সচলায়তন বিষয়ে প্রথম আলোতে সুমন রহমানের লেখা পড়ে আমি মুগ্ধ হয়েছি। ব্লগ সম্পর্কে এমন নির্মোহ বিশ্লেষণ নিকট অতীতে বোধহয় পড়া হয়নি।
বাংলাদেশ থেকে বিনা বাধায় যেমন সচলায়তন দেখতে চাই, তেমনি সুমন রহমানের কথা ধার করে এটাও বলতে চাই যে, হাস্যকর নার্সিসিজম থেকে মুক্ত হোক সচলায়তন।
ম ত প্র কা শ
সচল থাকুক সচলায়তন
সুমন রহমান
বাংলাদেশ থেকে ‘সচলায়তন’ নামক ব্লগটি দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের সর্বত্র যে ব্লগটি ইন্টারনেটে দেখা ও পড়া যাচ্ছে, সেটির দেখা বাংলাদেশ থেকে না পাওয়ার ঘটনাটি রহস্যজনক। কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটা ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন এ ব্লগটির মালয়েশিয়া-প্রবাসী কর্ণধার। এর অর্থ দাঁড়ায়, ব্লগটি হয়তো বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ রকম ঘটে থাকলে সেটি বাংলাদেশে এ ধরনের প্রথম ঘটনা এবং সংগত কারণেই এ সংবাদটি প্রথম আলোসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হয়েছে।
ইন্টারনেটে ব্লগ লেখালেখির ঘটনা পশ্চিমে প্রায় দশক-পুরোনো হলেও বাংলা ভাষায় মাত্র বছর কয়েকের। অন্যান্য দেশে বাঘা বাঘা পণ্ডিত থেকে খ্যতনামাদের অনেকেই ব্লগে লেখেন, কিন্তু বাংলাদেশে ব্লগ নামক প্লাটফর্মটি গুটিকয় শিক্ষানবিশের জন্য লেখকের আত্মাভিমান তৈরির জায়গা হিসেবেই যেন এখনো রয়ে গেছে। অবশ্য কে প্রতিষ্ঠিত লেখক আর কে শিক্ষানবিশ, সেটি ব্লগের মাথাব্যথার কারণ নয়। ব্লগ মুক্তচিন্তা ও চিন্তার সরাসরি আদানপ্রদানের জায়গা। সেখানে লেখক-পাঠক, খ্যাতিমান-শিক্ষানবিশ মিলেই একটা চিন্তাকে টগবগ করে ফুটতে সাহায্য করেন। ফলে লেখকের সঙ্গে পাঠকের, বিষয়ের সঙ্গে বিষয়ীর, ঘটনার সঙ্গে ঘটকের ভেদ ঘুচে যাওয়ার কথা ব্লগের পরিমণ্ডলে। ব্লগের মতো একটি উত্তর-আধুনিক মাধ্যমের এটিই বড় বৈশিষ্ট্য। কিন্তু আদৌ কি হয়েছে সেটি বাংলাদেশে?
বাংলাদেশে প্রথম যে ব্লগটি বড় স্কেলে দৃশ্যমান হয় সেটির নাম ‘সামহোয়ারইনব্লগ’। এটি আকারে বেশ বড়, প্রায় পনের হাজার সদস্য সেখানে নিবন্ধন করেছেন বলে জানা যায়। সামহোয়ারইনব্লগ আকারে বড় এবং উ্নুক্ত। যে কেউ এর সদস্য হয়ে লেখা শুরু করে দিতে পারেন। অপরদিকে সচলায়তন মূলত সামহোয়ারইনব্লগ ভাঙা একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী, আকারে অনেক ছোট এবং এখানে লেখক হিসেবে ঠাঁই পেতে হলে রীতিমতো বর্ষব্যাপী সাধনা করতে হয়। সদস্যদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সামহোয়ারইনব্লগ বেশ ঢিলেঢালা রীতি অনুসরণ করলেও সচলায়তন রীতিমতো কঠোর। এর পরিণামও হয়েছে দুই রকমঃ ঢিলেঢালা সামহোয়ারইন যেখানে ভার্চুয়াল ‘মুক্তিযোদ্ধা’ ও ভার্চুয়াল ‘রাজাকার’দের পারস্পরিক বিষোদগারের কুরুক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, সেখানে কর্ণধারশাসিত সচলায়তন হয়ে উঠেছে সুশীল ‘মুক্তচিন্তা’র প্লাটফর্ম। সামহোয়ারইনব্লগ যখন চরম নৈরাজ্য, সচলায়তনে তখন পরম নিয়ন্ত্রণ। চরম আর পরমের এ দুই রকম নমুনা দেখে বুঝতে বাকি থাকে না যে ব্লগের মতো উত্তর-আধুনিক মাধ্যমের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো প্রস্তুতি আমাদের এখনো নেই।
মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি সংগত কারণেই সামনে এসে যায়ঃ সম্প্রতি ঢাকায় স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে একজন মুক্তিযোদ্ধার লাঞ্ছনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সচলায়তন - এ যে সহিংস বিক্ষোভ লতিয়ে উঠেছে, তাকে নীরবে ছাড় দেওয়ার মতো অবকাশ কি একটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় আছে? নিশ্চিতভাবেই নেই, আর নেই বলেই হয়তো বাংলাদেশের আন্তর্জালে সচলায়তন অদৃশ্য হয়ে গেছে। কিন্তু আরও কথা থেকে যায়। একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রকাশ্য লাঞ্ছনার ঘটনায় অদ্যাবধি রাষ্ট্রের যে নীরবতা, তা কি রাষ্ট্রের পক্ষে আত্মঅবমাননার শামিল নয়? দেশপ্রেমিক মানুষের অহংকার তবে কোন অরণ্যে গিয়ে শান্তি খুঁজবে?
অদ্ভুত এই দশা! উত্তর-আধুনিক ব্লগমাধ্যমে সচলায়তনকে দেখা গেছে কঠোর পরিচালনা, নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার, নিষিদ্ধকরণ, ভাবাদর্শের প্রচারনা, নিজেদের চারপাশে সুস্পষ্ট সীমানা ইত্যাদি মেনে পরিচালিত হতে, যেগুলো আদতে আধুনিক জাতিরাষ্ট্রব্যবস্থায় দেখা যায়। আবার, তার স্বাধীনতার সৈনিকদের প্রকাশ্য লাঞ্ছনার ঘটনায় পদক্ষেপশূন্য থাকা খোদ বাংলাদেশের জন্য যেন এক উত্তর-আধুনিক ঔদাস্য, ষড়যন্ত্র যদি নাও হয়! অদ্ভুত এই নাট্যমঞ্চ! যার যে ভূমিকায় অভিনয় করার কথা নয়, সে সেই ভূমিকায় অভিনয় করে চলছে!
লোহার বাসর বানালে ছিদ্র সেখানে থাকেই, সচলায়তন - এর সহিংস বিক্ষোভ হয়তো সেই ছিদ্রপথ দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। অন্য একটি ব্লগে এ নিয়ে আলাপ হচ্ছিল। ব্লগের কৌশল আসলে কী হবে? নিয়ন্ত্রণ, না নৈরাজ্য? একজন বললেন, নিয়ন্ত্রিত নৈরাজ্য। সুন্দর নির্দেশনা! কিন্তু কথা আসে, কতটুকু নিয়ন্ত্রণ আর কতটুকু নৈরাজ্য? নিয়ন্ত্রণের ভার কে নেবে, ব্লগাধিপতি, নাকি রাষ্ট্র? সেসব নিয়ে আরও বহু বহু ভাবনার জায়গা আছে। ব্লগারকে ভাবতে হবে, আবার রাষ্ট্রকেও।
স্বীকার করতেই হবে যে সামহোয়ারইনব্লগ ও সচলায়তন বাংলা ভাষায় ব্লগ লেখালেখির দ্বার খুলে দিয়েছে, নানা বিষয়ে চমৎকার সব লেখা হাজির করেছে, নবীন লেখকদের জন্য রীতিমতো প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। অনেক প্রতিষ্ঠিত লেখকও সেসব জায়গায় এসে ভিড় করছেন দেখতে পাই। আবার, ব্লগ শুধু যে লেখালেখি ও চিন্তার আদানপ্রদানেই সীমিত আছে তা নয়, বরং নিজেদের একটা কমিউনিটিও বানিয়ে নিচ্ছে এবং একটা সংঘবদ্ধতার শক্তির জানানও দিচ্ছে। সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশিদের এহেন সংঘবদ্ধতা যেকোনো বিচারেই স্বাস্থ্যকর, জাতিরাষ্ট্রীয় বিবেচনায় তো বটেই। তাকে পিঠ দেখানো মোটেই সুলক্ষণ নয়।
ব্লগ একটি নতুন গণমাধ্যম এবং এটি পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের অধীন এমনটাও বলা যাচ্ছে না। এ কারণে সচলায়তন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে, এমনকি বাংলাদেশ থেকেও প্রক্সি সার্ভার দিয়ে এই ব্লগসাইট দেখা যাচ্ছে। ফলে নিয়ন্ত্রণের পুরোনো কৌশল এখানে খুব যে কার্যকর এমনও না। আবার, রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলতে যা বুঝায়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সেই একই জিনিস বুঝাবে? যিনি স্বাধীন মত প্রকাশ করছেন, তিনি অন্যের স্বাধীন মত প্রকাশে কতটুকু বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন? অধিকার ও দায়িত্বের সীমা কোথায়? ব্লগ প্রশ্নে এসব বিষয়ের মীমাংসা খোদ পশ্চিমা বিশ্বেই ঠিকমতো হয়নি। অনেক রাষ্ট্রকে দেখা যায় ব্লগের এই দামাল চরিত্রটি কিছুমাত্রায় মেনে নিয়েছে, আবার লেখায় ‘আপত্তিকর’ বিষয় পেলে এর লেখক হিসেবে ব্লগারের শাস্তি হচ্ছে, এমনটাও দেখা যায় অনেক দেশে।
সচলায়তনকে কোনো বিপ্লবী গোষ্ঠী বা কঠোর গ্রুপ বলে মনে হয়নি কখনোই। রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধের প্রতি সার্বিকভাবে এরা শ্রদ্ধাশীল, এমনটাই লেগেছে। গোষ্ঠীগত অহম বা আভিজাত্যবোধ আছে ওদের, সে অন্য প্রসঙ্গ। ব্লগের পরিবেশ এর লেখকদের যে অবারিত স্বাধীনতা দিয়েছে, তাকে তারা আরও দায়িত্বশীল উপায়ে কাজে লাগাবেন, এমন প্রত্যাশা হয়তো ছিল অনেকের। কিন্তু আমি মনে করি, তাদের যে ভুল তা স্রেফ শিক্ষানবিশির ভুল, এর ফলে তাদের যদি সত্যি সত্যিই বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়ে থাকে, তবে তা লঘুপাপে গুরুদণ্ড হয়ে গেছে। অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যেত।
আমরা বরং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশি তরুণদের পরস্পরের সঙ্গে কথা বলার, একে অপরের মাঝে দেশকে খুঁজে ফেরার এই প্রয়াসটিকে চলতে দিলেই সুবুদ্ধির পরিচয় দেব। সচল থাকুক সচলায়তন।
সুমন রহমানঃ কবি, কথাসাহিত্যিক।
প্রথম প্রকাশ | দ্বিতীয় প্রকাশ
বাংলাদেশ থেকে বিনা বাধায় যেমন সচলায়তন দেখতে চাই, তেমনি সুমন রহমানের কথা ধার করে এটাও বলতে চাই যে, হাস্যকর নার্সিসিজম থেকে মুক্ত হোক সচলায়তন।
ম ত প্র কা শ
সচল থাকুক সচলায়তন
সুমন রহমান
বাংলাদেশ থেকে ‘সচলায়তন’ নামক ব্লগটি দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের সর্বত্র যে ব্লগটি ইন্টারনেটে দেখা ও পড়া যাচ্ছে, সেটির দেখা বাংলাদেশ থেকে না পাওয়ার ঘটনাটি রহস্যজনক। কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটা ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন এ ব্লগটির মালয়েশিয়া-প্রবাসী কর্ণধার। এর অর্থ দাঁড়ায়, ব্লগটি হয়তো বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ রকম ঘটে থাকলে সেটি বাংলাদেশে এ ধরনের প্রথম ঘটনা এবং সংগত কারণেই এ সংবাদটি প্রথম আলোসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হয়েছে।
ইন্টারনেটে ব্লগ লেখালেখির ঘটনা পশ্চিমে প্রায় দশক-পুরোনো হলেও বাংলা ভাষায় মাত্র বছর কয়েকের। অন্যান্য দেশে বাঘা বাঘা পণ্ডিত থেকে খ্যতনামাদের অনেকেই ব্লগে লেখেন, কিন্তু বাংলাদেশে ব্লগ নামক প্লাটফর্মটি গুটিকয় শিক্ষানবিশের জন্য লেখকের আত্মাভিমান তৈরির জায়গা হিসেবেই যেন এখনো রয়ে গেছে। অবশ্য কে প্রতিষ্ঠিত লেখক আর কে শিক্ষানবিশ, সেটি ব্লগের মাথাব্যথার কারণ নয়। ব্লগ মুক্তচিন্তা ও চিন্তার সরাসরি আদানপ্রদানের জায়গা। সেখানে লেখক-পাঠক, খ্যাতিমান-শিক্ষানবিশ মিলেই একটা চিন্তাকে টগবগ করে ফুটতে সাহায্য করেন। ফলে লেখকের সঙ্গে পাঠকের, বিষয়ের সঙ্গে বিষয়ীর, ঘটনার সঙ্গে ঘটকের ভেদ ঘুচে যাওয়ার কথা ব্লগের পরিমণ্ডলে। ব্লগের মতো একটি উত্তর-আধুনিক মাধ্যমের এটিই বড় বৈশিষ্ট্য। কিন্তু আদৌ কি হয়েছে সেটি বাংলাদেশে?
বাংলাদেশে প্রথম যে ব্লগটি বড় স্কেলে দৃশ্যমান হয় সেটির নাম ‘সামহোয়ারইনব্লগ’। এটি আকারে বেশ বড়, প্রায় পনের হাজার সদস্য সেখানে নিবন্ধন করেছেন বলে জানা যায়। সামহোয়ারইনব্লগ আকারে বড় এবং উ্নুক্ত। যে কেউ এর সদস্য হয়ে লেখা শুরু করে দিতে পারেন। অপরদিকে সচলায়তন মূলত সামহোয়ারইনব্লগ ভাঙা একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী, আকারে অনেক ছোট এবং এখানে লেখক হিসেবে ঠাঁই পেতে হলে রীতিমতো বর্ষব্যাপী সাধনা করতে হয়। সদস্যদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সামহোয়ারইনব্লগ বেশ ঢিলেঢালা রীতি অনুসরণ করলেও সচলায়তন রীতিমতো কঠোর। এর পরিণামও হয়েছে দুই রকমঃ ঢিলেঢালা সামহোয়ারইন যেখানে ভার্চুয়াল ‘মুক্তিযোদ্ধা’ ও ভার্চুয়াল ‘রাজাকার’দের পারস্পরিক বিষোদগারের কুরুক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, সেখানে কর্ণধারশাসিত সচলায়তন হয়ে উঠেছে সুশীল ‘মুক্তচিন্তা’র প্লাটফর্ম। সামহোয়ারইনব্লগ যখন চরম নৈরাজ্য, সচলায়তনে তখন পরম নিয়ন্ত্রণ। চরম আর পরমের এ দুই রকম নমুনা দেখে বুঝতে বাকি থাকে না যে ব্লগের মতো উত্তর-আধুনিক মাধ্যমের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো প্রস্তুতি আমাদের এখনো নেই।
মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি সংগত কারণেই সামনে এসে যায়ঃ সম্প্রতি ঢাকায় স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে একজন মুক্তিযোদ্ধার লাঞ্ছনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সচলায়তন - এ যে সহিংস বিক্ষোভ লতিয়ে উঠেছে, তাকে নীরবে ছাড় দেওয়ার মতো অবকাশ কি একটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় আছে? নিশ্চিতভাবেই নেই, আর নেই বলেই হয়তো বাংলাদেশের আন্তর্জালে সচলায়তন অদৃশ্য হয়ে গেছে। কিন্তু আরও কথা থেকে যায়। একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রকাশ্য লাঞ্ছনার ঘটনায় অদ্যাবধি রাষ্ট্রের যে নীরবতা, তা কি রাষ্ট্রের পক্ষে আত্মঅবমাননার শামিল নয়? দেশপ্রেমিক মানুষের অহংকার তবে কোন অরণ্যে গিয়ে শান্তি খুঁজবে?
অদ্ভুত এই দশা! উত্তর-আধুনিক ব্লগমাধ্যমে সচলায়তনকে দেখা গেছে কঠোর পরিচালনা, নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার, নিষিদ্ধকরণ, ভাবাদর্শের প্রচারনা, নিজেদের চারপাশে সুস্পষ্ট সীমানা ইত্যাদি মেনে পরিচালিত হতে, যেগুলো আদতে আধুনিক জাতিরাষ্ট্রব্যবস্থায় দেখা যায়। আবার, তার স্বাধীনতার সৈনিকদের প্রকাশ্য লাঞ্ছনার ঘটনায় পদক্ষেপশূন্য থাকা খোদ বাংলাদেশের জন্য যেন এক উত্তর-আধুনিক ঔদাস্য, ষড়যন্ত্র যদি নাও হয়! অদ্ভুত এই নাট্যমঞ্চ! যার যে ভূমিকায় অভিনয় করার কথা নয়, সে সেই ভূমিকায় অভিনয় করে চলছে!
লোহার বাসর বানালে ছিদ্র সেখানে থাকেই, সচলায়তন - এর সহিংস বিক্ষোভ হয়তো সেই ছিদ্রপথ দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। অন্য একটি ব্লগে এ নিয়ে আলাপ হচ্ছিল। ব্লগের কৌশল আসলে কী হবে? নিয়ন্ত্রণ, না নৈরাজ্য? একজন বললেন, নিয়ন্ত্রিত নৈরাজ্য। সুন্দর নির্দেশনা! কিন্তু কথা আসে, কতটুকু নিয়ন্ত্রণ আর কতটুকু নৈরাজ্য? নিয়ন্ত্রণের ভার কে নেবে, ব্লগাধিপতি, নাকি রাষ্ট্র? সেসব নিয়ে আরও বহু বহু ভাবনার জায়গা আছে। ব্লগারকে ভাবতে হবে, আবার রাষ্ট্রকেও।
স্বীকার করতেই হবে যে সামহোয়ারইনব্লগ ও সচলায়তন বাংলা ভাষায় ব্লগ লেখালেখির দ্বার খুলে দিয়েছে, নানা বিষয়ে চমৎকার সব লেখা হাজির করেছে, নবীন লেখকদের জন্য রীতিমতো প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। অনেক প্রতিষ্ঠিত লেখকও সেসব জায়গায় এসে ভিড় করছেন দেখতে পাই। আবার, ব্লগ শুধু যে লেখালেখি ও চিন্তার আদানপ্রদানেই সীমিত আছে তা নয়, বরং নিজেদের একটা কমিউনিটিও বানিয়ে নিচ্ছে এবং একটা সংঘবদ্ধতার শক্তির জানানও দিচ্ছে। সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশিদের এহেন সংঘবদ্ধতা যেকোনো বিচারেই স্বাস্থ্যকর, জাতিরাষ্ট্রীয় বিবেচনায় তো বটেই। তাকে পিঠ দেখানো মোটেই সুলক্ষণ নয়।
ব্লগ একটি নতুন গণমাধ্যম এবং এটি পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের অধীন এমনটাও বলা যাচ্ছে না। এ কারণে সচলায়তন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে, এমনকি বাংলাদেশ থেকেও প্রক্সি সার্ভার দিয়ে এই ব্লগসাইট দেখা যাচ্ছে। ফলে নিয়ন্ত্রণের পুরোনো কৌশল এখানে খুব যে কার্যকর এমনও না। আবার, রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলতে যা বুঝায়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সেই একই জিনিস বুঝাবে? যিনি স্বাধীন মত প্রকাশ করছেন, তিনি অন্যের স্বাধীন মত প্রকাশে কতটুকু বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন? অধিকার ও দায়িত্বের সীমা কোথায়? ব্লগ প্রশ্নে এসব বিষয়ের মীমাংসা খোদ পশ্চিমা বিশ্বেই ঠিকমতো হয়নি। অনেক রাষ্ট্রকে দেখা যায় ব্লগের এই দামাল চরিত্রটি কিছুমাত্রায় মেনে নিয়েছে, আবার লেখায় ‘আপত্তিকর’ বিষয় পেলে এর লেখক হিসেবে ব্লগারের শাস্তি হচ্ছে, এমনটাও দেখা যায় অনেক দেশে।
সচলায়তনকে কোনো বিপ্লবী গোষ্ঠী বা কঠোর গ্রুপ বলে মনে হয়নি কখনোই। রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধের প্রতি সার্বিকভাবে এরা শ্রদ্ধাশীল, এমনটাই লেগেছে। গোষ্ঠীগত অহম বা আভিজাত্যবোধ আছে ওদের, সে অন্য প্রসঙ্গ। ব্লগের পরিবেশ এর লেখকদের যে অবারিত স্বাধীনতা দিয়েছে, তাকে তারা আরও দায়িত্বশীল উপায়ে কাজে লাগাবেন, এমন প্রত্যাশা হয়তো ছিল অনেকের। কিন্তু আমি মনে করি, তাদের যে ভুল তা স্রেফ শিক্ষানবিশির ভুল, এর ফলে তাদের যদি সত্যি সত্যিই বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়ে থাকে, তবে তা লঘুপাপে গুরুদণ্ড হয়ে গেছে। অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যেত।
আমরা বরং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশি তরুণদের পরস্পরের সঙ্গে কথা বলার, একে অপরের মাঝে দেশকে খুঁজে ফেরার এই প্রয়াসটিকে চলতে দিলেই সুবুদ্ধির পরিচয় দেব। সচল থাকুক সচলায়তন।
সুমন রহমানঃ কবি, কথাসাহিত্যিক।
প্রথম প্রকাশ | দ্বিতীয় প্রকাশ
আমারে এক্টা প্রশ্ন কর্তে জনৈক মগ্ন মহাশয়ের খুউব মন চাইতেছে- বিলক্ষণ বুঝতেছি। সেইটাই স্বাভাবিক, কারণ যেখানে প্রশ্ন নাই, বুঝতে হৈব সেখানে মৌলবাদ আছে। যে সমাজে প্রশ্ন নাই, সেই সমাজ অন্ধকার, স্থবির। তো, মগ্ন মহাশয় আবার প্রশ্নটা করার জন্য স্বতঃপ্রণোদিত হয়া এক্টা কারণও টেনে আনছেন। উনি ঘরে বৈসা নিজে নিজেই এক্টা সিদ্ধান্তে উপনীত হৈছেন যে, সচলায়তন ব্লক(!?) করার পরে আমি কুত্তা পাগল হয়ে তাদের পেছনে লেগেছি। লক্ষ্য কৈরেন, ব্লক শব্দের পরে মগ্ন মহাশয় যুগপৎ বিস্ময় আর প্রশ্নবোধক মনোভাব প্রকাশ কর্ছেন। সত্যসন্ধানের এই মনোভাব আমারে অভিভূত কর্ছে।
দুয়েক্টা জিনিস শুরু থিকাই আমার মনে হয় সবার কাছে স্পষ্ট যে, সচলায়তনের কথিত ব্লক/ব্যানের ব্যাপারে আমার কথাবার্তা পুরোপুরিই সত্যসন্ধানের চেষ্টা। এর মধ্যে 'একান্ত ব্যক্তিগত লাগাবাজি' বা অন্যকিছু নাই।
ব্লগিংয়ের জন্য সামহোয়্যারের এখনো কোনো বিকল্প সত্যিই নেই। সেই সামহোয়্যারে আমি বহাল তবিয়তে আছি। আমারব্লগ শুরু হওয়ার পর এইখানেও আছি। বলা যায়, নেপথ্য থিকা সাধ্যমতো সহযোগিতাও কর্তেছি। আমার মতো ব্লগার, যারা খোঁচাখুচিরেই ব্লগিং মনে করেন, এর থিকা বেশি তাদের আর কিছু দর্কার আছে বৈলা মনে হয় না।
সচলায়তনের খোঁজ পাওয়ার পর দুয়েকবার গিয়াই বুঝছি, তাদের প্রয়োজন আমার পড়বে না। অথবা আমারও প্রয়োজন পড়বে না তাদের। কর্মক্ষেত্রেই আমার সুযোগ আছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে চিন্তাশীল রচনাগুলো প্রকাশের আগেই পড়ে ফেলা। এমনকি কারণে-অকারণে এদের কাউকে কাউকে বাতিল কৈরা দেওনের সুযোগও আছে। রসায়ন শাস্ত্রের ব্যাপারে যদি আমার জানার কিছু থাকে, হুমায়ূন আহমেদের কাছ থিকা সময় ধার নেব। পদার্থবিদ্যা হৈলে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হককে ধরবো। কবিতা নিয়া জ্ঞান অর্জনের দর্কার হৈলে নির্মলেন্দু গুণের ডেরায় ঢুঁ মারবো। টেলিফোন ইনডেক্সটা সরায়া রাইখা এরপরও আমারে কেন সচলায়তনে যেতে হৈব? দ্রুতপঠনে আমার পরিচিত অনেক লেখকরেই আমি সচলায়তনে দেখি, কিন্তু তারা তো নির্বিষ সর্প। ড্রইংরুম আমার পছন্দ না। তাছাড়া সচলায়তনে যাওনের লিগা ব্রাত্য রাইসু কথিত যেই 'অধিক রুচিবোধের' প্রয়োজন পড়ে কিংবা যেই অধিক কাব্যপনার দরকার হয়, সেইটাও তো দুর্ভাগ্যবশত আমার নাই। এরপরও সচলায়তনের এক্সেসের জন্য দৌঁড়াতে হবে ঠিক কী কারণে, এক্টু বলেন তো, শুনি?
আগেও বলেছি, এখনো বলছি- ব্যক্তিগত অনুসন্ধান, ব্লগারদের টেকি বিশ্লেষণ অনুসরণ কৈরা আমি নিশ্চিত যে, সচলায়তন ব্যান কিংবা ব্লক হয় নাই। গলির মোড়ে যে অল্প পুঁজির মুদিদোকান, তারও কিন্তু সাধ হয় বিপণি বিতানে ওঠার! তারপরও বলি, সচলায়তনের প্রতি আমার কোনো বিদ্বেষ নেই, থাকার কথাও না, পুরোটাই সত্যসন্ধান। বরং সেখানে আমার কিছু বন্ধুবান্ধব আছেন, সম্প্রতি নতুন কিছু সুহৃদের খোঁজও সেখান থিকা পাইছি।
ই-বাংলাদেশে গতকাল সচলায়তনের কথিত ব্যান/ব্লক হওয়া নিয়ে একটি টেকি বিশ্লেষণ প্রকাশিত হৈছিল। আজকে তার এডিটর সুশান্তের মন্তব্য থিকা জানতে পারতেছি, "সাইটে কাল সকাল থেকে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার স্পাম কমেন্ট এসেছে, বলা যেতে পারে লাখ। সেগুলা WP কন্টোল প্যানেলকে অকেজো করে ফেলেছে। এখন নতুন করে WP ইন্সটল করা ছাড়া উপায় নাই। তাই http://sushantad.blogspot.com/ এখানে ফরোয়ার্ড করে দিছি আপাতত। দেখি ৩- ৪ দিনে ওকে করা যায় কিনা!"
বি.দ্র.: জামাল ভাস্করের পোস্ট ও মন্তব্য পৈড়া আমার ধারণা হৈছে, তিনি পুরো ব্যাপারটায় সন্দিহান। সচল ব্যানের বিরুদ্ধে তিনি কথা বলতেছেন না, তিনি কথা কওনের অধিকার রক্ষার জন্য প্রতিবাদ করার কথা বলতেছেন, এমনকি সেইটা মগ্ন মহাশয়ের নিজের মুখে স্কচটেপ লাগানো হৈলেও।
প্রথম প্রকাশ | দ্বিতীয় প্রকাশ
দুয়েক্টা জিনিস শুরু থিকাই আমার মনে হয় সবার কাছে স্পষ্ট যে, সচলায়তনের কথিত ব্লক/ব্যানের ব্যাপারে আমার কথাবার্তা পুরোপুরিই সত্যসন্ধানের চেষ্টা। এর মধ্যে 'একান্ত ব্যক্তিগত লাগাবাজি' বা অন্যকিছু নাই।
ব্লগিংয়ের জন্য সামহোয়্যারের এখনো কোনো বিকল্প সত্যিই নেই। সেই সামহোয়্যারে আমি বহাল তবিয়তে আছি। আমারব্লগ শুরু হওয়ার পর এইখানেও আছি। বলা যায়, নেপথ্য থিকা সাধ্যমতো সহযোগিতাও কর্তেছি। আমার মতো ব্লগার, যারা খোঁচাখুচিরেই ব্লগিং মনে করেন, এর থিকা বেশি তাদের আর কিছু দর্কার আছে বৈলা মনে হয় না।
সচলায়তনের খোঁজ পাওয়ার পর দুয়েকবার গিয়াই বুঝছি, তাদের প্রয়োজন আমার পড়বে না। অথবা আমারও প্রয়োজন পড়বে না তাদের। কর্মক্ষেত্রেই আমার সুযোগ আছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে চিন্তাশীল রচনাগুলো প্রকাশের আগেই পড়ে ফেলা। এমনকি কারণে-অকারণে এদের কাউকে কাউকে বাতিল কৈরা দেওনের সুযোগও আছে। রসায়ন শাস্ত্রের ব্যাপারে যদি আমার জানার কিছু থাকে, হুমায়ূন আহমেদের কাছ থিকা সময় ধার নেব। পদার্থবিদ্যা হৈলে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হককে ধরবো। কবিতা নিয়া জ্ঞান অর্জনের দর্কার হৈলে নির্মলেন্দু গুণের ডেরায় ঢুঁ মারবো। টেলিফোন ইনডেক্সটা সরায়া রাইখা এরপরও আমারে কেন সচলায়তনে যেতে হৈব? দ্রুতপঠনে আমার পরিচিত অনেক লেখকরেই আমি সচলায়তনে দেখি, কিন্তু তারা তো নির্বিষ সর্প। ড্রইংরুম আমার পছন্দ না। তাছাড়া সচলায়তনে যাওনের লিগা ব্রাত্য রাইসু কথিত যেই 'অধিক রুচিবোধের' প্রয়োজন পড়ে কিংবা যেই অধিক কাব্যপনার দরকার হয়, সেইটাও তো দুর্ভাগ্যবশত আমার নাই। এরপরও সচলায়তনের এক্সেসের জন্য দৌঁড়াতে হবে ঠিক কী কারণে, এক্টু বলেন তো, শুনি?
আগেও বলেছি, এখনো বলছি- ব্যক্তিগত অনুসন্ধান, ব্লগারদের টেকি বিশ্লেষণ অনুসরণ কৈরা আমি নিশ্চিত যে, সচলায়তন ব্যান কিংবা ব্লক হয় নাই। গলির মোড়ে যে অল্প পুঁজির মুদিদোকান, তারও কিন্তু সাধ হয় বিপণি বিতানে ওঠার! তারপরও বলি, সচলায়তনের প্রতি আমার কোনো বিদ্বেষ নেই, থাকার কথাও না, পুরোটাই সত্যসন্ধান। বরং সেখানে আমার কিছু বন্ধুবান্ধব আছেন, সম্প্রতি নতুন কিছু সুহৃদের খোঁজও সেখান থিকা পাইছি।
ই-বাংলাদেশে গতকাল সচলায়তনের কথিত ব্যান/ব্লক হওয়া নিয়ে একটি টেকি বিশ্লেষণ প্রকাশিত হৈছিল। আজকে তার এডিটর সুশান্তের মন্তব্য থিকা জানতে পারতেছি, "সাইটে কাল সকাল থেকে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার স্পাম কমেন্ট এসেছে, বলা যেতে পারে লাখ। সেগুলা WP কন্টোল প্যানেলকে অকেজো করে ফেলেছে। এখন নতুন করে WP ইন্সটল করা ছাড়া উপায় নাই। তাই http://sushantad.blogspot.com/ এখানে ফরোয়ার্ড করে দিছি আপাতত। দেখি ৩- ৪ দিনে ওকে করা যায় কিনা!"
বি.দ্র.: জামাল ভাস্করের পোস্ট ও মন্তব্য পৈড়া আমার ধারণা হৈছে, তিনি পুরো ব্যাপারটায় সন্দিহান। সচল ব্যানের বিরুদ্ধে তিনি কথা বলতেছেন না, তিনি কথা কওনের অধিকার রক্ষার জন্য প্রতিবাদ করার কথা বলতেছেন, এমনকি সেইটা মগ্ন মহাশয়ের নিজের মুখে স্কচটেপ লাগানো হৈলেও।
প্রথম প্রকাশ | দ্বিতীয় প্রকাশ
একদিন গেল, দুদিন গেল, তারপর সপ্তাহ ফুরোতে চলল। কোথাও কোনো অগ্রগতির সংবাদ নেই। নাগরিক হিসেবে অন্য অনেকের মতো আমারও উদ্বেগ বাড়তে থাকে। সচলায়তন নামের একটি ব্লগসাইট বাংলাদেশ থেকে দেখা যাচ্ছে না। অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে সাইটটির কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, তাদের কোনো টেকনিক্যাল ত্রুটি নেই। বল গিয়ে পড়ল অন্যপক্ষের কোর্টে। সেই অন্যপক্ষ বিটিসিএল, আরো খোলামেলাভাবে বললে বাংলাদেশ সরকার। একটা সাইট এক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না- এটা সন্দেহজনক। যখন কিনা সচলায়তন কর্তৃপক্ষই বারবার নিশ্চিত করছে যে, তাদের দিক থেকে কোনো ত্রুটি নেই। বাংলাদেশের প্রধান দৈনিকে সেই খবর ছাপা হয়েছে গত ১৭ জুলাই। এরপর সপ্তাহ পার হতে চললেও এ খবর কি সরকারের কোনো মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি? নিশ্চয়ই করেছে। তাহলে তারা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে না কেন? এ নিয়ে সচেতন নাগরিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নানাভাবে। নাগরিকের উদ্বেগ প্রশমন করা নিশ্চয়ই সরকারের দায়িত্ব।
বাংলাদেশে আমরা এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে একেবারেই অপরিচিত। সচলায়তনে প্রকাশিত কোনো লেখার সমালোচনা হতে পারে খোলাখুলি, তাদের মতের সঙ্গে দ্বিমতও থাকতে পারে, কিন্তু তাই বলে সচলায়তনকে নিষিদ্ধ করে দিতে হবে- এটা কল্পনাও করা যাচ্ছে না কিছুতেই। কারণ এ ঘটনা যদি সত্যি হয়, তবে তা হবে সরাসরি মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিবেচনাহীন কুঠারাঘাত। এর একটা প্রতীকী অর্থ দাঁড়িয়ে যায়। আজ সচলায়তন, কাল আমারব্লগ, পরশু সামহোয়্যারইন ব্লগ- এভাবে একে একে আমাদের চিন্তা প্রকাশের জায়গাগুলো কেড়ে নেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
সচলায়তনকে সত্যিই যদি নিষিদ্ধ করা হয়, তাদের জন্য শুধু নয়, আমরা নিশ্চয়ই লড়বো আমাদের সহ-ব্লগারদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্য, স্বাধীন চিন্তাপ্রকাশের অধিকার আদায়ের জন্য। মুক্তচিন্তার দ্বার বন্ধ করার যে কোনো উদ্যোগকে রুখতে যা কিছু সম্ভব আমরা করবো।
এ সবকিছুর আগে এ ব্যাপারে সরকারের ব্যাখ্যা চাই অনতিবিলম্বে- নাগরিক হিসেবে এ দাবি করার অধিকার আমার আছে। মনে রাখতে হবে, ইরানের উদাহরণ বাংলাদেশের মতো একটি রাষ্ট্রের জন্য কখনোই ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না। আর সরকারের অভ্যন্তরে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তি সক্রিয় থেকে নেপথ্য থেকে কলকাঠি নাড়ছে কিনা, নতুন করে এ দিকটা ভাবার সময়ও বোধহয় এসেছে।
প্রথম প্রকাশ | দ্বিতীয় প্রকাশ
বাংলাদেশে আমরা এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে একেবারেই অপরিচিত। সচলায়তনে প্রকাশিত কোনো লেখার সমালোচনা হতে পারে খোলাখুলি, তাদের মতের সঙ্গে দ্বিমতও থাকতে পারে, কিন্তু তাই বলে সচলায়তনকে নিষিদ্ধ করে দিতে হবে- এটা কল্পনাও করা যাচ্ছে না কিছুতেই। কারণ এ ঘটনা যদি সত্যি হয়, তবে তা হবে সরাসরি মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিবেচনাহীন কুঠারাঘাত। এর একটা প্রতীকী অর্থ দাঁড়িয়ে যায়। আজ সচলায়তন, কাল আমারব্লগ, পরশু সামহোয়্যারইন ব্লগ- এভাবে একে একে আমাদের চিন্তা প্রকাশের জায়গাগুলো কেড়ে নেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
সচলায়তনকে সত্যিই যদি নিষিদ্ধ করা হয়, তাদের জন্য শুধু নয়, আমরা নিশ্চয়ই লড়বো আমাদের সহ-ব্লগারদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্য, স্বাধীন চিন্তাপ্রকাশের অধিকার আদায়ের জন্য। মুক্তচিন্তার দ্বার বন্ধ করার যে কোনো উদ্যোগকে রুখতে যা কিছু সম্ভব আমরা করবো।
এ সবকিছুর আগে এ ব্যাপারে সরকারের ব্যাখ্যা চাই অনতিবিলম্বে- নাগরিক হিসেবে এ দাবি করার অধিকার আমার আছে। মনে রাখতে হবে, ইরানের উদাহরণ বাংলাদেশের মতো একটি রাষ্ট্রের জন্য কখনোই ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না। আর সরকারের অভ্যন্তরে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তি সক্রিয় থেকে নেপথ্য থেকে কলকাঠি নাড়ছে কিনা, নতুন করে এ দিকটা ভাবার সময়ও বোধহয় এসেছে।
প্রথম প্রকাশ | দ্বিতীয় প্রকাশ

