প্রথম আলো ব্লগ যে ব্যর্থ হবে- এই ভবিষ্যদ্বাণী আমি অনেক আগেই করেছিলাম। কেন ব্যর্থ হবে, এই জায়গায় তার কিছুটা বয়ান করা হয়েছিল। প্রথম আলো ব্লগ সম্পর্কে ব্লগারদের মতামত, তারা কী ভাবছেন, তা জানতে আমি বরাবরই আগ্রহী। আগ্রহটা কোনো রকম বিদ্বেষ থেকে নয়, ব্লগারদের মনোভাব বোঝাই মূল উদ্দেশ্য। সম্প্রতি ফাহমিদুল হকের একটি গবেষণা জরিপ সেই আগ্রহ কিছুটা হলেও পূরণ করেছে। সেখান থেকে কিছু উদ্ধৃতি নিচে তুলে দিচ্ছি, যা হয়তো ভবিষ্যতে গবেষকদের কাজে লাগতে পারে।ডটকম
প্রথম আলো ব্লগ=অনেক কিছুই করতে পারার ক্ষমতা ছিলো, ৭০০০ ডলার মনে হয় পানিতেই যাবে!
নাফিস ইফতেখার
...আর প্রথম আলো ব্লগে না গিয়েও বলতে পারি, ওটা রাজাকার সমর্থক গোষ্ঠীর আখড়া।
সাদাসিধা
প্রথম আলো = ভেবেছিলাম, কিছু একটা করবে। কিন্তু সে আশা গুড়েবালি, পোস্টের জালি ছাকতে ছাকতেই তাদের জীবন চলে যাচ্ছে। ঠক বাছতে গাঁ উজাড়ের দশা। আর ব্লগিংএর সকল সুবিধা অবর্তমান এত দিনেও।
এরশাদ বাদশা
...আলু ব্লগ আর আমার ব্লগে রেজিঃ করার পরও যাইনি।
আবদুর রাজ্জাক শিপন
প্রথম আলো ব্লগ: ব্যর্থ হতে যাচ্ছে, সফল হতে পারতো ।
বৃষ্টি ভেজা সকাল
খ. সচলায়তন গ. আমার ব্লগ. ঘ. দৃষ্টিপাত ঙ. প্রথম আলো ব্লগ চ. নির্মাণব্লগ ছ. প্যাঁচালি
ওগুলোতে যাওয়া হয়নাই। ইচ্ছা নাই।
অনাহুত আগন্তুক
প্রথম আলো কেন ব্লগ খুলল এটা আমি বুঝি না। ওখানে ব্লগানোর যেই নীতিমালা - তাতে কোন স্বাধীন ব্লগারের ব্লগাতে ইচ্ছা করার কথা না। আর তারপরও মানুষ সেখানে লিখবেই - কারণ প্রথম আলো বেশি শক্তিশালী একটা পত্রিকা...
পাগল রাজা
ঙ. প্রথম আলো ব্লগ , ভালো করার ক্ষমতা থাকলেও ভবিষ্যত সম্পর্কে এখনি কিছু বলা যাচ্ছে না, প্রথম আলোর ব্যানার ব্যবহার করে জনপ্রিয়তা পাবে তবে ধরে রাখতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ।
আলিফ দেওয়ান
ঙ. আলুবলগঃ বাথিজারে কি বলিব দুক্কের কতা। উহা উবকামি মডারেঠর কলুমর্শেদের ছেন্ডবক্স। সে ঐকানে বসি মাথবরি করে আর ছাগুরাম তিরিভুজ ১০ নিকে হাদুমপাদুম করে। উহা কুন বলগ নই, বলগের ছাম্রা পরা একটি বিগ্যাপুনি সাইট। ছাগল কিন্থে হইলে বিগ্যাপুন মারিউ গিয়া।
বিষাক্ত মানুষ
ঙ. আলু - চানখারপুলের ঠেলাগাড়ির ড্রাইভারের হাতে মতিভাই বিএমডাব্লিও গাড়ির চাবি ধরায় দিছে।
মোঃ মোশাররফ হোসেন
প্রথম আলো: উদায়মান
বিগব্যাং
ঙ. প্রথম আলো ব্লগ, বিকাশের কোনো সম্ভবনা নেই...
অরণ্যচারী
ঙ. প্রথম আলো ব্লগ - উঁ।
হট্টগোল
ঙ. প্রথম আলো ব্লগ - পুরা ফাউল। ব্লগ জগতে এইটা কোনো নতুন কিছু আনতারে নাই। হুদাই।
বিবর্তনবাদী
ঙ. প্রথম আলো ব্লগ: মডারেটররা ব্লগিংই বুঝে না।
রাশেদ
ঙঃ প্রথম আলো ব্লগঃ রেজি করে রেখেছি কিন্তু যাই না। এইটা একটা পাইয়োনিয়ার হতে পারতো, কিন্তু মাহবুব মোর্শেদের ইতিহাস, ত্রিভুজকে অতিরিক্ত দাম দেয়া, এইসব কারনে ডুবে গেছে। একটা উদাহরন দেইঃ ব্লগ এর ফিডব্যাক ইমেইল বা সমস্যার ইমেইল দিতে হয় মামোর ইমেইল অ্যাড্রেসে। তাদের ফিডব্যাক@প্রথমআলোব্লগ.কম বলে কোনো ইমেইল অ্যাড্রেস নাই!
মাহবুব সুমন
ঙ. প্রথম আলো ব্লগ > নতুন কিছু দিতে অক্ষম। ম্যানেজম্যান্ট ব্লগ কি জিনিস সেটাই বুঝে না।
আরিফ জেবতিক
ঙ. প্রথম আলো ব্লগ : মতামত প্রদান করে কারো মনে কষ্ট দিতে চাই না । তবে এই ব্লগ থেকে শিক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে অযোগ্য মানুষের হাতে নেতৃত্ব দেয়া ঠিক নয় ।
কেমিকেল আলী
ঙ. প্রথম আলো ব্লগ
এতবড় নীতিমালা মেনে ব্লগিং করা সম্ভব নয়
হাসিব
ঙ. প্রথম আলো ব্লগ – বাংলা ব্লগিঙের ইতিহাসে যদি কালাকানুন বলে কিছু থাকে সেটা হলো এই ব্লগের নীতিমালা । এই ব্লগ বাংলা ব্লগের একটা কলঙ্কিত অংশ । এই নিয়ে পাতার পর পাতা লেখা যাবে ।
মুকুল
ঙ. প্রথম আলো ব্লগ - প্রথম আলো ব্লগের নীতিমালা খুবই আপত্তিকর, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী। স্বাধীনচেতা কোন ব্লগার প্রথম আলো ব্লগের বিতর্কিত নীতিমালা মেনে নিয়ে লিখবে বলে মনে হয় না। প্রথম আলো পত্রিকায় লেখা আর প্রথম আলো ব্লগে লেখা একজিনিস নয়- এটা অনেকেই ধরতে পারছেন বলে মনে হয় না। ভুল লোকের হাতে প্রথম আলো ব্লগের নেতৃত্বের দায়িত্ব পড়েছে।
প্রথম প্রকাশ
যা কিছু ভালো, তার সঙ্গে আমি আছি। যেখানে আমজনতা, সেখানেই আমি। সবসময় পছন্দ করি সাধারণ মানুষের সঙ্গে চলতে, তাদের কথা বলতে। সুশান্তের সঙ্গে সখ্য থাকার পরও আমারব্লগের সমালোচনা করতে দ্বিধা বোধ করিনি। সামহোয়্যারইন নিয়ে সমালোচনায় মেতে বহুবার পেয়েছি ব্যানাজ্ঞা। ভবিষ্যতে প্যাঁচালী কিংবা বিডিনিউজ ব্লগের সমালোচনাও হয়তো করবো। আজ থাকছে প্রথম আলো ব্লগ নিয়ে আমার ভাবনা।
কামারকে দিয়ে অলংকার বানাতে চাইলে যা হয়
বাংলাব্লগের ধরনটিই এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, অদূর ভবিষ্যতে কোনো ব্লগেই সিরিয়াস আলোচনা জমবে না। কিন্তু প্রথম আলো ব্লগে পাঠকের কাছে যা চাওয়া হচ্ছে, তার সারমর্ম এরকম- প্রথম পাতায় দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীত, একটি নজরুলগীতি, চারটি কবিতা, তিনটি ফটো ব্লগ আর কথাসাহিত্যের গতিপ্রকৃতি নিয়ে একটি সারগর্ভ প্রবন্ধ। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মাহবুব মোর্শেদ অবতীর্ণ হয়েছেন চৌকিদারের ভূমিকায়- লাঠি হাতে তেড়ে যাচ্ছেন এই পোস্ট থেকে ওই পোস্টে। দিনের পর দিন এই অসংলগ্ন আচরণ দেখে সবকিছু কেন যেন উন্মাদীয় মনে হচ্ছে। তার কারণও কিছু আছে। যেমন-
দিনের পর দিন মাহবুব মোর্শেদ নিজেই তার একটি করে পোস্ট স্টিকি করছেন- এটা দেখতে বেশ অশ্লীল দেখাচ্ছিল অনেকদিন ধরেই। এর প্রতিক্রিয়ায় তার সাদাকালো ছবিটাও ইদানিং অশালীন লাগছে। তবে সামহোয়্যারে নিজের ব্লগে মন্তব্য খরা পুষিয়ে নিতে যদি তিনি এই ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন, তাহলে ভিন্ন কথা।
ইউজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ কেন?
অ্যালেক্সার পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, প্রথম আলো ব্লগে হিট একেবারে কম হয়নি। লোকজন এসেছে প্রচুর। প্রথম আলোর মূল কাগজে বিজ্ঞাপন আসাতেও নতুন অনেক ইউজার ঢুঁ মেরেছে ব্লগে। কিন্তু আমার ধারণা, ৮০ ভাগ ইউজারই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে বা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কারণ ইউজাররা নিয়ন্ত্রণ কখনোই পছন্দ করে না। যেমন প্রতি সপ্তাহের রসআলোতে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের বন্যা বয়ে যাচ্ছে, তা পাঠককে আকর্ষণও করছে। কিন্তু সেই একই কাজটি প্রথম আলো ব্লগে কেন করা যাবে না? পাঠক-লেখক এই জায়গায় এসে ধাক্কা খাচ্ছে। এরকম হচ্ছে প্রায় সব ক্ষেত্রেই। প্রতিদিন নানাভাবে ৩০ লাখ পাঠকের স্পর্শ পায় যে প্রথম আলো, তার ব্লগে এসে লম্বা চুলো চৌকিদার দেখে পাঠক-লেখক হোঁচট খাচ্ছে- এ খুব সুখকর সংবাদ নয়।
নতুন বোতলে সামহোয়্যারের গ্রুপ ব্লগ?
পাঠককে যে এই ব্লগ আকর্ষণ করছে না, তার সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ পোস্টে মন্তব্যের খরা। প্রথম আলো ব্লগের দুই-তৃতীয়াংশই (তারও বেশি হতে পারে) সামহোয়্যারের ব্লগার। তারা তো মন্তব্য-বিমুখ নন। তাহলে কেন মন্তব্য আসছে না? এমনিতে সামহোয়্যারের সূচনাপর্বের উদাহরণ প্রথম আলো ব্লগে খাটে না। সামহোয়্যার যখন শুরু হয়েছিল, তখন চারপাশে কেউ ছিল না। কোনো উদাহরণ ছাড়াই বাংলাব্লগ তাদের একটু একটু করে নির্মাণ করতে হয়েছিল। প্রথম আলো ব্লগের সৌভাগ্য যে, বাংলাব্লগের স্বর্ণযুগে তাদের পদার্পণ ঘটেছে। আর দুর্ভাগ্য এই যে, সেই সুযোগটাকে ব্লগ সংশ্লিষ্টরা কাজে লাগাতে পারছে না। এটার চেহারাটা দাঁড়িয়েছে অনেকটা সামহোয়্যারের গ্রুপ ব্লগের মতো। নির্দিষ্ট করে বললে "পজেটিভ বাংলাদেশ" গ্রুপের মতো- পোস্ট আছে, কবিতা আছে, গল্প আছে, মাহবুব মোর্শেদ আছেন, সুমন রহমান আছেন, কিন্তু মন্তব্য নেই। এর সরল অর্থ পাঠক স্বস্তি বোধ করছে না, তারা হতাশ হচ্ছে। বেশিরভাগই লগইনটা করে সামহোয়্যারে গিয়ে বসে থাকছে।
দলিললেখকের নীতিমালা
ব্লগারদের দমন করতে যারা চার-পাঁচ পৃষ্ঠার নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন, তারা কি ভূমি অধিদপ্তরের নেজারত শাখায় দলিললেখক হিসেবে চাকরি করেছিলেন আগে? জমির দলিল তৈরি করতেও তো এখন এতো শর্তাবলী লাগে না। গালি কিংবা অশ্লীল কিছু পোস্ট করা যাবে না এবং স্পর্শকাতর কোনো বিষয় দেওয়া যাবে না- এই তিনটি বিষয় দেখলেই ব্লগে আর কোনো নীতিমালা লাগে না। এমনিতে খোলা ময়দানে অশ্রাব্য গালির ব্যবহার আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি না। এক্ষেত্রে মাহবুব মোর্শেদের অবস্থান আমার কাছে ভালোই লেগেছে। আর আছে দাঁড়িপ্রীতি। এই দাঁড়িপ্রীতি প্যাঁচালী ব্লগকে প্রায় ডুবিয়েছে, ঠিক একই কারণে প্রথম আলো ব্লগেরও ডোবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অথচ শুধুমাত্র প্রথম আলো ব্রান্ডটি থাকায় এই ব্লগ পাঠক সমাগমের যে সুবিধা পাচ্ছিল, সেই সম্ভাবনাকে তিলে তিলে নিঃশেষ করে দেওয়া হচ্ছে।
নমস্য ইউজার
ইউজারকে পায়ে ধরে ডাকতে হবে। যে গুগল ক্যান্টিনের আধাবেলার টাকা দিয়ে ১৪ বছর ধরে প্রথম আলো ব্লগ চালানো যাবে, আমি এক সামান্য ইউজারের মেইলের জবাব সেই গুগল দুই ঘন্টার মধ্যে দিয়েছে। দুনিয়া ইউজারের দাস। হ্যাঁ, মহাশয়!
তারপরও চাই
নতুনভাবে নতুন আঙ্গিকে মুক্ত পরিবেশে প্রথম আলো ব্লগ জমে উঠুক পাঠক-লেখকের কোলাহলে। ব্লগ যেন কোনোভাবেই প্রথম আলোর ভাবমূর্তিতে কালিমা লেপন না করে। এক, শ্রেফ একজন ব্লগারও যেন কখনো না ভাবে যে, প্রথম আলো মুক্তচিন্তার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
শহীদ কাদরীর দুটি বিখ্যাত লাইন আছে এরকম-
প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে ঠিক-ই
কিন্তু শান্তি পাবে না, পাবে না, পাবে না...
আমিও দেই এরকম একটি সতর্কবাণী-
অ্যালেক্সা মিলবে পরিসংখ্যানের সাথে ঠিকই
কিন্তু ব্লগ জমবে না, জমবে না, জমবে না...
প্রথম প্রকাশ
কামারকে দিয়ে অলংকার বানাতে চাইলে যা হয়বাংলাব্লগের ধরনটিই এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, অদূর ভবিষ্যতে কোনো ব্লগেই সিরিয়াস আলোচনা জমবে না। কিন্তু প্রথম আলো ব্লগে পাঠকের কাছে যা চাওয়া হচ্ছে, তার সারমর্ম এরকম- প্রথম পাতায় দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীত, একটি নজরুলগীতি, চারটি কবিতা, তিনটি ফটো ব্লগ আর কথাসাহিত্যের গতিপ্রকৃতি নিয়ে একটি সারগর্ভ প্রবন্ধ। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মাহবুব মোর্শেদ অবতীর্ণ হয়েছেন চৌকিদারের ভূমিকায়- লাঠি হাতে তেড়ে যাচ্ছেন এই পোস্ট থেকে ওই পোস্টে। দিনের পর দিন এই অসংলগ্ন আচরণ দেখে সবকিছু কেন যেন উন্মাদীয় মনে হচ্ছে। তার কারণও কিছু আছে। যেমন-
দিনের পর দিন মাহবুব মোর্শেদ নিজেই তার একটি করে পোস্ট স্টিকি করছেন- এটা দেখতে বেশ অশ্লীল দেখাচ্ছিল অনেকদিন ধরেই। এর প্রতিক্রিয়ায় তার সাদাকালো ছবিটাও ইদানিং অশালীন লাগছে। তবে সামহোয়্যারে নিজের ব্লগে মন্তব্য খরা পুষিয়ে নিতে যদি তিনি এই ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন, তাহলে ভিন্ন কথা।
ইউজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ কেন?
অ্যালেক্সার পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, প্রথম আলো ব্লগে হিট একেবারে কম হয়নি। লোকজন এসেছে প্রচুর। প্রথম আলোর মূল কাগজে বিজ্ঞাপন আসাতেও নতুন অনেক ইউজার ঢুঁ মেরেছে ব্লগে। কিন্তু আমার ধারণা, ৮০ ভাগ ইউজারই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে বা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কারণ ইউজাররা নিয়ন্ত্রণ কখনোই পছন্দ করে না। যেমন প্রতি সপ্তাহের রসআলোতে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের বন্যা বয়ে যাচ্ছে, তা পাঠককে আকর্ষণও করছে। কিন্তু সেই একই কাজটি প্রথম আলো ব্লগে কেন করা যাবে না? পাঠক-লেখক এই জায়গায় এসে ধাক্কা খাচ্ছে। এরকম হচ্ছে প্রায় সব ক্ষেত্রেই। প্রতিদিন নানাভাবে ৩০ লাখ পাঠকের স্পর্শ পায় যে প্রথম আলো, তার ব্লগে এসে লম্বা চুলো চৌকিদার দেখে পাঠক-লেখক হোঁচট খাচ্ছে- এ খুব সুখকর সংবাদ নয়।
নতুন বোতলে সামহোয়্যারের গ্রুপ ব্লগ?
পাঠককে যে এই ব্লগ আকর্ষণ করছে না, তার সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ পোস্টে মন্তব্যের খরা। প্রথম আলো ব্লগের দুই-তৃতীয়াংশই (তারও বেশি হতে পারে) সামহোয়্যারের ব্লগার। তারা তো মন্তব্য-বিমুখ নন। তাহলে কেন মন্তব্য আসছে না? এমনিতে সামহোয়্যারের সূচনাপর্বের উদাহরণ প্রথম আলো ব্লগে খাটে না। সামহোয়্যার যখন শুরু হয়েছিল, তখন চারপাশে কেউ ছিল না। কোনো উদাহরণ ছাড়াই বাংলাব্লগ তাদের একটু একটু করে নির্মাণ করতে হয়েছিল। প্রথম আলো ব্লগের সৌভাগ্য যে, বাংলাব্লগের স্বর্ণযুগে তাদের পদার্পণ ঘটেছে। আর দুর্ভাগ্য এই যে, সেই সুযোগটাকে ব্লগ সংশ্লিষ্টরা কাজে লাগাতে পারছে না। এটার চেহারাটা দাঁড়িয়েছে অনেকটা সামহোয়্যারের গ্রুপ ব্লগের মতো। নির্দিষ্ট করে বললে "পজেটিভ বাংলাদেশ" গ্রুপের মতো- পোস্ট আছে, কবিতা আছে, গল্প আছে, মাহবুব মোর্শেদ আছেন, সুমন রহমান আছেন, কিন্তু মন্তব্য নেই। এর সরল অর্থ পাঠক স্বস্তি বোধ করছে না, তারা হতাশ হচ্ছে। বেশিরভাগই লগইনটা করে সামহোয়্যারে গিয়ে বসে থাকছে।
দলিললেখকের নীতিমালা
ব্লগারদের দমন করতে যারা চার-পাঁচ পৃষ্ঠার নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন, তারা কি ভূমি অধিদপ্তরের নেজারত শাখায় দলিললেখক হিসেবে চাকরি করেছিলেন আগে? জমির দলিল তৈরি করতেও তো এখন এতো শর্তাবলী লাগে না। গালি কিংবা অশ্লীল কিছু পোস্ট করা যাবে না এবং স্পর্শকাতর কোনো বিষয় দেওয়া যাবে না- এই তিনটি বিষয় দেখলেই ব্লগে আর কোনো নীতিমালা লাগে না। এমনিতে খোলা ময়দানে অশ্রাব্য গালির ব্যবহার আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি না। এক্ষেত্রে মাহবুব মোর্শেদের অবস্থান আমার কাছে ভালোই লেগেছে। আর আছে দাঁড়িপ্রীতি। এই দাঁড়িপ্রীতি প্যাঁচালী ব্লগকে প্রায় ডুবিয়েছে, ঠিক একই কারণে প্রথম আলো ব্লগেরও ডোবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অথচ শুধুমাত্র প্রথম আলো ব্রান্ডটি থাকায় এই ব্লগ পাঠক সমাগমের যে সুবিধা পাচ্ছিল, সেই সম্ভাবনাকে তিলে তিলে নিঃশেষ করে দেওয়া হচ্ছে।
নমস্য ইউজার
ইউজারকে পায়ে ধরে ডাকতে হবে। যে গুগল ক্যান্টিনের আধাবেলার টাকা দিয়ে ১৪ বছর ধরে প্রথম আলো ব্লগ চালানো যাবে, আমি এক সামান্য ইউজারের মেইলের জবাব সেই গুগল দুই ঘন্টার মধ্যে দিয়েছে। দুনিয়া ইউজারের দাস। হ্যাঁ, মহাশয়!
তারপরও চাই
নতুনভাবে নতুন আঙ্গিকে মুক্ত পরিবেশে প্রথম আলো ব্লগ জমে উঠুক পাঠক-লেখকের কোলাহলে। ব্লগ যেন কোনোভাবেই প্রথম আলোর ভাবমূর্তিতে কালিমা লেপন না করে। এক, শ্রেফ একজন ব্লগারও যেন কখনো না ভাবে যে, প্রথম আলো মুক্তচিন্তার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
শহীদ কাদরীর দুটি বিখ্যাত লাইন আছে এরকম-
প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে ঠিক-ই
কিন্তু শান্তি পাবে না, পাবে না, পাবে না...
আমিও দেই এরকম একটি সতর্কবাণী-
অ্যালেক্সা মিলবে পরিসংখ্যানের সাথে ঠিকই
কিন্তু ব্লগ জমবে না, জমবে না, জমবে না...
প্রথম প্রকাশ

