • ডাউনলোড
    • ই-সংকলন
      • ফিরে দেখা একাত্তর
      • প্রিয় কবিতা
    • সফটওয়্যার
      • ট্রু-ক্রিপ্ট
      • সেভেন জিপ
    • গুগল কোড
  • ভিডিও
    • রাজনৈতিক
    • অন্যান্য
BANGLADESH
Bangladesh লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আজ কি ভাদ্র মাসের ১১ তারিখ? শুনেছি, সারমেয় প্রজাতি এই সময় খানিকটা পাগলা কিসিমের হয়ে ওঠে। তার বদলে সরকারই কেন উল্টো পাগল হয়ে উঠল, বোঝা কঠিন। ভাদ্রের মহিমা বোঝা আসলেই কঠিন।

সরকার এতোদিন মাহবুবুল আলম হানিফ-টানিফকে দিয়ে ইউনূসের চরিত্রহননের চেষ্টা করে আসছিল। সেটি বাজার পায়নি। হানিফ কিংবা কামরুল ইসলামদের ইউনূসের মাপের লোকের সমালোচনা করার আদৌ যোগ্যতা আছে কিনা - উল্টো প্রশ্ন উঠেছে সেটি নিয়েই। শেষমেশ সরকার এবার অন্য লাইন ধরেছে, মাঠে নেমেছে ভিন্ন কৌশল নিয়ে। একপাল ভাড়ায় খাটা বুদ্ধিজীবী নিয়ে মাঠে নেমেছে তারা। ৫১ বুদ্ধিজীবী হঠাৎ করে বাংলার ভাগ্যাকাশে উদিত হয়ে এই মর্মে অভিযোগ তুলেছেন যে, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রে বৃহৎ শক্তি ও দাতাগোষ্ঠীকে দিয়ে বাংলাদেশের ওপর নানা চাপ দিচ্ছেন। দুর্নীতিবাজ আবুল হোসেনকে নিয়ে এদের কোনো কথা নেই। দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক-নাগরিক সমস্যা - কিছুই তাদের স্পর্শ করে না। কোনো কিছু নিয়েই তাদের বিবৃতি দেখিনি আমরা। এই সরকারের আমলে দুষ্কর্মের সংখ্যা কি কম? কিন্তু কখনোই এইসব বুদ্ধিজীবীকে লেজ নাড়তে দেখা যায়নি।অবশেষে ভাদ্র মাসের এই ১০ তারিখে বিশিষ্ট এই বুদ্ধিজীবীবৃন্দ আচমকা পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন!

ওরা কারা?
বিবৃতিদাতাদের নামগুলো একবার দেখে নিন- অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক, শিল্পী হাশেম খান, শামসুজ্জামান খান, কামাল লোহানী, বিচারপতি (অব.) মেজবাহ উদ্দন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক প্রাণগোপাল দত্ত, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত, অধ্যাপক আবদুল খালেক, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, কবি বেলাল চৌধুরী, রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, সেলিনা হোসেন, কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি মহাদেব সাহা, ড. হারুন-অর-রশিদ, অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক, স্থপতি রবিউল হুসাইন, সুরকার সুজেয় শ্যাম, সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, অভিনেতা-পরিচালক নাসিরউদ্দীন ইউসুফ, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয় ভাষিণী, ড. মুহাম্মদ সামাদ, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী প্রমুখ।
তালিকাটি পড়ে যে কেউই বুঝতে পারবেন, এই তালিকার প্রায় প্রত্যেকেই এই আওয়ামী সরকারের কাছ থেকে প্রত্যক্ষভাবে সুবিধা নিয়েছেন নানাভাবে। এদের প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের পোষা বুদ্ধিজীবী। জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী কিংবা সৈয়দ শামসুল হককে আওয়ামী লীগের অঘোষিত চাকুরেই বলা যায়। যদি এরপরও আপনার বোঝার ঘাটতি থাকে, তাহলে একবার এই সংবাদের নিচের দিকে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন, অথবা এখানে।
এই যে কাইয়ুম চৌধুরী, চিত্রশিল্পে অসাধারণ এক প্রতিভা, এর বাইরে তার প্রতিভা বড়জোর মদ্যপানে, এই লোক কী করে কোন্ প্রতিভাবলে বুঝলেন যে ইউনূস কবে কোথায় কিভাবে দাতাদের দিয়ে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন সরকারের ওপরে। ওই যে ডাক্তার প্রাণ গোপাল দত্ত কিংবা কবি বেলাল চৌধুরী কোন্ জাদুবলে পররাষ্ট্র বিষয়ক গোয়েন্দাগিরিতে এতো দক্ষ হয়ে উঠলেন, তাও হঠাৎ করে? প্রবল সন্দেহ জাগে, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী কি আসলেই জেনে-বুঝে সই দিয়েছেন বিবৃতিতে, নাকি কোনো বন্ধুবরের অনুরোধ রক্ষা করেছেন মাত্র?

সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্য
বুদ্ধিজীবীরা আগেও সুবিধা নিতেন, কিন্তু একটি মুখোশ মোটামুটি থাকতো। লজ্জাটুকু তাতে মোটামুটি ঢাকা পড়তো। সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্য, সেই মুখোশটা খসে পড়ছে ক্রমশ। বুদ্ধিজীবীরা ধীরে ধীরে ন্যাংটো হতে শুরু করেছেন। ভালোই হল একদিক থেকে। ভাড়ায়, হয়তো খুব কম মূল্যে এদের আরো নানান কাজে খাটানো যাবে! জীবিকার জন্য এদের দিয়ে যে কোনো কিছুই করানো সম্ভব।

সংযুক্তি
গ্রামীণ ব্যাংক ঘিরে ২৯ প্রশ্নের জবাব


প্রথম প্রকাশ : সামহোয়্যারইন ব্লগ
২০০৭ সালে ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ সেলে খোলাখুলি স্বীকারোক্তি দেন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, ওয়াকিল উদ্দিন, শিল্পপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু ছাড়াও আরো অনেক রাজনীতিবিদ। পরে স্বীকারোক্তির অডিও সংস্করণ ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয় অজ্ঞাত সূত্র থেকে। তারই কিছু সংরক্ষণ করা হল এই লেখায়-




আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের স্বীকারোক্তি

গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন সম্পর্কে-১
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি  ■  আকার : ১.৮৫ মেগাবাইট

গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন সম্পর্কে-২
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি  ■  আকার : ৩ মেগাবাইট

গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন সম্পর্কে-৩
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি  ■  আকার : ২ মেগাবাইট

গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন সম্পর্কে-৪
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি  ■  আকার : ৮৬০ কিলোবাইট

সাবের হোসেন চৌধুরী এবং প্রশিকা সম্পর্কে
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি  ■  আকার : ৭ মেগাবাইট
মার্কিন বেনিয়া কনোকোফিলিপসের হাতে দেশের মূল্যবান গ্যাসসম্পদ অনেকটা বিনামূল্যেই তুলে দেওয়ার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকাই শুধু নয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার রীতিমতো লুঙ্গি তুলে কনোকোফিলিপসের স্বার্থ রক্ষা করে যাচ্ছে। সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বাইরে ভাব দেখাচ্ছেন তেল-গ্যাস আন্দোলন খুবই তুচ্ছ একটি ব্যাপার। কিন্তু তাদের বক্তব্য-প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্টই বোঝা যায়, এই আন্দোলনে তারা দারুণ ক্ষিপ্ত। ৩ জুলাইয়ের হরতাল সফল হওয়ার পর তারা এখন আরো বেশি ক্ষিপ্ত। নিচে কয়েকটি প্রতিক্রিয়ার ধরন লক্ষ্য করুন।

অমূল্য স্মরণীয় বাণী!
■ ‘তেল-গ্যাস রক্ষার নামে যারা হরতাল ডেকেছে ওরা কারা? ওরা সব সময় সামরিক শাসকদের পক্ষে কাজ করেছে। পাকিস্তান আমলে এরা বলেছে ভোটের আগে ভাত চাই। এরা বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার বিরোধীতা করেছে। এদেশের জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।’ [উৎস লিংক]
- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম

■ "আপনারা হরতাল ডেকেছেন। কার স্বার্থে, কোন অধিকারে আপনারা হরতাল ডেকেছেন? আপনারা কি জনপ্রতিনিধি? আপনাদের তো জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে না। জনগণের স্বার্থে আমরা গ্যাস-কয়লা অনুসন্ধান করবো, গ্যাস-কয়লা উত্তোলন করবো। আপনারা যা পারেন করুন গিয়ে। দেশের মানুষের ভালোর জন্য যা করার তাই আমরা করবো। আপনারা চিৎকার করতে থাকেন। যুক্তিসঙ্গত কিছু থাকলে নিয়ে আসুন। [উৎস লিংক]
- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম

■ 'কোথাকার কোন মনু মোহাম্মদ এসে তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির নামে তেল-গ্যাস উত্তোলনের বিরোধিতা করছেন। আসলে আলোচনায় থাকার জন্য মনু মুহাম্মদ-আনু মুহাম্মদরা বিদেশি গুপ্তচর হিসেবে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।' [উৎস লিংক]
- বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদের বাণী

ধরন দেখে মনে হয় এদের চেয়ে বড়ো দেশপ্রেমিক দেশে আর দ্বিতীয়টি নেই। তবে ইতিহাস বলে, দেশের সম্পদ অন্যের হাতে তুলে দেওয়া এইসব কমিশনখোরের অতীত ভালো নয়। শুনুন আলোচিত সেইসব অডিও টেপ। পাবেন অকপটে বলা অনেক অজানা তথ্য। পড়ুন কয়েকটি অডিও টেপের লিখিত রূপও।

শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সেই স্বীকারোক্তি
■ পর্ব - এক
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ৩.৬৭ মেগাবাইট
■ পর্ব - দুই
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ১৩ মেগাবাইট
■ পর্ব - তিন
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ৪৪ মেগাবাইট
■ পর্ব - চার
ফাইলের ধরন : এমপিথ্রি ■ আকার : ১৮ মেগাবাইট

লিখিত রূপ (পিডিএফ)
■ আবদুল জলিল, শেখ সেলিম ও আবদুল আউয়াল মিন্টুর স্বীকারোক্তির লিখিত রূপ
ফাইলের ধরন : পিডিএফ ■ আকার : ১১৬ কিলোবাইট
■ ওবায়দুল কাদেরের স্বীকারোক্তি
ফাইলের ধরন : টেক্সট/এইচটিএমএল
■ গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিনের স্বীকারোক্তি
ফাইলের ধরন : টেক্সট/এইচটিএমএল

তখন আর মিনমিনে স্বর নয়
টেন্ডার নিয়ে লুটপাট করুন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যা ইচ্ছে তাই করুন কিংবা হাজার লিমনের পা কেটে নিন - কিছু বলার নেই। বুকের কষ্ট চেপে রেখে দেখেও না দেখার ভান করে অন্য পথে হাঁটবো। কিন্তু প্রশ্নটা যখন দেশের স্বার্থ নিয়ে, দেশের অমূল্য সম্পদ নিয়ে, তখন আর নিরবে চোখের জল ফেলা নয়, বুকের কষ্ট চাপা দেওয়া নয়, মিনমিনে স্বরে রবীন্দ্রগীতিও নয় - সরাসরি চোখে চোখ রেখে বলবো -
দেশের স্বার্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবি না অমানুষের বাচ্চা! বঙ্গোপসাগর থেকে পাইপলাইন যদি টানা হয়, সেটা দিয়ে দালাল আর কমিশনখোর রপ্তানি হবে, আমার দেশের অমূল্য সম্পদ তেল-গ্যাস যাবে না কিছুতেই।



প্রথম প্রকাশ


'পুলিশের ওপর হামলা' ও 'সরকারি কাজে বাধা দেওয়া'——বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা কৌতুককর দুটি প্রবাদ! রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কাউকে জব্দ করার জন্য এই দুটি অজুহাতের ব্যবহার হয়ে আসছে সম্ভবত বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই। আজও তার ব্যতিক্রম হল না। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সেই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মানিক মিয়া এভিনিউতে বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক, পাপিয়া সরোয়ারসহ ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুনুর রশিদ, সহকারী কমিশনার বিপ্লব কুমার ও থানার এক উপপরিদর্শককে (এসআই) মারধর করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তারও আগে ফারুকের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে ডিএমপির এক অতিরিক্ত কমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগে মামলা এবং পরে তদন্ত কমিটি গঠনের সূত্রটি আমাদের অনেকেরই জানা। স্পষ্টই বোঝা যায়, মহানগর পুলিশ কমিশনারের তদন্ত কমিটি কী আবিস্কার করবে! পুলিশের পোশাক পরা মহামান্য ছাত্রলীগ নেতা হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার আর পরম শ্রদ্ধেয় কনস্টেবলদের ওপর 'সংঘবদ্ধ হামলার' অভিযোগে উল্টো বিরোধীদলীয় চিফ হুইপকেই দোষী সাব্যস্ত করা হবে——এটা আগামই বলে দেওয়া যায়।

পুলিশ পারে, কিন্তু কতোটা পারে?
ফারুক যদি গালাগাল কিংবা হামলা করেও থাকেন, তাহলেও রাষ্ট্রের নিম্নপদস্থ কর্মচারী হিসেবে পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার, সহকারী কমিশনার কিংবা কনস্টেবলদের বিন্দুমাত্র অধিকার নেই তার ওপর পাল্টা নারকীয় হামলা করার। তারা মামলা দিতে পারতো, সেই মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারতো। বাংলাদেশের ওয়ারেন্ট অফ প্রিসিডেন্স অনুসারে চিফ হুইপের স্থান পঞ্চম। আর খোদ পুলিশের যিনি সর্বেসর্বা, সেই আইজিপির স্থান ১৬ নম্বরে। এই উপকমিশনার আর সহকারী কমিশনাররা গোণাতেই নেই। অনেকেরই যুক্তি, ফারুক লোকটি সুবিধার নয়। হ্যাঁ, আমি ধরলাম যে, লোকটি ডাকাতদলের সর্দার। কিন্তু তবুও কি পুলিশ এই বর্বরতা চালাতে পারে?

এক ছবি সব আমলেই
এর আগে বিএনপি শাসনামলেও আমরা দেখেছি, তারা পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর একইভাবে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম, তোফায়েল আহমেদ ছাড়াও দিলীপ বড়ুয়া, রাশেদ খান মেননদের ওপর বিএনপির পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া—এই সেদিনকার ঘটনা। তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির হরতালের দিনও সরকারের লেলিয়ে দেওয়া এই পুলিশ হামলে পড়েছিল নিরীহ মানুষের ওপর। নিজেই চোখেই দেখেছি, সে কী নির্মমতা! এই অসুস্থ সংস্কৃতি পরিবর্তনের সুযোগ ছিল আওয়ামী লীগের সামনে। তারা সুযোগটা নেয়নি। উল্টো তার অপব্যবহার করেছে মনের সব বিদ্বেষ একত্র করে। কিন্তু এই দিন তো দিন নয়। আওয়ামী লীগ তো নিশ্চয়ই নিশ্চিত নয় যে, তারাই ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে পরবর্তী মেয়াদে। আগামী নির্বাচনে বিএনপিও তো ক্ষমতায় যেতে পারে। তখন যদি এই পুলিশকেই লেলিয়ে দিয়ে সাহারা খাতুন কিংবা শামসুল হক টুকুদের লাঠির আগায় নাচায়? কিংবা আরো ওপরমহলকে চ্যাংদোলা করে যদি নিয়ে যায়?

বলতে দ্বিধা নেই
পুলিশের এই বর্বর হামলা যদি হতো আওয়ামী লীগের চিফ হুইপের ওপর, এমনকি সাহারা খাতুনের ওপরও——অবিকল একই বেদনা স্পর্শ করে যেতো আমাকে, একইরকম ক্ষোভে দগ্ধ হতাম আমরা। আমি কেবল ভাবছি, এইরকম এক পরিস্থিতিতে আমি নিজে কিংবা আমার মতোই কোনো সাধারণ মানুষ যদি পুলিশরূপী এই হায়েনাদের কবলে পড়তো, কী ঘটতো তাহলে? রক্তাক্ত বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তবু প্রাণ নিয়ে হাসপাতালে যেতে পেরেছেন, কোনো সাধারণ মানুষ কি নিজের প্রাণটা বাঁচাতে পারতো? প্রাণ বাঁচানো গেলেও থানায় নিয়ে কী বর্বর অত্যাচারটাই চালানো হতো! হয়তো ১০১ মামলার আসামিও।

দরকার একটি সুনামি
না, কোনো সংস্কার কর্মসূচি নয়——সে তো শুধুই সময়ের অপচয়। মানবাধিকার শেখানোর কোনো প্রশিক্ষণ কর্মশালা নয়——সে শুধুই আইওয়াশ। এমনকি কোনো আন্দোলনও নয়——সে হল সমস্যাকে আরো বেশি দিন জিইয়ে রাখার পদ্ধতি মাত্র। এই চির অমানুষ বর্বর পুলিশের বিরুদ্ধে দরকার একটি সুনামি—শুধুই একটি সুনামি! 

প্রথম প্রকাশ
বহুবার হাতে-পায়ে ধরে চেয়ারম্যান-মেম্বারের সালিশ থেকে ছাড়িয়ে এনেছেন ছেলেকে। রাতভর থানার বারান্দায় পড়ে থেকে বিস্তর অনুনয়-বিনয় করে ছেলেকে হাজত মুক্ত করেছিলেন একবার। অতিষ্ট মা শেষমেশ প্রতিজ্ঞাই করেছিলেন - এই ছেলের মুখ আর দেখবেন না। তবু ছেলেটা চুরির মামলায় জেলে আছে শুনে মায়ের মন আর মানছিল না। টিকিটের টাকা জমিয়ে কান্না চেপে মা উঠে বসেন দুরপাল্লার বাসে। কারাগারের গেটে পুরো একবেলা বসে থেকে অবশেষে শরীর ভেঙে পড়া বৃদ্ধা জানতে পারেন জেলে সব দিনে আসামির দেখা পাওয়া যায় না। জানেন তিনি, এই ব্যস্ত ঢাকা শহরে কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই তার। তবু ছেলেকে একনজর না দেখে গ্রামে ফিরবেন না। মা তো!
▼


এর চেয়ে মমতামাখা, এর চেয়ে নিরাপদ, এর চেয়ে নিশ্চিন্ত আশ্রয় পৃথিবীতে আর কোথাও নেই।
▼


বাচ্চাকে এক হাতে আগলে রেখে আরেক হাতে প্রাণপণ সংগ্রাম এই মায়ের। নিডো নয়, হরলিকস নয় - শুঁটকির বিদঘুটে গন্ধে শুধুই দু বেলা ভাত জোগাড়ের সংগ্রাম!
▼


জেলে যেতেই হবে - আদালতের আদেশ। কোমরে রশি বেঁধে পুলিশ টেনে নিয়ে যাচ্ছে ভ্যানের দিকে। মা তবু আশা ছাড়েন না। সকাতর অনুনয় নিয়ে পুলিশের পেছন পেছন ছুটতে থাকেন...
▼


বস্তি পুড়ে ছাই, নিজের ঝুপড়ি থেকে এক টুকরো জিনিসও অবশিষ্ট পাওয়া যায়নি। ঘরে দুই বাচ্চা। তাদের বাবা থেকেও যেন নেই। মাসে-ছয় মাসে হঠাৎ হঠাৎ আসেন। নিঃস্ব হয়েও এই মা দমে যাওয়ার পাত্র নন। ছাই সরিয়ে পোড়া টিন কুড়িয়ে আবার তার বাঁচার যুদ্ধ শুরু হয়...
▼


পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া ছেলেটাকে আবার কোর্টে আনা হবে শুনে ছুটে এসেছিলেন আদালতে। কোথায় ছেলে আর কোথায়ই বা আদালত - বৃদ্ধা জানেন না তার কিছুই। জনে জনে তার ছেলেমানুষি জিজ্ঞাসা - 'আমার পোলাডারে কোনদিকে পামু?' কার অতো সময় আছে উদ্বেগাকুল এই মায়ের শিশুসুলভ জিজ্ঞাসার জবাব দেওয়ার!
▼


৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত। উপকূল থেকে ছুটছে সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। ঝুম বৃষ্টির ভেতর দিয়ে ধাবমান মায়ের এক হাত ছাতায়, আর এক হাত পরম মমতায় আগলে রেখেছে বাচ্চাটাকে, তোয়ালের ভেতর। একটুকু আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে হবে আরো জোরে...
▼


এই সম্পর্কের কোনো তুলনা হয় না!
▼


ভালো থেকো মা, ভালো থেকো...


প্রথম প্রকাশ

গত বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কেন মেনে নেওয়া হবে না, সেটা স্পষ্ট নয়। ই-ভোটিংয়ের সুবিধাগুলো যেমন আওয়ামী লীগ-বিএনপি দু দলের জন্যই সমান, অসুবিধাগুলোও সমান। ই-ভোটিংয়ে আওয়ামী লীগ যদি কারচুপি করে, বিএনপিরও সেই একই কারচুপি করার সুযোগ আছে। তাহলে কেন বিরোধিতা? অনেক ভেবেচিন্তে দুটো বিষয় অনুমানের চেষ্টা করলাম-
অনুমান ১ : উপদেষ্টাদের কেউ কেউ তাকে ধারণা দিয়েছেন, ই মানে ইলেকট্রনিক। এবং এই ভোট দিতে হলে আপনাকে কম্পিউটার চালানো শিখতে হবে। কিন্তু এই বয়সে তার পক্ষে মোটেও সেটা সম্ভব নয়। বরং তাকে কম্পিউটার শেখানোর চেষ্টাটা রীতিমতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল হবে।
অনুমান ২ : খালেদা জিয়া বিএনপিপন্থী ব্লগারদের মাধ্যমে জেনেছেন, সম্প্রতি ডয়চে ভেলে ইলেক্ট্রনিক জালভোট প্রতিযোগিতায় ব্যাপক কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। চোখের সামনে এইরকম একটি উদাহরণ থাকার পর তিনি কিভাবে ই-ভোটিং মেনে নিতে পারেন?

মনে পড়ে, মনে পড়ে...
মনে পড়ে, ১৯৯২ সালে যখন বাংলাদেশকে বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবলের (সি-মি-উই-২) সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন এই খালেদা জিয়াই সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। অজুহাত ছিল - ইমেইলের মাধ্যমে দেশের গোপনীয় তথ্য পাচার হয়ে যাবে! পাশের শ্রীলংকা ও ভারত ওই লাইনে ঠিকই যুক্ত হয়। এরপর সিঙ্গাপুর ও ফ্রান্স টেলিকম আরো একটি সাবমেরিন ক্যাবল লাইন (সি-মি-উই-৩) স্থাপনের উদ্যোগ নেয় ১৯৯৪ সালে। বাংলাদেশ সেখানেও যুক্ত হয়নি। অজুহাত ওই একই- দেশের গোপনীয় তথ্য পাচার হয়ে যাবে! এরপর ২০০৬ সালের ২১ মে বাংলাদেশের উপলব্ধি হয় যে, সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া দরকার। আর তাতে খরচ হল দরিদ্র এই দেশের মূল্যবান এক হাজার কোটি টাকা। শ্রেফ এই খালেদা জিয়ার বোকামির চড়া মাশুল।

মানুষের ক্ষোভ কোথায় বিএনপি জানে না
মানুষের ক্ষোভ কোথায়, মানুষের দুঃখ কোথায় - সেটা বিএনপি কখনোই বোঝেনি, বুঝতেও চায়নি। অথচ নিজের একটি বাড়ির জন্য খালেদা জিয়া ঈদের সময়টাতেও হরতাল ডাকতে দ্বিধা করেননি। এখনও যদি জরিপ হয়, এই বাড়ি ইস্যুতে অন্ধ বিএনপি সমর্থক ছাড়া বিএনপিরই সবগুলো ভোট খালেদা পাবেন না। নৃংশসতার নির্মম শিকার এক দরিদ্র কলেজছাত্রকে নিয়ে সাহারা খাতুন আর তার রেব শ্রেফ মাস্তানি করে যাচ্ছে। সেটা নিয়ে বিএনপি চাইলে ক্ষুব্ধ মানুষের মন জয় করতে পারতো। কিন্তু না, তারা আছে তারেক-কোকোর দুর্নীতি মামলা নিয়ে অহর্নিশ কান্নাকাটিতে। কৃষ্ণগহবরের কসম, মানুষের কাছে এইসব ইস্যুর দু পয়সার মূল্য নেই।
শেয়ারবাজারের অরাজকতা নিয়ে ক্ষুব্ধ মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভে ফেটে পড়ছে। লাখ লাখ মানুষ শেয়ার-ডাকাতদের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। সেটা নিয়ে বিএনপির কোনো মাথাব্যাথা নেই। একটি সংবাদ সম্মেলন তারা করেছিল বটে, সেখানেও মূর্খতাই স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়েছে। প্রথমে চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী শেয়ারবাজারের তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করা হল। এর পরপরই আবার তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার দাবি করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন যদি প্রত্যাখ্যানই করা হয়, সে অনুযায়ী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারই বা কেন হবে? শীর্ষ শেয়ার-ডাকাত মোসাদ্দেক আলী ফালু খোদ খালেদা জিয়ার আপনজন। এই মূহুর্তে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও আওয়ামী লীগের মতোই আচরণ করতো দলটি।



কেন প্রযুক্তি বিরোধিতা?
ই-ভোটিং বা ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের বিরোধিতা কেন? কেন দেশকে টেনে টেনে পিছনে নিয়ে যাওয়া? বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা? নাকি অজ্ঞতা? যদি বিএনপি মনে করে যে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়, তারা জালিয়াতি করতে পারে, তাহলে আন্দোলন হোক বরং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রযুক্তির বিরোধিতা কেন? প্রযুক্তির যদি কোনো গলদ থাকে, কোনো সীমাবদ্ধতা থাকে, তাহলে সেটা বিএনপির জন্য যেমন সমস্যা, আওয়ামী লীগের জন্যও কি নয়?

নিজেদের অজ্ঞতা-অক্ষমতা ঢাকতে গিয়ে প্রযুক্তির বিরোধিতা করবেন না, নিজ হাতে দেশকে আর পিছিয়ে দেবেন না, হে অষ্টম শ্রেণী!

ই-ভোটিং নিয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা
■ চট্টগ্রামের নির্বাচনে ই-ভোট : সফলসূচনা
■ ই-ভোটিং যুগে বাংলাদেশ
■ দ্রুত ভোট দ্রুত গণনা
■ একটি ওয়ার্ডে বোতাম টিপে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন
■ চট্টগ্রামে ইলেকট্রনিক ভোটের মহড়া
■ আগামী সংসদ নির্বাচনে বড় পরিসরে ই-ভোট


প্রথম প্রকাশ

সামান্য কজন লোক সবার চোখের সামনে শেয়ারবাজার থেকে লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সর্বস্ব ছিনিয়ে নিল, সরকার তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল। ৩০ লাখ বিনিয়োগকারীর অনেকে হয়েছে পথের ভিখারী, মানসিক বৈকল্যের শিকার হওয়া অনেকে হয়তো সারাজীবনেও আর সুস্থ হবেন না, কান পাতলে অনেক ঘরে এখনো কান্নার শব্দ শোনা যায়। সরকার বাধ্য হয়ে একটি তদন্ত কমিটি করল। ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে সেই তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদনও দিল। এরপরই শুরু হল সরকারের অবিশ্বাস্য লুকোচুরি। অর্থমন্ত্রী প্রথমে বললেন তদন্ত প্রতিবেদন থেকে কিছু নাম 'ডিলিট' করতে হবে। পরে সেখান থেকে সরে এসে বললেন, কিছু বিষয় পুনঃতদন্ত করতে হবে। এরপর চাপ বাড়তে থাকলে দোহাই দিলেন মুদ্রণকাজে দেরি হওয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তারও পরে আবার নতুন অজুহাত দেখালেন, এসইসি আর বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত লাগবে। আপাদমস্তক দুর্নীতিবাজ যে এসইসির বিরুদ্ধে স্পর্শকাতর সব অভিযোগ আছে ইব্রাহিম খালেদের রিপোর্টে, সেই এসইসির টাউট কর্মকর্তাদেরও মতামত দরকার আমাদের অর্থমন্ত্রীর!

ডাকাত বাঁচাতে সরকারের অবিশ্বাস্য লুকোচুরি
তদন্ত প্রতিবেদনে শেয়ার ডাকাত হিসেবে যদি শুধু বিএনপির মোসাদ্দেক আলী ফালু কিংবা লুৎফর রহমান বাদলের নাম আসতো, তাহলে আমি নিশ্চিত শেয়ারবাজার তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দ্রুততার সঙ্গে প্রকাশ করা হতো, ঢাকঢোল পিটিয়েই। কিন্তু সেখানে সবার আগে জ্বলজ্বল করছে একটি নাম - সালমান এফ রহমান, যিনি একইসঙ্গে শেখ হাসিনা এবং তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। এই বিশেষ কয়েকজন লোককে বাঁচাতে সরকার এখন ৩০ লাখ বিনিয়োগকারী তো বটেই, বলা ভালো জনগণের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। ওই লোকগুলো কি দেশের চেয়ে বড়ো, দেশের মানুষের চেয়েও বড়ো? একটি প্রতারক প্রতিষ্ঠান বিডিথাই অ্যালুমিনিয়াম তদন্ত কমিটির প্রধানের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করতে পারে? একজন শেয়ার-ডাকাত রকিবুর রহমান কী ভয়ানক স্পর্ধায় হুমকি দিয়ে যেতে পারেন 'এবার খেলা আমিই জমাব!' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচিত ছিল প্রথমেই তার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। এই লোক '৯৬ সালের কুখ্যাত শেয়ারবাজার ধ্বসেরও অন্যতম হোতা। কিন্তু কোথায় কী! গতকাল সালমান উল্টো হুঙ্কার ছাড়লেন, তার সম্পদের তথ্য কোনোভাবেই প্রকাশ করা যাবে না। করা হলে তিনি মামলা করবেন। সরকার শুধু সালমান এফ রহমানকেই নয়, দুর্নীতিগ্রস্থ এসইসিকেও বাঁচাতে চাইছে একইসঙ্গে। আবার সুযোগ থাকলেও ফালু-বাদল-রকিবুর-নূর আলীদেরও আটকানো যাচ্ছে না, কারণ ওরা সালমানেরই একান্ত সহযোগী। আর এদিকে ইব্রাহিম খালেদকে প্রতারক চক্রটি নানা দিক থেকে একের পর এক আক্রমণ করে যাচ্ছে। আমার ধারণা, এর পেছনেও সরকারের পরোক্ষ মদদ আছে।

জুজুর ভয় দেখিয়ে কতো আর!
অর্থমন্ত্রীকে আমি দোষ দেই না। এই দেশে পদত্যাগ করাকে ভালো চোখে দেখা হয় না পশ্চিমের মতো। অতীতে যতো খারাপ কাজই করুন না কেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল যখন দলে গণতন্ত্রায়নের কথা সাহস করে বললেন, তখন তাকে অভিনন্দন তো দূরের, খোদ বিএনপিও আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে তাকে ধুইয়ে দিল। অথচ মার্কিন মুল্লুকে আমরা দেখি, কী অবলীলায় ডেমোক্র্যাট দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে দ্বিধায় ভোগেন না সিনেটররাই। সেজন্য কেউ তাদের দুয়ো দেয় না। আমাদের দেশে এই সংস্কৃতি নেই। কাজেই পদত্যাগ না করায় দোষ দেখি না অর্থমন্ত্রীর। তিনি চলেন ওপরের নির্দেশে। এই ওপরমহল থেকে এখন এমনও বলা হচ্ছে যে, শেয়ারবাজারের তদন্ত রিপোর্ট নাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্থ করবে। আওয়ামী লীগ এই এক জুজুর ভয় দেখিয়ে আসছে ক্ষমতায় আরোহণের শুরু থেকেই। কিন্তু কতো আর! সবকিছুতেই যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্থ হয়, তাহলে মানুষের হাঁটাচলা, যানচলাচল - সবকিছুই বন্ধ করে দিন!

জনতার বিচার সামনে
যদিও বলা হয়ে থাকে, জনগণই যদিও সকল ক্ষমতার উৎস, তবে বাংলাদেশে দু পেয়ে মানুষের চেয়ে তুচ্ছ আর কিছু নেই। তবু জানেন আশা করি, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া জনতার বিচার একটু ভয়াবহই হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আর খুব বেশি হলে দু বছর!

সংযুক্তি
শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন



প্রথম প্রকাশ

এক নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে নিয়ে শেখ হাসিনা যখন প্রসন্ন মনে ঘুরছিলেন বইমেলায়, তার কয়েক দিন আগে হাস্যকর সব মামলায় জামিন নিতে দৌড়াচ্ছিলেন ঘরের নোবেলজয়ী ইউনূস। হাসিনার হাসিমুখ দেখে মনে হচ্ছিল, ঘরের লোককে হেনস্তা করায় এতো সুখ!

ইউনূসের ওপর হাসিনার রোষ
২০০৬ সালে নোবেল জয়ের পর থেকেই শেখ হাসিনা কেন যেন রুষ্ট হয়ে পড়েন ড. ইউনূসের ওপর। কথামালায় তার আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল, তবে অতোটা নয়। ওয়ান-ইলেভেনের পর ক্ষমতায় এসে হাসিনার মুখের ভাষা একটু একটু করে বিষ ছড়াতে থাকে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় ইউনূস একটি দল গঠনের চেষ্টা করেছিলেন, সেটা হয়তো একটি কারণ, তবে মূল কারণ নয়। যদি মূল কারণই হতো, তাহলে ফেরদৌস কোরেশীর এতোদিনে মৃত্যুদণ্ড হওয়ার কথা! নরওয়ে টেলিভিশনে গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল স্থানান্তর-সংক্রান্ত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচার হওয়ার পর হাসিনা ভদ্রতার মুখোশটা ফেলে স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হলেন। প্রধানমন্ত্রীই শুধু নন, তার অমাত্যবর্গও অশ্লীল অশোভন বাক্যবাণে বিদ্ধ করে চলছিলেন ইউনূসকে। ওই যে চাঁদাবাজ ছাত্রলীগ, এমনকি তারাও একপর্যায়ে মামার বাড়ির আবদার জানিয়ে বসল যে, ইউনূসের নোবেল পদক কেড়ে নিতে হবে। মাহবুবুল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল মুখপাত্র, ইউনূসের বুড়ো আঙ্গুলের নখের যোগ্যতা যার নেই এবং হবেও না এই জীবনে, সেই তিনিও ইউনূসের নামে প্রকাশ-অযোগ্য সব বক্তব্য দিতে লাগলেন। একসময় দেখা গেল, ইউনূসের পক্ষে নরওয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির পরও সরকার ইউনূসের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে ফেলল। সেটা চলতে চলতেই ইউনূসকে জড়ানো হল একের পর এক হাস্যকর মামলায়, তাও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

আসলে কারণটা কী?
সর্বশেষ ইউনূসকে সরিয়ে দেওয়া হল তার নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক থেকে। এমন অবস্থায় হঠাৎ দৃশ্যপটে নাজিল হলেন হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। দেশ, দেশের ভাষা, সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই লোকের যোগাযোগ ক্ষীণ বললেই চলে। ইউনূসকে নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা তো তার নেই-ই। অথচ এই লোকটিই ইউনূসের কুৎসা গেয়ে দেশে-বিদেশে গণহারে ইমেইল বার্তা পাঠিয়ে চলেছে। জানতে ইচ্ছে করে, জয় এই সরকারের কোন্ পদে আছেন, ইউনূস বিষয়ে জনে জনে ইমেইল করে বেড়ানোর তিনিই বা কে? দৃশ্যত, এক ইউনূসকে হেনস্থা করার জন্য সরকার তার পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে। আজ মঙ্গলবার দেখেছি, 'সম্ভাব্য গোলযোগ' দমনের নামে গ্রামীণ ব্যাংকের শাখাগুলোর দখল নেওয়ার জন্য পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে, বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, ইউনূস নোবেল জিতেছিলেন বলেই তার ওপর যতো আক্রোশ হাসিনার। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির জন্য শেখ হাসিনা নিজে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য ব্যয়বহুল করে যাচ্ছিলেন অনেকদিন ধরেই - এই খবর খুব গোপন থাকেনি। অপ্রাপ্তবয়স্কেরও বুঝতে বাকি নেই, ইউনূসকে হেনস্তা করাটা হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রোশ ছাড়া আর কিছুই নয়। এটাও একবিন্দু মিথ্যা নয় যে, সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তার বিচারে শেখ মুজিবুর রহমানের চেয়ে অনেকগুণ এগিয়ে আছেন ইউনূস। এটাও কি অন্যতম একটি কারণ? কানাডা প্রবাসী এক বাংলাদেশী সেদিন বলছিলেন, ৯০ ভাগ কানাডিয়ান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নামও জানেন না, কিন্তু ড. ইউনূসের নাম তারা জানেন।

সরকারবান্ধব আদালত?
সরকার আইনের দোহাই দিয়ে ইউনূসকে সরিয়েছে, ইউনূসও সেই আইনের কাছেই তার বিচার চাইতে গিয়েছিলেন। টানা তিন দিন আদালতের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে ইউনূসের আইনজীবীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, ন্যায়বিচার তারা পাবেন না। ইউনূসের আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ, যিনি নিজেই আওয়ামী লীগ ঘরানার, সেই তিনিই ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন গত সোমবার। আদালত টানা তিনদিন ধরে বিষয়টির ওপর শুনানি গ্রহণ করেছেন। অথচ কোনো রুল দেননি। দেশের সেরা আইনজীবীরা বলছেন, একটি রিটের ওপর এতো দীর্ঘ শুনানি গ্রহণ নজিরবিহীন। হাইকোর্টে সেই নজিরবিহীন কাণ্ড ঘটেছে। আইনজীবীদের আশঙ্কাকে সত্যি প্রমাণ করে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অপসারণের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দুটি রিট খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ইউনূসের আইনজীবী সারা হোসেন বলেছেন, 'আজ বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি দুঃখের দিন। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অবৈধ নোটিশকে আদালত আজ বৈধতা দিলো। গত কয়েকদিন শুনানির সময় আমরা যে আশঙ্কা করেছিলাম, আজ রিট খারিজের মধ্য দিয়ে তা সত্যি প্রমাণিত হলো।' শেখ হাসিনা ও তার পারিষদ যখন নিজেই ড. ইউনূসের বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন, তখন আদালতের কি বিপক্ষে যাওয়ার শক্তি কিংবা সাহস আছে? বিচার বিভাগ যদিও 'স্বাধীন', তবু সচরাচর সরকারকে তারা চটায় না। বিচার বিভাগ আলাদা হওয়ার পর এমন একটি উদাহরণও আমি খুঁজে পাচ্ছি না, যেখানে আদালত সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। হতে পারে, উদাহরণ খুঁজে না পাওয়াটা আমার নিজেরই অক্ষমতা।

আওয়ামীকরণ প্রকল্প
গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা আছে, অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো ভিত্তিহীনও নয়। তবু মনে রাখতে হবে, অনেক ত্রুটি-বিচ্যূতি সত্ত্বেও দারিদ্র বিমোচনে গ্রামীণ ব্যাংকের অবদান অসামান্য - সেটা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও। বিশ্বের কোটি কোটি লোক এই গ্রামীণ ব্যাংক ও ইউনূসের মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বের এই ক্ষুদ্র দেশটাকে চিনেছে। গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের অংশীদারিত্ব আছে বটে, তবে ব্যাংকটা একান্তই ইউনূসের ব্রেইন চাইল্ড, তার সারাজীবনের স্বপ্ন। সুতরাং গ্রামীণ ব্যাংকে ইউনূসের থাকা-না থাকা হেলাফেলার কোনো বিষয় নয়। ইউনূসের মতো লোকের জন্য বয়স কোনো অজুহাত হতে পারে না। সরকার নিজেদের ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থেও প্রচলিত বহু আইন সংশোধন করেছে ইতিপূর্বে, এই জায়গায় আইনও সম্ভবত সংশোধন করার প্রয়োজন পড়বে না, শুধু একটি আদেশই যথেষ্ট। সেটাও যদি সরকারের জন্য কষ্টকর হয়, তারা একজন বাংলাদেশের একমাত্র নোবেলবিজয়ীকে সম্মানজনকভাবে বিদায় দিতে পারতো। কারণ এর সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি যেমন, তেমনি গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত কয়েক কোটি মানুষের স্বার্থও জড়িত। এই ঘটনায় আমরা দেখলাম সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি বেশিরভাগ আওয়ামী সমর্থকও সরকারের পক্ষে নেই। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা ইতিমধ্যে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, সেটা অভূতপূর্ব। তবু লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে, গ্রামীণ ব্যাংককে পুরো আওয়ামীকরণ না করে এই সরকার থামবে না।

শেষপর্যন্ত এটা রাষ্ট্রীয় মাস্তানিই...
এই পোড়ার দেশে কৃতীর সম্মান নেই - এটা ঐতিহ্যবাহী প্রথা। নতুন করে সেটা আরো একবার জানা হল কেবল। এক ইউনূসকে সরানোর জন্য সরকার আইনের দোহাই দিচ্ছে, কুৎসা গেয়ে বেড়াচ্ছে দেশজুড়ে, কিন্তু না হাসিনা, আপনার নেতৃত্বে এটা রাষ্ট্রীয় মাস্তানিই এবং নিশ্চিতভাবেই আপনার ব্যক্তিগত আক্রোশ। অতিঅবশ্যই এটা আমরা মানছি না। আপনি জানেন, মনের ওপর আওয়ামী মাস্তানি অকার্যকর। 

প্রথম প্রকাশ

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে কারা আছে জানেন? আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। সরকার তাদের পরিচালনা পর্ষদগুলোতে নিয়োগ দিয়েছে যোগ্যতা না থাকার পরও। সবুজকানন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক যেমন আছেন সেখানে, তেমনি আছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতাও। ছাত্রলীগের নেতারা যেমন আছেন, যুবলীগারও কম নয়। এদের প্রায় কারোরই ব্যাংকিং তো নয়ই, এমনকি ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়েও ন্যূনতম ধারণা নেই। পরিচালনা পর্ষদের এইসব সদস্যের মূল কাজ হল অর্থের বিনিময়ে বিশেষ বিশেষ লোককে ঋণ পাইয়ে দেওয়া, বদলি আর পদোন্নতিতে প্রভাব বিস্তার। প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউনূসকে সরিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের দখল নিতে সরকার মরিয়া হয়ে ওঠার পর এই প্রশ্ন এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, গ্রামীণ ব্যাংক সরকারের দখলে যাওয়ার পর সফল ওই বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্যে কী ঘটবে? তার আগে দেখা যাক, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের কী হাল-

অগ্রণী ব্যাংক
চেয়ারম্যান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক।
পরিচালক :
১. বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি শাহজাদা মহিউদ্দিন
২. যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা জাকির আহমেদ
৩. আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক আবদুস সবুর
৪. আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সহসম্পাদক নাগিবুল ইসলাম
৫. সাবেক কমিউনিস্ট নেতা, মণি সিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্টের সম্পাদক শেখর দত্ত।
৬. আওয়ামী লীগ সমর্থক আবদুজ জহির চৌধুরী
৭. গ্লোবাল নিউজ এজেন্সির প্রধান সম্পাদক কে এম এন মঞ্জুরুল হক (প্রকৃতপক্ষে গ্লোবাল নিউজ এজেন্সি নামের কোনো সংবাদ সংস্থার অস্তিত্বই নেই)

সোনালী ব্যাংক
চেয়ারম্যান : কাজী বাহারুল ইসলাম (সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা )
পরিচালক :
১. মাদারীপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুত্ফর রহমান খান
২. কক্সবাজারের আওয়ামী লীগ নেতা সাইমুম সরওয়ার
৩. আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কমিটির সদস্য কাশেম হুমায়ুন
৪. সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সত্যেন্দ্র চন্দ্র ভক্ত
৫. সবুজ কানন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মহিলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক জান্নাত আরা হেনরী (তিনি নবম সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন)
৬. বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি কে এম জামান।
৭. সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুভাষ সিংহ রায়।

জনতা ব্যাংক
চেয়ারম্যান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারকাত।
পরিচালক :
১. রাজবাড়ী চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি নজিবর রহমান
২. ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বলরাম পোদ্দার।

বেসিক ব্যাংক
চেয়ারম্যান : সাবেক সাংসদ শেখ আবদুল হাই
পরিচালক :
১. চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম
২. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাজিয়া বেগম
৩. অর্থ বিভাগের যুগ্ম-সচিব বিজয় ভট্টাচার্য
৪. সাবেক শুল্ক কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)
পরিচালক :
১. নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া
২. বেসিক ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলাউদ্দিন এ মজিদ

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)
পরিচালক :
১. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও আওয়ামী লীগের সমর্থক রুস্তম আলী আহমেদ
২. কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খোন্দকার জাহাঙ্গীর কবির।

এই হল অবস্থা! 

প্রথম প্রকাশ

স্কুলে ভাষণ দিতে গিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী গতকালও সেই একই শিবের গীত গাইলেন এই বলে- 'একটি কুচক্রী মহল বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ও মহাজোট সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন থামিয়ে দিতে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।'

সেই একই রেকর্ড...
শুনে আসছি গত দু বছর ধরে। সরকার, বলা ভালো আওয়ামী লীগের বিপক্ষে কেউ অবস্থান নিলেই 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতেই' কিংবা 'ধারাবাহিক উন্নয়ন থামিয়ে দিতেই এই অপচেষ্টা' বলে হুঙ্কার ছাড়েন সরকারের প্রধান থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরাও। প্রতিমন্ত্রীর দেখছি অতো সাহস নেই। আড়িয়ল বিলের দিকে যেতে পারছেন না। উস্কানিমূলক বক্তব্য-টক্তব্য দিয়ে ঘুরে আসছেন আশেপাশের এলাকা থেকে। তার আগেই আড়িয়ল বিলে মানুষের পিঠ ঠেকে গেছে দেয়ালে। নারীরা ঝাড়ু নিয়ে তৈরি, তরুণদের মাথায় কাফনের কাপড় আর হাতে লাঠি, এমনকি যে বৃদ্ধার চলার শক্তিও নেই তিনিও দা হাতে পাহারা দিচ্ছেন নিজেদের ভূমিটুকু। এদের কারোরই রাজনৈতিক পরিচয় নেই, বেশিরভাগই নির্দলীয়। এই লোকগুলোর সামনে দাঁড়ানোর সাহস নেই সরকারের। তারা পারছে শুধু নিরীহ মানুষগুলোর ওপর পুলিশ লেলিয়ে দিতে, নিরীহ মানুষগুলোকে মামলার পর মামলা দিয়ে হয়রানি করতে। সবমিলিয়ে সরকারের অবস্থান জনতার বিপক্ষে, জনমতের বিরুদ্ধে। আচরণ পুরো মাফিয়ার মতো।

অথচ ভালো যুক্তি নেই একটিও
দেখবেন, বিমানবন্দর স্থাপনের পক্ষে সরকারের হাতে ভালো যুক্তিও নেই। বিমানসচিব যুক্তি দেখিয়েছেন, ঢাকায় যেহেতু একটিমাত্র রানওয়ে, ফলে কোনো বিমান দুর্ঘটনায় পড়লে ভবিষ্যতে সমস্যা হবে। আর 'সমস্যা' হবে বলে ঢাকা বিমানবন্দরের পাশেই দ্বিতীয় আরেকটি রানওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ না নিয়ে ২৫ হাজার একর ভূমি নষ্ট করে ১০ লাখ মানুষকে কর্মহীন করে দিয়ে আরেকটি বিমানবন্দর বানাতে হবে, তাও ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে? এমন তো নয় যে, ঢাকা বিমানবন্দরের পাশে জায়গা নেই। জায়গা যথেষ্টই আছে, নইলে পাশের ১৩০ একর জমি শ্রেফ লুটেপুটে খাওয়ার জন্য কিভাবে তুলে দেওয়া হল নামসর্বস্ব এক প্রতিষ্ঠানের কাছে? আর রানওয়ের অজুহাত যদি জীবিত রাখাও হয়, তাহলে উদাহরণ হিসেবে জানানো যায়, জাপানের নারিতা বিমানবন্দরেও রানওয়ে একটি। নারিতার তুলনায় ঢাকা বিমানবন্দর নিতান্তই মফস্বলস্থানীয়। ফলে বোঝা যায়, এটা কোনো ভালো কাজ নয়, বরং জনগণের অর্থের অপব্যবহার। এদিকে আমরা দেখছি, বিমানবন্দরই শুধু নয় নিরীহ কৃষককে আরো বিপদে ফেলে বিশাল 'বঙ্গবন্ধু সিটি' করারও উদ্যোগ আছে সরকারের।

যেখানে মানুষের চেয়ে পরিবার বড়ো
আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর স্থাপনের এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক একটি ইচ্ছা - তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। শুধু পিতার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য শেখ হাসিনা ও তার সরকার কয়েক শত বছরের ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ও আড়িয়ল বিলকে বিপন্ন করতে চাইছে। বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর আর বঙ্গবন্ধু সিটি যদি বাস্তবায়িত হয়েই যায়, হাজার হাজার মানুষ যে নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের শিকার হবে তা শুধু নয়, ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জ জেলার তিন উপজেলায় বিস্তৃত মধ্যাঞ্চলের সবচেয়ে বড় জলাধারটির প্রায় পুরোটা শেষ হয়ে যাবে। ঢাকার আশপাশে বন্যার প্রকোপও আরো বাড়বে। সরকার সেসব নিয়ে ভাবছে না।
শীতটা কেটে গেলেই আবার নামবে ভ্যাপসা গরম। বাড়বে বিদ্যুতের চাহিদা। উৎপাদন যেহেতু মোট চাহিদার ভগ্নাংশের সমপরিমাণ, সুতরাং জনজীবনে শীঘ্রই নেমে আসবে সেই পুরনো হাহাকার। সরকারের নজর সেদিকে নেই। বিদ্যুতের টাওয়ারের নাম তো আর বঙ্গবন্ধুর নামে করা যায় না, শোভনও নয়! সুতরাং বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, বানাও বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর, বানাও ফজিলাতুন্নেসা নৌবন্দর...

জনতার বিপক্ষে জনমতের বিরুদ্ধে
বঙ্গবন্ধুকে আমরা শ্রদ্ধা করি, বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়ের নায়ক ছিলেন তিনি। কিন্তু গরিব মানুষের ভিটেবাড়ি কেড়ে নিয়ে যে বঙ্গবন্ধুর 'নাম প্রতিষ্ঠা'র উদ্যোগ নিতে হয়, সেই বঙ্গবন্ধুকে আমরা চিনি না, সেই বঙ্গবন্ধু আমাদের লোক নন! যে সরকার জনতার বিপক্ষে জনমতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, সেই সরকারও আমাদের নয়।

জীবন যায়, যাক দু একটা, তবু রুখে দিন নামকরণের জন্য মরিয়া এই ম্যানিয়াকদের। 

প্রথম প্রকাশ

বাংলাদেশ বিমান দুর্ঘটনায় পড়েছে- এটা এতোই মামুলি ব্যাপার যে, কেউই সাধারণত এইসব খবরে বিচলিত হন না। যেন ওটাই হওয়ার কথা, বরং না হওয়াটাই উদ্বেগের বিষয়! কোথাও কৌতূহল যদি কিছু থাকে, সেটা দুর্ঘটনার ধরনে। এর আগে আস্ত বিমান রানওয়ের বদলে খালে-বিলে-খাদে আছড়ে পড়ার দৃশ্য আমরা দেখেছি। গতকালের ঘটনা আরো মজাদার। ৩০৫ জন যাত্রী নিয়ে ওমানের মাসকট থেকে আসা একটি বিমানের আস্ত পাখা খসে পড়েছে চট্টগ্রামের আকাশে। চট্টগ্রামের পটিয়ায় সেই পাখা তিন টুকরো হয়ে ভূপাতিত হয়।

ভাবতে ভালো লাগে, বাংলাদেশ বিমান খালে-বিলে আছড়ে পড়লেও, আকাশে এমনকি পাখা খসে গেলেও প্রাণহানির ঘটনা তেমন একটা নেই। যাত্রীগুলো কিভাবে কিভাবে বেঁচে যান। গিনেস বুক অফ রেকর্ডের স্বীকৃতির অপেক্ষা করে লাভ নেই। আমরা এখনই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, বাংলাদেশ বিমানের যাত্রীরাই পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী মানুষ!

ছবিটি বড়ো আকারে দেখুন এইখানে ক্লিক করে।
ছবিতে ব্যবহৃত বিমানের শ্লোগানটি পথ হারা পাখির সৌজন্যে।

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bangladesh biman, bangladesh airlines, biman ;

প্রথম প্রকাশ
সন্ধ্যায় গলি দিয়ে রিকশাযোগে যাচ্ছিলাম। পথে তখন গার্মেন্টস কর্মীদের মিছিল। কারখানায় সারাদিন শ্রম দিয়ে ঘরে ফিরছিল ওরা। নারী কর্মীগুলোকে দেখে আমার রিকশাচালক হঠাৎই যেন গায়ক হয়ে উঠল। ঠোঁটে তার সদ্য হিট হওয়া কোনো বাংলা সিনেমার গান। চলতে চলতে হঠাৎ লক্ষ্য করলাম, রিকশাচালকের ডান হাতটি হ্যাণ্ডেল থেকে সরে গেল আচমকা। সেই হাত, আধো অন্ধকারেও স্পষ্ট দেখলাম, লাজুক এক নারী কর্মীর বুকের ওপর গিয়ে থেমেছে! হতচকিত মেয়েটি মাথা বাঁকিয়ে তাকালেন একনজর, চোখেমুখে ভয়। কয়েক সেকেন্ড পর হাত ছাড়িয়ে মাথা নিচু করে আবার পথ চলতে শুরু করলেন। যেন এই অপমান তাদের নিত্যদিনের পাওনা, যেন কোনো কিছুই ঘটেনি। কিন্তু ঘটেছে তো বটেই! নতমস্তকে হেঁটে যাওয়া মেয়েটি দেখলো না, ততোক্ষণে রিকশাচালকের শার্টটা পরিষ্কার দু ভাগ! আজ মনে পড়ছে, সেদিন এক অসুর ভর করেছিল আমার শরীরে। এ হল নিচুতলার গল্প।

উঁচুতলার গল্প এবার
■ হাসিব আজিজ উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে কয়েকদিন আগে তাকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে হাসিবের দ্বিতীয় স্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেছেন, সাত বছর আগে তাকে বিয়ে করার পর থেকেই হাসিব আজিজ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। প্রতিবাদ করলে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। এর আগে ২০০২ সালে হাসিব তাকে কাজের লোক সাজিয়ে লন্ডন নিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শী ও পাঠকের প্রতিক্রিয়া থেকে জানা যাচ্ছে, পররাষ্ট্র দপ্তরের এই ক্যাডারের পোস্টিং যে দেশেই হতো, সেখানেই তিনি আদমব্যবসা খুলে বসতেন। এই লেখায় সেই প্রসঙ্গ গৌণ অবশ্য। মূখ্য হচ্ছে, যে দেশেই তিনি যেতেন, সেই দেশেই তিনি একটি করে 'বিয়ে' করতেন। সর্বশেষ মরক্কোতে তার এই ধরনের একজন স্ত্রীর খোঁজ পাওয়া গেছে।
■ গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুনকে বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া হয়েছে বিভাগের এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে। তার কয়েকদিন পরই জাহাঙ্গীর নগরে স্বয়ং এক শিক্ষিকা বিভাগের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনলেন।

একসঙ্গে মাত্র দুদিনের কিছু সংবাদ
■ জুড়িতে এক নারীর সম্ভ্রমের মূল্য ৩২ হাজার টাকা!
■ ভিকারুন নিসার ছাত্রী অপহরণের চেষ্টা
■ মোহনপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও চিত্র ধারণ!
■ মঠবাড়িয়ায় আপন ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগে চাচা গ্রেফতার
■ হবিগঞ্জে যৌন নিপিড়নকারী শিক্ষক মইন সাময়িক বরখাস্ত
■ জাবি শিক্ষিকার অভিযোগ গ্রহণ করে যৌননিপীড়ন সেলে পাঠালেন ভিসি
■ ঢাবিতে বৈশাখের অনুষ্ঠানে ৩০ ছাত্রী লাঞ্ছিত
■ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর আত্মহত্যা
■ অভয়নগরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার

যেখানে সবাই এক চেহারার
মাত্র দুদিনে যৌন উন্মত্ততার এতোগুলো ঘটনা পড়া আমাদের অনেকের জন্য মামুলি ব্যাপার হয়তো, কিন্তু অনেকের জন্যই বিষয়টা নিশ্চিৎ পীড়াদায়ক। মনের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি করে। তবে এটা ঠিক যে, আমরা বোধহয় ক্রমশ যৌন উন্মাদ হতে চলেছি। সমাজের উঁচুতলা থেকে নিচতলা, নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত, কামলা থেকে আমলা- সবখানে, সবক্ষেত্রেই যেন অস্বাভাবিক এক দণ্ডঘটিত সমস্যা ছড়িয়ে পড়ছে, যেখানে রাষ্ট্রদূত থেকে রিকশাওয়ালা সবাই এক চেহারার, যমজ যেন!

ঘটনা হয়তো দিনাজপুর কি রংপুরের, শিকার হয়তো ২০০ কি ৪০০ মাইল দূরের কোনো নারী, জাবি শিক্ষিকা কিংবা অভয়নগরের স্কুল ছাত্রী। অনায়াসে এই সবকিছু থেকে গা বাঁচিয়ে চলা যায় নিশ্চয়ই। চোখ বুঁজে থাকলেই হয়। চলতি পথে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকলেই হয়। কিন্তু চাপ পড়ে ঠিকই। শেষপর্যন্ত এই সবকিছু কোনো না কোনো সময় মনের ওপর এক ধরনের চাপ ফেলেই। হ্যাঁ!


প্রথম প্রকাশ
একটি মাত্র ছবি গত রাত থেকে আমার ভেতরটা কেমন যেন ওলটপালট করে দিল। বাঁচার আশায় আতঙ্কিত অবোধ শিশুটি লোকটার লুঙ্গি টেনে ধরেছে- আজ সারাদিন ওই ছবিটাই শুধু চোখের সামনে ভাসছে । কতোইবা বয়স শিশুটির? এক-দেড় হবে হয়তো। এই বয়সী একটা শিশু যখন শূন্যে ঝুলছিল সজোরে, কতোটা আতঙ্কিত হয়েছিল সে? তার পেটের ওপর দুটো পা, আসলে দুটো পাহাড় যখন চেপে বসেছিল, কেমন লাগছিল শিশুটির?

এই বয়সে যে দৃশ্যের সঙ্গে সে পরিচিত হয়েছে, আজীবন তাকে সেই ভীতি তাড়িয়ে বেড়াবে নিশ্চিত। পৃথিবীর কোনো মনোচিকিৎসকের পক্ষে সম্ভব নয়- তার সেই ভীতি সারিয়ে তুলবে।

আমার শুধু মনে হচ্ছে, আজ সকালে গ্রেপ্তার হওয়া ওই ভণ্ডপীরকে ১০০ তলা বিল্ডিংয়ের ওপর থেকে যদি ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারতাম! সবকিছুই আসলে বিস্বাদ লাগছে। টের পাই, বুকের কোথাও কোনো এক কোণে অক্ষম কেউ একজন কাঁদছে সঙ্গোপনে।


প্রথম প্রকাশ
প্রবাস থেকে অনেক পত্রিকাই বের হয়- সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক। এর মধ্যে বিশেষভাবে নজর কাড়ে কানাডা থেকে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকা 'নতুন দেশ'। মূল কারণ এর পেশাদারিত্ব। নতুন দেশের অনেক খবর বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতে স্থান পেতে দেখেছি বিভিন্ন সময়ে। পত্রিকাটির নেপথ্যে আছেন যে দুজন- সেরীন ফেরদৌস ও শওগাত আলী সাগর, তাদের চিনি বহুদিন ধরে। কানাডা প্রবাসী হওয়ার আগে দুজনেই দীর্ঘকাল প্রথম আলোতে কর্মরত ছিলেন।

নতুন দেশের চলতি সংখ্যায় শীর্ষ নিউজটি পড়ে আমি স্তম্ভিত হয়েছি। সেরীন ফেরদৌসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটিতে সবিস্তারে উঠে এসেছে কিভাবে বাংলাদেশী কবিদের অভিনব প্রতারণার ফাঁদে আটকা পড়ছেন প্রবাসী নারীরা। দীর্ঘ প্রতিবেদনে সাহিত্য জগতের অনাবিস্কৃত এক অন্ধকার দিক তিনি উন্মোচন করেছেন।

সেরীন ফেরদৌস লিখেছেন- 'ফেসবুকে বন্ধু বানিয়ে রোমান্টিক কবিতায় প্রলুব্ধ করা হয়েছে প্রবাসী নারীদের। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁরা পরিণত হয়েছেন বন্ধু বা প্রেমিকে। তারপর শুরু হয়েছে নানা অজুহাতে টাকা-পয়সা, অন্যান্য দামী সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়া । বেশ কিছু খসিয়ে নেবার পর এরা বন্ধু বা প্রেমিকা পাল্টান, টার্গেট করেন অন্যদের। প্রবাসী বাংলাদেশী নারী, বিশেষ করে চাকরিজীবী নারীরা এদের প্রধান টার্গেট, তবে গৃহবধুরাও এদের শিকার।'

প্রতিবেদক অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছেন, 'প্রতারণার শিকার প্রবাসী নারীরা দামি উপহারসামগ্রী ( ভিডিও ক্যামেরা, ডিজিটাল ক্যামেরা, গেরস্তালী সামগ্রীর মূল্য, মোবাইল ফোন ইত্যাদি) দেওয়া ছাড়াও নিয়মিত নগদ টাকা পাঠিয়েছে। একপর্যায়ে টাকা পাঠাতে কেউ কেউ অপারগতা প্রকাশ করলে, তাদের পাঠানো উপহার সামগ্রী, মেইল এবং ফেসবুক তথ্য তাদের স্বামী ও অন্যান্যদের জানিয়ে দেবার ভয় দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে দু’একজন দেশে বেড়াতে গেলে গোপনে ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ঢাকায় গিয়ে থানা-পুলিশও করতে হয়েছে কাউকে কাউকে। তবে সামাজিকভাবে হেয় হবার ভয়ে এবং সংসারে অশান্তির আশংকায় প্রতারিত এসব নারীরা কোথাও মুখ না খুললেও মুষড়ে পড়েছেন এবং কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কানাডার টরন্টো, নিউইয়র্ক, অস্ট্রিয়া, সিডনি এবং মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত বেশ কয়েকজন নারী ‘ঢাকাই কবি’দের হাতে প্রতারিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন নতুনদেশের কাছে।'

কাগুজে অভিযোগ নয়, সেরীন ফেরদৌস প্রমাণ হাতে রেখেই জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যে এই কবিচক্রটির পাঁচ সদস্যকে সনাক্ত করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন একটিই- ঢাকার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে খ্যাতিমান এই পাঁচ কবির পরিচয় কী? এরা কারা?

বিস্তারিত পড়ুন এখানে


প্রথম প্রকাশ
গোলাম আজম কোথায়? কোথাও তার নামগন্ধ নেই। কিভাবে কিভাবে যেন লোকটাকে আমরা সবাই বেমালুম ভুলে বসে আছি। কেউ কি তার কোনো খোঁজখবর জানেন? যুদ্ধাপরাধী হিসেবে নিজামী-মুজাহিদদের আগেই তার নাম আসার কথা। কিন্তু খবরের কাগজে নেই, টেলিভিশনে নেই, কোথাও নেই, এমনকি ব্লগেও তাকে নিয়ে আলোচনা দেখিনি ইদানিং। এই লোক কোথায় হারিয়ে গেল?

এই প্রশ্ন আমারও করার কথা ছিল না, যদি না আকিদুল ইসলাম নামের একজন লেখক সেটা মনে করিয়ে দিতেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, 'হঠাৎ কেন সকল আলোচনা থেকে উধাও হয়ে গেলেন গোলাম আযম? তিনি রাজনীতিতে এখন আর সক্রিয় নন, এ জন্যে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারীদের জন্যে তিনি এখন আর রাজনৈতিক হুমকি নন, এ জন্যে? এ জন্যেই কি তার সকল অপকর্ম ভুলে যেতে হবে?'

জানেন কেউ গোলাম আজমের খোঁজ?


প্রথম প্রকাশ
জনপ্রতিনিধি হয়েও আওয়ামী লীগের ২৫ নেতা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। তাদের কেউ ছিলেন এমএনএ (জাতীয় পরিষদ সদস্য) আবার কেউ ছিলেন এমপিএ (প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য)। মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গেও তাদের কয়েকজন যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকারি ও দলীয় সিদ্ধান্তে ’৭১ ও ’৭২ সালেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ বিষয়ে আজ দৈনিক আমাদের সময়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

শাহেদা খানমের লেখা ওই প্রতিবেদনে এরকম ২৫ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন, একেএম মাহবুবুল ইসলাম (পাবনা), একে ফায়জুল হক (বরিশাল), অধ্যাপক শামসুল হক (চট্টগ্রাম), অংশু প্রু চৌধুরী (পার্বত্য চট্টগ্রাম), ডা. আজাহার উদ্দিন (ভোলা), একেএম মাহবুবুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জ) ও আহমদ সাগির হোসেন। এছাড়া তৎকালীন আওয়ামী লীগ থেকে আরো যেসব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেন তারা হচ্ছেন- আবু সোলায়মান মণ্ডল (পীরগঞ্জ, রংপুর), আজিজুর রহমান (গাইবান্ধা), নুরুল হক (রংপুর), এনসান আলী মুক্তার (টাঙ্গাইল) একেএম মোশাররফ হোসেন (ময়মনসিংহ), আফজাল হোসেন (নারায়ণগঞ্জ), ওবায়দুল্লা মজুমদার (নোয়াখালী), সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম), মো. মঈনুদ্দীন মিয়াজী (যশোর), হাবিবুর রহমান খান (খুলনা), মো. হাবিবুর রহমান (বগুড়া), জহির উদ্দিন (মোহাম্মদপুর, ঢাকা), সৈয়দ হোসেইন মনসুর (পাবনা), মো. আবদুল গাফফার (সাতক্ষীরা), মো. সাঈদ (খুলনা), মোশাররফ হোসেন শাহজাহান (ভোলা), , সৈয়দ বদরুজ্জান ওরফে এসবি জামান (ময়মনসিংহ)।

সংযোজনী
মোশাররফ হোসেন শাহজাহান পরে বিএনপিতে যোগ দেন। এবং অনুমান করছি, ফরিদপুরের এবিএম নুরুল ইসলাম সম্ভবত বর্তমান শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাবা। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, মুক্তিযু্দ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল আওয়ামী লীগই। তবে ভালো হোক কিংবা মন্দ হোক- ইতিহাস এড়িয়ে যাওয়া কিছুতেই নয়, ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।


প্রথম প্রকাশ
কানাডা থেকে প্রকাশিত নতুনদেশে ঢাকার পাঁচ কবির প্রতারণার ঘটনা নিয়ে পর পর দু সংখ্যায় কবির প্রতারণার ফাঁদে প্রবাসী নারী এবং একজন রোকন সাকুরের প্রতারণার চিত্র শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যা ব্যাপক আলোড়ন তোলে বিভিন্ন মহলে। দেশে-বিদেশে শত শত ব্লগার ও ফেসবুকজীবী এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আবার অনেকে প্রতারক কবিদের পক্ষ নিয়ে ফেসবুকে প্রচারণা চালানোর চেষ্টাও করে। নতুন দেশের চলতি সংখ্যায় নতুন কোনো কবির বৃত্তান্ত প্রকাশিত না হলেও চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

নতুনদেশের সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানানো হচ্ছে- "কবিতায় প্রলুব্ধ করে প্রবাসী নারীদের প্রতারণা করা নিয়ে নতুনদেশ ডটকম এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি এখন ঢাকার গোয়েন্দাদের হাতে। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইবার অপরাধ দমন সেলের পক্ষ থেকে রিপোর্টটির ব্যাপারে নতুনদেশের কাছে খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং তারা এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য- চায়।"

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, "সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ বড় একটি অপরাধী চক্রকে ধরতে সরকারের গোয়েন্দারা কাজ করছেন। কবি নামধারীদের প্রতারণার এই তথ্য-উপাত্ত তাদের অনুসন্ধানে সহায়তা করবে বলে তারা মনে করছেন।"

এই ধরনের ব্যতিক্রমী ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থার জড়িত হওয়ার নজির এর আগে সম্ভবত নেই। সাইবার ক্রাইম দমনে গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষতা আছে কি নেই- তাও আমাদের অজানা। ঘটনা কোনদিকে এগোচ্ছে- সেটাই এখন দেখার বিষয়। গোয়েন্দা সংস্থার জালে ঢাকার কোন্ কোন্ কবি আটকা পড়ছে- সেটাই এখন কৌতূহলের বিষয়।

সংযুক্তি
এরা কবি...


প্রথম প্রকাশ
কানাডা থেকে প্রকাশিত নতুন দেশ পত্রিকা এর আগে সবিস্তারে জানিয়েছিল, বাংলাদেশী কবিদের অভিনব প্রতারণার ফাঁদে কিভাবে আটকা পড়ছেন প্রবাসী নারীরা। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ব্লগ, ফেসবুক ছাড়াও ঢাকার সাহিত্য অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। আজ প্রকাশিত হল সেরীন ফেরদৌসের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব।
কবিদের প্রতারণার ফাঁদে প্রবাসী নারীরা : কে এই
প্রতিবেদনে বেশ কিছু কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য পাওয়া গেছে। সেরীন তার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য থেকে জানাচ্ছেন, '২০০৯ সালের শেষের দিকে একইসঙ্গে কানাডা, অস্ট্রেলিয়াএবং যুক্তরাষ্ট্রের তিন শহরের তিনজন নারীর সঙ্গেই একই মাত্রায় সম্পর্ক চালিয়ে গেছে এবং নিয়মিত দামি উপহার এবং টাকা পয়সা নিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, গত ২রা এপ্রিল ২০১০ রাতে রোকন মাথা ব্যথার কথা বলে একই সময়ে তিন শহরের তিনজনের কাছ থেকে সহানুভূতি আদায় ক

প্রথম প্রকাশ
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের আলোচিত সেই ভণ্ডপীর হারামজাদ হোসেন তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হয়েছে- এটা পুরনো খবর। এখন আনন্দের খবরগুলো বলি একেক করে-

১. সিরাজদিখান থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার বাদী নির্যাতিত সেই শিশু দুটির মা। প্রক্রিয়া চলছে আরও একটি প্রতারণা মামলা দায়েরের।

২. জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে চিকিৎসার নামে নির্যাতিত রোগীদের খোঁজখবর নিয়েছেন। আমজাদের নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন সিভিল সার্জন।

৩. পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আমজাদ দোষ স্বীকার করে বলেছে, ‘আমার ভুল হয়েছে। অভাবের কারণে গ্রামের কিছু লোকের প্ররোচনায় এই পেশায় নেমেছি। আমার এই কর্মের কারণে সাজা হওয়া উচিত, যাতে আর কেউ এই কাজ না করে।’

সবচেয়ে আনন্দের খবরটি হচ্ছে-
৪. আমজাদ শিশুদের যেভাবে ‘চিকিৎসা’ দিতো, তাকেও গ্রেপ্তারের পর মাটিতে ফেলে সেভাবে কিছু ‘নমুনা চিকিৎসা’ দেওয়া হয়েছে আজ দুপুর নাগাদ। সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, শিশুদের যেভাবে মাটিতে ফেলা হয়েছিল, তাকেও সেভাবে মাটিতে ফেলে দেখানো হয়েছে মাত্র।
মতিউর রহমান, আপনি আমাদের অভিনন্দন গ্রহণ করুন।

দুঃখের খবর একটিই-
সকালে ভন্ডপীর আমজাদের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময় রেবের একটি দলও সেখানে হাজির হয়। অথচ! :(

যা হোক, এর মধ্যে অবশ্য রেব-১১-এর এএসপি মিলন রহমান জানাচ্ছেন, আমজাদের বাকি সহযোগীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রেব যেহেতু, আশা করার অনেক কিছুই আছে। ওহে মিলন ভাই, একটু দেইখেন বস। গ্রেপ্তার-টেপ্তারের দরকার কি খামোখা! ;)


প্রথম প্রকাশ
ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহবায়ক ডা. এম এ হাসান অসামান্য এক মানুষ। দিনের পর দিন অসীম ধৈর্য্য নিয়ে তিনি সংগ্রহ করেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে নানা তথ্য, উপাত্ত, প্রামাণ্য দলিল। কদিন আগে এই সবকিছু তিনি হস্তান্তর করেছেন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্তে গঠিত ট্রাইব্যুনালের কাছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাজাকার, আলবদর ও শান্তি কমিটির সদস্যদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকাটি গুরুত্বপূর্ণ নিঃসন্দেহে। এই তালিকার ওপর নির্ভরও করা যায়। তবে একটা কিন্তু আছে!

গোটা ফরিদপুর অঞ্চল খুঁজেও শেখ হাসিনার বেয়াই বর্তমান শ্রম ও জনশক্তিমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পিতা নুরু মিয়া, যিনি একাত্তরে শান্তি কমিটির স্থানীয় চেয়ারম্যান ছিলেন, তার নাম ওই তালিকায় খুঁজে পেলাম না! ফরিদপুর জেলায় শান্তি কমিটির সদস্যদের তালিকায় দেখছি চারটি মাত্র নাম- ডা: কাজী ইমদাদুল হক, আজিরুদ্দীন খান, আনিস কাজী ও আদিল উদ্দীন হাওলাদার। তাহলে কি নুরু মিয়া ইতিমধ্যে মৃত বলে তার নাম যুক্ত করা হয়নি? সেটাই বা কিভাবে হয়! ঢাকার রায়েরবাজারের এক ঘৃণ্য রাজাকার হেদায়েত উল্লাহ, মৃত হলেও তার নাম তালিকায় এসেছে। অবশ্য এমন না যে, নুরু মিয়ার নাম না থাকায় তালিকাটি গুরুত্ব হারিয়েছে। সেটা হতেই পারে না। নুরু মিয়া না থাকলেও সেটা যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ওই তালিকায় নুরু মিয়ার থাকাটা জরুরি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই বর্তমান শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রীর পিতা হলেও তার একাত্তরের অপরাধ ম্লান হয়ে যায় না- এটা জানান দেওয়ার জন্যই জরুরি। হ্যাঁ, নিজামী-মুজাহিদ-কামারুজ্জামান কিংবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে নুরু মিয়াকে মেলানো যায় না। ওই নরপশুদের যে অপরাধ, নুরু মিয়া সেই মাপের অপরাধীও হয়তো নয়। কিন্তু শান্তি কমিটির শীর্ষ সারির নেতা মানেই সে অপরাধী, দ্বিধাহীনভাবেই। মরণোত্তর বিচার হয়তো না হতে পারে তার, কিন্তু শান্তি কমিটির ঘৃণ্য সদস্যদের তালিকায় নুরু মিয়ার নাম গোটা গোটা অক্ষরে লেখা থাকতেই হবে। এর প্রতীকী গুরুত্ব আছে। শেখ হাসিনার বেয়াইয়ের পিতা হওয়ার সুবাদে শান্তি কমিটির এক ঘৃণ্য সদস্যের নাম কাটা গেছে বা যাবে- এমন ছোটলোকী, এমন অন্যায়, এমন জোচ্চুরি জীবনেও মেনে নেবো না। এই অপবাদ শেষ বিচারে আওয়ামী লীগের জন্যও ভালো হবে না।


ঘৃণ্য রাজাকার মুসা বিন শমশের তাহলে 'মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক'?
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায়, তখন দৈনিক জনকন্ঠে 'তুই রাজাকার' শীর্ষক এক ধারাবাহিক সিরিজে ফরিদপুরের কুখ্যাত রাজাকার মুসা বিন শমশেরের একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে লোমহর্ষক কাহিনী ছাপা হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। জনকন্ঠের সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের ওপর নারকীয় হামলা চালায় মুসা বিন শমশেরের ভাড়াটে গুন্ডারা। পরে গুরুতর আহত ওই সাংবাদিকের পা কেটে ফেলতে হয়েছিল। শুরু হয় তার পঙ্গুজীবন। আরো পরে শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলের সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিয়ে আলোচনায় আসে মুসা বিন শমশের। ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির তালিকায় ফরিদপুর জেলার প্রধান ১৩ জন রাজাকারের মধ্যে তার নাম আছে শুরুর দিকেই। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর, আজ থেকে মাত্র দুদিন আগে মুসা বিন শমশের ওরফে নুলা মুসা নিজেকে রীতিমতো 'মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক' হিসেবে দাবি করে বসে আছে!

আমাদের সময়ের সংবাদটি দেখুন- 'ডেটকোর চেয়ারম্যান ড. মুসা বিন শমশের নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক দাবি করে বলেছেন, গতকাল দৈনিক আমাদের সময়-এ প্রকাশিত ‘আওয়ামী লীগে যুদ্ধাপরাধী খুঁজছে বিএনপি’ শীর্ষক সংবাদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। গতকাল পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে আমার বলিষ্ঠ ভূমিকা ও নেতৃত্ব ছিল। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের একপর্যায়ে ২২ এপ্রিল পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হই। পাক-হানাদার বাহিনী আমাক দীর্ঘ ৮ মাস আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। ৯ ডিসেম্বর কয়েদখানা থেকে মুক্তি লাভ করে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হই। বর্তমান সরকারের যুদ্ধাপরাধী বিচারের কার্যক্রমকে নস্যাৎ করার জন্য কিছু স্বার্থান্বেষীমহল এ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে তিনি প্রতিবাদলিপিতে দাবি করেন।'

হায়!
---
ছবিতে বসা অবস্থায় (বাঁ থেকে) কানিজ ফাতেমা, ববি হাজ্জাই, শেখ জহরত মাহ্না, ব্যারিস্টার রাশমা ইমাম, মুসা বিন শমশের। দাঁড়ানো আছেন ব্যারিস্টার রেশাদ ইমাম, শেখ ফজলে ফাহিম, ন্যান্সি জাহরা, ব্যারিস্টার জুবি ইজ্জত, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম।


প্রথম প্রকাশ
পুরাতন পোস্টসমূহ হোম

  • সাম্প্রতিক
  • মন্তব্যমালা
  • Problem with Bengali Font?
  • English Version
  • Mobile View
Advertisement সপ্তাহের নির্বাচন : ব্লগারের ২০টি সেরা উইজেট

অফিসিয়াল একাউন্ট

  • সামহোয়্যারইন ব্লগ
  • প্রথম আলো ব্লগ
  • বিডিনিউজ ব্লগ
  • নাগরিক ব্লগ
  • আমারব্লগ
  • গুগল প্লাস
  • ফেসবুক
  • টুইটার
  • টাম্বলার

ব্লগ স্টাইল

  • ম্যাগাজিন
  • টাইমস্লাইড
  • ফ্লিপকার্ড
  • মোজাইক
  • সাইডবার
  • স্ন্যাপশট

  • Home
  • About
  • Contact
  • বাংলা লিখুন ইউনিকোডে
Tweet
.



    1/11 advertisement amader shomoy amarblog audio audio-tape awami league Bangladesh bangladeshi blogger bank bdr-mutiny bijoy bijoy ekattor bijoy ekushe bijoy ekushey Blog blog ban blog-debate blog-review blog-satire blogger bobs boi-mela book-fair books bottle brain caricature children chile cht cinema computer contemporary corruption corruption tape cover cricket cyber-crime defense dhaka university diary documentary e-voting ebook economy entertainment eve-teasing everest exclusive facebook Feature finance football google hacking highlights human-rights india internet julian assange kaler-kantha khaleda-zia liberation-war libya load-shedding love media memoirs misc mlm mobile musa-ibrahim niagara falls oporbastob poetry police politics prothom-alo-blog rab religion rosh-alo sachalayatan satire saudi arab sheikh mujib social-media software somewherein blog sound special sports statue-of-liberty stock market survey sw-ban swine flu tech tech-humor technology television train accident transparency report travel video weather women world-affairs
Fusion Factory by Fusion5 is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.
Designed by SimplexDesign