• Home
  • Contact
  • About
  • RSS
  • My Somewherein blog
  • Facebook
  • Twitter
  • Problem with Bengali Font?

  • মূলপাতা
  • স্বদেশ
    • সবিশেষ
    • মুক্তিযুদ্ধ
    • রাজনীতি
    • সমসাময়িক
    • প্রতিরক্ষা
    • ধর্ম
    • পার্বত্য চট্টগ্রাম
    • মানবাধিকার
  • মিডিয়া
    • গণমাধ্যম
    • ই-সংকলন
    • বইপত্র
    • ▬▬
    • বাংলা দৈনিক
      • আরো »
        • আমার দেশ
        • আমাদের সময়
        • বাংলাদেশ প্রতিদিন
        • সংবাদ
        • যায়যায়দিন
        • মানবজমিন
        • ভোরের কাগজ
        • আমাদের অর্থনীতি
        • ডেস্টিনি
      • প্রথম আলো
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • কালের কন্ঠ
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • যুগান্তর
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • সমকাল
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • ইত্তেফাক
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • জনকণ্ঠ
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • নয়া দিগন্ত
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • সকালের খবর
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
    • ইংরেজি দৈনিক
      • ডেইলি স্টার
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
        • সাপ্লিমেন্টস
      • সান
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • ইন্ডিপেন্ডেন্ট
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • নিউ এইজ
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • বাংলাদেশ টুডে
        • ওয়েব সংস্করণ
        • ই-পেপার
      • আওয়ার টাইম
    • সংবাদ সংস্থা
      • আরো »
        • ফোকাস বাংলা
        • বিডি স্পোর্টস নিউজ
        • ঢাকা নিউজ
        • আরটিএনএন
        • রেডটাইমস
        • বিএনএন
        • বাংলাদেশ নিউজ
      • বিডিনিউজ
      • বাংলা নিউজ
      • বাসস
      • ইউএনবি
      • শীর্ষনিউজ
      • দি এডিটর
    • রেডিও-টেলিভিশন
      • রেডিও »
        • রেডিও ফূর্তি
        • রেডিও টুডে
        • এবিসি রেডিও
        • রেডিও লিংক
      • আরো »
        • বৈশাখী
        • দিগন্ত টিভি
        • বাংলা ভিশন
        • ইসলামিক টিভি
        • আরটিভি
        • মোহনা
        • মাই টিভি
      • চ্যানেল আই
      • এটিএন বাংলা
      • এনটিভি
      • দেশ টিভি
      • একুশে টিভি
    • সাময়িকী
      • আরো »
        • আরো »
          • আরো »
            • খবর
            • ডয়চে ভেলে
            • রেডিও ইরান
            • রেডিও চায়না
            • ই-বাংলাদেশ
            • খেলার খবর
            • সাময়িকী
          • মনোজগত
          • প্রবাসে প্রতিদিন
          • নতুন দেশ
          • ইউকে বেঙ্গলি
          • লন্ডন বাংলা
          • এনওয়াই বাংলা
          • ইউরো বাংলা
          • দশদিক
        • প্রোব ম্যাগাজিন
        • চিন্তা
        • একপক্ষ
        • নতুনধারা
        • বাংলামাটি
        • কম্পিউটার জগৎ
        • কম্পিউটার বার্তা
        • কালিকলম
      • সাপ্তাহিক
      • সাপ্তাহিক ২০০০
      • বুধবার
      • বিচিন্তা
      • কাগজ
      • সচিত্র সময়
      • ডিজিটাল সময়
      • মিডিয়া ওয়াচ
    • অনলাইন
      • এক
      • দুই
      • তিন
    • অন্যান্য
  • ব্লগ
    • ব্লগ পর্যালোচনা
    • ব্লগ বিতর্ক
    • ব্লগ স্যাটায়ার
    • ব্লগপিডিয়া
    • ব্লগতালিকা
      • আরো »
        • নাগরিক ব্লগ
        • একুশে ব্লগ
        • সোনার বাংলা ব্লগ
        • মুক্ত ব্লগ
        • চতুর্মাত্রিক ব্লগ
        • আমার বর্ণমালা ব্লগ
        • ওপেস্ট ব্লগ
      • সামহোয়্যারইন ব্লগ
      • প্রথম আলো ব্লগ
      • সচলায়তন
      • আমার ব্লগ
      • বিডিনিউজ ব্লগ
      • টেকটিউনস
      • গ্লোবাল ভয়েসেস বাংলা
  • গদ্যকার্টুন
    • গদ্যকার্টুন
    • ক্যারিকেচার
    • ব্লগ স্যাটায়ার
    • টেক-হিউমার
    • রস+আলো সংগ্রহ
  • প্রযুক্তি
    • প্রযুক্তি
    • কম্পিউটার
    • ইন্টারনেট
    • মোবাইল
    • সফটওয়্যার
    • হ্যাকিং
  • বিনোদন
    • বিনোদন
    • বেড়ানো
    • খেলা
    • সিনেমা
    • ডকুমেন্টারি
  • বিবিধ
    • ওয়ার্কশপ
      • আশাজাগানিয়া
      • ছিন্ন চিন্তাবলী
      • মুজতবা হোসেন মুরশেদ
    • দূরের জানালা
    • স্মৃতিকথা
    • গার্হস্থ্য
    • দিনলিপি
  • হেল্পলাইন
    • কনভার্টার
      • ইউনিকোড লেখনী ও পরিবর্তক
      • বাংলা কম্পিউটিং কনভার্টার
    • অভিধান
      • ইংরেজি থেকে বাংলা
      • বাংলা থেকে ইংরেজি
    • অনুবাদ
      • ইংরেজি থেকে বাংলা
      • বাংলা থেকে ইংরেজি
    • অভ্র কি-বোর্ড
    • টুইটার স্ট্যাটাস বাংলায়
  • ডাউনলোড
    • ই-সংকলন
      • ফিরে দেখা একাত্তর
      • প্রিয় কবিতা
    • সফটওয়্যার
      • ট্রু-ক্রিপ্ট
      • সেভেন জিপ
    • গুগল কোড
  • ভিডিও
    • রাজনৈতিক
    • অন্যান্য
BANGLADESH
highlights লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আপডেট ১ : আমারব্লগ কি বাংলাদেশে ব্লকড?
আজ ২ এপ্রিল রাত ১২টার পর থেকে বাংলাদেশের বেশ কিছু ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক থেকে আমারব্লগ ডট কম দেখা যাচ্ছে না। যদিও প্রক্সি সাইটগুলো থেকে ব্লগটি ঠিকই দেখা যাচ্ছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সরকার ওই ব্লগটি ব্লক করে দিয়েছে, যে কারণে বাংলাদেশ থেকে ব্লগটি আর খোলা যাচ্ছে না। আমারব্লগের এডমিন সুশান্ত দাশগুপ্ত তার ফেসবুক টাইমলাইনে জানিয়েছেন, তারা এখনও বিটিআরসি কিংবা তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে কোনো অফিসিয়াল চিঠি পাননি। তিনি বলেন, "আদৌ বাংলাদেশ সরকার আমারব্লগ ব্লক করেছে কিনা অথবা করলেও ঠিক কী কারণে করা হয়েছে সেটিও আমাদের জানা নেই।"

===
স্মরণাতীতকালে এমন দুঃসময় আর এমন মহাদুর্যোগ আর আসেনি, বাংলা ব্লগমণ্ডল এখন যার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। ব্লগার—এই মুহূর্তের বাংলাদেশে সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র, সবচেয়ে দুর্ভাগাও। সরকারি হিসেবেই সংখ্যায় তারা প্রায় আড়াই লাখ। তবু এই মুহূর্তে তাদের মতো নিঃসঙ্গ কেউ নেই, তাদের পাশেও কেউ নেই। মোল্লারা তাদের ফাঁসি চেয়ে মিছিল করে, ধারালো ছোরায় জঙ্গিরা দেয় আরো শান। মৌলবাদিদের মুখপত্রগুলো আগেই প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ব্লগারদের বিরুদ্ধে। ব্লগের লেখা বিচার করার জন্য পুলিশ-আমলা নিয়ে ৯ সদস্যের কমিটি পর্যন্ত গঠন করা হয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উৎসাহে। সংসদীয় কমিটিগুলো প্রতিনিয়ত ক্ষোভ ঝাড়ছে ব্লগের বিরুদ্ধে। পত্রিকার পাতায় ব্লগারদের নিয়ে দু কলম লেখার সময় হয় না কোনো বুদ্ধিজীবীর। তুচ্ছ ঘটনায় কতো বিবৃতিজীবীর দেখা মেলে, কিন্তু ব্লগের বিরুদ্ধে ক্রমাগত অপপ্রচার সবাই দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন। মূলধারার কোনো গণমাধ্যম ব্লগবিরোধী নয় ঠিক, কিন্তু ব্লগারদের পাশে তারাও নেই। ক্রমাগত অপপ্রচারে সাধারণ মানুষের কাছে ব্লগার মানেই যেন নাস্তিকের আড্ডাখানা। ছোট এই যে বাংলা ব্লগমণ্ডল, সেখানেও দলাদলি আর নোংরামির ছড়াছড়ি। দুর্দিনে কে কাকে বাঁশ দিয়ে বিটিআরসি কিংবা সরকারের আস্থাভাজন হয়ে উঠবেন—সেই প্রতিযোগিতায় মেতে উঠতে দেখছি কাউকে কাউকে। এমনকি যে গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে উঠেছিল কেবলই ব্লগারদের হাত ধরে, সেই মঞ্চও এখন আর ব্লগারদের পাশে নেই। ব্লগাররা আজ প্রকৃত অর্থেই একা—নিঃসঙ্গ।

ব্লগমণ্ডলের ইতিহাসে অভূতপূর্ব দুর্ঘটনা
গত ২২ মার্চ ঘটলো বাংলা ব্লগমণ্ডলের ইতিহাসে অভূতপূর্ব এক ঘটনা। সেদিন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) পক্ষ থেকে সরকারি নির্দেশে ব্লগের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের লেখা পর্যবেক্ষণ করার বিষয়ে সামহোয়্যারইন ব্লগসহ কয়েকটি ব্লগের অ্যাডমিনকে ইমেইল করা হয়। তাতে নির্দেশ দেওয়া হয়, ব্লগ অ্যাকাউন্টগুলোর লেখায় ধর্মবিরোধী মন্তব্য পাওয়া গেলে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য। এছাড়াও অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারী সম্পর্কে ব্যক্তিগত বিস্তারিত তথ্য (আইপি এড্রেস, লোকেশন, ইমেইল, মোবাইল নম্বর এবং ব্যক্তিগত নাম) পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিটিআরসির কাছে পাঠানোর নির্দেশও দেয়া হয়।

তখনই ধরা পড়লো এক ব্লগ-রাজাকার
বিটিআরসির চাপে সব ব্লগই মোটামুটি কাবু হয়েছে। সামহোয়্যারইনে জানা নিজেও সাম্প্রতিক কিছু ব্যানের ব্যাপারে রাখঢাক করেননি। এক পোস্টে নিজে সেটি স্পষ্ট করেই বলেছেন কাকে কী কারণে ব্যান করা হয়েছে। বাংলাদেশের এমন কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা নেই, যেখানে স্বজাতির মধ্যেই বিশ্বাসঘাতক ছিল না। ব্লগও তার ব্যতিক্রম নয়, এখানেও আছে ব্লগ-রাজাকার। নিষ্ঠার সঙ্গে সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন আমার ব্লগের অ্যাডমিন যুবলীগ নেতা সুশান্ত দাশগুপ্ত। আচমকা বিপ্লবীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে পুরো ছাত্রলীগ স্টাইলে সেখানকার ব্লগারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বসেছেন তিনি। ২২ মার্চ "আমার ব্লগ বিটিআর সির সকল অপনির্দেশনা আজ থেকে প্রত্যাখান করছে" শীর্ষক দীর্ঘ বিপ্লবী গীত গেয়ে প্রায় চে গুয়েভারা হয়েই যাচ্ছিল। কিন্তু মাত্র দুদিন পর সুশান্ত বাবুর থলের বেড়াল বের করে দিয়ে বোমাটা ফাটালো অনলাইন সংবাদ সংস্থা 'বাংলামেইল'। 'বিটিআরসির নির্দেশে আপত্তিকর পোস্ট মুছে দিচ্ছে আমারব্লগ' শিরোনামের সেই প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পারলাম, বিটিআরসির নির্দেশ যেদিন এসেছে, সেই ২২ মার্চেই আমার ব্লগের অ্যাডমিন সুশান্ত দাশগুপ্ত বিটিআরসিকে মেইল দিয়ে 'সর্বাত্মক সহযোগিতা' প্রদানের কথা জানিয়ে দেন। সেই ইমেইলে তিনি amarblog.com/blogger/bnp ও amarblog.com/blogger/dinosaur ব্লগের সব পোস্ট মুছে দেয়ার কথা জানান। amarblog.com/blogs/arifuk ব্লগের পোস্ট মুছে দেয়ার কাজ চলছে জানিয়ে কোন্ পোস্টের আর্কাইভ কপি বিটিআরসির প্রয়োজন তাও জানাতে বিনীত অনুরোধ জানান সুশান্ত। বাংলামেইল বিটিআরসিকে পাঠানো সুশান্ত বাবুর ইমেইলের স্ক্রিনশটও প্রকাশ করে ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে। এদিকে এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে যে, আওয়ামী লীগ বিরোধী কয়েকজন ব্লগারের আইপিসহ যাবতীয় তথ্য আমারব্লগ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে বিটিআরসির হাতে তুলে দিয়েছে বা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই চোগলখুরি এখানেই শেষ হতে পারতো। কিন্তু না, গত ২৪ মার্চ ইনিয়ে-বিনিয়ে আবার সেই বিপ্লবী গীত, আবার সেই ভাঙা রেকর্ড আমারব্লগের পাতায় বাজলো- 'আমার ব্লগ বিটিআরসির সকল অপনির্দেশনা আজ থেকে প্রত্যাখান করছে! আন্তর্জালে বাংলা ব্লগ বাক স্বাধীনতা রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর এবং তার জন্য যে কোন প্রকার আত্মত্যাগ স্বীকার করতে রাজী আছি...।' ঘটনা এখানেও শেষ হতে পারতো। কিন্তু না, সুশান্ত দাশগুপ্ত এই পর্যায়ে ইমেইলের স্ক্রিনশট থেকে শুরু করে পুরো ব্যাপারটিই বানোয়াট বলে দাবি করলেন। এমনকি বাংলামেইলকে ওই প্রতিবেদনটি মুছে ফেলার জন্যও জোরাজুরি শুরু করেন। কিন্তু বাংলামেইল আরো একধাপ এগিয়ে সুশান্তের দাবিই যে পুরোপুরি মিথ্যা এবং প্রতারণামূলক সেটি প্রমাণ করে দিল তার প্রতিবেদকের বক্তব্যে।

যে পথ ধরে ব্লগের ওপর নেমে আসছে সরকারি নিয়ন্ত্রণ
গত বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর গঠিত কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, ওইদিন থেকেই দু ধরনের অভিযোগ কেন্দ্র বা তথ্য কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। অনলাইনে এবং সরাসরি ব্যক্তি পর্যায়ে অভিযোগ করার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অভিযোগ কেন্দ্র বা তথ্য কেন্দ্র চালু করা হবে। কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইনউদ্দিন খন্দকার বলেন, “ব্লগে যে কেউ লিখতে পারেন, তবে প্রকাশ করে ব্লগ কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে যারা ব্লগ পরিচালনা করেন বা ব্লগ সাইটের মালিক তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।” আগামী ৩১ মার্চ এ কমিটি ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করবে, এর পরপরই ব্লগ কর্তৃপক্ষ বা পরিচালনাকারীদের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে জানান তিনি।
মাইনউদ্দিন খন্দকার বলেন, ব্লগে আপত্তিকর মন্তব্যকারীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। বৈঠকে উপস্থিত কমিটির সদস্যরা বলেন, মডারেশন ছাড়া লেখা প্রকাশ করা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সব কিছুই নিয়ম-নীতির মধ্যে থাকা উচিত। কমিটির সদস্য আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব আবু আহমেদ জমাদার বলেন, “প্রচলিত আইন অনুযায়ী দোষী প্রমাণিত হলে আপত্তিকর মন্তব্যকারীদের এক কোটি টাকা জরিমানা এবং ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।” প্রয়োজনে আপত্তিকর মন্তব্যকারী ব্লগার ও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে সরকার সন্ত্রাস বিরোধী আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনেও বিচার করতে পারে বলে জানান আবু আহমেদ জমাদার। ইন্টারনট ব্যবহারকারী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার এখতিয়ার রয়েছে এবং সেই তথ্য চাহিদা অনুযায়ী প্রদানে বাধ্যবাধকতাও রয়েছে বলে জানান আবু আহমেদ জমাদার।
কমিটির সদস্য তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার সভায় সরকারের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘‘ব্লগ বা নিউজ পোর্টালের জন্য কোনো নীতিমালা নেই। তবে প্রতিকারের জন্য ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা আইন রয়েছে। যাদের রয়েছে দায়বদ্ধতা। ব্লগে লেখার দায়িত্ব লেখকের ব্যক্তিগত হলেও প্রকাশকের দায়িত্ব সামগ্রিক।’’ তিনি বলেন, ‌'ব্লগ পরিচালনাকারীদের খতিয়ান নেওয়া উচিত।' সভায় একই সঙ্গে দেশের ৪৮টি ব্লগ তদারক করতে বিটিআরসিকে অনুরোধ করা হয়েছে।

বাকি যে লাখো ব্লগার, তাদের দোষ কী?
যে খবর আমরা ভেতর থেকে পাচ্ছি, তাতে প্রমাণ মিলছে ব্লগ নিয়ে সরকারি তৎপরতার লক্ষণ ভালো নয়।
স্পষ্টভাবেই সরকার হাঁটছে ব্লগ নিয়ন্ত্রণের পথে। এই আশঙ্কা আমরা আগেই প্রকাশ করেছিলাম, সরকার যখন অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল। আমরা তখনই বলেছিলাম, অনলাইন নিয়ে সরকারের এই ঘাঁটাঘাটির মূল টার্গেট হবে ব্লগ। সেই আশঙ্কা আজ সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে। মৌলবাদিদের মতো সরকারেরও অজুহাত ওই একটিই- নাস্তিক ব্লগার! অথচ পুরো বাংলা ব্লগমণ্ডলে 'নাস্তিক ব্লগার' ১০-১৫ জনও হয়তো পাওয়া যাবে না। নাস্তিক ব্লগারদের নিয়ে খোদ আমার দেশই তাদের প্রতিবেদনে মাত্র তিন কি চারজনের কর্মকান্ডের হদিস দিতে পেরেছে। তাহলে বাকি যে লাখো ব্লগার, তাদের দোষ কী? প্রায় প্রতিটি কমিউনিটি ব্লগের নীতিমালাতেই আপত্তিকর লেখা কিংবা মন্তব্যের জন্য সুনির্দিষ্ট বিধি আছে। এই নীতিমালা জোরদার করলেই যথেষ্ট। এর মধ্যে বিটিআরসি কিংবা সরকারের নাক গলানোর কিছুই নেই।
কেন ব্লগ কর্তৃপক্ষগুলোকে বসতে হবে আমলাপ্রধান সরকারি কমিটির সঙ্গে? কেন সরকার ছড়ি ঘোরাবে ব্লগের ওপর? বিটিআরসি কেন নজরদারি করবে ৪৮টি ব্লগের ওপর? ব্লগের সঙ্গে সম্পর্কহীন কতিপয় আমলার কী অধিকার কিংবা যোগ্যতা আছে এটা বলার- ‌'মডারেশন ছাড়া লেখা প্রকাশ করা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সব কিছুই নিয়ম-নীতির মধ্যে থাকা উচিত।' কেন মোস্তফা জব্বারের মতো সুবিধাবাদি লোক ব্লগের জন্য কুখ্যাত ছাপাখানা আইন প্রয়োগের জন্য দালালি করবেন?
গুগলে সার্চ করলেই দেখা যায়, কথায়-লেখায়-ছবিতে ইসলামকে চরম অপমান করা হয়েছে—এমন ওয়েবসাইটের সংখ্যা বিশ্বে হাজার হাজার। সরকারের কি সাধ্য আছে, এদের কোনো একটির কেশাগ্র স্পর্শ করার? বিশ্বে নাস্তিক আছে কোটি কোটি। সরকারের কি সাধ্য আছে, এদের কারো দিকে আঙ্গুলখানি শুধু তোলার? অথবা নাস্তিকের একটি গুগল একাউন্ট কিংবা একটি ফেসবুক একাউন্ট বন্ধ করার আবদারটুকু তুলে দেখুক তো সরকার! গুগল-ফেসবুকের যা কড়া নীতি, তাতে হয়তো এহেন অনুরোধকারীদের ভার্চুয়াল বলাৎকারই করে দেবে। মাত্র কিছুদিন আগেই আমরা জেনেছি, বিটিআরসির এরকম অনুরোধে ফেসবুক উল্টো কড়া মেইল দিয়ে জানতে চেয়েছে, একাউন্ট বন্ধের এই মামার বাড়ির আবদারের হেতু কী?

ব্লগকে শেকল পরানোর ছল
এক নাস্তিক আসিফ মহিউদ্দিনের ব্লগ বাতিলে যারা বগল বাজাচ্ছে, তারা জানে না, এই একই পরিণতি তাদের নিজেদেরও হতে পারে। সময়ের অপেক্ষা কেবল। আসিফের প্রতি আমার বিশেষ কোনো পক্ষপাত নেই, বরং কারণে-অকারণে ইসলাম ধর্ম নিয়ে তার কটুক্তি করার স্বভাবটা আমার অপছন্দ বরাবরই। কিন্তু এ নিয়ে দ্বিমত প্রকাশের কোনো উপায় নেই যে, সরকারি চাপে আসিফের ব্লগ ব্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। এই সংকেত জানিয়ে দিচ্ছে, ব্লগের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার, তা থেকে ডান-বাম-মধ্যপন্থী-উদারপন্থী কেউই রেহাই পাবে না। কেউই না।
ব্লগারদের চাপে, ব্লগারদের অভিযোগে যদি আসিফের ব্লগ ব্যান করা হতো, বলার কিছুই ছিল না। কিন্তু এই ব্যান হয়েছে সরকারের চাপে, এই ব্যান হয়েছে মৌলবাদিদের চাপে। সামহোয়্যারইন কর্তৃপক্ষ লেখার কারণে নয়, তাকে স্পষ্টতই নিষিদ্ধ করেছে সরকারের চাপে। ব্লগার হিসেবে এই অপমান, এই গ্লানি আমাদের সবার।
আশঙ্কার কথা এই যে, চোর দরজার সিটকিনি খোলার পথটি জেনে গেছে, সুতরাং সে বার বার ওই ঘরে ঢোকার চেষ্টা করবেই। বিটিআরসির তরফে সরকার ইতিমধ্যে বুঝে গেছে, চোখ রাঙিয়ে ব্লগকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সুতরাং আজ ও আগামীতে আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বিএনপি, যারাই সরকারে থাকুক, তারা কারণে-অকারণে ব্লগের ওপর ছড়ি ঘোরানোর চেষ্টা করবে- এটা খুব স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে বিএনপিমনস্ক ব্লগার আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আওয়ামী লীগ সমর্থক ব্লগারদের নাড়িনক্ষত্র জানা খুব কঠিন কোনো কাজ আর হবে না। অনলাইনে ভিন্নমতাবলম্বী যে কারো কন্ঠ চেপে ধরা, জেলে পোরা, জরিমানা করা ক্ষমতাসীনদের পক্ষে এখন খুবই সহজ হয়ে গেল।

এই যুদ্ধ সামহোয়্যারইনের একার যুদ্ধ
আগে-পরে ছোটখাটো আরো ব্লগের নাম সরকারি গোণায় এলেও মূল টার্গেট সামহোয়্যারইনই। ফলে বাক-স্বাধীনতা রক্ষার এই লড়াইয়ে সামহোয়্যারইন এবং তার ব্লগারদের দায়িত্বই সবচেয়ে বেশি। সামহোয়্যারইন যদি সরকারের চোখ রাঙানিতে পিছু হটে, সত্যিকারের যে নির্ভয় ব্লগিং, তার অপমৃত্যুও তখনই ঘটবে। মুক্তমত প্রকাশের ক্ষেত্র হিসেবে যে সামহোয়্যারইনের জন্য আমরা গর্ব বোধ করি, সেটি ধুলোয় মিশে যাবে। ছয় ছয়টি বছর ধরে তিল তিল করে একটি স্বাধীন বাংলা ব্লগের যে স্বপ্ন দেখে আসছিলাম আমরা, অকপটে সত্য বলার যে খোলা জানালার স্বপ্ন দেখে আসছিলাম, সেই স্বপ্নটুকু ধুলিসাৎ হয়ে যাবে নিমেষেই। এইটুকু বিশ্বাস এখনো রাখতে চাই, বাংলা ব্লগের এই দুঃসময়ে সামহোয়্যারইন কর্তৃপক্ষ তার ব্লগারদের পাশে থাকবে, পাশে দাঁড়াবে। যতো বৈঠকই হোক না কেন, যতো চাপই আসুক না কেন চোখে চোখ রেখে সরকারি পেয়াদাকে নিশ্চয়ই তারা বলে দেবেন, ব্লগের জন্য কোনো সরকারি নীতিমালা, কোনো কালো আইন আমরা চাই না। তারা স্পষ্টভাবে বলে দেবেন, ব্লগারদের আইপি তো দূরের, ব্যক্তিগত কোনো তথ্যই সরকারি সংস্থা বা অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করা হবে না কখনোই। ব্লগারদের পক্ষ থেকে এই কথাও আশা করি তারা জানিয়ে দেবেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত কমিটি এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আইনের পুরোপুরি লঙ্ঘন। কে না জানেন, এই বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে কথা বলার প্রথম জানালাটি আরিল ও জানা নিজ হাতেই খুলে দিয়েছিলেন। আমি নিশ্চিত, সেই স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্থ হোক সেটি নিশ্চয়ই তারা চাইবেন না।

প্রিয় ব্লগার...
নিশ্চিত জেনে রাখুন, কেউই আপনার পাশে দাঁড়াবে না। ব্লগারমাত্রেই নিঃসঙ্গ—একা। তাতে ক্ষতি কিছু নেই, যে শেরপা ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ এভারেস্টের শিখরে ওঠে অসীম সাহসে, সেও নিঃসঙ্গই থাকে। নিজের লড়াই এখানে নিজেকেই করতে হবে। আসুন ব্লগে সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। নইলে-

উত্তর পুরুষে ভীরু কাপুরুষের উপমা হবো
এরকম দুঃসময়ে যদি মিছিলে না যাই...


সংযুক্তি
প্রথম প্রকাশ : সামহোয়্যারইন... ব্লগ
 
ঠিক এখনই যিনি হাসিমুখে নিজের দিনলিপি লিখছেন প্রথম পাতায়, তার বোঝার উপায় নেই যে, ১০০০ পিক্সেল প্রস্থের এই সামহোয়্যারইন...ব্লগের ভেতরে কী রক্তক্ষরণ চলছে এখন! এক দলের চোখ রাঙানি সামাল দিতে না দিতেই সামহোয়্যারকে লড়তে হচ্ছে আরেক দলের সঙ্গে। তাদের কেউ চেনা, কেউ অচেনা। কেউ ডান, কেউ বাম, কেউবা চরমপন্থী। তাদের সকল আক্রোশ একযোগে এসে জমা হয়েছে সামহোয়্যারইনের ওপর। যে 'ব্লগার' নামে আজ কাঁপছে বাংলাদেশ, সেই ব্লগারদের পথিকৃৎ যারা, বাংলাভাষায় কমিউনিটি ব্লগের সূচনা হয়েছিল যাদের হাতে, চেনা দুনিয়ার বাইরে মুক্তচিন্তার দরজা খুলে দিয়েছিলেন যারা, আধুনিক এই বাংলাদেশে তারাই আজ মধ্যযুগীয় এক নোংরা খেলার শিকার। স্বার্থান্বেষী সব মহলই এখন চাইছে মুক্তচিন্তার সবল এই জানালাটি বন্ধ হয়ে যাক। কারণ অনলাইন তো বটেই, এমনকি অফলাইনেও এই এখন পুরো বাংলাদেশে নিঃশঙ্ক চিত্তে মতামত প্রকাশ প্রকাশের বড়ো জায়গা এই একটিই।

সবার শত্রু, কিন্তু বিপদে সবার আশ্রয়
কী ডান-কী বাম, কী আওয়ামী লীগ-কী বিএনপি, কী আস্তিক-কী নাস্তিক, জামায়াত-শিবির চক্র তো বটেই, এমনকি সরকারেরও চক্ষুশূল হয়ে উঠেছে আমাদের এই সামহোয়্যারইন ব্লগ। ডান মনে করে সামহোয়্যারইন বাম অধ্যুষিত ব্লগ, আবার বামের ধারণা এটি ডানের আস্তানা। আওয়ামী লীগের বড়ো বড়ো নেতা সরাসরি এই ব্লগের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন নানা সময়ে, আর বিএনপি এখন স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ব্লগই বন্ধ করে দেওয়ার আহবান জানাচ্ছে। আস্তিকরা সবসময়ই ভেবে এসেছেন সামহোয়্যারইন নাস্তিকদের প্রশ্রয় দেয়, আবার নাস্তিকরা তারও একধাপ ওপরে উঠে ঘোষণা দেন সামহোয়্যারের মডারেটররাই নাকি মৌলবাদি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সামহোয়্যারের স্পষ্ট অবস্থান সবসময়ই স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির চক্রের মাথাব্যথার কারণ। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা কখনো 'সাধারণ মুসল্লি' সেজে, কখনো 'ইসলামি আলেম-ওলামা' সেজে সরাসরি সামহোয়্যারইন ব্লগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে মিছিল-সমাবেশ-বিক্ষোভ করে যাচ্ছে। কিন্তু যখনই প্রয়োজন পড়েছে, যখনই কোনো মিডিয়ায় কেউ কথা বলতে পারেনি - প্রত্যেকেই এসে উপস্থিত হয়েছে বাংলাভাষার বৃহত্তম এই ব্লগে। ব্লগের উদারনীতির সুযোগ নিয়ে মত-পথ নির্বিশেষে প্রত্যেকেই এই ব্লগের জনপ্রিয়তাকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগাতে দ্বিধা করেনি। করে যাচ্ছে এখনো।

স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্ষুশূল সামহোয়্যারইন
ধর্মান্ধ ও ধর্মব্যবসায়ীরা গত কিছুদিন ধরে বেশ আঁটঘাট বেধে ব্লগের পেছনে লেগেছে। তথাকথিত 'আলেম সমাজের ' ব্যানারে গত শুক্রবার এরা সারা দেশেই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেছিল। এটি এখন কারোরই অজানা নয় যে, শাহবাগকেন্দ্রিক গণজাগরণের নেপথ্যে যেহেতু ব্লগাররা ছিল, মূলত সেই ব্লগারদের ঘায়েল করতেই 'আলেম সমাজের ' ব্যানারে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির চক্র ব্লগারদের চরিত্রহনন ও ব্লগ বন্ধ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রতি ৫০ হাজার ব্লগারের মধ্যে একজন হয়তো ধর্ম নিয়ে টানাহেঁচড়া করেন, তাতে কি বাকি সব ব্লগারই ধর্মবিরোধী নাস্তিক হয়ে যান? ইউটিউবের একটি কি দুটি ক্লিপে ইসলাম ধর্মের অবমাননাসূচক বার্তা আছে, তাতে কি পুরো ইউটিউবই বন্ধ করে দিতে হবে? ইন্টারনেট জুড়ে ইসলাম ধর্মের কুৎসা গাওয়া হাজার হাজার ওয়েবসাইট আছে, তার মানে কি সব ওয়েবসাইটই বন্ধ করে দিতে হবে?

বাংলানিউজের হলদে সাংবাদিকতা
বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোরে গত ৯ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি টানা তিন দিন ধরে সামহোয়্যারইনের বিরুদ্ধে একের পর এক কুৎসা রচনা করা হল। আজ থেকে চার বছর আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযান শুরু করেছিল যে ব্লগটি, তার বিরুদ্ধেই উল্টো অভিযোগ তোলা হল শিবির তোষণের, সার্বভৌমত্ববিরোধী কার্যকলাপের। গত ৫ ফেব্রুয়ারির শুরুতে শাহবাগে ব্যানার হাতে জনাবিশেকও হবে না উপস্থিতি, আজকের গণজাগরণ বিশেষজ্ঞ অনলবর্ষী বক্তারা-টকশোজীবী সুবিধাবাদীরা তখনো শাহবাগ থেকে বহু দূরে, কিন্তু সামহোয়্যারইন পোস্ট স্টিকি করে সেই পাঁচ তারিখেই আওয়াজ তুলেছে - 'রাজাকারের ফাঁসির দাবীতে গর্জে উঠেছে বাংলাদেশ: চল চল শাহবাগ চল।' তবু সামহোয়্যারইন নাকি শাহবাগ নিয়ে বিতর্কিত ভূমিকায়! কেবল তাই নয়, হলুদ সাংবাদিকতার নিকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে ওঠা বাংলানিউজ এই ফাঁকে একপ্রস্থ ভয় দেখানোর চেষ্টাও করেছে সামহোয়্যারকে। বিচারের ভার ব্লগারদের হাতে।

আমার দেশের ধারাবাহিক কুৎসা
বেশ কিছুদিন ধরে স্বাধীনতা বিরোধীদের মুখপত্র হয়ে ওঠা 'আমার দেশ' ও যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীর 'নয়াদিগন্ত' রীতিমতো প্রধান প্রতিবেদন-বিশেষ প্রতিবেদন সাজিয়ে সামহোয়্যারইনকে নগ্নভাবে আক্রমণ তো করছেই, সঙ্গে ধর্মান্ধদের জন্য তৈরি করে দিচ্ছে উস্কানির তাজা সব উপকরণ। গত ২০ ফেব্রুয়ারি আমার দেশের প্রধান প্রতিবেদন ছিল - ‌"ব্লগে নাস্তিকতার নামে কুত্ সিত অসভ্যতা।" মাত্র তিন জন ব্লগারের লেখালেখির ওপর ভিত্তি করে ফোলানো-ফাঁপানো ওই প্রতিবেদনে বাকি সব ব্লগারকেই 'অসভ্য' বলে ঢালাও আক্রমণ করা হয়। মজার ব্যাপার হল, ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলানিউজ বায়বীয় সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ ফেঁদে বসে, সামহোয়্যার শিবির-তোষণ করছে। এর মাত্র নয় দিন পর ২০ ফেব্রুয়ারি জামায়াত-শিবিরের মুখপত্র 'আমার দেশ' ঠিক তার উল্টো অভিযোগ তুলে বসে। এক প্রতিবেদনে তারা উস্কানি যুগিয়েছে এভাবে - "যেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের যৌক্তিক সমালোচনার কারণেও ব্লগ বাতিল করা হয়, সেখানে ধর্ম নিয়ে অশ্লীলতার পরও কীভাবে এরা পার পেয়ে গেছে বিকৃত মানসিকতার নাস্তিক ও আওয়ামী সমর্থিত পাণ্ডারা? কী এজেন্ডা নিয়ে সামহোয়্যারইন ব্লগ পরিচালিত হচ্ছে? শান্তির ধর্ম, মানবতার ধর্ম ইসলাম অবমাননাকারীদের ‘লালন’ করার সাহস কোথায় পেয়েছে সামহোয়্যারইন ব্লগ মালিক কর্তৃপক্ষ?"
২২ ফেব্রুয়ারিও শীর্ষ প্রতিবেদন করা হয় এই শিরোনামে - "ধর্ম ও আদালতের অবমাননা করছে ব্লগারচক্র"। যথারীতি ওই প্রতিবেদনেও মাত্র পাঁচ জন ব্লগারের কর্মকাণ্ডের জন্য বাকি সব ব্লগারের শাস্তি দাবি তো বটেই, সামহোয়্যারইনসহ বিভিন্ন ব্লগ বন্ধ করে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়। এগুলোই নয় কেবল, গত কিছুদিন ধরে এই পত্রিকাটি ব্লগ ও ব্লগারদের বিরুদ্ধে একের পর এক কুৎসা গেয়ে যাচ্ছে, এমনকি ব্লগারদের ফাঁসি দেওয়ারও আহ্বান জানাচ্ছে। যেন বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির প্রতিশোধ পত্রিকাটি নেবেই নেবে! সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হচ্ছে, ব্লগমণ্ডলে সুপরিচিত সেই সাইবার ক্রিমিনাল চক্রটি আমার দেশের মন্তব্যের ঘরে এসে চালিয়ে যাচ্ছে সেই নোংরা কাজটি। Iam Bangladeshi নামে একটি ভুয়া ফেসবুক নিক থেকে জানার নাম ও ফোন নম্বর তুলে দিয়ে অশালীন ও অসত্য মন্তব্য শুধু ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপেই নয়, করা হচ্ছে আমার দেশ অনলাইন সংস্করণের বিভিন্ন প্রতিবেদনের নিচেও।

হোয়াইট কলার 'প্রগতিশীল'
আজ থেকে চার বছর আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের মতো অভিনব উদ্যোগ এই সামহোয়্যারইনই নিয়েছিল প্রথম। পাশাপাশি জনসমক্ষে সেটাকে উপস্থাপনের ভারও স্বেচ্ছায় নেয় সামহোয়্যারইন। এই সামহোয়্যারইনই প্রথম দেশ ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী লেখালেখির বিপক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়ে নীতিমালায় বিশেষ ধারা সংযোজন করে। অনলাইনে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির সঙ্গে সবচেয়ে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইগুলোও হয়েছে এই সামহোয়্যারইনেই। গত কয়েক বছরে প্রগতিশীল এমন কোনো আন্দোলন নেই, যেখানে সামহোয়্যারইন কিংবা তার ব্লগারদের ভূমিকা ছিল না। এমনকি তেল-গ্যাস রক্ষা আন্দোলন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি বৃদ্ধির মতো আন্দোলনেও সামহোয়্যার রেখেছে অসামান্য ভূমিকা।
তারপরও সামহোয়্যারইনকে পরীক্ষা দিতে হয় অথর্ব, মেধাহীন-মতলববাজ, সাইবার ক্রিমিনালদের কাছে। এটা এখন অনেকেরই জানা যে, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিই নয় কেবল, গণজাগরণ মঞ্চের আশেপাশেও কিছু স্বার্থান্বেষী ঘুর ঘুর করেন সামহোয়্যারের গলায় দড়ি ঝোলানোর মতলব নিয়ে। এই কদিনে কম চেষ্টা হয়নি গণজাগরণ মঞ্চ থেকে এটা বলানোর - "সামহোয়্যারইন একটি ছাগুব্লগ।" সেই চেষ্টা এখনো চলছে। যদিও এখন পর্যন্ত গণজাগরণ মঞ্চের পরিচালকদের তারা এই অপকর্মে রাজি করাতে পারেনি। পারলেই বা কী! শাহবাগ গণজাগরণের সঙ্গে সামহোয়্যারইনের সম্পর্কটা নাড়ির। ওই গণজাগরণের ভিত্তিটা গড়ে দিয়েছিল এই সামহোয়্যারইনই। এই সত্যটুকুও অনেকে অস্বীকার করতে চান। কাদের মোল্লার ফাঁসি চেয়ে শাহবাগে যখন ব্লগাররা গেলেন, সংখ্যা তখনও একেবারেই হাতেগোনা। তাদেরও বেশিরভাগই ছিলেন এই সামহোয়্যারের ব্লগার। সেই পাঁচ তারিখেই পোস্ট স্টিকি করে সামহোয়্যারইন...ব্লগ আওয়াজ তুলেছে - 'রাজাকারের ফাঁসির দাবীতে গর্জে উঠেছে বাংলাদেশ: চল চল শাহবাগ চল।

জানাকে নিয়ে বিপজ্জনক নোংরামি
জানা ও আরিলকে অশালীনভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে বারবার। তাদের শিশুকন্যাটিও ওই কুৎসিত থাবা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। না, এ কোনো স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের কাজ নয়। প্রগতিশীলতার মুখোশ পরে যারা ব্লগে-ফেসবুকে ঘোরাফেরা করে, নিজেকে নেতা বানানোর চেষ্টায় যারা মরিয়া, নিজের নাক কেটে যারা পরের যাত্রা ভঙ্গ করতে সিদ্ধহস্ত, তারাই নোংরা এই কাজটি করে যাচ্ছে খুব পরিকল্পিতভাবে। এর আগে এই চক্রটিই কয়েকজন নারী ব্লগারের নাম দিয়ে অশ্লীল সাইট তৈরি করে, ভুয়া ভিডিও ক্লিপ তৈরি করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়েছিল। জানাকে নিয়ে ব্লগস্পট-ওয়ার্ডপ্রেসে অশালীন সাইট খোলা হয়েছে। ছবি বিকৃত করে নানান অপপ্রচার চলেছে। কিন্তু সামহোয়্যারইন তো নয়ই, জানাও তাতে এতোটুকু দমেননি। পরিস্থিতির সুযোগ বুঝে এবার সেই চক্রটিই জানার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে উঠে পড়ে লেগেছে নতুন উদ্যমে, আরো নোংরা কৌশল নিয়ে, আরো বিপজ্জনক উপায়ে। রাতভর যে 'মুক্তিযুদ্ধ গবেষকের' মূল কাজ ইন্টারনেটে চেনা-অচেনা পর্নো ক্লিপ আপলোড করা, রগরগে চটি লেখা - তিনিও এখন বিদগ্ধ ব্লগার সেজে সামহোয়্যারকে একহাত দেখে নেওয়ার চেষ্টায় রাতদিন শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। চার-পাঁচদিন আগে হঠাৎই জানার মোবাইলে কিছু কল আসা শুরু হল। সেই সব কলে অশ্লীল যৌন ইঙ্গিতবহ নানা প্রস্তাব দেওয়া হতে লাগলো। পরে গুগল করে অন্তত দুটি গ্রুপের খোঁজ পাওয়া গেল, যেখানে জানার নাম ও ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ব্যবহার করে অশ্লীল স্ট্যাটাস প্রচার করা হয়েছে। লক্ষ্য দুটি- প্রথমত জানার ভাবমূর্তিতে কালিমা লেপনের চেষ্টা, দ্বিতীয়ত সামহোয়্যারইন ব্লগটিই বন্ধ করে দেওয়া।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, জানা-আরিল দুজনেই জামায়াত-শিবির অপশক্তির হিটলিস্টে আছেন। বাংলাভাষাভাষীদের মুক্তমত প্রকাশের জায়গা করে দিয়ে দুজনেই এখন তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কায় দিনরাত কাটাচ্ছেন। বাংলা আর বাংলাদেশকে ভালোবেসে যে আরিল্ড ক্লকারহগ এবং সৈয়দা গুলশান ফেরদৌস জানা বিপুল ব্যয়ভার বহন করে বাংলাভাষায় প্রথম কমিউনিটি ব্লগটি প্রতিষ্ঠা করে ছয় ছয়টি বছর ধরে কঠিন এই বোঝা টেনে চলেছেন, লাখ লাখ বাংলাভাষীকে ব্লগমাধ্যমটির সঙ্গে প্রথম পরিচিত করিয়েছেন, সেই তারাই আজ একদিকে একদল হিংস্র পশুর রক্তচক্ষুর মুখোমুখি, অন্যদিকে প্রগতিশীলতার মুখোশ পরা আরেক দল মানসিক রোগীর নোংরা খেলার শিকার। এই দুর্বৃত্তদের হাত থেকে বাঁচাতেই হবে আমাদের প্রিয় ব্লগকে।

কেউ কি টের পাচ্ছেন, প্রিয় সামহোয়্যারের ভেতরে কী রক্তক্ষরণ চলছে! 

সংযুক্তি
প্রথম প্রকাশ : সামহোয়্যারইন... ব্লগ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
তথ্য মন্ত্রণালয়

বিশ্বায়নের এই যুগে অনলাইনভিত্তিক সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও বেতার শক্তিশালী ও কার্যকর প্রচার মাধ্যম। প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়নের ফলে মানুষের বাক ও ভাব প্রকাশের এই মাধ্যম অতি দ্রুততার সাথে বিশ্বব্যাপী প্রসার লাভ করেছে। প্রচলিত সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও বেতারের বিভিন্ন চ্যানেলের পাশাপাশি ওয়েব বা ইন্টারনেটের মাধ্যমেও অনলাইন সংবাদ ও অনুষ্ঠানের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা সম্প্রচার, প্রকাশনা, প্রদর্শন ও পরিচালনায় কোন বিধি বিধান বিদ্যমান নাই এবং এ সম্পর্কিত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরী।

১। (ক) এই নীতিমালা “অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনা নীতিমালা ২০১২” নামে অভিহিত হবে।

(খ) জারির তারিখ থেকে এই নীতিমালা কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

২। অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনার লক্ষ্যে আবেদন আহ্বান:
(ক) শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা ও বিনোদনের পরিসর বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিকাশ ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার এবং বিশ্বব্যাপী এ সকল বিষয়াদি সম্প্রচারের অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপনের জন্য বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েব সাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে তথ্য মন্ত্রণঅলয় দরখাস্ত আহ্বান করবে।

(খ) প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী (অফিস অবকাঠামো, মোট জনবল ও নির্ধারিত ব্যাংক ব্যালেন্স, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, সাংবাদিকতায় অভিজ্ঞতার সনদপত্র)সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

৩। মালিকানা সংক্রান্ত নীতিমালা:
(ক) অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপনের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক এবং কোম্পানীকে অবশ্যই বাংলাদেশী কোম্পানী হতে হবে।
(খ) অনাইন গণমাধ্যমের মালিকগণ বেসরকারী মালিকানাধীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মত প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারকে আয়কর পরিশোধ করবেন।

৪। লাইসেন্স আবেদনের নিয়মাবলী:
(ক) এই নীতিমালার অধীনে প্রদেয় লাইসেন্স ব্যতিরেকে কোন প্রতিষ্ঠান অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা কিংবা পরিচালনা করতে পারবে না;
(খ) আগ্রহী প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানীকে অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে;

(গ) সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকার অফেরতযোগ্য ব্যাংক ড্রাফট/পে অর্ডার জমা দিয়ে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে;

(ঘ) আবেদনকারী কোম্পানীকে অবশ্যই কোম্পানী আইন ১৯৯৪ এর আওতায় নিবন্ধিত হতে হবে;

(ঙ) আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে আবেদনের সাথে ফেরতযোগ্য আর্নেস্টমানি বাবদ সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবরে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকার ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার প্রদান করতে হবে;

(চ) আবেদনে অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপনের উদ্দেশ্য সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে;

(ছ) কোন অনলাইন গণমাধ্যমের মালিক/পরিচালক সরকারের অনুমতিক্রমে একাধিক অনলাইন গণমাধ্যমের মালিক/পরিচালক হতে পারবেন;
(জ) সরকারি/বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ/বিল/কর খেলাপী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং ফৌজদারী অপরাধ বা নৈতিক স্খলনজনিত কারণে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি বা কোম্পানি আবেদন করতে পারবে না;
(ঝ) লাইসেন্স প্রদানের পূর্বে সরকার কর্তৃক বিবেচিত আবেদনসমূহ নিরাপত্তা ছাত্রপত্রের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে। অনুকূল নিরাপত্তা ছাড়পত্র না পাওয়া গেলে লাইসেন্স প্রদানের জন্য কোন আবেদন যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না;

(ঞ) সরকার কর্তৃক নির্বাচিত আবেদনকারীদের অনুকূলে লাইসেন্স প্রদানের পর বিটিআরসির নিকট থেকে অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে:

৫। লাইসেন্স ফি:
লাইসেন্স গ্রহণকালে আবেদনকারী এককালীন ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কোডে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা প্রদান করে মূল কপি মন্ত্রণালয়ে দাখিল করবে।

৬। লাইসেন্স নবায়ন:
(ক) প্রতি বছরে সংশ্লিষ্ট খাতে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা ফি প্রদান করে লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। সরকার প্রয়োজনে লাইসেন্স ফি পুন:নির্ধারণ করতে পারবে;

(খ) লাইসেন্স-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৩০ (ত্রিশ) দিন পূর্বে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে এবং বিশেষ কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নবায়ন করতে ব্যর্থ হলে ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা সারচার্জ জমা দিয়ে সর্বোচ্চ ০২ মাসের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে;

৭। জামানত:
লাইসেন্স গ্রহণকালে অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পূর্বে প্রদত্ত আর্নেস্টমানি বাবদ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা পরবর্তীতে জামানত হিসেবে গণ্য হবে;

৮। লাইসেন্স হস্তান্তরের বিধি নিষেধ:
সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন লাইসেন্স বা এর উপর অর্জিত স্বত্ব বা শেয়ার সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে হস্তান্তর করা যাবে না। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি সম্পাদন করে সরকারি কোষাগারে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা ফি প্রদান পূর্বক লাইসেন্স বা অর্জিত স্বত্ব বা শেয়ার হস্তান্তর করা যাবে।

৯। লাইসেন্স স্থগিতকরণ ও বাতিলকরণ:
সরকার নিম্নোক্ত এক বা একাধিক কারণে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে:

(ক) লাইসেন্স/চুক্তি সংক্রান্ত সরকারের কোন পাওনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে;
(খ) বিটিআরসি প্রদত্ত কোন শর্ত ভঙ্গ করলে;
(গ) এই নীতিমালার কোন শর্ত/শর্তাবলি ভঙ্গ করলে; এবং
(ঘ) সরকারের অন্য কোন নির্দেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে।

১০। অনলাইন সংস্করণ পরিচালনা:

সরকার কর্তৃক অনুমোদনকৃত বর্তমানে বিদ্যমান টেলিভিশন ও বেতার চ্যানেলসমূহ লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত রেখে অনলাইন সংস্কারণ পরিচালনা করতে পারবে। বিদ্যমান সংবাদপত্রসমূহ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত রেখে অনলাইন সংস্করণ পরিচালনা করতে পারবে।

১১। পেশাগত ও কারিগরি মান:

(ক) আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে পেশাগত ও কারিগরি মানসম্মত অনুষ্ঠান পরিচালনায় সক্ষম হতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে যাতে অনুষ্ঠানের মান সমুন্নত থাকে সেজন্য একাধিক প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি মালিকানায় অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপন ও পরিচালনার অনুমতি দেয়া যেতে পারে;

(খ) শর্ত থাকে যে অনলাইন গণমাধ্যম সম্প্রচারের জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে International Telecommunication Union (ITU) ও বিটিআরসি আরোপিত সকল টেকনিক্যাল স্টান্ডার্ড, শর্ত ও নিয়ন্ত্রণমূলক নীতিমালা মেনে চলতে হবে;

(গ) ব্রডকাস্টিং নীতিমালা, শর্তসমূহ, ফ্রিকোয়েন্সি, আন্তর্জাতিক রীতিনীতিসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের বা সরকার কর্তৃক দায়িত্ব প্রাপ্ত সংস্থা বা বোর্ড-এর প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে বা সম্মতিক্রমে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন/বিটিআরসি কর্তৃক গৃহীত বা স্বীকৃত সিদ্ধান্ত অবশ্যই নে চলতে হবে;

(ঘ) অনলাইন পত্রিকার ক্ষেত্রে পত্রিকার প্রতিটি কপিতে প্রকাশক ও সম্পাদকের নাম ঠিকানা অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে;

(ঙ) অনলাইন পত্রিকার ক্ষেত্রে পরিচালনাকারীর ন্যূনতম ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স থাকতে হবে;

(চ) অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনাকারীর (পত্রিকার ক্ষেত্রে সম্পাদকের) শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক/সমমানের থঅকতে হবে এবং সাংবাদিকতায় প্রথম শ্রেণীর পত্রিকায় (সার্কুলেশন ভিত্তিক) ০২ (দুই) বছর কাজের অভিজ্ঞতা ও যথাযথ প্রশিক্ষণ থাকতে হবে;

(ছ) উক্ত রীতিনীতি, নিয়ম-পদ্ধতি এবং শর্তসমূ এর প্রয়োগ বা প্রতিপালনের বিষয় সরকারের আদেশ-নির্দেশ অবশ্যই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে;

(জ) যে কোন অনলাইন গণমাধ্যম টেক্সট, অডিও ও ভিডিও content অথবা একাধিক প্রকার content সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট হোস্টিং করে তা পরিচালনা করতে হবে।

(ঝ) সকল অনলাইন গণমাধ্যম বাংলাদেশে স্থাপিত সার্ভারে হোস্টিং করতে হবে। ডিএন এস আই (ডোমেইন নেইম সার্ভার ইন্টারনেট প্রটোকল) সম্পর্কে তথ্য মন্ত্রণালয় অবহিত থাকতে হবে।

(ঞ) অনলাইন গণমাধ্যমের অন্য কোন দেশি বা বিদেশী গণমাধ্যম লিংক করা যাবে না।

১২। সম্প্রচার সংক্রান্ত শর্তাবলি:
(ক) সম্প্রচারিত বিষয়সমূহের রেকর্ড (কনটেন্ট) ৯০ (নব্বই) দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে;

(খ) তথ্য মন্ত্রণালয় বা সরকারের কোন এজেন্সি কর্তৃক চাহিত বা অধিযাচিত তথ্যাবলি লাইসেন্স গ্রহীতাকে নিয়ে খরচে প্রচারিত অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু (কনটেন্ট) অবশ্যই সরবরা করতে হবে এবং মনিটর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

(গ) সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞাপন নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে;

(ঘ) বেসরকারি মালিকানাধীন সংস্থা নিজস্ব ব্যবস্থাধীন প্রচার সময় (time slot) বিক্রয় করে বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। তবে অনুমতিপ্রাপ্ত সংস্থা অন্য কোন সংস্থার নিকট প্রচার সময় বিক্রয় করলে অনুমতিপ্রাপ্ত সংস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সমগ্র নীতিমালা অন্য সংস্থার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। তবে কোন বিদেশী সম্প্রচার সংস্থার নিকট সরাসরি বা তাদের দেশী/বিদেশী এজেন্সীর মাধ্যমে প্রচার সময় (time slot) বিক্রয় করা যাবে না।

(ঙ) বিজ্ঞাপন প্রচার সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানসহ প্রতিদিনের মোট প্রচার সময়ের ২০% এর বেশী হবে না।

১৩। সংবাদ/অনুষ্ঠানাদি সম্প্রচারের শর্তাবলি:

(ক) অনলাইন গণমাধ্যম দেশী-বিদেশী ধারণকৃত অনুষ্ঠান প্রচার করতে পারবে। তবে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সেন্সর নীতিমালা সম্পূর্ণভাবে অনুসৃত হবে। কোন অবস্থাতেই বিদেশী অনলাইন গণমাধ্যম সংবাদ, সংবাদ পর্যালোচনা, টক-শো; আলোচনা, সম্পাদকীয় এবং সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়ে অনুষ্ঠান ও মন্তব্য সরাসরি সম্প্রচার বা ধারণকৃত বা যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না।

(খ) সংবাদ প্রচারের জন্য অনলাইন গণমাধ্যম নিজস্ব প্রক্রিয়ায় স্ক্রিপ্ট প্রণয়ন করতে পারবে। স্থানীয় সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারের নীতিমালার প্রতিফলন থাকবে।

(গ) মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণ, একযোগে বিনামূল্যে সম্প্রচার করতে হবে। সরকার ঘোষিত বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ দিবসের সংবাদ/অনুষ্ঠানাদি যথাযথ গুরুত্ব সহকারে প্রচার করতে হবে। দেশের জরুরি জাতীয় প্রয়োজনে বা জনস্বার্থে প্রচারের জন্য সরকার যখন যে রকম নির্দেশ প্রদান করবে, তা যথাযথভাবে পালনপূর্বক প্রচার করতে হবে।

(ঘ) সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারের নীতিমালা প্রতিফলনসহ বিনামূল্যে সরকারি প্রেস নোট, বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

১৪। নিম্নলিখিত সংবাদ/অনুষ্ঠানাদি সম্প্রচার করা যাবে না:

(ক) দেশের অখণ্ডতা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, ভাষা-সংস্কৃতি, জনস্বাস্থ্য হানিকর এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের পরিপন্থী কোন সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(খ) রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং রাষ্ট্রীয় নীতির পরিপন্থী কোন সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(গ) হিংসাত্মক, সন্ত্রাস, বিদ্বেষ ও অপরাধ সম্বলিত কোন সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ঘ) দেশের কোন সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন কোন অনুষ্ঠান, যা কোন ধর্ম, জাতি গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় সম্পর্কে মানহানিকর মন্তব্য প্রচার করে এবং যা সাম্প্রদায়িকতাকে উৎসাহিত করে, নারী-পুরুষ বৈষম্যকরণ ও শারীরিক অক্ষমতার ভিত্তিতে ঘৃণা বা মানহানি ঘটাতে পারে এমন সংবাদ বা অনুষ্ঠান;

(ঙ) অশালীন বা আক্রমাণাত্মক কোন রসিকতা/গান/বিজ্ঞাপন/সংবাদ বা সাবটাইটেল সম্বলিত কোন অনুষ্ঠান, যা জনগণের নৈতিকতাকে কলুষিত, দুর্নীতিগ্রস্ত বা আহত করতে পারে এমন কো অনুষ্ঠান;

(চ) মানহানিকর উপাদান বা জ্ঞাতসারে মিথ্যা বিষয়াদি রয়েছে এমন সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ছ) আদালত অবমাননার কোনো বিষয় রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(জ) বিচার বিভাগ/বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী/বেসামরিক প্রশাসনের বিরুদ্ধে কুৎসামূলক উপাদান রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ঝ) মৌলিক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও সদাচরণ পরিপন্থী উপাদান রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ঞ) বাংলাদেশ দণ্ডবিধির অধীনে আমলযোগ্য কোনো অপরাধে উৎসাহ প্রদান, সাহায্য বা সহায়তা করে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ট) বন্ধুপ্রতিম দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে ক্ষতিকর কিছু রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ঠ) উচ্ছৃঙ্খলতা, ধ্বংসযজ্ঞ, শিশু-কিশোর অপরাধ বা অপসংস্কৃতিকে আকর্ষনীয় ও উৎসাহিত করতে পারে বা শিশুদের বুদ্ধিমত্তা বিকাশে ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন কোনো অনুষ্ঠান যাতে শিশুদের জন্য তৈরী অনুষ্ঠানগুলিতে আপত্তিকর ভাষঅ বা তাদের পিতা-মাতা বা মুরব্বীদের প্রতি অশ্রদ্ধাজনক কিছু রয়েছে এমন সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ড) তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ঢ) অন্য কোন আইন দ্বারা বারিত বা অসেন্সরকৃত কোন অশ্লীল অনুষ্ঠান এবং

(ণ) পরবার ও বৈবাহিক সম্প্রীতির পবিত্রতার বিরুদ্ধে কোনো কিছু রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান।

(ত) অনলাইন গণমাধ্যমে বাংলাভাষার, বিকৃতি ও শিক্ষা সংস্কৃতির পরিপন্থী অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না।

১৫। সম্প্রচার কার্যক্রম শুরুর সময়সীমা:
লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সপ্রাপ্তির ১ (এক) বছরের মধ্যে সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। অন্যথায় লাইসেন্স বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে শর্ত থাকে যে, সরকার যুক্তিসঙ্গত মনে করলে এ সময়সীমা বৃদ্ধি করতে পারবে।

১৬।বার্ষিক ফি:
লাইসেন্স প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনলাইন প্রচারিত বিজ্ঞাপন বাবদ প্রাপ্ত মোট অর্থের শতকরা ২ ভাগ সরকারি কোষাগারে সংশ্লিষ্ট খাতে চালানের মাধ্যমে প্রতি অর্থ বছর শেষ হওয়ার ৪ (চার) মাসের মধ্যে জমা প্রদান করতে হবে।

১৭। জাতীয় রেগুলেটরি কমিটি:
(ক) জাতীয় রেগুলটরি কমিটি (National Regulatory Committee) গঠন:
অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপন ও পরিচালনায় নিম্নলিখিত কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে একটি ‘জাতীয় রেগুলেটরি কমিটি থাকবে। এ কমিটির গঠন প্রকৃতি নিম্নরুপ হবে:

(১) সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা। -সভাপতি
(২) যুগ্ম-সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।-সদস্য
(৩) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বেতার, শাহবাগ, ঢাকা। – সদস্য
(৪) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশন, রামপুরা ঢাকা।- সদস্য
(৫) সরকার মনোনীত বেসরকারি বেতারের একজন প্রতিনিধি। – সদস্য
(৬) সরকার মনোনীত ০২ (২) জন বিশিষ্ট নাগরিক। – সদস্য
(৭) সরকার মনোনীত বেসরকারি বেতারের একজন প্রতিনিধি – সদস্য
(৮) সরকার মনোনীত বেসরকারি টেলিভিশনের একজন প্রতিনিধি। – সদস্য
(৯) সরকার মনোনীত বাসসের একজন প্রতিনিধি। – সদস্য
(১০) তথ্য অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি। -সদস্য
(১১) চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি। – সদস্য
(১২) বিটিআরসি’র একজন প্রতিনিধি (পরিচালক বা তদূর্ধ্ব পর্যায়ের) – সদস্য
(১৩) যুগ্ম-সচিব (সম্প্রচার), তথ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকা। – সদস্য-সচিব

(খ)। কমিটির কর্ম-পরিধি :

এই কমিটির কর্ম-পরিধি নিম্নরূপ হবে:
(ক) সম্প্রচার সংক্রান্ত আইন-কানুন ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করা এবং অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনায় সময়োপযোগী সংশোধনী সম্পর্কে পরার্শ প্রদান করা;

(খ) “মনিটরিং কমিটিক”র রিপোর্ট পর্যালোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা করা;

(গ) অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা লঙ্ঘিত হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

১৮। মনিটরিং কমিটি:
(ক) অনলাইন গণমাধ্যম মনিটরিং-এর লক্ষ্যে “মনিটরিং কমিটি” গঠন।

অনলাইন গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত সংবাদ/অনুষ্ঠান মনিটরিং-এর জন্য একটি “মনিটরিং কমিটি” থাকবে। এ কমিটির গঠন প্রকৃতি নিম্নরূপ হবে:

মনিটরিং কমিটি:
(১) যুগ্ম-সচিব (সম্প্রচার), ঢাকা -সভাপতি
(২) উপ-সচিব, (টিভি), তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা – সদস্য
(৩) উপ-সচিব (বেতার), তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা – সদস্য
(৪) উপ-সচিব (প্রেস), তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা – সদস্য
(৫) বিটিআরসি এর প্রতিনিধি – সদস্য
(৬) বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন প্রতিনিধি – সদস্য
(৭) বাংলাদেশ বেতারের একজন প্রতিনিধ – সদস্য
(৮) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার একজন প্রতিনিধি – সদস্য
(৯) সিনিয়র সহকারী সচিব (প্রেস/টিভি) – সদস্য সচিব
(১০) পিআইডি (সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা) – ২ জন
(১১) অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি – ৪ জন

(খ) কমিটির কার্যপরিধি:

(ক) অনলাইন গণমাধ্যমের সম্প্রচার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সরকারের নিকট প্রতিবেদন প্রদান;

(খ) অনলাইন গণমাধ্যম স্থাপন সংক্রান্ত নীতিমালা এবং চুক্তিপত্রে বর্ণিত শর্তাদি যথাযথ প্রতিপালন হচ্ছে কিনা তা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন প্রদান;

(গ) সম্প্রচার কার্যক্রমে কোন অনিয়ম কিংবা কোন ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হলে এ ব্যাপারে সরকারের নিকট সুপারিশ প্রদান;

(ঘ) কমিটি কর্তৃক প্রতি মাসে একবার সভা আহ্বান করা এবং কর্যবিবরণী সরকারের নিকট যথাসময়ে প্রেরণ করা;

(ঙ) বিদ্যমান নীতিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধনী বিষয়ে সুপারিশ করা।


১৯। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ :

(ক) অনলাইন গণমাধ্যম বাতিল করার পূর্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হবে;

(খ) উপ-ধারা (ক) এর অধীন লাইসেন্সধারীর কোন বক্তব্য থাকলে তা বিবেচনা করে সরকার জরিমানা/জামানত বাজেয়াপ্তকরণ অথবা যথাযথ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যান্ত লাইসেন্স স্থগিত রাখার নির্দেশ দিতে পারবে এবং

(গ) কোন লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করার পর্যায়ে সরকার আশু ব্যবস্থা গ্রহণ সমীচীন বিবেচনা করলে সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারকেন্দ্রের প্রচার বন্ধ বা স্থগিত করার উদ্দেশ্যে উক্ত কেন্দ্রের যে কোন বা সকল যন্ত্রপাতি জব্দ করার আদেশ দিতে পারবে।

২০। হেফাজতকরণ:
বর্তমানে বিদ্যমান অনলাইন গণমাধ্যমের কোন টেলিভিশন, বেতার এবং সংবাদ পত্রকে এই নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর অনধিক ১২০ (একশত বিশ) দিনের মধ্যে এই নীতিমালার আওতায় লাইসেন্স করতে হবে।

প্রাসঙ্গিক
অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালার খসড়া : প্রতিষ্ঠানের জন্য লাইসেন্স নিতে হবে
‘অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা অক্টোবরে’
এবার ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে ঘোষিত হল সরাসরি যুদ্ধ। কেবল কথা নয়, মুখোমুখি প্রতিবাদ—এই অঙ্গীকার নিয়ে গঠিত হল ইভটিজিং বিরোধী গেরিলা বাহিনী।
প্রথাগত লেখালেখি, বিনোদনদায়ক টকশো আর নিয়মরক্ষার মানববন্ধনের বাইরে গিয়ে এই বাহিনী ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় অবস্থান নিতে ইচ্ছুক। সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে ইভটিজিংকে প্রতিরোধ করতে চায় এই বাহিনী। এর সদস্যরা মনে করেন, ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে সকল কান্নাকে প্রতিরোধে রূপান্তরিত করতে হবে। চোখের জল মুছে ফেলে দাঁড়াতে হবে ঘুরে। আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে কেবল নীতিবাক্য আওড়ান না, তাৎক্ষণিক প্রতিবাদও করেন। ইভটিজিংবিরোধী গেরিলা বাহিনী সেইসব সাহসী এবং নির্ভীক মানুষের সংগঠন—যারা কথা এবং কাজে বিশ্বাসী।

কেন হঠাৎ এই গেরিলা বাহিনী?
ইভটিজিং বিরোধী গেরিলা বাহিনী হবে নাগরিকদের সাহস জোগানোর প্লাটফর্ম। সমাজে গুটিকয়েক ইভটিজার থাকতেই পারে। তাদের ভয়ে মুখ লুকিয়ে থাকলে চলবে না। তাদের বিরুদ্ধে কেবল প্রথাগত লেখালেখি, বিনোদনদায়ক টকশো আর নিয়মরক্ষার মানববন্ধন যথেষ্ট নয়। ইভটিজারের মনে ভয় ধরিয়ে দিতে হলে তাদের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে, তাদের মুখোশ খুলে ফেলতে হবে, তাদের সাথে লড়তে হবে। এইসব নরপিশাচের ভয়ে মেয়েরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে করবে, লুকিয়ে থাকবে ঘরের নিরাপদ কোণে—এই অন্ধকার সময়ের অবসান ঘটাতে চায় ইভটিজিংবিরোধী গেরিলা বাহিনী।

কারা আছেন গেরিলা বাহিনীতে?
এই বাহিনীতে আছেন র‌্যাব ও পুলিশের পরিশ্রমী কিছু সদস্য, আছেন মেধাবী কিছু আইনজীবী, আন্তরিক ক'জন সাংবাদিক, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যমী কিছু শিক্ষার্থী এবং অফুরন্ত প্রাণশক্তিসম্পন্ন কিছু ব্লগার ও ফেসবুকার। বলে রাখা ভালো, এখানে কেউ নেতা নয়, সবাই কর্মী, সবাই সমান। সুখের বিষয়, এখন প্রতি ঘন্টাতেই বাড়ছে বাহিনীর সদস্য সংখ্যা। প্রত্যেকেই এই মর্মে অঙ্গীকারাবদ্ধ যে, যখন যেখানে যার সাহায্য প্রয়োজন হবে, তারা সেখানে সাহায্য করবেন। তাদের সাহায্য নিয়ে ইভটিজারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে সেটা প্রচার করা হবে।

গেরিলা বাহিনী মূল কাজ কী?
১. বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আগ্রহী মেয়েদের বিনামূল্যে কারাতে এবং সেলফ ডিফেন্স প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
২. বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক আমরা এক বা একাধিক ইভটিজিং বিরোধী গেরিলা গ্রুপ গড়ে তুলবো। আমাদের থাকবে একটি নির্দিষ্ট ফোন নাম্বার। কোথাও ইভটিজিংয়ের খবর পাওয়া গেলে, ফোনে জানালে গেরিলা গ্রুপের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে হাজির হবে।
৩. অনলাইনভিত্তিক ইভটিজারদের বিরুদ্ধে অনলাইনেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। এজন্য সদা প্রস্তুত থাকবে সাইবার গেরিলা ইউনিট।
৪. বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভটিজিং বিরোধী প্রচারণা চালাবো হবে।

যে কারণে ফেসবুক গ্রুপ
১. ইভটিজিং নিয়ে নেতিবাচক খবরই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় বেশিরভাগ সময়। এই গ্রুপের মাধ্যমে ইভটিজিংয়ের ইতিবাচক খবর, ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর খবর চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও আমরা উৎসাহিত করবো এই ধরনের খবর বেশি বেশি প্রকাশ করার জন্য। প্রসঙ্গত, যারা ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে রুখে দাড়িয়েছেন তারা তাদের অভিজ্ঞতা, কেসস্টাডি ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করতে পারেন।
২. বিভিন্ন সময়ে যারা ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছেন তাদের অভিজ্ঞতা এবং সেটা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়গুলো ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করা হবে।
৩. যৌন হয়রানিমূলক বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপের বিরুদ্ধে সবাই মিলে রিপোর্ট করা হবে।

গণমাধ্যমও আছে সঙ্গে
ইভটিজিং বিরোধী গেরিলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে গত ২৩ জুন এটিএন নিউজের জনপ্রিয় 'ইয়াং নাইট' অনুষ্ঠানে প্রচারিত হল আলোচনা অনুষ্ঠান। এর আগে রেডিও এবিসির 'শব্দগল্পদ্রুম' অনুষ্ঠানে এই বাহিনী নিয়ে প্রতি পর্বেই থাকছে বিশেষ আয়োজন।

রুখে দাঁড়ানোর সময় এখন
ইভ টিজিং আন্দোলন জোরদার হচ্ছে ক্রমশ। মাত্র ৪৮ ঘন্টায় ইভটিজিংবিরোধী গেরিলা বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন ৮৫০+ সাহ্সী যোদ্ধা। আপনিও কি সঙ্গে আছেন? যদি থাকেন তাহলে যোগ দিন গেরিলা বাহিনীতে, যুক্ত হন ফেসবুক গ্রুপে। আপনার নিজের সমস্যা, আপনার আশেপাশের সমস্যা, আপনার বন্ধু-বান্ধবের সমস্যা ফেসবুক গ্রুপে জানান। আর এই খবর জানিয়ে দিন আশেপাশের সবাইকেও। সমাজ কখন বদলাবে- সেই আশায় বসে থাকার দিন নেই আর। রুখে দাঁড়ানোর সময় এখন! চলুন সবাই মিলে ইভটিজারদের রুখে দেই।

বুকমার্কস
■ ফেসবুক গ্রুপ
■ সামহোয়্যারইন ব্লগে ইভটিজিংবিরোধী সংকলন

প্রথম প্রকাশ
তদন্তের নামে ইউল্যাব কর্তৃপক্ষ সময়ক্ষেপণ করে মূল অপরাধীদের আড়াল করতে চাইছে - ব্লগারদের এই সন্দেহ সেই শুরু থেকেই। ব্লগে ইউল্যাবের পক্ষ নিয়েও অনেকে চেয়েছে জল ঘোলা করতে। কিন্তু ব্লগারদের তোপের মুখে উড়ে গেছে তারা। এখন ভাসমান কেউ নয়, নাটের গুরুরাই ব্লগারদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে অভিনব অপকৌশল নিয়ে মাঠে নেমে গেছে। অন্য একটি বাংলা ব্লগে আশ্রয় নিয়ে এই অপকর্ম মাত্রই শুরু হয়েছে।
গতকাল হঠাৎই দেখা গেল, আমারব্লগ নামের একটি ব্লগে আসিফ আকবর নামের এক ব্লগার একটি লেখা পয়দা করেছেন। সেখানে তিনি ইউল্যাবের পক্ষে নির্লজ্জ সাফাই গাইতে গাইতে এটা বোঝানোর প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন যে, ইভটিজিং নিয়ে ব্লগারদের আন্দোলন পুরোটাই ভন্ডামিপূর্ণ এবং সেটি ইউল্যাবের মতো সুমহান প্রতিষ্ঠানকে হেয় করারই একটি অপচেষ্টা! ব্লগারদের আন্দোলনকে তিনি স্পষ্টভাবে বিদ্রুপ করেছেন এবং যৌন নিপীড়নের এই সোচ্চার আন্দোলনকে 'পাবলিসিটি' কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নানা রকম ট্যাগিং দিয়ে ব্লগারদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার ব্যর্থ চেষ্টাও করেছেন তিনি। এমনকি যে ব্লগার একটি নারীর সম্ভ্রম রক্ষা করেছেন, তাকে নিয়েও উপহাস করতে ছাড়েননি এই 'ব্লগার'।

আসিফ আকবর যেভাবে দীপাবলি
ব্লগারের নাম আসিফ আকবর হলেও ব্লগের ইউআরএলে তার আইডি দেখাচ্ছে 'aguuuun'। আমরা অনুসন্ধানে নামতে পারি, কে সেই আসিফ আকবর/আগুন? কী তার পরিচয়? দেখা যাচ্ছে, আমারব্লগ নামের সেই ব্লগে এই লোক নাম লিখিয়েছেন মাত্র ২ দিন ৩ ঘন্টা আগে। সর্বসাকুল্যে তার মোট পোস্ট একটি। বোঝা যায়, ওই একটি পোস্ট দেওয়ার জন্যই আসিফ আকবর কিংবা 'aguuuun' নিকটির জন্ম। সাফাই গাওয়া পোস্টটি পাঠকের নজরে তেমন পড়েনি ভেবে আসিফ আকবর ওরফে আগুন সাহেব পরদিন তার 'দীপাবলি' নিক থেকে সেই একই পোস্ট আবার প্রসব করলেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই নিকের পোস্টও সাকুল্যে একটি আর বয়সও ১ দিন ৮ ঘন্টা মাত্র! যদিও আজ রাতের কোনো এক সময়ে পোস্টটি তিনি মুছে দিয়েছেন। কিন্তু রয়ে গেছে রেকর্ড! কাজেই আমরা আবার অনুসন্ধানে নামতে পারি, কে এই দীপাবলি? কী তার পরিচয়?

অনুসন্ধান অতঃপর : দীপাবলি যেভাবে নাসিমা খন্দকার
প্রথমেই খোঁজা যাক সামহোয়্যার..ইন ব্লগে। দেখা যাচ্ছে, জনাবের এখানেও একটি নিক আছে। আর সেটি খোলা হয়েছে দু সপ্তাহ ৪ দিন আগে। ইউল্যাবের ঘটনার পর পর। তার দুটি পোস্টের সর্বশেষটির শিরোনাম হচ্ছে - 'প্রফেসর ইমরান রহমান ইউনিভারসিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ এর উপাচার্য নি্যুক্ত'। এহেম এহেম! আসিফ আকবর ওরফে আগুন ভাই ওরফে নাসিমা খন্দকার 'আপুনি' সামহোয়্যারে আরো একখানি নিক খুলেছেন, সেটার বয়সও ২ সপ্তাহ ২ দিন! ইউল্যাবের সেই অপকর্মের পর পর নিকটি খোলা হয়েছে। তিনি সেখানে "আমি একজন মিডিয়াকর্মী" পরিচয় দিয়ে মিডিয়াকর্মীর ভেক ধরতে চেয়েছিলেন। আহারে!
এতোক্ষণ সকল কাজের কাজী গুগলকে উপেক্ষা করা ঠিক হচ্ছিল না। সুতরাং 'dipaboly' লিখে দিলাম গুগলে সার্চ, অচিরেই বেরিয়ে এলো একটি ফেসবুক একাউন্টের লিংক। সেখানে তার বৃত্তান্ত খুঁজে জানা গেল, তিনি গুণধর সেই ইউল্যাবের একজন কর্মকর্তা, তাও প্রশাসনিক শাখার। আরো ভালোভাবে খুঁজে দেখতে পাই, আমারব্লগের সেই কুৎসামূলক পোস্টটি তার ওয়ালে চমৎকার ভঙ্গিতে শোভা পাচ্ছে। এমনকি নিজ পরিচয়ে তিনি সেখানে একটি মন্তব্যও করেছেন। বুদ্ধি খাটিয়ে অবশ্য আসিফ আকবর কিংবা দীপাবলি নিক থেকে দেননি। প্রতিভাবান এই ভদ্রমহিলার নাম নাসিমা খন্দকার (নিপা), সাকিন - ইউল্যাব!

রেবের উন্মুক্ত ডেটাবেজেও সেই নাসিমা খন্দকার
মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমরা যদি nasima khandoker dipaboly লিখে গুগলে সার্চ দেই, তাহলে পেস্টবিনের একটি লিংক পাওয়া যায়, যেখানে আছে রেপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (রেব) ওয়েবসাইটে রেজিস্টার্ড মেম্বারদের লগইন নেইম-পাসওয়ার্ডের একটি তালিকা। সেই তালিকায় এই নাসিমা খন্দকারের মেইল-লগইন নেইম-পাসওয়ার্ড সবই উন্মুক্ত। প্রসঙ্গত রেব ওয়েবসাইট এর আগেও হ্যাক হয়েছিল। পরেও কয়েক দফা হ্যাকের শিকার হয়েছে অনেকটা নিরবেই। সাইটের ত্রুটিই তার মূল কারণ। হ্যাকাররা সাইটে ঢুকে পুরো ডেটাবেজ প্রকাশ্যে তুলে দিয়েছে, রেব হয়তো সেটি জানেই না।
সংযুক্তি : রেবের সেই ডেটাবেজ

কী দাঁড়ালো শেষমেশ?
সবমিলিয়ে তাহলে কী দাঁড়ালো? আসিফ আকবর/আগুন = দীপাবলি = নাসিমা খন্দকার = ইউল্যাবের প্রশাসনিক কর্মকর্তা! যে ইউল্যাব কর্তৃপক্ষ ভালোমানুষ সেজে সামহোয়্যারে অফিসিয়াল বিবৃতি পাঠাতো, তারাই কি এখন নাসিমা খন্দকারদের দিয়ে নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে যৌন হয়রানিকারী অপরাধীদের আড়াল করতে? যৌন নিপীড়নের ঘটনা ধামাচাপা দিতে?

হায়রে পাপিষ্ঠ ইন্টারনেট! লজ্জাবনত ইউল্যাবের লেজটুকুও লুকোতে দিবি না তুই? হায়!


ফলোআপ ১ : দিনভর চললো তথ্য গোপনের চেষ্টা
গত রাতে এই লেখা দেওয়ার পর ঘটে গেছে অনেক কিছুই। ইউল্যাব কর্মকর্তা নাসিমা খন্দকার আজ শুক্রবার দিনভর অনলাইন থেকে তথ্য গোপন করার চেষ্টা চালিয়েছেন। প্রথমে তিনি ফেসবুক থেকে তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করেছেন, শেষমেশ তার ফেসবুক একাউন্টই ডিঅ্যাকটিভেট বা হাইড করে ফেলেছেন। ব্লগেও তার বিভিন্ন নিক থেকে ইউল্যাব সাফাই গাওয়া পোস্টগুলো মুছে ফেলেছেন দ্রুততম সময়ে। অন্তত একটি ব্লগ একাউন্টকে রেখেছেন পুরোপুরি সংরক্ষিত। ভবিষ্যতের স্বার্থে এই কর্মকর্তার সন্দেহজনক অনলাইন অ্যাকটিভিটির একটি রেকর্ড এখানে রাখা হল একেক করে -
■ ফেসবুক একাউন্টে লুকোচুরি
এই লেখা আসার আগে : স্ক্রিনশট
এই লেখা আসার পরে : স্ক্রিনশট | লিংক
■ তথ্য গোপনের চেষ্টা
এই লেখা আসার আগে : স্ক্রিনশট
এই লেখা আসার পরে : স্ক্রিনশট | লিংক
■ দীপাবলি নিকের হালহকিকত
এই লেখা আসার আগে : স্ক্রিনশট
এই লেখা আসার পরে : স্ক্রিনশট | লিংক
■ সেই পোস্ট উধাও
এই লেখা আসার আগে : স্ক্রিনশট
এই লেখা আসার পরে : স্ক্রিনশট | লিংক
■ হঠাৎ গায়েব সেই মন্তব্য
এই লেখা আসার আগে : স্ক্রিনশট
এই লেখা আসার পরে : স্ক্রিনশট | লিংক
■ সামহোয়্যারের সেই নিক
এই লেখা আসার আগে : স্ক্রিনশট | গুগল সার্চে
এই লেখা আসার পরে : স্ক্রিনশট | লিংক


সংযুক্তি
প্রথম প্রকাশ
বসুন্ধরা গ্রুপের অনলাইন বার্তা সংস্থা বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম গতকাল একটি খবর প্রকাশ করে। শিরোনাম 'দুধ বেচতে ‘আইনস্টাইন’ প্রতারণা'। আবুল খায়ের গ্রুপের মার্কস ব্রান্ডের গুঁড়োদুধ নিয়ে ঘরোয়া 'অনুসন্ধানী' প্রতিবেদন সেটি। বিস্ময় জাগে মনে—যে বাংলানিউজের শীর্ষদেশে গত অন্তত এক বছর ধরে আবুল খায়ের বিজ্ঞাপন ঝুলছে, তাদের বিরুদ্ধেই আলমগীর হোসেন সম্পাদিত বাংলানিউজ হঠাৎ কেন অনুসন্ধানী হয়ে উঠল? বাংলানিউজের হোমপেজে একটু চোখ বুলোতেই লক্ষ্য করলাম, আবুল খায়েরের সেই বিজ্ঞাপন আর নেই। ওয়েব আর্কাইভ ঘেটে দেখলাম, গত ১২ মেতেও আবুল খায়েরের বিজ্ঞাপন আলোকিত করছিল বাংলানিউজের পশ্চাৎদেশখানি। এখন তার বদলে ঠিক ওই স্থানে 'স্পেস ফর অ্যাডভার্টাইজমেন্ট' লেখা এক হৃদয়বিদারক আর্তি ঝুলছে দুটি মোবাইল নম্বরসহ।
সংযুক্তি : আবুল খায়েরের বিজ্ঞাপনযুক্ত বাংলানিউজের হোমপেজ (ওয়েব আর্কাইভে)

বাইরে এক, ভেতরে অন্য
গুম হওয়া সেই সংবাদটি আমার চোখে পড়ে গতকাল রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে। রাত নয়টার দিকেও সেটি লিড আইটেম হিসেবেই ছিল বাংলানিউজের হোমপেজে। রাত ১১টার দিকে দেখি সেই সংবাদ আর কোথাও নেই! ব্রাউজারে সেইভ করা লিংকে ক্লিক করলে দেখাচ্ছে আরেকটি সংবাদ। গুগল সার্চ থেকে ক্লিক করলেও সেই একই কাণ্ড। শিরোনাম এক, কিন্তু ভেতরে আরেক খবর!

অনলাইনে কিছুই গুম করা যায় না
ইলিয়াস আলী গুমের ক্লু না থাকতে পারে, কিন্তু অনলাইনে কোনো না কোনো ক্লু থাকবেই। আবুল খায়ের গ্রুপের লাল সংকেতে বিজ্ঞাপন বন্ধ হলে 'অনুসন্ধানী নিউজ', আবার সবুজ সংকেতে সেই নিউজ গুম—ধামাচাপা দেওয়ার এই কাজটি অনলাইনে একটু কঠিনই। গুগলবট সেখানে সদাজাগ্রত। সার্চ করলে এখনো পাবেন গুম হওয়া সেই নিউজের শিরোনাম, সঙ্গে স্ক্রিনশট।
এমনিতে অনলাইনে নির্বিচার কপি-পেস্ট জলবৎ তরল ব্যাপার। অন্যায় যদিও, তবু এর সুবাদেই আরেকটি অনলাইন নিউজ সাইটে পাওয়া গেল সেই সংবাদের অবিকল প্রতিলিপি।

অনলাইনে অপসাংবাদিকতা
‌‌'‌নিউজ করছি-করবো' হুমকি দিয়ে অর্থকড়ি হাতিয়ে নেওয়া মফস্বলে তো বটেই, এমনকি এই ঢাকায়ও পরিচিত দৃশ্য ইদানিং। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেসব ঘটে লোকচক্ষুর অন্তরালে। কিন্তু বাংলানিউজ এবার একেবারে খোলা অনলাইনেই সেই কাজটি সম্পন্ন করলো। তাতে অপসাংবাদিকতার ইতিহাসে প্রধান সম্পাদক আলমগীর হোসেনের স্থানটি মোটামুটি পাকা হয়ে গেল। তবু নগদ নারায়ণে কাজ হলে তো ভালোই, নইলে নিশ্চয়ই আবারও বিজ্ঞাপন দিয়ে বাংলানিউজের অর্থকষ্ট দূর করতে এগিয়ে আসবে আবুল খায়ের গ্রুপ—এ প্রত্যাশা আমাদের সকলের!

যেমন ছিল গুম হওয়া সেই সংবাদটি
দুধ বেচতে ‘আইনস্টাইন’ প্রতারণা
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জনক অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের নাম ও ছবি নিয়ে আধুনিক প্রতারণায় নেমেছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপ। আইনস্টাইনের ছবি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি ‘মার্কস অ্যাকটিভ স্কুল’ গুড়ো দুধের বিজ্ঞাপন তৈরি করে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। বিজ্ঞাপনটিতে বলা হচ্ছে, আইনস্টাইনের ছেলেবেলায় হেলথ ড্রিংক উদ্ভাবনই হয়নি। সে সময় নির্ভেজাল প্রাকৃতিক খাবার ছিল; এসবের একটিহচ্ছে গরুর খাঁটি দুধ। কৃত্রিম বা আর্টিফিসিয়াল হেলথ ড্রিংকস কখনই দুধের বিকল্প নয়।
আইনস্টাইনের মত একজন জগ‍ৎখ্যাত বিজ্ঞানীকে এভাবে অযৌক্তিকভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে ব্যবহার করাটা অনৈতিক ও অরুচিকর; এ নিয়ে সচেতন জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের মত অধিক জনবহুল দেশে এভাবে জগৎখ্যাত একজন বিজ্ঞানীর ছবি ব্যবহার করে এ ধরণের বিজ্ঞাপন প্রচার— সোজাকথায় বৃহৎ ভোক্তা শ্রেণীকে প্রতারণার নামান্তর বলে মনে করছেন তারা। বিজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এখন খাঁটি তরল দুধ দুর্লভ। আর যা পাওয়া যায় তার থেকে অনেক প্রাকৃতিক উপাদান কেড়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তু এই উক্তির সঙ্গে বাস্তবের অনেকাংশের মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।
রাজধানীসহ দেশের প্রায় প্রধান সব জায়গায় এখনো গরুর খাঁটি তরল দুধ পাওয়া যাচ্ছে। দেশের বেশ কয়েকটি সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই খাঁটি তরল দুধ উৎপাদনকারী থেকে নিয়ে ভোক্তা পর্যন্ত সংগ্রহ ও সরবরাহে নিয়োজিত। বিজ্ঞাপনে তরল দুধ থেকে প্রাকৃতিক উপাদান কেড়ে নেয়া হচ্ছে বলে মার্কস দাবি করেছে। অপরদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুড়ো দুধ তৈরির ক্ষেত্রে দুধের প্রধান প্রধান প্রাকৃতিক উপদানগুলো একেবারেই নষ্ট হয়ে যায় এবং এই ধরণের উপাদানগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা কোনই কাজে আসে না। শিশুদের বিকাশে দুধের প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদান বা নিউট্রিয়েন্টই যথেষ্ট বলে বিজ্ঞাপনে অভিজ্ঞ ডাক্তারের মত পরামর্শ দিয়েছে মার্কস। কিন্তু গণমাধ্যমে এধরণের প্রতারণামূলক প্রচার প্রকাশনা আইনবিরোধী বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।
প্রসঙ্গত, মার্কস গুড়ো দুধে একাধিকবার মেলামিনের মতো বিষাক্ত রাসায়ানিক উপাদান মেশানোর অভিযোগ উঠেছিল। শুধু তাই নয়, মার্কস গুড়ো দুধের অধিকাংশ প্যাকেটের গায়ে বাজার মূল্য লেখা নেই বলেও বিভিন্ন সময় অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল মার্কেটে মার্কস গুড়োদুধ বিপণনকারী ২ ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, মার্কসের অধিকাংশ দুধের প্যাকেটের গায়েই বাজার মূল্য লেখা থাকে না। আমাদের পক্ষেও ওই ধরণের প্যাকেটে বাজার মূল্য লেখা সম্ভব হয় না। একারণে প্রায়ই ক্রেতাদের সামনে আমাদের বেকায়দায় পড়তে হয়। এ কারণে জরিমানাও গুনতে হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে।
দেশের অন্যতম বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেশে গুড়ো দুধ সংকট সৃষ্টিরও অভিযোগ রয়েছে। এই সংকট সৃষ্টি করে প্রায়ই কোনো ধরণের নোটিস ছাড়াই মার্কস তাদের গুড়ো দুধের দাম ১০-২০ টাকা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে ক্রেতা-ব্যবসায়ীরা জানান। এদিকে মার্কসের বিজ্ঞাপনে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী বাজারে তরল দুধ দুর্লভ, আর যা পাওয়া যায় তা থেকে প্রাকৃতিক উপাদান কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মু. হাসিবুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, এক অর্থে গরুর দুধ তো আসলে গরুর বাছুরের জন্য, এটা মানুষের জন্য নয়। এটাকে মানুষের পানের উপযোগী করতে হলে দু’টি কৌশলের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। প্রক্রিয়া দু’টির প্রথমটি হলো পাস্তুরাইজ করে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ামুক্ত করা আর দ্বিতীয়টি হলো দুধ থেকে ফ্যাট (চর্বি) কমানো। তিনি আরও বলেন, দুধ যদি ফুলক্রীম হয় তাহলে এটা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে কিছুটা মাখন তুলে নেওয়া হলে তা মানুষের জন্য উপযোগী।
এভাবেই প্রক্রিয়াজাত করেই দেশের প্রধান দুগ্ধ উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে গরুর দুধ বিপণন করে থাকে। অর্থাৎ গুড়ো ও তরল দুধ সম্পর্কে মার্কসের বায়বীয় দাবি একেবারেই অযৌক্তিক।
আবুল খায়ের গ্রুপের মত আরো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সঙ্গে এরকম প্রতারণা করে ব্যবসা করছে। এনিয়ে বাংলানিউজের অনুসন্ধান চলছে। শিগগিরই আরো নতুন নতুন তথ্য পাঠকদের জানানো হবে।

ফুটনোট
অনলাইনে লেজ লুকোনো আসলেই কঠিন!

১০ মে রাজধানীর ইউল্যাবের সামনে ইউল্যাবের শিক্ষার্থী পরিচয়ে যৌন হয়রানির যে ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে ব্লগারদের আন্দোলন অভূতপূর্ব নিঃসন্দেহে। তবে সার্বিকভাবে ব্লগাররা যেহেতু অসংগঠিত, সেজন্য তারা খুব সম্ভবত ভুল পথে হাঁটছে, যে কারণে এই আন্দোলন তার কাঙ্ক্ষিত সুফল নাও পেতে পারে শেষপর্যন্ত। আর অন্যদিকে ইউল্যাব কর্তৃপক্ষ সুকৌশলে এক ঢিলে দুই পাখি মারার দিকে এগোচ্ছে পরিকল্পিতভাবেই। কিভাবে? সেটাই বলছি একেক করে-

অপরাধী শনাক্ত হয়ে গেছে, তবে...
ইউল্যাবের প্রশাসনিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, সেদিনের নারী ও ব্লগার লাঞ্ছনার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের ইতিমধ্যে শনাক্ত করেছে ইউল্যাব কর্তৃপক্ষ। ইউল্যাব কর্তৃপক্ষ গত সোমবারও প্রথম আলোকে যা বলেছে, ‌‌"ওই রাতে একজন নারী ইভ টিজিংয়ের শিকার হয়েছেন। কিন্তু অভিযুক্ত ছেলেরা ইউল্যাবের ছাত্র কি না, সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।" এটা পুরোপুরি মিথ্যাচার। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথাকথিত সুনাম রক্ষার্থে এই লুকোচুরিতে নেমেছে তারা এবং সচেতনভাবেই অপরাধীদের আড়াল করা হচ্ছে। ইউল্যাব কর্তৃপক্ষের বোঝার সুবিধার্থে আমি শনাক্ত হওয়া এক অপরাধীর নামের আদ্যাক্ষরও জানিয়ে দিচ্ছি। ২০১১ ব্যাচের সেই শিক্ষার্থীর নামের প্রথম দুটি অক্ষর ‌'আদ', যে কিনা ওই এলাকায় ইভটিজিং, মাস্তানি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িত দীর্ঘদিন ধরেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ইউল্যাব কর্তৃপক্ষের কাছে এই সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। সামহোয়্যারইনের কাছে পাঠানো বিবৃতিতে সেটা তারা নিজেরাও স্বীকার করেছে। ওই বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে - "ইউল্যাব তার সিসিটিভি’র উক্ত সময়ের ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখেছে।" খতিয়ে তারা কী দেখেছে, সেটা সচেতনভাবে চেপে যাওয়া হয়েছে, ব্লগারদেরও কেউ গুরুত্বপূর্ণ সেই প্রশ্নটি তোলেনি এ পর্যন্ত।

সেই সিসিটিভি ফুটেজ কোথায়?
ইউল্যাব কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটিতে ঢালতলোয়ারবিহীন ব্লগার প্রতিনিধিদের সত্যিকার অর্থে করার তেমন কিছু নেই। ইভটিজিং নিয়ে বড়জোর জ্ঞানগর্ভ ভাষণ অথবা টেবিলের কোনো একটি কোনা ধরে গোঁ ধরে বসে থাকা ছাড়া করার কিছু আসলেই নেই। ঠিক এই সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতার সুযোগটিই নিতে চাইছে ইউল্যাব কর্তৃপক্ষ। লক্ষ্য করুন, তদন্তকাজে যখনই ব্লগারদের প্রতিনিধি সম্পৃক্ত হবেন, তখনই তদন্তের দায়ভার কেবল ইউল্যাবের ওপরেই নয়, ব্লগারদেরও বহন করতে হবে - ভালো মন্দ যা-ই হোক। আরো সহজভাবে বললে, ইউল্যাবের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে তৈরি, কেবল সেটি হালাল করার জন্যই ব্লগারদের প্রতিনিধি নেওয়ার জন্য তারা বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে। যেন কথিত ‌'সর্বসম্মত তদন্তের' পরে ব্লগারদের আর কিছু বলার মুখ না থাকে। সবচেয়ে বড়ো কথা, যেখানে সিসিটিভি ফুটেজ ইউল্যাব কর্তৃপক্ষের কাছে এখনো সংরক্ষিত আছে, সেখানে তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করার কোনো অর্থ কী?

এই মুহূর্তে যা করা জরুরি
ইউল্যাব কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। ব্লগারদের এক বা দুজন প্রতিনিধি কিংবা সামহোয়্যার কর্তৃপক্ষের হাতে ওই সময়ের ফুটেজ সরবরাহ করা হোক। ব্লগারদের মধ্যেই অভিজ্ঞ অনেকেই আছেন (এমনকি আমি নিজেও), তারা সেই ভিডিও থেকে স্থিরচিত্র তৈরি করবেন। সামহোয়্যার কর্তৃপক্ষ একটি স্টিকি পোস্টের মাধ্যমে সেই ছবিগুলো প্রকাশ করবে। এতে পুরো দিনও লাগবে না আশা করি, কয়েক ঘন্টার মধ্যে অপরাধীরা শনাক্ত হবে। যেহেতু ইতিমধ্যে ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া গেছে, কাজেই ঘটনার সত্যতা নির্ণয় এবং অপরাধী শনাক্তকরণ মোটেই কঠিন কোনো কাজ হবে না। ইতিমধ্যে একজন শিক্ষকও একই স্থানে প্রায় অনুরূপ একটি ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে আমরা জেনেছি। তিনি যোগাযোগের জন্য তার মোবাইল নম্বরও একজন ব্লগারকে দিয়েছেন। তিনি এও বলেছেন, প্রয়োজনে তিনি সাক্ষ্য দেবেন। ফলে ওই শিক্ষকও তদন্তকাজে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারেন।

সুতরাং, প্রিয় ব্লগার, কালক্ষেপণ করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার আগেই সোচ্চার হোন প্লিজ। 

সংযুক্তি
প্রথম প্রকাশ
বিশ্বব্যাংকটা খুব দুষ্টু! মাননীয় যোগাযোগমন্ত্রীর মান-সম্মানের পর্দাটা একটানে সরিয়ে দিয়ে তারা বলছে - পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য কমিশন চেয়েছে সৈয়দ আবুল হোসেনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সাকো ইন্টারন্যাশনাল। কমিশন দিলে কাজ পেতে যোগাযোগমন্ত্রী নিজেই সহায়তা করবেন বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রমাণ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি বিশ্বব্যাংক। জুয়াচুরি আর দুর্নীতির অভিযোগে বিশাল অংকের ঋণ পর্যন্ত আটকে দিয়েছে। তাতেই বন্ধ পদ্মা সেতুর কাজ। তাই না দেখে যোগাযোগমন্ত্রীর মনে অনেক দুঃখ...



সংযুক্তি
ই-প্রথম আলো
ফেসবুক ফ্যান পেইজ ১  □  ফেসবুক ফ্যান পেইজ ২  □  ফেসবুক ফ্যান পেইজ ৩
প্রকাশকাল : ১৭ অক্টোবর ২০১১
ঢাকায় আজ শনিবার সকালের প্রতিবাদ ছিল পুরোপুরি ব্যতিক্রমধর্মী, প্রতীকী। সন্দেহাতীত প্রমাণ ছাড়াই সৌদি আরবে ৮ বাংলাদেশীকে শিরচ্ছেদ করা হয়েছে কয়েকদিন আগে। আরো পাঁচ বাংলাদেশীর মৃত্যুদন্ডও খুব শীঘ্রই একই পদ্ধতিতে কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে। এই ঘৃণ্য অমানবিক বর্বরতার বিরুদ্ধে এটা ছিল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি। না, এটা কোনো মিছিল ছিল না, মানুষ ভাড়া করে মানববন্ধনও নয়, আটজন তুচ্ছ মানুষ নিজেদের শরীরে দড়ি বেঁধে মাথা নিচু করে রাজপথে দাঁড়িয়ে ছিলেন কিছুক্ষণ। সৌদি আরবে আট বাংলাদেশিকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে নির্মমভাবে হত্যার পূর্ব মুহূর্তে অসহায় মানুষগুলো ঠিক যেভাবে হাঁটুতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, অবিকল সেভাবে।

ফুটেজ : যেভাবে হত্যা করা হয় আট বাংলাদেশিকে


অথচ দোষ ছিল না সেই আট বাংলাদেশির!
আগেই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে, সৌদি আরবে অভিযুক্ত আট বাংলাদেশি আত্মপক্ষ সমর্থনের সামান্যতম সুযোগও পাননি। এমনকি নিজেদের পক্ষে কোনো আইনি সহায়তাও তারা পাননি। বিচার হয়েছে শুধুমাত্র মৌখিক স্বীকারোক্তি আদায়ের মাধ্যমে। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই স্বীকারোক্তি কিভাবে আদায় করা হয়েছিল? যেখানে পুলিশ থেকে তথাকথিত আদালত - সবখানেই ভাষা কেবল আরবি, সেখানে আরবি না জানা কিংবা স্বল্প জানা আট বাংলাদেশি শ্রমিক স্বীকারোক্তিই বা কিভাবে দিলেন? তথাকথিত আদালতে শুনানিই বা কিভাবে হয়েছিল, যেখানে এমনকি অভিযুক্ত আট বাংলাদেশির পক্ষে কোনো আইনজীবিও ছিল না?

বিশ্বখ্যাত মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক তার চুরি করছিল অন্য একটি অজ্ঞাত গ্রুপ। সেখানে চাকরিরত আট বাংলাদেশি শ্রমিক চুরি নয়, বরং চোরদের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। এই দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির সময় মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মী মারা যান।

আট বাংলাদেশি কি তার চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন? না, সেরকম কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং এটাই অস্বাভাবিক যে, যে প্রতিষ্ঠানে আট বাংলাদেশি দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন, তারা কেন হঠাৎ চুরি করতে নামবেন?
আট বাংলাদেশি কি মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মী খুনের সঙ্গে জড়িত? সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, আট বাংলাদেশি নয়, চুরির কাজটা করতে গিয়েছিল অন্য একটি গ্রুপ। বাধা দিতে গিয়ে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় চোরদের। এই সময় মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মীটি নিহত হন।
প্রতিবাদের স্বর পৌঁছে গেছে সৌদি আরবেও
ঢাকায় আজকের প্রতীকী প্রতিবাদের পরপরই খবরটি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে সৌদি নিউজ টুডে। যার শিরোনাম ছিল - Members of 'Magic Movement' protest against beheading of eight Bangladeshis in Saudi Arabia. সৌদি জনগণ জানলো, বাংলাদেশিরা শুধুই তরবারির নিচে মাথা পেতে দিতে জানে না, প্রতিবাদও করতে জানে।

ডেমোটিক্স
নিউ ইয়র্ক টাইমস, হাফিংটন পোস্টের মতো সংবাদমাধ্যম যার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, সেই ডেমোটিক্সও প্রতিবাদ সমাবেশটিকে দিয়েছে আলাদা গুরুত্ব।

ইয়াহু নিউজ
Mock execution scene...

সালেম রেডিও নিউজ নেটওয়ার্ক
বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে মার্কিনভিত্তিক এই নিউজ নেটওয়ার্ক।

চীনা সংবাদ সংস্থা DAUM
BANGLADESH SAUDI ARABIA PROTEST

প্রথম আলো
অভিনব কর্মসূচিতে বর্বতার প্রতিবাদ

ই-প্রথম আলো
অভিনব কর্মসূচিতে বর্বরতার প্রতিবাদ

সকালের খবর
ম্যাজিক মুভমেন্টের অবস্থান কর্মসূচি

এবিসি রেডিও
৮ বাংলাদেশীর শিরোশ্ছেদের ঘটনার প্রতিবাদ ম্যাজিক মুভমেন্টের

ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস
Protesting against beheading of eight Bangladeshis

ডেইলি সান
NHRC to protest beheading in int'l forums

নিউ এইজ
Mock execution to protest at Saudi beheading of 8 Bangladeshis

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
'শিরোচ্ছেদের সময় এমনই অসহায় ছিলেন তারা'

বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর
শাহবাগে ৮ তরুণের শিরোশ্ছেদ!

বার্তা টোয়েন্টিফোর ডট নেট
৮ বাংলাদেশীর শিরশ্ছেদের নিন্দায় ব্লগারদের প্রতিবাদ

আমরা আছি এই ঠিকানায়
ম্যাজিক মুভমেন্ট
ফেসবুক গ্রুপ : কিক আউট সৌদি ডাইনেস্টি ফ্রম দ্য ল্যান্ড অফ ইসলাম

প্রথম প্রকাশ
 

 





সংযুক্তি :
ই-প্রথম আলো ১  |  ই-প্রথম আলো ২  |  প্রথম আলো ওয়েব
প্রকাশকাল : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১১
পুরাতন পোস্টসমূহ হোম

  • সাম্প্রতিক
  • মন্তব্যমালা
  • Problem with Bengali Font?
  • English Version
  • Mobile View
Advertisement সপ্তাহের নির্বাচন : ব্লগারের ২০টি সেরা উইজেট

অফিসিয়াল একাউন্ট

  • সামহোয়্যারইন ব্লগ
  • প্রথম আলো ব্লগ
  • বিডিনিউজ ব্লগ
  • নাগরিক ব্লগ
  • আমারব্লগ
  • গুগল প্লাস
  • ফেসবুক
  • টুইটার
  • টাম্বলার

ব্লগ স্টাইল

  • ম্যাগাজিন
  • টাইমস্লাইড
  • ফ্লিপকার্ড
  • মোজাইক
  • সাইডবার
  • স্ন্যাপশট

  • Home
  • About
  • Contact
  • বাংলা লিখুন ইউনিকোডে
Tweet
.



    1/11 advertisement amader shomoy amarblog audio audio-tape awami league Bangladesh bangladeshi blogger bank bdr-mutiny bijoy bijoy ekattor bijoy ekushe bijoy ekushey Blog blog ban blog-debate blog-review blog-satire blogger bobs boi-mela book-fair books bottle brain caricature children chile cht cinema computer contemporary corruption corruption tape cover cricket cyber-crime defense dhaka university diary documentary e-voting ebook economy entertainment eve-teasing everest exclusive facebook Feature finance football google hacking highlights human-rights india internet julian assange kaler-kantha khaleda-zia liberation-war libya load-shedding love media memoirs misc mlm mobile musa-ibrahim niagara falls oporbastob poetry police politics prothom-alo-blog rab religion rosh-alo sachalayatan satire saudi arab sheikh mujib social-media software somewherein blog sound special sports statue-of-liberty stock market survey sw-ban swine flu tech tech-humor technology television train accident transparency report travel video weather women world-affairs
Fusion Factory by Fusion5 is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.
Designed by SimplexDesign