ওহ্ গড! পরশু থেকে যা ভাবছিলাম, সেটাই হল অবশেষে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন শেষমেশ বললেন, উলফার চেয়ারম্যান গ্রেপ্তারের কোনো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেনি। তিনি আজ বললেন, "গ্রেপ্তারের ঘটনাই তো ঘটেনি, হ্যান্ডওভারের প্রশ্ন আসে কীভাবে?"উলফা চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়া কক্সবাজারেই গ্রেপ্তার হয়েছেন গত সোমবার। এতে কোনো সন্দেহ নেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ছাড়াও বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোও সুনির্দিষ্ট দাবি করছিল, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম (উলফা) এর চেয়ারম্যান অরবিন্দ গত সোমবার বাংলাদেশেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। পরে তাকে ভারতের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল প্রকাশিত রিপোর্টে ভারতের বহুল প্রচারিত দৈনিক হিন্দুস্থান টাইমস সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, 'উলফা চেয়ারম্যানকে বুধবার ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ। পরে তাকে নয়াদিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কোনো বন্দি বিনিময় চুক্তি নেই।' উলফা চেয়ারম্যানকেই শুধু নয়, ভারতের আরেক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এনএলএফটি নেতা বিশ্ব মোহন দেব বর্মাকেও বাংলাদেশ ভারতের কাছে তুলে দিয়েছে বলে হিন্দুস্থান টাইমস জানাচ্ছে।
অনুপ চেটিয়া দিয়ে শুরু
উলফার সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়া ঢাকায় গ্রেপ্তার হন আজ থেকে ১২ বছর আগে। আটক করা উলফা নেতাদের মধ্যে তিনিই একমাত্র ব্যতিক্রম, যাকে গ্রেপ্তার করে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। তবে ১৯৯৭ সালের সেই গ্রেপ্তারের ঘটনার পরও বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ঘটনা অস্বীকার করে গেছে। পরে ঢাকার আদালতে অনুপ চেটিয়ার বিরুদ্ধে বিচার হয়েছিল বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে। সেই মামলায় তাকে দেওয়া সাজার মেয়াদও শেষ হয়েছে ইতিমধ্যে। তিনি এখনো কারাগারে বন্দি আছেন। সাজা শেষ হলেও তাকে নিয়ে সামনে কী করবে সরকার, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
ক্ষমতায় আসার পরপরই বাংলাদেশে অবস্থানরত উলফা নেতাদের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়ে উঠে আওয়ামী লীগ সরকার। মাঝে মাঝেই দেশজুড়ে গোপন অভিযান চললেও শীর্ষ নেতাকে আটকের খবর পাওয়া গত সেপ্টেম্বরে। ওই মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ উলফার ডেপুটি সামরিক কমান্ডার দেরহাগ্রা সেরেন্যা ওরফে আনন্দ ওরফে অমল দাসকে গ্রেফতার করে। তাকে ঢাকাতেই খুব গোপনে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
উত্তরার বাড়িতে মধ্যরাতের অভিযান
ঢাকার উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের একটি সাদামাটা বাড়ি। গত ১ নভেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে সন্তর্পণে সেই বাসায় ঢোকে সাদা পোশাকধারী ৭-৮ জনের একটি দল। আধঘন্টা পর ওই দলটি যখন বের হয়, তাদের সঙ্গে আরো দুটি মুখ দেখা যায়। এরা হলেন উলফার দুই উর্ধ্বতন নেতা পররাষ্ট্র বিষয়ক সচিব শশধর চৌধুরী এবং অর্থ বিষয়ক সচিব চিত্রবন হাজারীকা। এই দুই নেতা উলফার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়-আশয় দেখাশোনা করতেন। এদের একজন পরিবারসহ ওই বাড়িতে বসবাসও করতেন। ১ নভেম্বর রাতের ওই ঘটনার কয়েকদিন পর ভারতীয় পুলিশ তাদের সেখানকার আদালতে হাজির করে। ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করলেও কাগজে-কলমে তাদের সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র সচিব যথারীতি দাবি করেছেন, "বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে উলফা নামের সংগঠনের কোনো নেতার গ্রেফতার হওয়ার কোনো ঘটনাই ঘটেনি।"
ঢাকায় এফবিআইয়ের অভিযান
২০০৬ সালের এমন এক ঘটনার কথা আমরা জানি। ওই বছরের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএসের কাছ থেকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন যুবক এহসানুল ইসলাম সাদেকীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে ওইদিন ঢাকাতেই এফবিআইয়ের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সরকার প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি এই ঘটনার কথা। তবে সাদেকীর বাবা বারিধারার ওই ঘটনার পর একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছিলেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল সাদেকীর বিরুদ্ধে। তা নিয়ে কোনো কথা নেই। কিন্তু একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ভেতর থেকে অন্য দেশের পুলিশী সংস্থা কাউকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে পারে?
উলফা আর আল কায়েদা এক নয়
উলফা ভারতে সশস্ত্র সংগ্রাম করে যাচ্ছে বহুকাল ধরে। তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যাথা নেই। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া উলফার নেতারা এখানে অবস্থানকালে কখনোই কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল না। পুলিশের রেকর্ডেও সেরকম কোনো তথ্য নেই। উলফা আর আল কায়েদার মধ্যেও বিস্তর পার্থক্য আছে। এ দুটো সংগঠন সমমানের নয়। এ দুটোকে একপাল্লায় মাপা যায় না। কিন্তু যেহেতু ভারত সরকারের কাছে এই নেতারা 'সন্ত্রাসবাদী', এর জের ধরে আসামে তাদের জীবন বিপন্ন হওয়াতেই তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। জীবনের নিরাপত্তার জন্য তারা বাংলাদেশে সাময়িকভাবে অবস্থান করছিল।
খুব বাজে কিছু উদাহরণ তৈরি হয়ে যাচ্ছে
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই উলফা নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চলতে থাকে। স্পষ্টত ভারতকে খুশি করাই মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরকে সামনে রেখে এ অভিযান আরো জোরদার করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ কেন এই নেতাদের অপহরণ করে ভারতের কাছে তুলে দেবে গোপনে, যেখানে ভারতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তিই নেই? তাছাড়া অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব কেন নেবে বাংলাদেশ? নাকি ক্ষুধাপীড়িত এই দেশের সরকার সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের হাবিলদার সাজতে চায়?
সরকারও জানে, প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সঙ্গে এই অমানবিক আচরণের সমর্থক খুব বেশি পাওয়া যাবে না। তাই তারা অপহরণ ও হস্তান্তরের ঘটনা গোপন রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। সবকিছু বেমালুম অস্বীকার করে যাচ্ছে। ভাবতেই শিউরে উঠছি, একাত্তরে বাংলাদেশ থেকে আশ্রয় নিতে যাওয়া শরণার্থীদের যদি এভাবে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দিতো ভারত, কী অবস্থাটাই না হতো! খুব বাজে কিছু উদাহরণ তৈরি করে যাচ্ছে এই সরকার। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকেই হয়তো এর মাশুল গুণতে হবে কোনো এক সময়।
অনুপ চেটিয়া দিয়ে শুরু
উলফার সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়া ঢাকায় গ্রেপ্তার হন আজ থেকে ১২ বছর আগে। আটক করা উলফা নেতাদের মধ্যে তিনিই একমাত্র ব্যতিক্রম, যাকে গ্রেপ্তার করে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। তবে ১৯৯৭ সালের সেই গ্রেপ্তারের ঘটনার পরও বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ঘটনা অস্বীকার করে গেছে। পরে ঢাকার আদালতে অনুপ চেটিয়ার বিরুদ্ধে বিচার হয়েছিল বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে। সেই মামলায় তাকে দেওয়া সাজার মেয়াদও শেষ হয়েছে ইতিমধ্যে। তিনি এখনো কারাগারে বন্দি আছেন। সাজা শেষ হলেও তাকে নিয়ে সামনে কী করবে সরকার, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
ক্ষমতায় আসার পরপরই বাংলাদেশে অবস্থানরত উলফা নেতাদের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়ে উঠে আওয়ামী লীগ সরকার। মাঝে মাঝেই দেশজুড়ে গোপন অভিযান চললেও শীর্ষ নেতাকে আটকের খবর পাওয়া গত সেপ্টেম্বরে। ওই মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ উলফার ডেপুটি সামরিক কমান্ডার দেরহাগ্রা সেরেন্যা ওরফে আনন্দ ওরফে অমল দাসকে গ্রেফতার করে। তাকে ঢাকাতেই খুব গোপনে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
উত্তরার বাড়িতে মধ্যরাতের অভিযান
ঢাকার উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের একটি সাদামাটা বাড়ি। গত ১ নভেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে সন্তর্পণে সেই বাসায় ঢোকে সাদা পোশাকধারী ৭-৮ জনের একটি দল। আধঘন্টা পর ওই দলটি যখন বের হয়, তাদের সঙ্গে আরো দুটি মুখ দেখা যায়। এরা হলেন উলফার দুই উর্ধ্বতন নেতা পররাষ্ট্র বিষয়ক সচিব শশধর চৌধুরী এবং অর্থ বিষয়ক সচিব চিত্রবন হাজারীকা। এই দুই নেতা উলফার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়-আশয় দেখাশোনা করতেন। এদের একজন পরিবারসহ ওই বাড়িতে বসবাসও করতেন। ১ নভেম্বর রাতের ওই ঘটনার কয়েকদিন পর ভারতীয় পুলিশ তাদের সেখানকার আদালতে হাজির করে। ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করলেও কাগজে-কলমে তাদের সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র সচিব যথারীতি দাবি করেছেন, "বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে উলফা নামের সংগঠনের কোনো নেতার গ্রেফতার হওয়ার কোনো ঘটনাই ঘটেনি।"
ঢাকায় এফবিআইয়ের অভিযান
২০০৬ সালের এমন এক ঘটনার কথা আমরা জানি। ওই বছরের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএসের কাছ থেকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন যুবক এহসানুল ইসলাম সাদেকীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে ওইদিন ঢাকাতেই এফবিআইয়ের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সরকার প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি এই ঘটনার কথা। তবে সাদেকীর বাবা বারিধারার ওই ঘটনার পর একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছিলেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল সাদেকীর বিরুদ্ধে। তা নিয়ে কোনো কথা নেই। কিন্তু একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ভেতর থেকে অন্য দেশের পুলিশী সংস্থা কাউকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে পারে?
উলফা আর আল কায়েদা এক নয়
উলফা ভারতে সশস্ত্র সংগ্রাম করে যাচ্ছে বহুকাল ধরে। তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যাথা নেই। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া উলফার নেতারা এখানে অবস্থানকালে কখনোই কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল না। পুলিশের রেকর্ডেও সেরকম কোনো তথ্য নেই। উলফা আর আল কায়েদার মধ্যেও বিস্তর পার্থক্য আছে। এ দুটো সংগঠন সমমানের নয়। এ দুটোকে একপাল্লায় মাপা যায় না। কিন্তু যেহেতু ভারত সরকারের কাছে এই নেতারা 'সন্ত্রাসবাদী', এর জের ধরে আসামে তাদের জীবন বিপন্ন হওয়াতেই তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। জীবনের নিরাপত্তার জন্য তারা বাংলাদেশে সাময়িকভাবে অবস্থান করছিল।
খুব বাজে কিছু উদাহরণ তৈরি হয়ে যাচ্ছে
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই উলফা নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চলতে থাকে। স্পষ্টত ভারতকে খুশি করাই মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরকে সামনে রেখে এ অভিযান আরো জোরদার করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ কেন এই নেতাদের অপহরণ করে ভারতের কাছে তুলে দেবে গোপনে, যেখানে ভারতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তিই নেই? তাছাড়া অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব কেন নেবে বাংলাদেশ? নাকি ক্ষুধাপীড়িত এই দেশের সরকার সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের হাবিলদার সাজতে চায়?
সরকারও জানে, প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সঙ্গে এই অমানবিক আচরণের সমর্থক খুব বেশি পাওয়া যাবে না। তাই তারা অপহরণ ও হস্তান্তরের ঘটনা গোপন রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। সবকিছু বেমালুম অস্বীকার করে যাচ্ছে। ভাবতেই শিউরে উঠছি, একাত্তরে বাংলাদেশ থেকে আশ্রয় নিতে যাওয়া শরণার্থীদের যদি এভাবে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দিতো ভারত, কী অবস্থাটাই না হতো! খুব বাজে কিছু উদাহরণ তৈরি করে যাচ্ছে এই সরকার। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকেই হয়তো এর মাশুল গুণতে হবে কোনো এক সময়।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): raw, fbi, ulfa, india, asam, এফবিআই, ভারত, আসাম, উলফা ;
প্রথম প্রকাশ
কলকাতার একজন ব্লগারের মন্তব্য নিয়ে বেশ হৈ চৈ হচ্ছিল গত রাত থেকে। সন্দেহ নেই, বেশ আপত্তিকর মন্তব্য ওই ব্লগারের। অনেকেই তার শাস্তি দাবি করেছেন। একমত না হওয়ার কোনোই কারণ নেই। কিন্তু দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করলাম, একেকজন একেকভাবে কথা বলছেন সেই গত রাত থেকেই। বিশেষ করে শাস্তির পদ্ধতি নিয়ে বাংলাদেশী ব্লগারদের অনৈক্য দেখে পুরো হতাশ হলাম। আমরা কি এই ধরনের ইস্যুগুলোতে একতাবদ্ধ হতে পারি না? নিচে সে সম্পর্কে খানিকটা আলোকপাত করলাম এই ভেবে যে, এটা আগামীতেও দেশপ্রেমমূলক যে কোনো কর্মকাণ্ডে কাজে লাগতে পারে। গত রাত থেকে যারা ভার্চুয়াল বলপ্রয়োগ ও সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, সবাইকে সংগ্রামী অভিনন্দন। তার আগে দেখা যাক ব্লগীয় যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি। জুতানোর ওপর জোর দিয়েছেন যারা
ফালতু মিয়া বলেছেন: হারামজাদাকে জুতা মারা উচিত/
সীমানা ছাড়িয়ে বলেছেন: রইন্যা কুত্তারা বাচ্চারে ব্যান করিবার পূর্বে পর্যাপ্ত পরিমানে জুতাপেটা করা হউক এবং ঐসকল জুতা তাহার পশ্চাতদেশের প্রবেশ করানো হউক।
আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেছেন: লোহার জুতা দিয়া পিডাইতে হইব...
এস.কে.ফয়সাল আলম বলেছেন: ...রনি কোলকাতা এর পোষ্টে গিয়ে আচ্ছা মত জুতা প্রদান করি সবাই।
লুথা বলেছেন: ওরে শুধু জুতা মারবেন ? নারে ভাই, আমি আপনার সাথে নাই... ওরে উলটা করে ঝুলায়ে পাছায় বাশ ঢুকাইলে মনে শান্তি পাইতাম...
দৈহিক বলপ্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন যারা
হাসান বলেছেন: ওরে থাপ্পড় দিয়ে ওর ভারতেই ফেরত পাঠানো হউক।
ফালতু মিয়া বলেছেন: থাপ্রায়ে লাথিসহ বের করে দেয়া হারামখোর
সানুনয় বলেছেন: হালার পাছায় গদাম বাশ/ চল মারি ঠাশ ঠাশ।

সৌম্য বলেছেন: মাইর দেওন দরকার।
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: লাথি মাইরা বাইর কইরা দেন......
সাধারণমানুষ বলেছেন: রনি কোলকাতা রে আমি ড্রেনে চুবাইতে আগ্রহী.।
আইলা বলেছেন: ভাই মন খুলে ঐ শুয়োরের ১৪ গুষ্টি তুলে গালি দিতে ইচ্ছা করতেছে
লালসালু বলেছেন: হুমুন্দির পুতরে পূ্টি মারা হৌক
মুহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বলেছেন: আজও রইন্যা রামু, তোরে কই- "যা ভাগ ভাদা, তোর দেশ ফেলে এখানকার গু চাটিস কেন?"
আইলা বলেছেন: শালারে বেশী না নো ম্যানস ল্যান্ড এ আসতে কন..।ওগো কাটা তারের বেড়া/বিএসএফ বাপ ও ওরে বাচাইতে পারব না।
লুথা বলেছেন: রনি কোলকাতাঃ- পারলে সামনে আয়...তোর পিছন দিয়া দেখ কি ঢুকাই...
মহৎ বলেছেন: ...ঐ কুত্তাটা জানে না টাটার গোয়া দিয়া আমর বাঁশ দিয়া ভাগাইয়া দিছি, টাটারে না ভারতীয় কাউরে চোদনের টাইম বাংলাদেশীগো নাই।
তানভীর চৌধুরী পিয়েল বলেছেন: চৌদ্দকোটি মানুষকে দুই ব্যাসায়ীর চাকার বানাইল, লাথিতে কিছু হইবোনা, শুওরের বাচ্চাকে ফাঁসি দেয়া হোক।
ধর্মীয় কানুন ও যাদুটোনার পক্ষে যারা
জর্জিস বলেছেন: রনিরে আল্লাহর নামে কুরবানি দিয়ে এই বছরে ২টা কোরবানির ঈদ পালন করতে চাই...
আমি পালোয়ান বলেছেন: গাধার বাচ্চাকে ইন্ডিয়ান বলদ গরুর মত আবাল বানিয়ে দেয়া হোক।

মানবাধিকারের জয়গান
ত্রিমাত্রিক বলেছেন: এত গদাম খাইতে খাইতে রনি শুয়রটা ক্লান্ত হইয়া গেছে অহন অরে একটু শরবত দেয়ন দরকার
ছবিতে গোলাগুলি
ভারতীয় শত্রুদের প্রতি কার্যকরভাবে গোলাবর্ষণের ব্যাপারটি ভালোভাবে এসেছে এই পোস্টে। বহিঃশত্রুর আক্রমণ মোকাবেলায় এটি একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ।
ন্যাক্কারজনক কমেন্ট করেছেন যারা
নির্ণয় বলেছেন: খালি মুছামুছি, ব্যান-বুনের দাবী করেননা তো। এইসব ডিজিটাল বলপ্রয়োগের আচরণ বাদ দেয়া উচিত। ব্লগ মিথস্ক্রিয়ার জায়গা। আমি আমার মন্তব্য লিখছি রনির জন্য। আপনিও লিখুন। এমন তো না যে তাকে দেয়ার মত কোন উচিত জবাব নেই। লিখে ফেলুন।
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন: লাভ নাই। কম্পিউটারের কিবোর্ড থিকা মিসাইল কন্ট্রোলের বোর্ডে যতদিন উন্নতি না হইতাছে ততদিন সহ্য করতে হইব।
প্রাসঙ্গিক পোস্ট
ত্রিমাত্রিক, আইলা,কাপুরুষ, আবদুল্লাহ আল মনসুর, লুথা, মুহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, মুসাফির, মহৎ, সিরাজ
ফালতু মিয়া বলেছেন: হারামজাদাকে জুতা মারা উচিত/
সীমানা ছাড়িয়ে বলেছেন: রইন্যা কুত্তারা বাচ্চারে ব্যান করিবার পূর্বে পর্যাপ্ত পরিমানে জুতাপেটা করা হউক এবং ঐসকল জুতা তাহার পশ্চাতদেশের প্রবেশ করানো হউক।
আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেছেন: লোহার জুতা দিয়া পিডাইতে হইব...
এস.কে.ফয়সাল আলম বলেছেন: ...রনি কোলকাতা এর পোষ্টে গিয়ে আচ্ছা মত জুতা প্রদান করি সবাই।
লুথা বলেছেন: ওরে শুধু জুতা মারবেন ? নারে ভাই, আমি আপনার সাথে নাই... ওরে উলটা করে ঝুলায়ে পাছায় বাশ ঢুকাইলে মনে শান্তি পাইতাম...
দৈহিক বলপ্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন যারা
হাসান বলেছেন: ওরে থাপ্পড় দিয়ে ওর ভারতেই ফেরত পাঠানো হউক।
ফালতু মিয়া বলেছেন: থাপ্রায়ে লাথিসহ বের করে দেয়া হারামখোর
সানুনয় বলেছেন: হালার পাছায় গদাম বাশ/ চল মারি ঠাশ ঠাশ।
সৌম্য বলেছেন: মাইর দেওন দরকার।
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: লাথি মাইরা বাইর কইরা দেন......
সাধারণমানুষ বলেছেন: রনি কোলকাতা রে আমি ড্রেনে চুবাইতে আগ্রহী.।
আইলা বলেছেন: ভাই মন খুলে ঐ শুয়োরের ১৪ গুষ্টি তুলে গালি দিতে ইচ্ছা করতেছে
লালসালু বলেছেন: হুমুন্দির পুতরে পূ্টি মারা হৌক
মুহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বলেছেন: আজও রইন্যা রামু, তোরে কই- "যা ভাগ ভাদা, তোর দেশ ফেলে এখানকার গু চাটিস কেন?"
আইলা বলেছেন: শালারে বেশী না নো ম্যানস ল্যান্ড এ আসতে কন..।ওগো কাটা তারের বেড়া/বিএসএফ বাপ ও ওরে বাচাইতে পারব না।
লুথা বলেছেন: রনি কোলকাতাঃ- পারলে সামনে আয়...তোর পিছন দিয়া দেখ কি ঢুকাই...
মহৎ বলেছেন: ...ঐ কুত্তাটা জানে না টাটার গোয়া দিয়া আমর বাঁশ দিয়া ভাগাইয়া দিছি, টাটারে না ভারতীয় কাউরে চোদনের টাইম বাংলাদেশীগো নাই।
তানভীর চৌধুরী পিয়েল বলেছেন: চৌদ্দকোটি মানুষকে দুই ব্যাসায়ীর চাকার বানাইল, লাথিতে কিছু হইবোনা, শুওরের বাচ্চাকে ফাঁসি দেয়া হোক।
ধর্মীয় কানুন ও যাদুটোনার পক্ষে যারা
জর্জিস বলেছেন: রনিরে আল্লাহর নামে কুরবানি দিয়ে এই বছরে ২টা কোরবানির ঈদ পালন করতে চাই...
আমি পালোয়ান বলেছেন: গাধার বাচ্চাকে ইন্ডিয়ান বলদ গরুর মত আবাল বানিয়ে দেয়া হোক।
মানবাধিকারের জয়গান
ত্রিমাত্রিক বলেছেন: এত গদাম খাইতে খাইতে রনি শুয়রটা ক্লান্ত হইয়া গেছে অহন অরে একটু শরবত দেয়ন দরকার
ছবিতে গোলাগুলি
ভারতীয় শত্রুদের প্রতি কার্যকরভাবে গোলাবর্ষণের ব্যাপারটি ভালোভাবে এসেছে এই পোস্টে। বহিঃশত্রুর আক্রমণ মোকাবেলায় এটি একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ।
ন্যাক্কারজনক কমেন্ট করেছেন যারা
নির্ণয় বলেছেন: খালি মুছামুছি, ব্যান-বুনের দাবী করেননা তো। এইসব ডিজিটাল বলপ্রয়োগের আচরণ বাদ দেয়া উচিত। ব্লগ মিথস্ক্রিয়ার জায়গা। আমি আমার মন্তব্য লিখছি রনির জন্য। আপনিও লিখুন। এমন তো না যে তাকে দেয়ার মত কোন উচিত জবাব নেই। লিখে ফেলুন।
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন: লাভ নাই। কম্পিউটারের কিবোর্ড থিকা মিসাইল কন্ট্রোলের বোর্ডে যতদিন উন্নতি না হইতাছে ততদিন সহ্য করতে হইব।
প্রাসঙ্গিক পোস্ট
ত্রিমাত্রিক, আইলা,কাপুরুষ, আবদুল্লাহ আল মনসুর, লুথা, মুহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, মুসাফির, মহৎ, সিরাজ
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): india-bangladesh, india bangladesh ;
প্রথম প্রকাশ
র্যাবের মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকার আজ সাংবাদিকদের বলেছেন, উলফার সব ধরনের হুমকি মোকাবেলায় র্যাব প্রস্তুত। ওদিকে বিএসএফ জানিয়ে দিয়েছে, তারাও উলফার যে কোনো হুমকি নস্যাৎ করে দিতে পুরোপুরি তৈরি। উলফার নাশকতা রুখতে বাংলাদেশ সরকার প্রস্তত। আসাম সরকারও প্রস্তুত। এই শুভক্ষণে আমাদের আর আনন্দের সীমা নাই। শেখ হাসিনা-পি চিদাম্বরম ভাই-ভাই, উলফার আর রক্ষা নাই। আন্তঃরাজ্য সম্প্রীতি সুদৃঢ় হোক। নিখিল ভারত ঐক্য জোরদার হোক। গুয়াহাটি-ঢাকা-কলকাতা-চেন্নাই ঐক্য বলীয়ান হোক। আন্তঃরাজ্য সম্পর্কোন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শেখ হাসিনার পরিবারবর্গকে যথাক্রমে ভারতরত্ন, পদ্মভূষণ, পদ্মশ্রী, পদ্মবিভূষণ প্রভৃতি পদকে ভূষিত করা হোক। নোট
ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী কেউ মনে কিছু নেবেন না। এ ছাড়া আর উপায় কী?
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): sheikh hasina, manmohan singh, monmohan singh, india, bangladesh, ulfa, asam ;
প্রথম প্রকাশ
মুম্বাইয়ের গুরু নানক কলেজের ছাত্রী উনিশ বছরের ইশরাত জাহান এবং তিন যুবক- ধর্মান্তরিত হওয়া জাভেদ শেখ, পাকিস্তানি নাগরিক আমজাদ আলী রানা এবং জিশান জওহর। সকলেই মুসলমান ধর্মাবলম্বী।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ভারত, হিন্দু, জঙ্গি, India, the hindu ;
প্রথম প্রকাশ
২০০৪ সালের জুনে আহমেদাবাদের উপকণ্ঠে এই চারজনকে খুন করে গুজরাট পুলিশ। অভিযোগ, তারা সন্ত্রাসবাদী। পুলিশের ভাষ্যমতে, গুজরাটের মূখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ওই চার 'সন্ত্রাসী' মহারাষ্ট্র থেকে এসেছিল। সেভাবেই প্রচার চলছিল এতদিন।
সম্প্রতি আহমেদাবাদের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসপি তামাং বছরপাঁচেক আগেকার সেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছেন তার ২৪৩ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে। বস্তুত ভারতের অধিকাংশ লোকই জানতেন, পুলিশের তোলা অভিযোগ পুরোটাই এক গল্প। এসপি তামাংয়ের প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের ধারণাকেই প্রামাণ্য রূপ দিল। প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো সাধারণ এনকাউন্টারের কাহিনী নয়, একে বলা যায় ভারতজুড়ে ছড়িয়ে যাওয়া সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের একটি ভয়াবহ নমুনা।
এসপি তামাং তার প্রতিবেদনে বলেছেন, ওই হত্যাকাণ্ডে গুজরাটের বিখ্যাত এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট ডিজে ভানজারা সরাসরি জড়িত ছিলেন। এই সেই ভানজারা, আরেক মুসলিম ধর্মাবলম্বী সোহরাব উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে ফেইক এনকাউন্টারে হত্যার দায়ে যিনি এর আগে অভিযুক্ত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ জুন ইশরাত জাহানসহ তিন মুসলমান যুবককে মুম্বাই থেকে অপহরণ করে পুলিশ। সেখান থেকে তাদের নিয়ে আসা হয় আহমেদাবাদে। দুদিন ধরে চলে অত্যাচার। পুলিশ যদিও প্রচার করছে, ওরা ১৫ জুন মারা গেছে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট তামাং তার প্রতিবেদনে নিশ্চিত করে বলেছেন, পুলিশ হেফাজতেই তাদের হত্যা করা হয় ১৪ জুন সন্ধ্যা থেকে রাতের কোনো এক সময়ে। হত্যার পর শহরের উপকণ্ঠে মৃতদেহগুলো রেখে আসা হয় ভোরের আলো ফোটার আগে। একে-৫৬সহ কিছু অস্ত্র সাজিয়ে রাখা হয় মৃতদেহগুলোর আশেপাশে, যাতে সবাইকে বিশ্বাস করানো যায় যে, এরা আসলেই সন্ত্রাসী ছিল। গুজরাট পুলিশ যথারীতি সেভাবেই ঘটনাটির প্রচার চালায়। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সেই সুরে গলা মিলিয়ে জানায় যে, এই চার 'সন্ত্রাসী'র সঙ্গে লস্কর-ই-তৈয়বার যোগাযোগ ছিল।
ম্যাজিস্ট্রেট তামাং নিশ্চিত করেছেন, ব্যক্তিগত কারণ ছাড়াও পদোন্নতি এবং নরেন্দ্র মোদীর অনুগ্রহ পাওয়ার উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। তামাং তাঁর রিপোর্টের দু পৃষ্ঠা জুড়ে উল্লেখ করেছেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের নামও। বিস্ময়কর হল এই যে, সন্ত্রাসবাদী মুসলমান মারার কৃতিত্বস্বরূপ নরেন্দ্র মোদীর গুজরাট সরকার এদের প্রত্যেককেই পদোন্নতি দিয়েছে ঘটনার পরপরই!
বাংলাদেশে বরং অনেক ভালো আছি হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান মিলে।
সংযুক্তি
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন
সম্প্রতি আহমেদাবাদের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসপি তামাং বছরপাঁচেক আগেকার সেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছেন তার ২৪৩ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে। বস্তুত ভারতের অধিকাংশ লোকই জানতেন, পুলিশের তোলা অভিযোগ পুরোটাই এক গল্প। এসপি তামাংয়ের প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের ধারণাকেই প্রামাণ্য রূপ দিল। প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো সাধারণ এনকাউন্টারের কাহিনী নয়, একে বলা যায় ভারতজুড়ে ছড়িয়ে যাওয়া সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের একটি ভয়াবহ নমুনা।
এসপি তামাং তার প্রতিবেদনে বলেছেন, ওই হত্যাকাণ্ডে গুজরাটের বিখ্যাত এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট ডিজে ভানজারা সরাসরি জড়িত ছিলেন। এই সেই ভানজারা, আরেক মুসলিম ধর্মাবলম্বী সোহরাব উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে ফেইক এনকাউন্টারে হত্যার দায়ে যিনি এর আগে অভিযুক্ত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ জুন ইশরাত জাহানসহ তিন মুসলমান যুবককে মুম্বাই থেকে অপহরণ করে পুলিশ। সেখান থেকে তাদের নিয়ে আসা হয় আহমেদাবাদে। দুদিন ধরে চলে অত্যাচার। পুলিশ যদিও প্রচার করছে, ওরা ১৫ জুন মারা গেছে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট তামাং তার প্রতিবেদনে নিশ্চিত করে বলেছেন, পুলিশ হেফাজতেই তাদের হত্যা করা হয় ১৪ জুন সন্ধ্যা থেকে রাতের কোনো এক সময়ে। হত্যার পর শহরের উপকণ্ঠে মৃতদেহগুলো রেখে আসা হয় ভোরের আলো ফোটার আগে। একে-৫৬সহ কিছু অস্ত্র সাজিয়ে রাখা হয় মৃতদেহগুলোর আশেপাশে, যাতে সবাইকে বিশ্বাস করানো যায় যে, এরা আসলেই সন্ত্রাসী ছিল। গুজরাট পুলিশ যথারীতি সেভাবেই ঘটনাটির প্রচার চালায়। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সেই সুরে গলা মিলিয়ে জানায় যে, এই চার 'সন্ত্রাসী'র সঙ্গে লস্কর-ই-তৈয়বার যোগাযোগ ছিল।
ম্যাজিস্ট্রেট তামাং নিশ্চিত করেছেন, ব্যক্তিগত কারণ ছাড়াও পদোন্নতি এবং নরেন্দ্র মোদীর অনুগ্রহ পাওয়ার উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। তামাং তাঁর রিপোর্টের দু পৃষ্ঠা জুড়ে উল্লেখ করেছেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের নামও। বিস্ময়কর হল এই যে, সন্ত্রাসবাদী মুসলমান মারার কৃতিত্বস্বরূপ নরেন্দ্র মোদীর গুজরাট সরকার এদের প্রত্যেককেই পদোন্নতি দিয়েছে ঘটনার পরপরই!
বাংলাদেশে বরং অনেক ভালো আছি হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান মিলে।
সংযুক্তি
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ভারত, হিন্দু, জঙ্গি, India, the hindu ;
প্রথম প্রকাশ

