ছবিতে ইউনিফর্ম পরা যে মুখটি দেখছেন, আজ তার বেতন পাওয়ার কথা ছিল। ছুটি থেকে তড়িঘড়ি ফিরে তিনি জেনেছেন, তার কিছু সহকর্মীর হাতে ঘটেছে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যার ঘটনা। সীমান্তের এই পরীক্ষিত প্রহরী, যিনি তার দীর্ঘজীবন দেশের সীমান্ত পাহারা দিয়ে কাটিয়েছেন, তিনি আজ সারাদিনই উদ্বিগ্নমুখে অপেক্ষা করেছেন- কখন ডাক আসবে। অল্প বেতন নিয়ে এই লোকটি তার জীবনের প্রায় পুরো সময়টায় দেশের জন্য ব্যয় করেছেন। এবং এই লোকটি খুনি নন! পিলখানায় ইতিহাসের নির্মম হত্যাকাণ্ড, শতাধিক সেনাকর্মকর্তার নির্মম নিষ্ঠুর মৃত্যুর ঘটনা দেখেও তাই এই লোকটির জন্য কেন যেন মনটা খারাপ হয়ে গেল। আমি লোকটির চেহারা পড়ে বুঝতে পারি, তার পুরো পরিবার আজ তার বেতনের অপেক্ষায় ছিল।
টেলিভিশনে বা সরাসরি অনেকেই দেখে থাকবেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট করার সরকারি নির্দেশের পর গতকাল থেকেই বহু বিডিআর সদস্য পিলখানার সদর দপ্তরের সামনে ভিড় করছেন। ওদিকে বিডিআর বিদ্রোহের আগে ছুটিতে যাওয়া বিডিআর জওয়ানরা ছুটি শেষে কিভাবে আবার চাকরিতে যোগ দেবেন তাও বুঝতে পারছেন না। বিডিআর সদর দফতরের প্রধান গেইটে তাদের দেখা যাচ্ছে উদ্বিগ্ন মুখে অপেক্ষা করছেন। এছাড়া রিপোর্ট করার জন্য সদরদপ্তরের প্রধান ফটকের সামনে এবং ধানমণ্ডির আবাহনী মাঠে অপেক্ষায় করছেন কয়েক হাজার বিডিআর সদস্য। পিলখানার হাসপাতাল ভবনে পাঁচ শতাধিক বিডিআর সদস্য আটক অবস্থায় আছেন। সেখানে কিছু নারী ও শিশুও রয়েছেন। এদের অনেকেই পিলখানায় গত বুধবার সকালে পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে পালিয়েছিলেন। কেউ কেউ আবার হত্যাকাণ্ড শুরু হওয়ার পর পালিয়ে যান। অনেকে ছুটিতে ছিলেন। ওরা দোষী নয়। ডিজিএফআই প্রধানও সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বিদ্রোহের সঙ্গে বিডিআরদের সবাই ছিল না। তিনি বলেছেন, "সংখ্যাটি খুব সম্ভবত অল্পই হবে।" কিন্তু যেহেতু পুরো জাতির মনেই বিডিআর সদস্যদের প্রতি একটি অবিশ্বাসের জন্ম হয়েছে, ফলে নির্দোষ যারা, তাদেরও অনিবার্যভাবেই ভুগতে হচ্ছে।
সীমান্ত আছে স্পর্শকাতর অবস্থায়। আমি শুধু ভয় পাচ্ছি, নির্দোষ বিডিআরদের মধ্যে আস্থার অভাব সৃষ্টি না হয়। এবং সেই অনাস্থা নিয়ে যেন তাদের সীমান্তে দায়িত্ব পালন করতে না হয়। মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র সীমান্ত রক্ষার জন্যই বিডিআর সদস্যদের বিশেষভাবে তৈরি করা হয়ে থাকে। এই কাজ পুলিশকে দিয়ে হবে না। তবে বিডিআরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মইনুল হোসেন অবশ্য জানিয়েছেন, বিদ্রোহের পর জওয়ানদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে।
বিদ্রোহী বিডিআরদের মধ্যে যারা দোষী, যারা মূল হোতা, ব্যক্তিগতভাবে আমি এমনকি তাদের বিচারের পক্ষেও নই। ইতিমধ্যে সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো, এমনকি সরকারেরও নিশ্চয়ই ধারণা হয়ে গেছে, হাজার হাজার বিডিআর সদস্যের মধ্যে কারা কারা মূল হোতা, কারা কারা দোষী। এদের সরাসরি ফায়ারিং রেঞ্জেই নেওয়া উচিত। সেনাকর্মকর্তাদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কিছুতেই পূরণ হবে না। এ ক্ষতি অবর্ণনীয়। তবে এই ক্ষতি, এই ব্যথা মনে রেখেও নির্দোষ বিডিআর সদস্যদের জন্য একটু মানবিকতা রাখতেই চাই। আসলে রাখা-না রাখা ঠিক নয়, আজ পিলখানার গেট থেকে ঘুরে এসে, আবাহনী মাঠের ওপর চোখ রেখে সেটা কেমন করে যেন সঙ্গোপনে জমা হয়ে গেল!
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bdr mutiny, bangladesh rifles revolt, bangladesh rifles, bdr mutiny day ;
প্রথম প্রকাশ
টেলিভিশনে বা সরাসরি অনেকেই দেখে থাকবেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট করার সরকারি নির্দেশের পর গতকাল থেকেই বহু বিডিআর সদস্য পিলখানার সদর দপ্তরের সামনে ভিড় করছেন। ওদিকে বিডিআর বিদ্রোহের আগে ছুটিতে যাওয়া বিডিআর জওয়ানরা ছুটি শেষে কিভাবে আবার চাকরিতে যোগ দেবেন তাও বুঝতে পারছেন না। বিডিআর সদর দফতরের প্রধান গেইটে তাদের দেখা যাচ্ছে উদ্বিগ্ন মুখে অপেক্ষা করছেন। এছাড়া রিপোর্ট করার জন্য সদরদপ্তরের প্রধান ফটকের সামনে এবং ধানমণ্ডির আবাহনী মাঠে অপেক্ষায় করছেন কয়েক হাজার বিডিআর সদস্য। পিলখানার হাসপাতাল ভবনে পাঁচ শতাধিক বিডিআর সদস্য আটক অবস্থায় আছেন। সেখানে কিছু নারী ও শিশুও রয়েছেন। এদের অনেকেই পিলখানায় গত বুধবার সকালে পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে পালিয়েছিলেন। কেউ কেউ আবার হত্যাকাণ্ড শুরু হওয়ার পর পালিয়ে যান। অনেকে ছুটিতে ছিলেন। ওরা দোষী নয়। ডিজিএফআই প্রধানও সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বিদ্রোহের সঙ্গে বিডিআরদের সবাই ছিল না। তিনি বলেছেন, "সংখ্যাটি খুব সম্ভবত অল্পই হবে।" কিন্তু যেহেতু পুরো জাতির মনেই বিডিআর সদস্যদের প্রতি একটি অবিশ্বাসের জন্ম হয়েছে, ফলে নির্দোষ যারা, তাদেরও অনিবার্যভাবেই ভুগতে হচ্ছে।
সীমান্ত আছে স্পর্শকাতর অবস্থায়। আমি শুধু ভয় পাচ্ছি, নির্দোষ বিডিআরদের মধ্যে আস্থার অভাব সৃষ্টি না হয়। এবং সেই অনাস্থা নিয়ে যেন তাদের সীমান্তে দায়িত্ব পালন করতে না হয়। মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র সীমান্ত রক্ষার জন্যই বিডিআর সদস্যদের বিশেষভাবে তৈরি করা হয়ে থাকে। এই কাজ পুলিশকে দিয়ে হবে না। তবে বিডিআরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মইনুল হোসেন অবশ্য জানিয়েছেন, বিদ্রোহের পর জওয়ানদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। বিদ্রোহী বিডিআরদের মধ্যে যারা দোষী, যারা মূল হোতা, ব্যক্তিগতভাবে আমি এমনকি তাদের বিচারের পক্ষেও নই। ইতিমধ্যে সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো, এমনকি সরকারেরও নিশ্চয়ই ধারণা হয়ে গেছে, হাজার হাজার বিডিআর সদস্যের মধ্যে কারা কারা মূল হোতা, কারা কারা দোষী। এদের সরাসরি ফায়ারিং রেঞ্জেই নেওয়া উচিত। সেনাকর্মকর্তাদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কিছুতেই পূরণ হবে না। এ ক্ষতি অবর্ণনীয়। তবে এই ক্ষতি, এই ব্যথা মনে রেখেও নির্দোষ বিডিআর সদস্যদের জন্য একটু মানবিকতা রাখতেই চাই। আসলে রাখা-না রাখা ঠিক নয়, আজ পিলখানার গেট থেকে ঘুরে এসে, আবাহনী মাঠের ওপর চোখ রেখে সেটা কেমন করে যেন সঙ্গোপনে জমা হয়ে গেল!
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bdr mutiny, bangladesh rifles revolt, bangladesh rifles, bdr mutiny day ;
প্রথম প্রকাশ

অনেক ঘটনাই ঘটে গেল আজকে পিলখানায়। এখনো দেখার বাকি আরো অনেক কিছু। রাইফেলসের মতো একটি আধা সামরিক বাহিনীতে যে মাপের শৃঙ্খলা আশা করা হয়ে থাকে, এই ঘটনায় দেখা গেল, যে কারণেই হোক না কেন, সেই শৃঙ্খলা আদতে নেই কিংবা শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে দেখে অনেকেই বেশ আনন্দিত হয়েছেন দেখছি। কিন্তু বুঝতে হবে, শেষ বিচারে বাংলাদেশ রাইফেলস "সুজন" নয়, ইউএনডিপির কোনো প্রকল্পও নয়, আবার মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিও নয়। এ ধরনের বাহিনীতে শৃঙ্খলা এবং শৃঙ্খলাই শেষ কথা, এবং তা যে কোনো পরিস্থিতিতে। রাইফেলসে বেতন-ভাতার বৈষম্য ছিল, আরো নানা কারণে অসন্তোষ ছিল। তাদের দাবিও ন্যায়সঙ্গতই। কিন্তু নির্মম সত্যি এটাই যে, আজ যা ঘটল এবং আগামীতে যা যা ঘটবে- তাতে আমার দেশের সীমান্তের খুঁটিগুলোই আসলে দুর্বল হয়ে পড়ল। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এই ঘটনা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হচ্ছে। এতে যতো যাই হোক, একটি আধা-সামরিক বাহিনীর এই বিদ্রোহ বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে নিশ্চিতভাবেই চেনাবে অন্যরূপে। সেই রূপ ইতিবাচক নয়। এটা যে কোনো বিচারেই পুরো বাংলাদেশের জন্যই একটি অপমানজনক ঘটনা।
যতো যাই হোক, শৃঙ্খলাই শেষ কথা
রাইফেলসের যে সদস্য আজ মুখোশ পরে টিভি ক্যামেরার সামনে নিজেদের দাবিদাওয়া তুললেন- তার দাবির সঙ্গে একমত- কিন্তু আধা-সামরিক বাহিনীতে থাকার যোগ্যতা তার নেই। সৈনিক মাত্রেই যে কোনো পরিস্থিতিতে তার উর্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশ মানতে বাধ্য। এর অন্যথা হলে বুঝতে হবে, সেখানে ঘাটতি আছে, বড়ো গলদ আছে। কঠোরতম শৃঙ্খলা না থাকলে বাংলাদেশ রাইফেলস কেন, কোনো বাহিনীই টিকে থাকতে পারবে না। সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন হল- এই ধরনের একটি বিশৃঙ্খল বাহিনী কী করে আমার দেশের সীমান্ত রক্ষার কাজ করবে?
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য করুণা
এতো বড়ো একটি ঘটনা ঘটল, কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এর কোনোই পূর্বাভাস পাবে না- তা কী করে হয়? গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এই ব্যর্থতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার ব্যাপারে পূর্বাভাস দিতে ব্যর্থ হওয়ায়, বিশেষ করে ডিজিএফআই মহাপরিচালকের পদত্যাগ করা উচিত এখনই। এটা একটি অমার্জনীয় ব্যর্থতা তাদের। এই ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য শ্রেফ করুণাই হচ্ছে।
কে প্রতিপক্ষ, কেন প্রতিপক্ষ
সেনাবাহিনীকে আবার প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে। প্রেষণে বিডিআরে যাওয়া কোনো কোনো সেনা কর্মকর্তার
অন্যায়-দুর্নীতি-অনিয়ম নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু তার জন্য পুরো সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে, তাকে হেয় করে অনেকেই একধরনের সুখ অনুভব করছেন। অথচ এই মানুষগুলোই মিয়ানমার এসে বঙ্গোপসাগরে গ্যাসের জন্য হানা দিলে উদ্বিগ্ন হয়, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমানার ভেতরে ঢুকে ভারত জরিপকাজ চালালে এই মানুষগুলোর উৎকণ্ঠা ঝরে পড়ে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা বাদই দিন, ওই যে ভেনেজুয়েলা- একজনমাত্র অপহৃত সৈনিকের জন্য সেখানেও পুরো দেশ প্রার্থনায় বসে। হানাহানি হবেই, ভাই ভাইয়ের বিরুদ্ধে লড়বেই, দ্বন্দ্ব-সংঘাত থাকবেই- কিন্তু সবার আগে দেশ। সবার আগে দেশের স্বার্থ। তবে বলা হয়ে থাকে, নরকে মাত্র একটি প্রকোষ্ঠেই কোনো প্রহরা থাকে না। কারণ সেই প্রকোষ্ঠে বাঙালিদের রাখা হয়। কেউ নরকের দেয়াল টপকে পালাতে চাইলে অন্যরা তাকে টেনে নিচে নামিয়ে আনেন। বোধকরি এজন্যই এশিয়ায় পাকিস্তান-ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সবচেয়ে কম পরিশ্রম করতে হয় একমাত্র বাংলাদেশেই, না চাইতেই যে তাদের কাজগুলো অন্যরা করে দেন। এই না হলে বাঙালি!
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bdr mutiny, bangladesh rifles revolt, bangladesh rifles, bdr mutiny day ;
পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। আমাদের সৈনিকরা লড়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ রাইফেলসের একমাত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে বেশ বড়ো আকারের বিদ্রোহের খবর পাওয়া গেছে। টেকনাফেও বিদ্রোহ হয়েছে। রাজশাহীর অবস্থা এখন অনেকেরই জানা। খাগড়াছড়িতে প্রচুর বিডিআর সদস্য আছেন। সেখানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের যুদ্ধ চলছে বলে আমরা খবর পেয়েছি সকালে। তবে সবকিছু নিশ্চিত হতে সময় লাগবে আরো।
এই সময়ে শান্তির আশা করে লাভ হবে বলে মনে হয় না। বিডিআরের এই বিদ্রোহ সরকার এবং পুরো সেনাবাহিনীর প্রতি এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিডিআরের এই বিদ্রোহ আমাদের মর্যাদার ওপর আঘাত। তাই এই চ্যালেঞ্জে জেতা ছাড়া তাদের সামনে আর দ্বিতীয় পথ আর খোলা নেই। ইতিমধ্যে বেদনাবিধূর ঘটনা ঘটে গেছে। পরিস্থিতি যেখানে গুরুতর, সেখানে সেনাসদস্যরা লড়ে যাচ্ছেন। তাদের জন্য শুভকামনা।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bdr mutiny, bangladesh rifles revolt, bangladesh rifles, bdr mutiny day ;
প্রথম প্রকাশ
বাংলাদেশ রাইফেলসের একমাত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে বেশ বড়ো আকারের বিদ্রোহের খবর পাওয়া গেছে। টেকনাফেও বিদ্রোহ হয়েছে। রাজশাহীর অবস্থা এখন অনেকেরই জানা। খাগড়াছড়িতে প্রচুর বিডিআর সদস্য আছেন। সেখানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের যুদ্ধ চলছে বলে আমরা খবর পেয়েছি সকালে। তবে সবকিছু নিশ্চিত হতে সময় লাগবে আরো।
এই সময়ে শান্তির আশা করে লাভ হবে বলে মনে হয় না। বিডিআরের এই বিদ্রোহ সরকার এবং পুরো সেনাবাহিনীর প্রতি এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিডিআরের এই বিদ্রোহ আমাদের মর্যাদার ওপর আঘাত। তাই এই চ্যালেঞ্জে জেতা ছাড়া তাদের সামনে আর দ্বিতীয় পথ আর খোলা নেই। ইতিমধ্যে বেদনাবিধূর ঘটনা ঘটে গেছে। পরিস্থিতি যেখানে গুরুতর, সেখানে সেনাসদস্যরা লড়ে যাচ্ছেন। তাদের জন্য শুভকামনা।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bdr mutiny, bangladesh rifles revolt, bangladesh rifles, bdr mutiny day ;
প্রথম প্রকাশ
মিরাকল কিছু না ঘটলে অথবা আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা যদি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করে, তাহলে খুব শীঘ্রই আমরা একটি যুদ্ধ দেখতে যাচ্ছি। আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকেই এ যুদ্ধ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে কৌশলগত কিছু কারণে সময়টা পিছিয়েছে। তবে যুদ্ধ প্রায় অনিবার্য। এবং এ যুদ্ধে এমনকি যুদ্ধবিমানের ব্যবহার হতে পারে- সেই প্রস্তুতিও আছে।
বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা কিছু অস্ত্র ইতিমধ্যে তারা সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে জমা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর বলা হচ্ছে, বিদ্রোহীরা তাদের সব অস্ত্রই জমা দিয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, সেই সকালে পুরো অস্ত্রাগারই লুট হয়েছিল। এ থেকে এটা নিশ্চিত যে, এখনো বিদ্রোহীদের কাছে প্রচুর অস্ত্র রয়ে গেছে। এটি একটি বড়ো বিপদ। তবে সবচেয়ে বড়ো বিপদটি হল, পুরো রাইফেলসের চেইন অফ কমাণ্ড সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। সারা দেশেই একই অবস্থা। বিদ্রোহীদের চাপে ইতিমধ্যে ক্লার্ক পর্যায় থেকে ওঠে আসা একজন ডিএডি তৌহিদকে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক নিযুক্ত করার ঘটনায় তা কিছুটা আঁচ করা যায়।
এছাড়া দরবার হলে সকালের সেই ঘটনার পর এ পর্যন্ত ঠিক কতোজন সেনা কর্মকর্তা পিলখানার ভেতরে নিহত হয়েছেন, তা এখনই নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। বিদ্রোহের এই সময়টাতে আরো কী কী অনাচার সদর দপ্তরের ভেতরে ঘটেছে, তা জানতেও সময় লাগবে।
ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী চেয়েছিল, সময়ক্ষেপণ করে বিদ্রোহীদের মনোবল ক্রমশ দুর্বল করে ফেলা। এ কৌশল যে সফল হয়েছে, তা বোঝা গেছে, মাত্র কিছুক্ষণ আগে পিলখানার সদর দপ্তর থেকে কিছু বিডিআর সদস্যের পলায়নের ঘটনায়। যদিও তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছেন, যুদ্ধ প্রকাশ্যে হতে পারে। আবার লোকচক্ষুর অন্তরালেও হতে পারে। তবে তারা বলছেন, যুদ্ধ অনিবার্য। মিরাকল কিছু না ঘটলে এ থেকে পিছিয়ে আসার কোনো পথ নেই। তাই সম্ভবত খুব শীঘ্রই আমরা একটি যুদ্ধ দেখতে যাচ্ছি।
বি.দ্র. : কৌতূহল দমন করে পিলখানার আশপাশ থেকে লোকজনের সরে আসা উচিত এখনই। ব্লগারদের কেউ থাকলে বা তাদের পরিবার-পরিজন থাকলে তাদের দ্রুত সরে আসতে বলি।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bdr mutiny, bangladesh rifles revolt, bangladesh rifles, bdr mutiny day ;
প্রথম প্রকাশ
বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা কিছু অস্ত্র ইতিমধ্যে তারা সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে জমা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর বলা হচ্ছে, বিদ্রোহীরা তাদের সব অস্ত্রই জমা দিয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, সেই সকালে পুরো অস্ত্রাগারই লুট হয়েছিল। এ থেকে এটা নিশ্চিত যে, এখনো বিদ্রোহীদের কাছে প্রচুর অস্ত্র রয়ে গেছে। এটি একটি বড়ো বিপদ। তবে সবচেয়ে বড়ো বিপদটি হল, পুরো রাইফেলসের চেইন অফ কমাণ্ড সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। সারা দেশেই একই অবস্থা। বিদ্রোহীদের চাপে ইতিমধ্যে ক্লার্ক পর্যায় থেকে ওঠে আসা একজন ডিএডি তৌহিদকে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক নিযুক্ত করার ঘটনায় তা কিছুটা আঁচ করা যায়।
এছাড়া দরবার হলে সকালের সেই ঘটনার পর এ পর্যন্ত ঠিক কতোজন সেনা কর্মকর্তা পিলখানার ভেতরে নিহত হয়েছেন, তা এখনই নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। বিদ্রোহের এই সময়টাতে আরো কী কী অনাচার সদর দপ্তরের ভেতরে ঘটেছে, তা জানতেও সময় লাগবে।
ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী চেয়েছিল, সময়ক্ষেপণ করে বিদ্রোহীদের মনোবল ক্রমশ দুর্বল করে ফেলা। এ কৌশল যে সফল হয়েছে, তা বোঝা গেছে, মাত্র কিছুক্ষণ আগে পিলখানার সদর দপ্তর থেকে কিছু বিডিআর সদস্যের পলায়নের ঘটনায়। যদিও তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছেন, যুদ্ধ প্রকাশ্যে হতে পারে। আবার লোকচক্ষুর অন্তরালেও হতে পারে। তবে তারা বলছেন, যুদ্ধ অনিবার্য। মিরাকল কিছু না ঘটলে এ থেকে পিছিয়ে আসার কোনো পথ নেই। তাই সম্ভবত খুব শীঘ্রই আমরা একটি যুদ্ধ দেখতে যাচ্ছি।
বি.দ্র. : কৌতূহল দমন করে পিলখানার আশপাশ থেকে লোকজনের সরে আসা উচিত এখনই। ব্লগারদের কেউ থাকলে বা তাদের পরিবার-পরিজন থাকলে তাদের দ্রুত সরে আসতে বলি।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bdr mutiny, bangladesh rifles revolt, bangladesh rifles, bdr mutiny day ;
প্রথম প্রকাশ

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সন্দেহের তীর এখন ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স- বিএসএফের দিকে। তবে এর আগে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জামাতের সংশ্লিষ্টতা ছিল। বিডিআরের সাধারণ সদস্যদের মধ্যে জামাত, হিজবুত তাহরীরসহ মৌলবাদী সংগঠনগুলোর অনুগত অনেকেই ছিলেন। সেদিক থেকে এ সন্দেহও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে গোয়েন্দাদের দৃষ্টি এখন বিএসএফের দিকেই।
প্রধানমন্ত্রী নিজেও কিছুক্ষণ আগে টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ঘটনাটিতে তৃতীয় শক্তির ইন্ধন ছিল। প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ঘটনার আগে বিডিআর সদর দপ্তরে লাখ লাখ টাকা বিডিআর সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা থেকে পিছিয়ে এসেছেন। তিনি বলেছেন, যারা পিলখানায় গণহত্যা ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিল- তারা সাধারণ ক্ষমার আওতায় পড়বে না।
সেনাসূত্রগুলো বলছেন, বিএসএফের লক্ষ্য ছিল বিডিআরকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। পিলখানার ঘটনার পরপরই সীমান্তে রেডএলার্ট জারি করে বিএসএফ। লিফলেট বিলিসহ নানা আলামতে ইতিমধ্যে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, পুরো ঘটনাই পূর্বপরিকল্পিত। মূলত বিডিআরের "থিংকট্যাংক" বা পুরো মাথাকেই ইতিমধ্যে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে সেনাকর্মকর্তাদের গণহত্যার মধ্য দিয়ে।
গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, পুরো এই ঘটনায় সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল পিলখানার ওপর। এই সুযোগে ভারত কিংবা মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে বড়ো ধরনের অস্ত্রের চালান দেশের ভেতরে ঢুকেছে বলে তারা সন্দেহ করছেন।
তবে এর মধ্যেই এই সরকারের সঙ্গে ভারতের একটি ভালো সম্পর্ক থাকায়- তাও একটি মহলে অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। সামনে সম্ভবত কিছু চমক অপেক্ষা করছে।
বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে লেখাটি তৈরি করা হয়েছে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bdr mutiny, bangladesh rifles revolt, bangladesh rifles, bdr mutiny day ;
প্রথম প্রকাশ

যেভাবেই হোক না কেন, যে কারণেই হোক না কেন- বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একটি দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। সেনাসদস্যদের সকলেই এই ঘটনায় চরম অপমানিত বোধ করছেন। এর মধ্যে অনেকে মনে করছেন, এক বা একাধিক মহল কৌশলে তৃতীয় শক্তির মাধ্যমে তাদের ওপর প্রতিশোধ নিয়েছেন। তারা মনে করছেন, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, রাজনীতিবিদদের গ্রেপ্তারসহ নানা কারণে এক বা একাধিক মহল সেনাবাহিনীর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। পিলখানায় সেনাকর্মকর্তাদের ওপর নির্বিচার এ গণহত্যায় ওই মহলগুলোর ইন্ধন থাকতে পারে। ইতিমধ্যে ভারতের বিএসএফের দিকে সন্দেহের তীর উঠেছে। এমনিতে তো সাধারণভাবে ধারণা করা হয়ই যে, ভারতের প্রতি আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিকভাবে সহানুভূতিশীল। সবমিলিয়ে অনেকে দুয়ে দুয়ে চার মেলাতে চাইছেন।
সরকারের ওপর ক্ষোভ চার কারণে
১. ঘটনার শুরুতেই সেনাবাহিনী তাদের কর্মকর্তাদের বাঁচাতে বারবার পিলখানার ভেতরে ঢুকতে চেয়েছে। সর্বাধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনাসদস্যরা এখন প্রতিপক্ষকে আঘাত না করেও জিম্মিদের বের করে আনতে পারে। ফলে অনেকে যে অজুহাত দেখাতে চাইছেন, সেনারা প্রবেশ করলে সবাইকে হত্যা করা হতো। তা ঠিক নয়। এমনকি রেবও যদি সময়মতো পিলখানার ভেতরে ঢোকার অনুমতি পেতো, তাহলেও বহু সেনাকর্মকর্তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো।
২. গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, বুধবার সকালে দরবার হলে বড়জোর ২০ থেকে ২৫ জন সেনাকর্মকর্তাকে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা হত্যা করে। আর বাকি সবাইকেই হত্যা করা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরই। ঠান্ডা মাথার এ খুনের পর তাই বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা সংসদে ইমডেমনিটি পাশ করার দাবি জানিয়েছিল। এমনকি তারা অস্ত্রসমর্পণেও রাজি ছিল না। পরে মূলত সেনাবাহিনীর বেপরোয়া যুদ্ধপ্রস্তুতি দেখে বিদ্রোহীরা পিছু হটে।
৩. টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর খবরেই অনেকে দেখে থাকবেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও সাংসদদের তত্ত্বাবধানে আত্মসমর্পণের আগে ও পরে প্রচুর কালো কাঁচের অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাস পিলখানার ভেতরে ঢুকেছে ও বেরিয়েছে। সেনাসূত্র নিশ্চিত করছেন, এ যানগুলোতেই বিদ্রোহের মূল হোতারা নির্বিঘ্নে সরকারের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরে অবশ্য নিশ্চিতও করেছেন যে, বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা তাদের হেফাজতে আছে।
৪. অনেকেই মনে করছেন, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে বিডিআর বিদ্রোহীদের বক্তব্য জনগণের কাছে এমনভাবে পৌঁছানো হয়েছে, যাতে সেনাবাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। প্রথম দুদিন সেটাই হয়েছে। বিদ্রোহীদের সঙ্গে জনতা উল্লাস প্রকাশ করছে- এমন দৃশ্যও আমাদের দেখতে হয়েছে।
সন্দেহের তীর তৃতীয় শক্তির দিকেই
পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনের টক শোতেও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বারবারই বিদেশী শক্তির প্রতি আঙ্গুল তুলছেন। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমাণ্ডার ও সাবেক সেনাকর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) মীর শওকত আলী আজ এক টকশোতে বলেছেন, বিডিআর বিদ্রোহ ও সেনাকর্মকর্তাদের গণহত্যার কাজটি বিডিআর সদস্যদের একার কাজ হতে পারে না। মূল মদদদাতারা কৌশলে সাধারণ বিডিআরদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। প্রয়োজনীয় উস্কানি দেওয়ার কাজটি তারাই করেছে। এর সমর্থনে তিনি সেনাবাহিনীতে তার অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। বিডিআরের মতো একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীতে বাইরের লোক ঢোকা কিভাবে সম্ভব- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা খুবই সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ইউনিফর্ম ও নকল পরিচয় বহন করে নবম ডিভিশনের ভেতরে এসে কেউ যদি নিজেকে অষ্টম ডিভিশনের লোক হিসেবে পরিচয় দেন, তাহলে তাকে শনাক্ত করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এভাবে সাধারণ সৈনিকদের সঙ্গে মিশে যাওয়া খুবই সম্ভব।
তিনি বলেন, ঢাকা বিমানবন্দরে ছিনতাইকৃত জাপানি বিমান অবতরণের পর সশস্ত্র বাহিনীর যে আটজন কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছিল, তাও এভাবেই হয়েছিল। বাহিনীর বাইরে থেকে লোক ঢুকে বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে চোখের পলকে সশস্ত্র বাহিনীর আট কর্মকর্তাকে হত্যা করেছিল।
কাঁদছে অরক্ষিত সীমান্ত
সীমান্তের বিওপিগুলো এখন আক্ষরিক অর্থেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এখন বিডিআরের সুবেদার মেজরদের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি বাহিনী চলছে ঢিমেতালে। অবস্থা বোধহয় এমন দাঁড়িয়েছে যে, কলকাতা কি ত্রিপুরায় ভালো থাকা-খাওয়ার সুবিধা পেলে বিওপিগুলো শূন্য হয়ে যাওয়াও এখন অস্বাভাবিক নয়। এদিকে বিএসএফ গত পরশুও সীমান্তে এক বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা করেছে। যে কোনো বিচারেই জাতীয় নিরাপত্তার শেষ খুঁটি- সেনাবাহিনী ও বিডিআর। এর মধ্যে বিডিআরকে প্রায় শক্তিহীন করে দেওয়া গেছে।
সীমান্তের এই প্রহরীদের শক্তিহীন করে কার লাভ কী? তালপট্টি-মালপট্টি টাইপের ইনকিলাবীয় গৎবাঁধা প্রচারণায় সায় দেই না। বিএনপি-জামাতি কথিত বুদ্ধিজীবীদের কল্পিত ভারতীয় আধিপত্যবাদেও মন দেই না কখনোই। আমরা শুধু জানি, আমাদের বিডিআরের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিডিআরের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া মানে সীমান্তকে অরক্ষিত করে দেওয়া। এখন আঘাতটা যখন গায়ের ওপর এসে পড়েছে, দেশের ওপরে এসে পড়েছে, তখন দেশের শত্রুদের চিহ্নিত করা আর জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মাথার ওপর কলকাতা নেই, ইসলামাবাদও নেই। এই দেশটাই আমাদের সবকিছু- সুখে-শান্তিতে-বিদ্রোহে-সংগ্রামে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): bdr mutiny, bangladesh rifles revolt, bangladesh rifles, bdr mutiny day ;
প্রথম প্রকাশ



